মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মোকাবিলা করতে হলে মুখোমুখি সংঘাত হতেই পারে:কাদের
মাদক ব্যবসা যারা করে তারা শক্তিশালী একটা চক্র। তাদের সাথে মোকাবিলা করতে হলে মুখোমুখি সংঘাত হতেই পারে- এ মন্তব্য করে মাদক নিয়ন্ত্রণে সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান তিনি। কাদের বলেন, ‘সরকারের কোনো ভালো কাজ বিএনপির ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে মাদক বিরোধী যে অভিযান চলছে, তাতে দেশের মানুষ খুশি, মানুষ প্রশংসা করছে আর এটা বিএনপির ভালো লাগছে না।’ বর্তমান সরকারের সময়ে এই প্রত্যাশিত অভিযান দাবি করে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এটা জনগণের বহু প্রত্যাশিত অভিযান। আজকে সুনামির মতো ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। তরুণ সমাজের একটা অংশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় এ ধরনের অভিযান শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই প্রশংসিত হচ্ছে। এটা সবার মুখে মুখে যে, সরকার জনগণের স্বার্থে এই বিষয়টিতে কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছে। এটা একটা সর্বনাশা ধ্বংসের পথ থেকে তরুণ সমাজকে ফিরিয়ে আনার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’ মাদক নিয়ন্ত্রণে সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, বিএনপি আজ পর্য‌ন্ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছাড়া আর কি করছে? তারা এই পর্যন্ত মাদকের মতো, সন্ত্রাসের মতো, জঙ্গিবাদের মতো ঘটনা নিয়ে কখনো কোনো কথা বলেনি। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশে কোনো রাজনৈতিক দল কথা বলেনি। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটা একটা সামাজিক সমস্যা। একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। এ বিষয়টায় অন্তত সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য গড়ে তোলা দরকার। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত হতেই পারে মন্তব্য করে কাদের বলেন, মাদক ব্যবসা যারা করে তারা কিন্তু শক্তিশালী একটা চক্র। তাদের সাথে মোকাবিলা করতে হলে মুখোমুখি সংঘাত হতেই পারে। নোয়াখালী সমিতির সভাপতি শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, বিকল্ল ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) এম এ মান্নান, এম মোরশেদ আলম এমপি, মামুনুর রশিদ কিরন এমপি, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
ভোগান্তিমুক্ত না হলেও সহনীয় থাকবে ঈদযাত্রা: কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন ঈদযাত্রা হয়তো ভোগান্তিমুক্ত হবে না, তবে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। মঙ্গলবার মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের মেঘনা সেতু এলাকায় আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা ও টোল প্লাজা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্টেক-হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র অন্যতম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন ছাড়াও দেশের লাইফ লাইন খ্যাত এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে দেশের প্রায় ১৭ জেলার মানুষ। তবে গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক যানজটে কার্যত অচল হয়ে পড়া এই মহাসড়কের যানজটের তীব্রতা। এবার তা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ঈদ আসন্ন হওয়ায় যানজট নিয়ে চিন্তার ভাজ যাত্রীদের কপালে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে স্বাভাবিক থাকবে পরিস্থিতি। সকালে মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসময় মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের মেঘনা সেতু এলাকায় আসন্ন ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা ও টোল প্লাজা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্টেক-হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রা হয়তো ভোগান্তিমুক্ত হবে না তবে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ঈদে ভাঙ্গা রাস্তার জন্য যাতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি না হয় সেজন্য জুন মাসের ৮ তারিখের মধ্যে রাস্তা মেরামতের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দরকার হলে দিনের পাশাপাশি সারারাতও মেরামত কাজ চলবে। এক্সেল লোড স্টেশনের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় টোল সংক্রান্ত ভোগান্তি বা দুর্নীতির তথ্য পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান, লিয়াকত আলী খোকা, সুবিদ আলী ভূইয়া, নজরুল ইসলাম বাবুসহ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিার ফাঁদ বিএনপিই তৈরি করেছিল
আগামী নির্বাচনে বিএনপি না আসলেও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে যুব লীগের আলোচনা সভায় তিনি মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিার ফাঁদ বিএনপিই তৈরি করেছিল, এবার আর তা হবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না এলেও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কম হবে না এবং গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী নিয়ে বিতর্ক চলছে। যে রণধ্বনী মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের বিজয়ী করেছে। সেই রণধ্বনী এখন কেন জানি মনে হয় শুধু আওয়ামী লীগের। এই রণধ্বনী আর কেউ উচ্চারণ করে না। তিনি আরো বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট হতে চাই না। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে ভাগ করতে চাই না। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে কেবল আমাদের সম্পদ ভাবতে চাই না। কিন্তু এদেশে তারা কারা যারা মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনীকে তারা তাদের স্লোগান হিসেবে মেনে নেয় না
বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৬
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দেশের ছয় জেলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিনগত রাতে ময়মনসিংহ, ফেনী, বরিশাল, যশোর, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসব বন্দুকযুদ্ধে নিহত চারজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ডাকাত ও অপর একজনকে ছিনতাইকারী বলে দাবি করছে পুলিশ। ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা গনশার মোড় এলাকায় শনিবার (১৯ মে) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত বিপ্লবের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, কতিপয় মাদক বিক্রেতা মাদক ভাগাভাগি করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গুলি করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হন বিপ্লব। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফেনী ফেনীর ছাগলনাইয়ায় শনিবার (১৯ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আলমগীর উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা বলেও জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে একটি মাদকের চালানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতা আলমগীর ও তার দল পুলিশকে লক্ষ্য গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় আলমগীর গুলিবিদ্ধ হলে তাকে উদ্ধার করে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) এম মোর্শেদ পিপিএম জানান, অভিযানে ওই আস্তানা থেকে একটি বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি, ১শবোতল ফেনসিডিল ও ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে রোববার (২০ মে) ভোরের দিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত ওই যুবককে ডাকাত দলের সদস্য বলে দাবি করছে পুলিশ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম পিপিএম জানান, রেবাবার রাত ৩টার দিকে শায়েস্তাবাদ সংলগ্ন নদীতে আলো দেখতে পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি টিমের সন্দেহ হয়। এগিয়ে গেলে ডাকাত সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর। ঘটনাস্থল থেকে ১টি পাইপগান, ১টি রামদা, ১টি চাপাতি ও ৮ রাউন্ড গুলির খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। যশোর রোববার ভোরে যশোরের ছুটিপুর সড়কের রুদ্রপুর গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি কেএম আজমল হুদা জানান, যশোরের ছুটিপুর সড়কের রুদ্রপুর গ্রামে দুদল মাদক বিক্রেতা বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে-এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে পুলিশও গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত-পরিচয় একজনের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ব্যাক্তি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ৪শপিচ ইয়াবা, ১টি ওয়ানশুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি ও ৪টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার তেগরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গালকাটা বাবু নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গালকাটা বাবু দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ফেনসিডিল ও ইয়াবার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) শনিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে মির্জাপুর-বালিয়া-উয়ার্শী সড়কের পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়া ব্রিজের কাছে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাতপরিচয় এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, টহলরত পুলিশ সদস্যার ওই ব্রিজের কাছে গেলে ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহততের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল। দেখেন তদন্ত চলছে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শনিবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, মহাখালীতে সাংবাদিক হেনস্তা ও পল্টনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে কারা তদন্ত করছে সেই নামগুলো মনে নেই। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই, এখনো কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগেও দেখেছেন এমপিদের বিচার হয়েছে। এখানেও কেউ ছাড় পাবে না। সে পুলিশ কর্মকর্তা হোক, সামরিক কর্মকর্তা আর রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক। কেউ আইনের ঊর্দ্ধে নয়। রযাব মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করছে, তাদের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এ জন্য আমরা পেছনের অপরাধীদের বিষয়ে জানতে পারছি না। এসব অভিযানকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক বিক্রেতা ও দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করা হচ্ছে। যারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয়ে থাকে। যেমন র&যাবের সঙ্গে ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, এমন ঘটনায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে থাকেন। এগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিনাবিচারে কিছু হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো হত্যাকাণ্ড গোপন থাকবে না সবগুলোরই বিচার হবে। মাদক যে ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে আমাদের মেধা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ২০৪১ সালে যে বাংলাদেশের রূপ দেখতে চাচ্ছি, আমরা যেতে পারবো না যদি মাদককে প্রতিহত না করি। সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমরা আস্তে আস্তে সেই জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বিশ্বাস করেন তা বাস্তবায়ন করেন। এখানে সবাই সমানভাবে চলবে এমন কোনো অশুভ শক্তিকে আমরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেবো না। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গারা আমাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো দেশে গেলে সেই দেশের মন্ত্রীরা বলেন কিভাবে আমরা রেহিঙ্গাদের মোকাবেলা করছি। তখন বলি বাংলাদেশর মানুষ খুব ভালো, তারা বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়। ১৬ কোটি মানুষকে যদি খাওয়াতে পারি, তাদেরও খাওয়াতে পারব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।
ঈদে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
ঈদের তিনদিন আগে থেকে মহাসড়কে সব রকমের ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়া ৮ জুনের মধ্যে ভাঙা-চোরা সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৯ মে) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ও সড়ক পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, ঈদে মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে ৮০০-৯০০ হাইওয়ে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি কমিনিউটি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।
দুর্নীতিমুক্ত সিটি উপহারের অঙ্গীকার নব নির্বাচিত মেয়র খালেকের
দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন উপহারের অঙ্গীকার করে খুলনা সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ যেখানে রেখে আমি মেয়র পদ ছেড়েছিলাম, সেখান থেকেই আবার কাজ শুরু করবো। সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে খুলনাবাসীকে দুর্নীতিমুক্ত খুলনা সিটি করপোরেশন উপহার দেবো। একই সঙ্গে খুলনা মহানগরীকে মাদকমুক্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে একশ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবির বিষয়ে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি শুনেছি তিনটি কেন্দ্রে কিছু সমস্যা হয়েছে। তাই বলে একশ কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণ করতে হবে- এমন দাবি কেউ মেনে নেবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি এমন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যদি তারা জয়লাভ করতো তাহলে নির্বাচন ঠিক হতো, আর এখন পরাজয় মেনে নিতে না পেরে তার আবোল-তাবোল বকতে শুরু করেছে। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমি তো পরাজিত হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কথা বলিনি। খালেক বলেন, আমি খুলনা মহানগরকে মাদকমুক্ত করবো। মাদকের সঙ্গে আমার দলেরও কেউ যদি জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে চরমপন্থীদের সখ্যতা ছিল। তারাই নির্বাচনে তাদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু তারা যখন চরমপন্থীদের সামলাতে পারেনি তখন আইন করে তাদের ধরে ক্রসফায়ার দিয়েছে। আমরা সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ হারুনার রশিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিসিবির পরিচালক শেখ সোহেল প্রমুখ।
আমরা আদেশ দলবল দেখে দেই না: প্রধান বিচারপতি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহালের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে তার আইনজীবীর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার বিধান আপিল বিভাগের রুলসে নেই। তবে তাড়াতাড়ি জামিনের রায় প্রকাশ করা হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই আদেশ দেন। বিরতির পর বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। বেল বন্ড দাখিল করার জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ দরকার। আপনাদের আজকের রায় পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। হয়তো আপনাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। আমাদের দিতে অসুবিধা নেই। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপত্তি জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া তো আরো কয়েকটি মামলায় শ্যেন এরেস্ট আছেন। তাছাড়া আপিল বিভাগ থেকে এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই। এ সময় প্রধান বিচারপতি খালেদার আইনজীবীকে বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের রুলসে শর্ট অর্ডার দেওয়ার বিধান আছে। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, হাইকোর্টের বিধান কি আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক? আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তা বলছি না। আপনারা চাইলে তা দিতে পারেন। তখন প্রধান বিচারপতি আবারও বলেন, আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো। আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তো একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কেমন কথা? দলবল নিয়ে আসলেই কি আমরা আদেশ দিয়ে দেই? দলবল দেখে আমরা আদেশ দেই না। বেঞ্চের অপর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ জে মোহাম্মদ আলীর মন্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আপনি গুরুতর আপত্তিকর কথা বলেছেন। আপনি আমাদের ফোর্স করতে পারেন না। আপনারা ভুলে যান যে কোর্টে আপনারা আইনজীবী। অফিসার অব দ্য কোর্ট। কোনো দলের লোক নন। তখন এ জে মোহাম্মদ আলী তার মন্তব্যের জন্য আদালতের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ পর্যায়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ জে মোহাম্মদ আলীকে বলেন, প্রধান বিচারপতি যেখানে নাকচ করে দিয়েছেন সেখানে আপনি তর্ক করছেন কেন? শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার আবেদন আমরা বিবেচনা করতে পারলাম না। বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

জাতীয় পাতার আরো খবর