বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু
শুরু হলো ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। রোববার (১০ জুন) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঈদের প্রথম ট্রেন ছেড়ে গেছে। এদিন ভোর নাগাদ কমলাপুরে আসতে শুরু করেন ঘরমুখো যাত্রীরা। কিছুটা দেরিতে হলেও ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন যাত্রীরা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের এই যাত্রায় অনেকটাই রোমাঞ্চিত তারা। আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে দিনের প্রথম ট্রেন সুন্দরবনের যাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি ৫০ মিনিট দেরিতে যাত্রা করে। অগ্রিম টিকিট নেয়া যাত্রীদের এটাই প্রথম যাত্রা। গত ১ জুন এ দিনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট দেয়া হয়। এদিন কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত হন। ট্রেনের ভিতরে জায়গা না পেয়ে যাত্রীদের অনেকেই ছাদে চড়ে বসেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে তারা ছাদে চড়ে গন্তব্যের দিকে যেতে পারেননি। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি স্টেশন ও সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা দেখছি না
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা বাহিনী নিয়োগের কোন বিধান নেই। আইনে বলা আছে, আইন শৃংখলা বাহিনী সেখানে থাকবে। আইন শৃংখলা বাহিনী বলতে বুঝায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। সেনা বাহিনী প্রতিরক্ষা বাহিনী। সুতরাং নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েনের কোন সম্ভাবনা আমি দেখছি না। তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন হবে একদিকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। আমি বিশ্বাস করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকেই জনগণ বিজয়ী করবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ২০দলীয় জোট যদি নির্বাচনে আসে তাহলে নির্বাচন এক ধরনের হবে। আর ২০ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে না আসে সে ক্ষেত্রে হয়তো ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচন হবে, যে যার মতো অংশ গ্রহন করতে পারে। সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তে হবে। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থল বন্দরের পুর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, অবিলম্বে নদী খনন ও চিলমারী বন্দর চালু করা হবে। মন্ত্রী আগামী নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর পাশে থেকে তাকে আওয়ামীলীগের পক্ষে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সোনাহাট স্থল বন্দরে ১০টি ভারতীয় পন্য আমদানির পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইমিগ্রেশন চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। ৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সোনাহাট স্থল বন্দরের অবকাঠামো উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী সেখানেই স্থানীয় সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ স্থল বন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, বিআইডব্লিউটি এর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জাফর আলী, কাস্টমস-এর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবীব, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা, ভুরুঙ্গামারী ইউএনও মাগফিরুল হাসান, সিএন্ডএফ সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, উপজেলা চেযারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী খোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। মন্ত্রী পরে চিলমারী নৌ বন্দর পরিদর্শন করেন।
সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের আশাবাদ সিইসির
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তার ফলশ্রুতিতে খুলনায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামান্য যে ত্রুটিবিচ্যুতি পাওয়া গেছে তা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার (০৯ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তিযুদ্ধকালীন তার স্মৃতিবিজড়িত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো আন্তর্জাতিকমানের এবং গ্রহণযোগ্য দাবি করে সিইসি বলেন, শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সব নির্বাচন করার চেষ্টা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করাই হচ্ছে তার কমিশনের প্রধান কাজ। সে কাজ করে যাচ্ছেন। এসময় তিনি পর্যায়ক্রমে কলাপাড়ায় স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানান। পাশাপাশি মুক্তযুদ্ধকালীন সময়ে এ উপজেলায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনার কথা মনে করেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন চলছে, এতে সবাইকে সহায়তার অনুরোধ জানান সিইসি। কলাপাড়ার দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার ছাড়াও নবনির্মিত শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স অডিটরিয়াম ঘুরে দেখেন তিনি। এর আগে কলাপাড়ার সার্ভার স্টেশন (নির্বাচন অফিস) পরিদর্শন করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন কে এম নুরুল হুদা। এসময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক, পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা, কলাপাড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান, পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অনেক অত্যাচার সহ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শুক্রবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গুণীজনদের সম্মানে আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আইনমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের কন্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশেকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। আগামী নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করবেন। বাংলাদেশের বহুমাত্রিক উন্নয়নে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূূঁয়সী প্রসংশা করছেন। এটা প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যতম নেতা। উপজেলা আওয়ামী যুগ্ম-আহ্বায়ক এমজি হাক্কানী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট মো.আনিসুল হক ভূইয়া, আইনমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব এডভোকেট রাশেদুল কায়সার ভূইয়া জীবন, কসবা পৌর মেয়র মো.এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো,আজহারুল ইসলাম ও আলহাজ্ব রুহুল আমিন ভূইয়া বকুল, জেলা পরিষদ সদস্য মো.মোশারফ হোসেন ইকবাল ও আলহাজ্ব আইয়ুব আলী ভূইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন সুলতানা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি মো.সোলেমান খান, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি মো.শফিকুল ইসলাম রঙ্গু, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমএ আজিজ, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো.আফজাল হোসেন রিমন। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভ’মি) জোবাইদা আক্তার, সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিম, অফিসার ইনচার্জ কসবা থানা মো.আবদুল মালেক, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠাটি সঞ্চালনায় ছিলেন- উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো.মনির হোসেন।
বিএনপি লুটপাটই করেছে কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেনি
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালীন অবস্থায় শুধু লুটপাটই করেছে কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। তারা শুধু নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে গরিবের সংখ্যা কমেছে। দারিদ্র বিমোচন হয়েছে।’ শনিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, চরসামাইয়া, আলিনগর ইউনিয়নে মসজিদের ইমাম ও দুস্থ অসহায়দের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি নির্বাচন করেনি। তারা আগুন সন্ত্রাস করেছে নিষ্পাপ শিশুদের পেট্রোল বোমা দিয়ে মেরেছে। প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে ও মেরেছে। পাঁচ শ’ পুলিং বুথ পুরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি।’ উন্নয়নের স্বার্থে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
কানাডায় নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে কানাডায় যাওয়ার পর কুইবেকে দেশটির গভর্নর জেনারেল জুলি পায়াতের দেয়া নৈশভোজে অন্য নেতাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লা সেটাডেল ডি কুইবেকে শুক্রবারের এই নৈশভোজে সম্মেলনে যোগ দিতে আসা সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কমনওয়েলথ রাষ্ট্র কানাডায় ব্রিটিশ রানির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গভর্নর জেনারেল, তিনিই কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, নৈশভোজে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নগুয়েন জুয়ান ফুক, হাইতির প্রেসিডেন্ট ও ক্যারাবিয়ান কমিউনিটির চেয়ারপারসন জোভেনাশ মইসসহ অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে জি-৭ আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরে কুইবেকে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ২টায় কুইবেক সিটির জিন লিসএজ বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান ও কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জনাথন সুভে। কুইবেক হোটেল শ্যাতো ফঁতেনেক-এ অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব অর্থনীতির সাত পরাশক্তির জোট জি-৭ সম্মেলনের পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনার জন্য জোটের বাইরে থেকে বিভিন্ন দেশকে আলাদা বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একেই বলা হয় জি-৭ আউটরিচ মিটিং। এবার এই সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কানাডা সরকার। শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে দুবাই ও টরেন্টোতে যাত্রাবিরতির পর কুইবেকে পৌঁছান। জি-৭ আউটরিচ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জি টোয়েন্টি জোটের বর্তমান সভাপতি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট; ক্যারিবিয়ান কমিউনিটির চেয়ার হাইতির প্রেসিডেন্ট; জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী; কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট; মার্শাল আইল্যান্ডসের প্রেসিডেন্ট; নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী; আফ্রিকান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ার রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট; সেনেগালের প্রেসিডেন্ট; সেসেলসের প্রেসিডেন্ট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট; ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ এর এমডি; অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সেক্রেটারি জেনারেল; জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ২০১৬ সালে জাপানে এবং ২০০১ সালে ইতালিতে জি সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দেন। কানাডা ছাড়া জি-৭ এর বাকি ছয় সদস্য দেশ হল ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এবারের আউটরিচ সম্মেলনে সমুদ্রকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় খুঁজতে আলোচনা হবে। সফরের তৃতীয় দিন রোববার সকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকের পর টরেন্টো যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। টরেন্টো থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সোমবার সকালে কানাডার মিয়ানমার বিষয়ক দূত বব রে, কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের উপ প্রধানমন্ত্রী জেরেমি হ্যারিসন এবং কমার্শিয়াল কোঅপারেশন অব কানাডার প্রেসিডেন্ট মার্টিন জাবলোকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। কানাডার স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে টরন্টো থেকে দেশের পথে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি করে মঙ্গলবার রাতে তার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এবার সড়কের অবস্থা বেশ ভালো
এবারের আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য সড়কপথে কোনো যানজট হবে না দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যদি কোনো সমস্যা হয় তবে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাবো। আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সড়কের নানা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি একথা বলেন। এবার সড়কের অবস্থা বেশ ভালো দাবি করে তিনি জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সড়কপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগরীর বাস টার্মিনালগুলোতে ভিজিলেন্স টিম কাজ করবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন-বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সালাউদ্দিন প্রমুখ। সড়কে ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঈদে আপনারা আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমি আশ্বস্ত করছি অন্য সময়ের থেকে এবার সড়কের অবস্থা ভালো। ঈদে সড়কে বড় কোনো সমস্যা হবে না। সড়কপথে কোনো যানজট হবে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের অবস্থা ভালো। ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে ফোরলেনের কাজ চলছে, ঈদের সামনে এই সড়কের খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ আছে। হাইওয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার হাইওয়েতে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে অতিরিক্ত পুলিশের ব্যবস্থা করেছি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবারও বলছি ঈদে সড়কে যানজট হবে না। উল্টোপথে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সজাগ থাকবেন উল্টোপথে যেন কোনো ভিআইপি যাতায়াত না করতে পারে। এটা আমার দায়িত্ব, উল্টোপথে কোনো ভিআইপিকে আমি অ্যালাউ করতে পারি না। ১০ জন ভিআইপির জন্য লাখো মানুষের সমস্যা মেনে নেওয়া হবে না। সবার মানসিকতার পরিবর্তন করে উল্টোপথে না গিয়ে সঠিকপথে যাতায়াত করতে হবে। রং সাইডে কোনো গাড়ি চলবে না। ব্যাটারিচালিত ও ভারী যানবাহন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঈদে ব্যাটারিচালিত কোনো যানবাহন মহাসড়কে চলবে না। ভারী যানবাহনও ঈদের ৩ দিন বন্ধ থাকবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি হাইওয়েতে চলবে না। এগুলোর কারণে সড়কে প্রাণ ঝরছে। বিআরটিএ নাকে তেল দিয়ে ঘুমায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন তারা বন্ধ করে না। বিআরটিএ কয়েকটি লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি জটলা তৈরি করতে পারে। রাজধানীর খিলক্ষেতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিপোতে আগুন লেগে বাস পোড়ার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে তদন্ত হবে। আমি জানি বিআরটিসির ‘শর্ষের মধ্যে ভূত’ আছে এগুলো ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে ফায়ারিং হবেই
দেশের যেখানে মাদক আছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্র, অবৈধ টাকা। তাই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে ফায়ারিং হবেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে মাদকবিরোধী অভিযান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই মাদকবিরোধী অভিযানে ফায়ারিং হয়ে থাকে। আমরা কাউকে হত্যা করছি না। সেটা আমাদের উদ্দেশ্যও নয়। আমাদের পঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা আলাদা আলাদা তালিকা করেছে। যাদের নাম কমন পড়েছে, তাদের কাছে যাচ্ছে আমাদের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী।' একরাম হত্যা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। একরাম নির্দোষ হলে দায়ী ব্যক্তিরা শাস্তি পাবেন। চলমান অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা অলআউট যুদ্ধে গেছি। এ যুদ্ধে জিততে হবে। আমরা বর্ডার সিল করেছি। কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছি, অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করছি। আমরা বলেছি, কাউকে মাদকের ব্যবসা করতে দেব না। অভিযান সস্পর্কে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৫ হাজার। সেখানে বর্তমানে আছে ৮৬ হাজার ৩৬৯ জন। এর ৪৪ ভাগই মাদক মামলার আসামি। আমরা প্রকৃত দোষীদের ধরতে আইন সংশোধন করছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকালে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার (বজ্রমেঘ) সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করারও পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর