ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো বাতিলের আহ্বান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের:টিআইবি
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণীত হলে শুধু মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেই নয়, গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে অধিকতর নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তাই এ আইনের ঝুঁকিপূর্ণ ধারাগুলো বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান।তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারা পুনর্বিবেচনা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইফতেখারুজ্জামান। খসড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অগ্রসর হওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যৌক্তিক বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংবিধান মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কাছে অসহায়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীসহ মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একদিকে অভূতপূর্ব ভীতি ও অন্যদিকে ভীতিপ্রসূত স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছে, যা বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮ ধারাসমূহ প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া প্রণীত হলে সার্বিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। খসড়াটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ধারাগুলো সংশোধন না করেই সংসদে উত্থাপিত হওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ আইনের ফলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ যেমন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তেমনি এসব অপরাধের সুরক্ষার মাধ্যমে অধিকতর বিস্তৃতি ঘটাবে। সরকার-ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি সে ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ অর্জনে সরকারের পাশাপাশি জনগণ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সব নাগরিক যাতে সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও বাধাহীন মতামত প্রকাশ করতে পারে, তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যায়ে খসড়া আইনটির সংশোধনের দায়ভার সংসদীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত হওয়ার কারণে কমিটিকে অবশ্যই ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিতোষ কুমার সোনালী ব্যাংকের নতুন ডিএমডি
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে নতুন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হলেন পরিতোষ কুমার তরুয়া। তিনি সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে ডিএমডি হলেন। সোনালী ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে পরিতোষ কুমার জেনারেল ম্যানেজার অফিস ঢাকা-২ এর জিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধীন সরকারি বি এম কলেজ, বরিশাল থেকে ১৯৮১ সালে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক সম্মান ও ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার হিসাবে সোনালী ব্যাংকে যোগদান করেন। এছাড়া পরিতোষ কুমার আইবিবির একজন ডিপ্লোমেড অ্যাসোসিয়েট। সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন-শাখা প্রধান, প্রিন্সিপাল অফিস প্রধান, জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে খুলনা জিএম অফিস এবং প্রধান কার্যালয়ের জিএম হিসেবেও সফলতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান কার্যালয়ের সাধারণ ঋণ বিভাগ, কর্মচারী ঋণ বিভাগ, কৃষি ভিত্তিক প্রকল্প অর্থায়ন বিভাগ এবং শিল্প প্রকল্প অর্থায়ন বিভাগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি লাভ করেন পরিতোষ কুমার তরুয়া। কর্মক্ষেত্রে দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে-বিদেশে ব্যাংকিং বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। পরিতোষ কুমার তরুয়া পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার অন্তর্গত বড় আমতলা গ্রামে ১৯৬০ সালের ৭ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।
আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়ে জানাতে আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চলতি মাসের ১৫ এপ্রিল দুদিনের সফরে সৌদি আরব যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গালফ শিল্ড-১ নামে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এরপর সেখান থেকে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগ দিতে যুক্তরাজ্য যান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবে আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ২৩ এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি। এর তিন দিন পর ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লোবাল সামিট অন ওমেন সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া যান। এই সম্মেলনে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তিন দিনের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে গত রোববার মধ্যরাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাংবাদিকদের জন্য পৃথক শ্রম আদালত প্রয়োজন
সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি পৃথক শ্রম আদালত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।তিনি বলেন, শ্রম আইন অমান্য করে সাংবাদিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (পত্রিকায়) মালিক কর্তৃপক্ষ। বেতন বোর্ড রোয়েদাদ (বেতন কাঠামো) অনুযায়ী সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে বঞ্চিত করছে। বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা, যখন-তখন ছাঁটাই বন্ধ করা এবং চাকরিচ্যুত করার পরে আইন অনুযায়ী পাওনা আদায়ের জন্য পৃথক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। মঙ্গলবার মহান মে দিবস উপলক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিইউজের একাংশের সভাপতি আবু জাফর সূর্যের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএফইউজের (একাংশের) মহাসচিব ওমর ফারুক, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, ডিইউজের (একাংশের) সাবেক সভাপতি শাবান মাহমুদ, ডিইউজের (একাংশের) সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, নির্বাহী সদস্য গোলাম মোস্তফা ধ্রুব, শাকিলা পারভীন, ডিইউজের আলোকিত বাংলাদেশের ইউনিট চিফ মতলু মল্লিক, সদস্য সচিব সিরাজুজ্জামান, নিউনেশন ইউনিট চিফ হেমায়েত হোসেন, প্রবীণ সদস্য মৃণাল কান্তি প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিইউজের (একাংশের) দফতর সম্পাদক এম জিহাদুর রহমান জিহাদ, জাহিদা পারভীন ছন্দাসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক ও মিডিয়াবান্ধব। সাংবাদিকদের কল্যাণে তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক নেতা ও সদস্যের ঐক্যবদ্ধ থাকা পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্যকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নেতাদেরও সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দাবি আদায়ে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, যে সব প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকরা ওয়েজ বোর্ডে বেতন ভাতা ও সুবিধাদি পান না, মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে জানালে তারা (নেতারা) ব্যবস্থা নেবেন। সভাপতির বক্তৃতায় আবু জাফর সূর্য বলেন, যেসব পত্রিকার মালিক সাংবাদিক শ্রমিক-কর্মচারীদের দেখিয়ে রেট কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান, তারা ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন ভাতা না দিলে রেট কার্ড স্থগিত বা বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমরা শ্রমিকদেরও হাসি মুখে রাখতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
পোশাক খাত শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৮ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেটে ১৮ হাজার টাকা কিছু না। মঙ্গলবার রাজধানীর জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন জাসদের কার্যালয়ের সমানে জাতীয় শ্রমিক জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা করা। জাসদের পক্ষ থেকে আমরা এ দাবি সমর্থন করলাম। শুনতে বড় লাগে কিন্তু ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেটে ১৮ হাজার কিছু না। আমরা কারখানা রক্ষা করতে চাই, শ্রমিকদেরও হাসি মুখে রাখতে চাই। এ সময় মে দিবসের কি অঙ্গীকার হওয়া উচিত তাও জানিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,এবারের মে দিবসের অঙ্গীকার হোক ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হোক, সুস্থ শ্রমিক মালিক সম্পর্ক হোক, নিরাপত্তা হোক, মর্যাদা পাই, সম্মান হোক এবং শ্রমিকরা হাসি-খুশি থাক। শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শ্রমিকদের সবকিছু সম্মানজনক হয়নি। বাংলাদেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো হচ্ছে- নিরাপত্তা ও আবাসনের সমস্যা। তারপর উপযুক্ত মর্যাদার সমস্যা। এরপর উপযুক্ত মর্যাদাপূর্ণ মজুরি। এখন গ্রাম, শহরে সবখানেই নারী শ্রমিক কাজ করে। প্রায় ৪৫ লাখ নারী শ্রমিক রয়েছে। সুতরাং নারী শ্রমিকদের সমস্যা আছে। তাদের জন্য দরকার নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, সম্মান, মর্যাদা এবং সমকাজের সম মজুরি নিশ্চিত করা বলেন জাসদের এই নেতা। তিনি বলেন, নারী শ্রমিকদের রাস্তা-ঘাটা চলাচলে নিরাপত্তার সমস্যা আছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভালো শিল্পায়ন হয় না। তাই আমরা বলি উৎপাদন বাড়াতে হলে শ্রমিকদের হাসিমুখে রাখতে হবে। উপযুক্ত সম্মানজনক মজুরি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শ্রমিকরা হাসিখুশি থাকলে, মর্যাদাপূর্ণ মজুরি পেলে উৎপাদন বাড়বে, শিল্পাঞ্চল ভালো থাকবে, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নতি করতে হলে শান্তি দরকার। আর সেই শান্তি নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করতে হবে। তেমনি জঙ্গিবাদী তেতুল হুজুরদেরও বাংলাদেশের রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা নারী শ্রমিকের শত্রু, শ্রমিক সমাজের শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। তাই শ্রমিক সমাজের দায়িত্ব নারী শ্রমিকদের রক্ষা, কারখানা রক্ষা করতে একদিকে যেমন উপযুক্ত মজুরি গ্রহণ করতে হবে, আর একদিকে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দেশ ছাড়া করতে হবে। এটা আপনাদের কাজ। সেই কাজে জাসদ আপনাদের পাশে রাজপথে, সংসদে এবং মন্ত্রী পরিষদে থাকবে বলেন ইনু। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিকের ভাগ্য লুটেরাদের কাছে জিম্মি করতে চাই না। সে জন্য আমরা বলি সমাজতন্ত্রের পথে হাটো, দুর্নীতি দূরে রাখো এবং শ্রমিকদের হাসিমুখে রাখো।
প্রতিদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি জানতে ১০৯০ নম্বরে কল করুন
চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৭০ জন মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।মঙ্গলবার সচিবালয়ে চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুইদিনে ২৯ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন। গত মার্চ মাসে ১২ জন এবং এপ্রিল মাসে ৫৮ জনসহ মোট ৭০ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বর্ষা মৌসুম সামনে। এ সময়ে ঝড়-তুফান হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সকলকে পরিস্থিতি দেখে শুনে ঘর থেকে বের হতে হবে।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকায় ১৪৬ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১১২ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০৭ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭১ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ১১০ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই প্রবণতা স্বাভাবিক নয়। এ থেকে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।’ প্রতিদিন ১০৯০ নম্বরে কল করে আবহাওয়া পরিস্থিতি জেনে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয়া হয়।’ বজ্রপাত মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৩১ লাখ ৬৪ হাজার তালের বীজ রোপন করা হয়েছে বলেও জানান মায়া। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেক জেলায় ত্রাণ সমগ্রী যেমন- জিআর চাল, নগদ অর্থ, ঢেউটিন, ঘর নির্মাণের অর্থ, বজ্রপাতে কেউ হতাহত হলে তাদের সহায়তার অর্থ অগ্রিম বরাদ্দ দেয়া আছে, যাতে কোনো দুর্যোগ হলে ডিসিদের ঢাকার দিতে তাকিয়ে থাকতে না হয়।’ বজ্রপাতের তথ্য রেকর্ড করার জন্য আবহাওয়া অধিদফতর দেশের আট জেলায় যন্ত্র স্থাপন করেছে জানিয়ে অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় (তেতুলিয়া), নওগাঁ (বদলগাছী), খুলনা (কয়রা), পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামে এই বজ্রপাত শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। আরও যন্ত্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।’ এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামালসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ পবিত্র শবেবরাত
আজ মঙ্গলবার রাতে পবিত্র শবেবরাত। মুসলমানদের জন্য সৌভাগ্যের একটি রাত। আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখের এই মহিমান্বিত রাতকে পবিত্র লাইলাতুল মোবারাকা বা বরকতময় রাত বলেও অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, মিলাদ মাহফিলসহ নানা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ রাত অতিবাহিত করবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া খায়ের করবে মহিমান্বিত এ রাতে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ রাতের পবিত্রতা রক্ষায় পটকা-আতশবাজি নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মূলত পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে শবেবরাতের এ রাত। ফার্সি শব শব্দটির অর্থ রাত, আর বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্য। হাদীসের বর্ণনা মতে, বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণসহ তাঁর সৃষ্ট জীবের ওপর অসীম রহমত নাজিল করে থাকেন। এ জন্য এ রাতকে শবেবরাত বা ভাগ্যরজনী বলা হয়। মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে বুধবার সূর্যোদয় পর্যন্ত এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এ রাতটি কাটাবেন মুসলমানরা। এ উপলক্ষে অনেকেই নফল রোজা পালন করেন। প্রায় সবাই সাধ্যমতো দান-খয়রাত করে থাকেন। রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ছাড়াও এ পবিত্র রাতে মুসলমানরা মৃত মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। সবার ঘরে আয়োজন করা হয় হালুয়া, গোশত, রুটিসহ নানা রকমের খাবার। আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করবেন অনেকে। তবে এসব আয়োজনের কারণে মূল ইবাদতে যেন কোনো রকম ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। শবেবরাত উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় সব মসজিদে বিশেষ ইবাদত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম, জিকির ও বিশেষ মোনাজাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে শবেবরাতের ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম। রাত ৯টায় ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্ব শিরোনামে বয়ান করবেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। রাত ১১টায় শবেবরাত ও রমজানের তাত্পর্য শিরোনামে ওয়াজ করবেন মিরপুর জামিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান। রাত ১২টা ১০ মিনিটে জিকিরের গুরুত্ব ও ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা এহসানুল হক জিলানী। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। সবশেষে ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। তবে পত্রিকা অফিসগুলোতে ছুটি থাকবে আজ। তাই বুধবার কোনো দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।
আজ মহান মে দিবস
মহান মে দিবস আজ মঙ্গলবার। মাঠে-ঘাটে, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিল শ্রমিকরা। এদিন শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সে ডাকে শিকাগো শহরের তিন লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখে। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। এক লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরো অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝাণ্ডা হাতে সমবেত হয় সেখানে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। অন্যদিকে হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মে দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা শ্রমজীবী মানুষসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংক ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও বেতারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে। প্রতিবছরের মতো এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকাল ৭টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‌্যালিটি দৈনিক বাংলা থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে। মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার ৩ মে সকাল সাড়ে ১০টায় মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ ছাড়া মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মিরপুরে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার
রাজধানীতে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যার পর মিরপুর বাংলা কলেজের পাশের একটি বাসা থেকে ওই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার পর পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাসার দরজা ভেঙে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই নারীর নাম জেসমিন আক্তার (৩৫); তার মেয়ে দুটির বয়স নয় বছর ও চার বছর। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনজনের গলা কাটা ছিল, জেসমিনের পেটেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানতে পারেনি পুলিশ।

জাতীয় পাতার আরো খবর