প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ত্রাণের চাল চুরি,চোরদের শাস্তি দিন
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ ত্রাণের চাল চুরি ও ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় জড়িতদের মোবাইল কোর্টে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। একইসঙ্গে খাদ্য সহায়তা প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণে সমন্বয়হীনতা-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণ বন্ধ করা এবং সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণের দাবি করেছে দলটি। শুক্রবার দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে দলটির সভাপিত ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরও করোনা সংকটকালে লকডাউন পরিস্থতিতে দেশের হঠাৎ কর্মহীন নিরূপায় অসহায় মানুষের জন্য সরকার যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বহু জায়গাতেই প্রকৃত খাদ্য সহায়তাপ্রার্থীর তালিকা প্রণয়ন ও খাদ্য বিতরণে সমন্বয়হীনতা-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-দলবাজি-দলীয়করণ করা হয়েছে। এছাড়া ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রি, ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও চুরি, মজুদদারির ঘটনার খবর আসছে। বিবৃতিতে নেতারা এই দুর্নীতির ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দল না দেখে, মুখ না দেখে এসব দুর্নীতিবাজ, চোর, আত্মসাৎকারী, কালোবাজারি, মজুদদারদের মোবাইল কোর্টে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। করোনা সংকটকালে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল নিয়ে এক শ্রেণির অসাধুদের চালবাজির খবর আসে। যদিও প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয়ে যেন দুর্নীতি না হয় সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। গণমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, ত্রাণ নিয়ে যারা দুর্নীতি করবেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামে আরও ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত,মোট রোগীর সংখ্যা ৭
১০এপ্রিল,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ফৌজদার হাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় আরও ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭-এ দাঁড়ালো। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শাহরিয়ার কবির এ তথ্য জানান।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরও দু'জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ জন। শুক্রবার করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি নগরের ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায়। তবে অন্য জনের বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ডা. শাহরিয়ার কবির। গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। ৫ এপ্রিল ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলের শরীরেও করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ৮ এপ্রিল আরও তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের খবর দেন চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। ৮ এপ্রিল আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বয়স ৪৫, একজনের বয়স ৪০ এবং অন্যজনের বয়স ৫০ বছর। তারা নগরের সাগরিকা, হালিশহর ও সীতাকুন্ড এলাকার বাসিন্দা বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছিলেন তিনি। তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করে প্রশাসন। চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ কিংবা বের হওয়া বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
খাবার কষ্টে ১৪ ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ: ব্র্যাক
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরামর্শ মানতে গিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। আর ১৪ ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের তথ্যমতে, কী কী ব্যবস্থা অবলম্বনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে বিষয়েও ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতার পরিষ্কার ধারণা নেই। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর কাশি শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি চলে না আসার যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও ধারণা নেই অধিকাংশের। শতকরা ৫৩ জন উত্তরদাতা বলেছেন, প্রতিবেশীর এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাঁকে শহরের হাসপাতাল বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। মাত্র ২৯ শতাংশ হেলপলাইনে ফোন করার কথা বলেছেন। দেশের ৬৪ জেলায় দুই হাজার ৬৭৫ জন মূলত নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপ গত ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিচালিত হয়। করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যগত দিকগুলো সম্পর্কে নিম্নআয়ের মানুষের উপলব্ধি এবং এর অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে ধারণা পেতে জরিপটিতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেন ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স, আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং পার্টনারশিপ স্ট্রেংদেনিং ইউনিটের কর্মীরা।খবর একুশে টেলিভিশন। জরিপে উঠে আসা চিত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর ব্যবস্থাপনার জন্য করণীয় সম্পর্কে পৃথক, বৃহৎ মাত্রার প্রচারাভিযান চালাতে হবে। সামাজিক দূরত্বের পদক্ষেপ সঠিক বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের কাছে অতি শীঘ্র খাদ্য পৌঁছাতে হবে নয়ত তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে না। জীবিকা অর্জনে তাঁরা বাইরে বের হতে বাধ্য হবেন। শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন যাঁরা গ্রামকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত নন। তাদের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বোরো ধান কাটা শুরু হবে যা চলবে মে মাসের শেষ পর্যন্। এ সময় কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং সঠিক দাম পান সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম ধান ক্রয় অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। গ্রাম থেকে শহরে সবজি, দুধ-ডিম-মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গ্রামে এসবের দাম কমে গেছে। খাদ্যসরবরাহ চেইন যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া সংকটপরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে পুনরায় ব্যবসা চালু করার জন্য অর্থায়নসহ অন্যান্য সহযোগিতা পৌঁছানোর পদ্ধতি-প্রক্রিয়াও আগাম পরিকল্পনা করা উচিত। এই জরিপে পাওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে , উপার্জন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপের ফলে নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯% চরম দরিদ্রে পরিণত হয়েছেন অর্থাৎ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন। করোনাভাইরাসের পূর্বে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪% শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে এবং ৩৫% শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার ঊর্ধ্বসীমার নিচে। এতে বোঝা যায় চরমদারিদ্র্য আগের তুলনায় বর্তমানে ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারির আগে জরিপে অংশ নেয়া ২,৬৭৫ জনের গড় আয় ছিল ১৪,৫৯৯ টাকা। যাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছে এই করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তাদের আয় কমেছে। মার্চ ২০২০ এ এসে তাদের গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩,৭৪২ টাকায়, অর্থাৎ তাদের পারিবারিক আয় ৭৫ শতাংশের মতো কমে এসেছে। চট্টগ্রাম (৮৪%), রংপুর (৮১%) এবং সিলেট বিভাগের (৮০%) মানুষের আয় কমেছে সবচেয়ে বেশি। সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাদের কাজ কমে গেছে। ৮ শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনও বেতন পাননি। কৃষিকাজে সম্পৃক্তদের (৬৫%) তুলনায় অ-কৃষিখাতের দিনমজুর বেশি (৭৭%) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ রিকশাচালক, ৫৮ শতাংশ কারখানা শ্রমিক, ৬২ শতাংশ দিনমজুর, ৬৬ শতাংশ হোটেল/রেস্তোরাঁকর্মী জানান- চলতি মাসে তাঁদের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার। রোগ সম্পর্কে সচেতনতার মাত্রা, শতকরা ৯৯.৬ ভাগ মানুষই এই ভাইরাস সম্পর্কে শুনেছেন। যার মধ্যে ৬৬ ভাগ মানুষ প্রথম বিষয়টি জেনেছেন টেলিভিশন থেকে। মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাব্য উপায়। করোনা আক্রান্ত হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এ বিষয়ে নারীদের (৩৮ শতাংশ) চেয়ে পুরুষদের (৬০ শতাংশ) ধারণা বেশি। ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯-এর রোগীর চিকিৎসা হয় না। এছাড়া ৯ শতাংশ মানুষ জানেনই না এই অবস্থায় কী করা উচিত। সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া, ৬৮ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সাধারণ ছুটির ঘোষণাকে সমর্থন করেন, শতকরা ৭ ভাগ সমর্থন করেন না। ছুটি বিষয়ে সাধারণ মতামত হলো, সরকারি ছুটি গড়ে ২২ দিন হতে পারে। এর মধ্যে ৬৪ ভাগ মানুষ ১৪ দিনের বেশি ছুটির পক্ষে। এই মহামারী ঠেকাতে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট বলে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ (৬৪%) । বাকিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ গ্রামের মানুষ এবং ৪০ ভাগ শহরের মানুষ এই ধারণাকে সমর্থন করেননি। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ (যাদের বেশির ভাগের বাস শহরে) জরুরি ত্রাণ পেয়েছেন বলে জানান (৫ এপ্রিল পর্যন্ত) । ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন এ পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্য সহায়তা জরুরি, যেখানে শতকরা ২০ ভাগ চান নগদ অর্থ সহায়তা । শহরের মানুষের (৪৪ শতাংশ) চেয়ে গ্রামের মানুষেরাই (৫০ শতাংশ) খাদ্য সহায়তার পক্ষে বেশি মত দেন। এই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে করণীয়, ৩৬ শতাংশ মানুষ জানেন না এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকটের সাথে তাঁরা কীভাবে মানিয়ে নেবেন। ২৩ শতাংশ আশা করেন (যার মধ্যে নারী ৩৮%) এই পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে সরকার তাঁদেরকে সহায়তা করবে। শহরের মানুষ গ্রামের মানুষের চেয়ে সরকারি সহায়তার ব্যপারে বেশি আশাবাদী। যদি পরিস্থিতি খুব সহসাই স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ধারদেনার চিন্তা করছেন শতকরা ১৯ ভাগ মানুষ।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের সঙ্গে দেখা করলেন পরিবারের ৫ সদস্য
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদের সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য দেখা করেছেন। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সাক্ষাৎ করতে যান। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী জানান, মাজেদের স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সাক্ষাৎ করতে আসেন।মানবজমিন। মাজেদের রায় কার্যকরের বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন জানান, উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেলেই যে কোন মুহূর্তে রায় কার্যকর করা হবে। গত ৬ই এপ্রিল রাতে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করবে দুদক, হুঁশিয়ারি দুদক চেয়ারম্যানের
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। স্থানীয় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদকের সকল বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়সমূহকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান। আজ শুক্রবার দুদকের পরিচালক(জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দুদকের নিজস্ব গোয়েন্দাদের মাধ্যমে অবহিত হয়েছে, কতিপয় ব্যক্তি জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। দুদক বিষয়টি অবহিত হয়ে এ মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কমিশনের প্রতিটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় জেলা প্রশাসকদের সাথে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো অবস্থাতেই সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে দুর্নীতির ন্যূনতম সু্যোগ দেওয়া হবে না। কমিশন আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি এজাতীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন, তাহলে তাদেরকেও আইন আমলে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের সকল বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়সমূহকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশন জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক যেকোনো কর্মসূচিতে দুর্নীতির মত অপরাধ প্রশ্রয় দিবে না। আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনু্যায়ী অনুপার্জিত আয় ভোগ করার কোনো সুযোগ নাই। দুদক কাউকে অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ দিবে না।
ঢাকা ছেড়ে গেলেন ইউরোপের ১৫ দেশের ১২৪ নাগরিক
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতার আশঙ্কায় এবার ঢাকা ছেড়ে গেলেন ইউরোপের ১৫ দেশের ১২৪ নাগরিক। শুক্রবার মধ্যাহ্নে জার্মান সরকারের ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকা ত্যাগ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপ তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১১০ জন এবং পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের ১৪ জন নাগরিক ফ্রাঙ্কফুর্টের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ওই বিমানে চড়েছেন। ব্যাংকক হয়ে ঢাকা আসা জার্মানীর ওই ফ্লাইটে আরও প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী ছিলেন জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, ব্যাংকক আসা ইউরোপগামী ওইযাত্রীদের আমরা ঢাকায় বিমান থেকে নামতে দেয়নি। ঢাকার যাত্রীদের বোর্ডিং প্রক্রিয়ার পুরোটা সময় তারা ফ্লাইটের ভেতরেই অপেক্ষমাণ ছিলেন। এদিকে ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোলজ জার্মান স্পেশাল ফ্লাইট ও বিমানবন্দরে বোর্ডিং প্রক্রিয়ার ডজন খানেক ছবি পোস্ট করে পৃথক ৪টি টুইট বার্তায় আপডেট প্রচার করেন। সেখানে তিনি জানান, জার্মানীসহ ইউরোপের ১৫ টি দেশের নাগরিক জার্মান সরকারের ভাড়া করা বিমানে ঢাকা ছেড়ে গেছেন। তবে তিনি (রাষ্ট্রদূত পিটার) ঢাকায় থাকছেন। জার্মান দূতাবাস টিম এবং ইইউ ডেলিগেশন কার্যালয়ের টিম যৌথভাবে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলো।
দেশের সব পোশাক কারখানা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব পোশাক কারখানাও আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে সরকার ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিকেএমইএ-এর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান এবং বিজিএমইর সভাপতি ড. রুবানা হক এর যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বেতন দেয়ার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা রাখার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে স্ব স্ব অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ) এবং শিল্প পুলিশকে জানাতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের জন্য ফাঁসির মঞ্চ ও জল্লাদ প্রস্তুত
১০এপ্রিল,শুক্রবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে জল্লাদের একটি দল। যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শনিবার অথবা রোববার ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা বেশি। এর আগে বুধবার রাতেই রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো তার প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করা হয়। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল বৃহস্পতি বা শুক্রবার কার্যকর হতে পারে ফাঁসির দণ্ডাদেশ। তবে শেষ মুহূর্তে আর কার্যকর করা হয়নি। কারা সূত্র জানায়, প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেওয়ার পর সেই চিঠিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছে। কারাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে শবে বরাতের কারণে ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া শুক্রবারও ফাঁসি কার্যকরের কোনো সম্ভাবনা নেই। এরপরের দুদিন যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে। মঞ্চের প্রস্তুতির বিষয়ে সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এখন পর্যন্ত কোন ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তবে মঞ্চটি সবসময় প্রস্তুত থাকে। সম্প্রতি নতুন করে ধোয়ামুছা করা হয়েছে। এতে যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা যাবে। ফাঁসির বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরীকে ফোন দেয়া হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। প্রাণভিক্ষার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ফাঁসির আদেশ কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকলো না। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হবে। এর আগে ২৩ বছর ধরে পলাতক আবদুল মাজেদকে সোমবার মধ্যরাতে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে মাজেদকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সিটিটিসি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পরদিন বুধবার মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। পরে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬ জন,নতুন আক্রান্ত ৯৪,মোট আক্রান্ত ৪২৪
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২৪। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৬ জন। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১২ জন। দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা এখন প্রায় ৯৬ হাজার। শুক্রবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ সংখ্যা এখন ৯৫ হাজার ৭২২ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৬ লাখ ৩ হাজার ৭১৯ জন। প্রাণহানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ১৮ হাজার ২৭৯ জন নিয়ে প্রাণহানিতে এখনো শীর্ষে রয়েছে ইতালি। এ ছাড়া স্পেনে ১৫ হাজার ৪৪৭, ফ্রান্সে ১২ হাজার ২১০, যুক্তরাজ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রাণহানী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ১ হাজার ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সে ১ হাজার ৩৪১ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। দেশটি এখন করোনার সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে আমেরিকা ও ইউরোপে এটা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে চার লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৪। এর পরে আছে স্পেন এক লাখ ৫২ হাজার ৪৪৬।

জাতীয় পাতার আরো খবর