আগামী ২৩ ডিসেম্বর শনিবারসারাদেশে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন
আগামী ২৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইন (প্রথম রাউন্ড) পালন করা হবে। আজ এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এদিন ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের ১টি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের ১টি লাল রঙের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ১৯৭৩ সাল থেকে জাতীয়ভাবে শিশুদের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইন কে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনার হাত থেকে ট্রেনকে রক্ষাকারী দুই শিশুকে বুধবার সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি স্টেশনে ভাঙা রেললাইনে দুর্ঘটনার হাত থেকে ট্রেনকে রক্ষাকারী দুই শিশুকে বুধবার পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। এই দুই শিশু হলো ঝিনা গ্রামের সুমন আলীর ছেলে শিহাবুর রহমান (৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে লিটন আলী (৭)। ক্রেস্টে ভুলবশত টিটোন লেখা হয়েছে। সোমবার সকালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি স্টেশনের অদূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় রেললাইন দিয়ে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর বিকট শব্দ হয়। এ শব্দ শুনে লাইনের কাছে এগিয়ে যায় দুই শিশু। দেখতে পায় ট্রেন চলে যাওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাইন। এমন সময় লাইন দিয়ে আরেকটি ট্রেন আসতে দেখে তারা গলায় থাকা মাফলার তুলে ধরে ওড়াতে থাকে। তাদের সংকেত পেয়ে ব্রেক চাপেন ট্রেনের চালক। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আড়ানি থেকে ট্রেনে চেপে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে এসে নামে এই দুই শিশু। সঙ্গে আড়ানি সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাদের মা-বাবাও ছিলেন। এই দুই শিশুকে দেখতে এ সময় স্টেশনে প্রচুর মানুষ ভিড় করে। সেখান থেকে তাদের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে আনা হয়। এখানেও প্রচুর মানুষ তাদের দেখার জন্য ভিড় করে। পাকশী ডিআরএম কার্যালয়ের সামনে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনার। সংবর্ধনার শুরুতে ডিআরএম অসীম কুমার তালুকদার দুই শিশুকে ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া উপহার দেন। এরপর পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তারাও ফুল দিয়ে শিশু ও তাদের পরিবারকে অভ্যর্থনা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম ও ঠিকাদার আনোয়ারুল ইসলাম দুই শিশুকে দুই হাজার করে চার হাজার টাকা, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই শিশুকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং পাকশী রেলের পক্ষ থেকে দুই শিশুর প্রত্যেককে ১৩ হাজার করে মোট ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অসীম কুমার তালুকদার, আড়ানি সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান (নয়ন), প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন, পাকশী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হবিবুল ইসলাম, পাকশী রেলওয়ে শ্রমিক লীগ সভাপতি ইকবাল হায়দার, শিশু শিহাবের মা রিতা খাতুন, টিটোনের নানি শুকুর জাহান প্রমুখ। শিহাবের মা রিতা খাতুন বক্তব্যে বলেন, আমি ভাবতে পারিনি আমার ছেলি দ্যাশের জন্যি এতো সাহসের কাজ করবি। আপনেরা ত্যার জন্যে যে সুম্মান দেখালেন তা দ্যাখি আমি খুব খুশি হইছি।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বিজিবি দিবসের কর্মসূচির সূচনা
বিজিবি দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর পিলখানা বিজিবির সদরদপ্তর এবং সকল রিজিয়ন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ, সকল সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন আগামীকাল সকাল ৮টায় বাহিনীর রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন এবং সকাল সোয়া ৮টায় সীমান্ত গৌরবএ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুুষ্পস্তবক অর্র্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা করবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আগামীকাল সকাল ১০টায় বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করার কথা রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিজিবিতে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদক প্রদান করবেন। দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিটে বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দরবার গ্রহণ করবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টাবৃন্দ, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সাথে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অব্যাহত বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নয়নের নিদর্শন স্বরূপ প্রথমবারের মতো এবার ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর মহাপরিচালক কৃষান কুমার শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর কমান্ডার পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ইন্ট তোয়ের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে পিলখানা ছাড়াও ঢাকার বাইরে বিজিবির সকল