বেপরোয়া দখলবাজী, স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় দুর্জয়ের
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি খাস জমি কিংবা বেসরকারি মালিকানা; জমি হলেই হলো। ভাগের নামে চাঁদা অথবা বেপরোয়াভাবে দখল নিতে আসবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের মদদপুষ্ট বাহিনীর লোকেরা। আর এভাবেই স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। এমনই অভিযোগ উঠেছে সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এমপি নাইমুর রহমান দুর্জয় এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, জমি দখলের পুরো কাজটি দুর্জয়ের হয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন তারই চাচা এবং মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপু। দুর্জয় বাহিনীর জমি দখলের বিষয়টি এখন মানিকগঞ্জ জুড়ে ওপেন সিক্রেট। জেলায় কেউ জমি কেনাবেচা করতে চাইলে আগেই ভাগ রেখে দিতে হয়। আর যারা ভাগ দেন না, তারা জমি কেনাবেচা করতে পারেন না। আর বেশি ঝামেলা করতে চাইলে সেই জমি চলে যায় দুর্জয়ের দখলে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখল ভীতির কারণে জেলার বাইরে থেকে কোনো ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় জমি কিনতে আসে না। সে কারণে জমি কেনাবেচাও খুবই কম। আর বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সড়ক ও জনপথের মতো সংস্থার সরকারি জমি এবং নদীভাঙা সম্পদ, বাজার বা অন্যান্য খাস জমি দখলে নেওয়া তো এমপির লোকজনের নিত্যদিনের ব্যাপার। ভূমি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুর্জয় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত পাঁচ ছয় বছরে শুধু দৌলতপুর এলাকাতেই শতাধিক একর খাস জমি দখল করে নিয়েছেন। উপজেলা সদরের খাল-নালা ভরাট করে তা পজেশন আকারে বিক্রি করার ঘটনাও ঘটেছে। দৌলতপুর বাজারে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই সরকারি নালা দখল করে ভরাট হয়েছে, সেখানেই এখন গড়ে উঠেছে বড় আকারের মার্কেট। দোকান প্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পজেশন বরাদ্দও দিয়েছেন টিপু। একইভাবে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে টিপুর বাহিনী। সেখানে এখন শতাধিক দোকানপাটের জন্য পজেশন বরাদ্দের পাঁয়তারা চলছে। জাফরগঞ্জ নৌবন্দর সংলগ্ন যেসব জায়গা জমি কয়েক বছর আগে যমুনাগর্ভে বিলীন হয়েছিল অদৃশ্য কাগজপত্রের সাহায্যে সেসব জায়গার মালিক সেজেছেন এমপির চাচা টিপু। স্ট্যাম্পে লিখিত দেওয়ার মাধ্যমেই নদীর সেই জায়গা বেচাকেনাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, জমি দখলের মহড়ায় যুক্ত আছেন এমপিপত্নী ফারহানা রহমান হ্যাপি। তরা-মুলজান শিল্পাঞ্চলের অনেক জায়গা জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে হ্যাপীর নামেও। তার নামে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের বহু দামী জায়গা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলজান এলাকায় এই জমিতেই হ্যাপির নামে দুর্জয় পরিবারের শপিং মল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়। এমপির স্ত্রী হওয়ায় জমি পুনরুদ্ধারে অনেকটাই হতাশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তরা ক্রসব্রিজ থেকে মানিকগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার মহাসড়কের অন্তত চারটি পয়েন্টে অন্তত পাঁচ একর জায়গা দখল করা হয়েছে। সেসব স্থান কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আলাদা সীমানা করে দেওয়া আছে। এছাড়া কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করারও অভিযোগ আছে হ্যাপির বিরুদ্ধে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মেগা ফিড কারখানার পেছনে অন্তত তিনটি স্পটে ফসলি জমি দখল করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সেই মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ট্রাক চালিয়ে ক্ষতি করা হচ্ছে আশেপাশের ফসলি জমির। অভিযোগ আছে, এভাবেই স্ত্রীর নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। প্রথম দফায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতি বছর গড়ে দুর্জয়ের আয় বাড়ে প্রায় ৮ গুণ। এর বাইরেও, স্ত্রী, চাচা এবং পরিবারিকভাবে সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ রেখেছেন তিনি। অবশ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায়, স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে যথাযথ কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি দুর্জয়। অভিযোগ আছে, অবৈধভাবে অর্জিত এই সম্পদ বিদেশে পাচার করে দুজন মিলে মালয়েশিয়ায় গড়েছেন সেকেন্ড হোম। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অবশ্য সেগুলো অস্বীকার করেন দুর্জয়ের চাচা তায়েবুর রহমান টিপু। আরিচা ও পাটুরিয়া এলাকায় জায়গা জমি নিয়ে দলীয় কর্মীদের মাঝে থাকা বিরোধ তিনি মিটিয়ে দিয়েছেন মাত্র বলে দাবি করেন। তবে হ্যাপির নামে থাকা জমি দিয়ে তিনি কি করবেন সে বিষয়ে অন্য কারও মাথা ব্যথার কারণ দেখেন না বলেও জানান টিপু। আর সম্পদের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেখবে বলে জানান সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অন্যদিকে তার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় কাজ করে তাহলে তাদের নাম পরিচয় জানতে চেয়েছেন তিনি। অভিযোগ পেলে নিজেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। দুর্জয় বলেন, আয়ের উৎস তো এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দেখবে। এনবিআর দেখুক আয়ের উৎস, আয়ের টাকা কই গেল? আর মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সূত্র সম্পর্কে জানতে চান।সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
করোনা নিয়ে বিএনপি ও কিছু বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি ও কিছু বিশেষজ্ঞের শঙ্কা-আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকার সারাদেশে জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সামর্থ্য অনুযায়ী সমস্ত মানুষের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের চতুর্থ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় এ সভায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঠিক এবং সময়োচিত পদক্ষেপ ও একই সঙ্গে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতার কারণেই তিন মাসে বাংলাদেশে একজন মানুষও অনাহারে মারা যায়নি। দেশে কোথাও খাদ্যের জন্য হাহাকার নেই। খাদ্যের জন্য হাহাকারের সম্ভাবনা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন, তাদের সেই মত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আরো নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এগুলো ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। আমরা যদি এভাবে এগিয়ে যেতে পারি, পরম সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে আইসিইউ বেড ১৯৬টি। এরমধ্যে কিছু বেড খালিও আছে। অর্থাৎ, এখানে শুরুতে যে সংকট ছিল, এখন তা নেই। চট্টগ্রামের রোগীরা যাতে আরো ভালোভাবে চিকিৎসা সুবিধা পায় সেজন্য আমরা সর্বোত্তভাবে চেষ্টা করছি, চট্টগ্রামে নিয়মিত সমন্বয় সভা করছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, তারাও কষ্ট করে অনেক কাজ করেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড-১৯ টেস্টের ব্যবস্থা করে যে উদাহরণ তৈরি করেছে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অনুসরণ করবে বলে আমি আশা করি। এসময় চট্টগ্রামে করোনা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং প্রয়োজনে লাশ দাফনের কাজে এগিয়ে আসা মানুষ ও সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকা রক্ষা দু’টির মধ্যে সমন্বয় করেই নানান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, সেজন্য এখন এলাকাভিত্তিক রেড জোন চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিহ্নিত এলাকায় যেসব বিধিনিষেধ মেনে চলা প্রয়োজন, আমাদের অবশ্যই কঠোরভাবে সেগুলো মানতে হবে। তাহলেই আমাদের পক্ষে নিজেদের, নিজের পরিবার, নিজের কাছের জনদের সুরক্ষা দেওয়া, সর্বোপরি মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
করোনামুক্ত হলেন Rab এর ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১৮ দিন পর করোনামুক্ত হয়েছেন Rab সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। বুধবার (২৪ জুন) তিনি নিজেই করোনামুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সারওয়ার আলম লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনাদের সকলের দোয়ার বদৌলতে কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি পেলাম। কৃতজ্ঞতা আপনাদের সকলের প্রতি। একের পর এক আলোচিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত ৭ জুন নিজের করোনা শনাক্তের বিষয়টি জানান তিনি। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সারওয়ার আলম ধারাবাহিকভাবে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, নকল মাস্ক, গ্লাভসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া, রমজানে ভেজাল বিরোধী অভিযান ছাড়াও অনেকগুলো আলোচিত অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।
করোনায় বিদেশে ১২৩৮ বাংলাদেশির মৃত্যু
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, প্রবাসে কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বুধবার (২৪ জুন) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে অন্তত ১২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। সূত্র জানায়, বিশ্বের মধ্যে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার পর্যন্ত শুধু সৌদি আরবেই করোনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪১৫ জন বাংলাদেশির। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এছাড়া সেখানে আরও কয়েকশ বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী নাগরিক মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৩০৬ বাংলাদেশি। সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রকোপ বেশি সংখ্যক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০৪, কুয়েতে ৪৫, ওমানে ২০ জন, কাতারে ১৮, ইতালিতে ১৪, কানাডায় ৯ জন, বাহরাইনে ৯ জন, সুইডেনে ৮, ফ্রান্সে ৭, স্পেনে ৫, লিবিয়ায় ১, পর্তুগালে ১, গাম্বিয়ায় ১, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১, মালদ্বীপে ১ ও কেনিয়ায় ১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সিঙ্গাপুরে প্রথম বাংলাদেশি প্রবাসীরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সেখানে এই পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সেখানে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এবার এমপি পাপুলের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাইলো এনবিআর
২৪,জুন,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর এবার কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে সিআইসি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে পাপুল ছাড়াও তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইসির মহা-পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, এমপি পাপুল ও তার স্ত্রীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়ে আজ (মঙ্গলবার) আমরা ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে পাপুল ও তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রক্ষিত সব ধরনের হিসাবের বিপরীতে লেনদেনের তথ্য জানাতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) দুদকও একইভাবে পাপুল, তার স্ত্রী, কন্যা ও একজন অত্মীয়ের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জনানোর জন্য চিঠি দেয়।
করোনায় আরও ৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪১২
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪১২ জন। এনিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৫৪৫ জনের। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জনে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৮০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৩৫ জন। তিনি আরো জানান, ৬৫টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৩টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ২৯২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ১১টি। নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪৩ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও নারী পাঁচ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ছয় জন, খুলনা বিভাগে দুই জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন, সিলেট বিভাগে এক জন, বরিশাল বিভাগে এক জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন, বাসায় মারা গেছেন ১২ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান এক জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৬৮০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২১ হাজার ১১২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৯১৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২২০ জন। এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন আট হাজার ১৮৫ জন।
খয়রাতির জন্য ক্ষমা চেয়েছে আনন্দবাজার
২৩,জুন,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একটি প্রতিবেদনে- খয়রাতি শব্দ ব্যবহার করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। মঙ্গলবারের (২৩ জুন) পত্রিকায়- ভ্রম সংশোধন দিয়ে ক্ষমা চায় আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ। আনন্দবাজার ভ্রম সংশোধন শিরোনামে লিখেছে লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং- শীর্ষক খবরে খয়রাতি শব্দের ব্যবহারে অনেক পাঠক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী। গত ২০ জুন আনন্দবাজার পত্রিকায় লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং- শীর্ষক এক প্রতিবেদনের শুরুতেই বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির সাহায্য ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চীনের নতুন নয় বলে লেখা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আনন্দবাজার পত্রিকার নানা সমালোচনা করছেন। গত ২১ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি কুদ্দুস আফ্রাদ এই রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এ রিপোর্ট আমার লেখা নয়। আমি নিজে এ রিপোর্টের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর