সাংবাদিকদের জন্য পৃথক শ্রম আদালত প্রয়োজন
সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি পৃথক শ্রম আদালত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।তিনি বলেন, শ্রম আইন অমান্য করে সাংবাদিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (পত্রিকায়) মালিক কর্তৃপক্ষ। বেতন বোর্ড রোয়েদাদ (বেতন কাঠামো) অনুযায়ী সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে বঞ্চিত করছে। বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা, যখন-তখন ছাঁটাই বন্ধ করা এবং চাকরিচ্যুত করার পরে আইন অনুযায়ী পাওনা আদায়ের জন্য পৃথক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। মঙ্গলবার মহান মে দিবস উপলক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিইউজের একাংশের সভাপতি আবু জাফর সূর্যের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএফইউজের (একাংশের) মহাসচিব ওমর ফারুক, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, ডিইউজের (একাংশের) সাবেক সভাপতি শাবান মাহমুদ, ডিইউজের (একাংশের) সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, নির্বাহী সদস্য গোলাম মোস্তফা ধ্রুব, শাকিলা পারভীন, ডিইউজের আলোকিত বাংলাদেশের ইউনিট চিফ মতলু মল্লিক, সদস্য সচিব সিরাজুজ্জামান, নিউনেশন ইউনিট চিফ হেমায়েত হোসেন, প্রবীণ সদস্য মৃণাল কান্তি প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিইউজের (একাংশের) দফতর সম্পাদক এম জিহাদুর রহমান জিহাদ, জাহিদা পারভীন ছন্দাসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক ও মিডিয়াবান্ধব। সাংবাদিকদের কল্যাণে তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক নেতা ও সদস্যের ঐক্যবদ্ধ থাকা পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি সদস্যকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নেতাদেরও সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দাবি আদায়ে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, যে সব প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকরা ওয়েজ বোর্ডে বেতন ভাতা ও সুবিধাদি পান না, মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে জানালে তারা (নেতারা) ব্যবস্থা নেবেন। সভাপতির বক্তৃতায় আবু জাফর সূর্য বলেন, যেসব পত্রিকার মালিক সাংবাদিক শ্রমিক-কর্মচারীদের দেখিয়ে রেট কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান, তারা ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন ভাতা না দিলে রেট কার্ড স্থগিত বা বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমরা শ্রমিকদেরও হাসি মুখে রাখতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
পোশাক খাত শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৮ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেটে ১৮ হাজার টাকা কিছু না। মঙ্গলবার রাজধানীর জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন জাসদের কার্যালয়ের সমানে জাতীয় শ্রমিক জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা করা। জাসদের পক্ষ থেকে আমরা এ দাবি সমর্থন করলাম। শুনতে বড় লাগে কিন্তু ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেটে ১৮ হাজার কিছু না। আমরা কারখানা রক্ষা করতে চাই, শ্রমিকদেরও হাসি মুখে রাখতে চাই। এ সময় মে দিবসের কি অঙ্গীকার হওয়া উচিত তাও জানিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,এবারের মে দিবসের অঙ্গীকার হোক ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হোক, সুস্থ শ্রমিক মালিক সম্পর্ক হোক, নিরাপত্তা হোক, মর্যাদা পাই, সম্মান হোক এবং শ্রমিকরা হাসি-খুশি থাক। শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন শ্রমিকদের সবকিছু সম্মানজনক হয়নি। বাংলাদেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো হচ্ছে- নিরাপত্তা ও আবাসনের সমস্যা। তারপর উপযুক্ত মর্যাদার সমস্যা। এরপর উপযুক্ত মর্যাদাপূর্ণ মজুরি। এখন গ্রাম, শহরে সবখানেই নারী শ্রমিক কাজ করে। প্রায় ৪৫ লাখ নারী শ্রমিক রয়েছে। সুতরাং নারী শ্রমিকদের সমস্যা আছে। তাদের জন্য দরকার নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, সম্মান, মর্যাদা এবং সমকাজের সম মজুরি নিশ্চিত করা বলেন জাসদের এই নেতা। তিনি বলেন, নারী শ্রমিকদের রাস্তা-ঘাটা চলাচলে নিরাপত্তার সমস্যা আছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভালো শিল্পায়ন হয় না। তাই আমরা বলি উৎপাদন বাড়াতে হলে শ্রমিকদের হাসিমুখে রাখতে হবে। উপযুক্ত সম্মানজনক মজুরি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শ্রমিকরা হাসিখুশি থাকলে, মর্যাদাপূর্ণ মজুরি পেলে উৎপাদন বাড়বে, শিল্পাঞ্চল ভালো থাকবে, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নতি করতে হলে শান্তি দরকার। আর সেই শান্তি নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করতে হবে। তেমনি জঙ্গিবাদী তেতুল হুজুরদেরও বাংলাদেশের রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা নারী শ্রমিকের শত্রু, শ্রমিক সমাজের শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। তাই শ্রমিক সমাজের দায়িত্ব নারী শ্রমিকদের রক্ষা, কারখানা রক্ষা করতে একদিকে যেমন উপযুক্ত মজুরি গ্রহণ করতে হবে, আর একদিকে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দেশ ছাড়া করতে হবে। এটা আপনাদের কাজ। সেই কাজে জাসদ আপনাদের পাশে রাজপথে, সংসদে এবং মন্ত্রী পরিষদে থাকবে বলেন ইনু। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিকের ভাগ্য লুটেরাদের কাছে জিম্মি করতে চাই না। সে জন্য আমরা বলি সমাজতন্ত্রের পথে হাটো, দুর্নীতি দূরে রাখো এবং শ্রমিকদের হাসিমুখে রাখো।
প্রতিদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি জানতে ১০৯০ নম্বরে কল করুন
চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৭০ জন মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।মঙ্গলবার সচিবালয়ে চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুইদিনে ২৯ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন। গত মার্চ মাসে ১২ জন এবং এপ্রিল মাসে ৫৮ জনসহ মোট ৭০ জন লোক বজ্রপাতে মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বর্ষা মৌসুম সামনে। এ সময়ে ঝড়-তুফান হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সকলকে পরিস্থিতি দেখে শুনে ঘর থেকে বের হতে হবে।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকায় ১৪৬ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১১২ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১০৭ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭১ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ১১০ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই প্রবণতা স্বাভাবিক নয়। এ থেকে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।’ প্রতিদিন ১০৯০ নম্বরে কল করে আবহাওয়া পরিস্থিতি জেনে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৩০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয়া হয়।’ বজ্রপাত মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৩১ লাখ ৬৪ হাজার তালের বীজ রোপন করা হয়েছে বলেও জানান মায়া। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেক জেলায় ত্রাণ সমগ্রী যেমন- জিআর চাল, নগদ অর্থ, ঢেউটিন, ঘর নির্মাণের অর্থ, বজ্রপাতে কেউ হতাহত হলে তাদের সহায়তার অর্থ অগ্রিম বরাদ্দ দেয়া আছে, যাতে কোনো দুর্যোগ হলে ডিসিদের ঢাকার দিতে তাকিয়ে থাকতে না হয়।’ বজ্রপাতের তথ্য রেকর্ড করার জন্য আবহাওয়া অধিদফতর দেশের আট জেলায় যন্ত্র স্থাপন করেছে জানিয়ে অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় (তেতুলিয়া), নওগাঁ (বদলগাছী), খুলনা (কয়রা), পটুয়াখালী ও চট্টগ্রামে এই বজ্রপাত শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। আরও যন্ত্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।’ এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামালসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ পবিত্র শবেবরাত
আজ মঙ্গলবার রাতে পবিত্র শবেবরাত। মুসলমানদের জন্য সৌভাগ্যের একটি রাত। আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখের এই মহিমান্বিত রাতকে পবিত্র লাইলাতুল মোবারাকা বা বরকতময় রাত বলেও অভিহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ, মিলাদ মাহফিলসহ নানা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ রাত অতিবাহিত করবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া খায়ের করবে মহিমান্বিত এ রাতে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ রাতের পবিত্রতা রক্ষায় পটকা-আতশবাজি নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মূলত পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে শবেবরাতের এ রাত। ফার্সি শব শব্দটির অর্থ রাত, আর বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্য। হাদীসের বর্ণনা মতে, বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণসহ তাঁর সৃষ্ট জীবের ওপর অসীম রহমত নাজিল করে থাকেন। এ জন্য এ রাতকে শবেবরাত বা ভাগ্যরজনী বলা হয়। মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে বুধবার সূর্যোদয় পর্যন্ত এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এ রাতটি কাটাবেন মুসলমানরা। এ উপলক্ষে অনেকেই নফল রোজা পালন করেন। প্রায় সবাই সাধ্যমতো দান-খয়রাত করে থাকেন। রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ছাড়াও এ পবিত্র রাতে মুসলমানরা মৃত মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করে থাকেন। সবার ঘরে আয়োজন করা হয় হালুয়া, গোশত, রুটিসহ নানা রকমের খাবার। আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করবেন অনেকে। তবে এসব আয়োজনের কারণে মূল ইবাদতে যেন কোনো রকম ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। শবেবরাত উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় সব মসজিদে বিশেষ ইবাদত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম, জিকির ও বিশেষ মোনাজাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে শবেবরাতের ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম। রাত ৯টায় ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্ব শিরোনামে বয়ান করবেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। রাত ১১টায় শবেবরাত ও রমজানের তাত্পর্য শিরোনামে ওয়াজ করবেন মিরপুর জামিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান। রাত ১২টা ১০ মিনিটে জিকিরের গুরুত্ব ও ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা এহসানুল হক জিলানী। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। সবশেষে ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। শবেবরাত উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এদিকে দিবসটির তাত্পর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। তবে পত্রিকা অফিসগুলোতে ছুটি থাকবে আজ। তাই বুধবার কোনো দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।
আজ মহান মে দিবস
মহান মে দিবস আজ মঙ্গলবার। মাঠে-ঘাটে, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিল শ্রমিকরা। এদিন শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সে ডাকে শিকাগো শহরের তিন লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখে। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় লাখো শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। এক লাখ ৮৫ হাজার নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে আরো অসংখ্য বিক্ষুব্ধ শ্রমিক লাল ঝাণ্ডা হাতে সমবেত হয় সেখানে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। অন্যদিকে হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ওই ঘটনার স্মারক হিসেবে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মে দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা শ্রমজীবী মানুষসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংক ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও বেতারগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করবে। প্রতিবছরের মতো এবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকাল ৭টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। র‌্যালিটি দৈনিক বাংলা থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে। মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার ৩ মে সকাল সাড়ে ১০টায় মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক। এ ছাড়া মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মিরপুরে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার
রাজধানীতে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যার পর মিরপুর বাংলা কলেজের পাশের একটি বাসা থেকে ওই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার পর পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাসার দরজা ভেঙে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই নারীর নাম জেসমিন আক্তার (৩৫); তার মেয়ে দুটির বয়স নয় বছর ও চার বছর। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনজনের গলা কাটা ছিল, জেসমিনের পেটেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কারা কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানতে পারেনি পুলিশ।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই হাজার ১২৩
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত, চার মাসে দেশে এক হাজার ৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছে দুই হাজার ১২৩ জন। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৫৮ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির চার মাসের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার (৩০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিকেলে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১২৩ জন নিহত ও ৫৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের ৬টি বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্য অনুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ মাসে মারা গেছে ২০৬ জন। বিদায়ী বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৭৯ জন নিহত ও ৪৭২৭ জন আহত হয়েছিল । এতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট দুর্ঘটনা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, নিহত ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আহত ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৫৩ জন আহত ও ৫১৪ জন নিহত হয়, এ মাসে ১৪০টি বাস, ২০৪টি ট্রাক-লরি ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৪১টি কার ও মাইক্রোবাস, ৫২টি অটোরিকশা, ৯৮টি মোটরসাইকেল, ৩২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫৩টি নছিমন-করিমন- ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৭৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮০টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ৮টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ৬ জন, গাড়ি চাপায় ২০৫ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫২১ জন আহত ও ৪৫৯ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৩টি বাস, ১৮৯টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯টি হিউম্যান হলার, ৬৩টি অটোরিকশা, ৩২টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ২৩টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৫টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৪টি মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ৮৭টি খাদে পড়ে, ৬টি ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৭০টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ মাসে ৪৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০৬ জন আহত, ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এ মাসে ১৩২টি বাস ২৩৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭টি হিউম্যান হলার ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৯০টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২৬টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব দুর্ঘটনার ১৫৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৭টি খাদে পড়ে ও ৩টি ট্রেন- যানবাহনের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২২২টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল মাসে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৭৮ জন আহত ও ৪৬১ জন নিহত হয়। এই মাসে ১১৪টি বাস, ১৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬টি হিউম্যান হলার, ৬১টি অটোরিকশা, ২৭টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮২টি মোটরসাইকেল, ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৩৬টি নছিমন করিমন-ট্রাক্টর সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব ঘটনার ১১৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৯টি খাদে পড়ে, ১টি বাস-ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ২১১টি গাড়ি চাপার ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কয়েকটি সুপারিশ পেশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো, সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরিভিক্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে মালিক-শ্রমিক-যাত্রী-সরকার মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে মানসম্মত যানবাহনের ব্যবস্থা, চালকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের হাতে দৈনিক চুক্তি ভিক্তিক বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যানবাহন ইজারা দেয়া বন্ধ, দেশের সব বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত, বিআরটিএকে শক্তিশালীকরণ, পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত এবং ফুটপাত নিমার্ণ ও সংস্কারসহ ফুটপাত দখল মুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন :দুদক কমিশনার
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বিভিন্ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বেশকিছু গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের ফাঁদে দিন দিন জনগণের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। এ ভোগান্তি কমাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সোমবার বিআরটিএর ভোগান্তির ওপর বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে এক গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। এতে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবার আওয়াজ তুলুন ব্যানারে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,কোন রাজনৈতিক নেতা কি সচিব, দুদক কাউকে পরোয়া করে চলেনা। বিআরটিএসহ প্রত্যেকটা সেক্টরের দর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন আমাদের কাছে, সত্য হলে তাদেরকে আমরা জেলে পুড়বো। পরিবহন খাতসহ যে কোন সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমে ভোগান্তির রোধের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সেচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,যেখানেই দুর্নীতি ও ভোগান্তি দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ কল করে সেই অনিয়মের তথ্য আমাদের জানান। গণশুনানিতে বিভিন্ন ভুক্তভোগিরা তাদের গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্ম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগশাজস এবং গণ পরিবহনের অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। দুদক কমিশনার বিআরটিএর কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট উত্তর জানতে চাইলে বিআরটিএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে কোনও অভিযোগ গেলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য প্রতি জেলায় থাকা বিআরটিএর শাখা অফিসেই ব্যবস্থা রাখার দাবি ওঠলে বিআরটিএর ঢাকা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মাসুদুল আলমের কাছে দুদক কমিশনার জানতে চান। জবাবে মাসুদুল আলম বলেন,আমাদের এই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গাড়ির মালিকান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন গাড়ির মালিক তার গাড়ি বিক্রি করে মালিকানা পরিবর্তনের আগেই দেশের বাইরে চলে গেলে ভোগন্তিতে পড়েন নতুন ক্রেতা। দুদক জানতে চাইলে, এই ভোগান্তি রোধে একমাত্র মূল মালিকের উপস্থিতি ছাড়া আর কোন আইনি ব্যবস্থা বিআরটিএর নেই বলে মাসুদুল আলম জানান। এ বিষয়টির সমাধানে দুদকের কমিশনার বলেন,আপনাদের আইনি ব্যবস্থায় পাওয়ার অব এটর্নীর ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে করে মূল প্রক্রিয়ার আগেই গাড়ির মালিক দেশের বাইরে গেলেও ক্রেতার ভোগান্তি কমবে। গণপরিবহনে নেই ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট না থাকা ও অবৈধ সিটিং সার্ভিস ব্যবস্থায় বিআরটিএর নিস্ক্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরলে মাসুদুল আলম বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে যে সকল গাড়ির বিরুদ্ধে অনিয়ম পাই তাদেরই আইনের আওতায় আনি। কিছু গাড়ি বিআরটিএর নিয়ম মেনে চলাচল করে তার এমন দাবির প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে পাল্টা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়, যে কোনও কোম্পানির একটা পরিবহন দেখান যারা আপনাদের নিয়েম মেনে চলে। এই চ্যালেঞ্জের জবাবে বিআরটিএর এই শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন নিশ্চুপ। এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য পরীক্ষা বা সংগ্রহে ভোগান্তি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের লাইসেন্স প্রদান, বিআরটিএতে দালালদের দৌরাত্মের বিষয়গুলোতে কোনও সদুত্ত দিতে পারেননি তিনি। গণ শুনানী শেষে নিজ বক্তব্যে দুদকের তদন্ত বিভাগের কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন,জনগনের সেবা নিশ্চিত করতে আপনাদের উচিৎ এখন থেকেই আরও সচেতন হওয়া। তদন্ত করে খুঁজে বের করুন কোন কোন অংশে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। সেখানে পরিকল্পণার পরিবর্তন এনে তাদের কাজ সহজ করুন। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজদের তথ্য আমাদের কাছে দিন। দেখুন আমরা কি করি।
পদপ্রত্যাশীদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে :প্রধানমন্ত্রী
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অযাচিত কেউ যেন আসতে না পারে, সে জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে স্বজনদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে। ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী ১১ ও ১২ মের সম্মেলনকে সামনে রেখে সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। আর বারবার আলোচনায় এসেছে সংগঠনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সদস্যরাও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছে, বারবার এটি প্রমাণ হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও সইতে হয়েছে সংগঠনটির। নানা সময় দেখা গেছে, নেতারা দল ভারী করতে বিতর্কিতদেরকে সংগঠনে নিয়ে আসে। আবার টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার বিষয়টিও আর গোপ নয়। আর এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর এই ঢেলে সাজাতে নতুন মডেল কী হবে, সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অবিতর্কিত, যাদের নিজেদের বা পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে চাইছেন শেখ হাসিনা। জাতীয় সম্মেলনে কোনো ভোট হবে না জানিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সম্মেলনে কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করারও প্রয়োজন নেই। যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড মেধা এসব বিবেচনায় নিয়ে সিলেকশন পদ্ধতিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর