মাদক পাচারে যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা
সাভারে আশুলিয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বদির বিরুদ্ধে যদি মাদক পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে বদির বেয়াই যেমন ছাড় পায়নি, তেমনি বদিসহ আওয়ামীলীগ, বিএনপি বা অন্যদলের যারাই জড়িত থাকুক কেউ রেহাই পাবেনা। আজ শনিবার দুপুরে আসন্ন ঈ উপলক্ষে মহাসড়কের পূর্ব প্রস্তুতি পরিদর্শণে এসে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশেই ড্রাগস এর সঙ্গে অস্ত্র জড়িত। যারা কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করায় তারা অস্ত্র ছাড়া চলেনা। সেই অস্ত্র যখন র‌্যাব পুলিশকে প্রতিরোধ করতে আসে, তাদের উপর গুলি ছুড়ে তখন মাদক ব্যবসায়ীদের অস্ত্রের মুখে র‌্যাব এবং পুলিশ কি বসে বসে জুই ফুলের গান গাইবে? এটাই এনকাউন্টার। মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে র‌্যাব এবং পুলিশ আজ সর্বাত্বক অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানের কারণে রাজনৈতিক মতলবি একটি মহল খুশি না হলেও সাধারন মানুষ খুশি হয়েছে। মাদকের কারণে দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমান থেকে রোহিঙ্গা স্রোতের মতো মাদকের স্রোতও আজ সোনামির মতো বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের পাড়া মহল্লায় ঢুকে পড়েছে। এরকম অবস্থায় দেশের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে এরকম একটি অভিযান চেয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী হওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি। তালিকা অনুযায়ী এখন তদন্ত হচ্ছে এবং খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে র‌্যাব এবং পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ুর্ভোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈ উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ূর্ভোগ কমাতে আমরা আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে গাজিপুর, কালিয়াকৈর আশুলিয়া এলাকায় ঈ পূর্ব প্রস্তুতির জন্য পরিদর্শন করেছি। এবার আশুলিয়ার রাস্তাগুলো আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর এখানকার রাস্তাগুলো ডুবে গেলেও রাস্তুা উঁচু করায় সেরকম কোন আশঙ্কা নাই। এছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে ডিইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ীর্ঘ মেয়াী পরিকল্পনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উপরে এলিভেটেড এবং নীচে ফোর লেন করার জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে সেটি চাইনিজ কোম্পানীর অনুমোদনের জন্য বেইজিংয়ে আছে। সেখানে এক্সিম ব্যাংক ফান্ডটি রিলিজ করলেই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ইপিজেড পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফোর লেনের কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচারের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাননি। গিয়েছেন কলকাতায় শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করার জন্য। সেখানে তিস্তা চুক্তি বলে কোন এজেন্ডা নেই। যারা ভারতে গিয়ে লাল কার্পেট রিসিপশন নিয়ে ঢাকা এয়ারপোর্টে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেছিলো গঙ্গার পানি নিয়ে কথা বলতে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ভুলে যাইনি। আমি নিজেও প্রতিনিধি ল নিয়ে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোরি সঙ্গে আলোচনা করেছি সেখানে রোহিঙ্গা এবং তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তি হলে সবাই জানতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু মাত্র দিল্লী সরকার কিংবা ভারতের ফেডারেল সরকার একমত হলেই হবেনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও সম্মতি লাগবে। আজকে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হচ্ছে, আমার বিশ্বাস চুক্তি যে কোন সময় হতে পারে।
আত্মগোপনে মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা
সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন মাদকের শীর্ষ গডফাদাররা। তারা ভয়ে এখন গাঢাকা দিয়েছে। অনেকে ঘরবাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা তালিকায় টেকনাফের ৬০ গডফাদারের অনেকে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সূএ, প্রতিদিনের সংবাদ,তারা তাদের পৃষ্ঠপোষক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আশ্রয় চাচ্ছেন। তবে মাদকের প্রতি সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থার তদন্তে যেসব গডফাদার, প্রভাবশালী আশ্রয়দাতা, বিনিয়োগকারী ও পৃষ্ঠপোষকের নাম এসেছে তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদকের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। তবে মাদক নির্মূলে গডফাদার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ঢাকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করা হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে টেকনাফের মাদকের ৬০ গডফাদারের তালিকা আছে। মাদকের গডফাদারদের তালিকায় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি ও তাদের নিকট আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির চার ভাই। তারা হলেন মো. আব্দুস শুক্কুর, আব্দুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান ও মো. সফিক। গডফাদারের ওই তালিকায় জনপ্রতিনিধির মধ্যে আছেন টেকনাফের উপজেলার চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ও তার পুত্র সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। এসব গডফাদারদের তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গডফাদারদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আট নম্বরে থাকা আকতার কামাল মারা গেছেন। গতকাল কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভ সড়কে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, আকতার কামাল উখিয়া টেকনাফের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এর বেয়াই। এছাড়া শীর্ষ ওই মাদক গডফাদার টেকনাফের বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদ এর শ্যালক। তিনি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। চেয়ারম্যান জাফর আহমদ নিজে এবং তার তিন ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান, মোস্তফা মিয়া, দিদার মিয়া মাদকের গডফাদারের ওই তালিকায় আছেন। অন্যদিকে গোয়েন্দাদের হাতে রাজধানী ঢাকায় ১০২ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী তালিকা আছে। তারা রাজধানীকে মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার হয়ে সরাসরি মাদক চলে আসে ঢাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। এরপর তারা ঢাকার অলি-গলি থেকে শুরু করে সারাদেশে মাদক পাচার করে।
RAB এর অভিযানে দেড় শতাধিক আটক
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পে (RAB) মাদকবিরোধী অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। RAB এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযানে ডগ স্কয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। মুফতি মাহমুদ জানান, আমরা আজ যে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছি সে এলাকায় প্রচুর মাদকসেবী রয়েছে। আমাদের কাছে কিছু তালিকা রয়েছে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। পাশাপাশি জনসচেতনা বৃদ্ধিতে আমরা লিফলেটও বিতরণ করছি। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছি। তাদেরকে যাচাইবাছাই করা হবে। যাদের সনাক্ত করা হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কি পরিমাণ মাদক আটক করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি মাহমুদ বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি টিম যৌথভাবে কাজ করছে। তাই কি পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। অভিযান শেষে পরিমাণ জানা যাবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ঘোষণা করেন। তবে এর আগ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমনই মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গোপনে একটি তালিকা তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী দেশে অভিযান চলছে। এই তালিকা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডি লিট ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি লিট) ডিগ্রি নিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। শেখ হাসিনাকে এই সম্মান জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সাধন চক্রবর্তী বলেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য এই ডিগ্রি দেওয়া হল শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর দিনে তার নামে প্রতিষ্ঠিত ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হল ডি-লিট ডিগ্রি। শেখ হাসিনা তাকে দেওয়া এ সম্মান সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন। শনিবার সকালে কলকাতা থেকে বিমানে রওনা হয়ে দুর্গাপুর থেকে সড়কপথে দুপুরে আসানসোলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান শেখ হাসিনা। বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।
৫ জেলার নামের বানান নিয়ে প্রজ্ঞাপন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নিকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানান বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণকরণ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম -এর ইংরেজি বানান Chittagong এর পরিবর্তে Chattogram, কুমিল্লার ক্ষেত্রে Comilla এর পরিবর্তে Cumilla, বরিশালের ক্ষেত্রে Barisal এর পরিবর্তে Barishal, যশোরের ক্ষেত্রে Jessore এর পরিবর্তে Jashore এবং বগুড়ার ক্ষেত্রে Bogra এর পরিবর্তে Bogura রূপে সংশোধন করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদফতর/দফতর/পরিদফতর, জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে এবং বাংলা ও ইংরেজি অভিধানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
আওয়ামীলীগ চার সিটিতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায়
জুলাইয়ের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। রোজার মধ্যে অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহের শেষ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হচ্ছে এই তিন সিটিতেও। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব নির্বাচনের ফল দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগ বলছে, সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও দলীয় ঐক্য নিশ্চিত করতে পারলেই নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। এজন্য নির্বাচনী প্রচারণায় আনা হচ্ছে নানা কৌশল। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিটিতেই জয় হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক, বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান এবং গাজীপুরে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন। এবার ৫ সিটিতে জয় ধরে রাখতে আওয়ামী লীগও বেশ সতর্ক। ইতোমধ্যে খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক আসনটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজশাহী ও সিলেটে খায়রুজ্জামান লিটন এবং বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানকে দলের প্রার্থী হিসেবে আগেই সিগন্যাল দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। বরিশালে হিরণের মৃত্যুর ফলে এবার সেখানে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেবে আ.লীগ। আর গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খানের পরিবর্তে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের আশা, আজমত উল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করলে গাজীপুরে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর ও পরবর্তীতে বরিশাল, সিলেট এবং রাজশাহীতেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় তারা। সে জন্য মাঠ পর্যায়ে কোন্দল মিটিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও চাঙ্গা রাখতে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপকহারে ভোটারদের কাছে তুলে ধরারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খুলনায় দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। গাজীপুরেও জয়ী হতে হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত গাজীপুরের দুই মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরে যেন কোনো ঝামেলা না হয়। কোনো ধরনের অজুহাত আমি শুনতে চাই না। এদিকে গাজীপুরে বিজয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৮টি দল গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই ঘরোয়াভাবে সব কোন্দল মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ভোরের কাগজকে জানান, খুলনা সিটিতে জয়ের পর আমাদের এখন টার্গেট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হওয়া। পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও জয় পেতে হবে। এজন্য দলের ভেতরকার বিভেদ দূরীকরণসহ সবদিকেই খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্বাচনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। ইতোপূর্বে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে আওয়ামী লীগের যারা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা প্রত্যেকেই ক্লিন ইমেজের। মেয়র থাকাকালীন তারা ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। ৫ বছর বিএনপির মেয়র থাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে এবার তালুকদার আবদুল খালেককে জনগণ ভোট দিয়ে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করেছেন। মানুষ বুঝেছে আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা বিশ^াস করি, প্রতিটি সিটিতেই মানুষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা ভালো লিডারশিপ চান। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যারা প্রার্থী তারা প্রত্যেকেই পরীক্ষিত ও জনবান্ধব লিডার। এলাকার উন্নয়নে তারা ব্যাপক ভ‚মিকা রেখেছেন। ৫টি বছর তাদের অনুপস্থিতি মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তারা জানেন, বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।সূএ ভোরের কাগজ
মাদকবিরোধী অভিযান,গ্রেফতার হতে পারেন এমপি সহ সাড়ে ৪শ জনপ্রতিনিধি
ডেস্ক :মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হতে পারেন সাড়ে ৪শজনপ্রতিনিধি। এই তালিকায় আছে ১০ জন এমপি, ১৫ জন সাবেক এমপি, অর্ধশতাধিক পৌর মেয়র, দুই শতাধিক কাউন্সিলর এবং দেড় শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম।তালিকাটি ইতিমধ্যে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ঈদের পরই এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে (রমজান মাসজুড়ে) প্রাথমিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ের ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সময় পাবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর মাদকের এক হাজার গডফাদার এবং তালিকাভুক্ত আড়াই হাজার মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই এক হাজার গডফাদারের মধ্যে সাড়ে ৪শজনপ্রতিনিধি আছেন। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত ৯ দিনে ৪৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে আট জেলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় দুজন, জামালপুর, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, ফেনী ও গাইবান্ধায় একজন করে নিহত হয়েছে। এর আগে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়। এছাড়া ১ রমজান থেকে বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৫ হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী। মামলা হয়েছে প্রায় চার হাজার জনের বিরুদ্ধে। রযাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৭২১ জনের। সূত্র আরও জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাতে ১৩ মে পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার এবং এসপিদের কাছে পুলিশ সদর দফতর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়। সম্প্রতি রযাবের পক্ষ থেকে সারা দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য ইউনিটের পক্ষ থেকেও একই ধরনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে। সবগুলো তালিকার সমন্বয়ে এরই মধ্যে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। ওই তালিকাটি পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে পাঠানো হয় রযাব-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। এরপরই মাঠে নামে রযাব এবং পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও রযাবের দাবি- নিহতরা সবাই শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে। তবে এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গ্রেফতারের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। বিএনপির দাবি- এর পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার নিজ দফতরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে না। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ অভিযানে রয়েছে। অভিযান চলাকালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব-পুলিশের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আর র‌্যাব-পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের গডফাদাররা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ ছাড় পাবে না। জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা সারা দেশে মাদকের গডফাদার, শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের তালিকা করেছি। সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলছে। এক্ষেত্রে গডফাদার এবং শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের দিকে পুলিশের নজর থাকবে বেশি। তালিকায় যেসব পুলিশ সদস্য বা জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে তাদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। র‌্যাব সদর দফতরের উপপরিচালক মেজর আবদুল্লাহ আল মেহেদী বুধবার জানান, বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে র‌্যাব এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭২১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। আর বিশেষ অভিযান চলাকালে বন্দুকযুদ্ধে ৯ দিনে ৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে গঠিত এনফোর্সমেন্ট কমিটির চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার আলোকে পুলিশের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের ১ হাজার ১৫১ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রস্তুত করা এক তালিকা অনুযায়ী রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের পৃষ্ঠপোষক রয়েছে। এই পাঁচ জেলার পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে দুজন বর্তমান এমপি ও দুজন সাবেক এমপির নাম রয়েছে। এসব জেলায় আছে দেড় শতাধিক মাদকের হাট বা স্পট। গত বছরের ২ থেকে ৭ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবির পক্ষ থেকে দেশের ২৫টি জেলার ৩৩৭ জন শীর্ষ মাদক পাচারকারীর তালিকা তৈরি করা হয়। ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রোধে গঠিত কোর কমিটির বিশেষ সভা গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ৭০৬ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এসব তালিকার মধ্যে একাধিক তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে সরকার। যুগান্তর
নজরুল চর্চা নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নতুন প্রজন্ম নজরুল চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে দেশপ্রেমের মহান ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে জাতিগঠনে অর্থবহ অবদান রাখবে। জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনের কর্মসূচির উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল কেবল বাংলার জাতীয় কবিই নন, তিনি জাগরণের কবি, সাম্যের কবি। খবর বাসসের রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম নজরুলের অনির্বাণ শিখার আলোকচ্ছটায় নিজেদের সমৃদ্ধ করে সমাজ পরিবর্তনে ও সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখবে। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের স্মৃৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও ১৯১৪ সাল থেকে তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কাটিয়েছেন ময়মনসিংহের এ ত্রিশালে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্যের কবি হিসেবে নজরুল তার কালজয়ী প্রতিভা, সমৃদ্ধ ও মূল্যবান সাহিত্য কর্ম, বক্তৃতা, জীবন দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের স্ফূরণের মাধ্যমে বাঙালির জাগরণে, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলন সংগ্রামে এবং ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, নজরুল বহুবার বাংলাদেশের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে এসেছেন। অবিভক্ত বাংলার পশ্চাৎপদ জনপদগুলোর মানুষের কাছে এসেছেন। তার বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব এবং বক্তৃতা গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে জাগরণের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার বাণী শুনিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তার দেশপ্রেম ও উদ্দীপনামূলক কবিতা ও গান আমাদের লড়াই সংগ্রামের স্পৃহাকে শানিত করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৃষ্টিশীল এ মহান কবির প্রতি সম্মান জানাতে কবিকে ১৯৭২ সালে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অতিরিক্ত সচিব এম মসিউর রহমান ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বেগম সিমিন আরা এমপি। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২৫ মার্চ দরিরামপুর নজরুল মঞ্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ২৭ মে এ কর্মসূচি শেষ হবে।
যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগকে উভয় দেশ লাভবান হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের আরো উন্নয়নে ভারতীয় বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগে বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দিতে সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে উভয় দেশ লাভবান হবে।-খবর বাসস। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলের ম্যান্ডারিং কক্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নদী খননে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সমর্থন কামনা করে বলেন, এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরী নাথ ত্রিপাঠির দেয়া ভোজসভায় যোগ দেন। কোলকাতার রাজভবনে এ ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়

জাতীয় পাতার আরো খবর