আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস
৩ মে শুক্রবার, অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ শুক্রবার। এবার মিডিয়া ফর ডেমোক্র্যাসি: জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকশনস ইন টাইমস ডিজইনফরমেশন স্লোগানকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে এই দিবস। প্রতি বছর এই দিনে সারা বিশ্বে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়ে থাকে,এবারের মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ইউনেস্কোর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই দিবসটি পালন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে।১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম কর্মীরা এ দিবসটি পালন করে আসছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে
৩ মে শুক্রবার, অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা উপকূল হয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানবে। আঘাত হানার সময় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসসহ ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ।দুই সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভায় একথা জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ।সভায় তথ্য বিশ্লেষণ করে সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খুলনা অঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় এসে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারারাত পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে।
রাজধানীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব শুরু
৩ মে শুক্রবার, অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ মে) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।এদিকে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশজুড়ে ঘূর্ণিঝড় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।সন্ধ্যা থেকে খুলনা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এই সময় থেকে পুরো দেশজুড়ে কম-বেশি ঘূর্ণিঝড় হবে।আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে। অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পুরো বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ের আওতায় থাকবে, এই সময়টা ক্রিটিক্যাল।তিনি বলেন, উচ্চগতির বাতাস ও দমকা ঝোড়ো হাওয়ার সময় সবাইকে নিরাপদে থাকতে হবে। ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সারা রাত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে।
ভারতে আঘাত হেনেছে ফণী
৩ মে শুক্রবার, অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরি উপকূলে আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। ঝড়ের পাশাপাশি সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১০ কিলোমিটার। পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে রাজ্যের ১১ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।দানবীয় রূপ নিয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বঙ্গোপসাগরে গত ৪৩ বছরে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ফণী সবচেয়ে শক্তিশালী বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় ঝড়টি বাংলাদেশে হানা দেবার কথা রয়েছে। সাগর থেকে ধেয়ে আসা এ ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিচু এলাকায়গুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০২মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আমরা ঘূর্ণিঝড় ফণীর গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করছি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ওই ঘূর্ণিঝড় দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হানতে পারে। তিনি আরো বলেন,আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঘূর্ণিঝড় ফণীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য দেশের উপকূলীয় এলাকাসমূহে ফায়ারসার্ভিস, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার তৎপরতাসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো তদারকি করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগের চেয়ে আমাদের সক্ষমতা এখন অনেক বেড়েছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে আজ সকাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলো উত্তাল হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া কার্যালয় থেকে সবশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, আগামীকাল সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশে শুরু হবে। তবে এটি বিকেলে ভারতের ওডিশায় এবং সন্ধ্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানবে। এরই মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আজ সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, তারা সকাল থেকে দেশের সব নৌপথে নৌ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে, ঘূর্ণিঝড়ের সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এরই মধ্যে সদরঘাট, বরিশাল, বরগুনা থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লঞ্চগুলোকে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরে সব ধরনের পণ্য উঠানামার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলোকে বহিনোঙরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী আজ সকাল ৯টায় মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
০২মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬টা নাগাদ বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকাসমূহে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এনামুল হক বলেন,ঘূর্ণিঝড়টি এখন আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিসঞ্চয় করে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আমাদের সার্বক্ষণিক আপডেট দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আগামীকাল শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। প্রতিমন্ত্রী বলেন,সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) হেডকোয়ার্টার এবং উপকূলীয় ১৯টি জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব জেলার উপজেলা পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের নিয়ন্ত্রণকক্ষও খোলা হয়েছে। উপকূলীয় আর্মি স্টেশনগুলোতেও ঢাকা থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারা প্রস্তুতি রেখেছে। সিপিপির ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাঁরা প্রস্তুত আছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা এরই মধ্যে মাইকিং করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন। মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব জেলার প্রশাসকদের কাছে ২০০ মেট্রিকটন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে পাঁচ লাখ করে টাকাও দেওয়া হয়েছে। ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্যালাইনের জন্য সুপেয় পানির ট্রাক পাঠানো হয়েছে।
ফণীর আপডেট জানতে হটলাইন ১০৯০
০২মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড়ের যে কোনো খবর জানতে ১০৯০ নম্বরে ফোন করলে সব ধরনের আপডেট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৩ মে) সকাল ১০টা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। ফণীর আশঙ্কায় দেশের ৪ হাজার ৮০০ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, প্রতি জেলা প্রশাসনে ৫ লাখ করে টাকা, ২শ টন করে চাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা সাতক্ষীরা অঞ্চলে ফণী আঘাত হানতে পারে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশে থাকাকালীন এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। তাই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম। ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা নেই বলে আশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে, ঘরবাড়ি, ফসলসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও, ফণীর সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম নম্বর হলো ৮০১/ক এবং এর টেলিফোন নম্বর ০২-৯৫৪৬০৭২।
দোয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০২মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় ফণীর কবল থেকে দেশবাসীকে যেন মহান আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করেন সেজন্য শুক্রবার (৩ মে) জুমার নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার কথা রয়েছে, এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে আল্লাহ যেন দেশবাসীকে রক্ষা করেন, সেজন্য বাদজুমা সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ফণী বাংলাদেশ উপকূল থেকে ৭শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে, যদি এভাবে অগ্রসর হতে থাকে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত করার প্যাটার্ন দুর্বল হয়ে যাবে।
৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ফণী,সতর্কতা জারি
০২মে,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধীরে এগিয়ে এলেও ফণী বেশ শক্তিশালী হয়ে গেছে। এখন তার গতি বেড়ে গেছে। তাই ফণী ৪ মের আগেও বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে আছড়ে পড়ার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা রাজ্যের উপকূলে আঘাত করতে পারে। তাই কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ফণী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার দিকে আসবে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ এক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। নাম হয় ফণী। এ কারণে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভারতের দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ফণী আগামীকাল শুক্রবার ভারতের ওডিশা রাজ্য উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আছড়ে পড়ার সময় ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতি থাকবে এই ঘূর্ণিঝড়ের। গত চার দশকেরও (৪৩ বছর) বেশি সময়, অর্থাৎ ১৯৭৬ সালের পর ভারত মহাসাগরে এত শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি দেশটি। ঘূর্ণিঝড় ফণী বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিশাখাপট্টনমের পূর্ব উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার ও পুরী থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ১৯৭৬ সালের (গত ৪৩ বছরে) পর এখন পর্যন্ত এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে যত ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, তার কোনোটি কখনই এত শক্তিশালী আকার ধারণ করেনি। ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়ে সতর্কতা জারি করে রেখেছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওডিশায় এরই মধ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের উত্তর উপকূল দিয়েও বয়ে যেতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। এ ঘূর্ণিঝড়কে সামাল দিতে এরই মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ, ওডিশা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১ হাজার ৮৬ কোটি রুপি আগাম বরাদ্দ দিয়েছে। কাল দুপুরে ঘণ্টায় ১৭৫ থেকে ২০৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত তথ্য দেখা গেছে, ১৯৬৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে ৪৬টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। এর মধ্য ২৮টি হয়েছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্য। সাতটি ছিল মে মাসে। দুটি ছিল এপ্রিলে। এ দুটি ঘূর্ণিঝড় ১৯৬৬ ও ১৯৭৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে হয়েছে। ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার গতির ঝড় হলে তা শক্তিশালী ঝড় এবং ২২১ কিলোমিটার গতির হলে সুপার সাইক্লোনিক স্টর্ম বলে। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতও চলবে এই ফণীর কারণে। ভারতীয় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর জাহাজ ও হেলিকপ্টার সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত। পাশাপাশি ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ৪১ টিমকেও প্রস্তুত রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে আরও ১৩ টিম এবং অন্ধ্র প্রদেশের রয়েছে ১০ টিম। ফণী আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। স্বল্প সময়ের নোটিশে তারা যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে, সে জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।