রিজিয়ন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ, সকল সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া, আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বিশেষ দরবার, অত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিজিবি দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আগামী ২১ ডিসেম্বর পিলখানাস্থ বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে বিজিবি মহাপরিচালকের বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে। দরবার শেষে অনারারি সহকারী পরিচালক হতে অনারারি উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের র্যাংক ব্যাজ পরিধান, অপারেশনাল কার্যক্রম, চোরাচালান নিরোধ এবং মাদকদ্রব্য আটকের ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান, মহাপরিচালকের অপারেশনাল ও প্রশাসনিক ইনসিগনিয়াসহ প্রশংসাপত্র প্রদান এবং বিজিবির খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অথবা উত্তরাধিকারীগণের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ওইদিন সন্ধ্যায় পিলখানায় বিজিবির নিজস্ব অর্কেস্ট্রা ও শিল্পীসহ দেশের বরেণ্য শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ব্যক্তিগত বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলিদিরিম
বাংলাদেশ সফরের শেষদিন বুধবার সকালে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলিদিরিম। সকাল পৌনে দশটার দিকে ব্যক্তিগত বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবেন। কক্সবাজারে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এর আগে তিনদিনের সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি এ সময় পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার সফরের স্মারক হিসেবে একটি চারাগাছ রোপণ করেন। এছাড়া তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট উদ্বোধন করেন। মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি এলদেরিম রোহিঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদের সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি এলদেরিম স্বাক্ষাৎ করেন।
আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে একান্ত্ম বৈঠক
পারস্পরিক স্বার্থ ও আন্ত্মর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও তুরস্ক একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে একান্ত্ম ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তুরস্ক পাশে থাকবে বলে আমরা আশা করছি।' বাংলদেশ ও তুরস্কের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফরের অংশ হিসেবেই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশিস্নষ্ট আন্ত্মর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 'জোরপূর্বক বাস্তুচু্যত রোহিঙ্গাসহ পারস্পরিক ও পারস্পরিক স্বার্থ-সংশিস্নষ্ট আন্ত্মর্জাতিক ইসু্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রম্নতি পুনর্ব্যক্ত করেছি আমরা।' এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, পর্যটন এবং যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও দুই নেতার আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত্ম আন্ত্মর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে বাংলাদেশের পাশে থাকতে যৌথ বিবৃতিতে আহ্বান জানান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় তুরস্ক বাংলাদেশের প্রতি সহায়তার হাত আরও সম্প্রসারিত করতে চায় বলে জানান তিনি। বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ হিসেবে উলেস্নখ করে ইলদিরিম বলেন, 'তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।' তুরস্কের গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ এবং রোহিঙ্গা ইসু্যতে ভূমিকার জন্য তার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন ইলদিরিম। যৌথ বিবৃতির আগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন এবং পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়াতে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। শিল্প উৎপাদন, পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান আদান-প্রদানে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। আজ সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাবেন বিনালি ইলদিরিম। সেখানে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতির পর তাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'দুই প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়নে এসেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই আমরা দেখছি, বাংলাদেশ ও তুরস্ক আন্ত্মর্জাতিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সেটা জেরম্নজালেম, ওআইসি, সিরিয়া, লিবিয়া বা ইরাক ইসু্য হোক, বাংলাদেশ ও তুরস্ক একই ধরনের নীতিগত অবস্থান নিয়ে আছে।' এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি। শহীদুল হক বলেন, 'আমি মনে করি, বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের একটা বড় ধরনের অগ্রগতি হচ্ছে। যেটা আমার মনে হয়, বাংলাদেশের জন্য, সরকারের জন্য এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত্ম প্রয়োজনীয় ছিল। আমি মনে করি, সব বিবেচনায় সম্পর্কটা একটি নতুন স্ত্মরে উন্নীত হচ্ছে।' যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, 'না, এ ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা হয়নি।' গত বছর যুদ্ধাপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃতু্যদ- কার্যকরের পর উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান, যেটা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। ওই প্রসঙ্গ উলেস্নখ করে দুই সচিবকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, 'যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইসু্যতে কি সম্পর্ক স্থবির ছিল এবং সেখান থেকে কি নতুন স্ত্মরে উন্নীত হচ্ছে?' জবাবে শহীদুল হক বলেন, 'এটা আমি ওইভাবে মনে করি না। আমরা কখনোই ওইভাবে দেখি না। আমরা মনে করি, সব সময় তুরস্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। একেকটা সময় একেকটা ঘটনার আঙ্গিকে সম্পর্ক নতুন স্ত্মরে উন্নীত হয়। এটাই হয়েছে।' রোহিঙ্গা ইসু্যতে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এখন ওআইসির চেয়ারম্যান। জাতিসংঘ সাধারণ সভার সাইড লাইনে ওআইসির যে সেশন হয়েছিল, সেখানে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত্ম নেয়া হয়েছিল।' জাতিসংঘ ও ওআইসিতে রোহিঙ্গা নিয়ে তুরস্ক 'খুব শক্তিশালী' ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি। বিনালি ইলদিরিম বিকাল ৩টার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনের এই সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকা পৌঁছান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। রাতে তার সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। সফর শেষে আজ কক্সবাজার থেকে তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারী সফরে ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রীয় আচার অনুযায়ী তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। এসময় গার্ড পরিদর্শন করেন ইলদিরিম। মঙ্গলবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতায় স্বাক্ষর ও যৌথ বিবৃতি দেয়ার কথা রয়েছে। বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
এটি আপনাদের দেশ এবং যে কোন সময় এখানে আপনাদের স্বাগত জানাই-প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও রাশিয়ার বীর যোদ্ধা এবং তাদের পত্নীদের সংবর্ধনা প্রদান করেছেন। ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে তারা বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। বিকেলে গণভবনের লনে আয়োজিত এ সংবর্ধনায় ভারতের ২৭ জন বীর যোদ্ধা, তাদের পত্নী ও সন্তানরা এবং রাশিয়ার ৪ জন বীর যোদ্ধা ও তাদের পত্নীরা যোগ দেন। এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত ভারতের ৪ সামরিক অফিসার ও কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার কর্মরত ৪ সামরিক অফিসার ও দু’দেশের হ্ইাকমিশন ও দূতাবাসের কর্মকর্তারাও সংবর্ধনায় যোগ দেন। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবসময়ই আপনাদের অবদানের কথা স্মরণ করি। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আপনারা এতে সবরকম সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য আপনারা লড়াই করেছেন, আমরা কখনো এ কথা ভুলবো না।’ প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশে আসা বীর যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ এবং যে কোন সময় এখানে আপনাদের স্বাগত জানাই।’ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা লে. জেনারেল জয় ভগবান সিং যাদব বলেন, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারা তাদের জন্য বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানকালে তারা শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় এ দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ব্যাপক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই নিরাপত্তা শুধু আপনার দেশের নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার।’ জেনারেল ভগবান ১৯৭১ সালের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, আপনারা বর্বরতা ও আতঙ্কের মধ্যে ৯ মাস অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু ‘মুক্তি ভাইরা সাহসী প্লাটফর্মসহ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যাতে আমরা আপনাদের এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দীপনামূলক নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকার কারণে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আরো বিকশিত এবং সকল নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক শক্তি পরাজিত হবে বলে জেনারেল ভগবান আশা প্রকাশ করেন। রুশ প্রতিনিধিদলের নেতা নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমোডর জি এস সালকার স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান বিজয় উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের লড়াইতে রাশিয়া আন্তরিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। সালকার বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ১২ নম্বর স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকা মাইন মুক্ত করে। আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রুশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কমোডর সালকার বলেন, ভাদিভস্তকে ফিরে গিয়ে তিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের জনগণের মহান সাফল্য ও অর্জনের কথা তার দেশের জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবিহিত করবেন। জেনারেল ভগবান কিছু বই, ক্রেস্ট এবং বঙ্গবন্ধুর কিছু দুর্লভ ছবি প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশে আসার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোনের ছেলে রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক মন্ত্রী এ বি এম তাজুল ইসলাম এমপি, মাহজাবিন খালেদ এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপ।
সিএনজি অটোরিকশার প্রথম অ্যাপ যাত্রা
আসছে নতুন বছর, আর এই নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ঢাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা মিলবে নতুন অ্যাপে। এটাই হবে সিএনজি অটোরিকশার প্রথম অ্যাপ যাত্রা। অ্যাপে রিকোয়েস্ট দিয়ে যেমন সিএনজি মিলবে তেমনি অ্যাপ ছাড়া শুধু চালকের মোবাইল ব্যবহার করে চলাচল করা যাবে। এজন্য দুই হাজার স্মার্টফোন চালকের হাতে তুলে দিয়ে এ সেবা শুরু করবে গতি-লেটসগো নামের অ্যাপ। ১ জানুয়ারি থেকেই এ যাত্রা শুরু বলে- জানিয়েছেন গতি-লেটসগো অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এন. আই. বিআইজেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এন জামান চৌধুরী জেমস। প্রকৌশলী জেমস বলেন, অন দ্যা গো- যাদের কাছে অ্যাপস নেই তারাও অ্যাপভিত্তিক সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যাত্রীর মোবাইলে প্রয়োজন নেই। চালক তার মোবাইলে একটি যাত্রা স্টার্ট দিলেই মিটারের মতো কাজ করবে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন জামান চৌধুরী জেমস বলেন, সিএনজি অটোরিকশায় যে মোবাইল ফোন দেওয়া হবে সেগুলোকে শুধু গতি অ্যাপসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার চিন্তা করছেন তারা। যাতে সেখানে অন্য কোনো অ্যাপ না চলে। সেক্ষেত্রে প্রযক্তিগত বিষয়গুলো এখন বিবেচনা করা হচ্ছে। অ্যাপ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার চপল জানান, সিএনজি অটোরিকশার মালিককে মূলত মোবাইল ফোনটি দেওয়া হবে। কারণ একজন মালিকের একাধিক সিএনজি রয়েছে। আবার একটি সিএনজি ২ থেকে ৩ জন চালক চালান। যখন যে চালাবে তার আইডি লগইন করে চালাতে পারবে। আর সিএনজি মালিক অ্যাপটির ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে দেখতে পারবে কতটি ট্রিপ কোথায় কোথায় হয়েছে। ২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ১ জানুয়ারি ৩ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশা অ্যাপে ছাড়ার ইচ্ছা তাদের। চপল আরো জানান, সিএনজি চালকদের অ্যাপে নিয়ে আসতে যেসব প্রতিবন্ধকতা তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শুরুতে সিএনজি চালক আর মালিকদের বহু সমিতি দেখে পরে পৃথকভাবে মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই অ্যাপ সেবার কথা তুলে ধরেছিলেন। এতেই মালিকপক্ষ রাজি হয়। তবে রাইড শেয়ারিং যে নীতিমালা করছে সরকার সেখানে সবশেষ খসড়ায় সিএনজি অটোরিকশাকে অ্যাপ সেবার বাইরে রাখার বিধান যুক্ত করা হয়। যদিও সরকার নির্ধারিত মিটার কার্যত অচল।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৭ সনদ বিতরণে প্রধানমন্ত্রী
নানা সীমাবদ্ধতা মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকার সবধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- আগামীতে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে সশস্ত্র বাহিনীকে। সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৭ এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবিকতার মানদণ্ডে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন, গভীর পর্যবেক্ষণ এবং উচ্চতর গবেষণার জন্য ১৯৯৬ সালে মিরপুর সেনানিবাসে স্থাপিত হয় ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ। যেখানে প্রতিবছর সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশ পরিচালনায় কৌশলগত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। সোমবার সকালে মিরপুর সেনানিবাসে এ বছর সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করায় কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময়, দেশের সামরিক-বেসামরিক মিলে ৫৩ জন কর্মকর্তা এবং বিদেশের ২৭ জনের হাতে তুলে দেয়া হয় ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সের সনদ। এছাড়া, আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে তিন বাহিনী থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা অর্জন করেন এএফডব্লিউসি সনদ। এ সময়, কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, জাতীয় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্বেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সশস্ত্রবাহীনিকে আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন এবং প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 'প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নিরাপদ করাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান উজ্জ্বল। আগামীতেও দেশের জন্য একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান সরকারপ্রধানের। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সশস্ত্রবাহীনি শুধু মাত্র ক্যাম্পে বসে থাকার জন্য না। আমাদের দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্রবাহীনি নিযুক্ত থাকছে। 'পরে, কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।