শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০
ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত
২৭নভেম্বর,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ল্যাটিন আমেরিকার প্রখ্যাত ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়ার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বঙ্গবন্ধুর লেখা ঐতিহাসিক গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনী ব্রাজিলিয়ান পর্তুগীজ ভাষায় অনুবাদ করবেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রেসে মুদ্রিত হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৬নভেম্বর ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়ে বলা হয়, সম্প্রতি ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জুলফিকার রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর (উপাচার্য) ডঃ মার্সিয়া আবরাও মৌরার মধ্যে এক বৈঠকে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু চেয়ারের আওতায় মূলতঃ বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও তাঁর অর্জনসমূহ নিয়ে গবেষণা করা হবে। বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও বাঙালির মুক্তি তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান নিয়ে ব্রাজিলিয়ান গবেষকরা গবেষণা করবেন। এছাড়াও যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ও সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠা করার কাজে বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্ব নিয়েও তাঁরা কাজ করবেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও ব্রাজিলিয়ান গবেষকদের জন্য এক নবদিগন্তের সূচনা করবে । বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, তাঁদের এসব গবেষণাকর্ম বাংলাদেশের ভূকৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবনে ব্রাজিলের নীতিনির্ধারকদেরকে সহায়তা করবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ব্রাজিলিয়ান পর্তুগীজ ভাষায় অনুবাদ সম্পন্ন হলে সেটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ব্রাজিলের জনগণের কাছে তুলে ধরবে। এটি দু দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের এক সেতুবন্ধন রচনা করবে, যা অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতি বাংলাদেশের সাথে ল্যাটিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া
২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন
২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।-
নিউজ একাত্তরের চট্টগ্রাম অফিস সাময়িক বন্ধের বিজ্ঞপ্তি
২০জুন,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারীর কারণে সারাদেশে সাধারন ছুটির আওতায় সকল মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে নিউজ একাত্তরের চট্টগ্রাম অফিস বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উক্ত অফিসের দুজন কর্মচারীর করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন থাকার কারণে এবং সরকারের ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি ও আদেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ০১ লা জুন ২০২০ হইতে ৩১শে আগস্ট ২০২০ পর্যস্ত নিউজ একাত্তরের চট্টগ্রাম অফিস বন্ধ থাকবে তবে যথারিতি অনলাইন চালু থাকবে। সাময়ীক অসুবিধার জন্য আমরা দু:খিত। আদেশক্রমে-কতৃপক্ষ।
মানবতা হোক মানুষের জন্য
২৩মে,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজও মানুষকে ভাবায় বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই গান- মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না ও বন্ধু। পরপারে পাড়ি দেওয়া একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও আছে তার গান। আমরা মানুষ যখন ক্রান্তিকাল সময় পার করি ঠিক তখনই আমাদের কাছে ফিরে আসে কালজয়ী সেই গানটি। কিন্তু আমরা আজও মানুষ হয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? অবশ্যই অনেকে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু যাদের কে দেখতে চাই তাড়াই কি অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? নাকি নি:স্ব কোন মানুষই অসহায়দের পাশে গিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন? অথচ মহান আল্লাহ যাকে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন তিনি সে সম্পদ থেকে অভাবী অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে তাতে মহান সৃষ্টি কর্তা খুশি হন। কিন্তু আমাদের অনেক বিত্তশালীরা হা-হুতাশ করে বেড়ায়। তাদের নাই নাই অভ্যাসটা যায় না। আপনার যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকুন। বেশি চাওয়া পাওয়া করে লাভ কি বলুন, কতদিনেই বাঁচবেন এ জগতে একদিন না একদিনতো চলে যেতেই হবে। নিজের বিবেক-বুদ্ধি-মনুষ্যত্ব ও মূল্যবোধকে কাজে লাগালেই তো হয়। দেখুন বাইরে অসহায় মানুষরা একমুঠো খাবারের জন্য হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। ওদের কোন কাজ নেই। তাই রোজগার ও নেই। একজন অসহায় মা তাঁর সন্তানের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। সেই মায়ের যন্ত্রণা একটু বোঝার চেষ্টা করুন! তার সন্তান যখন কাঁন্নাকাটি করে, তখন তিনি কতটা অসহায় বোধ করেন! হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া বাবা যখন তাঁর সন্তানের মুখে আহার জোগাতে ব্যর্থ হন, তখন তাঁর মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। তিনিই হয়তো সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এই কঠিন বিপদে তাঁর যাওয়ার যায়গা কোথায় বলুন! ভালোই তো ছিলো সব কিছু। কেন হটাৎ এমনটি ঘটল? এতে কি ওই অসহায় মানুষগুলোর কোন হাত ছিলো? আমারা মানুষ হয়ে ওদের পাশে দাঁড়াবো না? ওদের কষ্টের সময় সহানুভূতির হাত বাড়াব না! তাহলে আর আমরা কিসের মানুষ! মানুষের মানবিক গুনাবলিই যদি না থাকে তাহলে কিসের মানুষ আমরা! মানবিকতাই তো মানুষের আসল পরিচয়! সাড়া বিশ্বে যখন করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ক্রন্তিকাল সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের একজন সাধারন ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনই দেখিয়ে দিলেন মানবিক গুন। বয়স আশি বছর। একটা সময় কৃষি কাজ করলে ও দুর্ঘটনায় পা হারানো নাজিমুদ্দিন কাজ করতে না পারায় বর্তমানে ভিক্ষা করেন। ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি। নিজের বসতঘর মেরামতের জন্য ভিক্ষা থেকে খুব কষ্ট করে গত কয়েক বছরে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। তিনি তাঁর সে জমানো টাকা ঝিনাইগাতির কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তহবিলে দান করেন। ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের প্রসংসা করেছেন স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ও। তিনি বলেন, তার এই উদারতা এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বিশ্বে। মানুষ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহ। আর এই গ্রহটিকে আমরা যাতনা যত্মে রাখার কথা রাখিনি ততটা যত্মে। অন্যদিকে আমরা কিছু কিছু বিত্তশালীরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য এবং নিজেদের ভোগ বিলাস আর লোভ-লালসাকে পরিপূর্ণ করতে এই গ্রহটিকে নিংড়ে নিয়েছি। একবার ও ভাবিনি এর পরিণাম কি হবে? আমাদের অসীম চাহিদার লাগাম ধরব দূরে থাক বরঞ্চ ডাইনোসরের মতো খাই খাই লালসায় আজ আমরা নিজেদেরকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষ বাঁচলে বাঁচবে মানবতা, বাঁচবে দেশ। মানুষ বাঁচানোর সর্বজনীন প্রচেষ্টায় আমরা সকলে এক, এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। এখন থেকে আমাদের সক্রিয়তা, ঐক্যবদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ খুব বেশি প্রয়োজন। করোনাভাইরাস এমন এক অজানা আতঙ্ক যে বিশ্বের কোন দেশই এর থেকে মুক্ত হতে পারেনি, নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। পৃথিবীর সব মানুষরাই এখন অজানা আতঙ্কে ভূগছে। এ বুঝি করোনাভাইরাসের কবলে পড়ছে! মানবজাতির উপর প্রকৃতির এ এক ভয়ঙ্কর শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। সামান্য এক ভাইরাস, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার ভয়ে সবার ঘুম হারাম! জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন খেটে খাওয়া মানুষেরা না খেয়ে দিন পার করছেন। তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী ও উপহার সামগ্রী বিতরণের উদ্যেগ নেন। দেশের সরকার প্রধানের এমন মানবিকতাই সকলে সন্তুষ্ঠ হলেও অত্যান্ত দু:খ প্রকাশ করে বলতে হয়, ত্রাণ বিতরন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ চুরির ঘটনা ও শুরু হয়েছে দেশে। এই মহাবিপর্যয়ের সময় অনেক জনপ্রতিনিধি ত্রাণ চুরি করছে বলা হচ্ছে ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। আবার অধিকাংশ সময়ই দেখা যচ্ছে যে সকল জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ চুরি করছেন তার চেয়ে ঢের বেশি জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আবার অনেক বিত্তশালী পরিবারের সন্তানেরা ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহদরে নিনিন্মবিত্ত পরিবারকে সহযোগীতা করছেন। এই দুর্যোগ সময়ে যে শুধু অসহায়, নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছে তা কিন্তু নই, এর সাথে খাদ্য না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে, বিড়াল, কুকুর, কাক ও। বিড়াল, কুকুর, কাকদের প্রদান খাদ্যের উৎস হলো, হোটেলে বা ঘর বাড়ি থেকে বাদ পড়া খাবার গুলো। যা থেকে বঞ্চিত আজ এই প্রাণী গুলো ও। তবে বেশ কিছুদিন আগে এক নিউজ চ্যানেলে দেখলাম বেশ কিছু তরুণরা কিছু কুকুর এবং কাকদের খাবার দিয়েছেন। তা সত্যিই প্রসংশনীয়। কিন্তু এই প্রসংশনীয় উদ্যেগে আমরা আরো অনেক মানুষকে দেখতে চাই। আসুন আমরা মানবতার হাত বাড়াই। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়ায়। মানুষের চরিত্র নিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না। তবে দিন শেষে এই কথাটি বলতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে যে এখনো পৃথিবীতে খারাপ মানুষের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। না হলে পৃথিবী টিকে থাকতো না। মহামারী এই করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এমনকি প্রিয়জন, প্রিয়মুখকে এক নজর দেখার অদম্য ইচ্ছেটিকে দমন করছেন তারা। লেখক: মো.ইরফান চৌধুরী,এডমিন- তরুণ প্রজন্মের ডাক,প্রকাশক- অধিকার নিউজ বিডি,কলামিস্ট,মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক।
মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান ৭ রাষ্ট্রদূতের
০৮মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংকটকালীন সময়ে বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রচার নিশ্চিতে মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সাত বিদেশি রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার তারা প্রায় একইরকম বার্তা সম্বলিত টুইট করেন নিজ নিজ একাউন্ট থেকে। এতে তারা বলেন, বর্তমানে যে মহামারি চলছে এ সময়ে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা তথা মানুষের স্বার্থ নিশ্চিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। পাশাপাশি দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান জানান তারা। কোনো গণমাধ্যমকর্মীর যাতে কন্ঠরোধ না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেন ওই সাত রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার যেসব রাষ্ট্রদূত এ বিবৃতি প্রদান করেন তারা হলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন ও ডাচ রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েইজ। তাদের টুইটে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। ইউরোপীয় এক রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা দায়েরের কথা জানান। বৃটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন তার টুইটে বলেন, গণমাধ্যম যাতে তার কাজ করতে পারে এবং মানুষ যাতে মত প্রকাশে স্বাধীন থাকে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ন।মানবজমিন। ইউরোপীয় ইয়নিয়নের দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক বলেন, সংকটকালীন সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সব কিছুর থেকে বেশি জরুরি। মানুষের অবশ্যই সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ জানার সুযোগ থাকতে হবে।
সংবাদপত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র
২৮এপ্রিল,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। ইস্টারের দীর্ঘ ছুটির পর বুধবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে শেষ পর্যন্ত একজন এমপি প্রশ্ন করেছেন। লেবার পার্টির নতুন নেতা কির স্টারমার হাউস অব কমন্সে পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছেন। যদিও পরিসংখ্যান, সরবরাহ, পরীক্ষা ও কেয়ার হোম নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রশ্ন করে যাচ্ছে গণমাধ্যম। সংবাদপত্রে মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তুলনামূলক চিত্র দেখানো হয়েছে, রসদ স্বল্পতা ও অসত্য মিথ্যা ভাষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সময়টাতেও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা কিছুটা হলেও বহাল থেকেছে। তবে সেটি এমপিদের মাধ্যমে নয় বরং গণমাধ্যমের সহায়তায়। আমি সাধারণত নিজের শিল্প নিয়ে ঢোল পিটাই না। সংবাদপত্রগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই আত্মতুষ্টির শিল্প। কিন্তু এই মহামারী যখন শেষ হয়ে যাবে তখন সংবাদপত্রগুলোর চলার পথ বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ রাস্তায় হেঁটে যাওয়া কোনো সাংবাদিকের সম্মানে লাইনে দাঁড়িয়ে হাততালি দেবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। অন্যান্য গণমাধ্যম তাদের মতো করে কাজ করছে। তবে আমি বিবিসির মোর অর লেস, ব্রিফিং রুম এবং চ্যানেল ফোরে বিজ্ঞানীদের বিতর্ক অনুষ্ঠানের কমবেশি সমীহ করি। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের ওই দৈনিক নিরস সংবাদ সম্মেলনের বিকল্প পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের আন্তরিকত সংবাদপত্রগুলোর দিকে নজর দিতেই হবে। গত সপ্তাহে আমরা যদি মাস্ক পরা নিয়ে মন্ত্রীদের ওপর নির্ভর করে থাকতাম বা তাদের ছাপোষা বিজ্ঞানীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতাম তাইলে কিন্তু কিছুই জানা যেত না। যদি আমরা কভিড-১৯ এ মৃত্যুর পরিসংখ্যানের বিষয়ে সরকারি বার্তার ওপর নির্ভরশীল থাকলে আমরা জানতেই পারতাম না যে, ওই সংখ্যাটা কেবল ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা, কেয়ার হোম বা বাড়িতে মৃত্যুর সংখ্যা এটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে নেয়া হোয়াইটহলের (ব্রিটিশ সরকার) ভাইরাস মডেলটি স্বাধীন মহামারী বিশেষজ্ঞদের কিন্তু সংবাদপত্রের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। (পরে সেটি পরিত্যক্ত হয়)। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, করোনা পরীক্ষা নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির এবং রাজধানীর অব্যবহৃত আইসিইউ শয্যা নিয়ে তথ্য কিন্তু সাংবাদিকরাই তুলে ধরেছিলেন, কোনো এমপি নন। অবশ্যই গণমাধ্যম খবর প্রকাশ সমাধানের মতো সমস্যাও বটে। মানুষের আগ্রহ ও নেতিবাচক সংবাদের প্রতি সংবাদপত্রের আসক্তির কারণেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিগুলো প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে।বণিক বার্তা। বিবিসির নিউজ টেন তো দেখার অযোগ্য পড়েছে। এরা যেভাবে মানুষের আচরণ নিয়ে অসন্তোষের কথা প্রচার করতে তা নামান্তরে মান্য করো নয়তো মরো সরকারের এই বার্তাকেই শক্তিশালী করছে। এভাবে আতঙ্ক প্রচার করার ফলে হয়তো তারা দর্শক পাচ্ছে, কিন্তু এ কৌশল তো সাধারণ মানুষকে বিষয়টি বুঝতে কোনো সহায়তাই করছে না। এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস নিয়ে জানা ও অজানার মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে তা ত্রাসের রাজনীতির জন্য খুবই সহায়ক। এই সময়ের রাজনীতিকদের অনুপস্থিতির কারণেই সাংবাদিকদের মন্ত্রণালয়গুলোর বিভ্রান্তি ও বিমুঢ়তার পর্দা ভেদ করতে হচ্ছে। একমাত্র জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের সর্বশেষ চার্টকে কেমব্রিজের পরিসংখ্যানবিদ ডেভিড স্পাইজেলহল্টার অন্যান্য অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে কভিড-১৯ এর মৃত্যুর একমাত্র নিরপেক্ষ তুলনা বলে অভিহিত করেছেন। এখান থেকেই পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ বছরের গড় মৃত্যুর তুলনায় অতিরিক্ত মৃত্যুর চিত্র। যদিও এটা খুশি হওয়ার মতো কোনো তথ্য নয়, তবে এটা অন্তত অর্থবহ। পার্লামেন্টে এমন তথ্য কেউ উল্লেখ করেননি। এগুলো আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মানুষের জীবন বনাম অর্থনীতির বিতর্ক যখন ক্রমেই উচ্চকিত হচ্ছে, সেটিও আলোচনার একমাত্র প্ল্যাটফর্ম গণমাধ্যম। এই সঙ্কট থেকে মুক্তির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক লকডাউনে রয়েছে। সরকার বলছে এটা এখন ভাবার সময় নয়। এ ধরনের বক্তব্য হয়তো তাদের মাঝেমধ্যে গৃহীত স্বৈরতান্ত্রিক নীতিতে কিছুটা আবরণ ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এটা এই সময় সঠিক নীতি নয়। এই মহামারীতে অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমনটি হয়নি। এ কারণে এই সময় সরকারের নীতি কৌশল নিয়ে পার্লামেন্টে গভীর পযালোচনা হওয়া উচিত। এটা জরুরি। এটি সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও দরকারি। তথ্য হলো আশ্বস্ত করার উপকরণ। তর্ক-বিতর্কে হয় ক্ষমতায়ন, এটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক প্রশমন করে। সরকার যদি মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় মধ্যে চরম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আগে আস্থা অর্জন করতে হবে। সংবাদপত্র এখন এক অদ্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখি: সীমিত বিজ্ঞাপনের বাজার বহু বিস্তৃত হয়ে যাওয়ার মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মধ্যে অনলাইন। দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস, টেলিগ্রাফ ও ফিনান্সিয়াল টাইমসের অনলাইনে পাঠকদের সংখ্যা বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সেটা দ্বিগুণ হয়েছে। নির্ভরযোগ্য, সুসম্পাদিত এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক খবরের চাহিদা নিঃসন্দেহে আকাশচুম্বি। এতে অর্থযোগ প্রায় অসম্ভব। সংবাদপত্রের সুরক্ষা প্রাচীর হলো বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব। কিন্তু এ দুটি খাত থেকেই অনবরত আয় কমে যাচ্ছে। সংবাদপত্রগুলো ভালো সংবাদিকতার মূল দিয়ে যাচ্ছে আর লাভবান হচ্ছে গুগল ও ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠান। এই সঙ্কটে স্থানীয় অনেক সংবাদপত্র টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। যেখানে ছাপা পত্রিকাগুলোর ভবিষ্যত আরো ভয়ঙ্কর। বড় যারা এদের খেয়ে ফেলছে তারা অবশ্য স্থানীয়দের এই করুণ দশায় তাদের দায় স্বীকার করছে। এরই মধ্যে বিবিসি তার স্থানীয় বার্তাসংস্থাগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থানীয় সংবাদপত্রকে ভর্তুকি দেয়া শুরু করেছে। গুগল ছোট ও মাঝারি প্রকাশনাগুলোকে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটা যেন টর্পেডোর আঘাতে ডুবতে থাকা জাহাজে লাইফর দেয়ার মতো উপহাস! তবে স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন ও চলমান নানা বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা তুলে ধরা যে শিল্পের প্রধান কাজ তার জন্য রাষ্ট্রীয় সমর্থনের আইডিয়া আমি পছন্দ করি না। এখন নির্ভর করছে আগামী মাসগুলোতে সরকার কীভাবে পরিচালিত হয়। আমি এখনও বিশ্বাস করি, বেশিরভাগ পত্রিকা আগামী দিনগুলোতে নিজের মতো চলতে পারবে। এরই মধ্যে মন্ত্রীদের নির্দেশে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের বিজ্ঞাপন কমিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের কেয়ারএনক্রস রিপোর্টে সংবাদপত্র সংগঠনগুলোকে ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো থেকে কিছু অর্থ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরো বিস্তৃত করার পদক্ষেপেরই একটি অংশ হতে পারে এটি। সংবাদপত্রগুলো এখন যেটি পারে সেটি হলো বর্তমানের এ সঙ্কট যাদের চরম ভোগান্তি ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের অব্যাহতভাবে প্রশান্তি দিয়ে যাওয়া। কিন্তু তারা যদি ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে যেতে শুরু করে তবে তারা শুধু সরকারের করোনাভাইরাস নীতির আরেক শিকারে পরিণত হবে তা নয়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। লেখক: সাইমন জেনকিন্স, দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার কলাম লেখক
গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে
২৭এপ্রিল,সোমবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম:তথ্য দিয়ে দেশবাসীকে চলমান ঘটনার আপডেট জানাচ্ছেন সাংবাদিকরা। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীরা করোনাভাইরাসের থাবায় পড়ছেন। ইতোমধ্যেই কয়েকজন গণমাধ্যামকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং কেউ কোয়ারান্টিনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিক ও কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেসরকারি ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একজন ক্যামেরাপার্সন, যমুনা টিভির একজন সংবাদকর্মী, দীপ্ত টিভির চার সংবাদকর্মী, এটিএন নিউজের একজন সংবাদকর্মী, যমুনা টিভির নরসিংদী প্রতিনিধি, একাত্তর টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি, বাংলাদেশের খবরের একজন সংবাদকর্মী, দৈনিক সংগ্রামের এক সংবাদকর্মী, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক, রেডিও টুডের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ভোরের কাগজের বামনা উপজেলা (বরগুনা) প্রতিনিধি এবং আরটিভি অনলাইনের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মাছরাঙা টিভির সাধারণ সেকশনের একজন কর্মকর্তা, চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মী এবং বাংলাভিশনের একজন গাড়িচালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় শুরু থেকে সঠিক গাইডলাইন ও প্রস্তুতির অভাবে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনো কোনো গাইডলাইন প্রণয়ন করা না হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। এদিকে ঝুঁকি বিবেচনায় গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারের কাছে প্রণোদনার আবেদন জানিয়েছেন।গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের কাজে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। মনের ভেতরে আতঙ্ক কাজ করে। এ কারণে আক্রান্ত হব ধরে নিয়েই কাজ করে যেতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস ইস্যু গণমাধ্যমের জন্য নতুন ইস্যু।সাধারণত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যে ধরনের প্রস্তুতি দেখা যায় শুরুর দিকে দেখা গেছে আমাদের মিডিয়াগুলো ওই ধরনের প্রস্তুতির দিকে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার তা নেওয়া হয়নি। এর ফলে ১৬ জন সাংবাদিক ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। সাংবাদিকদের সমস্যা একজন ডাক্তারের থেকে ভিন্ন। একজন ডাক্তার যখন কোনো রোগীকে সেবা দিতে যান তখন তিনি জানেন, রোগীর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু সাংবাদিক যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান তখন তিনি জানেন না, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কিংবা রোগী আছে কিনা। গণমাধ্যমকর্মীরা এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় চলে গেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে, আগামী দিনগুলোতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর