সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
বাজেটের কপি ছেঁড়া বিএনপির ঔদ্ধত্যের নতুন বহিঃপ্রকাশ : তথ্যমন্ত্রী
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংসদের সামনে বাজেটের কপি ছেঁড়া বিএনপির ঔদ্ধত্যের নতুন বহি:প্রকাশ। তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে হত্যা করেছিল। পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের কর্মসূচি যে রাজনৈতিক দল দেয়, সংসদের সামনে গিয়ে তাদের বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। যে উদ্ধত আচরণ তারা সবসময় করে আসছে, সেটিরই নতুন বহি:প্রকাশ হচ্ছে সংসদের সামনে গিয়ে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলা, বলেন ড. হাছান । মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে এবারই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে তা তো নয়, গত ১১ বছর ধরে প্রতিবারই তারা বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে এবং প্রতিবারেই বলেছে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না। জনগণের কল্যাণে আসবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে সমস্ত বাজেটই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাস্তবায়নের হার ৯৭-৯৮ শতাংশ। সেই বাজেটগুলো বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে দেশের দারিদ্র্য কমে অর্ধেকে নেমেছে, মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, জিডিপি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের পথে উন্নীত হয়েছে। এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। কিন্তু তারা কোনোভাবেই বাজেট গ্রহণ করতে পারেনি। ড. হাছান বলেন, বিএনপি সেখানে বলেছে, মাত্র একদিন বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়, পুরো বাজেট সেশনেই কিন্তু বাজেটের ওপর বক্তৃতা হয়েছে। তারা নিজেরা বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি, বাজেট অধিবেশনে যে আলোচনা হয়েছে সেটিও ঠিকমত খেয়াল রাখেনি, সে কারণেই তারা এ ধরণের ভুল বক্তব্য দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন সংসদ চালানো সম্ভবপর নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে সেটি হচ্ছে না। আমাদের দেশে এখন করোনাভাইরাস প্রায় তুঙ্গে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, গড়ে প্রায় ৪০ জন বা তার বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এই সময় তো সংসদ প্রতিদিন চালানো সম্ভবপর নয়, এই বাস্তবতা তারা বুঝেও তারা এ ধরণের অসত্য, অপ্রাসঙ্গিক কথাগুলো বলে। সাংবাদিকরা এসময় কুয়েতে মানবপাচারের দায়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপলু গ্রেপ্তারের ফলে সেখানে কর্মী রপ্তানি ব্যাহত হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান বলেন, কুয়েতের তদন্তে সেখানকার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে এসেছে। তাদের সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ছাড়া এই কাজগুলো হতো না, সুতরাং তারাও সমভাবে দায়ী। সুতরাং এ ঘটনায় আমাদের শ্রমবাজারে অর্থাৎ কুয়েতে কর্মী রপ্তানীর ক্ষেত্রে আমাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। করোনা পরীক্ষার ফি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি এটি পুণর্বিবেচনা করার জন্য। তবে, একেবারেই বিনামূল্যের কারণে অনেক সময় যাদের প্রয়োজন নেই তারাও পরীক্ষা করে। কিন্তু গরীব মানুষ যাতে প্রয়োজনে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাতে পারে, সেটি নিয়ে তার সাথে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছি। এর আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামের সল্টগোলায় ৫০ শয্যার বিজিএমইএ কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হবার জন্য তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন বলেন মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক, প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও বোর্ড সদস্যবৃন্দ উদ্বোধনী সভায় অংশ নেন। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ জানান, করোনার শুরুতে চট্টগ্রামে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা ক্রমাগতভাবে সমন্বয় সভা করে প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী-স্বেচ্ছাসেবী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছি, সে কারণে আগের পরিস্থিতি এখন নেই, অনেক উত্তরণ ঘটেছে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ যে সুবিধাগুলোর অপ্রতুলতা ছিল, আমরা সেই সংকট সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি, জানান তিনি।
ডিএসসিসিকে ২০ হাজার মাস্ক প্রদান
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফ্রান্স-ভিত্তিক ক্রীড়া-সামগ্রী বিপণন প্রতিষ্ঠান ডেকাথ্লন বাংলাদেশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে ২০ হাজার নন-সার্জিকেল ফেব্রিক-মাস্ক প্রদান করেছে। আজ নগর ভবনে ডিএসসিসি মেয়রের কার্যালয়ে ডেকাথ্লন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার দীপক ডিসুজার নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে মাস্কগুলো হস্তাস্তর করেন। ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় ডেকাথ্লন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং মাস্কগুলো কর্পোরেশনের মশক-নিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্পোরেশনের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করার নির্দেশনা দেন।
আরও ৪০১৯ জনের করোনা, নতুন মৃত্যু ৩৮
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৩৩৪ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত এক লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন। মোট মৃত্যু এক হাজার ৯২৬ জন। মোট সুস্থ ৬৬ হাজার ৪৪২ জন। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন করে একটি ল্যাব যুক্ত হয়েছে। এছাড়া গতকাল নতুন একটি ল্যাব যুক্ত হয়ে ৬৯টি হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭টি। এরমধ্যে আগের সংগ্রহ মিলে ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ দুই হাজার ৬৯৭টি। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩৩৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৪ হাজার ৪৪২ জন। নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত ৩৮ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ। ছয়জন নারী। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে একজন, সিলেট বিভাগে দুইজন এবং বরিশাল বিভাগে দুইজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন। বাসায় পাঁচ জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৯৬০ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৭৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২৮ হাজার ৫০২ জন। মোট ছাড়া পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৭৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৭৫৭ জন। প্রতিবারের মতো করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে মৃত্যু।
নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আমলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটেছে। নারী শিক্ষা নিশ্চিত করা, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে নারীকে বসিয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন জাতীয় সংসদে প্রথম নারী সংসদ উপনেতা হয়েছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নারী বসেছেন তার হাত ধরেই, যিনি পর পর তিন মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার সরকারের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়নে বরাদ্দ ছিল ২৮ শতাংশ, ২০১৮-১৯ সালে তা ২৯.৬৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। প্রতি বছরই বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্বাদশ শ্রেণি পযন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার সরকারের আমলেই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কোনও জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এসএমই ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার নেতৃত্বেই একটি যুগোপযোগী জাতীয় নারী নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দুস্থ, অসহায় নারীদের জন্য ভিজিএফ, ভিজিডি, দুস্থ ভাতা, বয়স্কা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ও গর্ভবতী মায়েদের ভাতা, অক্ষম মা ও স্বামী পরিত্যাক্তাদের জন্য ভাতা, বিধবা ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। সর্বক্ষেত্রে সন্তানের পরিচয় ও নিবন্ধনে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নামও যুক্ত করা হয়েছে তার আমলেই। শিক্ষার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের সরকারি উপবৃত্তির টাকা মায়ের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানোর বিধান করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ সামরিক বাহিনীতে নারীদের অধিক অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ পদগুলোতে নারীদের নিয়োগ শেখ হাসিনার সরকারের সময় ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনিই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, প্রথম সংখ্যালঘু নারী সেনাবাহিনীর মেজর করেছেন। রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে শেখ হাসিনা ৫০ এ উন্নীত করেছেন। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে ইউনিয়ন পরিষদে নারী জনপ্রতিনিধিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন শেখ হাসিনা। বাল্যবিবাহ রোধ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন করেছে সরকার। নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেওয়া পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। নারী শিক্ষা প্রসারের অবদানের জন্য তিনি জাতিসংঘের নারী ও শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পিস ট্রি পুরস্কার পান। নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের জন্য গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। গত বছর মার্চ মাসে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য তাকে এ পদক দেওয়া হয়। গত বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন প্রধানমন্ত্রীকে লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে।
করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল না কোনো দেশই: তথ্যমন্ত্রী
০১,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোনো দেশই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিলো না ফলে সবখানে পর্যদুস্ত অবস্থা হয়েছে এবং সবদেশের স্বাস্থ্যখাতই আলোচনা-সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে এবং হচ্ছে। তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন । এসময় করোনা মহামারি মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জাতীয় সংসদসহ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোসহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের অর্থনৈতিক সংগতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো থাকা সত্ত্বেও তারা করোনা মহামারি ঠিকভাবে সামাল দিতে পারেনি, কারণ এটার জন্য কেউই এমনকি চীনও প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, চীনে যে চিকিৎসক করোনাভাইরাসের বিষয়ে প্রথম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে তিনি করোনাক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। প্রত্যেক দেশেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে নানাভাবে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। নেদারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো এই পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে নিজেই পদত্যাগ করেছেন। জার্মানীর একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আরো অনেক দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দেশের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রথমদিকে যে সমস্ত অসুবিধা ছিল, সমন্বয়েও কিছুটা ঘাটতি ছিল, সেটি এখন আর নেই। এখন অনেক সমন্বিতভাবে এই করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সেকারণে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার পৃথিবীর যে কটি দেশে খুব কম তন্মধ্যে একটি। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সংসদে যে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে, সেটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যেভাবে আলোচনা হয়েছে, এটিই বিউটি অফ দ্য ডেমোক্রেসি। এভাবেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। আমি মনে করি সংসদের আলোচনাটি দায়িত্ব পালনে এবং গণতন্ত্রকে সংগত করার ক্ষেত্রেও সহায়ক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি করবেন সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই বলতে পারবেন, অন্য কেউ বলার এখতিয়ার রাখে না, বলতে পারবেও না। সাংবাদিকবৃন্দ এসময় সরকার পাটখাত ধ্বংস করছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এ বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিই পাটখাত ধ্বংস করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল এবং প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বিএনপির আমলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফর পরামর্শ অনুযায়ী তারা আদমজীসহ অনেকগুলো জুট মিল বন্ধ করে দিয়েছিল, আবার অনেকগুলো শতশত কোটি টাকা মূল্যের জুট মিল কয়েক কোটি টাকায় ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। এটি শুধু বেগম খালেদা জিয়া করেছেন তা নয়, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে সেটি শুরু হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো পাট কল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বরং এই পাট কলগুলো ৪০ বছর ধরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাভ করতে পারেনি এবং শ্রমিকরাও সঠিকভাবে বেতন পাচ্ছিল না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই পাট খাতকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এবং এই পাটখাতে উন্নতির জন্য সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্ত দেনাপাওনা মিটিয়ে দিয়েই তাদেরকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় আনা হচ্ছে।
ঈদ পর্যন্ত চলাচল সীমিত রেখে আসছে নতুন প্রজ্ঞাপন
০১,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আসন্ন ঈদ-উল-আজহা পর্যন্ত চলাচল সীমিত রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত আগের মতো চলাচল সীমিত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই সময়ে সীমিতভাবে সরকারি-বেসরকারি অফিস চলমান থাকবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ ও ট্রেন) চালু থাকবে। ঈদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুরহাট বসানোর পাশাপাশি দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে। আগে দোকানপাট খোলা ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত চলাচল সীমিত করে অফিস-আদালত এবং গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ পরে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন যে সীমিত পরিসরে চলাচলসহ অন্য কার্যক্রম আছে, ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সেভাবেই চলবে। ঈদে কোরবানির পশুরহাটের ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিংমল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে। ঈদ সামনে রেখে সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিন ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। জনসচেতনা বাড়ানো ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতন করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং তথ্য মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী প্রচারণা চালাবে বলেও সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত শীর্ষ পর্যায় থেকে হাতে পেয়েছেন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, আশা করছি ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেখানে এসব বিষয়ে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি
০১,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) রোগের টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কার করার দাবি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। বুধবার (০১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবি করে পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে তারা সফলতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা করোনার ভ্যাকসিনে সফল হয়েছি। এনিমেল পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। এখন আমরা আশা করছি, মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে আমাদের ভ্যাকসিন। তিনি জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাব। এরপর আমরা তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তিনি জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাব। এরপর আমরা তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পাঁচ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছেন। যা ইতোমধ্যেই এনসিবিআই কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রকাশিত হয়েছে। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, এই টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে কাজ করে যাচ্ছি। এই পরীক্ষায় আমরা সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। বৃহস্পতিবার (০২ জুন) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। মহামারি করোনা ভাইরাস ছয় মাস পার করেছে। ঠিক ছয় মাস আগে চীনের উহানে শনাক্ত হয়েছিলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী। এরপর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর ভয়ানক পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক দেশ। অনেক জায়গায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। এরইমধ্যে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের অনেকগুলো পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের মানবদেহে প্রয়োগ পরীক্ষা চলছে। কোনোটিই এখনও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। চীনে মোট আটটি ভ্যাকসিন মানবপরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে।
আরও ৩৭৭৫ করোনা রোগী শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৪১
০১,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৭৭৫ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৪১ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও দুই হাজার ৪৮৪ জন। বুধবার (০১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, নতুন করে আরেকটি পরীক্ষাগার যুক্ত হয়েছে। সেটি গাজীপুরে। এ নিয়ে ৬৯টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ১৬ হাজার ৮৯৮টি। এরমধ্যে আগের নমুনা মিলে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৮৭৫টি। বরাবরের মতো করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে মৃত্যু।
করোনা সংক্রমণ ভয়ঙ্কর মাত্রায় নিতে পারে কোরবানির পশুরহাট
০১,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কোরবানির পশুরহাট করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার আরও বাড়িয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়ঙ্কর মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করে কার্যকর গাইডলাইন তৈরির কথা বলেছেন। প্রয়োজনে পশুরহাটের সংখ্যা কমিয়ে আনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১ জুলাই) ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করলে কোরবানির পশুরহাট স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়ানক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আগেই করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। মহাসড়ক ও এর আশপাশে পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের নয়টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। করোনার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের রেশ না কাটতেই বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষকের ফসল, মানুষের স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যাকবলিত জেলায় পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। সবাইকে ঐক্য ও সাহসিকতার সঙ্গে এসব দুর্যোগ উত্তরণে কাজ কারার আহ্বান জানাই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রশাসনের পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক ও জনবান্ধব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অসহায় মানুষের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় পাতার আরো খবর