ঈদের আগে ও পরে কিছুদিন নগরের উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার আহ্বান
টানাবৃষ্টি ও চলমান উন্নয়ন কাজে সৃষ্ট যানজট-জনদুর্ভোগ রোধে ঈদের আগে ও পরে কিছুদিন নগরের উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লেখেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়কে নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার খোঁড়াখুড়ি চলছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব কাজ জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ায় কাঁদামাটিতে পথচারিদের চলাচলেও কষ্ট হচ্ছে। সড়কের লেন কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তাই, এ সময়ে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি-ডিটিসিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ওয়াসা, ডেসাসহ নগরে উন্নয়ন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে ঈদের আগে-পরে কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করছি। সড়কে যাত্রীদের আগ্রহ নেই। পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত এমন রিপোর্টের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদিকে ঈদ উপলক্ষে পরিবহনের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ কোনো কোনো দৈনিকে ছাপা হয়েছে যাত্রীদের সড়কে আগ্রহ কম। আবার বেশির ভাগ কাগজে রিপোর্ট বেরিয়েছে উপচেপড়া ভিড়, টিকিটের সঙ্কট। প্রশ্ন হচ্ছে, আগ্রহ কম হলে উপচেপড়া ভিড় কেন?
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
মানবাধিকারকর্মীদের অব্যাহত সমালোচনার মধ্যেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান অভিযানে নিহতের ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সমর্থনের প্রকাশও ঘটিয়েছেন তিনি। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হতাহতের ঘটনায় সমালোচনা করে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘অভিযানে আইনের চেয়ে বন্দুকের ব্যবহার বেশি ঘটছে।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো, আপনারাই পত্রপত্রিকায় লিখেছেন এটা। আপনারা কি চান অভিযান চলুক, না কি বন্ধ হয়ে যাক?’ মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ধরি, ভালো করেই ধরি। মাদকের কোনো গডফাদারই ছাড় পাবে না। সে যে বাহিনীরই হোক না কেন। তিনি বলেছেন, বন্দুকযুদ্ধে নিরীহরা মরছে না। দীর্ঘদিন থেকে নজরে রাখা হয়েছে মাদক পাচার ও চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িতের। মূলত তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ ভারত সফর করে আসা শেখ হাসিনা বুধবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। এসময় সাংবাদিকরা তাকে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করলে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি ভারত সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতির কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে সমর্থন রেখে সরকার প্রধান বলেন, ‘খুব স্বাভাবিক যে এই ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে।’ নিরাপরাধ কেউ এই অভিযানের শিকার হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে কয়টা ঘটনা হয়েছে, মনে হয় না একটাও নিরীহ ব্যক্তি শিকার হয়েছে।’ গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু নিহতের ঘটনাগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযানে এই পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন,‘ যখন কোথাও পুলিশ, র‍্যাব কোথাও অভিযানে যায়, আর সেখানে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে, কোনো নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বলেন, ভেজালবিরোধী-মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দিই। ছেলে মাকে, বাবাকে হত্যা করছে মাদকের কারণে। এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটে।’ গত শুক্রবার দুই দিনের সরকারি সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী। ওই দিনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন। এ সময় হাসিনা ও মোদির মধ্যে বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। সাম্প্রতিক সফরে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা এই সফরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি এবং কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বোন শেখ রেহানাও ছিলেন।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হচ্ছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা) হচ্ছে না। মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেন। এর পর মন্ত্রীর দফতর থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘সরকারের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে যারা মারা যাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের আইনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে। বিনাবিচারে একজন মানুষ মারার অর্থ হচ্ছে ওই পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে যাওয়া। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমরাও চাই। তবে অভিযুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে আমরা মনে করি। মাদকের জন্য অভিযুক্ত মূল অপরাধী এবং এর উৎস বন্ধ করার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মাদকের উৎস বন্ধ না করে এ অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। রাষ্ট্রদূত বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারও (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার) বাংলাদেশ সরকারের মতো জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরাও এ কথাগুলো বলে আসছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সবার অঙ্গীকার। কিন্তু সেটা হতে হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে :সেতুমন্ত্রী
বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন থেমে থাকবে না, সংবিধান অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মেই নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শক্তি কম গেছে বলে বিএনপি নেতারা সরকারের ‘উগ্র’ সমালোচনায় নেমেছেন। মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন মুখের বিষটা ততই উগ্র হয়ে আসে। এটা শরৎচন্দ্রের ভাষা। বিএনপির ক্ষেত্রে এটা একেবারেই সত্য। ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে বুধবার দুপুরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকার প্রবেশদ্বার গাবতলীতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৪-৫ মাস বাঁকি। এই সময়ে বিএনপি কীভাবে নির্বাচনে আসবে এটা তাদের বিষয়। তাছাড়া, খালেদা জিয়াকে সরকার জেলে পাঠায়নি, আলাদত পাঠিয়েছেন। খালেদা কারাগারে থাকবেন নাকি বাইরে থাকবেন এটা আদালতের বিষয়। তিনি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না এলে সরকার তাদের জোর-জবরদস্তি করে নির্বাচনে আনবে না। কাদের আরো বলেন, বেগম জিয়া জেলে থাকলে তারা নির্বাচন করবে কি করবে না, এটা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর বেগম জিয়া জেল থেকে বের হবে কি না, সেটা আদালতের ব্যপার। এখানে সরকারের কোনো দায় নেই, সরকারের উপর তারা দোষ চাপাচ্ছেন কেন? বিএনপির জন্য নির্বাচন বসে থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী দেশও চলবে, গণতন্ত্রও চলবে, নির্বাচনও চলবে। বিএনপির জন্য কোনো কিছু আটকে থাকবে না। বিএনপি না এলেও নির্বাচন যথাসময়ে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এগুলো এখন মামা বাড়ির আবদার, এসব এখন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেতুমন্ত্রী বলেন, উৎসমুখেই এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে। সড়কে সাজা দিয়ে লাভ হবে না। সড়কের পাশে অবৈধ ওয়ার্কশপ থাকলেই সিলগালা করা হবে। এসব ওয়ার্কশপের জন্য আমরা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে পারি না। তিনি বলেন, ঈদে সড়কের অবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য সবাই কষ্ট দিতে পারি না, এসব গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদেশি সিনেমা আমদানি ও প্রদর্শন করা যাবে না
ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, পূজা ও পয়লা বৈশাখের সময় যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছাড়া ভারতীয় বাংলা, হিন্দি, পাকিস্তানীসহ বাইরের কোনো সিনেমা দেশে আমদানি, প্রদর্শন ও বিতরণ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া আবেদনটির নিষ্পত্তি করে রায় দেন। আপিল বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। আদালতে নীপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিনা বেগমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ। অন্যদিকে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চাওয়া আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। এ বিষয়ে এম মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, বিদেশি সিনেমা আমদানি ও প্রদর্শনের ফলে দেশি সিনেমায় দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নীপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিনা বেগম সংক্ষুব্ধ হয়ে একটি রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ প্রযোজনাসহ সব আমদানি সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি আরো বলেন, এরপর সে আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিলে আবেদন জানায় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি মো: ইকতেদার উদ্দিন নওশাদ। আদালত সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ কিছুটা মোডিফাই করেছেন। এর ফলে দেশে যৌথ প্রযোজনার ছবি চলতে বাধা নেই। তবে আমদানি করা সিনেমা প্রদর্শনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে। উল্লেখ্য, নীপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিনা বেগমের এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১০ মে হাইকোর্ট দেশে যৌথ প্রযোজনাসহ সকল প্রকার বিদেশি সিনেমা আমদানি ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং বিচারপতি একেএম জহিরুল হক রুলসহ এ আদেশ দেন। এরপর হাইকোর্টেন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। পরে সে আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ আবেদনটির শুনানি শেষ আপিল বিভাগ আদেশ দেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হতে শুরু করেছে
পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হতে শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে এটা নিম্নচাপে পরিণত হয়। এ কারণে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। বুধবার সকাল পর্যন্ত এটি নিম্নচাপ হিসেবেই বঙ্গোপসাগরে ঘুরছিল। কিন্তু দুপুরের আগেই এটা আরো শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়। এটা অগ্রসর হচ্ছিল মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলের দিকে খুব দ্রুত গতিতে। কিন্তু সাগর থেকে এটা উপকূলে উঠার পরই গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়ে গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে এটি মধ্য মিয়ানমারের নিয়াউংগোতে অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। আবহাওয়া অফিস বাংলাদেশের সকল সমুদ্র বন্দরের জন্য জারি করা সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে অনুরোধ করেছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর