মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০
সব জেলার ত্রাণ কাজের সমন্বয়ে ৬৪ সচিব
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার ৬৪ জন কর্মকর্তাকে একটি করে জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সচিবদের এই দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশটি প্রকাশ করেছে। আদেশ বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার কাজ (সচিবরা) তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ করবেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতেও সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যার/চ্যালেঞ্জ অথবা অন্যবিধ বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থকে লিখিত আকারে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবরা সমন্বয় কাজে তার মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার উপযুক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। এই সঙ্কটের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের জন্য রোববার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের আটজন চেয়ারম্যান এবং ১৬ জন সদস্যসহ মোট ২৪ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন। অল্প আগে সরকারী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন তথা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় আকাশপথে চেন্নাই থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন তারা। এদিকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জিএম মার্কেটিং অ্যান্ড পিআর কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন ৩ টা ৪৮ মিনিটে চেন্নাই ফেরত স্পেশাল ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। নয়া দিল্লির বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকদিনে আরো কয়েকটি ফ্লাইটে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া অনেকেই চেন্নাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মিশনের বিজ্ঞপ্তি মতে, বর্তমানে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে আটকে থাকা অসুস্থ ও প্রবীণদের আকাশপথে দেশে ফেরার জন্য অনুমোদন পাওয়া গেছে ও তাঁদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । পর্যায়ক্রমে বাকি সকল রাজ্য থেকে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাস সার্বক্ষনিকভাবে কাজ করছে । প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে । দিল্লীর পাহাড়গঞ্জ এলাকায় কিছু বাংলাদেশী তাঁদের অসুবিধার কথা জানালে দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তাঁদের সাথে সাক্ষাত করে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন । দিল্লীসহ অন্যান্য বড় শহরে যেখানে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশী আটকে রয়েছেন তাঁদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা চলছে । দেশে ফেরার আগে পর্যন্ত আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধাসমূহ কিভাবে আরও সহনীয় করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি যে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করছেন দূতাবাস সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে । বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসে পূর্ববর্তী প্রজন্মের বীরত্ব ও ত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে নয়া দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রচারিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- আজকের এ সংকটময় ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে তরুণ শিক্ষার্থীরা যে সাহস ও ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছেন অনাগত কাল তার মূল্যায়ন নিশ্চয়ই করবে। বাংলাদেশ হাই কমিশন সকলের সুস্থতা কামনা করছে।
বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনী মোসলেহ উদ্দিনও কি গ্রেপ্তার হয়েছে ?
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর খুনী আব্দুল মাজেদের ধরা পড়া এবং ফাঁসির এক সপ্তাহের মধ্যে আরেক খুনী রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহ উদ্দিনকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে গোয়েন্দা মহলে জোর গুঞ্জন চলছে। একটি সুত্রের দাবি, মাজেদের মত রিসালদারও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে লুকিয়ে রয়েছেন। মাজেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির হাতে আসার পরই গোয়েন্দারা নড়েচড়ে বসে। আর এরপরই উত্তর ২৪ পরগণার একটি আধা শহর এলাকা থেকে মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। সে সেখানে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া বাড়িতে থাকছিল । গোয়েন্দারা মোসলেহ উদ্দিনকে হেফাজতে নেবার পরই তাকে সীমান্তের কোনও এক অরক্ষিত অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে গোপনে তুলে দেয়া হয়েছে বলে কোনও কোনও গোয়েন্দা সুত্রে দাবি করা হয়েছে।মানবজমিন। গোয়েন্দাদের একংশের মতে, লকডাউনের সময়ে মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোরগোল ফেলে দিতে চায়নি ভারত। বরং অত্যান্ত গোপনে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব সংবাদেও কোনও সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি। তবে সরকারিভাবে পুলিশ বা কোনও গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে কোন কথা বলে নি। আবার অন্য একটি সুত্রের মতে, মাজেদ গ্রেপ্তার হবার খবর জানার পরই মোসলেহ উদ্দিন পালিয়ে গিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ফেরারী হওয়া ফাঁসির আসামি এই মোসলেহ উদ্দিন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বর ধানমন্ডীতে মুজিবের বাড়িতে অভিযান চালানো দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেহ উদ্দিন। অনেকের দাবি, মোসলেহ উদ্দিনই গুলি করে হত্যা করেছিল মুজিবকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অভিযোগে এখন পর্যন্ত সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আরেক আসামি আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গিয়েছে। আর ফেলার আসামীদের মধ্যে এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় ও এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। খন্দকার আবদুর রশিদ ও শরিফুল হক ডালিম কোথায় রয়েছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তবে মোসলেহ উদ্দিন দীর্ঘদিন ভারতেই লুকিয়ে ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে।
শতক ছাড়ালো মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৪৯২
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০১ জনে। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে দুই হাজার ৯৪৮ জন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ। বুলেটিনে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০৪টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে নতুন করে ৪৯২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৪৮-এ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন। বুলেটিনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ এবং তা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সাড়ে ২৪ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার। তবে সোয়া ছয় লক্ষাধিক রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম অন্যরা ব্যবহার করবেন না : প্রধানমন্ত্রী
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসক এবং নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জাম অন্যদের ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে থেকে এক ভিডিও কনফারেন্স তিনি এ পরামর্শ দেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই ভিডিও কনফারেন্সে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আট জেলার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা এবং ময়মনসিংহ সদর। শেখ হাসিনা বলেন,আমরা মানুষকে সুরক্ষিত করার জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছি। ডাক্তার, নার্সদের শুরুর দিকেই ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। ডাক্তারদেরকেও এ ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে। তাদের জীবন সুরক্ষিত রাখার জন্য পিপিইসহ অন্যান্য মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে গ্লাভস, ক্যাপ, জুতা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটা জিনিস লক্ষ্য রাখবেন, যারা ডাক্তার-নার্স রোগী দেখেন, যারা করোনাভাইরাসে অসুস্থ রোগী দেখেন, সেই রোগীদের দেখার জন্য যে জিনিসগুলো ব্যবহার করা দরকার সেগুলো যদি সবাই মিলে যত্রতত্র ব্যবহার করতে শুরু করে তাহলে আমরা ডাক্তার-নার্সদের দেব কীভাবে। সেটাও একটা প্রশ্ন দেখা যায়। এ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪০ টিস পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯টি বিতরণ করা হয়েছে। যেগুলো সম্পূর্ণভাবে রোগী দেখার জন্য, সেগুলো রোগী দেখার জন্যই থাকবে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট যারা তাদেরকেই ব্যবহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাকি সবাই সুরক্ষিত থাকার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস বা স্যানিটাইজার বা বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোঁবেন- সেগুলো সকলে মিলে ব্যবহার করবেন। এর আগে শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে তিন দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট এবং বরিশাল বিভাগের ৪০টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বাস্থ্যবিধিসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংকট উত্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন। দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনারোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯১ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী আইজিপির সাক্ষাৎ
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলাদেশ পুলিশের বিদায়ী মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী আজ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে আইজিপি তার সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে জানান। পুলিশের বিদায়ী মহাপরিদর্শক এসময় সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বাসস। রাষ্ট্রপতি পুলিশের বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচির প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা,ভাষণের পূর্ণ বিবরণ
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নীচে দেয়া হলো- প্রিয় দেশবাসী, আসলামু আলাইকুম। ১৪২৭ বঙ্গাব্দের নববর্ষের শুভেচ্ছা। দেশে-বিদেশে যে যেখানেই আছেন সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ। বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতীয় চার নেতার প্রতি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কাল্রাতে ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের ছোট্ট শেখ রাসেলকে- কামাল ও জামালের নবপরিণীতা বঁধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ সকল শহিদকে। বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। ইতঃপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করবো। প্রিয় দেশবাসী, আমরা ঘরে বসেই এবারের নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করবো। কবিগুরুর কালজয়ী গান এসো হে বৈশাখ, এসো এসো/মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিনে শুচি হোক ধরা গেয়ে আহ্বান করবো নতুন বছরকে। অতীতের সকল জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আমরা সামনে দৃপ্ত-পায়ে এগিয়ে যাবো; গড়বো আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যত। করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই: মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে। সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রবাসে বাঙালিরা বাংলা নববর্ষ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করে থাকেন। রাজধানীতে রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে এদিনটি। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে উঠে। এবার সবাইকে অনুরোধ করবো কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজ-সহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন। প্রিয় দেশবাসী, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে। আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। যে সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন ইতোমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা। সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য আমি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়োজিত পুলিশ-সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, মিডিয়া কর্মী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী আনা-নেওয়ার কাজে এবং মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীগণসহ জরুরি সেবা কাজে যাঁরা নিয়োজিত রয়েছেন, তাঁদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী, করোনাভাইসের কারণে গোটা বিশ্ব আজ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আভাস দিচ্ছে। আপনারা জানেন, এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কোয়ারেন্টিন বা সঙ্গনিরোধ। অর্থাৎ নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা। বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দি। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কার্ফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশেও গত ২৫-এ মার্চ থেকে ২৫-এ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-খাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমাদের আমদানি-রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বেশিরভাগ দেশে প্রবাসী ভাইবোনেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। আমরা বিশ্ব ব্যবস্থার বাইরে নই। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুঃচিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানিনে, এই সঙ্কট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে আমরা চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছি। যা অবিলম্বে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে, স্বল্প-মেয়াদে -আগামী অর্থবছরে এবং মধ্য-মেয়াদে পরবর্তী তিন অর্থবছরে এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। চারটি কার্যক্রম হচ্ছে: (১) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা: সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। (২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন: অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। (৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি: দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। (৪) মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা: অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে। বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসমূহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি করোনাভাইরাসজনিত কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সুরক্ষায় যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে: (১) স্বল্প-আয়ের মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। (২) শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাউল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। (৩) দিনমজুর, রিক্সা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্র্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্র্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যাঁরা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লক-ডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এখাতে ৭৬০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। (৪) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা হবে। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা। (৫) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এ বাবদ সর্বমোট ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। কেউ গৃহহীন থাকবেন না। শিল্পখাতে যে সব আর্থিক প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, -এর সুবিধা বাড়ানোর জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, এর আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা। প্রিয় দেশবাসী, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলিতে যাতে কোনপ্রকার খাদ্য সঙ্কট না হয়, সেজন্য আমাদের একখ- জমিও ফেলে রাখা চলবে না। এজন্য কৃষি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণের ঘাটতি যাতে না হয় এবং সময়মত কৃষকের হাতে পৌঁছে সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য চলতি মওসুমে গত বছরের চেয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান ক্রয় করা হবে। এজন্য অতিরিক্ত ৮৬০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল হতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের কৃষি, মৎস্য, ডেইরি এবং পোল্ট্রি খাতে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ প্রদান করা হবে। কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোন খাদ্য সঙ্কট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে। আল্লাহর রহমতে গত মওসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মওসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক সদাশয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দরিদ্র জনগণের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন। তবে, এসব ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা বিচ্ছিন্নভাবে না বিলিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে শৃঙ্খলার সঙ্গে বিতরণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যাবে। আমি বিত্তবানদের এই সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী, আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সঙ্কটকালে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই মহামারী মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করুন। যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়। বিদ্রোহী কবির ভাষায় তাই বলতে চাই: ঐ নূতনের কেতন ওরে কাল-বোশেখীর ঝড়। তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর! ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন! আসছে নবীন-জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন! প্রিয় দেশবাসী, বাঙালি বীরের জাতি। অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মোকাবিলা করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সস্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা, মহামারীর এই প্রলয় দ্রুত থেমে যাক। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সবাইকে আবারও নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।বাসস
সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইসের প্রাদুর্ভাব থেকে শিগগিরই মুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন। বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষ্যে তিনি এই ভাষণ দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র, বাংলাদেশ বেতারসহ সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশন থেকে এই ভাষণ একযোগে সম্প্রচার করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নজরুলের প্রলয়োল্লাস কবিতার কয়েকটি পংক্তি উচ্চারণ করেন-ঐ নতুনের কেতন ওরে কাল-বোশেখীর ঝড়/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? / প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন/ আসছে নবীন- জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় তাই বলতে চাই-মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়/আড়ালে তার সূর্য হাসে,/হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে বলেন, স্বল্প-আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে বসবাসরত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ওএমএস-এর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ৭৪ হাজার মেট্রিক টন চাল এই কার্যক্রমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এ জন্য ২৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য ৭৫০ কোটি টাকার বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনা ভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন ইতোমধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, সুরক্ষা সরঞ্জামের কোন ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য তিনি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যু ঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক এবং নার্সদের পেশাটাই এরকম চ্যালেঞ্জের আখ্যায়িত করে সকলকে মনোবল ধরে রাখার পাশাপাশি সরকার সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী সকলকে আশ্বস্থ করেন। শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে। তিনি বলেন, কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। বাঙালি বীরের জাতি এবং অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাক বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে,উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সস্মিলিতভাবে করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, নতুন বছরে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা, মহামারীর এই প্রলয় দ্রুত থেমে যাক। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সঙ্কটকালে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। তিনি বলেন, মিডিয়া কর্মীদের প্রতি অনুরোধ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এই মহামারী মোকাবিলা করতে আমাদের সহায়তা করুন। করোনার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে তাঁর সরকার চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে বলেন (১) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা , সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। (২) আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকা পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। (৩) সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। (৪) মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা, অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে। নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কে এদিন পুণরায় বাইরের সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঙালির সর্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ। প্রতিটি বাঙালি আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকেন এই উৎসব। এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে পয়লা বৈশাখের বহিরাঙ্গণের সকল অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে। ইতোপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানও আমরা একইভাবে উদযাপন করবো, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দোষ খোঁজা বাদ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ান,বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিদেশি লবিস্টদের পেছনে অর্থব্যয় আর ঘরে বসে দোষ খোঁজা বাদ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। হাছান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের এক-তৃতীয়াংশের মানুষকে যখন সরকার সহায়তা দিচ্ছে, তখন বিএনপি ঘরে বসে এ সকল কাজের দোষ খোঁজায় ব্যস্ত। চিরাচরিত এই অভ্যাস থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারেনি। এসময় আক্ষেপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সিনিয়র নেতারা কদিন ধরে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু তারা (বিএনপি) জনগণের পাশে কোথায়! শহরে-গ্রামে কোথাও তাদের নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে নেই। তারা শুধু ঢাকা শহরে কয়েকটা লোক দেখানো ফটোসেশনে ব্যস্ত আর সেই ফটোসেশন করতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া আর কিছু নেই। ত্রাণে অনিয়মের বিচার তৎক্ষণাৎ মোবাইল কোর্টে করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাতে গোণা ত্রাণে অনিয়মের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে বিএনপি যে কথা বলছে, তাতে তাদেরকে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখতে বলবো। তিনি বলেন, তারা ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে পরপর পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা ঠেকাতে বিদেশি লবিস্টদের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন-জেলা- উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায় পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭২ হাজারের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি রয়েছে। এরমধ্যে ৪৫টি মামলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ১ জন চেয়ারম্যান ও ২ জন মেম্বারকে বরখাস্ত করেছে, যা আনুপাতিক হারে ২ হাজারের মধ্যে একটি ঘটনা, যদিও একটি ঘটনাও কাম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, এধরণের অনিয়মের সাথে জড়িতদের আগে মোবাইল কোর্টে বিচার হবে, পরে নিয়মিত মামলা। বেগম জিয়ার মুক্তি কভার করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীর করোনায় আক্রান্তের খবরের প্রতিক্রিয়ায় ড. হাছান উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেখানে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জনসমাগম অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, সেখানে বেগম জিয়ার মুক্তিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জমায়েত করে বিএনপি যে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে, তার দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর বাইরেও যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জন্য এ করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২৫ কোটি টাকা নগদ ও শিশুখাদ্যের জন্য পৃথক ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, জানান তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান বলেন, এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৫০ লাখ পরিবার অর্থাৎ আড়াই কোটি মানুষ বছরে ৭ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকে, যা বৃদ্ধির কথা ভাবছে সরকার। একইসঙ্গে ওএমএসের চালের দাম ৩০ টাকা থেকে ১০ টাকায় নামিয়ে এনে সারাদেশে ৬৮৯টি কেন্দ্রে মার্চ ও এপ্রিলে ৩৫ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করছে সরকার। হাওরের কৃষকদের জন্য আলাদাভাবে ১০ টাকা কেজির ওএমএস চালু করেছে সরকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেসকল পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে চলতি অর্থ বছরে ১৭ লাখ বিধবার জন্য বছরব্যাপী ১ হাজার ২০ কোটি টাকা, ৪৪ লাখ বয়স্ক মানুষের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বয়স্কভাতা, দুঃস্থ ১৬ লাখ মানুষের জন্য ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, ভিজিডি-তে ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা, ভিজিএফ হিসেবে ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল দেয়া হচ্ছে, তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এভাবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪৪ উদ্যোগে ও করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, ব্যক্তি উদ্যোগ, জেলা প্রশাসনসহ সরকারি দল, পুলিশের দেশব্যাপী নানান উদ্যোগে দেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ সরকারের সহায়তার আওতায় রয়েছে।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর