৭৮ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু
১০মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের ৭৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন(ইসি) ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন থেকে সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে কোনও রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এদিকে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। ৭৮ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের দুইদিন আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরের দিন মোট ৫দিন অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৪ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ পাঠানো হয়েছে। Rapid Action Battalion (Rab), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, আনসার এবং গ্রাম পুলিশের প্রায় ১ লাখ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার ইসি তিন উপজেলায় নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা তিনটি হলো-লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা। এছাড়া জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ ও নাটোর জেলার নাটোর সদর উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই তিন উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না এবং রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১৬ জন চেয়ারম্যানসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে: ডিএমপি কমিশনার
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে মিছিলে মিছিলে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শনিবার (৯ মার্চ) সকাল থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও একমুখী আচরণ এবং ছাত্রলীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল, বাম সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের প্রার্থীরা। এদিকে, দুপুরে জাতীয় ছাত্র সমাজের মিছিলে ধাওয়া দেয় বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে নির্বাচনের দিন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সকালে ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র সিসি টিভির আওতায় থাকবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি এলাকাকে এরইমধ্যে আমরা তল্লাশি ও নজরদারির আওতায় এনেছি।
শুধু আইন করলে হবে না তার সাথে সচেতনতা বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু আইন করে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে না, সচেতনতা সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৯ মার্চ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, নারী নির্যাতনকারীর পরিচয় সমাজের সর্বস্তরে উন্মোচন করে দিতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করলে নারীরা সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, নারী যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে তাহলে পরিবারে, সমাজে তার মতামতের গুরুত্ব থাকবে। এই গুরুত্ব পাওয়ার জন্য নারীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু আইন করলে হবে না তার সাথে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারীর মতামতের গুরুত্ব বাস্তবায়নে নারী পুরুষ সকলে এক হয়ে কাজ করা আহ্বান জানান তিনি।
কথা বলছেন কাদের
৯মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এছাড়া শনিবার (৯ মার্চ) সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সকালে তার শ্বাসনালীর নল খুলে দেয়া হয়েছে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দলের সিনিয়র সদস্য ডা. সিবাস্টিন কুমার সামিকে উদ্ধৃত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসার রিজভী এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, ওবায়দুল কাদেরের রক্তচাপ স্বাভাবিক, হৃদযন্ত্র ও কিডনি কার্যক্ষম রয়েছে। ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এছাড়া নিওরোলজিক্যাল কোনো সমস্যাও নেই। শরীরের দুর্বলতা কেটে গেলে দু একদিনের মধ্যে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে।
কোন বাধায় কাজ হবে না সাফ কথা প্রধানমন্ত্রীর
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: যত বাধাই আসুক পুরান ঢাকায় কোন রাসায়নিকের গুদাম থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও দুই সিটির নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ নেয়া শেষে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নতুন প্রতিনিধিদের শপথের মর্যাদা রক্ষা করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব আয় বাড়ানোরও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। উপনির্বাচনে জয়লাভের এক সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নবনির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে বাকি থাকা মেয়াদ ১ বছরের জন্যসরকারপ্রধানের কাছে শপথ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে শপথ নেন দুই সিটি করপোরেশনে নবনির্বাচিত ৫০ জন কাউন্সিলর। জনপ্রতিনিধিদের এই শপথ অনুষ্ঠানে ঢাকাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। নগরের উন্নয়নে কাজ করতে স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। জানান, যে কোনো মূল্যে আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করা হবে অতি দাহ্য পদার্থের গোডাউন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে বসতি সেখানে গোডাউন রাখতে পারবে না। শো-রুম থাকতে পারে। পণ্য উৎপাদন যা করা হয় সেখানে বিক্রি করা যেতে পারে। কিন্তু গোডাউনের জন্যে আমরা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা করে দেব। যেখানে নিরাপদে দাহ্য পদার্থগুলি থাকতে পারে। যে যত বাধা দিক কোন বাধা মানবো না আমরা এটা নিয়ে যাব। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া নবগঠিত ইউনিয়নগুলোর দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, 'উত্তর দক্ষিণের রাস্তাগুলি ছিল কিন্তু পূর্ব পশ্চিমের রাস্তা একেবারে ছিল না বললেই চলে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করেছি। নতুন যে ইউনিয়নগুলো যুক্ত হলো আমি নির্দেশ দিয়েছি একটা পরিকল্পনা নিতে সব ব্যবস্থার যেন সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন হয়। শপথের মর্যাদা রক্ষা করে নবনির্বাচিতদের কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোষহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের এই ভাষণকে ইতোমধ্যে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাক্সিক্ষত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এর আগে একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী শ্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। লক্ষ শপথের বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। পরের দিন প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জানা যায়, সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনো মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির কণ্ঠে তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এরপর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু বলেন, ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো। আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা।
জজকোর্ট ভবনের লিফট ছিঁড়ে আহত ১২
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা জজকোর্টের পাঁচতলা ভবনের লিফট ছিঁড়ে ৮জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেটর কাওসার জানান, এই ঘটনায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন মহিলা। তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছয়তলা ভবনের পাঁচতলা থেকে লিফট ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লিফটে মধ্যে পুরুষ ও নারী আইনজীবী, কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীরা ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস অফিসের জিয়াউর রহমান জানান, জজকোর্টের পাঁচতলা ভবনের একটি লিফট উপর থেকে নিচে ছিঁড়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেখানে তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কয়েকজন আহত আছেন বলে জেনেছি।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়ে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড়ে পোশাক শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়েছেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তারা এ কর্মসূচি শুরু করছেন বলে জানা গেছে। আজ সকাল আটটার পর থেকে ওই এলাকায় অবরোধ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার কর্মীরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করায় মহাখালী-মগবাজার সড়কসহ আশপাশের এলাকার সব সড়কে তীব্র যানজট শুরু হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তাছাড়াও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকরা যেন সড়ক ছেড়ে দিয়ে আন্দোলন করে পুলিশ সেই চেষ্টা শুরু করছে। সকাল ১০টার কিছু পরে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সড়ক ছেড়ে পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকরা। ফলে ওইসব এলাকার সড়কে আবার যানচলাচল শুরু হয়।
শপথ নিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম
৭মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম শপথগ্রহণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে তিনি শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এদিকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলররাও শপথগ্রহণ করেছেন। কাউন্সিলরদের শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে ও দুটি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন ও ডিএসসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডিএনসিসিতে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আতিকুল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পান ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। এই ভোটে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ কয়েকটি দল। সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক মেয়র পদে থাকাবস্তায় মৃত্যুবরণ করলে উপ-নির্বাচন ডাকে নির্বাচন কমিশন। আনিসুল হক নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। শপথ গ্রহণ করেন একই বছরের ৬ মে। ১৪ মে তিনি প্রথম সভা করায় উত্তর সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে। যার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে অর্থ্যাৎ চলতি বছর নভেম্বরেই উত্তর সিটি সাধারণ নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচিত আতিকুল ইসলামের মেয়াদ হবে সাড়ে ১৪ মাসের মতো।