ঢাকায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত
এক সপ্তাহের জন্য জাতিসংঘের গণহত্যা বিষয়ক বিশেষ দূত আদামা দিয়েং বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। ১১ মার্চ পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। ওই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং রাখাইনের গণহত্যা-বর্বরতার সাক্ষী বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশার কথা শুনবেন তিনি। নিউইয়র্কে ফিরে তিনি এ নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস কাছে রিপোর্ট করবেন। মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে সাক্ষী হিসেবে এটি আমলে নেয়ার সুযোগ থাকবে বলে আশা করছে রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান আদামা দিয়েং। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রসঙ্গত, অপরাধ দমনের নামে রাখাইনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে করা নীতিমালা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে
উবার, পাঠাও, মুভসহ স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে করা নীতিমালা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা ২০১৭’ শীর্ষক এ নীতিমালা কার্যকরের তারিখ জানিয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়। আগে ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় রাইড শেয়ারিংয়ের খসড়া নীতিমালা অনুমোদন পায়। পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। নীতিমালায় আটটি অনুচ্ছেদ এবং ১১টি শর্ত রয়েছে। সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার ২০১৬ সালের নভেম্বরে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করে। যদিও এর আগে থেকেই স্যাম নামে একটি মোটরবাইক শেয়ারিং অ্যাপ ঢাকায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এরপর চালু হয় পাঠাও নামে আরো একটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের মধ্যে রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তবে এরই মধ্যে এ ধরনের সেবা নিয়ে নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ নীতিমালা অনুযায়ী রাইড শেয়ারিং অ্যাপের জন্য এবং এ ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য মোটরগাড়ির মালিককেও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে সনদ নিতে হবে। নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, অ্যাপের মালিককে টিআইএনধারী হতে হবে এবং নিয়মিত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। অ্যাপ কোনো কোম্পানির হলে লাগবে জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রেশন। নিজস্ব অফিসের পাশাপাশি ঢাকায় সেবা দেওয়ার জন্য লাগবে অন্তত ১০০টি গাড়ি। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ৫০টি এবং অন্যান্য জেলা শহরের ক্ষেত্রে থাকতে হবে ২০টি। যেসব গাড়ি এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হবে, সেগুলো বিআরটিএ থেকে ট্যাক্স এবং রুট পারমিট হালনাগাদ করা থাকতে হবে। নীতিমালা অনুসারে, সেবা দেওয়ার জন্য মালিক এবং চালকের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মালিক এবং চালকের বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে বিআরটিএর ওয়েবসাইটে। এ রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্তির আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে। এ তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। পরবর্তী সময়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে যা নবায়ন করা যাবে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা যেকোনো বিষয়ে মালিক এবং চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন বিআরটিএ বরাবর। যেকোনো শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তালিকাভুক্তি বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করার বিধানও থাকছে এ নীতিমালায়। রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় ভাড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, অ্যাপভিত্তিক এ ধরনের পরিবহন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১০ সালের ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। নীতিমালায় এসি গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ৬০ টাকা। এছাড়া প্রতি মিনিটের ওয়েটিং চার্জ ধরা হয়েছে ৩ টাকা থেকে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তাছাড়া পরবর্তী সময়ে প্রতি কিলোমিটার দূরত্বের জন্য গুনতে হবে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি হয়নি : দুদক চেয়ারম্যান
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা ও মানুষের মুক্তির কথা রয়েছে। স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি হয়নি। বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ওপর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিন্তু মুক্তি এখনো পরিপূর্ণভাবে হয়নি। মুক্তি মানে অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক মুক্তি ও প্রশাসনিক মুক্তি। যিনি দুর্নীতি করেন; মিথ্যা কথা বলেন; শ্রেণিকক্ষে না পড়িয়ে কোচিং করান; কিংবা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সময়মতো পালন করেন না, তারা আর যাই হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে শ্রদ্ধা করেন না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। মানুষের মুক্তির জন্য দুর্নীতি দমনে যা যা করা দরকার সবই আমরা করতে চাই। মঙ্গলবার গভীর রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণের নামে আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে ৯২ লাখ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের কর্মকর্তারা যদি মনে প্রাণে চেষ্টা করে তাহলে দুর্নীতির টাকা কেউ ভোগ করতে পারবে না। দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেরা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। নিজেদেরকে আমরা পরিবর্তন করি। আমরা কেউ চিরদিন বাঁচবো না, চেয়ারকে ভালোবেসে কোনো লাভ নেই। এ চেয়ার ক্ষণস্থায়ী। এমনকি অর্থ, বিত্ত, পরিবার পরিজন কোনো কিছুই একসময় কোনো কাজে লাগে না। কিন্তু আমাদের কর্ম যা সমাজকে পরিশুদ্ধ করে তা চিরস্থায়ী। আপনারা সবাই সম্মিলিতভাবে এমন কিছু করুন যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সহায়ক হয়। তাহলেই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ হৃদয়ে ধারণ হতে পারে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক মো. জাফর ইকবাল, পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির, উপপরিচালক সেলিনা আক্তার প্রমুখ।
ইতিহাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায় না :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ (বুধবার) উদযাপনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ইপিআর ওয়ারলেসের মাধ্যমে শেষ শত্রুকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জাতির পিতা। দেশকে স্বাধীন করতে জাতির পিতার নির্দেশে জনগণ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা যা ছিল তা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানান তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তবে ওই সময় একটি দল পাকিস্তানি বাহিনীকে গ্রামের পর গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল। আমার মা-বোনদের পাক হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা গণহত্যা চালিয়েছিল। গ্রামে গ্রামে আগুন দিয়েছিল। তিনি বলেন, জাতির পিতা এদের বিচার শুরু করে করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারের হত্যার পর তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে মন্ত্রী-উপদেষ্টা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কেউ এটা বাজালে জেল-জুলুম করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায় না। ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়। বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে জনসভায় ভাষণ দেয়া শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এরআগে বিকেল ৩টার দিকে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছেন। বেলা আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্যদিয়ে জনসভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন প্রমুখ। জনসভা শুরু হওয়ার আগেই সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুরের আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মৎস ভবন, শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বরসহ বিভিন্ন পথে জনস্রোত নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখে। প্রায় প্রতিটি নেতাকর্মীর হাতে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ও স্লোগান সম্বলিত নানান রঙয়ের ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্লাকার্ড। এছাড়া বাস, ছোট পিকআপ, মোটরসাইকেল করে সমাবেশস্থলে আসছেন নেতাকর্মীরা। অনেককে পায়ে হেটেও জনসভায় যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে :সেতুমন্ত্রী
মৌলবাদী শক্তিকে পরাজিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এজন্য আমাদের শপথ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি আরও বলেন, যারা ৭ মার্চ পালন করে না তারা স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না। জনসভা পরিচালনা করেছেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপেটক পাঠের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। এর আগে জনসভা মঞ্চে সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, দেশাত্ববোধক গান বাজানো হয়। জনসভা শুরুর আগে দলের সাংসদ মমতাজ গান পরিবেশন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন। আগামী ৮ থেকে ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি ভারত সফর করবেন। আর ১১ থেকে ১৪ মার্চ সিঙ্গাপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।বুধবার এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সে যোগ দিতে দিল্লি যাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ অনুষ্ঠানে ২৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানরা অংশ নেবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার স্মৃতিবিজরিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। এ এইচ মাহমুদ আলী আরও জানান, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুং এর আমন্ত্রণে আগামী ১১ থেকে ১৪ মার্চ সিঙ্গাপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে ছয়টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে। সফরের সময় আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান সিঙ্গাপুরের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের নির্বাচিত প্রথম মহিলা মুসলিম রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকুব এর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
আজ বুধবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিন । এ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী ও পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রপতির লাল গালিচা সংবর্ধনা
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং আজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছলে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সফরে এসেছেন। ভিয়েতনামের নেতা এবং তাঁর পত্নী নগুয়েন থাই হিয়েন হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে ২১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, তাঁর পত্নী রাশিদা খানম ও কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। তাদের বহনকারী এয়ার ক্রাফটটি বিকেল ৩ট ৫২ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ এয়ার ক্রাফট থেকে প্রেসিডেন্ট কুয়াং, তার পত্নী ও সফরসঙ্গীরা নেমে আসার পর দুই শিশু তাদেরকে ফুলের শুভেচ্ছা জানায়। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মান আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, কূটনীতিক মিশনের প্রধানগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে একটি অস্থায়ীভাবে নির্মিত ডায়াসের দিকে নিয়ে যান। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি যৌথ কন্টিনজেন্ট তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সফরকালে কুয়াং এ হোটেলেই থাকবেন। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ত্রাণ দাক লুয়ংয়ের সফরের পর এটি গত ১৪ বছরে কোনো উচ্চপদস্থ ভিয়েতনামী প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দানকারী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের থেকে ভিয়েতনামী প্রেসিডেন্টের সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করবেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সাড়ে নয়টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। একইদিন সকাল ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করবেন। বৈঠকে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্যসূচি অনুযায়ী, কুয়াংয়ের বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। সেখানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তাঁর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। এর আগে বেলা আড়াইটায় হোটের সোনারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বিকেল তিটায় ভিয়েতনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে তাঁর সম্মানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ৬ মার্চ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট সকাল সাড়ে নয়টায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রধানের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের একটি একটি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং পরে তিনি ‘ভিয়েতনাম কালচারাল ডেজ ইন বাংলাদেশ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন।
আজ ঢাকায় আসছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং আজ রোববার তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। গত ১৪ বছরে এটি হবে ভিয়েতনামের কোনো প্রেসিডেন্টর প্রথম বাংলাদেশ সফর। ২০০৪ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ত্রান দাক লুয়ং সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন। ভিয়েতনাম ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথমদিকে স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর অন্যতম। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৫ সালের আগস্টে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরি ২০১৭ সালের জুলাইতে ভিয়েতনাম সফর করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হোটেল প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আসবেন। সফরসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি সেখানেই থাকবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যদিয়ে ভিয়েতনামী প্রেসিডেন্ট কুয়াংয়ের বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করবেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সাড়ে নয়টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। একইদিন সকাল ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করবেন। বৈঠকে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বৈঠকের ফলাফল জানানো হতে পারে। কার্যসূচি অনুযায়ী কুয়াংয়ের বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। সেখানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তাঁর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। এর আগে বেলা আড়াইটায় হোটের সোনারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বিকেল তিটায় ভিয়েতনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে তাঁর সম্মানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ৬ মার্চ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট সকাল সাড়ে নয়টায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রধানের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের একটি একটি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং পরে তিনি ভিয়েতনাম কালচারাল ডেজ ইন বাংলাদেশ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়ে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাবেন।