দেশীয় মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করুন : প্রধানমন্ত্রী
২২,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৎস্য চাষে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপর হতেও বলেন তিনি। আজ বুধবার গণভবন লেকে পোনামাছ অবমুক্ত করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২০ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মৎস্য চাষে গতানুগতিক পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে মৎস্য সম্পদের চাহিদার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে প্রায় পৌনে পাঁচশ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এবং ২৫০ প্রজাতির বেশি স্বাদুপানির মাছ রয়েছে। এছাড়াও চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুকসহ অসংখ্য মৎস্য সম্পদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলে একদিকে যেমন নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় তেমনি সমৃদ্ধ হয় জাতীয় অর্থনীতি। মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের জনগোষ্ঠীর শুধু পুষ্টি চাহিদা পূরণ নয়, ব্যাপক কর্মসংস্থান, বিদেশে মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এ খাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে নানাবিধ কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে গত ১১ বছরে মাছের উৎপাদন ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাদুপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ এবার বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। দেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে জনপ্রতি দৈনিক ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ আমর গ্রহণ করছি। মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এর মধ্যেও মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে মাছের উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। দেশের স্বার্থে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। মৎস্যখাতের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চাষের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়াতে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতে ১৯৭৩ সালে গণভবনের লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। জাতির পিতা পাট, চামড়া, চা-এর সঙ্গে মাছকেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। মৎস্য সম্পদ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় খাত বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। গণভবন লেকে পোনামাছ অবমুক্তকরণের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করিম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
নেতিবাচক রিপোর্ট পাওয়া অনলাইন বন্ধ করে দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী
২২,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নেতিবাচক রিপোর্ট পাওয়া অনলাইনগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা এ মাসের মধ্যেই কিছু অনলাইনকে রেজিস্ট্রেশন দেবো; যেগুলোর ব্যাপারে ইতিবাচক রিপোর্ট এসেছে। আর যেগুলোর ব্যাপারে নেতিবাচক রিপোর্ট এসেছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় এ কথা জানান তথ্যমন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে ধন্যবাদ জানাই; তিনি পদত্যাগ করেছেন এ জন্য। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল; বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তা-ব্যক্তিদের নিয়ে। সে প্রেক্ষাপটে তার পদত্যাগকে আমি মনে করি স্বাস্থ্য অধিপ্তরকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।- বিডি-প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
২২,জুলাই,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে দেশের বিশাল আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এ প্রকল্পে এরই মধ্যে ২০টি বহুতলভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। যা বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে গণভবন থেকে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরই মধ্যে উদ্বোধনী উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানস্থলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি নির্মিত ভবনগুলোতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার খুরুশকুলে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মিত ভবনগুলোর বসতঘর উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চ্যুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সরাসরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত ২০টি ভবন উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং ১৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন। একই সময় খুরুশকুল প্রান্তে তিনজন উপকারভোগী কর্তৃক আশ্রয়ন প্রকল্পস্থলে রোপণ করা হবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর মধ্যে সংলগ্ন ৬৮২ একর খাস জমি বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দ সহকারে খতিয়ান চূড়ান্ত করা হয়েছে। চিহ্নিত এ পরিমাণ জমিতে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪৪০৯ পরিবারের লোকজনকে পুনর্বাসন করার জন্য বাঁকখালী নদীতীরের খুরুশকুলের ২৫৩ দশমিক ৩৫ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আশ্রয়ন প্রকল্প। ২০১৫ সালে শুরু হয় প্রকল্পের ভরাটের কাজ। প্রকল্পে চারতলাবিশিষ্ট ২৪৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ২০টি ভবন নির্মাণ করেছে। প্রতিটি ভবনে রয়েছে ৩২টি করে ইউনিট। নির্মিত এসব ভবনে আশ্রয় পাবে ৬৪০টি পরিবার। পুনর্বাসিত এলাকায় স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদরাসাসহ সবই থাকবে। আশ্রয়ণের ২০টি ভবনের নাম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী- প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় এ প্রকল্পে নির্মিত ২০টি অত্যাধুনিক ভবনের নামকরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতা অন্য রকম। এটিও এর একটি প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে ভবনের নামগুলো রেখেছেন। ভবনের নামগুলো হচ্ছে- ১) সাম্পান, ২) কোরাল, ৩) রজনীগন্ধা, ৪) গন্ধরাজ, ৫) হাসনাহেনা, ৬) কামিনী, ৭) গুলমোহর, ৮) গোলাপ, ৯) সোনালী, ১০) নীলাম্বরী, ১১) ঝিনুক, ১২) কেওড়া, ১৩) মুক্তা, ১৪) প্রবাল, ১৫) সোপান, ১৬) মনখালী, ১৭) শনখালী, ১৮) দোলনচাঁপা , ১৯) ইনানী ও ২০) বাঁকখালী।- বাংলা নিউজ
শাহেদের মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেল Rab
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা চিকিৎসায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ শাহেদের প্রতারণার মামলার তদন্তভার Rab কে দেয়া হয়েছে। এতদিন মামলার তদন্ত করছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আলোচনা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল Rabর প্রতিনিধি দল। মামলার বিষয়ে বৈঠক করতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান Rab এর গোয়েন্দা শাখার প্রধান সারওয়ার বিন কাশেম ও Rab এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। বর্তমানে মো. শাহেদের মামলাটি তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। সেই মামলাটিই তদন্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল Rab। করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত ৬ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় Rab। এরপর রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে Rab। মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এজাহারে। এরপর থেকেই পালিয়ে ছিলেন শাহেদ। ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্তের দেবহাটা থানার সাকড় বাজারের পাশে অবস্থিত লবঙ্গপতি এলাকা থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদকে গ্রেফতার করে Rab। পরে সেখানে থেকে তাৎক্ষণিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। এরপরে ১৬ জুলাই শাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবকালে রাস্তার হকার, রিকশা-ভ্যানচালক থেকে শুরু করে গণপরিবহন এবং অফিস-আদালতে সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবাল (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসরত সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার প্রযোজ্য। পরিপত্র সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব/সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট অফিসে আগত সেবা গ্রহিতারা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আগত সেবা গ্রহিতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গীর্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। শপিংমল, বিপণিবিতান ও দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মার্কেট ব্যবস্থাপনা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। মাস্ক পরিধান ব্যতীত ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও হাট-বাজার কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। গণপরিবহনের (সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশপথ) চালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে ওঠার আগে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মালিক সমিতি বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকরা বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ সব পথচারীর মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করবেন। হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তি এবং জনসমাবেশ চলাকালীন আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করবেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতি নিশ্চিত করবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে আগত ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান নিশ্চিত করবেন। বাড়িতে করোনা উপসর্গসহ কোনো রোগী থাকলে পরিবারের সুস্থ সদস্যরা মাস্ক ব্যবহার করবেন, উল্লেখ করা হয় পরিপত্রে।
১১৩৬ কোটি টাকার ৬ প্রকল্প অনুমোদন
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ১৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একনেক সভায় যুক্ত হন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-ব্রিজিং প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্প এলাকায় প্রস্তাবিত ভৌত কাজসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, উপকূলীয় চর উন্নয়ন বিষয়ক উপাত্ত সংগ্রহ ও উপকূলীয় চর এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ বসবাস স্থাপন ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা হবে। প্রকল্পটি নোয়াখালীর সুবর্ণচর, হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহ হলো ১৭১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বিকল্প বাঁধ নির্মাণ, নদী তীর প্রতিরক্ষা ও ২৯৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ। ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান অপ্রশস্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, রূপসা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে খুলনা শহরে প্রবেশের জন্য স্বল্পতম দূরত্বের সড়ক নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট হ্রাস করা হবে। ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনারবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় লাঙ্গলবন্দ-কাইকারটেক-নবীগঞ্জ জেলা মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ হতে মিনারবাড়ী পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে নিরাপদ, আরামদায়ক, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা জেলার তিতাস ও হোমনা উপজেলায় তিতাস নদী (লোয়ার তিতাস) পুনঃখনন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া তিতাস নদী পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জলাবদ্ধতা দূর করা হবে। এর পাশাপাশি অনাবাদী জমি আবাদযোগ্য করা, নৌ চলাচল সুবিধা সৃষ্টি, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ৪০১ কোটি টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা জেলার সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোঘাট ও খানাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে গাইবান্ধা জেলার সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বাজার, ফসলী জমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা হবে। ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী ও মৌসুমী পতিত জমি চাষের আওতায় এনে প্রকল্প এলাকার শস্যের গড় নিবিড়তা ২০৮ শতাংশ থেকে ২১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। বিদ্যমান শস্য বিন্যাসে বিভিন্ন ফসল আবাদের মাধ্যমে বহুমুখী শস্য আবাদ এলাকা গড়ে তোলা হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর