তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে জাসদের অভিনন্দন
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাৎক্ষনিক এক বিবৃতিতে তারা বলেন, তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হলো এবং দেশ সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রেখে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখলো। তারা আশা করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সফল হবে। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে আগামী ১০ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হবে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূল কমিটি ও জেলা কমিটির সুপারিশকৃত জাসদের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার আহবান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় পার্টির অভিনন্দন
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এলে জাতীয় নির্বাচন উৎসবমূখর হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনী তফসিল নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল আমিন হাওলাদার সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিলে নির্বাচন কমিশনের সততা ও আন্তরিকতা আছে। তাই এই তফসিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন স¤ভব। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ৪০টি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে এবং সুশীল সমাজের মতামত নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল দল সহযোগিতা করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, যা দেশ-বিদেশে সমাদ্রিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবার অংশ গ্রহণের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ফুটে উঠতে পারে। অনলাইনে মনোনয়ন পত্র গ্রহণকে স্বাগত জানান তিনি। লেভেল প্লেইংফিল্ডপ প্রসঙ্গে হাওলাদার বলেন, আশা করি বর্তমান নির্বাচন কমিশন সবার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে ও সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সমর্থ হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবার কোন অবকাশ নেই। তাই সংবিধানের মধ্যে থেকেই সবার জন্য গ্রহণযোগ একটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বর্তমান কমিশন। এসময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি ও এসএম ফয়সল চিশতীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনলেন ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি। সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। গোপালগঞ্জ ৩ আসনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ওবায়দুল কাদের। তবে কোন আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা আগামী রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাতে এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন সিইসি। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর।
নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর,নির্বাচনে প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। সিইসি তার ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসারও অনুরোধ জানাই। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল এ তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে। অপরদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা ছাড়াই তফসিল ঘোষণায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের ফল না আসা পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অপরদিকে, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণা করতে ইসিকে পাল্টা অনুরোধ জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। এমন পরিস্থিতিতে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকালই তফসিল ঘোষণা করল সিইসি। ভাষণে সিইসি সব দলের অংশগ্রহণ ও সহিংসতায় না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়; নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনো প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।’ এর আগে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ ইসির নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। এবারও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও সহিংসতা নেই। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে দফায় দফায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর দাবির প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেন, ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়ে গেছে। কমিশনারগণ সংবিধানের আলোকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনার শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয় এবং মুদ্রণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে পারস্পরিক পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী দায়িত্বে নিবেদিত রয়েছেন। কমিশনের প্রস্তুতির দিকগুলো তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা একাদশক সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ ৭টি করণীয় স্থির করে ২০১৭ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম। সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাছে কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণের পর করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন—কতিপয় আইন ও বিধি সংশোধন করা হয়েছে। সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাগণের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মতো পোলিং এজেন্টগণের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল পেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এ সব নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে। ভাষণে তিনি বলেন, জাতির এমন উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমি প্রত্যাশা করব, অনুরোধ করব এবং দাবি করব; প্রার্থী এবং তার সমর্থক নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে এবং স্বাধীন বিবেক পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। স্ব-স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি ভোটকেন্দ্রে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবেন। পোলিং এজেন্টগণ ফলাফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্র, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং এজেন্টগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গণমাধ্যমকর্মী বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ করবেন। পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। নির্বাচনে বাজেট ও ভোটার : জাতীয় নির্বাচনের বাজেট ধরা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এদিকে, ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ভোটকেন্দ্র ৪১ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এতে সাত লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন নির্বাচনী অফিসে মনোনয়ন বিক্রি শুরু হয়। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে প্রথম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়া দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের তদারকিতে আট বিভাগের আটটি বুথে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগে থেকেই দলের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এবার মনোনয়ন ফরমের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন নির্বাচনী অফিসের খোলা মাঠে আট বিভাগের জন্য টেবিল চেয়ার দিয়ে সাজিয়ে আটটি বুথ করা হয়েছে। সকাল থেকেই যেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে।
আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৩ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে একযোগে এই ভোট গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এই তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর, এবং ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সব দল নির্বাচনে এলে অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন সিইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো বিরোধ থাকলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রতি তাগিদ দেন সিইসি
চার শিল্পীকে ৯০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :চার গুণী শিল্পীকে ৯০ লাখ অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় গণভবনে ডেকে তাদেরকে অনুদান প্রদান করেন তিনি।চিকিৎসা ও অসহায়ত্ব দূর করতে দেশের এই চার গুণী শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। অনুদানপ্রাপ্তরা হলেন- অভিনেতা প্রবীর মিত্র, রেহানা জলি, নূতন ও কণ্ঠশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও অসুস্থ অভিনেত্রী রেহানা জলি পেয়েছেন ২৫ লাখ করে অন্যদিকে অভিনেত্রী নূতন ও শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি ২০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। সবাইকে উক্ত মূল্যের সমমান সঞ্চয়পত্র তুলে দেয়া হয়েছে। শিল্পী ঐক্য জোটের সভাপতি ও অভিনেতা ডি এ তায়েবের পরামর্শে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও নাট্য নির্মাতা জিএম সৈকতের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন কুদ্দুস বয়াতি বাদে বাকি তিনশিল্পী। অনুদান গ্রহণের সময় শিল্পী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা জিএম সৈকত। জিএম সৈকত বলেন, ‘গত সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদান চেয়ে আবেদন জমা দেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই আবেদনে সাড়া পাওয়া গেছে। সঞ্চয়পত্র হিসেবে প্রতিমাসে একটি করে কিস্তিতে টাকা পাবেন তারা।’
সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক: আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজকের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপের ফলাফল জানাতে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। ১০ম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ও জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার আগে সকালে নির্বাচন কমিশন সভায় তফসিলের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেলা ১১টার দিকে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করবে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার। পরে সন্ধ্যা ৭টায় রেডিও ও টেলিভিশনে একযোগে সেই ভাষণ প্রচার করা হবে। সিইসি তার ভাষণে আগামী নির্বাচনে সব দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাতে পারেন। এছাড়া বর্তমান কমিশনের সফলতা, নির্বাচন নিয়ে ইসির দৃঢ়তা, নির্বাচন উপলক্ষে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও জানাবেন সিইসি।
তফসিল ঘোষণা নিয়ে বিশৃঙ্খলা রোধে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর চেকপোস্টগুলোতে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ ভারি যানবাহনে তল্লাশী করা হচ্ছে। কেউ যাতে অপতৎপরতা করতে না পারে সে জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সন্দেহ হলে পথচারিদের দেহও তল্লাশি করা হচ্ছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, বিমানবন্দর, জাহাঙ্গীর গেইট, ফার্মগেইট, নিউমার্কেট, ধানমণ্ডি ও গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশঙ্খলাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তা। পুরো চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ জুড়ে ‘নাশকতা’ ঠেকানোর সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।নগরের বন্দর ভবনের সামনে, ইপিজেড মোড়, অলংকার মোড়, জিইজি মোড়, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, কাজীর দেউরীসহ বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মাশকুর রহমান বলেন, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে র‌্যাবের টহল রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকল ধরনের নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়ে রংপুর বিভাগজুড়ে সতর্ক অবস্থানে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মহানগরীর বিভিন্ন মোড়সহ বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী ও ব্যক্তির দেহ তল্লাশী চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেল, মাইক্রোতে করে র‌্যাবের রোভাস্ট পেট্রোল শুরু হয়েছে। তফসিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যেকোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে বুধবার বিকেল থেকে পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা ও সাদা পোশাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সতর্ক পাহারা বসিয়েছে।যেকেনো মূল্যে আমরা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে তল্লাশী চৌকি বসানো হয়েছে। পুরো এলাকাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে আনা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশী করা হচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর