মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১
গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্লোগান- আমার গ্রাম আমার শহর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় গ্রামভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হলেই প্রধানমন্ত্রীর এ স্লোগানের স্বপ্নের দেশ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নয়নে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের অবস্থা গণমাধ্যমে তুলে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংশ্লিষ্ট এলাকাকে জাতির সামনে উপস্থাপন করে। তাই নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের প্রতিও মন্ত্রী আহবান জানান। সোমবার (০৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসাসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব মন্তব্য করেন। ধনবাড়ী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ২য় তলায় ওই কার্যালয় উদ্বোধন হয়। সংগঠনের সভাপতি রবিউল আলম সাহীন এতে সভাপতিত্ব করেন। একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুর রউফ সংগ্রামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধনবাড়ী পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, ধনবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামান, মুশুদ্দি রিজিয়া কলেজের অধ্যক্ষ কেশব চন্দ্র দাশ, উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বেলাল, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেব উন নাহার লিনা, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন তালুকদার, যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান বকল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান সুমন। এসময় অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব খন্দকার আলমগীর, এটিএন বাংলার ভাইসচেয়ারম্যান মোকাদ্দেম বাবু, দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র সাব এডিটর আবু মো. মাসানী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আপন আহসান, কবি ও সাংবাদিক চপল মাহমুদ ।
সুপ্রিম কোর্ট খোলা নিয়ে ফুলকোর্ট সভা বৃহস্পতিবার
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৩ আগস্ট) এ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। রেজিস্ট্রার জেনারেল সাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপযুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে আগামী ৬ জুলাই বিকেল ৩টায় ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার আলোচ্যসূচির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শারীরিক উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে। সুপ্রিম কোর্টে ২০২০ খ্রিস্টাব্দের বার্ষিক অবকাশকালীন ছুটি হ্রাস/বাতিলকরণ প্রসঙ্গে। করোনাকালে ২৬ মার্চের পর দফায় দফায় সাধারণ ছুটিরও মেয়াদ বাড়ানো হয়। সবশেষ গত ১৬ মে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সরকার ৩০ মে মাসের পর সাধারণ ছুটি আর না বাড়ালেও আদালত অঙ্গনে নিয়মিত কার্যক্রমের পরিবর্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল বিচার কাজ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এর মধ্যে গত ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি বরাবরে একটি পত্র পাঠান। যাতে বলা হয়, .....স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনতিবিলম্বে নিয়মিত আদালত চালুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটি অতিমত প্রকাশ করে। যেহেতু করোনার ভয়াবহতার কারণে ইতোমধ্যে আদালতের মূল্যবান সময় অপ্রত্যাশিতাভাবে হয়েছে সুতরাং এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০২০ সালের ক্যালেন্ডোর অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বাৎসরিক ছুটি এবং সব আদালতের ডিসেম্বরের ছুটি বাতিল করতে হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আদালতের ঐচ্ছিক ছুটিও কমিয়ে আনতে হবে। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই ফের পত্র দেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। ওই পত্রে বলা হয়, .....সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির ৮ জুলাইয়ের প্রস্তাবনার আলোকে অনতিবিলম্বে নিয়মিত আদালত চালুর বিষয়ে পুনরায় আপনার সুচিন্তিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মারামারির অভিযোগে টিকটকার অপু ভাই গ্রেফতার
০৪আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর উত্তরায় সড়কে মারামারির ঘটনায় বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় টিকটকার অপু ওরফে অপু ভাই ওরফে অফু ভাই-(২০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার সহযোগী নাজমুল (২১)কেও গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (০৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের আলাউল এভিনিউ-এর ১২ নম্বর বাড়ির পাশ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আদিল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার (০২ আগস্ট) সন্ধ্যায় উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৬ নম্বর সেক্টরের আলাউল এভিনিউ এলাকায় সড়কে এক ব্যক্তিকে মারধর করেন। এই ঘটনায় সোমবার সকালে ভুক্তভোগী থানায় এসে টিকটকার অপুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে সন্ধ্যায় আলাউল এভিনিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপু ও তার সহযোগী নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাসার বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এছাড়া দোকানপাট, শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি কাজে বাইরে বের হওয়া যাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নির্দেশনা জারি থাকবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে ১০টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং সাপ্তাহিক ছুটি এ নিয়ন্ত্রণের অন্তর্ভুক্ত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, বাসার বাইরে সব সময় মাস্ক পরে, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশ মুখে তাপমাত্রা পারিমাপক যন্ত্র এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলের আগত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট শপিংমল আবশ্যিকভাবে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্য ক্রয়ে ঈ-কমার্স সাইট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে খোলা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারি এবং সন্তান সম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে চলাচল করবে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালন করে মসজিদে নামাজ আদায় ও অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা করা যাবে। সর্বসাধারণের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ/প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অনুমোদন ও নির্দেশনা দেবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য এলাকায় জেলা প্রশাসন এ সংক্রান্ত কার্যবলীর সার্বিক সমন্বয় করবেন। কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে স্থায়ী সরকার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জেলা ও উপজেলা প্রশাসক ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। আদেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ব-গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রনায়কদের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব-গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রনায়কদের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু এক অনন্য সাধারণ নেতা। যিনি স্বাধীনতার প্রতীক বা রাজনীতির ছন্দকার। তারা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এই দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে বলেও তারা মনে করেন। বিদেশী ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চসিৎ প্রশংসা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় এবং নিহতের পর, এমন কি বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে বিশ্ব নেতারাও শেখ মুজিবুর রহমান যে জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত পরিদর্শক মন্তব্য বইয়ে তাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা এবং তাদের সেবায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাকে দেয়া বঙ্গবন্ধু খেতাবে এই দেশপ্রেমিক নেতার প্রতি দেশের মানুষের গভীর ভালবাসা প্রতিফলিত হয়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে এমন মন্তব্য লিখেছিলেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্রতী এই মহান স্বপ্নদ্রষ্টা ও বিশ্ব রাষ্ট্রনায়ককে অভিবাদন জানান।। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মন্তব্য বইয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সম্মোহনী এবং অসীম সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর জনগণের নেতৃত্বদান করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি একজন মহান দূরদর্শী এবং রাষ্ট্রনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি যিনি স্বাধীন, উন্নত এবং গর্বিত বাংলাদেশের দৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জার্মানীর সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান উলফ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেন, ‘এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের একজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করিয়ে দেয়, যিনি তার জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন এবং অতিদ্রুত স্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন নেতা এবং রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি স্বাধীনতার জন্য প্রতিকূলতা ও বিরূপ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে অটল সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন। সোনিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক এবং সমতার ভিত্তিতে মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁর জনগণকে ক্ষমতাবান করতে চেয়েছিলেন। স্বাধানীতার পরপরই বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। তাঁর আত্মত্যাগ সব সময় সম্মানিত হবে, পরবর্তী প্রজন্ম এ আত্মত্যাগকে সম্মান করবে এবং এ সম্মান অব্যাহত থাকবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় তার বাংলাদেশ সফরের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছিলেন। এসময় মন্তব্য বইয়ে তিনি লিখেন, এই উপ-মহাদেশের প্রতিটি মুক্তিকামী, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি, স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্থপতি এবং পিতা। মমতা বলেন, বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মঞ্চে অন্যতম শ্রেষ্ঠত্বে মর্যাদা এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সেই বিরল নেতা, যার প্রতি ধর্মমত নির্বিশেষে সকল মানুষ প্রণাম জানিয়ে ধন্য হয়। থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বিগত বিংশ শতাব্দীর জীবন্ত কিংবদন্তী কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ক্যাস্ট্রো বলেন, আমি হিমালয়কে দেখেনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি ছিলেন হিমালয় সমান। সুতরাং হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা আমি লাভ করেছি। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর সাক্ষাৎ হয়। শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লক্ষ্মণ কাদির গামা (নৃশংস হত্যার শিকার) বাংলাদেশের এই মহান নেতা সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া গত কয়েক শতকে বিশ্বকে অনেক শিক্ষক, দার্শনিক, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, রাজনৈতিক নেতা ও যোদ্ধা উপহার দিয়েছে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুকে ছাপিয়ে যান, তাঁর স্থান নির্ধারিত হয়ে আছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আসনে। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব জে এন দীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম সরকার প্রধান জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান উপমহাদেশে বাংলাদেশের পৃথক জাতিসত্তায় গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী হিসেবে চিত্রিত করলেও ইতিহাসই তাঁর প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করে যখন তাঁর এককালীন ঘোরতর শত্রু তাকে মহান দেশপ্রেমিক হিসেবে অভিহিত করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানি (বেলুচিস্তান) অফিসার মেজর জেনারেল তোজাম্মেল হোসেন মালিক পরে তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন, বস্তুত মুজিব দেশদ্রোহী ছিলেন না (পাকিস্তানে তাকে ব্যাপকভাবে চিত্রিত করা হলেও)। নিজ জনগণের জন্য তিনি ছিলেন এক মহান দেশপ্রেমিক। আরেকজন সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন পাকিস্তানি জান্তার মুখপাত্র মেজর সিদ্দিক সালিক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ৭ মার্চের ভাষণের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সালিক তার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল গ্রন্থে লিখেছন, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল আশাব্যঞ্জক বাণী শ্রবণ শেষে মসজিদ অথবা গীর্জা থেকে তারা বেরিয়ে আসছেন। তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সামরিক আদালতে শেখ মুজিবের বিচার হবে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার এই ঘোষণার পর গোটা বিশ্ব প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয়। তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্ট এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্য নিয়ে নতুন করে বাড়াবাড়ি করলে তার প্রতিক্রিয়া অনিবার্যভাবে পাকিস্তান সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে । বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধুর এই জনপ্রিয়তার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পর্যন্ত আশংকা করেন ইয়াহিয়ার প্রতি সমর্থনের জন্য নিক্সন প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর ক্ষোভ সৃষ্টি হবে। এ কারণে পাকিস্তানকে এই বলে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়, শেখ মুজিবকে ফাঁসি অথবা দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রাখা হলে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, বিশ্লেষক বা গণমাধ্যমের বাইরে বঙ্গবন্ধু বিদেশী জনগণেরও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। আমেরিকান মিশনারী জেনিন লকারবি;র মত রাজনীতির সঙ্গে ওইসব মানুষের সম্পর্ক খুবই নগণ্য। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে চট্টগ্রামে ছিলেন লকারবি। তার অনডিউটি ইন বাংলাদেশ বইয়ে লকারবি লিখেছেন এমন একজন মানুষের আবির্ভাব ঘটছে, যে অনগ্রসর বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বাদ দেবে, তাঁর নাম শেখ মুজিবুর রহমান, আদর করে ডাকা হয় মুজিব। ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শীর্ষস্থানীয় যোদ্ধা ফেনার ব্রুকওয়ে বলেছেন, সংগ্রামের ইতিহাসে লেনিন, রোজালিনবার্গ, গান্ধী, নকুমা, লুমুমবা, ক্যাস্ট্রো ও আলেন্দের সঙ্গে মুজিবের নামও উচ্চরিত হবে। ব্রুকওয়ে আরো বলেন, তাকে হত্যা করা ছিল মানব হত্যার চেয়ে অনেক বড় অপরাধ। শেখ মুজিব শুধুমাত্র তাঁর জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেননি। তিনি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যও সংগ্রাম করেছিলেন। সেনেগালের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদু দিউফ বঙ্গবন্ধুকে অন্যতম মহান ও শ্রদ্ধাভাজন নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৯৯ সালে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এই আফ্রিকান নেতা বলেছিলেন, আপনি এমন এক মহান পরিবার থেকে এসেছেন, যে পরিবার বাংলাদেশকে অন্যতম মহান ও শ্রদ্ধাভাজন নেতা উপহার দিয়েছে। আপনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে আপনার দেশের জনগণ যথার্থই বাংলাদেশের মুক্তিদাতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব : তথ্যমন্ত্রী
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতকে ভুল প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব। তথ্যমন্ত্রী আজ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম। এসময় সিইউজে নেতৃবৃন্দ তথ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন দাবি-ধাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশের বিরোধী দল ঘরের মধ্যে বসে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে কথা বলে, ঘর থেকে বের হয় না। উঁকি দিয়ে কথা বলে সরকারের সমালোচনা করে। তথ্যমন্ত্রী বলেন আমরা একদিনও বসে ছিলাম না। জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আমাদের দলের অনেক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা জানি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে কি হতে পারে। সেটি মাথায় রেখেই কাজ করেছি। সংকট মোকাবেলায় জনগণের পাশে থাকতে শেখ হাসিনা আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিয়েছেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সাংবাদিকদের মধ্যে যারা বেতন পাচ্ছেনা, যারা চাকরীচ্যুত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে বেকার এই তিন ক্যাটাগরির সাংবাদিকদের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য এককালীন সহায়তা প্রদান করার জন্য তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা প্রথম ধাপে সারাদেশে দেড় হাজার সাংবাদিকদের এককালীন ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছি। এটি এই দেড় হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা। পরবর্তী পর্যায়ে আরো চেক বিতরণ করা হবে। ড, হাছান বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন, আমাদের আশপাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কায়ও সাংবাদিকদের এধরনের সহায়তা করা হচ্ছেনা। সেখানে সহায়তা করা হচ্ছে শুধুমাত্র যারা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে। আমরাও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের কারণে কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তাদেরকেও এককালীন তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কে দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে প্রথম মাসে সবকিছু বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অনেক কিছু খুললেও এখনো অনেক কিছু খুলেনি। কিন্তু সাংবাদিকদের কাজকর্ম কখনো বন্ধ ছিলনা। সাংবাদিকরা এই করোনা ভাইরাসের মধ্যে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করেছেন, যে কারণে পত্রিকা বের হয়েছে এবং টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা যদি এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ না করতো তাহলে পত্রিকায় ও টেলিভিশনের সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব হতো না। একারণে বহু সাংবাদিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন । এই পরিস্থিতিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি শুরু থেকেই সংবাদপত্র টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার মালিকপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম যাতে সাংবাদিক ভাই-বোনদের বেতন ভাতা ঠিকমতো দেয়া হয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশ্বব্যাপী এটি হচ্ছে চিত্র। তাই আমি বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম এই করোনাভাইরাসের মধ্যে আমরা কষ্টটা যেন ভাগ করে নিই। তিনি বলেন, এই দুর্যোগ কিন্তু সব সময় থাকবেনা। তাই দুর্যোগের সময় আমাদের অসুবিধা হলেও আমি সমস্ত গণমাধ্যমের কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো সাংবাদিকদের বেতন ভাতা যতোটুকু সম্ভব সঠিক ভাবে যেন পরিশোধ করা হয়। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। যদি তাই না হতো তাহলে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার এত কম হতো না। মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর চেয়ে তো কম বটেই এমনকি আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ভারত পাকিস্তানের চেয়েও কম। পান থেকে চুন খষলেই হৈ হৈ রৈ রৈ করা সঠিক নয় জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রথম দিকে চট্টগ্রামে অনেক অসুবিধা ছিল, আইসিইউ বেড থেকে শুরু করে নরমাল বেডের সমস্যা ছিল। আজকে আইসিইউ বেড খালি আছে, নরমাল বেডও খালি। প্রথমদিকের পত্র-পত্রিকায় যে সংবাদ গুলো এসেছে সেগুলো আমার চোখে পড়েছে। চট্টগ্রামে রোগী ৫শ, বেড আছে ৪শ এধরণের খবর পরিবেশিত হয়েছে। তিনি বলেন, সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদপত্র সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করার জন্য, সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়ার জন্য, দায়িত্বশীলরা ভূমিকা যাতে আরো সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। যখন কাজের ত্রুটি হয় সেটি অবশ্যই গণমাধ্যম উঠে আসবে। যখন কাজ ভাল হয় তখন সেটিও গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রয়োজন। আজকে যে ভালো পরিস্থিতিতে আমরা আসতে পেরেছি সেটিও গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। পরে চট্টগ্রাম বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে করোনা ভাইরাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী। এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বিসহ চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৬
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১৮৪ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৫৬ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার ১০২ জনে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৯০৫ জন। নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে চার হাজার ২৩৮টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ২৪৯টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৪টি। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩০ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও নারী পাঁচজন। বিভাগওয়ারী হিসেবে এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে চারজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন এবং ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ২৭ জন ও বাসায় তিনজন মারা গেছেন। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে চারজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দু জন রয়েছেন। নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৬৮ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৬৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৫২ হাজার ২৭৩ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৮২৫ জন।
ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত তিন দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে পাড়ি দিয়েছিলেন অনেক রাজধানীবাসী। ঈদের ছুটি শেষে তারা আবার ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। সোমবার রাজধানীর কল্যাণপুর-গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে অনেককেই ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। বাস কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগমুহূর্তে প্রায় সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়লেও ফেরার সময় আস্তে আস্তে ফেরেন। অনেকেই ঈদের নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি যোগ করে নেন। আবার কেউ কেউ ঈদ শেষে অফিস ধরতে ঢাকায় ফিরলেও তাদের পরিবার বাড়িতে থেকে যান আরো কিছুদিন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা কম সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই ফেরার সংখ্যাটাও কম। এদিকে, ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পাশপাশি অনেককেই ঢাকা ছাড়তেও দেখা গেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা ঈদের সময়েও বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন সাধারণত তারা ঢাকা ছাড়ছেন। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে আসা লোকজন এবং ঈদ কেন্দ্রীক জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসা নিম্নবিত্ত মানুষরা এখন বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন।- বিডি-প্রতিদিন
বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে
০৩আগস্ট,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে বর্ধিত ৫ দিনে আবহাওয়ায় কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা রাতের মতো প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবাহওয়ার পূর্বাভাসে এমনটি বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার সার সংক্ষেপে বলা হয়ছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় বিরাজ করছে। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বয়ে গেছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ। আজ সোমবার ঢাকায় সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে। গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে ৪৮ মিলিমিটার। এ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরের সৈয়দপুরে ৩৮ দশমিক ২ এবং সর্বনিম্নও ছিল সৈয়দপুরে ২৫ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জাতীয় পাতার আরো খবর