দেশের ৮ বিভাগে নতুন করোনা ইউনিট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১৮মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের ৮ বিভাগে নতুন করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। বুধবার (১৮ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, নতুন ইউনিট স্থাপিত হলে করোনা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহজ হবে। তথ্য সংগ্রহ এবং সব ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেশি মানুষ কোয়ারেন্টাইনে রাখার প্রয়োজন হলে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ কিছু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান প্রস্তুত করার জন্যও নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত প্রতিটি ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকার সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে দেশের সংক্রামক রোগের নির্ধারিত আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জোরালো ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সচিবকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সভায় উপস্থিত আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সামাজিক মাধ্যমে করোনার বিষয়ে অবগত হতে নতুন একটি ই-মেইল আইডি ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা জানান। সরাসরি যোগাযোগের জন্য ১৭টি হটলাইন খোলা হয়েছে। নম্বরগুলো হচ্ছে- ৩৩৩, ১৬২৬৩, ০১৫৫০০৬৪৯০১, ০১৫৫০০৬৪৯০২, ০১৫৫০০৬৪৯০৩, ০১৫৫০০৬৪৯০৪, ০১৫৫০০৬৪৯০৫, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১। প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১৬৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। তবে চীনে করোনাভাইরাস প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কিন্তু চীনের বাইরে অন্য দেশে ব্যাপক আকারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে মারা গেছে ৭ হাজার ৯৮০ জন। এর মধ্যে উৎপত্তিস্থল চীনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ২৩৭। এদিকে মরণঘাতী এই ভাইরাসে বাংলাদেশেও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। মৃত ব্যক্তি কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
শিক্ষার্থী বাইরে ঘুরলে ব্যবস্থা, ডিসি-এসপিকে নির্দেশ
১৮মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিশেষ পরিস্থিতিতে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও কোচিং সেন্টার খোলা রাখা ও শিক্ষার্থীদের বাইরে ঘোরাফেরায় নাখোশ সরকার। এই ছুটিকে সাধারণ ছুটি মনে না করে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সতর্কতার অংশ হিসেবে গত ১৬ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ থেকে ৩১ মার্চ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। এরই মধ্যে বুধবার (১৮ মার্চ) দেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু ও আরো ১৪ জন সংক্রমণের মধ্যে কোচিং সেন্টার, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৮ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীরা যাতে বাসায় অবস্থান করে তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ ছুটিকে সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি অনেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণেও যাচ্ছেন সপরিবারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, একই আদেশে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলেও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে কিছু কোচিং সেন্টার তাদের কোচিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শিক্ষার্থী ও সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ (বুধবার) পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে রাস্তায় ঘুরতে দেখলে তাদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি সন্তানদের বাসায় অবস্থান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
করোনা প্রতিরোধে সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান
১৮মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় সংসদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বুধবার (১৮ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, আ. ক. ম. সরওয়ার জাহান ও বেগম আরমা দত্ত অংশগ্রহণ করেন। সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা প্রসঙ্গে বিভিন্ন আলোচনা হয়। এ ভাইরাস প্রতিরোধে সব মন্ত্রণালয় ও দেশের সব মানুষকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া বৈঠক থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের সবাইকে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্টর (বাংলাদেশ) সার্বিক বিষয়ে তদন্তের উদ্দেশ্যে গঠিত সাব-কমিটি প্রদত্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয় বৈঠকে। এ সময় শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল-নাহিয়ান ট্রাস্ট (বাংলাদেশ) বিষয়ে সাব-কমিটি প্রদত্ত সুপারিশের আলোকে ট্রাস্টের জন্য একজন যোগ্য ও উপযুক্ত নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া বৈঠকে পিআরএল ভোগকারী কর্মকর্তাদের শিক্ষা সফরে বিদেশে মনোনয়ন না দেওয়ার সুপারিশও জানানো হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ডাটাবেইজ তৈরি করে সুবিধাভোগীদের মধ্যে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অতিদ্রুত মন্ত্রণালয়কে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করার সুপারিশও করা হয়। প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯-এর আলোকে প্রতিবন্ধী স্কুল স্বীকৃতি/ এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা ও এ সব স্কুল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত এমপিওভুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও জানায় কমিটি। এ দিনের বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু
১৮মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে প্রথম একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তির বয়স ৭০ বছরের বেশি। তিনি বিদেশ থেকে আসেননি। বিদেশ থেকে আসা একজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। তিনি কিডনি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুধবার (১৮ মার্চ) ওই ব্যক্তির মৃ্ত্যু হয়েছে। তার করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল মঙ্গলবার। তিনি আইসিইউতে ছিলেন। এছাড়া তিন পুরুষ ও এক নারীসহ নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চারজন। এর মধ্যে তিনজন বিদেশফেরত। একজন আক্রান্ত পরিবারের সদস্য। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪ জনে। ফ্লোরা বলেন, নতুন করে আক্রান্ত ৪ জনসহ দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। নতুন আক্রান্তদের ২ জন ইতালি থেকে এবং ১ জন এসেছেন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। বাকি একজন আক্রান্ত হয়েছে পূর্বে আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে এসে। তিনি জানান, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহজনক রয়েছেন ১৬ জন। তারা হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন। ৪২ জন আছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে। সবমিলিয়ে আইইডিসিআর ৩৪১টি নমুনা নিয়েছে। আর হটলাইনে মোট কল এসেছে ৪ হাজার ৮৫৭টি। তিনি বলেন, বয়স্করা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে ঘরে থাকতে হবে। একইসঙ্গে বিরত থাকতে হবে হাত মেলানো-কোলাকুলি, জন সমাগমে যাওয়া থেকেও।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জয়ের আবেগী স্মৃতিচারণ
১৮মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় তার নানার সঙ্গে উষ্ণতা ও স্নেহের কথা স্মরণ করেছেন। বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নাস্তা করতে ভালোবাসতেন এবং তিনি যা খেতেন তাই খেতে জিদ ধরতেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ভিত্তিক রাজনৈতিক সংবাদ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ক রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জয় লিখেছেন, আমি আমার নানার সঙ্গে নাস্তা করতে ভালোবাসতাম। তিনি যা খেতেন তাই খেতে জিদ করতাম। জয় আরও লিখেছেন, এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। তার কন্যা (আমার মা) এবং আমি গোটা জাতির সঙ্গে তা উদযাপন করছি। আমার নানা শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দেন। সেই বছরই তার জন্ম। তিনি আরও বলেন, আমার বয়স যখন ৪ বছর তখন আমার নানার প্রত্যাশা প্রায় ধ্বংস করে দেয়া হয়। সে সময় আমার মা, বাবা, বোন এবং খালাসহ আমরা জার্মানি সফরে ছিলাম। সেনা কর্মকর্তারা আমার নানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যা করে। এরপর একটি বর্বর সামরিক জান্তা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। জয় জানান, ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তার মা ও তাকে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়নি।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে: রাষ্ট্রপতি
১৭মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহসী ও ত্যাগী নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরজুড়ে মুজিববর্ষের আয়োজনের উদ্বোধনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই প্রত্যাশার কথা বলেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করাই হোক মুজিববর্ষে সকলের অঙ্গীকার। রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব, এ প্রত্যাশা করি। আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। কিন্তু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো শাসকগোষ্ঠীর সাথে আপস করেননি। তিনি বলেন, রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নীতি ও আদর্শের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচাসহ তার উপর লিখিত গ্রন্থ অধ্যয়ন করে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীতে জাতিগঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আকাশে বিমানবাহিনীর উড্ডয়ন শৈলী, বঙ্গবন্ধুকে ১০০ সালাম
১৭মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আকাশে এক মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ১০০ সালাম প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টা ২০ মিনিটি থেকে ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ার আকাশে এ প্রদর্শনী করে বিমানবাহিনী। বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামানের দিকনির্দেশনায় বিমানবাহিনীর বিভিন্ন উড়োজাহাজ আকাশে সারিবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের উপর ১০০ সংখ্যাটি ফুটিয়ে তোলে। এরপর কে-৮ ডব্লিউ ও পিটি-৬ উড়োজাহাজের সমন্বয়ে এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীতে অংশ নেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দক্ষ বৈমানিকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে দাঁড়িয়ে বিমানবাহিনীর মনোজ্ঞ উড্ডয়ন শৈলী প্রত্যক্ষ করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৭মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস- ২০২০ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এরপর সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে মুজিববর্ষ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টা ৮ মিনিটের দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয়বার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বোন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার।
মুজিব বর্ষ শুরু আজ থেকে
১৭মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ ১৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর দিন। শুরু হলো মুজিব বর্ষ। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হলেও করোনাভাইরাসজনিত বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মুজিব বর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আজ (১৭ মার্চ) প্রথম প্রহর থেকে মুজিব বর্ষের সূচনা হলেও রাত ৮টায় আতশবাজির মাধ্যমে তা উদযাপন করা হবে। কারণ ১৯২০ সালের এই দিনে রাত ৮টায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাঙালি জাতির এ মহানায়ক। আতশবাজির মূল অনুষ্ঠান হবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও হাতিরঝিলে। এরপর অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। মুজিব বর্ষের সূচনার অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী আতশবাজি, আলোকসজ্জা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আতশবাজির অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হলেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান ধারণ করে টেলিভিশনে প্রচার করা হবে। মুজিব বর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, আমরা রাত ৮টায় অনুষ্ঠানের সূচনা করছি। কারণ এ সময়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর সেই জন্য আমরা ওইসময় থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মশতবর্ষের আয়োজন শুরু করতে চাই। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতিতে মুজিব বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি ছিল। যেখানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের প্রায় সবাই। বিশ্বনেতাদের অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে ব্যাপক জনসমাগম এড়াতে মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করে স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে এ অনুষ্ঠান। তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতির পর স্থগিত হওয়া অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে একটি থিম সং প্রস্তুত করা হয়েছে, যা লিখেছেন মুজিব বর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ থিম সংয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা, যার সংখ্যা ২০ জনের বেশি। মুজিব বর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ থিম সংটি বাছাই করেছেন এবং এটির কথা ও সুরে কিছু পরিবর্তন করেছেন। সবার কাছে থিম সংটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে প্রত্যাশা কমিটির এ সদস্যের। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাজধানীর একটি অডিটোরিয়ামে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যন্ত্রসংগীত, নৃত্য, দলীয় ও একক সংগীত। শিশুশিল্পীসহ দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় প্রায় ২ ঘণ্টার এ অনুষ্ঠান আতশবাজি শেষ হওয়ার পর দেশের সরকারি-বেসরকারি সব টেলিভিশন ও বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হবে। এটি প্রচার করা হবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ১৭ মার্চ একই সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবস হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় দুপুরে শিক্ষার্থীদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। কামাল চৌধুরী বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরজুড়ে যে আয়োজন করা হবে, তাতে যেন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথাই বেশি তুলে ধরা হয়। এতে তারা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে জানবে। আরো সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। মুজিব বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জনসমাগম এড়িয়ে সফলভাবে দিনটি পালনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দলের ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় উদ্যোগে রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আতশবাজির আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে একযোগে দেশের সব ইউনিট কার্যালয়ে আতশবাজি অনুষ্ঠানের জন্য সব ইউনিটকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুংগীপাড়াতেও থাকছেও বিভিন্ন আয়োজন।