আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস
অনলাইন ডেস্ক: স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ। দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার-এ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অকুতোভয় যুবকের নাম নূর হোসেন। অগ্নিঝরা স্লোগান গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক বুকে ও পিঠে লিখে নিয়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজপথে নামেন তিনি। সহ্য হয়নি স্বৈরশাসকের। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের বুলেটের আঘাতে সেদিন শহীদ হন নূর হোসেন। তখন থেকে এই দিনটিকে নূর হোসেন দিবস হিসেবে দেশবাসী পালন করে আসছে। তার রক্তদানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে এরশাদ আওয়ামী মহাজোটের হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে নবম ও দশম সংসদেও সরকারের শরীক ছিল এরশাদের জাতীয় পার্টি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতের দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন এরশাদ।
আগামী ২১শে নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
অনলাইন ডেস্ক: আগামী ২১শে নভেম্বর সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে শনিবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান। সভায় ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারন) মো. শহিদুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বুঝে পেল বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক: উৎক্ষেপণের ছয় মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন থেকে এই স্যাটেলাইটের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব বাংলাদেশের। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের হস্তান্তর শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জিল অবাদিয়া বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে ট্রান্সফার অফ টাইটেল হস্তান্তর করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের কাছে হস্তান্তর করেন। এই স্যাটেলাইট সিস্টেমের নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে মূল পরামর্শকের দায়িত্ব পায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল। এরপর স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়ার সঙ্গে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি। এর আগে বুধবার স্যাটেলাইট হস্তান্তর নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিসিএসসিএল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ অন্যান্য সদস্য। গত ১১ মে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর কক্ষপথে এটি ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। ইন অরবিট টেস্টসহ (আইওটি) নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে এই স্যাটেলাইট নানা সফলতার মুখ দেখিয়েছে। এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং দুবাইতে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। তা ছাড়া কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
জনগণ এখন নির্বাচনমুখী,আন্দোলন-বিক্ষোভে মানুষের মন নেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণ এখন নির্বাচনমুখী। আন্দোলন-বিক্ষোভে মানুষের মন নেই। বিএনপি যতই আন্দোলনের হুমকি দিক না কেন, কোনোটাই কাজে আসবে না। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আর আন্দোলন কর্মসূচি মেনে নেয়া যায় না। জনগণ আন্দোলনে নেই, তারা নির্বাচনমুখী। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ২৩ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ ভোট দেবে এমন আশা ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের সব দলকে নির্বাচনে আসারও আহ্বান জানান। নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তারা নির্বাচনে আসবেন। প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর ও প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। এর ২৪ দিন পর ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
৩০০ সংসদীয় আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তার এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ইসির যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর।
তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে জাসদের অভিনন্দন
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাৎক্ষনিক এক বিবৃতিতে তারা বলেন, তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান হলো এবং দেশ সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রেখে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখলো। তারা আশা করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সফল হবে। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে আগামী ১০ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হবে। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূল কমিটি ও জেলা কমিটির সুপারিশকৃত জাসদের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার আহবান জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে জাতীয় পার্টির অভিনন্দন
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এলে জাতীয় নির্বাচন উৎসবমূখর হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচনী তফসিল নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল আমিন হাওলাদার সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিলে নির্বাচন কমিশনের সততা ও আন্তরিকতা আছে। তাই এই তফসিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন স¤ভব। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ৪০টি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে এবং সুশীল সমাজের মতামত নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল দল সহযোগিতা করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, যা দেশ-বিদেশে সমাদ্রিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবার অংশ গ্রহণের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ফুটে উঠতে পারে। অনলাইনে মনোনয়ন পত্র গ্রহণকে স্বাগত জানান তিনি। লেভেল প্লেইংফিল্ডপ প্রসঙ্গে হাওলাদার বলেন, আশা করি বর্তমান নির্বাচন কমিশন সবার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে ও সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সমর্থ হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবার কোন অবকাশ নেই। তাই সংবিধানের মধ্যে থেকেই সবার জন্য গ্রহণযোগ একটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বর্তমান কমিশন। এসময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি ও এসএম ফয়সল চিশতীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনলেন ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি। সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কিনলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। গোপালগঞ্জ ৩ আসনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জন্য একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ওবায়দুল কাদের। তবে কোন আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা আগামী রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাতে এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন সিইসি। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর।
নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর,নির্বাচনে প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। সিইসি তার ভাষণে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসারও অনুরোধ জানাই। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। এদিকে, তফসিল ঘোষণার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি দল এ তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে। অপরদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা ছাড়াই তফসিল ঘোষণায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের ফল না আসা পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অপরদিকে, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণা করতে ইসিকে পাল্টা অনুরোধ জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। এমন পরিস্থিতিতে পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকালই তফসিল ঘোষণা করল সিইসি। ভাষণে সিইসি সব দলের অংশগ্রহণ ও সহিংসতায় না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়; নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই। সব রাজনৈতিক দলের অংশ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনো প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।’ এর আগে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ ইসির নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। এবারও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও সহিংসতা নেই। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে দফায় দফায় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর দাবির প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেন, ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়ে গেছে। কমিশনারগণ সংবিধানের আলোকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনার শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয় এবং মুদ্রণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে পারস্পরিক পরামর্শ আদান-প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী দায়িত্বে নিবেদিত রয়েছেন। কমিশনের প্রস্তুতির দিকগুলো তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা একাদশক সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ ৭টি করণীয় স্থির করে ২০১৭ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম। সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারীনেত্রী সংগঠনের কাছে কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণের পর করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন—কতিপয় আইন ও বিধি সংশোধন করা হয়েছে। সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাগণের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মতো পোলিং এজেন্টগণের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সবার জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল পেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এ সব নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে। ভাষণে তিনি বলেন, জাতির এমন উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমি প্রত্যাশা করব, অনুরোধ করব এবং দাবি করব; প্রার্থী এবং তার সমর্থক নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে এবং স্বাধীন বিবেক পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। স্ব-স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি ভোটকেন্দ্রে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবেন। পোলিং এজেন্টগণ ফলাফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্র, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং এজেন্টগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গণমাধ্যমকর্মী বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশ করবেন। পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। নির্বাচনে বাজেট ও ভোটার : জাতীয় নির্বাচনের বাজেট ধরা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এদিকে, ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ভোটকেন্দ্র ৪১ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এতে সাত লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হচ্ছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর