নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভিডিও ফুটেজে ঐতিহাসিক সাতই মার্চ আওয়ামী লীগের সমাবেশে যাওয়ার পথে মিছিল থেকে নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওইদিন ভিকারুন্নেসার যে ছাত্রীকে হয়রানি করা হয়েছে, এ কথা সত্য। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছি, তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করব। সাতই মার্চের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেই দিন রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নারী-পুরুষ সমানভাবে গেছে। তবে কেন এই ঘটনা ঘটল এটাই আমার প্রশ্ন? তাহলে এরা কারা? কেন তারা মিছিলে গিয়ে এ ঘটনাটি ঘটাল- এটাই দেখার বিষয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে না সরকার। যারা বিভিন্ন সময় বাস পুড়িয়েছেন, অগ্নিসংযোগ করেছেন, পুলিশের অস্ত্র ভেঙে দিয়েছেন কিংবা পুলিশকে মারধর করেছেন তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রত্যেককে চিহ্নিত করেই ধরা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা গেছে এবং মামলা রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদের ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য অসুবিধা হবে এমনটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই চান না। তাই তিনি সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করছেন। বছরের প্রথম দিন দেশের সব ছাত্রছাত্রীর কাছে পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়া হয়। এটা কিন্তু একটা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কোনো আমলে এটা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরেও বলেন, স্কুল-কলেজগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে একের পর এক ইমারত তৈরি করা হচ্ছে। একের পর এক যেসব রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলো কিন্তু তার নির্দেশনায় হচ্ছে। হাতিরঝিল তো একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে উদাহরণ দেয়ার মতো একটি জায়গা হয়েছে হাতিরঝিল। এই জায়গার আরো উন্নয়ন হবে, এখানে আরো অনেক কিছুই স্থাপন করা হবে।
সরকারি উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এ বছর রাজধানী ঢাকাতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা কম। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা মশা এবং মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা কম রয়েছে রাজধানী ঢাকা। খবর বাসসর স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জরিপ থেকে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা কেমন হবে, সে লক্ষ্যে নগরীর ১০০টি স্থানে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ স্থানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মশার পরিমাণ একটু বেশি দেখা গেছে। তবে এ নিয়ে আতংকিত হবার তেমন কোন কারণ নেই। জরিপের প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, সম্প্রতি রাজধানীতে মশার গতিবিধি ও উপদ্রবের ওপর একটি প্রাক মৌসুম জরিপ পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। জরিপ প্রতিবেদনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বাহিত মশার তেমন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। নগরীর ৯৭ শতাশই এনোফিলিস মশা, যা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর জন্য দায়ী নয়। তবে প্রস্তুতি হিসেবে, স্বাস্থ্য অধিদপতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কর্তৃক ডেঙ্গু রোগের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্টের উপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে কর্মরত মোট ১৮০ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হরেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম আছে। সরকারি উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ। গত এক বছর ধরে দেশে চিকুগুনিয়া ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। চিকুনগুনিয়া ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে ডেঙ্গু রোগের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগ দ্রুত সনাক্তকরণ কীটস সরবরাহ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের ৯৩টি ওয়ার্ডের একশটি এলাকার ২ হাজার বসতবাড়িতে এডিস মশার সার্ভে পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের ঝুকিপূর্ণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু নির্বাচনকে বানচাল করার ক্ষমতা দেশের কারো নেই। নির্বাচন হবেই। সেই নির্বাচন হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে পেশকার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলীনগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি এ সব কথা বলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে ঢোল বাদ্য বাজিয়ে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হতে থাকে। বিশেষ করে সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক নারীর সমাগম ঘটে। এক পর্যায়ে সমাবেশ জনসভায় রূপ লাভ করে। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ জেলে। দুর্নীতির মামলায় তার সাজা হয়েছে। আইন আদালত তাকে জেল দিয়েছেন। প্রমাণিত হয়েছে তিনি এতিমের টাকা আত্মসাত করেছিলেন। টাকা এসেছে এতিমের জন্য, চলে গেছে আরেক জায়গায়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ। দেশ সেই পথে এগিয়ে চলেছে। সমাবেশে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ভোলার আলীনগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমদের সভাপতিত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মাসেতুর কাজ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মাসেতুর কাজ। সেতুর ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) ৭-সি বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো ৪৫০ মিটার কাঠামো। গেল বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর রোববার (১১ মার্চ) শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হলো। স্প্যান বসানোর আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয় রোববার সকাল থেকেই। সকাল ৯টার দিকে পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয় প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের সেতু। এর আগে শনিবার (১০ মার্চ) বিকেলে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যান নিয়ে ভাসমান তিয়ান ই ক্রেনটি ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায়। এই ক্রেনের ধারণ ক্ষমতা তিন হাজার ৬০০ টন। সেতুর প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সকালে স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের সামনে পজিশন অনুযায়ী আনা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে অস্থায়ী বেয়ারিংয়ের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে। তবে স্থায়ীভাবে বসতে কয়েকদিন সময় লাগবে। এছাড়া স্প্যান ওঠানোর আগে ওয়েট টেস্ট, ট্রায়াল লোড টেস্ট, বেজ প্লেট, পাইল পজিশন, মেজারমেন্টসহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের আমন্ত্রণে রোববার চারদিনের সফরে ঢাকা ছাড়লেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট রোববার সকাল ৮টা ২৫মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টায় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। বিমান বন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি মোটর শোভাযাত্রায় সাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। সোমবার, সিঙ্গাপুর সরকার শেখ হাসিনাকে স্বাগতিক অভ্যর্থনা জানাবে। অভ্যর্থনার পরে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সঙ্গে ইস্তানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ দিন সকালে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদারের লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরে তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাবেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে একটি অর্কিডের নামকরণ করা হবে। পররাষ্ট্র মনন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু;দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজের (আইই) মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, এয়ার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কনফিডেন্সিয়াল সমঝোতা স্মারক, ডিজিটাল লিডারশিপ, ডিজিটাল ইনোভেশন ও ডিজিটাল প্রশাসন রূপান্তর সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সঙ্গে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়িক সংগঠন সিঙ্গাপুর ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশনের মধ্যে পৃথক দু;টি চুক্তি সমঝোতা স্মারক। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বিজনেস ফোরাম-২০১৮ ও বালাদেশ সিঙ্গাপুর বিজনেস রাউন্ডটেবিল শীর্ষক দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। আগামী ১৪ মার্চ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সেতুমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জানিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একটি অসাধুচক্র সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর স্বাক্ষর নকল করে বিভিন্ন স্থানে আধাসরকারি পত্র পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘প্রকৃতপক্ষে, চাকুরি প্রাপ্তি, দবদলি, পদোন্নতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী কোনরূপ ডিওপত্র দেন না। এ সব বিষয়ে কোনো ডিওপত্র পেলে তা মন্ত্রীর দফতর থেকে (টেলিফোন নম্বর-০২-৯৫১৫৫৩৩) নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে,’ বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, এ অসাধু চক্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আমরা আশা করি সবাই নির্বাচনে আসবে :সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের জন্য নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংলাপের সময় সকল রাজনৈতিক দলকে আসন্ন একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা আশা করি সবাই নির্বাচনে আসবে। যখন সংলাপ হয়েছে তখন প্রত্যেকটা দলকে বলেছি, আপনারা সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। তাহলে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুনভাবে আমরা আর কিছু করব না। আমাদের নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আপনারাও (সাংবাদিক) কেউ কখনও আমাদের নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করেননি, প্রশ্ন করার সুযোগও ছিল না। তেমনিভাবে নাসিরনগরে আসন্ন উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।’ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতীয় পার্টির আস্থা নেই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে নুরুল হুদা বলেন, নিরপেক্ষভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে আমরা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। তিনি (এরশাদ) কেন এমন কথা বলেছেন, তার উত্তর তিনিই দিতে পারবেন। ভোটারদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান সিইসি। এর আগে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আগামী ১৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের উপ-নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় যোগ দেন নুরুল হুদা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. জোবায়ের হাসনাৎ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ।
পৃথিবী যতদিন থাকবে মশাও ততদিন থাকবে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বলেছেন, ‘পৃথিবী যতদিন থাকবে মশাও ততদিন থাকবে। এটা সত্য। তবে আমরা পারত পক্ষে নিধনের চেষ্টা করছি। এজন্য বছরের যে সময়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া দেখা দেয় তা প্রতিহত করতে আগেই আমরা বসেছি। ভাল প্রস্তুতিও নিচ্ছি।’ বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে সভাকক্ষে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থাদি ও রোগ দমনে করণীয় সম্পর্কিত সভায় সভাপত্বিকালে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, আমাদের প্রস্তুতি ভাল। এখানে সভায় দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যাক্তিরা উপস্থিত আছেন। তারা তাদের কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয়, তাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে মশার প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে কেউ মশার কামড় খেয়ে অসুস্থ্য হলে তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া। আর মশা নিধনের কাজ হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনগুলোর। আর বাড়ির ভিতরে মশা নিধনের দায়িত্ব হচ্ছে বাড়ির মালিকের। এর সাথে বাড়ির মালিক উক্ত বাড়ির আশেপাশে পরিস্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘মশার লাষ্ট স্টেইজ হচ্ছে উড়ন্ত মশা। তার আগে এ মশাগুলোর আরও তিনটি স্টেইজ আছে। তখন তারা থাকে পানিতে। আর যে মশাগুলো উড়ে গিয়ে কামড় দেয় সেগুলো এ্যাডাল্ট বা পূর্ণবয়স্ক মশা। এসব মশা মারা এই এনভায়রনমেন্টে একটু কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পানির প্রবাহটা যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি তাহলে এ ধরণের মশার ৭০ শতাংশ জন্মগ্রহণই করতো না। শহরের বেশকিছু ড্রেন আছে যেগুলো ঢাকনা দিয়ে ঢাকা থাকে। সেখানে আমরা মশা মারার প্রক্রিয়া করতে পারছি না। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ ঢাকা শহরের চারিদিকে বেশ কিছু ডোবা আছে যেগুলো পরিকল্পিত নয়। এখানে মাছের চাষও হয় না। পরিস্কার করাও হয় না। এ জায়গাগুলো থেকেও মশা উৎপন্ন হচ্ছে বলে জানান সিটি কর্পোরেশনের এ কর্মকর্তা। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, আর তা হলো মশার কারণে মহামারি তো দূরের কথা ডেঙ্গু আক্রমণের কোনো আশঙ্কাই নেই এবার।’ এ বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এ বছর মশা নিধন মেশিন, জনবল ও ঔষধের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আগামী ১৭ মার্চ উপলক্ষে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি বিশেষ সপ্তাহ পালন করবো।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক অফিস আছে। এবছর আমরা বেশকিছু সরকারি ও বেসরকারি অফিস ভিজিট করেছি। সেখানে আমরা ডেঙ্গু রোগবাহী মশার সন্ধান পেয়েছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এসব অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো আপনারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।
মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না মেধা কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাদের নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বেশি করে পড়ালেখা করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা যাতে মূল স্রোতে আসতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বনির্ভর হতে হবে। নারী উন্নয়ন বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছি। আমাদের উচ্চ আদালতে কোনও নারী ছিল না, আমি এসে সেই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি এসে নারীদের পুলিশের এসপি পদে নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের স্থান করে দিয়েছি। আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি করে ছয় মাস করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের মেয়েরা খেলাধুলায় এখন আর পিছিয়ে নেই। আমাদের মেয়েরা এখন এভারেস্টেও যাচ্ছে। আমরা নারী নেতৃত্ব গ্রাম থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি নারীদের অবদানের কথা বলতে গিয়ে নিজের মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে সংসার, রাজনীতি ও আন্দোলন পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন সেসবের স্মৃতিচারণা করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর