কোনো দল নির্বাচন এলো কি এলো না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই :ওবায়দুল কাদের
বঙ্গবন্ধু ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত যেসব আসামি বিদেশে পলাতক আছে তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় যে জঠিলতা ছিলে সরকার তা অনেকটা সমাধান করেছে। এখন তাদের ফিরিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে সরকার।শহীদ বুদ্ধিজীবীদের খুনে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আলবদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কয়েকজন আসামি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন।জামায়াতে ইসলাম নিষিদ্ধের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে রয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি হলেই সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনো দল নির্বাচন এলো কি এলো না এ দায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেই। কেউ যদি নির্বাচনে না আসে গণতন্ত্র চলার পথে কোনো বাধা হবে বলে আমি মনে করি না। পার্লামেন্ট চলবে, গণতন্ত্রও চলবে, গণতান্ত্রিক সরকারও থাকবে। কেউ নির্বাচনে না এলে গণতন্ত্রের কী দোষ।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ক ম মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এই সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে যারা বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছিল তাদের প্রেতাত্মাদের নির্মূল করার প্রত্যয় জানিয়ে মহানগর আওয়ামী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, সহ-সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, উপদেষ্টা শফর আলী, কোষাধ্যক্ষ সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, দফতর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শামসের, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন সম্পাদক এডভোকেট ইফতেষার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীস গুহ বুলবুল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মানস রক্ষিত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, মহিলা সম্পাদিকা জোবায়েরা নার্গিস খান, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, উপ প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক জহরলাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য কোতোয়ালী থানার সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর, মহব্বত আলী খান, সাইফ উদ্দিন খালেদ বাহার, বেলাল আং, চকবাজার থানা সভাপতি আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, টিংকু বড়য়া। এয়াড়া আগামীকাল শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বিদায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। Press Release
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এটাই জাতির পিতা শিখিয়েছেন। এ পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ফ্রান্সের ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ড হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা। এই সমস্যা তাদের নিরসন করতে হবে এবং মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি ,সকল রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারা বিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকারের না, কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই ঘটনায় (রোহিঙ্গা সঙ্কট) পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে তাদের ফেরত পাঠাব। সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে পারব। রাখাইনে স্থানীয় বাহিনীর সংঘাতে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বিতাড়নের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চলে এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে:স্পিকার
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন এ বেটার স্টোরিজ আয়োজিত স্টার্ট আপ কাপ-২০১৭ এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে একথা বলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাগণ দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং অন্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। এটা প্রকারান্তরে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের এই অবদানকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্যোক্তারা কাজ করছেন। গ্রাহকের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। আর এ সকল উদ্যোক্তাদের সাথে মূলত: কাজ করছেন গ্রামীণ নারীরা।
আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: মনিরুল
নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের পাতালপথে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আকায়েদ উল্লাহর দেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ দেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে বোমা হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর ও তিনজন পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাত বছর আগে আকায়েদ নিউইয়র্কে আসেন। ব্রুকলিনে থাকেন তিনি। আকায়েদ উল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামে। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে এসেছিলেন।
জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি ঐক্য জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ডে আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করবো কারণ, জনগণ আমাদের পক্ষে রয়েছে। জনগণ আমাদের ভোট প্রদানের জন্য প্রস্তুত। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর আমন্ত্রণে ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার তিনদিনের সরকারি সফরে এখানে এসেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের দলকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মাধ্যমেই দলের সর্বস্তরে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দলের মধ্যে বিভাজন ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে কিন্তু সকলে একতাবদ্ধ থাকলে সে সুযোগ তারা পাবে না। আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবো ইনশাল্লাহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনসহ ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রায় ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় যোগ দেয়।
নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
সন্তান প্রসবের সময় রোগীর পেটে গজ রেখেই অপারেশন শেষ করার দায়ে পটুয়াখালীর বাউফলের কথিত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আজকে আবেদনের শুনানি শেষে কথিত চিকিৎসককে পাঁচ লাখ টাকা এবং নিরাময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে রোগীকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগ গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনকারী কথিত চিকিৎসক রাজন দাসকে (অর্জুন চক্রবর্তী) আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৬ নভেম্বর ওই ডাক্তারের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন হাইকোর্ট। এর আগে আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে ডাক্তার নামধারী রাজন দাসের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হয়। গত ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২২ জুলাই সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ! শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা আদালতের নজরে আনার পর রুলসহ হাইকোর্ট আদেশ দেন। ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিন মাস পর বরিশালে মাকসুদা বেগম (২৫) নামের এক নারীর পেট থেকে গজ বের করা হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় খাদ্যনালীতে অনেকগুলো ছিদ্র হয়ে গেছে। মাকসুদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মাকসুদা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী। গত মার্চে অস্ত্রোপচার করে মাকসুদা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তখন তাঁর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন চিকিৎসক। মাকসুদার মা রোকেয়া বেগম বলেন, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল মেডিকেলের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আলট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়ে না। এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁর পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।
জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ৯৯৯ উদ্বোধন করলেন জয়
ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ৯৯৯ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের সম্প্রসারিত ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশি সেবা নিয়ে ৯৯৯-এই সম্প্রসারিত নম্বরের উদ্বোধন করা হয়। এই সেবার মাধ্যমে উন্নত দেশের মতো নাগরিকরা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৯৯৯ নম্বরে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি কল করে জরুরি পুলিশি সেবা, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক-এর সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন।