সোমবার, মার্চ ১৮, ২০১৯
মা হিসেবে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে ,ক্লাসে ফিরে যাও
অনলাইন ডেস্ক :শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন অভিভাবক, শিক্ষক বা মা হিসেবে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে ও অতি সত্ত্বর বাস্তবায়িত হবে। তাই শিক্ষার্থীদের বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ফিরে যাও। পড়াশোনায় মনযোগী হও, শনিবার (৪ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত পাঁচটি বাস পাওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। এ দিন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বাসগুলোর চাবি হস্তান্তর করেন। ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একই কলেজের ছাত্রী দিয়া খানম প্রাণ হারান। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকেছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘আমরা গোয়েন্দা সূত্রে প্রমাণ পেয়েছি, স্কুল ড্রেস তৈরির হিড়িক পড়েছে। স্কুলড্রেস পরে ছাত্রদের মাঝে ঢুকে যৌক্তিক আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে একটি চক্র। এ কারণে আমরা ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।’ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শনিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার আরও বলেন, ‘ছাত্রদের উদ্দেশ্য মহৎ। একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায় তারা। নিরাপদ সড়ক চায় তারা। সরকার যেমন সমর্থন দিয়েছে, আমরাও পূর্ণ সমর্থন করি। তবে ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট, সোশাল মিডিয়া রিপোর্ট ও সোর্স রিপোর্টের ভিত্তিতে এটা নিশ্চিত, এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। যার কারণে আমরা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। অনুপ্রবেশকারীদের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বেশে ঢুকে নানা ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক ভায়োলেন্স করার অপচেষ্টা লক্ষ করছি।
তারা নৈতিক ও সাহসিকতার শিক্ষা দিয়েছে
অনলাইন ডেস্ক :শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নৈতিক ও সাহসিকতার শিক্ষা দিয়েছে। তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, তাদের অনেক ভুল ভ্রান্তি রয়েছে আগামীতে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করবে। আগামীকাল ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর ঘোষণা দিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কঠোরভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের নৈতিক ভিত গড়ে দিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে রেডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এ সময় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এছাড়া আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে এ ঘটনার জেরে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ শিক্ষার্থীদের ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ফেরাতে শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতা চাইলেন কাদের
অনলাইন ডেস্ক :শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাদের দাবির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়ে গেছে বাকিগুলোও হবে— শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানান তিনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে ধানমণ্ডি কার্যালয়ে দলের সম্পাদকরা সভা করেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ আন্দোলনে বিএনপির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক মতলব নিয়ে ছাত্রদের এ যৌক্তিক অরাজনৈতিক আন্দোলনকে অযৌক্তিক খাতে প্রবাহিত করার সৃষ্টি করতে চাইছে। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ যেন এ আন্দোলনে রাজনীতির রং ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান। আগামী দু'একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক
অনলাইন ডেস্ক :আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্টোপলিটন ইউনিভার্সিটির ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক—উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। নূরুল ইসলাম নাহিদ আরো বলেন, রাস্তাঘাট দিনের পর দিন বন্ধ করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা এটা আন্দোলনের কোনো পদ্ধতি হতে পারে না- এটা শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছেন। আশাকরছি এবার শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের সকল দাবি বাস্তবায়ন করে তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা হবে। গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় ঢাকার রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরে অন্য জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। আন্দোলন থেকে ওঠা ৯টি দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন পরিবহন সমিতির
অনলাইন ডেস্ক :দেশে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি— কিন্তু সড়কে গাড়ি চলাচলে কোনও নিরাপত্তা নেই সেজন্য বন্ধ রাখা হয়েছে জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চার শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে সে জন্যই রাস্তায় যানবাহন নামছে না। শুক্রবার বিকেলে মহাখালী টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যখন সড়কে নিরাপদ বোধ করবো তখন থেকে গাড়ি নামাবো। এটা আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনও কর্মসূচি নয়। তিনি বলেন, আমরা আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি— আইন অনুযায়ী দোষীদের যে শাস্তি হোক আমরা মেনে নেবো। নতুন আইনকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে র্যা ডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এছাড়া আরও শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার জেরে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ শিক্ষার্থীদের ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীসহ সারাদেশে রাস্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক গণপরিবহন নামানো হচ্ছে না, দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
৫টি বাস পেল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
অনলাইন ডেস্ক :শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে পাঁচটি বাস উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বাসগুলো তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। এ সময ছাত্র-ছাত্রীদের উপহার হিসেবে ওই বাসের চাবিগুলো তুলে দেন তিনি। কলেজের পক্ষ থেকে বাসগুলোর চাবি গ্রহণ করেন ঢাকা অঞ্চলের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল ও কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং লজিস্টিকস এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সরওয়ার হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যরা। বাসগুলো পাওয়ার পর কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান। পাঁচটি বাসের মধ্যে একটি দ্বিতল, একটি ৩০ আসন বিশিষ্ট কোস্টার, বাকিগুলো একতলার। বাস পাওয়ার পর কলেজের অধ্যক্ষ নুর নাহার ইয়াসমিন সাংবাদিকদের সামনে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয় ওই দুর্ঘটনায় যে আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন তাদেরকে সিএমএইচে নেয়া হয়। চারজনকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি চারজনের অবস্থা উন্নতির দিকে। অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য বাস দেওয়া হয়েছে। একজন অভিভাবক, শিক্ষক বা মা হিসেবে আমি বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে ও অতি সত্ত্বর বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষার্থীদের বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ফিরে যাও। পড়াশোনায় মনযোগী হও। তোমাদের জন্য সড়ক নিরাপদ করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানান তিনি। গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব।
আজও সড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে নিরাপদ সড়কসহ নয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছে তারা। এ সময় গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার তাদের নয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সড়কে কোনো অবৈধ যান চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন। তবে বরাবরের মতো তারা সহযোগিতা করেছেন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে। জানা গেছে, মতিঝিলে অবস্থান নিয়েছে নটরডেম, মতিঝিল সেন্ট্রাল কলেজ, আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ফার্মগেট মোড়েও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে ফার্মগেট ও আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। ফার্মগেটে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা কোনো লাইসেন্স যাচাই করছে না। তবে তারা যান চলাচলের সুবিধার্তে তিনটি লেন তৈরি করেছে। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে আন্দোলনের মধ্যে সড়কে বাস না নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। ফলে কোটি মানুষের এই নগরীতে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাস না পেয়ে অটোরিকশায় দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে মানুষকে। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নামে শিক্ষার্থীরা। এর পর বৃহস্পতিবার সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মানার ঘোষণা দিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পর অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির সবগুলোকেই ন্যায্য মনে করেন এবং একাধিক দাবি ইতিমধ্যে মেনে নিয়ে বাকিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ করছে সরকার। এদিকে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচটি বাস হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ওই কলেজের সেনাবাহিনী লগ এরিয়া কমান্ডার মেজর আতাউল হাকিমের কাছে বাসের চাবি হস্তান্তর করেন।
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সুজন
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটি তাদের পূর্ণ সংহতির কথা জানায়। বিবৃতিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে পরিবহন খাতে সব নৈরাজ্যের অবসান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ঘাতক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু নিয়ে নৌমন্ত্রীর অসংবেদনশীল আচরণ ও দায়িত্বহীন মন্তব্য এবং সড়ক নৈরাজ্য অবসানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয়ই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে এ আন্দোলনর মাধ্যমে। এই আন্দোলনের পেছনে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনকে সরকারের জন্যে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। ‘ইদানীংকালের আন্দোলন ও জনবিক্ষোভগুলোর প্রবণতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জনমনে একটি সাধারণ বিক্ষুব্ধতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। যা বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরিত হচ্ছে এবং বিক্ষোভের রেশ প্রলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা, বিরুদ্ধমত ও মুক্তচিন্তা দমন, গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বিনষ্ট হওয়া তথা সার্বিক অর্থে গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের অভাবই জনমনে আস্থার সংকট ঘনীভূত করেছে। যার বিস্ফোরণ ঘটছে নানাভাবে।’ সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তিসমূহের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে এসেছে এবং গত কয়েক দিনে তারা রাজপথের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে অভূতপূর্ব জনশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে সব মহলেরই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। তরুণতর এই প্রজন্মের এই আন্দোলন এবং তাদের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের মধ্যে নতুন আশার সূচনা করেছে। এরা যেন ব্যর্থ না হয় তা সরকারসহ সব মহলকেই নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই আন্দোলন মোকাবিলায় শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সরকারের প্রাজ্ঞতার পরিচায়ক। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করেছি মিরপুর ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার দলীয় সংগঠন ও পুলিশের হামলা। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং একই সঙ্গে সতর্ক করতে চাই যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হয়েই দেখা দেবে। আরো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এর অবসানের দাবি জানাই।

জাতীয় পাতার আরো খবর