উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি,শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
তুরাগ পরিবহনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সহপাঠীরা।শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে গ্রেফতার হওয়া চালক, বাসের ভাড়া আদায়কারী ও চালকের সহকারীর দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করাসহ কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। মানববন্ধনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।শিক্ষার্থীরা জানান, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন কঠোর হবে। গত ২১ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাড্ডা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে তুরাগ বাসে যৌন হয়রানির শিকার হন। পথে যাত্রীরা নেমে যেতে থাকলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। এতে ভয় পেয়ে শেষ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে তিনিও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে বাস থেকে নামতে যান। তখন হেলপার-কন্ডাক্টর হাত ধরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নেমে নিজেকে রক্ষা করেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী ২২ এপ্রিল বিকেলে বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তারা যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন। তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২৩ এপ্রিল ওই বাসের চালক রোমান, বাসের ভাড়া আদায়কারী মনির ও বাসচালকের সহকারী নয়নকে গ্রেফতারের পর রাতেই বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
শেখ হাসিনার চার প্রস্তাব নারীর ক্ষমতায়নে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গতকাল সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার গ্রহণ করার পর অনুষ্ঠানে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের গালা ডিনারের পর পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের তাগিদ দেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল সামিট অব উইমেনস বাংলাদেশসহ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের জন্য এই পুরস্কার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের সফরে গতকাল সকালে সিডনি পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এই গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড যেসব নারী তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন সেসব নারীদের উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। এ অনুষ্ঠানে নৈশভোজের পর শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগে তার সম্পর্কে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ক্ষমতায়ন এবং নারী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি সমর্থন ও অধিকার নিশ্চিতে একটি নতুন জোট গঠন করতে হবে। যে যার জায়গা থেকে নারীদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং সম্মানবোধ করছি। আমি বিশ্বব্যাপী নারীদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি; যারা ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেদের ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, প্রথমত, নারীর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত একমুখী ধারণা পরিহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রান্তিক ও ঝুঁকির মুখে থাকা নারীরা এখনো কম খাদ্য পাচ্ছে, স্কুলে যেতে পারছে না, কম মজুরিতে কাজ করছে এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো নারী ও মেয়েকে পেছনে রাখা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় বিষয় হলো নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে এবং চতুর্থত, জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পর পর দুই দফায় তার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণেই সুষ্ঠু, অধিকারভিত্তিক, লিঙ্গ সংবেদনশীল এবং বাস্তবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সংগ্রামে বাঙালি নারীদের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির কথা উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে নিজের সংগ্রামের কথাও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থানে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি,টানা ছুটিতে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা
ঈদ নয়। তবে ঈদের মতোই ছুটির আমেজ রাজধানীতে। ৭ দিনের ছুটিতে ঢাকাবাসী ছুটছে গ্রামে। মে দিবস, শবে বরাতসহ শুক্র-শনিবারের সরকারি মিলিয়ে এ ছুটি পেয়েছেন সবাই। ফলে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা। গতকালই চোখে পড়েনি নিত্যকার চিরচেনা যানজট। সড়কে গাড়ির জট না থাকলেও রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ স্টেশনগুলোতে ছিল ব্যাপক ভিড়। ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার এই স্রোতে গতকাল যাত্রীবাহী যানবাহনের টিকিট সংকটও দেখা গেছে। গতকাল সকালে বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে দুই দিনের কোনো টিকিট নেই। বিমান যাত্রীদেরও একই অবস্থা। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার বিমানের টিকিট পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার থেকেই টিকিট সংকট ছিল। বৃহস্পতিবার এসে অনেকেই টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন। জানা গেছে, গতকাল ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ মের মধ্যে মাত্র দুই দিন অফিস খোলা। বাকি সাত দিন ছুটি কাটাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, ২৯ এপ্রিল রবিবার বুদ্ধপূর্ণিমার সরকারি ছুটিতে অন্যান্য অফিস খোলা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ৩০ এপ্রিল সোমবার অফিস খোলা। ১ মে মঙ্গলবার মহান মে দিবস। পরদিন ২ মে বুধবার পবিত্র শবে বরাতের ছুটি। ৩ মে বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল আর ৩ মে এই দুই দিন ছুটি নিলেই ৯ দিন ছুটি উপভোগ করার সুযোগ মিলতে পারে। এ কারণে গতকাল সকাল নাগাদ ঢাকার বেশির ভাগ রাজপথই তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়। যেসব বিপণিবিতানের সামনে ব্যাপক ভিড় থাকে, তাও চোখে পড়েনি। রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও যানবাহনের ভিড় ছিল অনেক কম। রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ভিড়ভাট্টার বিপত্তি উপেক্ষা করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী কিংবা মহাখালী কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। গুলিস্তানের চিরচেনা যানজট নিয়ে কারও কোনো বিরক্তি দেখা যায়নি। কারণ ছুটির আমেজে গুলিস্তানও ছিল ফাঁকা। মিরপুর ৬, ১১, ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর ও ভাসানটেক এলাকায় অন্যান্য দিন রাস্তায় অনেক গাড়ি থাকে। কিন্তু গতকাল সে চিত্র ছিল না। রাস্তায় গণপরিবহনের সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কম দেখা গেছে। ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট, শাহবাগেও তেমন একটা ভিড় নেই। সদরঘাট ঘুরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সবাই ছুটে চলছে গ্রামের পানে। সব লঞ্চে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে ঈদের মতোই।
যৌন নিগ্রহ, বাড়ছে আতঙ্ক গণপরিবহনে
শনিবারের ঘটনা। বাড্ডা লিংক রোড থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে উঠছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী। গন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্তরা ৬নং সেক্টরের ক্যাম্পাস। বেলা ১টার দিকে বাসটি যখন নতুন বাজারে পৌঁছায় তখন যাত্রীদের বড় অংশ নেমে যায়। বাইরে অনেক যাত্রী থাকলেও বাসটিতে কোনো যাত্রী উঠাচ্ছিল না। এতে ওই ছাত্রীর মনে সন্দেহ হয়। তিনি বাস থেকে নামতে চাইলে বাস চালকের সহকারীরা তার পথ আগলে দাঁড়ায়। বাসের কন্ডাক্টর তার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেয়েটি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। পরে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে ঘটনাটি জানালে ছাত্ররা তুরাগ পরিবহনের বেশ কিছু বাস আটক করে। ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে ওই বাসের চালকসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজধানীতে তুরাগ বাসে তরুণীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে যখন উত্তরা ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা প্রতিবাদে মুখর ঠিক ওই সময়ই আরেকটি বাসে এক তরুণী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালকের সহকারী ও চালককে পুলিশ আটক করলেও অভিযোগকারী ছাত্রী মামলা না করায় পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তারা অবশ্য ওই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চায়। তবে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই শ্রমিক দেশের আর কোনো বাসে কাজ করতে পারবে না। হয়রানির শিকার ওই তরুণী ফেসবুকে পুরো ঘটনা প্রকাশ করেছে। গত সোমবার ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জ থেকে জেলা সদরে ময়মনসিংহ কলেজে যাওয়ার পথে পিএইচ পরিবহনের একটি বাসে এই ঘটনা ঘটে। শুধু এ দুটিই নয়, গণপরিবহনে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনায় বাড়ছে আতঙ্ক। মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, রূপা হত্যা এবং ধর্ষণের বিচার হয়েছে। এটা হয়তো আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। কিন্তু তাতে গণপরিবহনে যৌন হয়রানি কমবে বলে মনে হয় না। আমরা এই ধরনের যৌন হয়রানির প্রচুর অভিযোগ পাই। আসলে অভিযোগ জানানোর বিষয়টি সহজ করতে হবে। কারণ, চলন্ত বাসের ঘটনা কোন থানা এলাকায় তা নিয়ে পুলিশের আইনি দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত অনেক ঘটনারই আর অভিযোগ হয় না। তাই এইসব ব্যাপারে তাৎক্ষণিক অভিযোগ নেয়ার কোনো একক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ১৩ মাসে গণপরিবহনে ২১ ধর্ষণ: বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ১৩ মাসে গণপরিবহনে ২১ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপরিবহনের চালক-হেলপারসহ সহযোগীরা মিলে ৯টি গণধর্ষণ, ৮টি ধর্ষণ ও ৪টি শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৫৫ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হলেও গত ৯ই এপ্রিল মানিকগঞ্জে সংগঠিত গণধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ২০১৭ সালের ২১শে জানুয়ারি রাজধানীর দারুসসালামে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগে গাবতলী-নবীনগর রুটের বাস চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় পুলিশ গাড়ির চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করে। ওই বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসে আটকে রেখে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে চালকের সহকারীর বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৩ই মার্চ ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে আলমডাঙ্গায় ফিরছিল এক স্কুলছাত্রী। ভাড়া মেটাতে না পারার কারণে চালক তাকে ফাঁদে ফেলে আরো তিনজনসহ ধর্ষণ করে। ২০১৭ সালের ২৫শে এপ্রিল খিলগাঁওয়ে এক গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে যৌন নির্যাতনের পর ওই মাইক্রোবাসে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯শে এপ্রিল ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ট্রেনে বখাটেদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন এক নারী। ওই বছরের ২৭শে অক্টোবর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে নগরীর বহদ্ধারহাটে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে চালক ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে। পরে তরুণী থানায় মামলা করলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গত ২২শে জানুয়ারি কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে নদীয়ার রেল স্টেশনে বাংলাদেশি এক নারীযাত্রী শ্লীলতাহানির শিকার হন। এই বিষয়ে ওই নারীর স্বামী জিআরপির সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগ করেন। ওই বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসে আটকে রেখে ১৩ বছরের এক কিশোরী পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে বাসের হেলপার হাফিজুল ইসলাম। পরে পুলিশ অভিযুক্ত হেলপারকে আটক করে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছি। আর এইসব ঘটনায় পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। অভিযোগ বা মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এটা প্রকৃত ঘটনা যা ঘটে তার চেয়ে অনেক কম। কারণ, সব ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয় না। আবার সবাই নানা কারণে পুলিশের কাছে অভিযোগও করে না। সমস্যা হচ্ছে, পরিবহনে কোনো নারী যৌন হয়রানির শিকার হলে তিনি কোথায় অভিযোগ করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। এজন্য মোবাইলকোর্টকে আরো সক্রিয় করা উচিত। রূপা ধর্ষণ-হত্যার দ্রুত বিচার: গত বছর ২৫শে আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ১২ই জানুয়ারি টাঙ্গাইলের একটি আদালত চার জনের মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। ময়মনসিংহের একটি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন রূপা, পাশাপাশি পড়তেন একটি ল কলেজে। বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে গত বছরের ২৫শে আগস্ট বাসে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন তিনি। পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায় মধুপুর এলাকার জঙ্গলে। পরিচয় না পেয়ে প্রথমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই দাফন করা হলেও খবরটি ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে। দুদিন পর মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে নিজের বোনকে শনাক্ত করেছিলেন রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক। রূপা ধর্ষণ এবং হত্যা মামলায় মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যেভাবে আসামিদের বিচার শেষ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশে খুব বিরল। যে চলন্ত বাসে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, সেটি নৃশংসতার শিকার তরুণীর পরিবারকে দিতে বলেছেন বিচারক। ঘটনার পরপরই বাসটির চালক হেলপারসহ ৫ জনকে আটক করে মামলা করে পুলিশ। এরপর গত ২৯শে নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আদালতে। ঘটনার ১৭৩ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করেন আদালত। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিপীড়নের বিবরণ: নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্বর ঘটনার বর্ণনা দিতে অনেক নারীই আশ্রয় নিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ময়মনসিংহের ওই মেয়েটি যেমন ফেসবুকে লিখেছেন, আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে একটা মেয়েকে সেক্সুয়ালি হ্যারেজ করছে সেটা দেখেও মানুষ চুপ থাকে, জাস্ট চুপ। যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের মা, বোন, মেয়ের সঙ্গে এইসব না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এরা চুপ থাকবে। মানুষ কতটা অমানুষ হলে এমনটা হয় যেখানে চলন্ত বাসে বাসের হেল্পার একটা মেয়েকে মলেস্ট করে, মেয়েটা চিৎকার করে বাস ভর্তি সবাইকে বলছে এই লোকটা আমার গায়ে হাত দিছে, অথচ কেউ কিচ্ছু বললো না। কেউ কোনো প্রতিবাদও করলো না। উল্টো মেয়েটাকেই থেমে থাকতে বলে। হ্যাঁ এই মেয়েটা আমি, আজ সকালে শ্যামগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে বাসে এই ঘটনাকে আমার সঙ্গেই ঘটেছে। এই ঘটনাই আমি হতবম্ব হয়ে গেছিলাম। এতটা অবাক আমি খুব কমই হয়েছি। আমার নিজেকে এত ছোট, এত অসহায় আর কখনো লাগেনি। মনে হচ্ছিল প্রতিবাদ করে আমি অন্যায় করছি, পাপ করছি। গত ১৬ই এপ্রিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য বাসে উঠেছিলাম ৬.৩০ এ। বাসে দুজন কন্ডাক্টরের একজন মনে হয় ড্রিংক করেছিল। অনেক ভিড় ছিল, তবে রামপুরা আসতে আসতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পিছনের দিকে কয়েকজন ছেলে বসেছিল আর সামনের দিকে আমি আর আম্মু। বাসের লাইটগুলো বনশ্রীতে এসে বন্ধ করে দেয় ড্রাইভার। কারণ হিসেবে বলেন, হেডলাইট নষ্ট এজন্য বন্ধ করেছে লাইট। আগামীকাল সকালে পরীক্ষা, হাতে একদম সময় নেই বলে কেউ এটা নিয়ে ঝামেলা করিনি। রামপুরায় পৌঁছে গেলে বাস জ্যামে পড়ে আর আমরা নামার জন্য দরজার দিকে যেতে থাকি। আম্মু প্রথমে নামে। আমি দরজা পর্যন্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন আমার হাত চেপে ধরে, আম্মু ততক্ষণে নেমে গিয়েছে। আমি নামার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস সামনের দিকে যেতে থাকে আর পিছনে কয়েকজন বলছিল,মাইয়াটারে ধর। কী করব বোঝার মতো সময় ছিল না। অন্য হাতে একটা স্টিলের টিফিন বক্স ছিল ঐটা দিয়ে লোকটাকে বারি মারলাম। কতটা লেগেছিল জানি না। কিন্তু আমাকে ধরে রাখা হাতটার শক্তি কমে গেল। ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম। আমার ভাগ্য ভালো ছিল যে, বাস আস্তে যাচ্ছিল আর মধুবনের সামনে জ্যাম ছিল। নেমে পিছনে দৌড় দিলাম। দূর থেকে আম্মুকে দেখতে পেলাম, আমাকেই খুঁজছে। জানতাম যে, রাস্তায় একা বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তবে আজকে জানলাম মায়ের সঙ্গে বের হয়েও আমি নিরাপদ না। কালকের খবরের কাগজে আমিও হয়তো একটা কলাম হয়ে যেতাম। আমার রক্ত মাংসের শরীরটার জন্য। কিছু জানোয়ারের জন্য। যে দেশে একটা মেয়ে তার মায়ের সঙ্গেও সুরক্ষিত নয়, সেই দেশ আর যাই হোক স্বাধীন নয়।
আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্টে বিদেশে
বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর এনআরবি-নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছে। সেসব দেশে তারা অর্থ উপার্জন করে মিয়ানমারে পাঠাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে আমরা যখন যাই তখন অনেকে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেখা করতে আসে। তাদের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে জানা গেছে, তারা রোহিঙ্গা। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট হয়েছে স্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, তবে এটা আমাদের দেশে না। মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট।মন্ত্রী বলেন, দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রণোদনার একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী রাজি থাকলে এ প্রণোদনা চালু হবে। ফলে বৈধপথে প্রবাসী আয় বাড়বে। সেন্টার ফর এনআরবি চেয়ারম্যান এমএস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজি হাসান প্রমুখ।
ফের আন্দোলন চলতি মাসের মধ্যে গেজেট না হলে
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে চলতি মাসের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ হুশিয়ারি দেয়া হয়। এতে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের দাবি, এ মাসের মধ্যে কোটা বাতিলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে দাবি আদায়ে আমরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব বলে জানান তিনি। রাশেদ খান আরও বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না। তিনি বলেন, কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ভিসির বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সংগঠনের আরেক আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের পর গত ২১ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠ কোটা আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছাপিয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠ তার প্রকাশিত সংবাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ না করলে সারা দেশের সব ছাত্রসমাজ দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে বর্জন করবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে নুরুল হক বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সাধারণ ছাত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ৩০ এপ্রিল ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে মতবিনিময়সভা করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
তারেক রহমান পাসপোর্ট ছাড়া লন্ডনে অবস্থান করছেন,দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেন না: ডিজি
দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেননা। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া পাসপোর্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিজি মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজি বলেন, দেশের নাগরিকদের সঙ্গে পাসপোর্টের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের অনেক নাগরিক রয়েছেন যাদের কোন পাসপোর্ট নেই। তিনি বলেন, তারেক রহমান ২০১৪ সালে পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। তবে এর কারণ আমার জানা নেই। তবে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমার কাছে কোন আবেদনও আসেনি। ডিজি বলেন, ২০০৮ সালে তারেক রহমান দেশ ত্যাগ করেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। ২০১৪ সালে তারেক রহমান তার পাসপোর্ট সারেন্ডার করেন। তিনি এখন লন্ডনে পাসপোর্ট ছাড়া অবস্থান করছেন। পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত কেউ পাসপোর্ট পাবেন না। অ্যাম্বেসিতে আবেদন করলেও পাসপোর্ট পাবেন না। আগে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য তাকে দেশে আসতে হবে। ডিজি বলেন, তারেক রহমান ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে আসতে পারবেন।
তারেক রহমানের নাম ভোটার তালিকাতে নেই
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ ভোটার তালিকায় নাম নেই। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ডও নেই তার। এসম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। সেসময় তারেক রহমান জেলে ছিলেন। তবে তার নাম ভোটার তালিকায় আন্তর্ভূক্ত হয়েছিল কিনা জানা নেই। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর সময় ইসি’র জনসংযোগ পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এস এম আসাদুজ্জামান বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ওই সময়ে তারেক রহমান ভোটার হননি। আর যেহেতু ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি তাই, জাতীয় পরিচয়পত্রও পাননি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি লন্ডন চলে যান। সেসময় তিনি চাননি বলেই ভোটার তালিকায় নাম উঠেনি। তবে যোগ্য বাংলাদেশি যে কারও যে কোনো সময় ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে তারেক রহমান ভোটার না হলেও তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন। এদিকে যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের জমা দেয়ার পাসপোর্টের একটি কটি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তার হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। তবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারেক রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য তার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারকে জমা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। তবে ভোটার হয়েছিলেন কি না এমন বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
কোটা আন্দোলনের নেপথ্য কথা-চার নেতার মুখে
বেনজির এক ছাত্র বিক্ষোভ। স্বতঃস্ফূর্ত। লাখ লাখ ছাত্রের জমায়েত। ছিল না সুনির্দিষ্ট কোনো নেতৃত্ব। আন্দোলনের ফল অবশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। শুরুতে ছাত্রলীগ এ আন্দোলনে তেমন কোনো বাধা না দিলেও এখন এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে নানামুখী নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন কোটা আন্দোলনে যুক্তরা। হুমকি আর ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটছে আন্দোলনের নেতাদের। তিন নেতাকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে ছেড়েও দিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন তারা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কীভাবে গড়ে উঠলো এই আন্দোলন। আন্দোলনের মঞ্চ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার নেতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে মানবজমিন। পেছনের দিনের ঘটনার বয়ানের পাশাপাশি তারা কথা বলেছেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আলোচনা শুরু করলেও প্রথম জমায়েত হই ১৭ই ফেব্রুয়ারি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খানের কোটা নিয়ে বক্তব্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পেজে শেয়ার হয়। এরপর থেকেই মূলত আলোচনা করতে থাকে শিক্ষার্থীরা। ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও পাবলিক লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে শাহবাগে যায়। মানববন্ধন করবে। কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়। পরে রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করি। তিনি বলেন, আন্দোলনে অর্থ সহায়তা আসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। যারা লাইব্রেরিতে পড়ে এবং গ্রুপে যারা আছে তারা ৫ টাকা, ১০ টাকা দিয়ে সহায়তা করে। ওই টাকা দিয়ে ব্যানার করি। পুরো আন্দোলনটা এভাবেই পরিচালনা করি। মামুন বলেন, মানববন্ধনের পর আমরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সভা করি। ৪/৫ জন ছিল। পরে কমিটি হয়। কমিটি করার সময় আমরা সতর্ক থেকেছি যেন জামায়াত-শিবিরের কেউ না ঢুকে পড়ে। কারণ আমরা জানতাম এক সময় আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এভাবে ব্লেইম দেবে। প্রথমদিকে ছাত্রলীগ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির দিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা হঠাৎ করে লাইব্রেরির সামনে বাধা দেয়। আমাকে মধুর ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। বলা হয়, নেত্রী তো দাবি মেনেই নিছে। আবার আন্দোলন কেন? শূন্য পদ থেকে তো মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া হবে। নেত্রীর আশ্বাসে আমরা শান্ত হই। হঠাৎ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো, শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাধারীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। কোটাধারীদের মধ্য থেকে পাওয়া না গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হবে। পরে আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করি। প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করি। কিন্তু পারিনি। আমরা সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করি এটা সময়ের দাবি। এটা প্রয়োজন। মামুন আরো বলেন, এরপর হাইকোর্টের মোড়ে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল মারে। আমরা একটা ইটও ছুড়িনি। একটা গাছের পাতাও ছিঁড়িনি। ৮ই এপ্রিল শাহবাগ মোড়ে বসার পেছনে একটা কারণ ছিল। সেদিন জাতীয় সংসদের অধিবেশন ছিল। আমরা চেয়েছি সেখানে এ বিষয়টি উঠুক। সবাই আলোচনা করুক। আমাদের একটা আশ্বাস দিক। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা করি। সংসদে উপস্থাপনের জন্য বলি। কিন্তু তারা করেননি। পুলিশকে বলেছি, আমাদের আশ্বাস দেয়া হোক। কোটা সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে আমরা অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগীদের গাড়ি পারাপারের সুযোগ দেই। পরে সাড়ে ৭টার পর পুলিশ অ্যাটাক করলো। এমন ভাবে করলো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ১০০টি রাবার বুলেট সংগ্রহ করি যেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা এখন নিরাপদ নই। আমাদের নামে নানারকমের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই। বাংলাদেশে সবচেয়ে স্বচ্ছ একটা আন্দোলন করেছি। ভিসির বাসায় হামলার বিষয়েও আমরা জড়িত ছিলাম না। ভালো করে তদন্ত করলে সত্যটা বের হয়ে আসবে। যুগ্ম সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারির পর বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছি। ৮ই এপ্রিল কর্মসূচি দেয়ার আগে ১৪/১৫ দিনের একটা বিরতি দিই। বিরতি দেয়ার কারণ এই সময়টাতে দেশের মানুষকে আমরা আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন করি। লিফলেট বিতরণ করি। পরে ৮ই এপ্রিল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশ হামলা করে। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা অন্যরকম ইতিহাস তৈরি করেছে। এক ছাত্রের বিপদে আরেক ছাত্র এগিয়ে এসেছে। ছাত্রীরা এগিয়ে এসেছে। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ টিয়ারশেল, গুলি ছুড়েছে এ খবর জানার পর হলে কেউ বসে থাকেনি। সবাই দলে বেঁধে শাহবাগে চলে এসেছে। যে তিন নেতাকে পুলিশ তুলে নিয়েছিল তাদের মধ্যে রাশেদ একজন। তিনি বলেন, গুম করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। হাতকড়া পরানো হয়েছিল। কিন্তু মিড়িয়ায় প্রচার হওয়ার কারণে ছাড়া পেয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের রাতের আঁধারে বের করে দিয়েছে হল প্রশাসন। এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন। যেটা বাংলাদেশে আগে হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে লাইব্রেরির সামনে প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলাম। সেখানে একটি মহল আগে থেকে অবস্থান নেয়। আমরা পরে বাধ্য হয়ে প্রোগ্রাম রাজু ভাস্কর্যে স্থানান্তর করি। সেখানেও বাধা দেয়। আন্দোলন করার অধিকার তো সংবিধানে স্বীকৃত। তারপরও কেন বাধা? একটি মহল আমাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে। যাতে প্রোগ্রামে তারা না আসতে পারে। বিভিন্ন হল থেকে বের করে দিয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করছে। ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেছে। সেখানে আমাদের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হামলা করা হবে। বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করছে। রাশেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা চেয়েছি। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করেনি। বাইরে বের হলে কিছু লোক ফলো করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অনিরাপদ রয়েছি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না তাই সরকারের কাছ থেকে আমরা নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলন কোনো সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। সরকার বিরোধী কোনো স্লোগান দিইনি। রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়েছে। প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ফেসবুক আইডি খুলতে পারছি না। যে আইডি ছিল সেটি তারা রিপোর্ট করে, হ্যাকড করে নষ্ট করে দিয়েছে। পরে আইডি খোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছি না। গেজেটের বিষয়ে রাশেদ বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দেশে এসেছেন। গেজেট প্রকাশের জন্য আমরা যথেষ্ট অপেক্ষা করেছি। দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে। মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়া আছে। কারণ অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে রাঘব বোয়ালদের বাঁচিয়ে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করবে। আলটিমেটাম শেষ হলে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য ভিসির বাসায় হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত না। আরেক যুগ্ম সমন্বয়ক নূরুল হক নূর গেজেট প্রকাশের বিষয়ে বলেন, আমরা চেয়েছি কোটা সংস্কার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের আস্থা আছে। তিনি এতদিন বাইরে ছিলেন। আশা করি দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এইচ টি ইমামসহ আরো কয়েকজন বলেছেন, কোটা বাতিল হবে না। এটা সংস্কার করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাতিল করা হয়েছে সেখানে ওনারা এটা কিভাবে বলেন। এ নিয়ে সবার মধ্যে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা শঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা বরাবরই বলে এসেছি মন্ত্রী বা সচিব কে কি বললো সেটা বিবেচনার বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন তাই আমরা ধরে নিচ্ছি কোট পদ্ধতি বাতিল হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। ভিসির বাসায় হামলার ঘটনায় মিড়িয়াতে অসংখ্য নিউজ হয়েছে। প্রমাণ এসেছে। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সেখানে অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা দেয়া হোক। অজ্ঞাতনামা দিয়ে কোনো মামলা রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ৮ই এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসকে রণক্ষেত্র করা হয়েছে। বহিরাগত এনে রড, রামদা নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। গুলি করা হয়েছে। যারা বহিরাগত নিয়ে এসেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। বহিরাগত কারা নিয়ে এসেছে সেটা মিড়িয়ায় এসেছে। এই বহিরাগতরাই ভিসির বাসায় হামলা চালিয়েছে। পুলিশের হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে জানান নূর। তিনি বলেন, রাত ৯টার দিকে ভিসির বাসার সামনে যাই। হ্যান্ডমাইক দিয়ে ভিসি স্যারকে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান করি। আমরা বলেছি, স্যার আপনার সন্তানদের ওপর পুলিশ গুলি করছে, টিয়ারশেল মারছে। প্লিজ স্যার একটু আসেন। কিন্তু তিনি আসেননি। আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। ১৫ মিনিট বাসার সামনে অবস্থান করে পরে আমরা চলে আসি। অপর যুগ্ম সমন্বয়ক ফারুক হাসান বলেন, লাইব্রেরিতে যারা পড়তো তারাই এই আন্দোলন শুরু করে। পরে সবার মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আন্দোলনের এ পর্যায়ে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। অনেকে বলেছেন তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে সবার মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ আগের মতো পড়াশোনা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। আমাদের তিনজনকে তুলে নেয়ার পর এই আতঙ্ক আরো বেড়েছে। যে কাউকেই তুলে নিয়ে যেতে পারে- এমন আতঙ্ক সবার মধ্যে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, মামলা প্রত্যাহারের আলটিমেটাম শেষ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবো।

জাতীয় পাতার আরো খবর