১৪ প্রতিশ্রুতি ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে
অনলাইন ডেস্ক: চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর বিএনপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হয় ঐক্যফ্রন্ট। দুই দফা তারিখ পেছানোর পর অবশেষে রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা চলছে। ইশতিহারে দেয়া হচ্ছে ১৪টি প্রতিশ্রুতি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে ৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহারে ১৪টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ইশতেহারের বিস্তারিত পাঠ করেন। ঐক্যফ্রন্টের এই ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার প্রতিশ্রুতি ছাড়াও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণ, মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, পিএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানো, নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হতে পারলে পাঁচ বছরের শাসনকালে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা যাবে, সেগুলোর ওপর জোর দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। ইশতেহার ঘোষণার আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর, ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মালিকানা বুঝে নেওয়ার। জনগণই হবে ক্ষমতার মালিক। দেশের মালিক হওয়ার জন্য লক্ষ মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। সংবিধানে জনগণকে দেশের মালিকানা দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণফোরামের প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।
বিজয় দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও তাঁর সহধর্মিনী রাশিদা খানম আজ রোববার দেশের ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির বাসভবনের সবুজ লনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। বেলা ৩টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সবুজ লনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসর দীর্ঘ ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পন করলে জন্মলাভ করে বাংলাদেশ। তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে ছুটির দিন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তাঁর সহধর্মিনী রাশিদা খানম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদৌজ্জা চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ, সংসদ সদস্যগণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধূরী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণ, তিন বাহিনীর প্রধান, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট নাগরিকগণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের ৪৩ জন সদস্যও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এই সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসের কেক কাটেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের কল্যাণে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দেশের প্রখ্যাত শিল্পী রফিকুল ইসলাম, ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার, মেহেরিন ও মুনিয়া বাউলা গান পরিবেশন করেন এবং শিশু ও একটি আর্মি ব্যান্ড অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে সেরকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, আশা করি নির্বাচনে সবাই সহযোগিতা করবেন। আচরণবিধি, নির্বাচনের নিয়ম-কানুন সবাই মেনে চলবেন। এর আগে আজ সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সিইসি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু হবে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে এবং অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে সেরকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, আশা করি নির্বাচনে সবাই সহযোগিতা করবেন। আচরণবিধি, নির্বাচনের নিয়ম-কানুন সবাই মেনে চলবেন। এর আগে আজ সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সিইসি কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জাতীয় স্মৃতিসৌধে
অনলাইন ডেস্ক: মহান বিজয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। আজ ১৬ ডিসেম্বর (রোববার) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই সর্বস্তরের মানুষের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শুরু হয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল। শহীদদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শুরু করে মানুষ। আজ ৪৮তম মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চিরস্মরণীয় দিন। ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর কাছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়। এবারের বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিজয়ী করার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করবে।
৪৮তম বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪৮তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার (১৬ ডিসেম্বর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে নগরীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি দেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জাতি আজ ৪৮তম বিজয় দিবস পালন করছে। এ দিনটি এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। দীর্ঘ ৯ মাস স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। ৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং ৩০ লাখ শহীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্মলাভ করে।
আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস
আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। বিশ্বের দরবারে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডে র নাম জানান দেয়ার দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবারের বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি পালন করছে ভিন্নভাবে। অন্যদিকে, অফুরন্ত আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। আজ ৪৮তম মহান দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই সর্বস্তরের মানুষের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শুরু হয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল। শহীদদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে শুরু করে মানুষ। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ আজ বিজয়ের আনন্দে আজ মাতোয়ারা। বঙ্গবন্ধুর বজ্রনিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাসে মুখরিত। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০১৮ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আজ সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাচ্ছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করছে। এছাড়া, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হবে আজ। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। দেশের সকল শিশু পার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে প্রবেশর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৬ ডিসেম্বরের জাতীয় স্মৃতিসৌধকেন্দ্রিক ট্রাফিক নির্দেশনা
অনলাইন ডেস্ক: আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর রোববার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধকেন্দ্রিক চলাচলে ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানিয়েছে, আগামীকাল রোববার মহান বিজয় দিবসের প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সাভার স্মৃতিসৌধে গমনাগমন করবেন। তাদের সুষ্ঠু গমনাগমন নিশ্চিত করতে এদিন ভোর সাড়ে ৩টা হতে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঢাকা হতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও লরিসহ বড় যানবাহনের চালক/ব্যবহারকারীকে বিকল্প সড়কে চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বিকল্প সড়কগুলো হচ্ছে- গাবতলী-আমিন বাজার ব্রিজ-সাভার-নবীনগর রোড পরিহার করে বিকল্প রাস্তা হিসেবে ঢাকা এয়ারপোর্ট রোড-আব্দুল্লাহপুর ক্রসিং-আশুলিয়া সড়ক হয়ে চলাচল করবে। আরিচা/পাটুরিয়া হতে সাভার-আমিনবাজার হয়ে ঢাকাগামী যানবাহনসমূহ নবীনগর বাজার হতে বাইপাইল-আশুলিয়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করবে। টাঙ্গাইল হতে আশুলিয়া হয়ে ঢাকাগামী যানবাহনসমূহ কালিয়াকৈর-গাজীপুর চৌরাস্তা-টঙ্গী হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করবে। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না ভোটকক্ষ থেকে: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকরা সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, তবে ভোটকক্ষ থেকে না পরলেও কক্ষ থেকে বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। ভোটকক্ষের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও এ সময় জানান সিইসি নূরুল হুদা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটকক্ষে বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না। শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সিইসি কেএম নূরুল হুদা। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সাংবাদিকরা অবাধে ভোটকক্ষে প্রবেশ করলে নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোট চলাকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সীমিত আকারে প্রবেশ করতে পারবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজধানীর মিরপুরে ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে কেএম নূরুল হুদা বলেন, তার গাড়িবহরে হামলার বিষয়টা দুঃখজনক। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের নির্বাচনী তদন্ত কমিটি আছে, তাদের কাছে এ অভিযোগ পাঠানো হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে না, সব দল প্রচারণা করতে পারছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর