ইউএস-বাংলা বিমানের জরুরি অবতরণ ঢাকায়
উড্ডয়নের মাত্র ১৫ মিনিট পরেই ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। আজ সকালে বিমানটি উড্ডয়নের পর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটির পাইলট ফলস ইন্ডিকেশন পাওয়ায় জরুরি অবতরণ করেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম এ কথা বলেছেন অনলাইন ডেইলি স্টারকে। তিনি বলেন, বিমানটি আজ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। পরে বিমানের ভিতর থেকে তিনি ফলস ইন্ডিকেশন পান। তবে ফলস ইন্ডিকেশন বলতে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। বিমান অবতরণ করার পর চেকআপ করা হয়। এতে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় নি। ফলে অল্প সময় পরেই তা গন্তব্যে উড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কামরুল ইসলাম। এর আগে ১২ই মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় একই সংস্থার একটি বিমান। তাতে ২৬ বাংলাদেশী সহ নিহত হন কমপক্ষে ৫১ জন।
স্বর্ণদ্বীপ যাচ্ছেন আজ রাষ্ট্রপতি
শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুর ১২টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি স্বর্ণদ্বীপে অবতরণ করবে। এরপর তিনি ১৭ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সেনাবাহিনীর তৈরি বিদেশি নারকেল বাগান ও ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এবং মিলিটারি ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করবেন। পরে তার স্বর্ণদ্বীপের সাইক্লোন শেল্টারে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথাও রয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে স্বর্ণদ্বীপে ব্যাপক নিরপাত্তার পাশাপাশি সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্ণিল আয়োজন উদযাপন হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়ায়
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চলছে আতশবাজি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা বর্ণিল আয়োজন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে তারা মেতে ওঠেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজে আনন্দ শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরু হলো নতুন দিগন্তের পথচলা। ১৯৭১ এ যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের এই সাফল্য উদযাপনে যেন বর্ণিল এই মহানগর। ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি উদযাপনের দিনে রাজধানীর সব পথ যেন মিশে যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। উৎসবের এই দিনে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি আর দোয়েল চত্বরে একে একে জড়ো হতে থাকে সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তর ও সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা নাগাদ শুরু হয় মূল শোভাযাত্রা। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ এগিয়ে গেছে বহুদূর। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। তুলে ধরা হয় অদম্য বাংলাদেশকে। স্বপ্ন পূরণের এই উৎসব যেন কেবল শুরু। 'অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ' এ শ্লোগানে এগিয়ে চলা শোভাযাত্রায় সহযাত্রীদের লক্ষ্য এখন ২০৪১ এ। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সেদিনই হবে কাঙ্ক্ষিত এক বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সব স্কুল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অর্জন। দেশ এগিয়ে যাবে, পৌঁছবে তার লক্ষে, এ প্রত্যাশা এখন সবার।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,আজকের যা কিছু অর্জন সবই জনগণের
জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ না দিলে দেশকে এগিয়ে নেবার সুযোগ হতো না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজের জন্য নয় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই তার লক্ষ্য। বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ৪৭ বছর পর এ সফলতা অর্জনের পথ সুগম ছিল না। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে আর থেমে না যায় সেজন্য নিঃশর্তভাবে দেশের কল্যাণে সর্বস্তরের জনতাকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ৪৭ এর বাংলাদেশ। গেল দশকে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তিখাতে শুধু বাংলাদেশের অভাবনীয় পরিবর্তনই ঘটেনি, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, পাল্টে গেছে এ তটের মানুষের জীবনযাত্রাও। গেল ৭ বছর ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি, সূচক উন্নয়নের এ ধারায় চলতি বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, মানববসম্পদ উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক ভঙ্গরুতা এমন নানা সূচকে এ সফলতা অর্জনের ফলে অর্ধশতকের স্বল্পোন্নত দেশের তকমা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির দোরগোড়ায়। তাই দারিদ্র মোচনের এ প্রাপ্তিকে উদযাপনের জন্য বাঙালির এই আনন্দ আয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে যে আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে স্থাপিত জাতির পিতার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের স্বলোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ-পত্র হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর সরকারপ্রধানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৩ বছরের মধ্যে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি এনেছিলেন জাতির জনক। এরপর দেশকে উন্নয়নশীল অভিযাত্রায় উন্নীত করার ৪৬ বছরের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আজকের যা কিছু অর্জন তা সবকিছুই জনগণের অর্জন। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত স্বাধীন একটা দেশ রেখে গিয়েছিলেন আর আমরা সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।' এসময় তিনি বলেন, আমরা বেসকারি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।' দেশকে এগিয়ে নিতে পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাঙালি জাতিকে যে দাবিয়ে রাখা যাবে না তা আবারো আমরা প্রমাণ হয়েছে। আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কে অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কে আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।' এর আগে অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকেট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নেপাল থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে বাকি ৩ মরদেহ
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। মরদেহ গ্রহণ করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। এর আগে দুপুর দেড়টায় নেপাল থেকে মরদেহবাহী বিমানটি ছাড়ার কথা থাকলেও তা দুই ঘণ্টা পরে ছাড়ে। মরদেহবাহী বিমানটি বিকেল পাঁচটায় এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে আলিফুজ্জামানের মরদেহ খুলনায়, নজরুলের মরদেহ রাজশাহী ও পিয়াসের মরদেহ বরিশাল নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগে সকাল ৯টার দিকে নেপালে, বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ই মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন মারা যান। এরমধ্যে সোমবার ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন:প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ। এমনটাই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভাষণ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দেয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায়, সেজন্য নিঃশর্ত-ভাবে দেশের কল্যাণে সবার আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতার এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি বলেন,' বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গেছেন। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশকে উন্নত করতে পেরেছি।' এ সময় গলা ভারী হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। চোখে অশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয় আজকে যে বাংলাদেশের মানুষের অর্জন, তিনি কি বেহেস্তে থেকে দেখতে পাবেন! তিনি কি জানতে পারবেন! আমি এখানে আসার আগে আমার ছোট বোনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। যে আব্বা যেটা চেয়েছিলেন তার বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে। আজকে সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। আমরা একটা ধাপ এগিয়ে গেছি।' শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'যদি তিনি বেঁচে থাকতেন হয়তো দশ বছরের মধ্যে আমরা এই অর্জন করতের পারতাম। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের বহু বছর লেগে গেল। অনেক সময় লেগে গেলো। ৪৭ বছর হলো আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আগামী ২৬ তারিখ আমাদের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্ণ হবে। দীর্ঘ সময় পরে আমাদের এই অর্জন। নিশ্চয়ই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। কত মানুষের আত্মত্যাগ। নিশ্চয়ই তাদের আত্মা শান্তি পাবে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা এত সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। কেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলবো। কেন আমরা পারবো না নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমরা যে পারি সেটা আজ প্রমাণ করেছি।' এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরণ অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা দেয়া হয়।
কিডনি ফাংশন কমে আসছে পাইলট আবিদের স্ত্রী'র
নেপালের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপির অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক। তার মস্তিষ্ক এখনো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না এবং শারীরিক অবস্থাও খারাপের দিকে। কৃত্রিম শ্বাস যন্ত্রের মাধ্যমে তার শ্বাস প্রশ্বাস চলছে বলেও জানান চিকিৎসক। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সের যুগ্ম পরিচালক ডা. বদরুল আলম বলেন, 'গত কয়দিনের তুলনায় খারাপের দিকে। বিশেষ করে কিডনি ফাংশন কমে আসছে। অন্যান্য কার্যক্রমও কমে আসছে। আমরা আমাদের সব দিয়ে চেষ্টা করব।' পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান নিহত হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেন তিনি। গত রোববার ভোরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আবিদ সুলতানের স্ত্রীকে। সেখান থেকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
জনগণ ও গণমানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই রাজনীতি করি:প্রধানমন্ত্রী
যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মেনে নিতে পারেনি , তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি জানান, জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও গণমানুষের রাজনীতির জন্যই রাজনীতি করি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভাষণ শুরু আগে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। তিনি বলেন, 'উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম গ্রাম থেকে উন্নয়ন। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেয়েছি। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারেনা। তাই আমরা শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য বিনামূল্যে বই প্রদান শুরু করলাম এবং উপবৃত্তি চালু করেছিলাম।' প্রধানমন্ত্রী বলেন,'আজকের যা কিছু অর্জন তা সবকিছুই জনগণের অর্জন। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পন্নোত স্বাধীন একটা দেশ রেখে গিয়েছিলেন আর আমরা সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি।' এসময় তিনি বলেন, আমরা বেসকারি খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের এই অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায়। এই অগ্রযাত্রা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলন, বাঙ্গালি জাতিকে যে দাবিয়ে রাখা যাবে না তা আবারো আমরা প্রমাণ হয়েছে।' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতার এক পর্যায়ে পারিবারিক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এর আগে সকালে উত্তরণ অভিযাত্রা উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে স্মারক ডাকটিকিট, ৭০ টাকার স্মারক নোট এবং উন্নয়ন ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শুভেচ্ছা। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এদিকে বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে সাংস্কৃতিক ও আলোক উৎসব। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সমবেত হবেন সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তর ও সংগঠনের ব্যক্তিরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, বাংলা একাডেমি ও দোয়েল চত্বর থেকে জিপিও হয়ে শোভাযাত্রা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পশ্চিম গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। এছাড়া শিল্পকলা, মৎস্য ভবনের সামনে দিয়ে কদম ফোয়ারা হয়ে প্রেসক্লাব ও বায়তুল মোকারম মসজিদের সামনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উত্তর গেইট দিয়ে প্রবেশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শিল্পভবন, নগর ভবন ও গোলাপশাহ মাজার দিয়ে আসা শোভাযাত্রা প্রবেশ করবে স্টেডিয়ামের পূর্ব গেইট দিয়ে। এখানেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অফিসের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রকার দাহ্যবস্তু বহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিশ্বের উন্নত ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে'৪১ সালের মধ্যে
২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ২০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশকে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাথমিক স্বীকৃতি দেয়া উপলক্ষে বুধবার সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন চলতি বছরেই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ২ থেকে ৩ টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট ভাল উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন দেশে ধনী শ্রেণি যত বাড়বে অর্থনীতি তত বড় হবে। এছাড়া এমডিজির মত এসডিজি অর্জনেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, 'ধনী মানুষ যত বেশি হবে, যত মধ্যম শ্রেণির মানুষ শক্তিশালী হবে আমাদের অর্থনীতির বুনিয়াদ আরো শক্তিশালী হবে। আমরা যদি ৯ বছরে ১৫টি দেশকে পিছনে ফেলে আজকে ৪৩ আসতে পারি, তাহলে ৪১ সালে ২০ টি দেশের মধ্যেও আসতে পারব।'

জাতীয় পাতার আরো খবর