আবার মুখোমুখি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল , টান টান উত্তেজনা
আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে টান টান উত্তেজনা চলছে। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে নাকি তিনি খালাস পাবেন, আর সাজা হলে কেমন হবে পরিস্থিতি তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা আছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর আবার মুখোমুখি দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠ দখলে মরিয়া উভয় দল। পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি চলছে দুই পক্ষেই। রায় নেতিবাচক হলে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর রাজপথে কোনো ধরনের সহিংসতা করতে না দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ওইদিন গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছে সরকারি দল। যে কোন অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধারণা, দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখতেই সরকার এ পথে হাঁটছে বলে তারা মনে করে। সে কারণে রায় নেতিবাচক হলেই আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কার পরামর্শে দল চলবে সেসব সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই গুলশান বিএনপি নেত্রীর বাড়ি থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত খালেদা জিয়া যে পথ দিয়ে আদালতে যাবেন সে পথে মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা ঢাকার শক্তি জানান দেবেন। তবে কোনো ধরনের উসকানি দেবে না তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে বলে মনে করেন তারা। সে কারণে ওইদিন রাজপথে বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা করতে পারে বলে তাদের কাছে খবর আছে। তাই ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। তারা পরিস্থিতির আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর সকল থানাসহ এবং সারাদেশে পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সব ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। কোনো নাশকতা ও নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। এদেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। এদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দল বৈঠক করে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংগঠনের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা সতর্ক থাকবে। শুধু ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে তারা রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজ গুলিস্তানের দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। একইভাবে আজ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা থেকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কারা কোথায় এবং কীভাবে অবস্থান করবেন সেটা নির্দেশনা দেওয়া হবে। রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা হচ্ছে, বকশীবাজারের আদালত থেকে কোন দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। নানা আলোচনা। নানা মত। খালেদা জিয়া খালাস পেলে বিকল্পের আলোচনা নেই। তিনি সোজা গুলশানে যেতে পারবেন। অন্য কোথাও যাওয়াও তারই মর্জি। রায় বিপক্ষে গেলে গন্তব্য কোন দিকে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় সাধারণত কারও দণ্ড হলে কারাগারে না গিয়ে আপিলের সুযোগ নেই। তৃণমূল অবশ্য খালেদা জিয়ার বিপক্ষে রায় গেলে হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার বাইরের নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জ্বালাও পোড়াও করা শুরু করে তাহলে স্থানীয় জনগণ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে রাজপথে সহিংসতা করতে দেবে না তারা। মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর সুযোগ দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল।
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। ১৯৫২ সালের এ দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিন শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বঙ্গীয় সমাজে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়ে বাঙালি মুসলমানের আত্ম-অন্বেষায় যে ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে। ওই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জববার ও আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাদিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারিগানের করুণ সুর বাজতে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এর পক্ষ থেকে দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচী।
শনিবার বেলা ৩ ঘটিকায় মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিটির পক্ষ হইতে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। উক্ত চাল বিতরণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথী ও উদ্ভোদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম, বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ লোকমান আলী চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম জেলা, এম.এ নুরনবী চৌধুরী চেয়ারম্যান উত্তর জেলা ও মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন কাদের চেয়ারম্যান মহানগর কমিটি, এতে সার্বিক সহোযোগীতায় ছিলেন ফয়সাল হাসান মহাসচীব চট্টগ্রাম জেলা ও মৃদুল মজুমদার মহাসচীব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ এম.এ হক চৌধুরী রানা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম জেলা, মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান পাহাড়তলী থানা কমিটি, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ চেয়ারম্যান আকবরশাহ্ থানা কমিটি, মোহাম্মদ তসলিম কাদের চৌধুরী সাংঘঠনিক সচীব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, সাইফুল ইসলাম যুগ্ন মহাসচিব চট্টগ্রাম জেলা, বিজয় রঞ্জন পাল প্রচার ও প্রকাশনা সচিব চট্টগ্রাম জেলা, নেহার কন্তি দাশ সমাজ কল্যান সচিব চট্টগ্রাম জেলা, মোহাম্মদ শাহ আলম, বিশ্বজীত, মোহাম্মদ করিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী ভারপ্রাপ্ত নিছার উদ্দিন আহম্মদ মঞ্জ বলেন উক্ত সংঘটন অসহায় ও দরিদ্রদের কল্যানে নিরর্দিধায় কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সামাজিক কর্মকান্ডে আমি সুন্তুষ্ট, আশাকরি উক্ত সংঘঠন সকল মানুষের কল্যানে ও অধিকার আদায়ে আরো অধিক ভূমিকা রাখবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে গাড়ি না চালানোর আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ৫ নভেম্বর সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার আগে গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৩ আগস্ট আগের রিটের শুনানি শেষে রুল জারিসহ রাজধানীতে চলাচলকারী সব যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ, ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে সেই গাড়ি জব্দ এবং হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি বন্ধ করে বাজারে এখনও যেসব হর্ন রয়েছে, তা জব্দের নির্দেশ দেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।
দেশে প্রতিদিন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে :জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৩টির বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ২৪০টি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (জামাকন) এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এ চিত্র। রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানায়, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন না হলেও সম্প্রতি তা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। খুনের শিকার হচ্ছে অবুঝ শিশুরাও।নিখোঁজ বা গুমের শিকার হচ্ছে মানুষ। বাসা, অফিস, রাস্তা থেকে হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। দিন বা রাতে ঘটছে এমন ঘটনা। অনেকে আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। নারী, শিশুর ক্ষেত্রেও ঘটছে নির্যাতনের ঘটনা। এসব বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পাশাপাশি জামাকন মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে। দেশে আগেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতো। তবে এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। পর্যবেক্ষণেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। জামাকন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। দেশের ১২টি প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত সংবাদগুলোর আলোকে এ পর্যবেক্ষণ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি বাংলা ও ৩টি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র। সংবাদপত্রগুলোতে উল্লিখিত সংবাদের আলোকে পর্যবেক্ষণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান তৈরি হয়। পর্যবেক্ষণের আলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান ২০১৭-এর তথ্য মতে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে চার সহস্রাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮৫৫টি হত্যাকাণ্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন বর্বরতার শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। গুম বা নিখোঁজের শিকার হয়েছেন ৫২ জন। বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৩ জন। নির্মমতা থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। হত্যার শিকার হয়েছে ১২৯ শিশু। আর নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২৩ শিশু। এর বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অমানবিক শাস্তির শিকার ১২৭ শিশু শিক্ষার্থী। নারীর উপর সহিংসতাও বেড়েছে। বছরের প্রথম ৬ মাসে ৩০৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যৌন নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, এসিড নিক্ষেপসহ আরো বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন আরো ২৯৯ নারী। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৯৩ জন। অমানবিক নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৩ শ্রমিক। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনী পুলিশের ওপরও। পুলিশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিকেও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৫৩ যাত্রী ও পথচারী। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি ৮৫৭টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। আর সবচেয়ে কম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া যায় জানুয়ারিতে। ৩৬১টি। তবে ওই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৭ শতাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। তখন সংঘটিত ৮৫৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ১৮৫টি খুনের ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ৪২ শিশু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। মার্চ ও মে মাসে সর্বাধিক ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৫২ গুমের মধ্যে ১৪টি হয়েছিল গত মার্চে। আর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ২০টি করে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা সংঘটিত হয়। জাতীয় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কমিটির এক সদস্য বলেন, দেশের প্রধান জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে আগের দিনের একটা সার্বিক চিত্র উঠে আসে। প্রধান ১২টি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার আলোকে তৈরি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাতে চলতি বছরের শুরুতে যে পরিসংখ্যান ও চিত্র উঠে এসেছে তা অস্বস্তিকর।
জরুরী বিজ্ঞপ্তি
পাঠক প্রিয় অনলাইন দৈনিক নিউজ একাত্তর ডট কমএর সকল সংবাদদাতা, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি গনের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলা, অনুপস্থিতির কারনে কয়েকজনক কে উক্ত পত্রিকা হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং যাদের পত্রিকার পরিচয় পত্রে ৩০/১২/২০১৭ইং পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে তাহাদের সহ সকলের পত্রিকার পরিচয় পত্র (ডিজাইন পরিবর্তনের) কারণে গত ২০/১১/২০১৭ইং তারিখে বাতিল করা হইল, যাহারা উক্ত পত্রিকায় দায়িত্বরত বা কর্মরত আছেন তাহাদেরকে ১০/১২/২০১৭ইং তারিখের মধ্যে পূর্বের পরিচয় পত্র ফেরত প্রদান করে নতুন পরিচয় পত্র গ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করা যাচ্ছে । যে কোন ধরনের অপরাধ, দূনীতি, অসামাজিক কার্য্যকলাপ, দায়িত্বে অবহেলা, অনুপস্থিতির কারণে যে কোন সংবাদদাতা, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধির পরিচয় পত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। নিবেদক সম্পাদক ০১৮২৪-২৪৫৫০৪
পিলখানা হত্যাকাণ্ড : ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের কিছু অংশ বহাল রেখেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে দেশের সবচেয়ে আলোচিত এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আপিলের রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) হাইকোর্ট বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের কিছু অংশ বহাল রাখা হয়েছে। পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মোট যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ১৯৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন। হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হলো। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এই মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। মোট সাজা হয় ৫৬৮ জনের। হাইকোর্টে কোনো রায় পড়তে দুদিন সময় লাগার বিয়ষটি অনেক আইনজীবীই নজিরবিহীন বলেছেন। এই মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি পর্যবেক্ষন দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আদালত বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মিশরে ৯৯ শতাংশ ও বাংলাদেশের শতকরা ৫৭ ভাগ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংস্থা বা ইউএনউইমেনের ২০১৩ সালে মিশরের ওপর চালানো এক জরিপে জানিয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মিশরে ৯৯ শতাংশ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়, মিশরের রাজধানী কায়রোর শতকরা ৯৫ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। খবর সিএনএনের। তবে সার্বিকভাবে বিশ্বজুড়ে নারী নিগ্রহের এই চিত্রটা মোটেও সুখকর নয়। ইউএনউইমেন বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩৫ ভাগ নারী শারীরিক বা যৌন হয়রানি শিকার হচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৬৫ নারী জানিয়েছেন, তারা রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হন। কানাডার যৌন নিগ্রহের তথ্যানুযায়ী সেখানকার ৮০ ভাগ নারী কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৪৪ ভাগ, জার্মানিতে ৩৫ ভাগ ও ফ্রান্সে ৪৪ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। অস্ট্রেলিয়ায় যৌন নিগ্রহের এই হারটা শতকরা ১৭ ভাগ। আর ফিজিতে এর যৌন হয়রানির শিকার হন শতকরা ৬৪ ভাগ নারী। এদিকে ব্রাজিলের শতকরা ৮৬ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনএইড পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শতকরা ৮০ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের শতকরা ৫৭ ভাগ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হন বলে জানাচ্ছে অ্যাকশনএইড। যেখানে ভারতে ৭৯ ভাগ, কম্বোডিয়ায় ৭৭ ভাগ আর ভিয়েতনামে ৮৭ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কী কাজ করে এটির বৈশ্বিক প্রোগ্রামের পরিচালক রেচেল জকিস বলেছেন, যৌন হয়রানির চরম পর্যায়টা হচ্ছে ধর্ষণ। তিনি বলেছেন, পাবলিক প্লেসগুলো নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষরা। তারা মনে করে এই পাবলিক প্লেসগুলো তাদের মালিকাধীন। জকিস আরও বলেন, রাস্তা অনিরাপদ হলে নারী ও তরুণীদের ঘর থেকে বের হওয়া ঠেকানোর একটি যুক্তি দেখানো যায়। উল্লেখ্য, আজ বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আজিজসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধার জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আজিজ রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে রায়ের পযবেক্ষনে বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতনসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয় গাইবান্ধার আব্দুল আজিজসহ ৬ জনের বির“দ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার পর ১৬৬ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ ছাড়া অন্য আসামিরা হলো, রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, আব্দুল লতিফ, আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী, নাজমুল হুদা ও আব্দুর রহিম মিয়া। এদের মধ্যে লতিফ ছাড়া সবাই পলাতক। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিরা ন্যায় বিচার পায়নি বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ। রায়ের পর্যবেক্ষনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আজিজ রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ২৮টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এটা ট্রাইব্যুনালের ২৯তম রায়।
যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায় আগামীকাল
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা ’৭১-এ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আনা ২৯তম মামলার রায় আগামীকাল। জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি গত ২৩ অক্টোবর যে কোন দিন রায়ের (সিএভি) জন্য রাখা হয়েছে। আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আমির হোসেন ও অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর সাবেক বিশেষ জজ মো. আবু আহমেদ জমাদার। নবগঠিত এ ট্রাইব্যুনালে এটিই হবে প্রথম রায়। এ মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাসস’কে বলেন, এ মামলার আসামীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়ংকর অপরাধ করেছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, আসামীরা তাদের স্থানীয় এলাকাকে নেতৃত্ব শূন্য করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ (চেয়ারম্যান-মেম্বার) মোট ১৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করাসহ বিভিন্ন মানবতদাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছেন। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ সাজার রায় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গত ৯ মে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষামাণ রেখেছিলেন। বিচারপতি আনোয়ারুল হক মৃত্যুবরণ করায় ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে গত ১১ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করে আদেশ দেয়। সে অনুযায়ি পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষা। এর আগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আনা আরো ২৮ মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অপেক্ষায় থাকা মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন-জামায়াতের সাবেক এমপি আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জন। অন্যান্য আসামিরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। এ ছয়জনের মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ কারাগারে আছে, বাকী পাঁচজন পলাতক রয়েছে। আজিজসহ গাইবান্ধার ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আব্দুল আজিজ মিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পযর্ন্ত বিএনপি নেতৃত্বধীন চার-দলীয় জোটের অধীনে জামায়াত থেকে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।বাসস
৫ আসামির বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায়
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে করা মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শামসুল হোসেন তরফদারসহ ৫ আসামির বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২০ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন মোবারক মিয়া, নেসার আলী, ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী। ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী ছাড়া অন্যরা পলাতক। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এর আগে গত ২ নভেম্বর এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। তদন্ত সংস্থা ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে (৬০) মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও সোনাটিকি গ্রামের মৌলভি ইউনুস আহমদকে (৭০) তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর চলতি বছরের ২০ জানুয়া
ক্রেতাকে বুঝেশুনে মালামাল কিনতে হবে
একটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড ও সিমেন্টের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ভালো মানের রডের কোনো বিকল্প নেই। দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্টের গুণগত মান অনেক ভালো। তারপরও ক্রেতাকে ভবন নির্মাণের মালামাল বুঝেশুনে কিনতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক শামিম বসুনিয়া প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে ভালো-মন্দ বুঝবে, তার সহজ উপায় আছে। যেমন যে রড চাপ পড়লে ভাঙে না, বরং পরিমাণমতো লম্বা হয়, এমন রড ভালো। বহুতল ভবনে এমন রডের ব্যবহার দরকার। অন্যথায় ভূমিকম্পের সামান্য ঝাঁকিতেই ভবন ধসে পড়তে পারে। শামিম বলেন, মজবুত ভবন নির্মাণে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ও বালু—এসব উপাদান ভালো করে মেশাতে হয়। মেশানো যত ভালো হবে, ভবনও তত মজবুত হবে। ঢালাইয়ের সময় এটা খেয়াল রাখা দরকার। এ ছাড়া ঢালাইয়ের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভবনের ছাদ ও দেয়ালে পানি দিতে হয়। তা করা না হলে ভূমিকম্পে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলতে হবে। পরে যে কাজের জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই কাজের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করার সনদ (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নিতে হবে। এই প্রকৌশলী বলেন, স্থাপনা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে যথাযথভাবে ‘বিল্ডিং কোড’ মানার বিধান আছে। এই কোডে সব ধরনের ভবনে আলো-বাতাস চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভারবহনের ক্ষমতা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত নীতিমালা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে মানুষ তা মানছে না। শহর-গ্রামে যে যার মতো করে ভবন নির্মাণ করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনধসের আশঙ্কা থাকে। তাই এই বিষয়টিতে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শামিম বসুনিয়া বলেন, ‘বছরখানেক আগে দেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন “বিল্ডিং কোড” নিয়ে হইচই শুরু হয়। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় নিয়েও নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেয় সরকার। কিন্তু ভূমিকম্পে যাতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, এই দিকে কারও খেয়াল নেই। পুরান ঢাকার নবাবপুরে ভূমিকম্পে একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বহুতল ভবন ধসে পড়লে পরবর্তী সময়ে উদ্ধারসক্ষমতা আমাদের নেই। কারণ, এই এলাকা অনেক ঘনবসতি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। সড়কগুলোও অনেক সরু। তাই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে।’ শামিম বসুনিয়ার মতে, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের আগে একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। তাঁকে দিয়ে ভবনের নকশা তৈরি ও যথাযথ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে। স্তম্ভের সঙ্গে ভবনের বিমগুলো মজবুত করে বাঁধতে বা সংযোগ দিতে হবে। কারণ, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বিম ও স্তম্ভের সংযোগে ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে। এর সঙ্গে কংক্রিট ও বালু ভালোও হওয়া দরকার। তাই একজন ভবনমালিকের দায়িত্ব বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা।
অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলো উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত করেছে
তথ্য নেটওয়ার্কের বিস্তার এদিকে চীনের রাজধানীতে একটি উচ্চ-প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলা বিশেষ করে জোংগুয়ানকুন সমর্থিত চীনা কোম্পানিগুলো, অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি দক্ষতা বিনিময়ের চেষ্টা করছে। ২০১৫ সালে, চীনের দাতাং টেলিকম ইকুয়েডোরের ইয়াচায় সিটি অব নলেজে সঙ্গে একটি ফোর জি টিডি-এলটিই ল্যাবরেটরি নির্মাণের জন্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফোর জি টিডি-এলটিই চীনের নিজস্ব তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি। সর্বশেষ জিএসএমএ ইনটেলিজেন্স ডাটায় দেখা যায় যে যে ল্যাটিন আমেরিকাতে ২০১৪ সালে ফোর জি সংযোগের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে, আগের বছরে যার সংখ্যা ছিল ৫১ মিলিয়ন, এটি বাজারের দ্রুত চাহিদা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়। চুক্তি অনুযায়ী ডেটং ইকোডোরিয়ানদের ফোর জি টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের জন্য প্রস্ত্তত করতে দেশটির পেশাদার দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে যাচ্ছে। এছাড়াও, টেলিযোগাযোগ বাহক, বিক্রেতারা, পরিষেবা সরবরাহকারীদের এবং কম্পোনেন্ট নির্মাতাদের জন্য কাস্টমাইজড সমাধান দেয়ায় নিয়োজিত বেইজিং জিনবেই টেকনোলোজি গ্রুপ সামপ্রতিক বছরগুলিতে কম্বোডিয়া, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং তানজানিয়ায় পাবলিক নেটওয়ার্কে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদানকারী হিসেবে টেলিকমিউনিকেশন অপারেটরদের সাথে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও, বেইজিংভিত্তিক টিভি নেটওয়ার্ক প্রদানকারী সিদা টাইমস-এখন আফ্রিকাতে দ্রুত ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল টিভি অপারেটর হয়ে উঠেছে। এটি এখন কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আফ্রিকার ২০টি দেশে ব্যবসা করছে এবং এর গ্রাহক সংখ্যা আট মিলিয়নেরও বেশি। ই-কমার্স ও ফিন্যান্সের জন্য নতুন ভোর মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে, ইলেক্ট্রনিক বাণিজ্যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে এবং কিছু চীনা সংস্থা এক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা, এ বছরের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রস্তাব করেছেন। পরিকল্পনা অনুসারে আলিবাবা দেশীয় ক্ষদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এবং আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দেশে একটি ডিজিটাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল উন্নয়নে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে কাজ করতে চায়। এটি ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) নির্মাণের ধারণা প্রচারের জন্য মা-এর প্রচেষ্টার অংশ। তাং জু শেন হলেন মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মেলাকায় অবস্থিত একটি তাৎক্ষণিক কফি উৎপাদন ফার্মের বিক্রয় পরিচালক, যার নাম আক চেং কফি। এই ব্যবসাটির শুরু হয় ১৯৫৫ সালে, এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডের একটি। আইক চেয়ং কফির চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় এবং এশীয় ডজনখানেক দেশে এর পণ্য বিক্রি করে। তাং অভিযোগ করেছেন যে সামপ্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য প্রতিরক্ষাবাদ তার কোম্পানির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, কিছু দেশে কফি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড পস্ন্যাটফর্ম (ইডবিস্নউটিপি) ইন্টারনেটের এই যুগোপযোগী ট্রেডিং সিস্টেম বিশ্বব্যাপী চালু করতে পারে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতি এবং ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই) এর জন্য বিশ্ব বাজার সহজতর করে তুলতে সক্ষম হবে। এছাড়াও বেইজিং-এর জোনগুয়ানকান, ইন্টারনেট আন্তঃসীমান্ত-সীমান্ত বাণিজ্য এবং বড় ডাটা সংস্থা আইজেডপি টেকনোলজিস, আধুনিক যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউরোপ থেকে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদেরকে আরও চৌকষ সেবা দানের জন্য ব্যবহার করছে। কোম্পানি খুব কম ফি’র প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে প্রধানত চীনা ইউয়ান ও স্থানীয় মদ্রায় এবং ভিসা পেমেন্ট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট প্রদানের উপর জোর দিয়ে থাকে। আইজেডপি ডাটা মাইনিংএ সক্ষম একটি বিগ ডাটা পস্নাটফর্মও স্থাপন করেছে। অভিন্ন উন্নয়নের পথে প্রাচীন সিল্ক রোড রুটে এশিয়া ও ইউরোপের সাথে সংযুক্ত একটি বাণিজ্য ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর ২০১৩ সালে গৃহীত সিল্ক রোড অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২১ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোড নিয়ে গঠিত অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ নেন। এ পর্যন্ত, চীন এই কর্মসূচিতে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এটি ১০০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন লাভ করেছে এবং ৪০টিরও বেশি সদস্য চীনের সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। উচ্চ প্রযুক্তির হাব উন্নয়ন ও পরিচালনার নিয়োজিত সরকারের প্রশাসনিক অঙ্গ জোনগুয়ানকুন প্রশাসনিক কমিটি বছরের পর বছর ধরে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগের আওতায় বিদেশি বাজারে প্রবেশ উৎসাহিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কমিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালক জেং জিয়াডং, সিনহুয়াকে বলেন, সুষম বিজয় অর্জনের জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা তার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অগ্রাধিকার। জিয়োমি ইন্দোনেশিয়ার সেল ফোন বিক্রি করতো, কোম্পানিটি এখন সেখানে একটি কারখানা নির্মাণ করছে। এটি ২০১৭ সালের হিসাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির স্মার্টফোন পণ্যের ১০০ শতাংশ স্থানীয়করণের পরিকল্পনা করেছে। এর বিনিয়োগের পদক্ষেপ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচুর কাজের সুযোগ করে দেবে। ইকুয়েডোরে, ডাটং কোম্পানির গৃহীত কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটিকে সহায়তা করবে এবং এর শিল্পের উন্নয়নে সাহাঘ্য করবে। পরিশেষে, এই প্রকল্পটি দেশটির এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের টেলিযোগাযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসের স্কিইং রিসর্টে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তার বক্তৃতায়, জি বলেন, এটি চীনের নেয়া উদ্যোগ হলেও এর সুফল সীমান্ত অতিক্রম করে বিস্তার লাভ করেছে। বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি)-র চেয়ারম্যান হান্স-পল বুয়ের্কনার চলতি বছরের শুরুতে এই ফোরামে বলেন, আন্তঃ সংযোগের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে, অঞ্চল ও সড়কের সংযুক্তি উদ্যোগ অনেক দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি ভালো ভিত্তি তৈরি করেছে। বুয়ের্কনার বলেন, বিশেষ করে, পাশাপাশি আরও বেশি সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এটি আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসবে এবং আরো বেশি সংখ্যক চাকরির আরও সুযোগ করে দেবে।
অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ: একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক বেল্ট অ্যান্ড রোড সম্মেলন সফল হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে। সুনির্দিষ্ট ফলাফল নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক গোরিশন ইকিয়ারা বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ (একটি অঞ্চল একটি সড়ক) বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, সম্মেলন শেষে প্রকাশিত যৌথ ইস্তেহারে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ জোরদারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্যে এ সম্মেলন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্মেলনের অর্জনগুলোর অন্যতম হলো অংশ্রগহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বৃহৎ পরিসরে চুক্তি স্বাক্ষর। এতে বলা হয়, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ প্রকল্প বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পস্নাটফরম। এখানে বিশ্বের সকল দেশ অংশগ্রহণ করে ও অবদান রেখে সমান সুবিধা নিতে পারে। সম্মেলনে নীতিনির্ধারণ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও জনসংযোগ— এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়। এসব বিষয়ে চীন সরকার মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, নেপাল ও ক্রোয়েশিয়া, মান্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলবেনিয়া, তিমোরল্যাস্তে (পূর্ব তিমুর), সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া সরকারের সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এ ছাড়াও চীন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব মেধাস্বত্বে সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে অঞ্চল ও সড়ক সহযোগিতা চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে। নিয়ম অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প সহযোগিতা জোরদারে চীন উজবেকিস্তান, তুরস্ক ও বেলারুশের সাথে আন্তর্জাতিক পরিবহন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শিল্প বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে চীন পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, মঙ্গোলিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, ফিলিস্তিন ও লেবাননসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের সাথে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সাধুবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। গ্রিক প্রেসিডেন্ট প্রকোপিস পাভলোপলোস এ সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য চীনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় পাভলোপলোস বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের গুরুত্ব সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রস্তাবিত অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাচীন সিল্ক রোড (রেশম সড়ক) ও নৌ-বাণিজ্যিক রুট বরাবর এশিয়াকে ইউরোপ ও আফ্রিকার সাথে যুক্ত করে বাণিজ্য ও পরিকাঠামো নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এর ফলে এ মেগা প্রকল্পে যুক্ত প্রতিটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে। গ্রিক নেতা বলেন, এ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা এ উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে এশিয়াকে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের সাথে যুক্ত করা। পাভলোপলোস বলেন, এ প্রেক্ষাপটে সম্মেলন চীনের অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের সফলতা সুনিশ্চিত এবং বিশ্ববাসীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবে। ইউক্রেনের ফার্স্ট উপ-প্রধানমন্ত্রী স্টি পান কুবিভ জোর দিয়ে বলেন, এ সম্মেলন সফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নতুন নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ইউক্রেনের যুক্ত থাকা এবং ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন প্রতিনিধিদল অবকাঠামো, পরিবহন, বেসামরিক বিমান পরিবহন শিল্প, লজিস্টিক ও যন্ত্র তৈরিতে সহযোগিতা জোরদারে চীনের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এদিকে পোল্যান্ডে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়ান কংগ্রেসের চতুর্থ সংস্করণ শীর্ষক আলোচনা সভার ডেপুটি জিগনিউ অস্ট্রোস্কি বলেন, ‘নিউ সিল্ক রোড ধারণায় আমরা সকলে অনুপ্রাণিত।’ তিনি আরও বলেন, অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ পোল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হতে পারে। সুতরাং, এ পদক্ষেপে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। তার প্রমাণ হচ্ছে বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বায়েতা জিদলোর উপস্থিতি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীন বিভাগের প্রধান রদোসলো ফ্লিসিউক বলেন, পোল্যান্ড অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ এতে অংশ নেওয়া সকল দেশের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য এটি ইতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এ ধারণা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি সুদৃঢ় করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।’
নৌকাডুবির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নৌকাডুবির ঘটনায় বাংলা প্রথম পত্রের জেএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি ওরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, উপজেলার বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাতজন শিক্ষার্থী আজ শনিবার পরীক্ষা দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমানের ভাষ্য, মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদারক করছে। সাত পরীক্ষার্থী হলো শান্তা বেগম, খাদিজা আক্তার, শান্তা খানম, জান্নাত আক্তার, রুমা বেগম, পাপিয়া বেগম ও সামিয়া আক্তার। জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র কৃষ্ণনগর আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার জন্য কয়েকটি প্রশ্নের সেট প্রস্তুত ছিল। প্রথম পরীক্ষা বাংলা প্রথম পত্র ‘ক’ সেটের প্রশ্নে নেওয়া হয়েছিল। আরও প্রশ্নের সেট প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যেক পরীক্ষার দিন সকালে জেলা প্রশাসক কোন প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে হবে, তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে ইউএনও মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে কোন সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা নিতে হবে, তা জানাবেন। বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজির হোসেন বলেন, প্রথম পরীক্ষায় ১৬ জন অনুপস্থিত ছিল। তাঁদের মধ্যে নৌকাডুবির কারণে সাতজন পরীক্ষা দিতে পারেনি। ওই সাতজনই আজ পরীক্ষা দেবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক দেখাশোনার জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষক জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন। কেন্দ্র সচিব কৃষ্ণনগর আবদুল জববার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদাউসুর রহমান বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং কুমিল্লা বোর্ডের কন্ট্রোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইউএনও সালেহীন তানভীর গাজী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১ নভেম্বর সকালে নবীনগর উপজেলার পাগলা নদীর কৃষ্ণনগর এলাকায় বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজের দেড় শতাধিক জেএসসি পরীক্ষার্থী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর