অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে
চলতি বছরের অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সকালে সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। নির্বাচনে অনেক দলই অংশ নেবে। বিএনপি না এলেও দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তারাই তো বলছে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো আন্দোলন হবে না, এটা স্পষ্ট। বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেবে এমন কোনো বস্তুগত পরিস্থিতি নেই। বিএনপিরও আন্দোলনের কোনো প্রস্তুতি নেই। তারা সুসংহত নয়। ফলে আন্দোলনের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে সময়ে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে। গেলবারের অভিজ্ঞতা থেকেই এটা হবে হবে। তবে এ বিষয়ে সবকিছুর সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভা নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এজন্য এর আকার বড় হওয়ার দরকার নেই। যেমন: আমাদের মন্ত্রণালয়ও নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। বড় কোনো প্রকল্পও হাতে নিতে পারবে না। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে মন্ত্রিরা কোনো প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করতে পারবে না। তবে উন্নয়নমূলক কাজগুলো চলমান থাকবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবেন, তদারক করবেন।’ তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচন কমিশনের অধীনে কার্যক্রম চলবে। তারা নির্বাচন পরিচালনার সব কাজ করবে। সংবিধান অনুযায়ী তাদের যে ক্ষমতা দেয়া আছে, তা তারা বাস্তবায়ন করবে।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি শব্দও বলব না, এটা সাফ কথা। এটা নিয়ে আমি অনেক কথা বলেছি। আর নয়।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে নোয়াখালীর নিজবাড়িতে ‘অবরুদ্ধ’ করে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উনি (ওবায়দুল কাদের) ২২ বছরে এলাকায় একটি কাজও করেননি। ওনার বাড়ির পাশের রাস্তাটিও পাকা করেননি। ওনার বাড়ির পাশের স্কুলটাও শেখ হাসিনার সরকার উন্নত করেছে। ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। আর যে ১০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল, সেখানেও ২০ ঘণ্টা লোডশেডিং। ওনার গণতন্ত্র হচ্ছে, ঠিক সকাল ১০টার মধ্যে ভোট শেষ হতে হবে। তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া না হলে আমার কোম্পনীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারির সঙ্গে মোলাকাত করলেন কিভাবে?’ কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমদ জনসংযোগ করেছেন, সব কিছুই করেছেন। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে গেছেন, এটাই দোষ। তার দলের মধ্যে তিনটা দল, বাড়ির সামনেও মারামারি হয়। পুলিশ কি করবে? তিনি একজন বড় নেতা, তার নিরাপত্তাও তো দরকার আছে নাকি? সেজন্য পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি তো বলতে পারেন নাই আওয়ামী লীগের লোকেরা তাকে বাধা দিয়েছে?’ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। আমরা এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কমিটি দিচ্ছি, যাতে পুরনো অভিযোগগুলো না আসে। কমিটি হতে বেশি সময় লাগবে না। শিগগিরই আসবে।’ এবার মানুষের ঈদযাত্র ভাল হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল আযহায় কোনো জেলা প্রশাসক যেন রাস্তার ওপর গরুর হাটের ইজারা না দেন, সেজন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করি, এই ঈদের মতোই সবাই সহযোগিতা করবেন।
আমরা আইনের মাধ্যমে এগোচ্ছি
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করার ক্ষমতা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে জেল কোডে যা আছে খালেদা জিয়া তার থেকে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিতে কোনো আইনি বাধা আছে কিনা এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনের মাধ্যমে এগোচ্ছি। তার কারণ হচ্ছে যে, যখন আদালত কাউকে শাস্তি দেন এবং সে কারাগারে যান। কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেল কোড অনুযায়ী আইনটা প্রযোজ্য হয়ে যায়। আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগের বিচারক সংকট আছে এ কথার সঙ্গে আমি একমত নই। এর আগে সাতজন বিচারক ছিল। বহুবছর পাচঁজন বিচারক দিয়ে আপিল বিভাগ চলেছে। তার থেকে এখন মামলা বেড়েছে কথাটা ঠিক। বর্তমান বিচারক যারা আছেন তারা কিন্তু বহু দিন যাবত চালিয়ে যাচ্ছেন মামলার সংখ্যা কিন্তু কমে আসছে। একেবারেই সংকট আছে সেই ক্ষেত্রে আমি দ্বিমত পোষণ করি। তারপরেও আপিল বিভাগে শিগগিরই নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে প্রশিক্ষণার্থী সহকারী জজদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কোয়ালিটি জুডিশিয়ারির ওপর শুধু আইনের শাসনই নয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র দূরীকরণও নির্ভর করে। তিনি বলেন, সরকার দেশে বিদ্যমান মামলা জট কমাতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিজিটাল যুগের বিচারক হিসেবে নবীন বিচারকদের বিজ্ঞান-মনস্ক ও ইনোভেটিভ আইডিয়া সমৃদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আদালত বিচারপ্রার্থী মানুষের শেষ ভরসাস্থল। সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো.জহিরুল হক।
বৃহস্পতিবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ইঙ্গিত শিক্ষকদের
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা লাগাতার কর্মসূচির পাশাপাশি আমরণ অনশনে যাচ্ছেন। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামীকাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবারও তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার উত্তর পাশে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার থেকে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর আগে ১০ জুন থেকে থেমে থেমে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া এস কে বাকার কলেজের প্রভাষক সুজন কুমার বিশ্বাস। তিনি বললেন, ২০০৪ সাল থেকে এই কলেজে চাকরি করছেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন বলে জানান তিনি। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, স্বীকৃতি পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে। এবার দাবি পূরণ ছাড়া তারা রাস্তা ছাড়বেন না। বর্তমানে সারা দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। ২০১০ সালের পর নতুন করে দেশে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনসহ কিছু ভাতা সরকার থেকে পান। গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে এসব শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনসহ লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার তৎকালীন একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান সেখানে গিয়ে আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের যে বাজেট বক্তৃতা দেন, সেখানে নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আবার আন্দোলনে নেমেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রধান ঢাকায় আসছেন
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম রোহিঙ্গাদের দেখতে আগামী ১ জুলাই তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। তারা একসঙ্গে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে একথা জানা গেছে।অ্যান্তোনিও গুতেরেস শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার রয়েছেন। আর বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের সহায়তায় চারশ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এটাই হবে বাংলাদেশে প্রথম সফর। এর আগে তিনি জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার প্রধান হিসেবে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। আর বিশ্বব্যাংকের প্রধান জিম ইয়ং কিমের এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় সফর। এদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অবশ্য সংস্থাটির প্রধানের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কিমাও ফান এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাংকের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। বিস্তারিত সময়সূচি নির্ধারিত হওয়া মাত্রই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। এরপর থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন বেড়ে যায়। গত বছরের ২৪ আগস্টের পর জীবন বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এছাড়া, আরও চার লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। রাখাইনে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপ অব্যাহত থাকলেও মিয়ানমার কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না।
জাতীয় অধ্যাপক হলেন ৩ জন
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত 'জাতীয় অধ্যাপক' হলেন তিন বিশিষ্ট অধ্যাপক। তারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) বাংলা অধ্যয়ন কেন্দ্রের এমেরিটাস অধ্যাপক ও উপদেষ্টা ড. রফিকুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। নির্বাচিত এ শিক্ষাবিদদের প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি তাদের জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিলেন। আজ(মঙ্গলবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়োগপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপকরা সিদ্ধান্তমালা-১৯৮১ অনুযায়ী নিযুক্ত পদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এর আগে গত ৩ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচনী কমিটির সভায় অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিতে এ তিনজনের নাম সুপারিশ করা হয়। এ পদে থাকাকালীন তাদের যেসব বই-পুস্তক ছাপানো হবে, তা থেকে পাওয়া সব সুযোগ-সুবিধা তারা নিতে পারবেন। তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে বিদেশে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করতে পারবেন। জাতীয় অধ্যাপক পদে থাকাকালীন তারা অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরি করতে পারবেন না। যদি করেনও তবে ওই চাকরি থেকে কোনো বেতন বা আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন না। তারা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। জাতীয় অধ্যাপক (নিয়োগ, শর্তাবলী ও সুবিধা) সিদ্ধান্তমালা ১৯৮১ (সংশোধিত) অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগে বাছাই করে। শিক্ষামন্ত্রী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক মন্ত্রী ও সাবেক জাতীয় অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষাবিদদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দেন। জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচন কমিটির সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। সূত্র: আরটিভি অনলাইন
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে তিনি এই সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও কানাডা সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ সময় ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট) ডিগ্রি অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে পৌঁছলে আবদুল হামিদ তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ লাখ ৬৮ হাজার একর বনভূমি বেদখলে: বনমন্ত্রী
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদকে জানিয়েছেন, দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৬ লাখ হেক্টর। এরমধ্যে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৮ হাজার একর সরকারি বনভূমি বেদখলে রয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বনমন্ত্রী জানান, দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকার কথা। কিন্তু আমাদের ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে বহুদিন আগে থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি বনাঞ্চলের নিকটবর্তী জনসাধারণের চাষাবাদ, বসতি স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কারণে জবরদখল হয়ে আছে। এ ছাড়া কোনো কোনো স্থান পাকা ইমারত, শিল্পায়ন, পাকা সড়ক নির্মাণ, হাট-বাজার স্থাপন ইত্যাদি কারণে বেদখল হয়ে আছে। তবে বর্তমানে ব্যাপক প্রচার এবং সরকারের তৎপরতার ফলে নতুন করে বনভূমি জবরদখলের কোনো সুযোগ নেই। ব্যারিস্টার আনিস জানান, দখল করা জমি মুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। সেই কাজ এখন চলমান।
মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী
পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের পর দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কেউ আটকাতে পারবে না। আগামী ২০২৮-২৯ সালে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবো।’ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের সংস্থাগুলোর মধ্যে এই চুক্তি সই হয়। মুস্তাফা কামাল বলেন, এটা নিছক একটি চুক্তি নয়, এটা কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজের বিবেকের কাছে নিজের পরীক্ষা। তবে এ কথা সত্য যে কাজ করার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হয় না। আকাশে লাখ তারা রয়েছে কিন্তু একটি চাঁদের আলোয় সারা পৃথিবী আলোকিত হয়। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আগামীতে শিক্ষা ও রাজস্ব খাতের ব্যাপক সংস্কার করা হবে। শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বাস্তসম্মত করা হবে। রাজস্ব আদায় এমন হতে হবে যাতে বেশি লোক করের আওতায় আসে এবং করের হার কম হবে। তিনি ব্যাখ্যা দেন, করহার কম হলেএকদিকে যারা কর দেন তাদের উপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। করের হার কমিয়েও রাজস্ব আদায় ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি মত দেন। পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে লাইন মিনিস্ট্রিগুলোকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন। পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড.শামসুল আলম, এ.এন. সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী, শামীমা নার্গিস ও জুয়েনা আজিজ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন। বাসস
আপনারা বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও ব্যার্থ
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এতদিন আপনাদের রাজনীতি ছিলো খালেদা জিয়ার হাঁটু ও কোমর ব্যাথা পর্যন্ত। এখন কি বিএনপিরও হাঁটু ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে? কারণ আপনারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও ব্যার্থ হচ্ছেন! মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, আওয়ামী লীগ মানেই মুক্তি, শেখ হাসিনা মানেই শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীর ওপর অাস্থা না থাকায় বেগম জিয়া সিএইচএমএস হাসপাতালে যেতে চান না মন্তব্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু কারাবন্দী, তাই তার চিকিৎসা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সিএইচএমএস হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলা হলে তিনি রাজি হননি। কারণ তার সেনাবাহিনীর ওপর কোনো আস্থা নেই। আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা বারবার বলছেন আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে রাখতে হবে। সেই কথার সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন বললেন এটা নির্বাচন কমিশন ভেবে দেখবেন। তখনই বিএনপি নেতারা বললেন এর মধ্যেও কোনো কারণ আছে। আসলে বিএনপি কখন কোনটা করবে তার খেই হারিয়ে ফেলেছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ভারতে গিয়েছিল। কিন্তু ভারত বলে দিয়েছে আপনাদের সঙ্গে জঙ্গিরা আছে, তাই আপনাদের সঙ্গে আমরা নেই। অর্থাৎ ভারতের কাছ থেকে তারা খালি হাতে ফিরে এসেছে। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, অরুন সরকার রানাসহ প্রমুখ।

জাতীয় পাতার আরো খবর