রাজধানীর কামারপট্টি বাজারে আগুন,প্রায় ৪০টি দোকান পুড়ে ছাই
৪এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে কামারপট্টি বাজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ভোর সোয়া ৫টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে খিলগাঁও বাজারে সহস্রাধিক দোকানের মধ্যে আনুমানিক ৪০টি দোকান পুড়ে গেছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইনটেনেন্স) দিলীপ কুমার ঘোষ। বুধবার (৩ এপ্রিল) মধ্যরাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁও বাজারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দিলীপ কুমার ঘোষ বলেন, ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও তা পুরোপুরি নিভেছে ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে। এই বাজারে ছোট ছোট প্রায় ১৩শ দোকান ছিল। তার মাঝে আনুমানিক ৪০টির মতো দোকান পুড়েছে। এদিকে এখনো পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এই ঘটনায় এখনো কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৩এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন রমজানে তেল ও চিনিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামনে রোজা। এই সময় তেল, ছোলা, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সরবরাহ যেন থাকে, সে বিষয়টিও আপনাদের দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন এবং ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে ভাষণে একথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃর্পক্ষর (বেজা) আওতাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু, ২০টি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ৫টি চলমান কাজের শুভ উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ফসলি জমি নষ্ট না করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ সঙ্গে সঙ্গে দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। তিনি বলেন, আমরা ফসলি জমি নষ্ট করব না। মানুষের জন্য কাজ করি, সেই মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। এক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের যেন কোন কষ্ট না হয়। সেদিকে নজর দিতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথমে বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তুলেছেন। এজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাঙালিদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। আজ বাঙালিদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন। ভিডিও কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী মিরেরসরাই, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোমনিক জোন সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি ইকোনমিক জোন রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণ, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চলনায় মীরসরাই প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ সমাজ দেশে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমি তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করি। তার সরকারের উন্নয়ন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির জন্য আমি কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর করতে পারি না, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যেন বাড়ে এবং দেশে যেন আমাদের বাজার সৃষ্টি হয় সে পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে আমরা সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। এর ফলে এখন ক্রয়-বিক্রয় থেকে শুরু করে সবকিছু ঘরে বসেই মানুষ অনলাইনে সারতে পারছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে দেশের পোস্ট অফিসগুলোকেও তার সরকার আধুনিকায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশটাকে নিয়ে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির করেছি। আপনারা যারা আজ দেশের শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তারা এর সুফল পাচ্ছেন। এ সময় আঞ্চলিক কানেকটিভি জোরদারে তার সরকারের বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) এবং বিসিআইএন-ইসি (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) পদক্ষেপসমূহও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা এমন চমৎকার একটা জায়গায় যেখান থেকে প্রয়োজন পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণ-সবখানেই যাওয়া যায়। এসব জায়গাতেই একটি ভালো বাজার পাবার সুযোগটা আমাদের রয়েছে। সে যোগাযোগটাও আমরা স্থাপন করেছি। পায়রায় নতুন সমুদ্র বন্দর তৈরিতে তার সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসা উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের কাজ হচ্ছে অবকাঠামোগত যে সুযোগগুলোর একান্ত প্রয়োজন সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেয়া। এসবের ফলে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জনগণের জীবন-মানের উন্নয়ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, এ দেশের কোন তরুণ বেকার থাকবে না। তারা প্রশিক্ষণ পাবে, উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে যার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি, পাশাপাশি শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি এবং তরুণদের জন্য বহুমুখী এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিচ্ছি। প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টি করাই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির কাজও সরকার করে যাচ্ছে। সারাদেশে একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এর আগে আমি ১০টি অর্থনৈাতক অঞ্চল করে দিয়েছি। আজকে আরো ১১টি করা হলো এবং ১৩টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য সাহস করে যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি এটা আামাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মর্যাদাকে ধরে রেখে বাংলাদেশকে আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ, সেই লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা উদযাপন করব। তখন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। আমরা ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য তার সরকার পঞ্চবার্ষিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছে।-আলোকিত বাংলাদেশ
আমার মূল লক্ষ্যই এখন তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি করা: প্রধানমন্ত্রী
৩এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার খুব ভালো লাগছে অনেক ছেলেমেয়ে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে দেশে এসে ব্যবসার হাল ধরছে। শিল্পায়ন নিয়ে কাজ করছে। এভাবেই এগিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি। আমার মূল লক্ষ্যই এখন তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা, দারিদ্র্য বিমোচন করা। এসব পদক্ষেপেই দেশের জিডিপি এখন ৮ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি কোনও দেশ এগুতে পারে, তাহলে উন্নয়ন সম্ভব। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার তা প্রমাণ করেছে। সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়নি। বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতির পিতা যা যা করা প্রয়োজন তাই করে গেছেন। তিনি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ করতে চেয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। অবহেলিত শোষিত-বঞ্চিত মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই ছিল জাতির জনকের উদ্দেশ্য। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই চাকরি-বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য বাংলাদেশ এখন উন্নতি করতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক দশক রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার ফলে আমাদের যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছিল তা করতে পেরেছি। শিল্পায়ন ছাড়া একটি দেশের অর্থনীতি কখনও বিকশিত হয়না। ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা হয়েছে। যেন কৃষি জমি নষ্ট না করে শিল্প বিকশিত করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
৩এপ্রিল,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ বুধবার রাতে মুসলিম বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআনখানি, নফল নামাজ, জিকির, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপন করবেন। পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ আজ বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসেবে আখ্যায়িত হয়। ইসলাম ধর্মমতে, ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুওয়াত প্রাপ্তির একাদশ বছরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিনগত রাতে হযরত জিব্রাঈল (আ.)-এর সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর আরশে আজিমে মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। এসময় তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। রাসূল (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হচ্ছে মেরাজ। মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অন্যকোনও নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব হচ্ছে, এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মে নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ নির্ধারণ করা হয় এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়। পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ বুধবার বাদ আসর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক এক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা করবেন। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করবেন। সূত্র: বাসস।
শপথ নিলেন মোকাব্বির
২এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন সিলেট-২ আসন থেকে জয় পাওয়া গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শপথ নিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সংসদ ভবনে আসেন মোকাব্বির খান। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন গণফোরামের দুই নেতা সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করে জয়ী হওয়া সুলতান মনসুর গত ৭ মার্চ শপথ নিয়ে এরইমধ্যে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। ওই সময় মোকাব্বিরও শপথ নেবেন বলে জানানো হলেও তখন তিনি পিছু হটেন।
অটিজম পরিচর্যা কেন্দ্র করা হবে প্রতিটি বিভাগে
২এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে অটিজম পরিচর্যা কেন্দ্র করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০১৯ এর উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম বিশ্ব অটিজম দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রত্যেক প্রতিবন্ধীরা ভাতা পাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন- অটিজন আক্রান্তরা বোঝা নয়, তাদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা-ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কল্যাণে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ প্রণয়ন এবং এ-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল, বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্যকেন্দ্র এবং অটিজম রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করেছি। অটিস্টিকসহ সকল প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগ, শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতা, স্পিচ বা ল্যাঙ্গুয়েজ দক্ষতা তৈরির পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে এ সকল কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১২তম বিশ্ব অটিজম দিবস আজ
২এপ্রিল ,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ মঙ্গলবার। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবস উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে ও দেশে অটিজম দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে আজ থেকে তিন দিন পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে নীলবাতি প্রজ্বলন করা হবে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নীলবাতি প্রজ্বলনের পর থেকেই তিনদিনব্যাপী নীলবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি কার্যকর হবে। পাশাপাশি অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অবদান রাখায় অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সফল ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। অন্যান্য পুরষ্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মোট সংখ্যা প্রসঙ্গে সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মোট ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৪১৭ জন রয়েছে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি। এবারের অটিজম দিবসের প্রতিপাদ্য হলো সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার। প্রতিপাদ্যটি দিবসটি পালন করা হবে। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এক সময় অটিজম ছিল একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যু। এ সম্পর্কে সমাজে নেতিবাচক ধারণা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও স্কুল সাইকোলজিস্ট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২০০৭ সালে এ বিষয়ে দেশে কাজ শুরু করেন। সায়মা ওয়াজেদ এ অবহেলিত জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে তার বিরাট অবদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা
১ এপ্রিল ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর বনানীতে ২৩তলা এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষতি এড়াতে ১৫ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঢাকার ভবনগুলো পরিদর্শনের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২৪টি দল গঠন করেছে। এই দলগুলো ভবন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ১৫ নির্দেশনা হলো- ১. ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে হাইরাইজ বিল্ডিং নির্মাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। ২. ভবনগুলোর অগ্নিনিরোধক সিস্টেম বা ক্লিয়ারেন্স প্রতি বছর নবায়ন করা। ৩. বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা। ৩. এক থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া করা। ৪. অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু এড়াতে ভবনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন। ৫. পানির অভাবে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস কাজ করতে পারে না; তাই যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করা। ৬. রাজধানীর আশপাশের লেকগুলো সংরক্ষণ করা। ৭. অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় ২৩তলা পর্যন্ত পৌঁছানোর উপযোগী তিনটি লম্বা সিঁড়ি আছে ফায়ার সার্ভিসের। এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ৮. প্রকৌশলীরা যেন পরিবেশ ও বাস্তবতার নিরেখে অবকাঠামোর নকশা করেন, তা নিশ্চিত করা। ৯. প্রতিটি ভবনের চারপাশে দরজা-জানালাসহ শতভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা। ১০. অনেক জায়গায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিট যেন সবসময় ওপেন থাকে, অর্থাৎ ম্যানুয়ালি যেন তা খোলা যায়। ১১. জরুরি প্রয়োজনে মানুষ যেন বহুতল ভবন থেকে তারপুলিনের মাধ্যমে ঝুলে নামতে পারে, সেই পদ্ধতি চালু করা। ১২. হাসপাতাল ও স্কুলে অবশ্যই বারান্দা রাখতে হবে। ১৩. ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা জায়গা বাঁচাতে ভবনের ভেতর সব জায়গা বন্ধ করে ডিজাইন করেন। এ রকম কোনো ডিজাইন করা যাবে না। ১৪. দুর্ঘটনার সময় মানুষ যাতে লিফট ব্যবহার না করে সে জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। ১৫. প্রতিটি ভবনে কমপক্ষে দুটি এক্সিটওয়ে রাখা। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ২৩তলা এফআর ভবনে আগুন লেগে ২৬ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। ওই ভবনটি ১৮তলার অনুমোদন নেয়া হয়েছিল এবং অগ্নিনিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা সেখানে ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী যারা
১ এপ্রিল ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ দফায় ১০৭টি উপজেলার বেশির ভাগ কেন্দ্রেই ছিল ভোটারদের আকাল। দিনের বেশির ভাগ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। সকালের দিকে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্র ছিল প্রায় ফাঁকা। কঠোর নিরাপত্তা ও ভোটারের আকালের মধ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, জাল ভোট, গোলাগুলির মধ্য দিয়ে বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ধামরাইয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নেয়া ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার মাস্টারকে আটক করা হয়েছে। অনিয়ম ও গোলযোগের অভিযোগের পর কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করেছে কমিশন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুটি ভোটকেন্দ্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আনসার সদস্যসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- নৌকার এজেন্ট আজহারুল ইসলাম রাজা (৪০) ও আনসার সদস্য মজিবুর রহমান (৫০)। মুন্সীগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে আহত হয়েছেন দুজন। এদিকে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতসহ আওয়ামী লীগ ৮৩টি ও দলটির বিদ্রোহীরা ২৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের ফলে গত তিন দফার মতো চতুর্থ দফা নির্বাচনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ছিল। ভোটারদের আগ্রহও ছিল বেশ কম। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ১৫টি উপজেলায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় সেখানে ভোট হয়নি। ৩৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেতারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এর আগে প্রথম ধাপে ১৪ জন, দ্বিতীয় ধাপে ২৩ জন ও তৃতীয় ধাপে ৩১ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। পটুয়াখালী সদর, কক্সবাজার সদর, বাগেরহাট সদর, ময়মনসিংহ সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর ও ফেনী সদরে ভোট হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। চতুর্থ ধাপে ১২২ উপজেলায় তফসিল ঘোষণা করা হলেও তৃতীয় ধাপের ছয়টি উপজেলার ভোট পিছিয়ে চতুর্থ ধাপে আনা হয়। আগেই আইনি জটিলায় চারটি এবং ইসির নির্দেশনায় দুটি উপজেলার ভোট স্থগিত হয়ে যায়। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সবাই পাস করেছে এমন ১৫টি উপজেলা হচ্ছে- ভোলা সদর, মনপুরা ও চরফ্যাশন, যশোরের শার্শা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ঢাকার সাভার ও কেরানীগঞ্জ, কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবীদ্বার ও চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও ফেনীর পরশুরাম। ভোট স্থগিত করা হয়েছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, খুলনার ডুমুরিয়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার বড়ুরা, নাঙ্গলকোট, নোয়াখালীর কবিরহাট ও ফেনীর ছালগনাইয়া। পটুয়াখালী : কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগের এসএম রাকিবুল আহসান, গলাচিপায় আওয়ামী লীগের শাহিন শাহ, সদরে আওয়ামী লীগের গোলাম সরোয়ার, দুমকিতে আওয়ামী লীগের হারুন অর রশীদ হাওলাদার, মির্জাগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খান মো. আবু বকর সিদ্দিক, দশমিনায় আওয়ামী লীগের মো. আবদুল আজীজ, বাউফলে আওয়ামী লীগের আ. মোতালেব হাওলাদার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। ভোলা : সদরে আওয়ামী লীগের মোশাররফ হোসেন, চরফ্যাশনে আওয়ামী লীগের জয়নাল আবদীন আকন্দ, দৌলতখানে আওয়ামী লীগের মনজুরুল আলম খান, মনপুরায় আওয়ামী লীগের সেলিনা আক্তার চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এছাড়া তজুমুদ্দিনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোশাররফ হোসেন দুলাল এবং লালমোহনে আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। বরগুনা : বেতাগীতে আওয়ামী লীগের মাকসুদুর রহমান ফোরকান চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এছাড়া বামনায় আওয়ামী লীগের সাইতুল ইসলাম লিটু, আমতলীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গোলাম ছরোয়ার ফোরকান, সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মনিরুল ইসলাম, পাথরঘাটায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোস্তফা গোলাম কবির বিজয়ী হয়েছেন। নেসারাবাদে আবদুল হক (স্বতন্ত্র)। পিরোজপুর : ভান্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগের মিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কাউখালীতে জেপির (মঞ্জু) আবু সাঈদ মিয়া, ইন্দুরকানীতে আওয়ামী লীগের এম মতিউর রহমান, নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের অমূল্য রঞ্জন হালদার, সদরে আওয়ামী লীগের মজিবুর রহমান খালেক বিজয়ী হয়েছেন। দিনাজপুর : সদরে আওয়ামী লীগের এমদাদ সরকার বিজয়ী হয়েছেন। কুড়িগ্রাম : ফুলবাড়ীতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গোলাম রব্বানী বিজয়ী হয়েছেন। খুলনা : বটিয়াঘাটায় আলীগের আশরাফুল আলম খান, ফুলতলায় আলীগের শেখ আকরাম হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এছাড়া কয়রায় আ:লীগের বিদ্রোহী এসএম শফিকুল ইসলাম, দাকোপে আ:লীগের বিদ্রোহী মুনসুর আলী খান, পাইকগাছায় আ:লীগের গাজী মোহাম্মদ আলী, রূপসায় আ:লীগের কামাল উদ্দিন বাদশা, তেরখাদায় আ:লীগের বিদ্রোহী শেখ শহিদুল ইসলাম, দিঘলিয়ায় আ:লীগের বিদ্রোহী শেখ মারুফুল ইসলাম। যশোর : সদরে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার ও শার্শায় আওয়ামী লীগের সিরাজুল হক মঞ্জু চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া চৌগাছায় আওয়ামী লীগের ড. মোস্তানিচুর রহমান, ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মনিরুল ইসলাম, বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নাজমুল ইসলাম কাজল, মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের নাজমা খানম, অভয়নগরে আওয়ামী লীগের শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর ও কেশবপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাজী রফিকুল ইসলাম জয়ী। বাগেরহাট : সদরে আওয়ামী লীগের সরদার নাসির উদ্দিন, কচুয়ায় আওয়ামী লীগের এসএম মাহফুজুর রহমান, চিতলমারীতে আওয়ামী লীগের আশোক বড়াল, শরণখোলায় আওয়ামী লীগের মো. কামাল উদ্দিন আকন, মোংলায় আবু তাহের হাওলাদার ও রামপালে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ফকিরহাটে আওয়ামী লীগের স্বপন দাস, মোল্লাহাটে আওয়ামী লীগের শাহিনুল আলম ছানা, মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের শাহ ই আলম বাচ্চু জয়ী। মুন্সীগঞ্জ : সদরে আওয়ামী লীগের আনিস উজ্জামান আনিস, টঙ্গীবাড়িতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জগলুল হালদার ভুতু, শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মসিউর রহমান মামুন, গজারিয়ায় আওয়ামী লীগের আমিরুল ইসলাম, লৌহজংয়ে আওয়ামী লীগের ওসমান গনী তালুকদার, সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন আহমেদ জয়ী। ময়মনসিংহ : সদরে আওয়ামী লীগের মো. আশরাফ হোসাইন, গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের আশরাফ উদ্দিন বাদল ও ফুলবাড়ীতে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক সরকার চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া হালুয়াঘাটে আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হক সায়েম, ধোবাউড়ায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ডেভিট রানা চিসিম, ফুলপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আতাউল করিম রাসেল, ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হাসান সুমন, গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোফাজ্জল হোসেন খান, নান্দাইলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাসান মাহমুদ জুয়েল, মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুল হাই আকন্দ, ভালুকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবুল কালাম আজাদ জয়ী। ঢাকা : সাভারে আওয়ামী লীগের মঞ্জুরুল আলম রাজিব, কেরানীগঞ্জে শাহিন আহমেদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া দোহারে আওয়ামী লীগের আলমগীর হোসেন জয়ী হয়েছেন। টাঙ্গাইল : গোপালপুরে আ:লীগের ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, ধনবাড়ীতে আ:লীগের হারুনার রশিদ, মধুপুরে আ:লীগের ছরোয়ার আলম খান আবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সদরে আ:লীগের শাহজাহান আনসারী, মির্জাপুরে আ:লীগের মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, দেলদুয়ারে আ:লীগের বিদ্রোহী মাহমুদুল হাসান মারুফ, নাগরপুরে বিএনপির (স্বতন্ত্র) আবদুছ ছামাদ দুলাল, ঘাটাইলে আ:লীগের শহিদুল ইসলাম লেবু, ভূঞাপুরে আ:লীগের আবদুল হালিম, কালিহাতীতে আ:লীগের বিদ্রোহী আনছার আলী, বাসাইলে আ:লীগের বিদ্রোহী কাজী অলিদ ইসলাম ও সখীপুরে আ:লীগের জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কুমিল্লা : লাকসামে আ:লীগের মো. ইউনুস ভূঁইয়া, মনোহরগঞ্জে আ:লীগের মো. জাকির হোসেন, দেবিদ্বারে আ:লীগের জয়নাল আবেদিন, চৌদ্দগ্রামে আ:লীগের মো. আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া মুরাদনগরে আ:লীগের আহসানুল আলম কিশোর, বুড়িচংয়ে আ:লীগের বিদ্রোহী আখলাক হায়দার, ব্রাহ্মণপাড়ায় আ:লীগের বিদ্রোহী মুহাম্মদ আবু তাহের, মেঘনায় আ:লীগের সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার, হোমনায় আ:লীগের রেহানা বেগম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নোয়াখালী : কোম্পানীগঞ্জে আ:লীগের মোহাম্মদ সাহাব উদ্দীন, সেনবাগে আ:লীগের জাফর আহাম্মদ চৌধুরী, সুবর্ণচরে আ:লীগের খায়রুল আনম সেলিম, সোনাইমুড়ীতে খন্দকার রুহুল আমীন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ছাড়া চাটখিলে আ:লীগের জাহাঙ্গীর কবির ও বেগমগঞ্জে আ:লীগের ওমর ফারুক বাদশা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : কসবায় আ:লীগের রাশেদুল কায়ছার ভূঁইয়া, আখাউড়ায় আ:লীগের আবুল কাশেম ভূঁইয়া জীবন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সদরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ফিরোজুর রহমান, নাসিরনগরে আ:লীগের রাফি উদ্দিন আহমেদ, আশুগঞ্জে আ:লীগের মো. হানিফ মুন্সি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ফেনী : পরশুরামে আ:লীগের কামাল আহম্মদ মজুমদার, দাঁগনভূঞায় আ:লীগের দিদারুল কবির রতন, সোনাগাজীতে আ:লীগের জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, ফুলগাজীতে আ:লীগের আবদুল আলীম এবং সদরে আ:লীগের আবদুর রহমান বিকম চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ : সোনারগাঁয়ে আ:লীগের মোশারফ হোসেন, রূপগঞ্জে আ:লীগের শাহ্ জাহান ভূঁইয়া, আড়াইহাজারে আ:লীগের মোজাহিদুর রহমান হেলু সরকার জয়ী। গাইবান্ধা : গোবিন্দগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবদুল লতিফ প্রধান। কক্সবাজার : সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের কায়সারুল হক জুয়েল চেয়ারম্যান নির্বাচিত। সোনারগাঁয়ে ভোট শেষে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, প্রিসাইডিং অফিসারসহ নিখোঁজ তিন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ভোট শেষে ফেরার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। ট্রলারে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ছিলেন। পরে ১৭ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাত সোয়া ১টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইসহ তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। তখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছিল। রোববার রাতে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলা গ্রাম এলাকার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহনকারী ট্রলার। নিখোঁজ তিনজন হলেন- চরহোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ইউসিবি ব্যাংক মেঘনাঘাট শাখার ম্যানেজার বোরহান উদ্দীন, নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পিএসআই সেলিম মিয়া ও মহিলা আনসার সদস্য রিতা আক্তার। আহতদের মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় ভোটের ব্যালট বাক্সসহ অন্য সরঞ্জাম এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অস্ত্র পানিতে তলিয়ে গেছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনের চিত্র- সখীপুর (টাঙ্গাইল) : ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নৌকার এজেন্ট আজহারুল ইসলাম রাজা (৪০) ও আনসার সদস্য মো. মজিবুর রহমানের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার সখীপুর উপজেলার যোগিরকোপা পূর্ব পাড়া এবতেদায়ি মাদ্রাসা ও দাড়িয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। যোগিরকোপা পূর্বপাড়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পার্থ সারথী গোস্বামী বলেন, ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেক পরই নৌকার এজেন্ট আজহারুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাজা উপজেলার বহেরাতৈল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। তিনি ওই ইউনিয়নের ঘাটেশ্বরী গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। অপরদিকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সবুজ কান্ত বর্মণ জানান, দাড়িয়াপুর আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৬টার দিকে কতর্ব্যরত আনসার সদস্য মো. মজিবুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) : সাটুরিয়ার সদ্য নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার মাস্টার ধামরাইয়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তথ্য গোপন করে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নেয়া এবং রোববার ধামরাইয়ের একটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে এক প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোটের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠায় তাকে আটক করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ : বিকালে ভোটগণনা শেষে পঞ্চসার ইউনিয়নের দেওয়ান বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে এক রিকশাচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন। তাদের প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইন বলেন, হরগঙ্গা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ গুলি করলে স্থানীয় ফয়সাল ও রিকশাচালক রুহুল আমীন আহত হন। হোমনা (কুমিল্লা) : ব্যালট পেপারে সিল, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা এবং দুটি পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার কারণে উপজেলার আসাদপুর দড়িকান্দি ও হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : জাল ভোট দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে চারটি কেন্দ্র থেকে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- আমির হোসেন, মেহেদী হাসান, রায়হান মিয়া, মাহবুবর রহমান, রুহুল আমিন, আতিকুর রহমান, শিমুল মিয়া ও সাজ্জাদুল ইসলাম। চট্টগ্রাম : লোহাগাড়ায় ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারে কম। অনেক কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোটার না যাওয়ায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে আরও পরে। জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ৪ নারীকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা হলেন- খুরশিদা বেগম, খুরশিদা আক্তার, রেখা আক্তার ও আনোয়ারা বেগম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে ভোটাররা দিগিদিক ছুটতে থাকেন। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। টাঙ্গাইল : বাসাইলে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেয়ার সময় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসাইল দক্ষিণপাড়া কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- রাশেদ হৃদয় ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সৈদামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা। গাইবান্ধা : দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া ও কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : সিংহেশ্বর ইউনিয়নে নৌকার সমর্থকরা একটি ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে উদ্ধার করে। সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু ওমর ওরফে বাবুল হোসেনের ২ সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- সুমন ও খোকন মিয়া। এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে বাক্সে ব্যালট না ফেলে পকেটে নিয়ে বের হয়ে যান বিএনপি সমর্থকরা। পরে তারা ওই ব্যালট পেপারে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই ও আমার মা জেলে কেন শেখ হাসিনা জবাব চাই লেখা সংবলিত সিল মেরে তা ফেসবুকে পোস্ট করে। দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : তিতাস উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করেছে কমিশন। কেন্দ্র দখল ও ভোর রাত থেকে নানা অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশনের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা-২ এর উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-শাখা ২ এর সহকারী সচিব মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়। নোয়াখালী : চাটখিলে ফয়জুন নেছা দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রোজিনা আক্তার রোজির বিরুদ্ধে কেন্দ্রে পোলিং অফিসার হুমায়ুন কবির দোলনকে চড়, কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হুমায়ুন কবির দোলন মুঠোফোনে বলেন, জাল ভোটে বাধা দেয়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে কিল-ঘুষি মারেন। তবে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রোজিনার মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আমতলী (বরগুনা) : গুলিশাখালী কেন্দ্রে স্বতন্দ্র প্রার্থী আলহাজ গোলাম ছরোয়ার ফোরকানের জিপ গাড়িতে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজুর সমর্থকরা হামলা করে। এতে জিপ গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় লিটন জোমাদ্দার ও সোহেল ফকির নামে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ : রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রূপগঞ্জের মুশুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩নং বুথে ভোট পড়েনি একটিও। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়ে ৮টি ও কালাদী সাহাজদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়ে ৬টি। ভোটার না থাকায় আনসার, পুলিশ সদস্যরা পার করছিলেন অলস সময়। খুলনা : শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রহিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসা গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গাজী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের অদূরে স্থাপিত আনারস প্রতীকের প্রার্থী আকবর শেখের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর করা হয়। খবর- যুগান্তর

জাতীয় পাতার আরো খবর