নৌবাহিনী হবে আরও শক্তিশালী ক্ষমতায় ফিরলে
অনলাইন ডেস্ক: টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে পারলে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে তার সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার নৌবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই প্রথম কোনো নৌঘাঁটির কমিশনিং করা হয়। অনুষ্ঠানস্থল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ২২টি বহুতল ভবন উদ্বোধন, সাভারে বিএন টাউনশিপের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় এরিয়া কমান্ডার, নৌবাহিনী কর্মকর্তা এবং তাদের সহধর্মিনীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সাভারে চীনা কোম্পানি এই বিএন টাউনশিপ নির্মাণ করবে। এর আওতায় ১০টি ২৭ তলা এবং ১২টি ২৬ তলা অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত আবাসিক ভবন নির্মিত হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্রমবিকাশ এবং জাতি গঠনে তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত বাংলাদেশ নেভি ইন দি টোয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিএনএস শেখ মুজিবের কমান্ডিং অফিসার মইনুদ্দিন মালিক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কমিশনিং ফরমান গ্রহণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই নতুর নৌঘাঁটিতে পৌঁছলে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং এ সময় জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, বানৌজা শেখ মুজিব ঘাঁটি নিজস্ব অপারেশনাল কর্মকাণ্ডের পাশপাশি জনকল্যাণ এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ঢাকা নৌঅঞ্চলে নৌবাহিনী সদরদপ্তর, একটি ছোট ঘাঁটি ব্যতীত আর কোনো স্থাপনা আগে ছিল না। কাজেই ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই সময়ের মধ্যে এই নৌবাহিনীকে বিভিন্নভাবে আমরা শাক্তিশালী করেছি এবং আন্তর্জাতিকমানের উপযুক্ত করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নৌবাহিনীর সদস্যবৃন্দকে বলবো, নৌবাহিনীতে দীর্ঘদিন যাবত মাসম্পন্ন প্রশিক্ষণ স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাবিকদের আবাসিক ভবন ছিল না, তাদের তীব্র সংকটের মধ্যদিয়ে দিন যাপন করতে হয়েছে এবং আজকে যে সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান হয়েছে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে আমরা এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তিনি নৌবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা চাই যারা আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করবেন, যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী, তারা এবং তাদের পরিবারবর্গ সুন্দরভাবে বসবাস করবেন, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করবেন-সেটাই আমাদের লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন একটি আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে। তাই তিনি সশস্ত্র বাহিনীর একটা প্রতিরক্ষা নীতিমালা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সে সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ সীমিত অর্থ, একটা টাকাও কোর রিজার্ভ মানি ছিল না, গোলায় ধান ছিল না, তারওপর এককোটি মানুষ শরণার্থী, তিন কোটি মানুষ গৃহহারা লাখো মা-বোন নির্যাতিতা, আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবার-তাদের পুনর্বাসন এবং একটি বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার মতো কঠিন দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে তিনি এই নৌবাহিনীও গড়ে তোলেন। তিনি নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জীবনমানের উন্নয়ন কামনা করে যেসব স্থাপনা করা হয়েছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে সবার প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে সংবাদ সম্মেলন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বলেন,সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন। সম্ভবত ৮ তারিখ বা ৯ তারিখ (নভেম্বর)। কী দাঁড়ালো, এত দলের সাথে ডায়লাগ হচ্ছে, ডায়লগের রেজাল্ট কী, ফলাফলটা কি সে সম্পর্কে নেত্রী নিজেই প্রেস কনফারেন্সে জানাবেন। গত ১ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন তিনি বসেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে। এক দিন বিরতির পর রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেন ক্ষমতাসীন জোটের শরিক ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে। আজ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার দল ও জোটের ৩২ নেতাকে নিয়ে যাচ্ছেন গণভবনে। মঙ্গলবার দুপুরে কওমি মাদ্রসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট এবং সন্ধ্যায় সিপিবির নেতৃত্বে আটদলীয় বাম জোটকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার প্রথম দফা সংলাপ শেষে বুধবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আবারও আলোচনার জন্য সময় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। আর পরদিন ঘোষণা করা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলোর দাবি কতটুকু মেনে নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে কাদের বলেন,দাবি তো আমরা দুই-তিনটি মেনে নিয়েছি। আমরা কোন কোন বিষয়ে ঐক্যমত হতে পারি তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিস্কার করা হয়েছে। আমরাও বলেছি এই এই বিষয়ে দাবি মানতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিছু কিছু বিষয় আছে তা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। যেমন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এ বিষয়ে ইলেকশন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে সরকার কোনবাধা দেবে না। গত ১ নভেম্বরের সংলাপ শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী বুধবার আবার সংলাপে বসতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। আর সংবিধানের ভেতরে থেকেই কীভাবে সংসদ ভেঙে ভোট করা যায়, সেই যুক্তি তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন নেতারা। ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানের ভেতরে আর কোন পরিবর্তনের পক্ষে যক্তিসংগত কোন প্রস্তাব করেন তা গ্রহণ করার মতো হলে তা আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনজ্ঞ শাহদীন মালিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। আর শাহদীন দাবি করেছেন, সংবিধানেই সংসদ ভেঙে নির্বাচনের সুযোগ আছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন,দেখুন দুনিয়ার সব দেশে যেভাবে হয় বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম হবে না। এক্যফন্ট যেটা বলেছে, সংসদ নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে। সেটা হবে। সংসদ সদস্যদের কোন কার্যকারিতা থাকবে না। সংবিধান বহির্ভূত কোন দাবি তারা করবে না বলে আমি মনে করি। সংবিধানের বাইরে কোন দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ এই মহূর্তে নেই- যোগ করে কাদের। সংলাপ ভাবনার অতীত ছিল কাদেরের এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনায় বসবেন, সেই সিদ্ধান্তের কথা শুনে তিনি হতবাক হয়েছেন। বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও অন্যান্য দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সংলাপের পক্ষে ছিল না। কিন্তু আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শিতার মাধ্যমে সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি দলমত নির্বিশেষে দেশের অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করেছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগে আমরা ভাবতেও পারিনি আলোচনা হবে। আমরা তার মুখে শুনে অবাক হয়েছি। আমাদের লিডারের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের আস্থা শতভাগ। আমরা একযোগে এখন ডাইলোগের পক্ষে কথা বলছি। নেত্রী যা বলবেন আমরা সেটাকেই গুরুত্ব দেব। শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা পাবলকি পারসেপশনকে ইগনোর করতে পারি না। আমারা জনগণের মনে যাতে সংশয় তৈরি না হয় সেকারণে আমি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে সরকার প্রধান হিসেবে ডায়লগের উদ্যোগ নিয়েছি। ড. কামাল হোসেনর প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়েছি। এমনকি অন্যদেরও আবেদনকে গুরুত্ব দিয়েছি। সরকার সম্পূর্ণরুপে উৎফুল্ল জানিয়ে কাদের বলেন, ঐক্যফন্টের লোকেরাই একেকজন একেক কথা বলছেন। ঐক্যফন্টের প্রধান বলেছেন, ভাল আলোচনা হয়েছে। আবার তাদেরই অনেকে বলে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
সর্বোচ্চ ৩৯ প্রকল্প এক দিনে অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে আজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩৯ প্রকল্প। একনেকের এক বৈঠকে এটাই সর্বোচ্চ প্রকল্প ওঠানোর রেকর্ড। আজকের উপস্থাপিত ৩৯টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮৬ হাজার ৬৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৬৬ হাজার ৪৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৩১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্য ১৯ হাজার ৯০৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রবিবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে রাত আটটায় প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত মঙ্গলবার একনেক সভা অনুমোদন দিয়েছে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। চার দিন পর আজ আরও ৩৯ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এত দ্রুত এত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া কি জাতীয় নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা সামনে রেখে- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতেই এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর কোনো একনেক সভা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আইনে বাধা না থাকলে নির্বাচনের আগের দিন পরযন্ত একনেক সভা হবে। মন্ত্রী বলেন,প্রকল্প এলেই আমরা অনুমোদন দিব, এখন আর মঙ্গলবার দিন দেখে একনেক সভা হবে না। যেকোনো দিন সভা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত করছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় সাধারণত বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন না। এ সময় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তাছাড়া আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে এমন পথ তৈরি করতে চাই, যাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ওই পথেই হাঁটতে পারেন। পরিবেশ তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেয়া হবে। নির্বাচন চলবে, আবার উন্নয়নও হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, পল্লী অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর ঢাকার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আলাদা আলাদা প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তিন পার্বত্য জেলার ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রামীণ মাটির রাস্তাগুলো টেকসই করতে হেরিংবোন এবং গ্রাম সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পগুলোও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলার পাঁচটি পৌরসভা, ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন, টাঙ্গাইল জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের নতুন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে আজকের একনেকে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ঢাকায় কর্মরত পুলিশের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে যানবাহন ক্রয়সহ মোট পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে পুলিশ বিভাগে।
আগামী ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক: আগামী ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। রোববার রাতে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের জন্য কতদিন সময় থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড টাইম মেইনটেইন করা হবে। নরমালি যে সময় দেয়া হয় সে রকম ৪৫ দিনের কাছাকাছি সময় দেয়া হবে। তিনি বলেন, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা ও ইভিএম বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
ব্যারিস্টার হুদার দলকে নিবন্ধন দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক: ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে হাই কোর্টের এক রায়ে। রোববার এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। নাজমুল হুদা নিজেই আদালতে রুলের ওপর শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আশানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া আদালতের নির্দেশে এই রুলের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, প্রাক্তন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও শাহদীন মালিক অংশ নেন। এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন দল তৃণমূল বিএনপিকে নিবন্ধন দেওয়া কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। নাজমুল হুদা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়নি, চালান জমা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনটি কারণ দেখিয়ে তৃণমূল বিএনপির নিবন্ধন না করার সিদ্ধান্ত সম্বলিত একটি নোটিশ গত ১৪ জুন নির্বাচন কমিশন দলটিকে পাঠায়। ওই নোটিশটি চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন। -আলোকিত বাংলাদেশ
কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-জাতির জন্য কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: সাধারণ শিক্ষার মতই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিআাতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত শুকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দেওয়ায় এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা জানানোর আগে তাকে কওমি জননী উপাধি দেন কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিআাতিল কওমিয়া বাংলাদেশর সদস্য মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। পরে বক্তৃতা শুরু করেই মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আলেম-ওলামাদের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা সংযুক্ত হলেই একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হয়। আর কেউ যেন কওমি স্বীকৃতি বাতিল করতে না পারে সেজন্য এই আইন (স্নাতকোত্তর স্বীকৃতি) করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমেই মুসলমানরা শিক্ষা গ্রহণ শুরু করে। এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। দেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী সংস্কৃতির বিস্তারের জন্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচারে লিপ্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচারে বিশ্বাস করবেন না। সরকার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশর ব্যানারে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। অনুষ্ঠান মঞ্চে কওমি আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আল্লামা শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি
অনলাইন ডেস্ক: কওমি সনদকে মাস্টার্সের মান দেয়ায় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত শুকরানা মাহফিল থেকে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এই দাবি জানান। শুকরানা মাহফিলের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ের মাস্টার্সের সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়। রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ আয়োজিত এই শুকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের সবই দিয়েছেন, আপনার প্রতি আমাদের আরও একটু চাওয়া আছে। আমরা আপনার কাছে ইমামদের পাঁচ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনদের তিন হাজার টাকা ভাতা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। মাসঊদ বলেন, দেশের সব ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে ভাতা দিলে সরকারের ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, যা খুবই কম। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আপনি মানবতা দেখিয়েছেন। আপনি বলেছেন ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হলে আট লাখ মানুষের খাওয়ার অভাব হবে না। আমরা চাই আমাদের অন্যান্য দাবির মতো আপনি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের দাবিও মেনে নেবেন। এ সময় আল্লামা মাসঊদ বলেন,বাংলাদেশে কোনো আলেমকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি৷ আমরা চাই আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহ আহম্মদ শফীকে আপনি স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। তবে সেখানে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবির ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি তিনি।
খালেদার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দলটির নেতারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ব্যাপারে আলোচনার পথ খোলা বলে জানান তিনি। রবিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এই কথা বলেন। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিষয়ে কাদের বলেন, ‘সেরকম যদি কিছু তারা চান তাহলে তারা প্রাইম মিনিস্টারকে বলতে পারেন। তারাতো আলোচনা করছেন। আলোচনাতো খোলামেলা। আর তার চিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিভাবে স্টান্ডবাজি করা হয়েছে। বেগম জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে কোনোভাবেই কতৃপক্ষ অবহেলা করেনি। এখনতো চিকিৎসার নিয়ে কোনো কথা নেই। খালেদার জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে প্রায় ৩০ মামলায় বেগম জিয়া জামিন পেয়েছেন। আর যে মামলায় রায় হয়েছে সে মামলা আমরা করিনি, রায়ও আমরা দিইনি। তাই রায়ের বিষয়ে তারা আইনিভাবে আদালতে এগুতে পারে। এটা পুরোটাই আদালতের বিষয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, মামলার সঙ্গে নির্বাচনকে সর্ম্পকযুক্ত করার তো কোনো যুক্তি নেই। মামলা আমরা করিনি। মামলা বেগম জিয়াকে আমরা দণ্ড দিইনি। আমরা যেখানে দণ্ড দিইনি সেখানে আমরাতো মুক্তি দিতে পারি না। এখন তারা লিগ্যাল যুদ্ধ করুন। আদালতে তারা চেষ্টা করুন। যদি কোনো অপশন ওপেন থাকে তারা আদালতে গিয়ে লিগ্যাল ব্যাটলে যেতে পারেন। কেন? ৩০টির মতো মামলার জামিনতো হয়ে গেছে। সরকার কি বাধা দিয়েছে? কাদের বলেন, যে মামলার রায় হয়ে গেছে, দণ্ড দেয়া হয়েছে সেখানে জামিন দেবে কি না এটা উচ্চ আদালত বলতে পারবে। এটা একটা আইনি যুদ্ধ। ছোট পরিসরে ফের আলোচনা হতে পারে আবার সংলাপ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ছোট পরিসরে আলোচনা করা যায়। ঐক্যফন্টের নেতারাও বলেছেন ছোট পরিসরে আলোচনা করবে। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তারাই বেশি কথা বলেছেন। লম্বা সময় ধরে তারা কথা বলেছেন। তাদের ২১ জনের মধ্যে সবাই কথা বলেছেন। আর আমাদের মাত্র চারজন কথা বলেছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাকে একটু আগে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাহেব জানিয়েছেন, একটি চিঠি আমাদের অফিসে পাঠাচ্ছেন। আমি অফিসে বলে দিয়েছি চিঠি রিসিভ করতে। বিকালে আমি আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করবো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংলাপে আমরা আর বেশি সময় নিতে চাইছি না। কারণ আমাদের হাতে সময় খুব কম। আমাদের দলের নমিনেশন বিষয়ে ফরমের বিতরণের ঘোষণাসহ বেশকিছু কাজ আছে। ফরম বিতণের পর ইন্টারভিউসহ জোটের সঙ্গে আলোচনাসহ বেশকিছু কাজ আছে। সেদিনের সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের যারা কথা বলেছেন তারা একাধিকবার কথা বলেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব তিনবার কথা বলেছেন। সংলাপে দূরত্ব কমেছে বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, দেখুন আলাপ আলোচনার একটি ভালো দিক আছে। সামনাসামনি বসে দেখাদেখিতো হলো, চোখাচোখি হলো। এটাও তো একসময় ছিল না। সেটাতো হলো। আর পরিবেশটা ছিল সৌহাদ্যপূর্ণ এবং খোলামেলা। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কেউ ইন্টারফেয়ার করতে বলেনি। কাউকে থামিয়ে দেয়া হয়নি। একেবারে স্বাধীনভাবে সেদিন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কথা বলেছেন। এখন তারা আবার যদি বসতে চান সেটা আমরা চেষ্টা করবো। ডেট করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এক্ষেত্রে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমরা ৭ তারিখের পরে যেতে চাইছি না। কারণ বাংলাদেশেতো রাজনৈতিক দল দুই শয়ের কাছাকাছি। এর মধ্যে অনেকে আবেদন করেছে। ঢাকাটাইমস
আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সংলাপে বসেছি। শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে এই দেশকে আবার পাকিস্তানের একটা প্রদেশ বানানোর চক্রান্ত তারা করেছিল। সেই সঙ্গে ৩ নভেম্ভর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। চার নেতার অপরাধ এটাই ছিল যে তারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল এবং সেই মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। তাই এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না। এই হত্যাকাণ্ড শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য ছিল না, এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধিনতাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র ছিল, বাংলাদেশের বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়ার যড়যন্ত্র ছিল। এটাই ছিল হত্যাকারীদের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করা হয় মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে ওই বছরের ৩ নভেম্বর রাতে কারাগারে এই চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে জাতীয় জীবনে কলঙ্কময় এই দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।