মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার অর্থ বিএনপির অবস্থা ভালো নয়: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ঘোষণার সময় বিএনপি মহাসচিবের কান্নার অর্থ বুঝতে পেরেছেন ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার অর্থ হলো, ভোটের বাজারে বিএনপির অবস্থা ভালো নয়। মঙ্গলবার বেলা একটায় নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল আহম্মদের কাছে নোয়াখালী-৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কাদের। এ সময় তিনি এক প্রশ্নে উপরোক্ত কথা বলেন। আগের দিন গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নের চিঠি দলের নেতাদের হাতে তুলে দেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাদের বলেন, দলছুট এবং জনবিচ্ছিন্ন নেতারা যতই বিএনপির সাথে হাত মেলাচ্ছে দলটি ততই জনসমর্থন হারিয়ে ফেলছে। বিএনপির ভাঙা হাড় নেতায় নেতায় ঐক্য হচ্ছে, ভাঙা হাড় জমছে না। দেশে এখন আওয়ামী লীগের জোয়ার বইছে দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই জোয়ারে ভাসতে ভাসতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে বন্দরে গিয়ে পৌঁছবে নৌকা। বিএনপি ভোটে থাকতে চায় কি না, এ নিয়েও সন্দিহান কাদের। বলেন, এই মুহূর্তে সিইসির পদত্যাগ চাওয়ার অর্থ তারা নির্বাচন চায় না, বানচাল করতে চায়। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত খান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমুখ।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিন মনোনয়নপত্র জমা
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপালগঞ্জের তিনটি স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এই মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রথমে বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ টুঙ্গিপাড়ার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাকিব হাসান তরফদারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়া উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহাফুজুর রহমানের কাছে দ্বিতীয় মনোনয়নটি জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। বেলা সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন এমপির নেতৃত্বে গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের কাছে তৃতীয় মনোনয়নপত্রটি জমা দেয়া হয়। এসময় তিনটি স্থানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শেখ কবির হোসেন, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপির ছেলে ও বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত শেখ সারহান নাসের তন্ময়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার খায়ের, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, সাবেক পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র জয়ধর, সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু রীনা রানী মন্ডলসহ স্থানীয় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে তার কবর জিয়ারত করেন নেতাকর্মীরা। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন এবং কোটালীপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। এই আসনটিতে বর্তমান সাংসদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ১৯৮৬ সাল থেকে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন শেখ হাসিনা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য জানা যাবে বাটন চেপেই
অনলাইন ডেস্ক: পদ্মাসেতু অথবা মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি কতটুকু? কবে নাগাদ এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে? এমন তথ্য অনেকেই জানতে চান। এসব তথ্য জানতে আর প্রকল্প এলাকায় যেতে হবে না। মোবাইলের বাটন টিপলেই প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য জানা যাবে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ডিজিটাল মনিটরিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালু করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। ডিজিটাল মনিটরিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস)। এ সফটওয়্যার বলে দেবে প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য। সোমবার (২৬ নভেম্বর) পিএমআইএস অ্যাপস সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে আইএমইডি। আইএমইডি সূত্র জানায়, আইমএইডির অন্যতম কাজ হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করা। একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এ বিভাগের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুমোদিত প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি আইএমইডি সংগ্রহ করে। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ডিজিটাল মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে অনলাইন সফটওয়্যার পিএমআইএস-এর যাত্রা শুরু হলো। বর্তমানে আইএমইডির চলমান ম্যানুয়াল রিপোর্টিং ফরম্যাটকে এক করে অনলাইনে একটি প্লাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া সমাপ্ত প্রকল্পের পিসিআর (সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন) তৈরির ব্যবস্থাও পিএমআইএস-এ রাখা হয়েছে। পিএমআইএস ১ হাজার ৯৬৩ জন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণও দিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ এর অধিক প্রকল্পের তথ্য এবং ৩৫২ এর অধিক প্রকল্পের সর্বশেষ আর্থিক অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য এ সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত আছে। এডিপিতে বরাদ্দ অর্থের কী পরিমাণ খরচ হলো এটা সহজেই বের করা যাবে। প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এতে লগইন করতে পারবেন। একটি প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে আইএমইডি থেকে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে পিএমআইএস-এর লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করছি। দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের পেছনে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। সোনার বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্প জনকল্যাণে নেওয়া হয়, সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে অর্থের অপচয় হয় এবং জনগণ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক সময় প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য পেতে নানা কাপজপত্র খুলে খবর নিতে হয়। পিএমআইএস-এর মাধ্যমে হাতের মুঠোয় চলে এলো প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য। বাটন চাপ দিলেই প্রকল্পের সমস্ত তথ্য আমার চোখের সামনে ভাসবে। প্রকল্পের অগ্রগতি কেমন হলো, কত খরচ হলো- সব তথ্য জানতে পারবো এই ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফলেই এটা করতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়তে চান। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে আসবো। এ জন্যই আমরা অনলাইন প্রকল্প মনিটরিং ব্যবস্থা শুরু করলাম। প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি আরো গতি পাবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। সচিব জানান, পিএমআইএস-এ লগইন করে প্রকল্প পরিচালকেরা ব্যয় ও সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন তথ্য পাবেন। প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য, অঙ্গভিত্তিক ব্যয়, উচ্চ টার্গেট, পরিকল্পনা ও প্রকল্পের আওতায় সকল কিছু কেনাকাটার তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করতে পারবেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্প সংশোধন ও আন্তঃখাত সমন্বয় করা হলে সেই তথ্য এখানে যুক্ত হবে। প্রকল্প পরিচালকেরা বার্ষিক বরাদ্দ, ক্রয় পরিকল্পনা, কর্মপরিকল্পনা, অর্থছাড় ও মাসিক অগ্রগতির তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করবেন। সূত্রে জানা যায়, পিএমআইএস-এ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। যেমন প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্ত বরাদ্দ, অর্থায়নের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিন্যাস, এডিপি অগ্রগতি, ব্যয় ও সময়সীমার তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য পিএমআইএস-এ এন্ট্রি করার জন্যও থাকছে আলাদা জনবল।
মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়নি: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি আওয়ামী লীগ। এর কারণ, জোটের শরিকদের মধ্যে আসন নিয়ে সমঝোতা করতে না পারা। তবে কৌশলগত কারণে এই তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রবিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভিন্ন আসনে দলের প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। তবে এটি চূড়ান্ত নয় জানিয়ে কাদের জানান, সোমবার দল ও জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে তালিক প্রকাশ না করে সোমবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করেন কাদের। বলেন, কৌশলগত কারণে এই তালিকা আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বলেছিলাম আজ আমরা আমাদের প্রার্থিতা জোটবদ্ধ তালিকাটি প্রকাশ করব। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি কৌশলগত বা টেকনিক্যাল কিছু কারণে। আমাদের প্রার্থী যাচাই-বাছাই যেদিন শেষ হবে তার পরের দিন আমরা সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে আমাদের জোটের তালিকা প্রকাশ করব। আগের দিন ওবায়দুল কাদের দলের মনোনয়নের চিঠি বিতরণের সময় জানিয়েছিলেন, ৭০টি আসন তারা শরিকদের জন্য রেখেছেন। তবে মনোনয়নের চিঠি গুণে দেখা যায় প্রার্থী দেয়া হয়েছে ২৪৬টি আসনে। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হয়েছিল এমন অন্তত আটটি আসনে আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের পটুয়াখালী-১ এবং সালমা ইসলামের ঢাকা-১ আসনও রয়েছে। আবার ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এমন একটি আসনে মনোনয়নপত্র তুলেছেন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ। আসন বণ্টনে সমঝোতা কতদূর- জানতে চাইলে কাদের বলেন,মনোনয়ন এর নামে বানরের পিঠা ভাগ করে তো লাভ নাই। যারা যোগ্য তারাই মনোনয়ন পাবেন। কেননা আমরা যেতার জন্য নির্বাচন করি। নির্বাচনে যেতাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন,দয়া করে শোনা কথায় কান দিয়ে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। কাদের আবার জানান, জাতীয় পার্টি, ১৪ দল, যুক্তফ্রন্ট মিলিয়ে ৬৫ থেকে ৭০ টি আসন দেয়া হতে পারে। তবে এ সংখ্যা কম বেশি হতে পারে। জাতীয় পার্টি একটি বড় শরীক দল এ কারণে তারা বেশি আসন পাবে এটাই স্বাভাবিক। মহাজোটের প্রার্থী বোঝাপড়ার মাধ্যমেই ঘোষণা করা হবে। আমরা ভুল প্রার্থিতা প্রকাশ করতে চাই না। একদম সবকিছু যাচাই বাছাই করে তালিকা প্রকাশ করতে চাই। যাতে করে আমাদের শরিক দলের সাথে আমাদের কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়। বদি ও রানাকে মনোনয়ন না দিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দেয়ার কারণ জানতে চাইলে কাদের বলেন, বদি ও রানার ব্যাপারে সাতটি জরিপ হয়েছে। সে সাতটি জরিপেই তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু তাদের ব্যাপারে যেহেতু বিতর্ক আছে আমরা সে দিকটি বিবেচনা করে তাদের মনোনয়ন দেইনি। আমরা তাদের পরিবারের যে দুইজনকে মনোনয়ন দিয়েছি তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তাদের পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিতর্কের কারণে তারা নির্বাচন করতে পারবে না এটা কেমন কথা? আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সালমান এফ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল ইসলাম নওফেল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে গুজব, অপপ্রচার ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গুজব, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার মোবাইল অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, এনটিএমসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, ভোট নিয়ে প্রপাগাণ্ডা, গুজব, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বানচাল করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে থাকবে। ফেইক আইডি থেকে প্রপাগাণ্ডা করলে তাদের চিহ্নিত করে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব বিষয় মনিটরিং করবে বলে জানান ইসি সচিব। হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনের যেসব প্রচার হচ্ছে, সেগুলো ইসির নির্ধারিত আচরণবিধির আওতায় পড়ে না। সোশ্যাল মিডিয়া কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে সভায় মত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। অন্যদিকে ভোটের সময় নির্বাচন ভবনসহ সর্বত্র মোবাইল যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি ইন্টারনেটের পূর্ণমাত্রার গতি বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।
মনোনয়নের নামে বানরের পিঠা ভাগ করে লাভ নেই :কাদের
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের নামে বানরের পিঠা ভাগ করে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি একটি কথা বারবার আপনাদের বলেছি। এখানে মনোনয়নের নামে বানরের পিঠা ভাগ করে তো লাভ নেই। ইলেকটেবল, উইনেবল যারা প্রার্থিতার জন্য আবেদন করেছেন তারাই মনোনয়ন পাবেন। আমি একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেব, তিনি ইলেকটেবল না, তিনি উইনেবল নয় এতে আমার লাভ কী।
কোম্পানি (সংশোধনী) আইন-২০১৮ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: মন্ত্রিসভা আজ ওয়ান ম্যান কোম্পানি গঠনের অনুমতির বিধান রেখে কোম্পানি (সংশোধনী) আইন-২০১৮ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আজ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, একজন ব্যাক্তি ওয়ান ম্যান কোম্পানি গঠন করতে পারবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে একটি নতুন ধারণা আনা হয়েছে। যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এতোদিন ছিল অনুপস্থিত। আমাদের বর্তমান আইনে এই ধারণা ছিল না। তবে বিশ্বের অনেক দেশে এই আইন আছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, আইনে আইনি কাঠামোর মধ্যে ওয়ান ম্যান কোম্পানি নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে সর্বোচ্চ ৫০ জন সদস্য নিয়ে একটি লিমিটেড কোম্পানি গঠনের বিধান রয়েছে। তবে এই বিধান ওয়ান ম্যান কোম্পানি গঠনের ক্ষত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেবল একজন ব্যক্তি এ ধরনের একটি কোম্পানি গঠন করতে পারবে। শফিউল আলম বলেন, চলচিত্র ও টেলিভিশনের মতো গনমাধ্যমের আরো বিকাশে মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ফিলম এন্ড টেলিভিশন ইনিস্টিটিউট (সংশোধনী আইন) ২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আগে চলচ্চিত্রের সংজ্ঞা বলা ছিল- সেলুলয়েড, এনালগ, ডিজিটাল বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে নির্মিত চলচ্চিত্র। এখন সেখান থেকে এনালগ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র অর্থ সেলুলয়েট, ডিজিটাল বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে নির্মিত চলচ্চিত্র। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদে কমপক্ষে পাঁচজন এবং সর্বোচ্চ সাতজন বরেণ্য ব্যক্তিকে সরকার মনোনীত করত। সেখানে পরিবর্তন করে সরকার কর্তৃক মনোনীত ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক, একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ কমকক্ষে চারজন এবং সর্বোচ্চ ছয়জন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। ফলে এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক প্রতিনিধি নিশ্চিত হবে সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সম্পৃক্ততা থাকবে। পরিচালনা পর্ষদে সরকার মনোনীত বিশিষ্ট সাংবাদিক শব্দ পরিবর্তন করে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শব্দ সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শফিউল আলম বলেন, পরিচালনা পর্ষদে সরকার মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর থাকলেও তা কমিয়ে দুই বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ গভর্নিং বডির মেয়াদ কমিয়ে দুই বছর করা হচ্ছে। এছাড়া সরকার মনোনীত বেসরকারি গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধির জায়গায় বেসরকারিশব্দটি বিলুপ্ত করে সরকার কর্তৃক মনোনীত গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধি করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদও নতুন খসড়ায় তিন বছরের স্থলে দুই বছর করা হয়েছে,বলেন তিনি। এদিনের মন্ত্রিসভা ১২ ডিসেম্বরকে জাতীয় তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসর (ন্যাশনাল ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডে) স্থলে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস হিসেবে উদযাপনের একটি প্রস্থাবেও সম্মতি প্রদান করে। বৈঠকের শুরুতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী দুইশত বছরের একটি পুরনো ভাসমান চালের হাটর আলোকচিত্র উপহার দেন। বরিশালের বানরিপাড়ার সন্ধ্যা নদী থেকে কৃষিমন্ত্রী এই ভাসমান হাটের আলোকচিত্রটি সংগ্রহ করেন এবং বলা হয়ে থাকে এটি এই অঞ্চলের বৃহত্তম চালের হাট। বাসস
যে ছয়টি আসনে ইভিএম চূড়ান্ত
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে ছয়টি আসনে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ভোট নেয়া হবে, সেগুলো চূড়ান্ত হয়েছে। এর সবগুলোই শহর এলাকায়। আসনগুলোর মধ্যে রাজধানীতে দুটি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, খুলনা এবং সাতক্ষীরায় রয়েছে একটি করে। রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে কম্পিউটার মাধ্যমে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে আসনগুলো নির্ধারণ করা হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই কম্পিউটারে বাছাই করা হয় আসনগুলো। ওয়ারী, কোতয়ালির একাংশ ও বংশালের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসনে ব্যালটে ভোট হবে না। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিয়ে জাতীয় পার্টির জন্য ফাঁকা রেখেছে। বিএনপির প্রার্থী এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা-১৩ আসনের ভোটাররাও তাদের মত জানাবেন বোতাম টিপে। মোহাম্মদপুর-আদাবর নিয়ে গঠিত এই আসনটি। এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন সাদেক খান। বিএনপি ঘোষণা করেছে আবদুস সালামের নাম। চট্টগ্রাম-৯ আসনটি কোতয়ালি থানা গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। রংপুর-৩ আসনটি তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখানে ভোটে লড়েন। মোজাফফর আহমেদ ও রিতা রহমান। খুলনা-২ আসনটি খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। বিএনপির প্রার্থী এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। সাতক্ষীরা-২ আসনটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদকে। বিএনপির প্রার্থী কে, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এবারের জাতীয় নির্বাচনে ইসির ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার পক্ষে নয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট। তারা মনে করে ইভিএমে ভোট কারচুপি সম্ভব। তবে নির্বাচন কমিশন সেটা নাকচ করে দিয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর