আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?
০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়।
উপড়ে ফেলতে হবে-কিশোর গ্যাং
২৯সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে মফস্বল শহর ও নগর কেন্দ্রিক কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধীদের অঘোষিত সাংগঠনিক রূপ কিশোর গ্যাং। কথিত বড় ভাইয়েরা এ গ্যাং এর মূল নিয়ন্ত্রক ও শক্তি। এ কিশোর গ্যাং ইতিমধ্যেই এত বেশী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তুচ্ছ ঘটনায় নিজের সহপাঠী বা বন্ধুকে অথবা প্রতিপক্ষকে তারা হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। দিন দিন কিশোর গ্যাং এর বিস্তার ঘটছে। খুন খারাবি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং অপহরণসহ নানারকম অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট বড় শতাধিক কিশোর গ্রুপ। এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে । কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়েই বিপথগামী হচ্ছে এসব কিশোর উঠতি যুবকেরা। বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধ জগতে পা বাড়াতে উৎসাহ দেন। তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন সমাজের নিরীহ নারী পুুরুষ। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইন ডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর-কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার। মোবাইল ফোনের আধিপত্য, বিকট শব্দে বাইক চালা, পাশ্চাত্য ঢং এ চলাফেরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ। জ্ঞানের সংস্পর্শে বিদ্যালয়ের পরিবেশে ভালো বন্ধুর সাহচার্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে কার সংগে মিশছে টিভিতে, মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে কি দেখছে, পড়াশোনা করছে কিনা ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে, নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া, নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল, মোটর সাইকেল দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। যার প্রমাণ ভুরি ভুরি। আশার কথা, বেপরোয়া গ্যাং কালচার রুখে দেয়ার উদ্যোগের কথা বলছেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ ও কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। অন্যদিকে ডিএমপি ও সিএমপি কমিশনার বলেছেন-ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর অপরাধ দমনের উদ্যোগ সত্যিই ইতিবাচক।
আজ পবিত্র আশুরা
১০সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের একটি দিন পবিত্র আশুরা। কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর দিনটি (১০ মহররম) বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা শোকের আবহে পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার আশুরা পালিত হবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এতে অংশ নেবে হাজার হাজার মানুষ। তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতকাল সোমবার ইমামবাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত শিয়া মুসলিম কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করছে বিভিন্ন রীতি-নীতি। তাজিয়া মিছিল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুষ্ঠান ঘিরে হোসেনি দালান এলাকা ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীয় সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এবার আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালানে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে যথেষ্ট কড়াকড়ি। পুলিশের পাশাপাশি ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ইমামবাড়া সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় মিছিলটি হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে বকশী বাজার লেন, কলপাড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড ঢাল, লালবাগ চৌরাস্তা, এতিমখানা রোড, আজিমপুর মেটারনিটি, নীলক্ষেত মোড়, সিটি কলেজ, ধানমণ্ডি-২, রাইফেলস স্কয়ার হয়ে ‘অস্থায়ী কারবালায়’ (বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের উল্টো দিকে) মিছিলটি শেষ হবে। এ ছাড়া ১ মহররম থেকে প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান, তাজিয়া মিছিল, শোকসভা, শোক মজলিস, মর্সিয়া মাতম ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করছে শিয়া মতাবলম্বীরা। এবার তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইমামবাড়ার স্বেচ্ছাসেবক মাহফুজ আলী বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করে আসছি। এবার মহরম উপলক্ষে অফিস থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ ইমামবাড়ার মহররমকেন্দ্রিক নানা আয়োজন দেখতে আসা নাজমা বেগম বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে মায়ের সঙ্গে এখানে আসতাম। এখনো নিয়মিত আসি।’ মিরপুর থেকে ঘুরতে আসা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি প্রতিবছর আশুরার সময় এখানে আসি। এবারও এসেছি। এখানে এলে আলাদা কিছু অনুভব করি।’ স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে ১ মহরম থেকে প্রতিদিন আসি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার আসব।’ হোসেনি দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মির্জা মো. নকি বলেন, ‘আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলেও সকাল ১০টায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। চার শ বছরের ঐতিহ্য আমাদের এই মিছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও তাজিয়া মিছিলে প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করছি।’ আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার মডেল থানার ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখানে কোনো অঘটন ঘটার সম্ভাবনা নেই।
সফলতা অর্জনে Attitude তৈরি করুন
৩১আগস্ট,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: আমরা সবাই জীবনে কম বেশি এই শব্দটি শুনে থাকি। কিন্তু অনেকেই জানে না Attitude মানে কি।Attitude আমাদের জন্য ভালো না খরাপ সেটি বলবো।যেমন সিংহকে জঙ্গলের রাজা বলা হয়। কেন জানেন? কারন সে বলে জঙ্গলের অবস্থা যতই খারাপ হোক আমি কোন দিন ও ঘাস খাবো না। এটা আমার কোন অহংকার নই। কারন আমি নিজেকে জানি,আমি জানি আমি কে এটিই হলো Attitude। তেমনি আপনিও যদি জীবনের সফলতা ও নাম পেতে চান তাহলে আপনাকেও এই সিংহের মতো হতে হবে। নিজেকে জানতে হবে। আপনি কি সেটা এই পৃথিবিকে দেখাতে হবে এবং নিজেকে সব সময় একটি প্রশ্ন করতে হবে (Who Am I?) আমি কে? কারন যখন আপনি নিজেকে জানতে চাইবেন তখন আপনি নিজেকে জানতে পারবেন। এবং সেটাই আপনাকে একজন সঠিক মানুষ তৈরি করবে Attitude এর সঙ্গে।আজকাল সবাই হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইজবুকে স্টাটাস দেয় Dont show me your attitude.Because I have no attitude- কথাটি কি সত্যি মনে হয় আপনার? আপনি কি ভুলে গেছেন আপনার ছোট বেলার কথা। যখন আপনি ৪/৫ বছরের ছিলেন? তখন কেউ আপনাকে কোলে নিয়ে বলতো বেটা তোমার নাম কি? কত কিউট একটা বাচ্ছা। কিন্তু তার পরেও আপনি আপনার নাম বলতেন না। কারন কি জানেন? কারন এইটা আপনার Attitude। অথচ সেই বাচ্ছাটি আপনিই ছিলেন। আজ আপনিই সেই বাচ্ছাটিই আছেন। শুধু পার্থক্য এইটুকুই যে তখন আপনি শুধু মাত্র নিজের কথা শুনতেন। সেটিই করতেন যা আপনার ভালো লাগতো। আর এখন নিজের থেকে অন্যের কথা বেশি শুনেন। সব সময় এটিই ভাবেন লোকে কি বলবে। আর এ জন্যেই এই Attitude আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। তাই আপনি যদি এই পৃথিবিতে কিছু করে দেখাতে চান। তাহলে আপনাকেও ঐ সিংহের মতো হতে হবে। ঐ বাচ্ছাটির মতো হতে হবে। আর সব সময় নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমি কে?Attitude সবার মধ্যেই আছে শুধু সবাই সেটিকে ব্যবহার করতে পারে না।Attitude সেটা নয় যখন আপনি রাস্তায় কারো সাথে কথা বললেন না। ফেইজবুক,হোয়াটসঅ্যাপ এ কেউ এস.এম.এস করলে তাকে Reply দিলেন না।যখন আপনি কাউকে ভালোবাসবেন সামান্য কারন থাকাই এটিও বললাম এটি Attitude নই।Attitude হলো মনে করুন আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাবছেন । আর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তখন আপনার সামনে দিয়ে কোন ফ্রেন্ড যাচ্ছে। আপনি তাকে দেকে কোন কথা বললেন না। এই জন্য নয় যে,আপনি তাকে Ignor করলেন। বরং এই কারনে যে,আপনিতো তার সাথে পরে কথা বলতে পারবেন। কিন্তু এখন যে চিন্তাটি আপনি করছেন?সেটি ভুলে গেলে আপনি আর মনে করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার বন্ধুর মনে হবে।আপনি তাকে Ignor করলেন।তাকে Attitude দেখালেন। আবার মনে করুন হোয়াটসঅ্যাপ,ফেইজবুকে আপনার ৫০০ এস.এম.এস এসেছে। আপনি ১০০ টি Reply করলেন।বাকি গুলো করলেন না। আর এ জন্য নই যে আপনি তাদের Ignor করলেন।বরংচ এজন্য যে আপনার কাছে ওতটা সময় নেই Reply দেওয়ার মত।এখানে ও সবাই ভাববে আপনি আপনার Attitude দেখাচ্ছেন।আবার মনে করুন আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে নিজের বুকে পাথর রেখে I hate you বললেন। এজন্য নই যে,আপনি তাকে Ignor করছেন। বরং এই জন্যই আপনি তাকে দেখতে চান আপনার থেকে দূরে গিয়ে সে আপনাকে কতটা ভালোবাসে।কিন্তু আপনার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড ভাববে আপনি তাকে Attitude দেখালেন। আর যদি আপনার Attitude এটা হয়? তাহলে আমি বলবো আপনার এই Attitude টা থাকুক।দরকার নেই,ওই রকম বন্ধু,দরকার নেই ওই রকম ফেইজবুক,হোয়াটসঅ্যাপ,দরকার নেই ওই রকম লোক,দরকার নেই ওই রকম গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড। যারা ভাবে এটা আমার Attitude।আমার কোন কিছু যায় আসে না।Attitude তো হলো সেই শক্তি যা আপনাকে এই ভিরের মধ্য থেকে বের করে কিছু করে দেখানোর সাহস যোগায়। আপনি ও যদি জীবনে কিছু করতে চান। নিজের জীবনে Attitude তৈরি করুন।Attitude এর সাথে চলুন। আর দেখুন আপনার দ্বারে কি ভাবে Success এসে দাড়ায়। তখন আপনি এমন একজন হয়ে যাবেন। যা আপনি এখন নন।A Perfect Attitude Man। তাই জীবনে যদি সত্যিই কিছু করতে চান? তাহলে নিজের মনে একটি আগুন জাালান,একটা বিশ্বাস নিয়ে আসুন আপনি পারবেন এবং ততক্ষন পর্যন্ত ছাড়বেন না। যতক্ষন পর্যন্ত আপনি আপনার লক্ষে পৌছে না যাবেন। লেখক: মোঃ ইরফান চৌধুরী,মানবাধিকার কর্মী।
জেনে নিন,ডেঙ্গুজ্বরে আপনার করণীয় কী ?
২৮জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে? আসুন জেনে নেই ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বর্পর্ণ তথ্য। বিবিসি। ১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো : সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে। ২. জ্বর হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন: এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ৩. বিশ্রামে থাকতে হবে: জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন। ৪. কী খাবেন: প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। ৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়: ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?: ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় । প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত। ৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?: ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে। এ ভাগগুলো হচ্ছে এবি এবংসি,প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী এ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো। সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে। ৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল: সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গুজ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে। ৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়: ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না। ১০. পানি জমিয়ে না রাখা: এডিস মশা ভদ্র মশা হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে। এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে। এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
অর্থ জমানোর কৌশল জানেন?
২২জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থ জমানোর ইচ্ছা সকলেরই। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা অর্থ জমাতে পারে না। অর্থ জমাতে গেলে খরচ করার সময় কিছুটা সতর্ক হতে হয়। আবার নানা কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। পরিকল্পনা: দৈনন্দিন আপনার খরচ কত হয় তা একটু চিন্তা করুন। সেখান থেকে আপনি সামান্য কিছু খরচ কমিয়ে জমানো শুরু করলে এক বছর পরে আপনার জমানো টাকা কত হবে ভাবুন। সেটা পাঁচ বছর পর কত হতে পারে? সেজন্য ছোট্ট একটি পরিকল্পনা করুন। এছাড়া আপনার বড় কোনো খরচ থাকলে সেটা কীভাবে সামলাবেন ঠিক করে ফেলুন। আর বর্তমান আপনার যা আয় সেটা সামান্য হলেও কীভাবে বাড়ানো যায় সেই পরিকল্পনা করে এগোতে শুরু করুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই খরচ করতে হবে এমন নয়। খরচ করার আগে চিন্তা করুন আপনার জরুরী প্রয়োজন মেটানোর পর অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কত ছিল। সেটা পরবর্তী মাসে বাড়ে কিনা। প্রতি মাসে জরুরী প্রয়োজন মিটিয়ে সামান্য হলেও অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স বাড়াতে থাকুন। ক্রেডিট কার্ডে সতর্কতা: ক্রেডিট কার্ড আপনাকে সব সময় ঋণী করে রাখে। তাই এই কার্ড অযথা ব্যবহার করবেন না। খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এড়িয়ে চলুন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় আপনাকে বেশিরভাগ সময় সুদ দিতে হবে। যা আপনার পকেট থেকে অহেতুক টাকা বের করে নেয়ার মতো। কেনাকাটার আগে ভাবুন: আপনার কোনো কিছু পছন্দ হয়েছে বলে সেটি কিন্তু মন চাইতে পারে। কিন্তু যেকোনো পছন্দের জিনিস কেনার আগে ভাবুন; এটি না কিনলে আপনার কোনো সমস্যা হবে কিনা বা এটি যে কাজে ব্যবহার করবেন সেই কাজ আপনি অন্য কোনো উপায় সারতে পারেন কিনা। যদি না কিনে পারা যায় তাহলে অহেতুক কেন পয়সা খরচ করবেন? পৃথিবীতে পছন্দের শেষ নেই। তাই পছন্দ হলেই যদি কিনতে থাকেন তাহলে আপনার কেনা কখনোই শেষ হবে না। ঋণ শোধ করুন: যদি আপনি ঋণী থাকেন তাহলে বছরের প্রথম থেকেই শোধ করা শুরু করুন। ঋণ মানুষের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে এবং হৃদয়কে ছোট করে দেয়। আপনি ঋণমুক্ত থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন। উপার্জন বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিত্ব অন্যতম বিষয়। বিমা বা ডিপোজিট: বছরের শুরুতে একটি বিমা বা ডিপোজিট স্কিম শুরু করুন। সেটা আপনার সাধ্যমতো করুন। পরিমাণ যত ছোটই হোক এটি করলে আপনার সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠবে। পরে এটিকে আপনি বাড়িয়ে ফেলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।
১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,৩২৯
৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ছয় মাসে সারা দেশে ২,১৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৩২৯ জন নিহত ও ৪,৩৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ২৯১ নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারা দেশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। এই মাসে নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন। জুনে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬৭। এতে ৪৩৯ জন নিহত ও ৮১৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯ ও ৬৯।
হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে?
২১জুন২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপমহাদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করার প্রাক্কালে আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরের নামে শপথ করেন যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ওখানে বাইবেল, কোরআন ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থের ওপর হাত রেখে সাংসদদের শপথ করতে হয়। সাংসদদের ব্যক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনায় আদৌ কি কোনও ভূমিকা রাখে? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে সংবিধানে বিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যে সাংসদ রাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে সাংসদ জনগণের সেবা করতে চান, কারণ তিনি দেশকে ভালোবাসেন, সমাজের উন্নতি চান, মানুষের সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং সুনিরাপত্তা চান, তাঁর কারও নামে শপথ করতে হয় না, তিনি দেশ ও দশের সেবায় নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন কোনও রকম শপথ ছাড়াই। যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন, আদর্শের কারণেই পড়েন। কথার খেলাপ করলে ঈশ্বর শাস্তি দেবেন, এই ভয়ে কেউ জনগণের সেবা করেন না। যাঁরা ঈশ্বরের নামে শপথ করে সাংসদ হিসেবে কাজ শুরু করেন, তারা কি তাঁদের শপথ ভাঙেন না? অহরহই ভাঙেন। এমন নয় যে তারা এমনই গোঁড়া ধার্মিক যে শপথ করেছেন কখনও অন্যায় করবেন না, তাই অন্যায় করবেন না। তাঁরা কিন্তু বারবারই ঈশ্বরের নামে করা শপথ ভেঙে তাদের ঈশ্বরকে অপমান করছেন বারবার, শপথকে অর্থহীন করছেনই। শপথ প্রক্রিয়ায় ধর্ম বা ঈশ্বরকে আনারই তো দরকার নেই, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে। এখনও যে-সব দেশে রাজতন্ত্র বজায় আছে, এখনও সেসব দেশে রাজা রানীকে সেবা করার শপথ নেন সাংসদগণ। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রপতিকে মেনে চলার শপথ নেওয়া হয়। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেও ইউরোপের কিছু কিছু দেশ এখনও ঈশ্বরের নামে শপথ নিচ্ছে। অথবা দেশ সেবার জন্য ঈশ্বরের সাহায্য চাইছে। ভালো যে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে আজকাল শপথ নিতে গেলে ঈশ্বরের নামে শপথ নিতে হয় না। ওদিকে বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্রে আল্লাহর নামে শপথ নেওয়া হয়। সেদিন ভারতের নতুন সাংসদগণ শপথ করার সময় নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসের স্লোগান দিলেন। রাজনীতি ক্রমশ স্লোগানসর্বস্ব হয়ে উঠছে। কেউ বললেন, জয় শ্রীরাম, কেউ বললেন আল্লাহু আকবর। সংসদকে কি অন্তত ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাস থেকে আলাদা করা যায় না? ভারতে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন ভগবান। কেউ রামে বিশ্বাস করেন তো কেউ গণেশে, কেউ দুর্গায়, কেউ হনুমানে। কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তর ভারতীয় হিন্দু মৌলবাদীদের স্লোগান। সংসদকে ধর্ম থেকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ ধর্মের কারণে বিভক্ত হয়েছে, এখনও ধর্মীয় মৌলবাদ আর সন্ত্রাস বড় একটি সমস্যা। পাকিস্তানে, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে সংখ্যালঘু, অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতই নষ্ট হচ্ছে। ভারতের কাশ্মীরে মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে সমস্যা চলছেই, নতুন উপদ্রপ মুসলিম কট্টরপন্থিদের ধরনে গড়ে ওঠা হিন্দু কট্টরপন্থি। তারা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার, সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্যের অধিকার, সকলের সর্বত্র নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার, স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার দাবি করে স্লোগান দেওয়ার চেয়ে ধর্মের স্লোগান দিতে বেশি আগ্রহী। এ কারণে রাজনীতিকরাও ভোটদাতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য ধর্মের সেবা করতেও আগ্রহী হয়ে পড়েন। অথবা রাজনীতিকরাই জনগণকে উৎসাহ দেন ধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার জন্য। এতে করে জনহিতকর কাজের দায়িত্বও কমে যায় সরকারের, শুধু ধর্মের গোড়ায় জল ঢাললেই, দেখেছে বেশ জনপ্রিয় হওয়া যায়। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুর দেখভাল করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর কথা ভুলেই গিয়েছিল। তাদেরও যে অস্তিত্ব আছে, তারাও যে জনতা, তারাও যে ভোটার, ভুলেই গিয়েছিল। এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তাদের ভুলে গেলে তারাও একদিন না একদিন রুখে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই ভুলে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে। হিন্দুর স্বার্থ রক্ষা করার প্রশ্ন উঠলেই হিন্দুত্ববাদী বলে গালি দেওয়ার একটি রেওয়াজ শুরু হয়েছে, কিন্তু যে হিন্দুরা চায় তাদের ঘাড়ের ওপর চড়ে মুসলিম মৌলবাদীদের তোষণ বন্ধ হোক, তারা হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য তো আদা-জল খেয়ে লাগেনি। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র না চেয়ে যারা হিন্দু রাষ্ট্র চাইছে, তাদের বরং হিন্দু মৌলবাদী বলা যায়। যদি হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের জন্য হিন্দু মৌলবাদীরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠতো, অহিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য খুন খারাবি করতো, তাহলে শুধু তাদের হিন্দুরাষ্ট্রবাদী বলা মানায়, তার আগে নয়। তাছাড়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য যদি যুগের পর যুগ ঘটতে থাকে, এক সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে ওঠার অর্থ এই নয় যে, হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করে মুসলমানদের মেরে ফেলো অথবা নির্বাসনদ- দাও। তারা নিতান্তই হিন্দুত্ববাদী। আজ যে জয় শ্রীরামের স্লোগান উঠছে উত্তর ভারতে, এমনকী চিরকালের ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমবঙ্গে, তারও কারণ রাজনীতিকদের দীর্ঘকাল যাবৎ সাধারণ হিন্দু জনতার স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু মোল্লা মৌলভীদের স্বার্থের কথা ভাবা। সাধারণ হিন্দুদের এই প্রতিক্রিয়াকে হিন্দুত্ববাদ বলে গালি দেওয়া উচিত নয়। আজও উপমহাদেশের সর্বত্র হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি যতদিন না করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন ধর্ম নিয়ে হিন্দু এবং মুসলমান দুই সম্প্রদায়ই মেতে থাকবে। এতে কারও সত্যিকার মঙ্গল হবে কিনা আমার সন্দেহ। যে দল হিন্দুদের অবহেলা করবে না, যে দলের কাছে হিন্দু ভোটের মূল্য আছে, সে দল আজ ভারতে তুমুল জনপ্রিয় এবং ক্ষমতায়। সবাই যে ভালোবেসে এই দলকে ভোট দিয়েছে তা নয়। ভোট দিয়েছে অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে যে দলগুলো এতকাল মোল্লা তোষণে বুঁদ হয়ে থেকেছে। ভারতেই একমাত্র দেখেছি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই সংখ্যাগুরুর ভোট পাওয়ার চেয়ে সংখ্যালঘুর ভোট পাওয়ার পেছনে বেশি দৌড়োয়। হিন্দুদের মধ্য থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল, তা রাজনীতিকদের টনক নড়িয়েছে যথেষ্ট। মানুষ হিসেবে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইহুদি শিখ নাস্তিক সংশয়বাদী সাদা কালো ধনী গরিব সকলকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। ধর্ম, ধন, শ্রেণি বা জাত দেখে মূল্য কম বেশি করা খুব বড় অপরাধ। এই অপরাধ সব রাজনীতিকই করছেন। কিন্তু তাঁরা কখনও স্বীকার করবেন না যে করছেন। পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং হিন্দুরা মোটেও নিরাপদ নয়। ভারতে আজকাল কিছু হিন্দুর মধ্যে মুসলিম-ঘৃণা বাড়ছে। গরু খাওয়ার অপবাদ দিয়ে তারা কিছু মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। হিন্দু মুসলমানের এই বিদ্বেষের অবসান কবে হবে? যে বিদ্বেষ কমানোর জন্য এত বড় দেশকে দু-টুকরো করা হলো, আজ সত্তর বছর হয়ে গেল দেশ ভাগ হয়েছে, তারপরও বিদ্বেষ কমেনি বিন্দুমাত্র! পরস্পরের প্রতি এই ঘৃণা এবং বিদ্বেষ কি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা, নাকি এই বিদ্বেষ একেবারেই মৌলিক বিদ্বেষ, যার আদৌ কোনও সমাধান নেই! এভাবে হিন্দু মুসলমান যদি পরস্পরের জাতশত্রু হয়েই থেকে যায় যুগের পর যুগ, তাহলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আর যা কিছুই প্রতিষ্ঠিত হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। কিন্তু কোনও ঘৃণা কোনও দিনই শেষ হওয়ার নয়, কোনও বিদ্বেষের কোনও দিনই ইতি ঘটবে না এ আমি বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে বার বারই মানুষ প্রমাণ করেছে যে কোনও বিদ্বেষেরই ইতি ঘটে। ছোটবেলায় রাস্তার মিছিলে হেঁটে হেঁটে আমিও আর সবার মতো বলতাম, অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। সবার জন্য স্বাস্থ্য বা সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে মানবো না, মানবো না স্লোগান দিয়ে শহর কাঁপাতাম। সময় বদলে গেছে। আজকাল অধিকারের দাবির চেয়ে ধর্মের দাবি বা ধর্মের স্লোগান বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ধর্ম গেলানোর মতো সহজ কাজ আর কিছুই নয়। কঠিন কাজ হলো জনগণের জীবনযাপনের মান উন্নত করা, জনগণকে শিক্ষিত এবং সচেতন করা, জনগণকে কাজ দেওয়া, কাজ করার পরিবেশ দেওয়া, যাবতীয় বৈষম্য দূর করা। রাজনীতিকদের সহজ কাজটি করতে না দিয়ে বরং কঠিন কাজটিই করতে দেওয়া উচিত।তসলিমা নাসরিন