বিশ্বে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষকদের চিন্তায় আরো আধুনিক হতে হবে
পরিবর্তনশীল বিশ্বে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষকদের চিন্তায় আরো আধুনিক হতে হবে। সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সমাবেশে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী দেশকে সবসময় পিছিয়ে দিয়েছে। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শিক্ষাকেই সবচে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ সময় শেখ হাসিনা আরোও বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর দেখেছি বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারেনি। ১৯টা অভ্যুত্থান হয়েছে, অবঈধ ভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দেশটাকে উন্নয়নের পথ থেকে পিছিয়ে রেখেছে। যদিও অনেকে বলেন কেউ বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে অথচ যারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতায় যায় তারা কিছু দিতে পারে না। তিনি বলেন, 'শিক্ষা যেহেতু একটা ধারাবাহিক বিষয়। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় বাছাই করতে হবে। নির্দিষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষা প্রদান করতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবো। এতে ইন্টারনেট সার্ভিস আরোও গতিশীল হবে।'
'খালেদা জিয়া আদালতে নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা ভিত্তিহীন'
নিম্ন আদালত নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, উনি যে কথা বলেছেন, সেটা অসত্য। আইনমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সকলেই বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এবং বিচারালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সেটাই সকলের ব্যক্ত করা উচিত। রাজধানীর গুলশান-২-এর একটি অভিজাত হোটেলে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের এক সেমিনার শেষে এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল শনিবার বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় বলেন, সবাই জানে স্বাধীন বিচার বিভাগ, কিন্তু স্বাধীন নয়। তারা সবচেয়ে পরাধীন। তারা কিছু করতে পারে না, তারা শুধু হুকুমের নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়। সর্বোচ্চ আদালতও বলছেন, দেশের নিম্ন আদালত সরকারের কবজায়। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ মামলার রায়ের দেওয়ার দিন নির্দিষ্ট করেছেন আদালত। ওই রায় নিয়ে এখন দুই প্রধান দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রায়ের আগে গতকাল নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকে বিএনপি। ওই সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আরও বলেন, বিচার কোথায়? যেখানে অপরাধই নেই, সেখানে বিচারটা হবে কিসের? তারপরও তারা গায়ের জোরে বিচার করতে চায়। গায়ের জোরে কথা বলতে চায়। আদালত নিয়ে খালেদা জিয়ার এসব মন্তব্যের বিষয়ে আজ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমি দুঃখিত, উনি এ কথা বলেছেন এবং এটা সম্পূর্ণ অসত্য। আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি, বিচার হয়েছে আদালতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ হয়েছে এবং সেই সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এই রায় দেবেন। উচ্চ আদালতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার ঘোর আপত্তি এই কথায় যে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান দেখেন, তাহলে ৯৫ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। সেখানে কোথাও লেখা নেই, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনি নিয়োগ দেবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। প্রধান বিচারপতি পদে আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয় গত শুক্রবার। প্রধান বিচারপতি পদে এই নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মাথায় বঙ্গভবনে পদত্যাগপত্র পাঠান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। এই পদত্যাগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, একজন বিচারপতি, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন। তাঁর সেই পদত্যাগ করার অভিপ্রায় তিনি ব্যক্ত করেছেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কিছু বলার নেই। হাইকোর্টে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংকট রয়েছেএমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই দেখবেন হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিবন্ধন বাতিল হবে বিএনপির
বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে, নির্বাচনে না এলে তাদের দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার (৩ ফ্রেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় কুমিল্লা সদরের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. ক. ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সব গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশে আলাদা ব্যবস্থা কেন করবো। সব গণতান্ত্রিক দেশের মতোই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ছোট আকারে হবে, তখন মন্ত্রিপরিষদ এখনকার চেয়ে কমে যাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীন। তারা (বিএনপি) ভয় পাচ্ছে কেন, তাদের নির্বাচনে আসতে হবে, নির্বাচনে না এলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, যে হুমকি-ধমকি দেবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি হাওয়ার উপর মিথ্যাচার করে। তাদের তো কোনো কাজ নেই, তাদের আছে কথা। বিএনপির কয়েকজনের প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাচারের অভ্যাস রয়েছে। এরা অবিরাম মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজায়। কে তাদের হুমকি দেয়, তথ্য প্রমাণ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ শুরু
পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার; নিঃস্বার্থ সেবাই অঙ্গীকার এ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামীকাল শনিবার পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধন করবেন। পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, সেবা প্রত্যাশীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ও ভিসা সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর এটা করতে পারলে এবারের পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য পাসপোর্ট নাগরিক অধিকার : নিঃস্বার্থ সেবাই অঙ্গীকারযথার্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, তার সরকার ২০১০ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রবর্তন করে। ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও ভিসার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশি জনগণের বিদেশ ভ্রমণ সহজতর হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রায় ২ কোটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও ৬ লাখ মেশিন রিডেবল ভিসা প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অচিরেই ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন।
শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
প্রধান নির্বাচন কমিশনার খান মো. নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল একই সুযোগ-সুবিধা পাবে। বিএনপিসহ সব দল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে সিইসি বলেন, অবশ্যই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দল অংশ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শুক্রবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্র নেয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা সব সময় বলছি নিরপেক্ষ থাকব। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল একই সুযোগ-সুবিধা পাবে। তবে নির্বাচনী মাঠে কোন দল কি প্রচারণা করবে, তা তাদের একান্তই নিজস্ব বিষয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ভাল রয়েছে। মামলা হলে সেটি আদালতের ব্যাপার। আইনের বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। নূরুল হুদা বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। মনোনয়নপত্র বাছাই ৭ ফেব্রুয়ারি। অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল না করলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে মো. আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মনোনয়নপত্র আজ সংগ্রহ করেছেন। এ সময় ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার, ইকবালুর রহমান, মো. শাহাবুদ্দীনসহ ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শুক্রবার নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেবেন তিনি। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এ খবর নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটিতে যাওয়ার পরে গত বছরের ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পরে প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ছিল। আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া গত বছরের ৩ অক্টোবর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিস্তারিত পরিচয় : বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ মুস্তফা আলী ও মায়ের নাম বেগম কাওসার জাহান। সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল আফ্রিকান স্টাডিজ এবং ইন্সটিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে ছয় মাসের কমনওয়েলথ ইয়াং ল ইয়ার্স কোর্স করেন তিনি। বিএসসি ডিগ্রি নেয়ার পর এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮১ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন তিনি। তার দুই বছর পর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিচারক হিসেবে কাজ শুরুর আগে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে (১৯৯৯ সালে) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছিলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন। এরপর ২০১১ সালে তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হন। সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দুইবার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় তার পরেই ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। জ্যেষ্ঠতার ক্রমে এরপরে রয়েছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। এর আগে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্বপালনের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বয়সসীমা অনুযায়ী বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার দায়িত্বপালনের সময়সীমা ছিল ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। আর বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সময়সীমা ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
আগামীকাল বাংলাদেশে আসছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট
আগামীকাল রোববার বাংলাদেশে আসছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেই বারসেট। ৪দিনের এ সফরে ২ দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত রেনে হলেনস্টেইন। চলতি দশকে শরণার্থী নিয়ে সবচেয়ে বড় সঙ্কটে আছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই এ ইস্যুতে ঢাকার পাশে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান জানিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং দ্বি-পাক্ষিক নানা আলোচনায়ও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে ইউরোপিয় দেশগুলো। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সফর করেছেন কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প। তবে এবার ইইউ জোটের প্রথম কোন রাষ্ট্রপ্রধান আসছেন বাংলাদেশে। এ ইস্যুতে কি বার্তা থাকছে সুইস প্রেসিডেন্টের সফরে? সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হলেনস্টেইন বলেন, কক্সবাজারের কুতুপালং এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প। রাখাইনের সহিংসতার আমরা এখন অবসান চাই। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সবচেয়ে ভালো সমাধান। তবে আমরা চাই সম্মানের সঙ্গে, নিরাপত্তা এবং সদিচ্ছা নিয়ে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে। পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে মিয়ানমারের সরকার এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, মূলত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে এলেও বারসেটের ৪ দিনের সফরে গুরুত্ব পাবে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও। দেখা করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বৈঠক করবেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও। সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ৪৫ বছরের। ১৯৭২ সালেই যে কটি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো, আমরা তাদের একটি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে এ সফরে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ এবং সুইজারল্যান্ডে যৌথ বিনিয়োগ যারা করছেন, সে প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। তবে সুইস রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোন সমঝোতা চুক্তি হবে কিনা নিশ্চিত করতে না পারলেও এ লক্ষ্যে দুদেশের সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় ইউরোপের দেশগুলোকে। একদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক মন্দা, অন্যদিকে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শরণার্থী ভিড় করে এ অঞ্চলে।
ডিএনসিসি'র নির্বাচন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। গত ৯ জানুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল। এ তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৬ জানুয়ারি ভাটারা থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান এবং বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জানুয়ারি শুনানি শেষে আদালত ওই তফসিলের ওপর সকল কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ওই নির্বাচনের জন্য তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার সচিব, নির্বাচন কমিশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, নির্বাচন কমিশন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিবকে এর জবাব দিতেও বলেন আদালত। তফসিল ঘোষণা করা হলেও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় কিভাবে প্রার্থী হবেন এবং ৩০০ ভোটার সমর্থকের স্বাক্ষর নেবেন। এছাড়া যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন তাদের মেয়াদ কি আড়াই বছর, নাকি পাঁচ বছর হবে- এসব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। সম্প্রতি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচন কমিশন। এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় তফসিল ঘোষণার পর, এমনকি মনোনয়নপত্র দাখিলেরও শেষ সময় পর ৩১ জানুয়ারি। যেখানে নতুন ভোটাররা তালিকাভূক্ত হননি। মূলত এই জায়গা থেকেই রিট করা হয়। কারণ সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বতন্ত্র থেকে যারা প্রার্থী হবেন, তাদের ৩০০ ভোটার সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।