মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পোশাক শ্রমিকদের
অনলাইন ডেস্ক: টানা শ্রমিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। শ্রমিকদের জন্য আগের ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে আশানুরূপ মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় পোশাক শিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার ছয় গ্রেডের মজুরি সমন্বয় করেছে বলে রোববার বিকেলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মজুরি সমন্বয়ের এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিতি ছিলেন। এই বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ৩, ৪ ও ৫নং গ্রেডের সঙ্গে ১ ও ২নং গ্রেডের মজুরির সমন্বয় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে সমন্বয়ের পর সব গ্রেডে মজুরি বাড়বে। এর আগে গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাত হওয়ায় এ শিল্প এবং শিল্প খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় সরকার ত্রিপক্ষীয় মজুরি কমিটি গঠন করে। এর আগে গত বছর মালিক-শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পোশাক খাতে সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা মজুরি চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এ মজুরি কার্যকর নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সড়ক বন্ধ রেখে আন্দোলন, বাস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটে। মালিক-শ্রমিক ও প্রশসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা করা হয়েছিল। তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল। চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা ছিল। ২০১৮ সালের নতুন কাঠামোর করা হয়েছিল ৯ হাজার ২৪৫ টাকা। পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা ছিল। ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা বাড়িয়ে ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল। সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে আট হাজার টাকেই রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা। টিপু মুনশি বলেন, সংশোধিত এই কাঠামো ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হবে। বর্ধিত অংশের টাকা ফেব্রুয়ারির বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হবে জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী, যিনি নিজেও গার্মেন্ট খাতের একজন উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকাংশই ভাংচুর চায় না। কাজ করতে চায়। আমি আশা করব, তারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন। বৈঠকে উপস্থিত শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনও সংশোধিত মজুরি কাঠামোকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।
লড়াই চলবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি বিরুদ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখার জন্য সরকার তার দুর্নীতিবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তার প্রথম কর্মদিবসে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, যদিও কোনো দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হলো এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং আমাদের সব সাফল্য ম্লান করে না দেয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশে বার বার ঘটেছে। কিন্তু আমরা দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। প্রযুক্তির বদৌলতে এই সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভাল ফল। তিনি বলেন, আমাদের যে লক্ষ্য ছিল... মাদকবিরোধী, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলাম। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযানগুলো যেন অব্যাহত থাকে। এই দুর্নীতি যেন আমাদের উন্নয়নের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে বা আমাদের সব অর্জন যেন ধ্বংস করে না দেয়, সেজন্য দুর্নীতি রোধ করা এটাও আমাদের কর্তব্য। সেজন্য আমি বলব, এই অভিযানগুলো অব্যাহত রাখতে হবে। তার জন্য আমাদের এই অফিসটা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব কিন্তু অনেক বেশি। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতেও নিজের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আমরা যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে দেশে শান্তি, নিরাপত্তা রক্ষা করা। তিনি নিজেও আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শুরু করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে নিজের কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসের প্রথম ভাগ কাটান প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন তিনি। কার্যালয়ের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, আমরা ১০ বছরে যা উন্নতি করতে পারলাম, তারা কেন তা করতে পারেনি। এ প্রশ্নের উত্তর যখনই খুঁজতে যাই তখনই মনে হয়, আসলে যারা স্বাধীনতাই চায় নাই তারাতো আর দেশের উন্নতি করবে না। করতে চায় না। তাদের কাছে ক্ষমতা ছিল একটা লোভের মতো। একটা জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে তার একটা ভিশন থাকতে হবে, দিকনির্দেশনা থাকতে হবে, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেটা না থাকলে কোনো দেশ এগোতে পারবে না। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করব, নিজের পায়ে দাঁড়াব, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলব। অন্য দেশ যদি পারে আমরা পারব না কেন? আমাদের কিসের অভাব? কোনো অভাব নেই। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শুধু উদ্যোগের অভাব, উদ্যমের অভাব, কাজ করার অভাব। তো সেই জায়গায়টায় আমরা যখনই এসেছি দিনরাত পরিশ্রম করেছি। সবাইতো বলছে, আপনারা এত খাটেন কেন? খাটাটা তো আমার নিজের জন্য নয়, খাটি দেশের জন্য, মানুষের জন্য। দেশকে উন্নয়নের একটা পর্যায়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে কিন্তু সেই জায়গায় আমরা এসে গেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে এই যে আমরা উন্নতিটা করে একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতিটা পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, আমরা জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বয়স খুবই নতুন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে ২০০-৩০০ বছর ধরে গণতন্ত্র চর্চা করে আসছে। তাদের ওখানেও কি গোলমাল হয় না? গোলমাল আছে, দ্বন্দ্ব আছে সবই আছে। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী। তারপরও আমরা সেই মানুষগুলোকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি। এক হয়ে কাজ করা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য খুবই জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এদেশের উন্নতি হলে নিজের পরিবার, প্রতিবেশী সকলেরই উন্নতি। তাহলে আমাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে কেন? অহমিকাবোধ থাকবে কেন? সবাই মিলে কাজ করলে একটা দেশ যদি উঠে আসে সেটাই করতে হবে। আর কখনো যেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে সেই প্রত্যাশা রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারাই আসুক তারা হবে স্বাধীনতার সপক্ষের। স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাস করবে। স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনাই বিশ্বাস করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ একটি উপস্থাপনায় নির্বাচনী ইশতেহার ও এসডিজি বাস্তবায়নে কর্মসূচি তুলে ধরেন।
যৌক্তিক হারে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের মজুরি যৌক্তিক হারে বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশনার ভিত্তিতে শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে বেতন আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়ায় গার্মেন্টস শিল্পের উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সরকার উক্ত গ্রেটগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান মজুরি ঘোষণা দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, দেশের অর্থনীতির প্রাণ শক্তি গার্মেন্ট শিল্প এবং এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় সরকার দ্রুত ত্রি-পক্ষীয় মজুরি কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতের ভিত্তিতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মজুরি সমন্বয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। সূত্র মতে, শ্রমিক বান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের সঙ্গে ১ এবং ২ নং গ্রেডের মজুরি সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে সমন্বয়ের পর প্রতিটি গ্রেডে এই মজুরি যৌক্তিক হারে বাড়বে। এদিকে সোমবার থেকে শ্রমিকরা কারখানায় এসে কাজে যোগ না দিলে কোনো মজুরি দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। রোববার দুপুরে পোশাক শিল্পে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আগামীকাল থেকে পোশাক শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে। পাশপাশি কোনো মজুরি দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, মজুরি কাঠামোর সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার ও মালিকপক্ষ। তাই আন্দোলন ত্যাগ শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান সিদ্দিকুর। উল্লেখ্য, নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী প্রতিশ্রুত মজুরি প্রদান এবং মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। আলোকিত বাংলাদেশ
শপথ গ্রহণের পর প্রথম অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন তিনি। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান। জানা গেছে, সেনানিবাসে পৌঁছেই সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিখা অনির্বাণে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ মাল্টি পারপাস হলে তার দপ্তরের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং চা চক্রে মিলিত হন।
দ্রুত নিষ্পত্তি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: আইন মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: পিল বিভাগে বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। আনিসুল হক বলেন,ট্রাইবুন্যালে নিষ্পত্তির পর বেশ কিছু মামলা এখন আপিল বিভাগের বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা উদ্যোগ নেব। আজ রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের দণ্ডাদেশ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অপরাধী যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা খাটানোর ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত তৎপর। অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাঁদের ভালোভাবে বুঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিবে এবং সেই চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় সেসব দেশের আদালত। ওই পরামর্শের কারণে সেখানে শতকরা ৯০ ভাগ মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের জুডিশিয়ারির ওপর চাপ কমে আসছে। আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কেবল আইনের শাসনই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র্য দূরীকরণেও জুডিশিয়ারি বিশেষ করে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জনগণকে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিচার বিভাগকে সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মামলাজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। আনিসুল হক বলেন,মনে রাখতে হবে যে বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হলো বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন্ দৃষ্টিতে দেখছে কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। মোটকথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিছক গতানুগতিক বা দায়সারা ভাব পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিচারকদের বিন্দুমাত্র লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারকদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করেই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বিচার বিভাগের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
শিখাঅনির্বাণে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে (শিখা চিরন্তন) পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নিজ কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার (১৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি সেখানে গেলে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেনানিবাসে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শিখা অনির্বাণে পৌঁছালে সেখানে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সশস্ত্র বাহিনীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ মাল্টি পারপাস হলে তার দফতরের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর চা চক্রে মিলিত হন।
খতিয়ে দেখার নির্দেশ শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি কি-না
অনলাইন ডেস্ক: শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কেউ উসকানি দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে পিছিয়ে পড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। কমিশনার বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কেউ যদি ব্যক্তি স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এছাড়াও শ্রমিকদের দাবির বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ কাজ করছে। খুব শিগগির তাদের দাবি মিটিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বানও জানান ডিএমপি কমিশনার
সড়ক-মহাসড়ক দখলমুক্ত হবে,৭ দিনের মধ্যে: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, সাত দিনের নোটিশ দিয়ে দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। আমি আজই এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা। এ সময় তিনি ওই ফ্লাইওভারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। নতুন মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সড়ক-মহাসড়কে শৃংখলা ফেরানোর বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে, কোন অবস্থায় অবৈধ পার্কিংয়ের অনুমতি দেয়া যাবে না। জনগণকে স্বস্তি দিতে সড়কে নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই বার্তাটিই আমি জনগণকে দিতে চাই। মানুষের জীবন আগে জীবিকা পরে- এ কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুর্ঘটনার হার কমে গেলেও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে, এ থেকে দেশবাসীকে পরিত্রাণ পেতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বা বধায়ক প্রকৌশলী মো: সবুজ উদ্দিন, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইফুদ্দিনসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হাজীদের চোখের পানি দেখতে চাই না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: হজ পালনকারীদের যাতে কোন ধরনের সমস্যা পোহাতে না হয় তার সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে। আমি হাজীদের চোখের পানি দেখতে চাই না। তার মন্ত্রাণালয়ের কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। কথা নয়, কাজ দিয়েই তা প্রমাণ করার কথা বললেন নব-নিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে তার নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি নিজে কোন দুর্নীতি করব না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। অন্য মন্ত্রণালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা থাকবে বলে তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কোটালীপাড়া শেখ রাসেল কলেজের শিক্ষকগণ ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গওহর ডাঙ্গা মাদ্রাসায় মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সদর সাব হুজুর শামছুল হক ফরিদপুরির কবর জিয়ারত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি জিয়ারত করেন। তিনি এই দুই মহান লোকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে তার মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু করলেন বলে জানান।

জাতীয় পাতার আরো খবর