হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে গাড়ি না চালানোর আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ৫ নভেম্বর সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার আগে গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৩ আগস্ট আগের রিটের শুনানি শেষে রুল জারিসহ রাজধানীতে চলাচলকারী সব যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ, ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে সেই গাড়ি জব্দ এবং হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি বন্ধ করে বাজারে এখনও যেসব হর্ন রয়েছে, তা জব্দের নির্দেশ দেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।
দেশে প্রতিদিন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে :জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৩টির বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ২৪০টি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (জামাকন) এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এ চিত্র। রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানায়, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন না হলেও সম্প্রতি তা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। খুনের শিকার হচ্ছে অবুঝ শিশুরাও।নিখোঁজ বা গুমের শিকার হচ্ছে মানুষ। বাসা, অফিস, রাস্তা থেকে হঠাৎ করেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। দিন বা রাতে ঘটছে এমন ঘটনা। অনেকে আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। নারী, শিশুর ক্ষেত্রেও ঘটছে নির্যাতনের ঘটনা। এসব বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের পাশাপাশি জামাকন মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে। দেশে আগেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতো। তবে এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। পর্যবেক্ষণেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। জামাকন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। দেশের ১২টি প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত সংবাদগুলোর আলোকে এ পর্যবেক্ষণ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি বাংলা ও ৩টি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র। সংবাদপত্রগুলোতে উল্লিখিত সংবাদের আলোকে পর্যবেক্ষণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান তৈরি হয়। পর্যবেক্ষণের আলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান ২০১৭-এর তথ্য মতে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে চার সহস্রাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮৫৫টি হত্যাকাণ্ড। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন বর্বরতার শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। গুম বা নিখোঁজের শিকার হয়েছেন ৫২ জন। বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৩ জন। নির্মমতা থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। হত্যার শিকার হয়েছে ১২৯ শিশু। আর নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২৩ শিশু। এর বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অমানবিক শাস্তির শিকার ১২৭ শিশু শিক্ষার্থী। নারীর উপর সহিংসতাও বেড়েছে। বছরের প্রথম ৬ মাসে ৩০৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যৌন নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, এসিড নিক্ষেপসহ আরো বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন আরো ২৯৯ নারী। একই সময়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৯৩ জন। অমানবিক নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৩ শ্রমিক। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনী পুলিশের ওপরও। পুলিশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১২৭টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিকেও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৮৫৩ যাত্রী ও পথচারী। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি ৮৫৭টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। আর সবচেয়ে কম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পাওয়া যায় জানুয়ারিতে। ৩৬১টি। তবে ওই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৭ শতাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। তখন সংঘটিত ৮৫৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ১৮৫টি খুনের ঘটনা ঘটে। জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ৪২ শিশু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। মার্চ ও মে মাসে সর্বাধিক ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ৫২ গুমের মধ্যে ১৪টি হয়েছিল গত মার্চে। আর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ২০টি করে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা সংঘটিত হয়। জাতীয় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কমিটির এক সদস্য বলেন, দেশের প্রধান জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে আগের দিনের একটা সার্বিক চিত্র উঠে আসে। প্রধান ১২টি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার আলোকে তৈরি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাতে চলতি বছরের শুরুতে যে পরিসংখ্যান ও চিত্র উঠে এসেছে তা অস্বস্তিকর।
জরুরী বিজ্ঞপ্তি
পাঠক প্রিয় অনলাইন দৈনিক নিউজ একাত্তর ডট কমএর সকল সংবাদদাতা, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি গনের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে, ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলা, অনুপস্থিতির কারনে কয়েকজনক কে উক্ত পত্রিকা হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং যাদের পত্রিকার পরিচয় পত্রে ৩০/১২/২০১৭ইং পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে তাহাদের সহ সকলের পত্রিকার পরিচয় পত্র (ডিজাইন পরিবর্তনের) কারণে গত ২০/১১/২০১৭ইং তারিখে বাতিল করা হইল, যাহারা উক্ত পত্রিকায় দায়িত্বরত বা কর্মরত আছেন তাহাদেরকে ১০/১২/২০১৭ইং তারিখের মধ্যে পূর্বের পরিচয় পত্র ফেরত প্রদান করে নতুন পরিচয় পত্র গ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করা যাচ্ছে । যে কোন ধরনের অপরাধ, দূনীতি, অসামাজিক কার্য্যকলাপ, দায়িত্বে অবহেলা, অনুপস্থিতির কারণে যে কোন সংবাদদাতা, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধির পরিচয় পত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। নিবেদক সম্পাদক ০১৮২৪-২৪৫৫০৪
পিলখানা হত্যাকাণ্ড : ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের কিছু অংশ বহাল রেখেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে দেশের সবচেয়ে আলোচিত এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আপিলের রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) হাইকোর্ট বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের কিছু অংশ বহাল রাখা হয়েছে। পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মোট যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ১৯৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন। হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হলো। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এই মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। মোট সাজা হয় ৫৬৮ জনের। হাইকোর্টে কোনো রায় পড়তে দুদিন সময় লাগার বিয়ষটি অনেক আইনজীবীই নজিরবিহীন বলেছেন। এই মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি পর্যবেক্ষন দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। আদালত বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মিশরে ৯৯ শতাংশ ও বাংলাদেশের শতকরা ৫৭ ভাগ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংস্থা বা ইউএনউইমেনের ২০১৩ সালে মিশরের ওপর চালানো এক জরিপে জানিয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মিশরে ৯৯ শতাংশ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়, মিশরের রাজধানী কায়রোর শতকরা ৯৫ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। খবর সিএনএনের। তবে সার্বিকভাবে বিশ্বজুড়ে নারী নিগ্রহের এই চিত্রটা মোটেও সুখকর নয়। ইউএনউইমেন বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩৫ ভাগ নারী শারীরিক বা যৌন হয়রানি শিকার হচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শতকরা ৬৫ নারী জানিয়েছেন, তারা রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হন। কানাডার যৌন নিগ্রহের তথ্যানুযায়ী সেখানকার ৮০ ভাগ নারী কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৪৪ ভাগ, জার্মানিতে ৩৫ ভাগ ও ফ্রান্সে ৪৪ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। অস্ট্রেলিয়ায় যৌন নিগ্রহের এই হারটা শতকরা ১৭ ভাগ। আর ফিজিতে এর যৌন হয়রানির শিকার হন শতকরা ৬৪ ভাগ নারী। এদিকে ব্রাজিলের শতকরা ৮৬ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাকশনএইড পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শতকরা ৮০ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের শতকরা ৫৭ ভাগ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হন বলে জানাচ্ছে অ্যাকশনএইড। যেখানে ভারতে ৭৯ ভাগ, কম্বোডিয়ায় ৭৭ ভাগ আর ভিয়েতনামে ৮৭ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়। নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কী কাজ করে এটির বৈশ্বিক প্রোগ্রামের পরিচালক রেচেল জকিস বলেছেন, যৌন হয়রানির চরম পর্যায়টা হচ্ছে ধর্ষণ। তিনি বলেছেন, পাবলিক প্লেসগুলো নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষরা। তারা মনে করে এই পাবলিক প্লেসগুলো তাদের মালিকাধীন। জকিস আরও বলেন, রাস্তা অনিরাপদ হলে নারী ও তরুণীদের ঘর থেকে বের হওয়া ঠেকানোর একটি যুক্তি দেখানো যায়। উল্লেখ্য, আজ বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আজিজসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধে গাইবান্ধার জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আজিজ রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে রায়ের পযবেক্ষনে বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতনসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয় গাইবান্ধার আব্দুল আজিজসহ ৬ জনের বির“দ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার পর ১৬৬ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো: শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ ছাড়া অন্য আসামিরা হলো, রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু, আব্দুল লতিফ, আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী, নাজমুল হুদা ও আব্দুর রহিম মিয়া। এদের মধ্যে লতিফ ছাড়া সবাই পলাতক। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিরা ন্যায় বিচার পায়নি বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ। রায়ের পর্যবেক্ষনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আজিজ রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ২৮টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এটা ট্রাইব্যুনালের ২৯তম রায়।
যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায় আগামীকাল
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা ’৭১-এ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আনা ২৯তম মামলার রায় আগামীকাল। জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি গত ২৩ অক্টোবর যে কোন দিন রায়ের (সিএভি) জন্য রাখা হয়েছে। আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আমির হোসেন ও অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর সাবেক বিশেষ জজ মো. আবু আহমেদ জমাদার। নবগঠিত এ ট্রাইব্যুনালে এটিই হবে প্রথম রায়। এ মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাসস’কে বলেন, এ মামলার আসামীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়ংকর অপরাধ করেছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, আসামীরা তাদের স্থানীয় এলাকাকে নেতৃত্ব শূন্য করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ (চেয়ারম্যান-মেম্বার) মোট ১৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করাসহ বিভিন্ন মানবতদাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছেন। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ সাজার রায় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গত ৯ মে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষামাণ রেখেছিলেন। বিচারপতি আনোয়ারুল হক মৃত্যুবরণ করায় ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে গত ১১ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করে আদেশ দেয়। সে অনুযায়ি পুনরায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষা। এর আগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আনা আরো ২৮ মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অপেক্ষায় থাকা মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন-জামায়াতের সাবেক এমপি আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জন। অন্যান্য আসামিরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। এ ছয়জনের মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ কারাগারে আছে, বাকী পাঁচজন পলাতক রয়েছে। আজিজসহ গাইবান্ধার ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আব্দুল আজিজ মিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পযর্ন্ত বিএনপি নেতৃত্বধীন চার-দলীয় জোটের অধীনে জামায়াত থেকে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।বাসস