স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক: স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সেখানে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং সংগঠনের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। জাতির পিতা পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোররাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধুকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। সকাল ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দীন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।
৪ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ, বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচকে
অনলাইন ডেস্ক: চটি মানদণ্ডে ২০১৮ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ উন্নীত হয়েছে। বুধবার ( ৯ জানুয়ারি) ১শ ৬৫টি দেশের ওপর করা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্সি'র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নতি, নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেই গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার- পাঁচ মানদণ্ডে একটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০ ধাপের সূচক তৈরি করে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। কোনো দেশের গড় ৮ এর বেশি হলে সেই দেশে 'পূর্ণ গণতন্ত্র', ৬ থেকে ৮ হলে সেখানে 'ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র', ৪ থেকে ৬ 'মিশ্র শাসন' এবং ৪ এর নিচে হলে সে দেশে 'স্বৈরশাসন' রয়েছে বলে ধরা হয়। ১৮ সালে ৫ দশমিক সাতান্ন স্কোর নিয়ে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। স্থান পেয়েছে মিশ্র শাসনের দেশের তালিকায়। যেখানে ভুটান, নেপাল, পাকিস্তানসহ ৩৯টি দেশ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ৯ দশমিক সাতাশি স্কোর নিয়ে গতবারের মতো তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। গতবছর এই সূচকে এক ধাক্কায় আট ধাপ পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। নেমে গিয়েছিল ৯২তম অবস্থানে। স্কোর ছিল ৫ দশমিক চার তিন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সালে এই সূচক প্রকাশ শুরু করার পর সেটাই ছিল সবচেয়ে বাজে অবস্থান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, '১৮ সালে এসে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। যার প্রভাব পড়েছে গণতন্ত্র সূচকে। অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ মনে করেন, ( উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ সামনে দিকে এগোচ্ছে। যেমন ২০১৮ সালের এই নির্বাচনটা হলো। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়েছে এবং ভোটারদের যে বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি সেটা আমরা দেখেছি। যেটুকু ত্রুটি রয়েছে সেটা আমাদের রাজনৈতিক দলের দুর্বলতার কারণে রয়েছে। এদিকে, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সরকার বিরোধী জোটের অভিযোগকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার উপায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক আবদুল মান্নান (চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন) বলেন, 'গণতন্ত্র নাই বলে যারা চিৎকার করে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যে এরকম কথা বলে। আমার মনে হয় না দেশের মানুষের এসব নিয়ে মাথাব্যথা আছে।' সরকারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
অনলাইন ডেস্ক: আজ ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় বাঙালির স্বাধীনতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। অবশেষে দেখা মিললো ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের কমেট বিমানটির। অপেক্ষায় তখন লাখো জনতা। উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে গগনবিদারী জয় বাংলা ধ্বনি। ২৯০ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিদশা থেকে ফিরে এসেছেন নেতা। বিজয় অর্জনের পরেও প্রিয় নেতার ফিরে আসার জন্য রনক্লান্ত বাঙালিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৫ দিন। বাহাত্তর সালের ৮ জানুয়ারি মুক্ত হবার পর ইংল্যান্ড ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। একুশবার তোপধ্বনি আর লাখো মানুষের আনন্দোল্লাসের মধ্য দিয়ে বরণ করা হলো বঙ্গবন্ধুকে। ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে লক্ষ জনতার ভালবাসায় সিক্ত জাতির পিতা। বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধুর গন্তব্য তখন রেসকোর্স ময়দান। পথে জনতার বিজয় উল্লাস, ব্যানার-ফেস্টুন আর শ্লোগানে মুখরিত। ইতিহাসের পরিক্রমা, যে ময়দানে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ডাক, সেখানেই আবারো তিনি জনতার মুখোমুখি। আবেগে আপ্লুত, আনন্দাশ্রুতে প্লাবিত বঙ্গবন্ধু। ক্লান্ত তবে অবিচল। স্বাধীন বাংলাদেশ কেমন হবে? কোন ভিত্তির উপর দাঁড়াবে বাংলাদেশ, আবেগে থরো থরো হয়েও বঙ্গবন্ধু সেই দিনই তা স্পষ্ট করেন। ইতিহাসবিদ ড. মেজবাহ কামাল বলেন, 'মিলিয়ন ওভার যে পিপল, সেই মানুষের সমাবেশে তিনি যে বক্তৃতা দিলেন। কোন লিখিত ছিল না। সেটা ছিল তার প্রাণের ভিতর থেকে উৎসারিত। তার রাজনৈতিক দিক-দর্শন যা বাংলাদেশের দিক-দর্শন হয়ে উঠবে সে কথা তিনি কিন্তু বলেছেন। দীর্ঘ কারাভোগের পরেও পরিবার নয়, বঙ্গবন্ধু ফিরেছিলেন তার প্রিয় জনতার কাছেই। মেজবাহ কামাল আরো বলেন, তিনি মুক্তি পেয়ে স্বজনের কাছে যেতে পারতেন, বাড়িতে যেতে পারতেন। অনেকে হলেই তাই করতেন। কিন্তু (বঙ্গবন্ধু) তিনি পরিবারের আগে স্থান দিলেন জনগণকে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন অব্যাহত
অনলাইন ডেস্ক: চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, নিকারাগুয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আজ বাসসকে জানান, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। লী লুং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রেস সচিব জানান, নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে দু দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। এছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রেস সচিব জানান, এছাড়া মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী গুঁয়েন চুয়ান ফাক পৃথক পৃথক বার্তায় চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাসস
৩০ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী ৩০ জানুয়ারি বেলা ৩টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনই নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। বুধবার (৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদের পাঁচ বছর পূর্তি হবে ২৮ জানুয়ারি।
প্রজ্ঞাপন জারি: বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। প্রজ্ঞাপনে জিএম কাদেরকে সংসদীয় বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৯ জানুয়ারি) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানান এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। গত ৫ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদে মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বিরোধী দল ঘোষণা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই চিঠিতে এরশাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে আপনি স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনি অবগত আছেন যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার জাতীয় পার্টি ২২টি আসনে বিজয় লাভ করে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল তথা প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। নির্বাচনের এই ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের গঠনতান্ত্রিকভাবে পদাধিকার বলে আমি জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি পার্টিরও সভাপতি। এই প্রেক্ষাপটে আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (রংপুর-৩) প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (লালমনিহাট-৩) বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব মহাত্মন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মহাজোট ২৮৯ আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির রয়েছে ২২টি আসন। মহাজোটের বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এ নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জয়ী হয়।
ধানের শীষের জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে
অনলাইন ডেস্ক: সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষে জয় পেয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের স্থগিত তিন কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের পর বিজয়ের বিএনপি প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে বিএনপির মোট আসনে ছয়ে দাঁড়াল। ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন কলার ছড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪১৯ ভোট। গত ৩০ ডিসেম্বর এ আসনের মোট ১৩২ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। তবে ১৩২ কেন্দ্রের ফলাফলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৮২ হাজার ৭২৩ ভোট আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈন উদ্দিন কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৭২ হাজার ৫৬৪ ভোট। ফলে স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট নিয়ে জেলাবাসীর আগ্রহ বেড়ে যায়। বুধবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্থগিত তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তিন কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সাত্তার পেয়েছেন ১ হাজার ২৭৪ ভোট আর কলার ছড়ি প্রতীকে মঈন পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৫ ভোট। এ তিন কেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল ৩৩৯ জন পুলিশ সদস্য, ৩৬ জন আনসার এবং দুই প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র্যাব সদস্য।
সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, বিজিবি মোতায়েন ৪ কারখানায় ছুটি
অনলাইন ডেস্ক: সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো সাভার এবং আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে সেখানে চারটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন মালিকপক্ষ। ছুটি হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হলো সাভারের উলাইল ও হেমায়েতপুরের বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তিনটি ও আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। বুধবার সকালে সাভারের উলাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ তাদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। শিল্প পুলিশ জানায়, বেতন বৈষম্যের দাবি তুলে সকালে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় কারখানার ভেতর থেকেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারা হয়। সাভারে যখন বিক্ষোভ চলছিল, তখন আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় টেক্সটাউন গার্মেন্টসসহ প্রায় ৪টি গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা বিশমাইল জিরাবো সড়ক অবরোধ করে রাখেন। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে ওই চারটি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পোশাক কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের জলকামান ও সাঁজোয়া যানবাহন। শিল্পপুলিশ-১ এর পরিচালক শানা শামীনুর রহমান বলেন, পোশাক কারখানাগুলোতে কাজের গতি ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশ মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে যাচ্ছে। আলোকিত বাংলাদেশ
জাতির জনকের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম টুঙ্গিপাড়ায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টার যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এরপর সোয়া ১২টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন তিনি। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকশ দল। মন্ত্রিপরিষদের নবনিযুক্ত সদস্যরাও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানা গেছে। কর্মসূচি শেষে দুপুরে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর