শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
করোনা,গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৫২ জন শনাক্ত,মৃত্যু ৫ জন
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৫২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৭৯০ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭৫ জনে। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে শনিবার (২ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৯৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৮২৭ জনের। এ নিয়ে সর্বমোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬০৬৬টি নমুন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৭৯০। এছাড়া নতুন করে মারা গেছেন আরও ৫ জন। যাদের ৩ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৭৭ জন। ডিসেম্বরে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ দেশই ভাইরাসটিতে তেমন পাত্তা দেয়নি। অনেক দেশই ধারণা করেছিল, এটি চীনা ভাইরাস এবং এর সংক্রমণ হয়তো ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে না। এজন্য সেখানকার দেশগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। ফলও দিতে হচ্ছে তাদের। কারণ সংক্রমণ সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দেশগুলোর তালিকার মাঝেই নেই চীন। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলে বাড়ানো হয় সতর্কতা। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য মার্চেই ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। পঞ্চম দফায় সেই ছুটি বাড়ানো হয়েছে আগামী ৫ মে পর্যন্ত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের পদক্ষেপ অনেকটা এ রকমই। তবে এর মাঝেও কিছু কিছু দেশ তাদের দেয়া লকডাউন কিছুটা শিথিল করছে। স্পেন, জার্মানি ও ভারত সেই পথে হেঁটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিও তেমনটাই ভাবছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্যানুযায়ী শনিবার (২ মে) সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত মহামারি করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬২ জন। এছাড়া এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ৮২৯ জনের শরীরে। এরইমধ্যে ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ লাখ ৮১ হাজার ৫৯৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৮ জন। এদের মধ্যে ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৮৩ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৫১ হাজার ৩৫৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
এ সংকটে পোশাকশিল্পের মালিকদের উদার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট,এ সংকটে পোশাকশিল্পের মালিকদের উদার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন,পোষাক শিল্পের মালিকদের পাশে সরকার রয়েছে, মালিকরা আশা করি শ্রমিকদের পাশে থাকবে। ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসায় ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। দেশ ও জাতির এ সংকটকালে যারা নিবেদিত প্রাণ তাদের জাতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন,এ লড়াইয়ে ধৈর্য হারালে চলবে না,সরকার কর্মহীন মানুষদের পাশে আছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন পর্যায়ে তালিকা অনুযায়ী যে ত্রাণ কার্যক্রম চলছে তাতে পরিবহনসহ অন্যান্য শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিবেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
জাতীয় সংসদ ভবনের দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্য করোনায় আক্রান্ত
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদ ভবনের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত তিন পুলিশ ও এক আনসার সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা হলেন পুলিশ সদস্য আরিফ, বাদল, মো. খালেক এবং আনসার সদস্য মো. মাসুদ। তারা সংসদ ভবনের বটতলায় পুলিশের জন্য তৈরি করা ছাউনিতে থাকতেন। জানা যায়, আক্রান্তদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১লা মে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এদের সংস্পর্শে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। হুইপ আতিকুর রহমান জানান, সংসদ ভবনের বটতলা পুলিশ রুমে মোট ৫১ জন থাকতেন। তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। স্পিকারের বাসায় ১২ জন ডিউটি করতেন। তাদেরকে সংসদের ৩নং ব্লকে রাখা হয়েছে। ৪জন পুলিশ সদস্যকে এমপি হোস্টেলের ৬নং ব্লকে রাখা হয়েছে। অন্যদের ৪ নং ব্লকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা আছে।
করোনায় প্রাণ দিলেন আরও এক পুলিশ সদস্য,এ নিয়ে পুলিশের ৫ সদস্য মারা গেলেন
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিলেন আরও এক পুলিশ সদস্য। তিনি সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সুলতানুল আরেফিন (৪৪)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি । আজ শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এ পুলিশ সদস্য। সুলতান আরেফিনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন তিনি। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় লাশ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৫ সদস্য করোনায় মারা গেলেন।
পুলিশ সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র মাস্ক পড়ে দায়িত্ব পালন করছেন
০২মে,শনিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার এই মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সাড়ে ৬শ সদস্য। আর মৃত্যুবরণ করেছে চারজন। তবে এতে মনোবল হারাচ্ছেন না বাহিনীর সদস্যরা। তাঁরা মানুষকে সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে সচেতন করছেন। তবে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক সদস্যই শুধুমাত্র মাস্ক পড়ে দায়িত্বপালন করছেন। ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। সাধারণ দায়িত্বের বাইরে অসহায় মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে, করোনায় আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নেয়া, জানাজা পড়ানো এমনকি দাফনও করাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। জানা গেছে, করোনার এই মহামারিতে রাজধানীসহ সারাদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্বপালন করছে পুলিশের ২ লাখ সদস্য। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এপ্রিল মাস পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ছয়শ পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে শুধু ডিএমপিতে কর্মরত ২৬৩ জন। এখন পর্যন্ত দায়িত্বরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে পুলিশের চার সদস্য। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১২ শর বেশি। সহকর্মীর মৃত্যু ও আক্রান্তের খবরেও মনোবাল হারাচ্ছেন না কেউ। ঝুঁকি মাথায় নিয়েই দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে এতো দিনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক পুলিশ সদস্য শুধুমাত্র মাস্ক পড়ে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও পুলিশের সকল সদস্যকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সদস্যরা সব সময় মানুষের পাশে থাকবে উলেখ করে সবাইকে আরো বেশি সচেতন থাকার আনুরোধও জানিয়েছে পুলিশ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিলেন আরও এক পুলিশ সদস্য। তিনি সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সুলতানুল আরেফিন (৪৪)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি । আজ শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এ পুলিশ সদস্য। সুলতান আরেফিনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন তিনি। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় লাশ মরহুমের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে। উল্লেখ্য, এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৫ সদস্য করোনায় মারা গেলেন।
বাংলাদেশে প্রথম একজন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত
০২মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে এই প্রথম একজন সংসদ সদস্য নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত শহীদুজ্জামান সরকার নওগাঁ-২ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। সংসদে সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক শুক্রবার রাতে বলেন, আজ শহীদুজ্জামান সরকারের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ৬৫ বছর বয়সী শহীদুজ্জামান সরকার বর্তমানে সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ফ্ল্যাট) বরাদ্দ পাওয়া ফ্লাটে আছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য। সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। শহীদুজ্জামান সরকার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে এই মুহূর্তে তার কাশি বা অন্য কোনো উপসর্গ নেই বলেও জানিয়েছেন তার সহকর্মী ওই সংসদ সদস্য। কীভাবে শহীদুজ্জামান সরকারের দেহে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
করোনার এই দুর্যোগে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই:ওবায়দুল কাদের
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,করোনার এই দুর্যোগে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমকে সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ওবায়দুল কাদের আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। সামনে থেকে করোনা যুদ্ধে যারা সাহসীকতার পরিচয় দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন,করোনা যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে অচিরেই করোনার কালো মেঘ কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,সাহস হারানোর কোন কারণ নেই, আমাদের রয়েছে শেখ হাসিনার মতো একজন সাহসী ও সৎ নেতৃত্ব। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন,করোনা সংক্রমণ বিষয়ে টেস্টিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মহান মে দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।
ভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত প্রাণ কেড়েছে চার পুলিশ সদস্যের। গত ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন পুলিশ সদস্য। সারা দেশে সর্বমোট আক্রান্ত পুলিশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে। যা গতকাল ছিলো ৫৩৮। গত ২৩শে এপ্রিল আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২১৮। ২৮শে এপ্রিল ছিলো ৩৯২ জন। এভাবে প্রতিদিনই পুলিশে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। কোয়ারেন্টাইনে আজ পর্যন্ত রয়েছেন ১ হাজার ১শ ৫৪ জন। গতকাল কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ১ হাজার ১শ১৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ঢাকায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আতঙ্ক নয় বরং সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রত্যেকের কাছে সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে যে চার পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের চার জনই ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরমধ্যে একজন ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে। ডিএমপিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২৮ পুলিশ সদস্য। পুলিশের পরিবহন, প্রোটেকশন, উন্নয়ন, গোয়েন্দা, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, আটটি অপরাধ বিভাগসহ ২২টি বিভাগের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কনস্টেবলসহ ১২ জন নারী সদস্যও রয়েছেন। সচেতনতার বিষয়ে ডিএমপির থানা পুলিশের এক সদস্য বলেন, ইচ্ছে থাকলেও নিজেকে সবসময় সুরক্ষিত রাখা যায় না। উদহারণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কোথাও কোনো লাশ পড়ে থাকলে সেটা মর্গে নিয়ে যেতে এখন কেউ এগিয়ে আসবে না। পুলিশকেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এছাড়াও হাট-বাজার বসার সময় নিয়ন্ত্রন, ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, মানুষের চলাফেরার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কাছাকাছি যেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। কোথাও কোনো অপরাধ মূলক কর্মকা- ঘটলে পুলিশকেই যেতে হয়। কিছু না ঘটলেও দিনে রাতে বাইরে ডিউটি করতে হয়। সবকিছু করতে গিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা দেয়া কঠিন হয়ে যায় বলে মনে করেন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা। সূত্রমতে, ঢাকার পরেই আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। এসব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, পুলিশ সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন চার সদস্য। পুলিশ সদর দপ্তর এই চার সদস্যের পরিবারের পাশে রয়েছে। তিন জানান, করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২৯শে এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০)। তিনি ওয়ারী ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনের সময় করোনায় সংক্রমিত হন। পুলিশের মধ্যে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তারপর দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল খালেক ও ট্রাফিক কনস্টেবল আশেক মাহমুদ। আজ সকালে মারা যান স্পোশাল ব্রাঞ্চের এসআই নাজির উদ্দীন। তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে চার পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
একদিনে আরও ৫৭১ জন আক্রান্ত, মোট ৮২৩৮
০১মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৫৭১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ২৩৮ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭০ জনে। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৯৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। তাদের মধ্যে আরও ৫৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৩৮ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৯টি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৪ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, যারা মারা গেছেন, তাদের একজন পুরুষ, একজন নারী। একজন ষাটোর্ধ্ব ও একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব। ব্রিফিংয়ের শুরুতে সারাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে তাদের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। আজ মহান মে দিবস। কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা আর শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবি নিয়ে আন্দোলনের ফসল হিসেবেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছিল ৮ ঘণ্টায়। শ্রমিকদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছেন এমন দাবিই ছিল তখন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন আর লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে আজ যেন শ্রমিকরা অনেকটাই ক্লান্ত। যে দেশে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেই আজ আন্দোলন হচ্ছে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে দিতে। করোনার কারণে লকডাউন হওয়ায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই জরুরি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বাদে সব কিছুই এখন বন্ধ। আর এই বন্ধের কারণে বেশিরভাগেরই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় যেই আন্দোলন হচ্ছে তার মাত্রাটা যুক্তরাষ্ট্রে যেন একটু বেশিই। কারণ দেশটির মিশিগান প্রদেশে গতকাল সাধারণ জনতা লকডাউন খুলে দেয়ার জন্য বিক্ষোভ করেছেন বন্দুক উঁচিয়ে। আর বিক্ষোভের মাত্রাও ছিল ভয়ংকর। কারণ তারা বন্দুক নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে ঢুকে পড়েছিলেন আইনপ্রনেতাদের ভবনে। তবে কোনো ধরণের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই সেই বিক্ষোভ দমাতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রতিবছর এই দিনে দেশে শ্রমিকরা নানা কর্মসূচি পালন করলেও এবার স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাতিল করা হয়েছে সব ধরণের সভা সমাবেশ। শ্রমিকরাও সেভাবেই পালন করছেন দিনটি। সরকারি ছুটির এই দিনটিতে কাজ থেমে নেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরতদের। প্রতিদিনের মতো আজও তারা করোনার আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছেন সাধারণের সামনে। শত বিতর্ক থাকলেও সংস্থাটি নিয়মিতই জানিয়ে যাচ্ছে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি। মনে করিয়ে দিচ্ছে, করোনা থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে সবাইকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বারবার করণীয় বাতলে দিলেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। প্রতিদিনই বাড়ছে এতে সংক্রমণের সংখ্যা। এই সংখ্যা এখন ছাড়িয়ে গেছে ৩৩ লাখ। এর এতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষের। এতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত যুক্তরাষ্ট্রে গেল ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন দুই সহস্রাধিক মানুষ। তবে আশার বাণী হলো, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের প্রায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর