মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে,আইন সবার জন্য সমান
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, সবার জন্য সমান সুযোগ আছে। আইন সবার জন্য সমান। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো মনে করি, এটাই লেবেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড। আইন সকলের জন্য এক। কোনো দলের প্রধান হলে তার জন্য আইন তো অন্য রকম হবে না। আর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে যে এ সরকার ও প্রশাসনের অধীনেই নির্বাচন করবে। এখন রদবদলের দাবি অবান্তর। রোববার ইসির সঙ্গে প্রায় দুইঘণ্টা বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনারগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন এইচ টি ইমাম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী, বিপ্লব বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কায়ছার প্রমুখ। প্রশাসনের রদবদল নিয়ে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এইচ টি ইমাম আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি প্রশাসনের রদবদলের নামে যে দাবি করেছে, তাহলে একেবারে পুরো সরকারকেই উলট-পালট করতে হয়। পুরো সরকারই বদল করতে হয়। সেটি হবার নয়। বিএনপি মেনেই নিয়েছে এ সরকারের অধীনেই এবং এই প্রশাসনের অধীনেই তারা নির্বাচন করবে। তারা তো নির্বাচনে এসেছে। এখন বিএনপির এই প্রশ্ন অবান্তর। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে অভিযোগ করে এইচ টি ইমাম বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নির্বাচনী আচরণ বিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন করে সমাবেশ করেছেন। সমাবেশ যেই করুক না কেন, আমাদেরকেও করলেও সেটি যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অন্যদের বেলাও সেটি প্রযোজ্য। আমরা চাই লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কী বলেছেন-এ প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, তারা ব্যবস্থা নেবেন। আমরা সব সময় বলছি- আইন সবার জন্য সমান। সবার জন্য সমান সুযোগ নেই বিএনপির এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা দিনরাত ঝাড়া মিথ্যা কথা বলেন। অনবরতই মিথ্যা কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে চারদিক থেকে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আমরা কখনই কোনো উস্কানীমূলক বক্তব্য আমরা দেইনি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে কতগুলো বিষয় বলেছি। যেমন আজকাল অনেকগুলো অনলাইন আছে, তাদের কোনো রকম নিবন্ধন নেই এবং স্থানীয়ভাবে অনেক লোকাল টেলিভিশনও গজিয়ে ওঠেছে। এগুলো সম্পর্কেও আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। যাতে কেউ কোনো রকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, কেউ যাতে অপপ্রচার না করে। আর সব থেকে বড় জিনিস জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় যাতে না দিতে পারে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, লন্ডনে সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফে এবং ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় এসেছে সেখানে ব্যাংকিং আইনে দণ্ডিত একজন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সেখানে তাকে এক মিলিয়ন পাউন্ড দণ্ডিত করা হয়েছে। তারপরও সেই ব্যক্তি এখানে এসেছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এ বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। এইচ টি ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগ সবার জন্য সমান সুযোগ চায়। তারা বিশ্বাস করে, সবার জন্য স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। তারা নির্বাচন কমিশনকে বলেছে, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক যারা আসবে, তাদের নির্বাচনী আইন এবং পর্যবেক্ষক নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দেশে ১১৮টি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা রয়েছে। বিদেশ থেকেও যদি এ রকম পর্যবেক্ষক আসতে থাকে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা দিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ কি বিদেশি পর্যবেক্ষক আসা নিরুৎসাহিত করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, তারা এটা নিরুৎসাহিত করছেন না। তবে সবাইকে আচরণবিধি ও আইন মেনে চলতে হবে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া একটি গ্রেপ্তারও হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের হয়রানির যে অভিযোগ বিএনপি করেছে তা নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। জানিয়েছেন, কোনো অভিযোগ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হচ্ছে না। যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। আর মন্ত্রণালয় সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ীই করছে। রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় পরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সব সময় বলছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু এটা তাদের একটি রাজনৈতিক কৌশল। আমরা একটি গ্রেপ্তারও করিনি ওয়ারেন্ট ছাড়া। যাদের নামে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে শুধু তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে। আর নিরাপত্তাবাহিনীকে এখন নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাচন কমিশন। ইসির দিক নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকশনে যাচ্ছে। বিএনপি প্রোপাগান্ডার কৌশল অনুসরণ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,শুধু শুধু কাউকে ধরা হচ্ছে না। আমি প্রত্যেকটার বিষয় জানি। যাদের ধরা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট আছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উপায় থাকবে না গ্রেপ্তার ছাড়া। মন্ত্রী বলেন,আমাদের কাছে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর শত শত ঘটনা প্রতিদিন আসছে। এই গুজব আগেও ছড়িয়েছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন আরও বেশি ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। গুজবের কারণে আপনারা দেখেন, বৌদ্ধ বিহার তছনছ হয়ে গিয়েছিল। এগুলো ছড়াতে তারা বেশ দক্ষ। দেশবাসীকে অনুরোধ করব কোনো গুজবে কেউ কান দেবেন না। কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকা ভুয়া সংবাদ পরিবেশ করছে বলে অভিযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,এসব তথ্য মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। তারা যেভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেভাবে কাজ করছি।
ডিএমপি উপ কমিশনার (ডিসি) হারুনকে নারায়ণগঞ্জে বদলি
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) পদে বদলি করা হয়েছে। রোববার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি বদলি আদেশে রোববার অনাপত্তিপত্র দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনাপত্তিপত্র পেয়েই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আজাদ মিয়াকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এবং নারায়ণগঞ্জের প্রত্যাহারকৃত এসপি মো. আনিসুর রহমানকে পুলিশ অধিদফতরে সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) পদে বদলি করা হয়েছে। হারুন অর রশীদ সর্বশেষ গাজীপুর জেলার নতুন এসপি ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ২৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহার করে ইসি। তার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছিল। সদ্য যোগদানকৃত এসপি হারুন অর রশীদ ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট পুলিশ সুপার হিসেবে গাজীপুরে যোগদান করেছিলেন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় দফায় গাজীপুর সদর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বছরের ২১ এপ্রিল এসপি হারুন অর রশিদকে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যাহারের আদেশ তুলে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ওই বছর ৩ মে গাজীপুরের পুলিশ সুপার পদে হিসেবে পুনর্বহাল করেন। দুই দফা মিলিয়ে ৪ বছর গাজীপুরে ছিলেন তিনি। এসপি হারুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করে ২০তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২০০১ সালে এএসপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ডিএমপিতে থাকাকালীন সময় বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুককে মারধরের ঘটনায় আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।
ফেইক নিউজ বা অপপ্রচার হলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা: ইসি সচিব
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেইক নিউজ বা অপপ্রচার হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মামলা দেওয়াসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। অাগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন অাহমদ। এর অাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অনলাইনে অপপ্রচার ও ফেইক নিউজ রুখতে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক করেন ইসি। সচিব বলেন, প্রশাসন ইতোমধ্যে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং শুরু করেছে। আমরাও আগামীকাল থেকে মনিটরিং করবো। এজন্য আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার (আইসিটি) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নিজস্ব মনিটরিং টিম করা হবে। এই টিমও প্রশাসনের টিমের পাশাপাশি কাজ করবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারীও থাকবে। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন নির্বাচন কেন্দ্রীক অপব্যবহার না হয়। কোনো প্রপাগান্ডা যেন কেউ না চালাতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। কেউ যদি প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমরাও দেখবো ওরাও দেখবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও অন্যান্য আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয় না করতে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য আমরা বিজ্ঞাপনও প্রচার করবো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কেউ যেন নির্বাচন নিয়ে কোনো ফেইক নিউজ না করতে পারে। জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে কেউ যাতে ফেইক নিউজ না করে। ফেইক নিউজের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব। বৈঠকে বিটিআরসি, পুলিশ, সিআইডি, র;্যাব, সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা, দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দাবি অবান্তর
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে যেসব দাবি তুলে ধরেছে তা অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল এ সময় নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।​ তিনি বলেন, বিএনপি প্রশাসনে রদ বদলের নামে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে দাবি তুলেছে তা মানতে হলে পুরো সরকারকেই উলটপালট করতে হয়। পুরো সরকারকেই বদল করতে হয়। সেটা তো হয় না। আর বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে এই সরকারের অধীনে এই প্রশাসনের অধীনের নির্বাচন করবে। তারা তো এসেছেনও। এখনতো এই প্রশ্ন আমি মনে করি অবান্তর। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে একটি বিমানবন্দরে সমাবেশ করেছেন উল্লেখ করে এইচটি ইমাম বলেন, এখন তো সমাবেশ করার কথা না। আমরা শুনেছি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সমাবেশ করেছেন। যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যেই করুক না কেন, সমাবেশ করলে তা আচরণ বিধির লঙ্ঘন। আমরা চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাক। সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন হোক। যেটি গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি বলেন, এখানে দলের কোন বিষয় নয়, আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীও যদি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন তাহলেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। বিরোধী একটি দলের প্রধান জেলে। তার মনোনয়নপত্র আজ বাতিল করা হয়েছে। এরপরেও কি আপনারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে বলে দাবি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, এটা তো নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুপ্রিমকোর্টের ব্যাপার। এটা আইনের ব্যাপার। দণ্ডিত ব্যক্তির ব্যাপার, কোনো দলের প্রধানের বিষয় নয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্স লাইব্রেরির তৈরি করা বাংলাদেশ বিষয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো সংশয় রয়েছে, এখানকার অবস্থা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থেকে এখনো অনেক দূরে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন,হাউজ অব কমন্স যা বলেছে তা তো তাদের কথা। হাউজ অব কমন্স মানে ইংল্যান্ড নয়। তবে পাশাপাশি সমগ্র ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কি বলেছেন? তাদের প্রতিনিধি দল ঘুরে গেছে। তারা বলে গেছে, একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করার সুন্দর বা অবজেক্টিভ পরিবেশ রয়েছে। যে কারণে এখানে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন নেই। প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এমপি, উপদেষ্টামন্ডীর সদস্য ড. মশিউর রহমান, রাশেদুল আলম, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়য়া, এস এম কামাল হোসেন, দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, তানভীর ইমাম এমপি, এনামুল হক চৌধুরী ও ড. সেলিম মাহমুদ। বাসস।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে শেখ হাসিনার মনোনয়ন বৈধ
অনলাইন ডেস্ক: গোপালগঞ্জ-২ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়া) আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার তিনটি আসনে বৈধ ঘোষিত হয়েছে মোট ১৬টি মনোনয়নপত্র, বাতিল হয়েছে তিনটি। এদের মধ্যে একজন বিএনপি, একজন জাতীয় পার্টির এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। যেখানে বিএনপির এক নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, সেখানে দলটির বিকল্প প্রার্থী আছে। রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই বাছাই শেষে এই ঘোষণা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান সরকার, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিম, এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অন্য প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে সাত জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম খান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। দাখিল করা ভোটারদের স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনে বৈধ ছয় প্রার্থীর মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের ফারুক খান, বিএনপির সেলিমুজ্জামান সেলিম, শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর। গোপালগঞ্জ-২ আসনে পাঁচ জন প্রার্থীর সবারই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও কে এম বাবর। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে দুই জনের মনোনয়নপত্র। এরা হলেন বিএনপির এস এম জিলানী এবং জাতীয় পার্টির এ জেড অপু শেখ। যথাযথ কাগজপত্র ও স্বাক্ষর না থাকায় এদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয় বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এখানে বিএনপির এস এম আফজালের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিন জন, জাতীয় পার্টি, বাসদ, এলডিপি এবং স্বতন্ত্র একজনের প্রার্থিতাও টিকেছে এই জেলায়।
সরকারের পদক্ষেপেই দেশের রপ্তানি তিনগুণ হয়েছে :প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগ সরকারের পদক্ষেপেই দেশের রপ্তানি তিনগুণ হয়েছে। রপ্তানী বাড়াতে নীতিমালা প্রনয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সফল হয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারনে দেশের প্রবৃদ্ধি আজ উর্ধ্বমূখী। সরকার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে যাচ্ছে। সূত্র : বিটিভি হোটেল সোনারগাঁওয়ে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ অবদান রাখায় ৫৬ টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ২৫ টি স্বর্ণ, ১৭ টি রৌপ্য এবং ১৪টি ব্রোঞ্জ পদক তুলে দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে শিল্পায়ন অপরিহার্য তাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে বিসিক শিল্প নগরীগুলোতেও যেন রাপ্তানি যোগ্য পণ্য উৎপাদন করা যায় এবং দেশের অভ্যন্তরে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেন তিনি। শেখ হাসিনা আরো বলেন, সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে দেশের বাণিজ্য বিদেশে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ব্যবসায়ীরা। জনশক্তিকে দেশের সবচেয়ে বড় মূলধন উল্লেখ করে যুব সমাজকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণেই দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। এসময় তিনি আরো বলেন, নতুন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের বাজারকে বিদেশে নেয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করতে হবে। এসময় বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনে অযোগ্যই থাকছেন দণ্ডিতরা
অনলাইন ডেস্ক: দুই বছরের অধিক দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা স্থগিত করে তাঁকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া একটি আদেশ পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের কারা দুটি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের কারণে কোনো সাজাপ্রাপ্ত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এর আগে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করে এ বিষয়ে মীমাংসার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদনটি পাঠিয়ে দেন বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যশোর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দুর্নীতির মামলা স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করে দুদক। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গত ১২ জুলাই, জেলা বিশেষ জজ আদালত ঝিকারগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর