বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০
বিশেষ ফ্লাইটে সিলেট ছাড়লেন ১৪৬ ব্রিটিশ নাগরিক
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আটকেপড়া ১৪৬ ব্রিটিশ নাগরিক বিশেষ ব্যাবস্থাহায় সিলেট ছেড়েছেন। আজ মঙ্গলবার সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি-৪০০৬) তারা সিলেট ছাড়েন। এর আগে সকাল ৯টায় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োাজাহাজটি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ১৪৬ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় বিমানটি। সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ১৪৬ ব্রিটিশ নাগরিককে নিয়ে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। সেখান থেকে ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমান বন্দর সূত্র জানায়,বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সিলেট সহ বাংলাদেশে আটকেপড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এরই ধারাবাহিকতায় এই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের নিতে বিমানের আরও তিনটি ফ্লাইট চলতি মাসের ২৩, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের প্রত্যেকের পাসপোর্ট খতিয়ে দেখে বিমানে তোলা হয়েছে। প্রতি যাত্রী সঙ্গে ২০ কেজি করে মালামাল নিতে পারছেন। বিমানে দুইজন পাইলট ও ৬ জন কেবিন ক্রু দায়িত্ব পালন করবেন।বাসস
কৃষকের ধান কেটে দেবে কৃষকলীগ
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনায় একদিকে শ্রমিক সংকট ও নগদ অর্থের অভাব, অন্যদিকে বৈশাখ মাস, যে কোনো সময় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি এসে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা। এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চট্টগ্রামের প্রান্তিক উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা যে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তার অবসান হয়েছে সেখানকার (চট্টগ্রাম-৭) সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদের ঘোষণায়। তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদের নির্দেশে রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের ধান কেটে দিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও পৌরসভা কৃষকলীগের নেতৃত্বে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন, গ্রাম ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার অধীন এলাকায় ধান কাটার ব্যবস্থা করে কৃষকদের সাহায্য করবেন বলে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পৌরসভা কৃষকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রাসেল রাসু, সহ-সভাপতি মো. মাহমুদুল ইসলাম রাসেল, উপজেলা যুবলীগ সদস্য মো. মহসিন প্রমুখের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি ইতোমধ্যেই কাজে নেমে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে পৌরসভা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুক হক বলেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মহোদয় যেকোনো মানবিক সঙ্কটে সাধারণ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। এছাড়া তার অনুসারীরাও তাকে অনুসরণ করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। এই দুর্যোগে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করতে। তাই পৌরসভা কৃষকলীগের উদ্যোগে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থ সংকটের পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে চরম বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা। তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষকের এই সংকটে পাশে থেকে কৃষকলীগ মানবিকতার পরিচয় দেবে। এই কাজে আওয়ামী পরিবারের সব স্তরের নেতাদের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
ত্রাণ বিতরণের নামে কোন ধরনের বৈষম্য করা চলবে না
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই দুর্যোগকালে সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও পরীক্ষীত নেতৃত্বে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। আজ সকালে তার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ত্রাণ বিতরণের নামে কোন ধরনের বৈষম্য করা চলবে না। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তাদের এ অভিযোগের কোন তথ্য-প্রমাণ নেই। বিএনপিকে নিষ্ক্রীয় করার জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট, তাদের নেতিবাচক রাজনীতির জন্য আজ তাদের এই পরিনতি।
নতুন ৪৩৪ করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ৯ জনের
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৩৪ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৮২ জন, মোট মারা গেছেন ১১০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৮৭ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে করোনা নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিকে গতকাল সোমবার দেশে ৪৯২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ও ১০ জনের মৃত্যু হয়। ২০শে এপ্রিলের হিসেব অনুযায়ী ঢাকায় এখন ১১৭৪ জন করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন।ঢাকার আশেপাশেই মূলত করোনাভাইরাস রোগী অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় বেশি। আইইডিসিআরের হিসেব অনুযায়ী চট্টগ্রামে পুরো বিভাগে মোট করোনাভাইরাস রোগী আছেন ১১৮ জন, যেখানে নরসিংদীতে ১৩৫ জন, কিশোরগঞ্জে ১৪৬ জন এবং গাজীপুরে শনাক্ত হয়েছেন ২৬৯ জন। নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ হয়েছে ৩৮৭ জনের মাঝে। এর বাইরে মুন্সীগঞ্জে ৩৩ জন, গোপালগঞ্জে ৩০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সরিষাবাড়ীতে ডাক্তারদের পিপিই দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার -নার্সদের মাঝে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও সার্জিক্যাল মাস্ক বিতরণ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান। প্রতিমন্ত্রী উপজেলার দৌলতপুরস্থ নিজ বাসভবনে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও নার্সদের জন্য ৪০ পিস ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং ৫০টি সার্জিক্যাল মাস্ক প্রদান করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার জারিন পিপিই ও সার্জিক্যাল মাস্ক গ্রহণ করেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা ও দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেককে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
করোনা: ডাক্তার-সাংবাদিককে হয়রানি করলে বাড়িওয়ালার বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কভিড-১৯ আক্রান্তদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জরুরি সেবাদানকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং করোনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক হয়রানি করলে তাদের (বাড়ির মালিকদের) বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে এ নির্দেশনা জানানো হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লকডাউনের মধ্যে আক্রান্তদের সেবাকাজে নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ সাংবাদিক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিতদের বাড়ি ছাড়ার জন্য বাড়ির মালিকদের হুমকির মধ্যে সরকারের এ নির্দেশনা এসেছে। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, কেউ এ ধরনের হয়রানির শিকার হলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকোর ওয়েবসাইটে দেওয়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করে জানাতে পারেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করে হয়রানির তথ্য জানানো হলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনার মধ্যে জরুরি কাজে নিয়োজিতদের হয়রানি বা বাড়ি ছাড়তে বললে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বাড়িওয়ালাদের অর্থের উৎস খোঁজা হবে বলে জানানো হয়। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, জরুরি সেবাদানকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী এবং করোনায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বাড়ির মালিক বা কোনোভাবে হেনস্তার স্বীকার হলে ৯৯৯-এ কল করুন। আমরা ব্যবস্থা নেবো।
এডিবির কাছে সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনপ্রশাসনের যারা মাঠ পর্যায়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রণোদনা দিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ সোমবার অর্থমন্ত্রী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ফোনে আলাপচারিতায় এ সহায়তার কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশকে যে সহায়তা দিয়েছে তা এই ক্রান্তিকালীন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতে আমাদের প্রয়োজন এর চেয়ে আরো অনেক বেশি। বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এডিবির বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের উপর করোনার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য এডিবি থেকে বর্ধিত প্রকল্প সহায়তা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য আরো ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সাপোর্ট প্রয়োজন। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইন কর্মীদের (চিকিৎসা কর্মী, সিভিল প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানকারী) জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার, কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারানো দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এবং অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে ১৫০ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা এবং অছাড়কৃত ওসিআর লোনের কমিটন্টে চার্জ হ্রাসের অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী। এডিবির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উল্লেখিত খাতসমূহে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে সময়মত অবহিত করবেন বলে জানান। এর আগে এডিবি প্রেসিডেন্টের কাছে সারা বিশ্বে তথা বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। গোটা বিশ্ব আজ প্রকট অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জানি না যে, এই সঙ্কট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এডিবির স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি খাতে ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণার জন্য এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়ার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এডিবির প্রেসিডেন্টের গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশগুলো করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতের জরুরি সেবা ও বাজেট সাপোর্টের জন্য এডিবি তৎক্ষণাৎ ভিত্তিতে বাংলদেশের জন্য যে ৬০২.৩৯ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে সেজন্যও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মহামারি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। যার ফলে এই অঞ্চলের দরিদ্রতা আরো বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এডিবি ঘোষিত সহযোগিতা প্যাকেজ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এবং বেসরকারি খাতকে এই মহামারি মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে এডিবির চলমান প্রকল্প ও পাইপলাইনের প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সেগুলো দ্রুত সফলভাবে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির প্রায় ৮.৭০ বিলিয়ন ডলার সহায়তায় ৬৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে রয়েছে প্রায় ৯.৯৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ৮১টি প্রকল্প। অর্থমন্ত্রী ও এডিবি প্রেসিডেন্টের মধ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দি করা হয়েছে। বাংলাদেশে গত ২৬শে মার্চ থেকে আগামী ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-খাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তিনি এডিবির প্রেসিডেন্টকে জানান, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ। এই প্যাকেজের অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালকে প্রশস্ত করা এবং আর্থিক সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, পরিষেবা খাত এবং কুটির শিল্পগুলিকে সুরক্ষার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী মূলধনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতাসুগু আসাকাওয়া বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক ত্বরিত ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সব জেলার ত্রাণ কাজের সমন্বয়ে ৬৪ সচিব
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার ৬৪ জন কর্মকর্তাকে একটি করে জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সচিবদের এই দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদেশটি প্রকাশ করেছে। আদেশ বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে করোনা (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার কাজ (সচিবরা) তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ করবেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতেও সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যার/চ্যালেঞ্জ অথবা অন্যবিধ বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থকে লিখিত আকারে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবরা সমন্বয় কাজে তার মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার উপযুক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে। এই সঙ্কটের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের জন্য রোববার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের আটজন চেয়ারম্যান এবং ১৬ জন সদস্যসহ মোট ২৪ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লকডাউনে ভারতে আটকে পড়া ১৬৪ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন। অল্প আগে সরকারী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন তথা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় আকাশপথে চেন্নাই থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন তারা। এদিকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জিএম মার্কেটিং অ্যান্ড পিআর কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন ৩ টা ৪৮ মিনিটে চেন্নাই ফেরত স্পেশাল ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। নয়া দিল্লির বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী কয়েকদিনে আরো কয়েকটি ফ্লাইটে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া অনেকেই চেন্নাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মিশনের বিজ্ঞপ্তি মতে, বর্তমানে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে আটকে থাকা অসুস্থ ও প্রবীণদের আকাশপথে দেশে ফেরার জন্য অনুমোদন পাওয়া গেছে ও তাঁদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । পর্যায়ক্রমে বাকি সকল রাজ্য থেকে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাস সার্বক্ষনিকভাবে কাজ করছে । প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে । দিল্লীর পাহাড়গঞ্জ এলাকায় কিছু বাংলাদেশী তাঁদের অসুবিধার কথা জানালে দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে তাঁদের সাথে সাক্ষাত করে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন । দিল্লীসহ অন্যান্য বড় শহরে যেখানে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশী আটকে রয়েছেন তাঁদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা চলছে । দেশে ফেরার আগে পর্যন্ত আটকে পড়া ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধাসমূহ কিভাবে আরও সহনীয় করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি যে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করছেন দূতাবাস সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে । বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসে পূর্ববর্তী প্রজন্মের বীরত্ব ও ত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে নয়া দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রচারিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- আজকের এ সংকটময় ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে তরুণ শিক্ষার্থীরা যে সাহস ও ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছেন অনাগত কাল তার মূল্যায়ন নিশ্চয়ই করবে। বাংলাদেশ হাই কমিশন সকলের সুস্থতা কামনা করছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর