দুর্নীতিমুক্ত সিটি উপহারের অঙ্গীকার নব নির্বাচিত মেয়র খালেকের
দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন উপহারের অঙ্গীকার করে খুলনা সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ যেখানে রেখে আমি মেয়র পদ ছেড়েছিলাম, সেখান থেকেই আবার কাজ শুরু করবো। সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে খুলনাবাসীকে দুর্নীতিমুক্ত খুলনা সিটি করপোরেশন উপহার দেবো। একই সঙ্গে খুলনা মহানগরীকে মাদকমুক্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে একশ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবির বিষয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি শুনেছি তিনটি কেন্দ্রে কিছু সমস্যা হয়েছে। তাই বলে একশ কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণ করতে হবে- এমন দাবি কেউ মেনে নেবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি এমন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যদি তারা জয়লাভ করতো তাহলে নির্বাচন ঠিক হতো, আর এখন পরাজয় মেনে নিতে না পেরে তার আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমি তো পরাজিত হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা বলিনি। খালেক বলেন, আমি খুলনা মহানগরকে মাদকমুক্ত করবো। মাদকের সঙ্গে আমার দলেরও কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে চরমপন্থীদের সখ্যতা ছিল। তারাই নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু তারা যখন চরমপন্থীদের সামলাতে পারেনি তখন আইন করে তাদের ধরে ক্রসফায়ার দিয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ হারুনার রশিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল প্রমুখ।
আমরা আদেশ দলবল দেখে দেই না: প্রধান বিচারপতি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহালের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে তার আইনজীবীর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিধান আপিল বিভাগের রুলসে নেই। তবে তাড়াতাড়ি জামিনের রায় প্রকাশ করা হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই আদেশ দেন। বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। বেল বন্ড দাখিল করার জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ দরকার। আপনাদের আজকের রায় পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। হয়তো আপনাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। আমাদের দিতে অসুবিধা নেই। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপত্তি জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া তো আরো কয়েকটি মামলায় শ্যেন এরেস্ট আছেন। তাছাড়া আপিল বিভাগ থেকে এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। এ সময় প্রধান বিচারপতি খালেদার আইনজীবীকে বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের রুলসে শর্ট অর্ডার দেওয়ার বিধান আছে। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক? আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তা বলছি না। আপনারা চাইলে তা দিতে পারেন। তখন প্রধান বিচারপতি আবারও বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তো একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কেমন কথা? দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দেই? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না। বেঞ্চের অপর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ জে মোহাম্মদ আলীর মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আপনি গুরুতর আপত্তিকর কথা বলেছেন। আপনি আমাদের ফোর্স করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে কোর্টে আপনারা আইনজীবী। অফিসার অব দ্য কোর্ট। কোনো দলের লোক নন। তখন এ জে মোহাম্মদ আলী তার মন্তব্যের জন্য আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ জে মোহাম্মদ আলীকে বলেন, প্রধান বিচারপতি যেখানে নাকচ করে দিয়েছেন সেখানে আপনি তর্ক করছেন কেন? শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার আবেদন আমরা বিবেচনা করতে পারলাম না। বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে:প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। বুধবার (১৬ মে) সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে যাওয়া নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় নবীন কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানান তিনি। পুলিশবাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য বহির্বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। পুলিশবাহিনীকে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিয়াবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে দক্ষ হতে হবে।
খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল খালেক নির্বাচিত
খুলনা সিটি করপোরেশন (খুসিক) নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আবদুল খালেক ১৭৬৯০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট। মোট ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত হয়েছে। এছাড়া দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৭৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এরআগে মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ৮টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ২৮৯ টি কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট প্রদান। একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করছে। ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই ভোট হয়েছে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, খুলনায় চমৎকার ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। খুলনায় মেয়রের পাশাপাশি ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার ভোটার। এর মধ্যে ৬০ ভাগ ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর।
কেসিসির নির্বাচনে খালেক এগিয়ে রয়েছেন
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা দুটি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক এগিয়ে রয়েছেন। দুই কেন্দ্র মিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৭৭৭ ভোট। অপরদিকে তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১০ ভোট। কেসিসির পিটিআই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটাররা এবং সোনাপোতা কেন্দ্রে নারী ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেন। পিটিআই কেন্দ্রটি ছিল পুরুষ ভোটারদের জন্য। এখানে মোট ভোটার ছিল ১৮৭৯ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে মঞ্জু পেয়েছেন ৫১১ ভোট, দ্বিতীয় অবস্থানে নৌকা প্রতীক নিয়ে তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ৫০৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ ভোট এবং সিপিবির প্রার্থী কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৭ ভোট। অন্যদিকে, সোনাপোতা ইভিএম কেন্দ্রটি ছিল নারী ভোটারদের জন্য। এই কেন্দ্রে তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা প্রতীকে ২৭২ ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৯ ভোট পেয়েছেন। মঙ্গলবার খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। ৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১টি। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।
দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই
দেশের উন্নয়নে নৌকা তথা আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত। দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।’ মঙ্গলবার (১৫ মে) সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এর ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর শেষে এক পথসভায় এসব বলেন। মন্ত্রী মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতু সহ বিদ্যুৎ, কৃষি, অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ বাংলার মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দেশের মানুষ খেয়ে পড়ে আজ শান্তিতে আছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশের গরিব-দুঃস্থ ও বয়স্কদের নানাবিদ ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ভাতা-গৃহস্থল দিয়ে সম্মানিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন।’ এসময় কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার, ইউ এন ও শফিকুল ইসলাম, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পর কাজীপুর সমন্বয়কারি সারোয়ার আলমসহ জেলা ও উপজেলার দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী কাজীপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও পরে সিরাজগঞ্জ সদরে মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নির্মাণাধীন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
কেন ডেসটিনি বিলুপ্ত হবে না: হাই কোর্ট
প্রতারিত করে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের মুখে থাকা ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড অবলুপ্ত বা অবসায়ন করতে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। মঙ্গলবার (১৫ মে) বিচারপতি এম আর হাসানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নোটিশ জারি করেন। আদালত ৪ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস এবং ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানি তার কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলে, দায়-দেনার নিষ্পত্তি করে, তাকে কোম্পানির অবসায়ন বলা হয়। দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি ২০১২ সাল থেকে কার্যত বন্ধ। আদালতে ওই কোম্পানির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন-অর-রশীদ ও পাঁচ শেয়ার হোল্ডারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান ও মাইনুল ইসলাম। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ কে এম বদরুদ্দোজা। এ কে এম বদরুদ্দোজা জানান, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্টার্ড হওয়া কোম্পানিটির ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্ষিক সাধারণ সভা বিলম্বের মার্জনা চেয়ে ওই কোম্পানির পরিচালক এম হারুন-অর-রশীদ ও পাঁচ শেয়ার হোল্ডার হাইকোর্ট আবেদন করেন। হারুন-অর-রশীদ ছাড়া বাকি পাঁজজন হলেন- কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো. জাকির হোসেন, বিপ্লব বিকাশ শীল। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের রেজিস্টার ও ডেসটিনি-২০০০লিমিটেডকে। এ কে এম বদরুদ্দোজা বলেন, আইন অনুসারে প্রতি ইংরেজি পঞ্জিকা বত্সরে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হয়। এতে ব্যর্থ হলে কোম্পানির যেকোনো সদস্যের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত উক্ত সভা আহ্বান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যেরূপ সমীচীন বলে বিবেচনা করবে সেরূপ অনুবর্তী ও আনুসাঙ্গিক আদেশ দিতে পারবে৷ এ আইন অনুসারে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু যে ছয়জন আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্তসাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্ত ছিল- তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখবেন না। আবেদনে তদন্ত শেষ হয়েছে কি না সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। ফলে তিনি আবেদন করতে পারেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এছাড়া তাদের এজিএমের আবেদনে উল্লেখ আছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানির কোনো অডিট নেই। অডিট রিপোর্ট না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা কীভাবে হবে? তিনি আরও বলেন, আবেদনে তারা বলেছে, দুদকের মামলায় সমস্ত সম্পদ জব্দকৃত। সে সম্পদ তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়কও নিয়োজিত আছেন। ফলে কোম্পানি হিসেবে এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। এছাড়া সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন জেলে আছেন। চারজন পলাতক। এছাড়া তদন্ত চলাকালে অপর পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, এমন শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। দুদকের কারণে ছয় বছর ধরে কোম্পানির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। এখন পরিচালক ছাড়া এজিএম হবে কীভাবে? এ কারণে আদালত এজিএমের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কোম্পানিটি অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের প্রতি শোকজ নোটিশ জারি করেছেন বলে জানান এ কে এম বদরুদ্দোজা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে
আগামী তিন মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ইতোমধ্যে জয়দেবপুরে ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে সংকেত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ হওয়ায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মোস্তফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবো। বাইরের দেশ থেকে এখন আর স্যাটেলাইট ভাড়া নিতে হবে না। উপরোন্তু আমরা বাইরের দেশে স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। এর আগে, বেলা সাড়ে ১২ টায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধের বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এমরান আহমেদ, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, বাংলাদেশ এটা করেছে এবং আমরা আশা করি অন্যান্য দেশও আমাদের অনুসরণ করবে। তার সরকারের বিভিন্ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং এজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তকরণে এ সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পারস্পরিক অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক, আঞ্চলিক পরিকল্পনা এবং ‘ঢাকা ঘোষণা ২০১৫’-এর কর্মপন্থা অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল স্বাগতিক বক্তৃতা করেন। রয়্যাল থাই সংসদের সদস্য এবং ইউএনর ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন রাইটস অব দ্যা পারসন্স উইথ ডিজ্যাবিলিটিজর সদস্য মনথিয়ান বুন্তান সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। ইন্টারন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাডভাইজরী গ্রুপ অন ডিআইডিআরএম, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (ডব্লিইএইচও) অটিজম বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, প্রায় ৩৩টি দেশের ১০০ জনের বেশি সদস্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সম্মেলনে যোগ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করছে এবং এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং সম্পদ ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এখন বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালে সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রস্তুত করেছিলেন। যা ছিল বিশ্বব্যাপী জনসম্পৃক্ত দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচিগুলোর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ। ‘আমরা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও এখন সিপিপি মডেল অনুসরণ ও সম্প্রসারণ করছি। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের পরিবর্তে আমরা টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করেছি। যা আমাদের সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্যারিস চুক্তি-২০১৫ এর মত আন্তর্জাতিক নীতি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করেছে,’ বলেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে তার সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্যে আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ দেশের সব মানুষকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ঝুঁকি অবহিতকরণ উন্নয়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্তকরণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশনাল সেন্টার স্থাপন এবং দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে গত সাড়ে ৯ বছরে সারাদেশে ৪ হাজার ৮৮টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ২৫৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ৬৬টি ত্রাণ গুদাম নির্মাণের কাজ চলছে। আপদকালীন খাদ্য মজুদে সরকারের পারিবারিক সাইলো বিতরণের কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে খাদ্যাভাব মেটাতে দুর্যোগপ্রবণ ১৯টি জেলার ৬৩টি উপজেলার ৫ লাখ পরিবারের মধ্যে ৫৬ কেজি চাউল বা ৪০ কেজি ধান ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি করে ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের তৈরি পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ১০৯০ নম্বরে টোল ফি আইভিআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য সরকার ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সাড়াদান কৌশলে প্রতিবন্ধিতা বিষয়কে অন্তর্ভুক্তির জন্য দুর্যোগ বিষয়ক বৈশ্বিক প্লাটফর্মে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন হতে প্রাপ্ত অর্জন ও অভিজ্ঞতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে এবং দুর্যোগ সহনশীলতা শক্তিশালী করতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা গ্রহণে সহায়তা করবে। ইন্টারন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট, অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ডিআইডিআরএম, বাংলাদেশ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিই এইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অটিজম বিষয়ক গুডউইল অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়টিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সম্মেলন সব দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনীর তিনদিনের এক মেলার উদ্বোধন করে এর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর