আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা
এমপিওভুক্তির দাবিতে পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করছেন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। এই সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এই আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। ২০১০ সালের পর দেশের আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দেশের প্রায় ৮০ হাজার নন-এমপিও শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। গেল ২৬ ডিসেম্বর থেকে নন এমপিওভুক্ত এই শিক্ষক কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমস্যার বিষয়টি বুঝবেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের নন-এমপিও নামক অভিশাপ থেকে মুক্তি দিবেন।
রাষ্ট্রপতি খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান
নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ : রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। তিনি বলেন, নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সময় থেমে থাকে না। এগিয়ে চলাই সময়ের ধর্ম। অতীতকে পেছনে ফেলে সময়ের চিরায়ত আবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ আমাদের মাঝে সমাগত। নতুনকে বরণ করা মানুষের স্বভাবগত প্রবৃত্তি। তাইতো নববর্ষকে বরণ করতে বিশ্বব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। আমরাও পিছিয়ে নেই। ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আমাদের তরুণ সমাজসহ গোটাদেশ। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও ব্যবহারিক জীবনে ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা বহুল ব্যবহৃত। তাই জাতীয় জীবনে ইংরেজি বর্ষপঞ্জি প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। রাষ্ট্রপতি কামনা করেন খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০১৮ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কল্যাণ বয়ে আনুক।
বিমান বাহিনীর একাডেমীতে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ ২০১৭-তে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সকালে যশোরে পৌঁছেছেন। এ সফরে তিনি বিমান বাহিনীর একাডেমীতে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ ২০১৭-তে অংশগ্রহণ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী সকালে বিমান বাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটিতে শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগদান করবেন। পরে বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে দলীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদে যশোরে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা। তার আগমন উপলক্ষে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরে যশোরে প্রধানমন্ত্রী ২৮টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। যশোর জেলা প্রশাসন সূত্রমতে, যশোরে জনসভাস্থল ঈদগাহ ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেড় ডজন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করবেন। এগুলো হলো কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজগুলোর উন্নয়নশীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার আমদাবাদ কলেজ, শার্শা উপজেলার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজ ও বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজে নির্মিত দোতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সম্প্রসারণ কাজ, মনিরামপুর উপজেলায় ৫০০ আসনের শহীদ মশিয়ুর রহমান অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ, যশোর পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়ন প্রকল্প; যশোর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবন, হৈবতপুর, নরেন্দ্রপুর, মহাকাল ও পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, যশোরের পুলিশ সুপার ভবন ও পুলিশ হাসপাতাল, শেখ রাসেল ভাস্কর্য, শহরের ১৩ কিলোমিটার সড়ক ও ২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং অভয়নগরের মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ডজনখানেক উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ভৈরব নদ খনন, যশোর-বেনাপোল ও যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের যশোর অংশ (পালবাড়ী হতে রাজঘাট অংশ) প্রশস্তকরণ প্রকল্প, কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, শহরের ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও ২৪ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ, ঝুমঝুমপুর কম্পোস্ট প্লান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল নির্মাণ, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ম্যুরাল স্থাপন এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ রাসেল জিমনেশিয়াম ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার মান ঠিকরাখতে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সারাদেশে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলগুলোর দিকে একটু নজর দেয়া দরকার। সেখানে সঠিকভাবে পড়াশোনা হচ্ছে কিনা; এই বিষয়টার দিকে একটু বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এটা খুবই জরুরী বলে আমি মনে করি। গণভবনে এই ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যার যার বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে দেন। জেএসসি ও জেডিসিতে এবার পাসের হার এবং জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কমেছে। সম্মিলিতভাবে এবার পাস করেছে ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী; এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। গত বছর জেএসসি-জেডিসিতে ৯৩ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৮ জন পূর্ণ জিপিএ পায়। পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,এ বছর যেহেতু আপনাদের নজরদারি বেড়েছে; সে কারণে হয়ত একটু কম। আশাকরি ভবিষ্যতে যেন বাড়ে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে, আমরা সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। সেখানে তারা ফেল করবে কেন? তাদের মেধা আছে। স্কুলগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠক্রম পরিবর্তনের তাগিদ দেন তিনি। এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এবার প্রাথমিকে ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন এবং ইবতেদায়িতে ৫ হাজার ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই হিসাবে পঞ্চমের এই সমাপনী পরীক্ষাতেও পাসের হারের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ জিপিএ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে এবার। প্রাথমিকের ফল পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় এখনকার ছেলেমেয়েদের এখন আর ভয় কাজ করে না। তারা তো পরীক্ষা দিয়ে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে। ক্লাস ফাইভে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে, এইটে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে। আগের বৃত্তি পরীক্ষায় সকলের মেধার প্রকাশ ঘটত না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বৃত্তিটা আমরা দেব... সবাই পরীক্ষা দেবে। কোথায় যে কার মাঝে কোন মেধাটা লুকিয়ে আছে; আমরা তা জানব কী করে? প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে থাকতে পারে না? আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে; আমাদের ছেলেমেয়েরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে এবং আমাদের দেশ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকার যা চাইছে, শিক্ষক-কর্মকর্তারা তা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে করছেন মন্তব্য করে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
রোববার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) নতুন কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্ট কুচকাওয়াজ-২০১৭ এর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রোববার যশোর যাবেন। এসময় তিনি সেখানে মোট ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিকেলে যশোর ঈদগাও ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দিবেন। সকালে যশোর পৌঁছে শেখ হাসিনা বিএএফ একাডেমিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্ট কুচকাওয়াজ-২০১৭-এ যোগ দিবেন। এরপর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঈদগাও ময়দানে মোট ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প (প্রথম ধাপ), সদর উপজেলার আমদাবাদ কলেজের সম্প্রসারণ কাজ, শার্শা উপজেলার পাকশি কলেজ সম্প্রসারণ কাজ, বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের সম্প্রসারণ কাজ, ৫শ’ আসনবিশিষ্ট শহীদ মশিউর রহমান অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল, পাবলিক লাইব্রেরির (তৃতীয় ধাপ) উন্নয়ন কাজ, যশোর মেডিকেল কলেজ একাডেমিক কমপ্লেক্স, হয়বাতপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভবন, নরেণদ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভবন, মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভবন, পাটিবিলা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ভবন, যশোর পুলিশ সুপার ভবন, যশোর পুলিশ হাসপাতাল, শেখ রাসেল ভাস্কর্য, যশোর শহরের ১৩ কিলোমিটার সড়ক ও ২২ কিলোমিটার ড্রেনেজ নির্মাণ, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং অভয়নগরের মালুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যে সকল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, তা হলো- ভৈরব নদীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ, যশোর-বেনাপোলের পলাশবাড়ি-রাজঘাট অংশের উন্নয়ন কাজ, কেশবপুর টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যশোর শহরের ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও ২৪ কিলোমিটার ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ, হামিদপুর কম্পোস্ট প্লান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বায়ো প্লান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল ওয়ার্ক, ঝিকরগাছা পৌরসভা সম্প্রসারণ কাজ, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মুরাল, শেখ রাসেল শরীর চর্চা কেন্দ্র ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)।
চট্টগ্রামে৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ এবং সদা প্রস্তুত থাকতে সেনাবাহিনীর নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) গতকাল বুধবার ৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে রাখবে, অনেক রক্ত আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। কাজেই এ দায়িত্ব পালনে তোমাদের সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজ থেকে তোমাদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তোমাদের জীবনের প্রথম ও প্রধান ব্রত। নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের জনগণের পাশে থাকার এবং দেশ সেবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের পাশে থাকবে এবং দেশের সেবা করবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুগত এবং অধীনস্থদের প্রতি সহমর্মী হতে হবে তোমাদের। তোমাদের জন্য রইল আমার শুভকামনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাঁকে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, ২৪ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি এবং চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং অব আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড লে. জেনারেল আবদুল আজিজ ও বিএমএর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাইফুল আলম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে করে সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, নৌবাহিনী প্রধান, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ৩৫০ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন বাংলাদেশি। বাকি সাতজনের পাঁচজন ফিলিস্তিনের এবং দুজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক। ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার সাদমানুর রহমান ৭৫তম বিএমএ লং কোর্সে বেস্ট অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সোর্ড অব অনারলাভ করেন। তিনি মিলিটারি বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করায় আর্মি চিফ গোল্ড মেডেলও লাভ করেন।
১৬ হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ প্রকল্পের অনুমোদন একনেকে
ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও যাত্রী সুবিধা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২০টি রেলইঞ্জিন ও ১৫০টি কোচ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমেটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় এগুলো কেনা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা। রেলইঞ্জিন ক্রয় সংক্রান্ত এই প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা,বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন,বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটার গেজ ক্যারেজ রয়েছে। যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে, ১৩৫টির মেয়াদ ৩১-৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচসমূহ ব্যবহার করা হলেও তা আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। চাহিদা ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় অনেক আগেই পুরাতন কোচসমূহ বহর হতে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন,কোচ স্বল্পতার কারণে সেটি করা সম্ভব হয়নি।এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ,নিরাপদ ও উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন লোকোমোটিভ এবং যাত্রীবাহী ক্যারেজ সরবরাহ; যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন,রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়, রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতিত) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প,কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ,কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন,সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়), চক্ষু স্বাস্থ্যর উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ প্রকল্প, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রীজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন; ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল (কানুরামপুর) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ,মিরসরাই ১৫০ মে:ও: ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিরতা, ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনষ্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।
৪ জানুয়ারি দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেন উড়ালসেতুর উদ্বোধন আগামী ৪ জানুয়ারি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উড়ালসেতু উদ্বোধন করবেন। সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উড়ালসেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উড়ালসেতু ছয় লেনের হলেও সেতুর নিচের দুই পাশে আরও চার সার্ভিস লেন চালু থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ থাকলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণ কাজ ৬ মাস আগেই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূল উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ৬৬০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার, সার্ভিস রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৭০ মিটার, সার্ভিস রোডের প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৬০ মিটার, ১১টি স্প্যান, ফুটপাতের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২১০ মিটার, পিসি গার্ডার ১৩২টি। পরিদর্শন কালে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রধান মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবেশষে অনশন ভাঙলেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজারের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস না পেলেও নেতাদের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন 'বেতনবৈষম্য' নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনার পর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি পানি ও ফলের রস খাইয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের নেতা মো. শামসুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, 'মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করলাম। আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাব।' সরকারি প্রাথমিক স্কুলে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন পান সেখানে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে ঢোকা সহকারী শিক্ষকরা পান চতুর্দশ গ্রেডে। এই 'বৈষম্য' কমিয়ে দ্বাদশ গ্রেডে বেতনের দাবিতে গত শনিবার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরম্ন করেন সারাদেশ থেকে আসা শিক্ষকরা। জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ নামে তিনটি সংগঠনসহ সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে এই কর্মসূচিতে কয়েকশ শিক্ষক অংশ নেন। অনশনে গত তিন দিনে অন্ত্মত ৬০ জন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরের পর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তার মিন্টো রোডের বাসায় প্রায় এক ঘণ্টার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি। বৈঠকের পর সরকারি শিক্ষক মহাজোটের প্রতিনিধি মো. শামসুদ্দীন বলেন, 'মন্ত্রী সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে যাবেন। আলোচনায় নেয়া সিদ্ধান্ত্মগুলো অনশনরত শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালাবেন। মন্ত্রীর কথা শুনে শিক্ষকরাই সিদ্ধান্ত্ম নেবেন- তারা অনশন ভাঙবেন কি না।' সে অনুযায়ী সন্ধ্যার আগে আগে শহীদ মিনারে গিয়ে অনশনরত শিক্ষকদের মুখোমুখি হন মোস্ত্মাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি বলেন, 'প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যকার বেতনবৈষম্য রয়েছে কি না- এটা আমরা খতিয়ে দেখব। তবে পুরো বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আলোচনা না করে এবং যৌক্তিকতা বিবেচনা না করে এখনই আমি আপনাদের কাগজপত্র দিয়ে দিতে পারব না।' আন্দোলনরত শিক্ষকরা এ সময় চিৎকার করে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। শিক্ষক মহাজোটের নেতারা তখন তাদের শান্ত্ম করার চেষ্টা করেন। মো. শামসুদ্দীন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, 'আমার আহ্বানে আপনারা অনশনে এসেছিলেন। আমরা এখন এই কর্মসূচি স্থগিত করতে চাই। আপনারা আমাকে এক মাস সময় দেন। এর মধ্যে আমি দাবি আদায় করে ছাড়ব।' এরপর একপর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা শান্ত্ম হন। আমাকে আমার কাজ করতে দেন।' এরপর মন্ত্রীর হাত থেকে ফলের রস ও পানি নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক নেতা অনশন ভাঙলে বাকিরাও অনশনের সমাপ্তি টানেন।