শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের পুনর্জন্মের ভিত্তি
১৭মে,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে বাঙালির স্বাধীন জাতিসত্তা তথা পৃথক জাতি রাষ্ট্রের চেতনার অন্যতম ভিত্তি যদি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে ধরে নেওয়া হয় তাহলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালির রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে, এর বিরোধীদের মধ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। তাদের অনেকে আমাদের রাজনীতিতে নেতৃত্বস্থানীয়ও ছিলেন। খাজা নাজিমউদ্দিন ও নুরুল আমিনের নাম সবাই জানলেও ভেতরে ভেতরে তাদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের ধারণা ছিল, সমগ্র পাকিস্তানে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে তা ইসলাম আর ভূগোলের বিভ্রান্তি নিয়ে সৃষ্ট পাকিস্তানের অখ-তার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। তারা বাংলা ও বাঙালিত্বের মধ্যে হিন্দুয়ানির গন্ধ সবসময়ই পেত। যার ফলে দেখা যায়, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করা হয় পূর্ব পাকিস্তানে। তারও আগে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময়ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও এ দেশে প্রচুর লোকের অবস্থান ছিল। ৬৬ সালে যখন ছয় দফা ঘোষণা করা হয়, তখনও ছয় দফাকে ভারতীয়দের প্ররোচনায় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার লোক এ দেশে প্রচুর ছিল। পরবর্তী সময়ে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আইয়ুবশাহীর পক্ষে এবং ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের বিপক্ষে প্রচুর বাঙালি অবস্থান নিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সংবিধান ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিল হাজার হাজার আলবদর, রাজাকার। জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক অতিবাম রাজনৈতিক দল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে নেমেছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দুনিয়ার অধিকাংশ দেশই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতাকে পরাজিত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ জাতি বিজয় অর্জন করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পরাজিত হয় ৫২, ৫৪, ৬১, ৬৬, ৬৯, ৭০-এর বাঙালি চেতনার বিরুদ্ধাবলম্বনকারী শক্তি। কিছুদিনের জন্য পরাজিত শক্তি চুপচাপই ছিল; কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বিরোধীপক্ষ ৭১-এর পরাজিত শক্তি। আসলে ওই দিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা মূলত আবার পূর্ব পাকিস্তানকেই কায়েম করে। মোশতাক, জিয়ার নেতৃত্বে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন হয় আজীবন বাঙালিত্বের বিরোধিতাকারী অপশক্তি। ইতিহাসের চাকা ঘুরতে থাকে পেছনের দিকে। ১৯৭৬ সালের ৩ মে এক ফরমান জারি করে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনর্বাসিত করেন। রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে। ১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ কেড়ে নিয়ে কিছুদিন পর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে আইয়ুবীয় কায়দায় হ্যাঁ-না ভোটে ৮৮.৫ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে ৯৮.৮৮ শতাংশ ভোট তার পক্ষে দিয়েছে বলে প্রচার করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই পিপিআর ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়। যদিও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আরও দুটি আওয়ামী লীগ তৈরির চেষ্টা করা হয়। আওয়ামী লীগে একাধিক বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সময়ের পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল আওয়ামী লীগই টিকে যায়। সামরিক শাসনের মধ্যে সেনানিবাসে বসে রাষ্ট্রীয় অর্থে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালিপ্সু সামরিক-বেসামরিক পাকিস্তানপন্থি দালাল ও সুবিধাবাদী দলছুট রাজনীতিকদের নিয়ে প্রথমে জাগো দল পরে বিএনপি গঠন করা হয়। ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিল সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমান জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালের ১ মে থেকে উন্মুক্ত রাজনীতি শুরু হয়। জিয়া নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শুধু সেনাবাহিনী প্রধানের রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যবস্থা করেন। ১৯৭৮ সালের ৩ জুন ব্যাপক কারচুপিমূলক নির্বাচনে ৭৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতি রাজনীতিকদের জন্য ডিফিকাল্ট করার রাজনীতির প্রবর্তক ও মানি ইজ নো প্রবলেম অর্থনীতির জনক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ব্যাপক জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত বিএনপি সংসদ দখল করে। প্রথমে মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে সিনিয়র মন্ত্রী এবং পরে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ তিনি মারা গেলে পাকিস্তানপন্থি মুসলিম লীগ নেতা শাহ্ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণের ষোলকলা পূর্ণ করলেন জিয়াউর রহমান। পুরো দেশ চলে গেল পাকিস্তানি ভাবধারার লোকদের দখলে। বাকি থাকল শুধু পতাকা আর মানচিত্রটি, জাতীয় সংগীতটি বদলানোর চেষ্টার ধৃষ্টতাও দেখালেন তারা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বলবৎ হওয়া সামরিক আইন ও রাত্রিকালীন সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করা হয় ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল। ১৯৮১ সালের ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সময় ভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন দিল্লিতে। সভাপতি পদ গ্রহণে শেখ হাসিনাকে রাজি করানো এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লিতে একাধিক বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন আবুল মালেক উকিল, ড. কামাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আবদুল মান্নান, আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী, জোহরা তাজউদ্দীন, সাজেদা চৌধুরী, ডা. এসএ মালেক, আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে কয়েক দফা বৈঠক হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এরই মধ্যে পাকিস্তানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রতিরোধের জন্য। তারা সারা দেশে প্রচুর লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে। জয় ও পুতুল জলবসন্তে আক্রান্ত হওয়ায় শেখ হাসিনার ঢাকা প্রত্যাবর্তন কয়েকদিন বিলম্বিত হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দুপুর ১২টায় পুতুলকে নিয়ে ঢাকায় আসেন শেখ হাসিনা। কিছুটা হলেও ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মতো। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর অবতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক প্রজাতন্ত্রটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। শেখ হাসিনার ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে যে ভিত্তিকে উপড়ে ফেলার চেষ্টায় নড়বড়ে করে ফেলা হয়েছিল, তা পুনঃগ্রথিত হওয়ার যাত্রার শুভসূচনা। শেখ হাসিনাকে পেয়ে বাঙালি তার বাঙালিত্ব ও বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধল। আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু সে;াগানে। জনস্রোতে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। অনেক ঝুঁকি নিয়েই অবতরণ করেছিল শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ৭০৭ বোয়িং বিমানটি। লাখো লাখো মানুষ রাস্তার দু পাশে দাঁড়িয়েছিল। গগনবিদারী সে;াগানের মধ্যে বেরিয়ে আসেন সাদা রঙের ওপর কালো ডোরাকাটা তাঁতের মোটা শাড়ি পরা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখন কাঁদছিলেন, প্রকৃতিও একই পথ ধরল। চারদিক অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি শুরু হলো, সঙ্গে ঝড়। ট্রাক ও মিছিল চলছিল খুব ধীরগতিতে। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। মিছিল বনানী কবরস্থান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসতে তিন ঘণ্টা সময় লাগল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যখন শেখ হাসিনা গণসংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখনও প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিল কমপক্ষে দশ লাখ মানুষ। শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেগময় ভাষণ দেন। তবে ভাষণে দৃঢ়তার কোনো অভাব ছিল না। আওয়ামী লীগের মতো স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী বৃহৎ সংগঠনটিকে নেতৃত্বদানে যে তিনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন তার বক্তৃতায় সে লক্ষণই পরিলক্ষিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তার আগমনে গণজোয়ার নিয়ে আসে সারা দেশে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ কর্মীরা সুসংগঠিত হতে শুরু করে। বিপন্ন যে জাতি দীর্ঘ স্বাধীনতা-সংগ্রামের সব অর্জন হারাতে বসেছিল, তাদের মনে আবারও হারানো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ফিরে পাওয়ার আশা ফিরে আসে। শুরু হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের পথচলা। এরই মধ্যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে নিহত হন। অবশ্য এটি ছিল জিয়ার আমলে অনেক সামরিক অভ্যুত্থানের একটি। ৭৫ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনীতে বহু অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিতে হয় হাজার হাজার সেনাসদস্যকে। তাদের অনেককেই বিনাদোষে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিলেন বলে বহু প্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান হলো না, বরং উল্টো হেলিকপ্টার-সানগ্লাস-সাফারির জায়গায় জেঁকে বসল ছেঁড়া গেঞ্জি ও ভাঙা সুটকেস বাহিনী। কালুরঘাট এলাকা থেকে কথিত জিয়ার লাশের বাক্স ঢাকায় এনে লুই আই কানের স্থাপত্য নকশার চরম বিচ্যুতি ঘটিয়ে মাজার নির্মাণ করা হলো পবিত্র সংসদ এলাকায়। পাঠক লক্ষ করবেন, জিয়ার কথিত দ্বিতীয় কবরস্থানকে মিডিয়ায় এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মাজার হিসেবে প্রচার চালানো হয়। অবশ্য জিয়ার মাজার তৈরির আগেই সংসদ ভবন এলাকায় সামনের দিকে আরেক কোনায় দখল নেয় সবুর খানসহ পাকিস্তানপন্থি কুখ্যাত রাজাকারের দল। সেটাও করেছিলেন জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবেই। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর ভোট কারচুপি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে নিয়ে আসে বাঙালির ইতিহাসের আরেক খলনায়ক এইচএম এরশাদ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ড. কামাল হোসেনকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস বাহিনীর শিখ-ী বৃদ্ধ সাত্তারকে সরিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে জিয়ার পাকিস্তানি অসমাপ্ত কাজে নিবিড়ভাবে হাত দেন। মাজার-পীর ও লেডি সংস্কৃতির নব উত্থান ঘটে রাজনীতিতে। চরম ভ-ামির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেন। বিভিন্ন পীর, বিশেষ করে আটরশির পীর চলে আসেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে হবেন এ সিদ্ধান্ত আসত আটরশি থেকে। কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট কর্তৃক প্যানেল নির্বাচনের রাতেই এক প্রার্থী চলে গিয়েছিলেন আটরশি; কিন্তু অধিকতর চতুর অন্যজন প্রতিদ্বন্দ্বী বহর আটরশি পৌঁছার আগেই এরশাদের এক বন্ধুকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ সই করিয়ে নেন। মাদ্রাসা ও মসজিদকে ব্যবহার শুরু করেন রাজনৈতিক লুণ্ঠনের আবরণ হিসেবে। বেঁচে থাকলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারে যার ফাঁসি হতো, এমন রাজাকার নেতা মাওলানা মান্নানকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আনোয়ার জাহিদরা পাকিস্তানিকরণের সিপাহসালার হিসেবে যোগ দেন এরশাদ বাহিনীতে। একই ধারাবাহিকতায় চুরির দায়ে এরশাদ জেল খাটার পর খালেদা জিয়ার উজির বাহিনীতে এসে শামিল হন আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী আর আলী আহসান মুজাহিদ। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এরশাদও হ্যাঁ-না গণভোটের খেলা আয়োজন করেছিলেন। এবার ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ৯৫ শতাংশ, যার ৭১ শতাংশ এরশাদের ১৮ দফা কর্মসূচির পক্ষে। সামরিক শাসন চলতে থাকে। ১৯৮৩ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগের ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। ৯ এপ্রিল হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের এক সম্মেলনে শেখ হাসিনা সামরিক শাসনবিরোধী ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯৮৬ সালের মার্চে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করে। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে কয়েকবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশমুখী মিছিলে গুলি চালিয়ে এরশাদের পেটোয়া বাহিনী ৩৮ নেতাকর্মীকে হত্যা করে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। শুরু হলো শেখ হাসিনাকে হত্যার আনুষ্ঠানিক মহড়া, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভাঙা সুটকেস বাহিনীর অন্যতম কর্ণধার হাওয়া ভবনখ্যাত তারেক রহমানের নেতৃত্বে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়। লেডি (মেরি)-পীর-বাম-রাজাকার-গোয়েন্দা শাসিত শাসনব্যবস্থার ভিত রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের বহু দূরে অবস্থানকারী এরশাদ রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম নির্ধারণ করে দেন ইসলাম। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতিই ছিল এর উদ্দেশ্য। কোনো কিছুতেই এরশাদের শেষরক্ষা হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এত বেগবান হয় যে, জরুরি অবস্থা জারি করেও এরশাদ ব্যর্থ হন। সামরিক-বেসামরিক আমলারা পক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন। আ স ম রব ও মওদুদরা পিছুটান দিতে থাকেন। ১৯৯০-এর ৬ নভেম্বর শেখ হাসিনা পান্থপথের জনসভায় সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ দেখান। ৬ ডিসেম্বর সেই রূপরেখা অনুযায়ী এরশাদ শাসনের অবসান হয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যায়নি। ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সূক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে ক্যান্টনমেন্টবাসী। ক্যান্টমমেন্টে অবস্থানকারী খালেদা জিয়ার দল ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াতের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন হয়। ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েও আসনসংখ্যার হিসাবে আওয়ামী লীগ আবারও রাজপথে। ক্যান্টনমেন্ট নিবাসী খালেদা জিয়া তার উত্তরসূরি ক্যান্টনমেন্টবাসী জিয়া-এরশাদের মতোই নির্যাতন, নিপীড়ন, লুণ্ঠন, সীমাহীন দুঃশাসনের রাজত্ব কায়েম করেন। ১৯৯২ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগী হন। বিভিন্ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করে দলীয় রাজনীতিতে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় মেধার সমাবেশ ঘটান। আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ রেখে আধুনিক মানসিকতার দলে রূপান্তরিত হয়। ঘাতক-দালাল নির্মূল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনও বেগবান করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের এক নির্বাচন করে বিএনপি; কিন্তু ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। ৩০ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে অংশ নেন। শেখ হাসিনার বিজয় আঁচ করতে পেরে ক্যান্টনমেন্টবাসী অন্ধকারের শক্তি আবারও অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়, জাগ্রত জনতার প্রতিরোধের ভয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিচক্ষণতায় তা ব্যর্থ হয়। ২৩ জুন সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলার জনগণ তাদের হৃত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আবার ফিরে পায়। আবার সক্রিয় হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। ২০০১ সালে পাকিস্তানপন্থিদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা হয়। এবার জামায়াতে ইসলামী চলে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নেয় তারা, জঙ্গি উত্থানের সব পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সামরিক গোয়েন্দারা হাওয়া ভবনের সঙ্গে মিলেমিশে শুরু করে অস্ত্র এবং মাদকের ব্যবসা, দশ ট্রাক অস্ত্র এরই অংশ। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলাসহ পরিচালনা করা হয় একাধিক হত্যাপ্রচেষ্টা। একই ধারায় দেশ চলে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত। এমনকি ২০০৭-০৮ সালে আবারও দেশকে দখলে নেয় পাকিস্তানি মানসিকতার সামরিক গোয়েন্দা ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনরা। একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বের দৃঢ়তার কারণেই ২০০৯-পরবর্তী বাংলাদেশ সেনা বা সেনাসমর্থিত শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের মহাসড়কে। -অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান,উপাচার্য,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র
১৪মে,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে বাংলাদেশের ১১.৩ শতাংশ মানুষ অতি দরিদ্র। আর দরিদ্র মানুষের হার ২১.৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গতকাল হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে(এইচআইইএস) প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করেন বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. দিপংকর রায়, পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম-পরিচালক একেএম আশরাফুল হক উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের প্রক্ষেপন অনুযায়ী বিবিএস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। আর ২০০৫ সালে যেখানে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৫.১ শতাংশ, সেখানে ২০১৬ সালে তা কমে ১২.৯ শতাংশ হয়েছে।খানার আয় ব্যয়, জরিপ অনুযায়ী দেশের খানা প্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। ২০১০ সালে ছিল ১১.৪৭৯ টাকা। মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা, যা ২০১০ সালে ছিল ২ হাজার ৫৫৩ টাকা। সর্বশেষ হিসেবে পরিবার ভিত্তিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ২০১০ সালে যা ছিল ১১ হাজার ২০০ টাকা।এদিকে মাথাপিছু আয় ও ব্যয় বাড়লেও খাদ্যগ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মাথাপিছু ৪১৬ গ্রাম ভাত গ্রহণ করা হলেও এর পরিমাণ নেমেছে ৩৬৭ গ্রামে। ২০১৬ সালে মাথাপিছু গম গ্রহণের প্রবণতা ১৯.৮৩ গ্রামে। ২০১৬ সালের পরিমাণ ২৬.০৯ গ্রাম। মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরিতে নেমে এসেছে। যা ২০১০ সালে মাথাপিছু গড়ে ২ হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা হতো।স্বাধীনতার পর থেকে অর্থের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করা হলেও এবার খাদ্য বহির্ভূত খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে পরিবারগুলোর গড় অর্থ ব্যয়ের ৪৭.৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে খাদ্যে। এ সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২.৩০ শতাংশে। যা ২০১৬ সালে খাদ্য খাতে ৫৪.৮ শতাংশ ও অন্য খাতে ৪৫.২০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কৃষ্ণা গায়েন জানান, ২০০৫ সালে মোট ১০ হাজার ৮০টি পরিবার, ২০১০ সালে ১২ হাজার ২৪০টি পরিবার নিয়ে জরিপ করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে নমুনা খানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ৮০টি করা হয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্ব দারিদ্র্য নিরসন দিবসে। তিনি বলেন, চলতি মাসেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বই আকার প্রকাশ করা হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৫২ জনের মৃত্যু
১২মে,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশের সড়ক মহাসড়কে গত চার মাসে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৯জন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) তাদের নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে। শনিবার সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছেন।এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। তবে এক মাসের তথ্যে দুর্ঘটনা-পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল সেগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কারণগুলো হলো- চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেল্পারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, বিধি লঙ্ঘণ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না। এজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
৪৮ বছরে ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা সংযোজন-বিয়োজন
১১মে,শনিবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী ,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (বামুস) কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাময়িক সনদ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বামুসের সনদপ্রাপ্ত ৪৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত চলমান ভাতা স্থগিত করা হচ্ছে।তবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণের জন্য চারটি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত একটি থাকলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাকে মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে সেগুলো হলো, ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, বেসামরিক গেজেট ও বাহিনীর গেজেট। এগুলোর মধ্যে অন্তত একটিতে নাম থাকলে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করতে পারবেন।আবার মহানগর বা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি যাঁদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে বা যাঁরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রমাণিত হয়েছেন, তাঁদের সম্মানী ভাতাও স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কারও নাম যদি চারটি মানদণ্ডের একটিতে থাকে, তবে তিনি পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। সব ইউএনওকে ৩০ জুনের মধ্যে এসব আবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা আবেদন পরীক্ষা করবে।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়া হয়েছে, তাদের সবার ভাতা স্থগিত থাকবে। কোনো প্রামাণিক দলিল ছাড়া কাউকে ভাতা দেয়া হবে না।প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদ স্থগিতের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী বলেন, এ সনদ খুব সহজ প্রক্রিয়ায় দেয়া হয়েছে। ফলে অনেকেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সই স্ক্যান করে সনদ জাল করেছেন। তাই পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে ভারতীয় তালিকায় একাধিক ভাগ আছে। যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা পদ্মা, মেঘনা, সেক্টর এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। লাল মুক্তিবার্তার মধ্যে লাল মুক্তিবার্তা ও লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা নামে দুটি ভাগ আছে।বেসামরিক গেজেটের মধ্যে বেসামরিক গেজেট, মুজিবনগর, বিসিএস ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিসিএস, স্বাধীন বাংলা বেতার শব্দসৈনিক, বীরাঙ্গনা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল, ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী মুক্তিযোদ্ধা গেজেট।বাহিনী গেজেটের মধ্যে রয়েছে সেনা, বিমান, নৌ, নৌ কমান্ড, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী গেজেট।২০০৮-০৯ সালে ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও ২০১৭-১৮ সালে ভাতা দেয়া হয় প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার জনকে। ২০০৯ সালে সম্মানী ভাতা ছিল ৯০০ টাকা। তা বাড়িয়ে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা করেছে সরকার। দুটি উৎসব ভাতাও দেয়া হয়।একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অর্ধেকই মারা গেছেন। অনেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করার কারণে এই সুবিধার আওতায় আসতেই পারেননি। তিনি বলেন, আমার তো মনে হয় ৮০ হাজারের বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন।উল্লেখ্য, গত ৪৮ বছরে ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার বয়স, সংজ্ঞা ও মানদণ্ড পাল্টেছে ১১ বার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা
১০ মে,শুক্রবার ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : তিন সাংগঠনিক টার্গেট সামনে রেখে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। এগুলো হচ্ছে- কাউন্সিলের মাধ্যমে দক্ষ ও মেধাবী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, তৃণমূলের কোন্দল নিরসন করে দলকে আরও শক্তিশালী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা। এ টার্গেট পূরণে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একগুচ্ছ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলায় জেলায় চলছে বর্ধিত সভা। দলীয় সূত্রমতে, ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী অক্টোবরেই শেষ হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন যথাসময়েই করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। অক্টোবরের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তাগাদা দিয়েছেন দলীয় প্রধান। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এখন সে লক্ষ্যে জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছেন।গত বুধবার মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার সিলেট বিভাগীয় বর্ধিত সভা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। পরে জেলা নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন হানিফসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলায় দ্রুত সম্মেলন করার তাগাদার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীরা যেন দলের পদ-পদবিতে আসতে না পারে সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সিলেটের বৈঠক প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যেসব সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব জায়গায় আগামী অক্টোবরের আগে দ্রুত সম্মেলন করতে তাগাদা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধানেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, স্থানীয়ভাবেও সতর্ক থাকতে হবে।জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে জাতীয় সম্মেলন সফলে ৮টি পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভা থেকে কমিটিগুলোতে কার কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণের জন্য সম্পাদকম লীর কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়েই নেতারা বিভাগীয় নেতাদের ঢাকায় ডেকে আনেন। গত ২৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনা বিভাগের জেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে এ বিভাগের জেলাগুলোতে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে গত ৪ মে মাগুরায় বর্ধিত সভা করা হয়েছে। ১১ মে শনিবার চুয়াডাঙ্গা, ১২ মে রবিবার যশোর, ১৩ মে সোমবার নড়াইল, ১৪ মে মঙ্গলবার মেহেরপুর, ১৮ মে শনিবার খুলনা মহানগর, ১৯ মে রবিবার খুলনা জেলা, ২০ মে সোমবার কুষ্টিয়া, ২১ মে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা কমিটির বর্ধিত সভার তারিখ নির্ধারণ করা আছে। এসব সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।অন্যদিকে ফেনীতেও বর্ধিত সভা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বিভাগগুলোতে বর্ধিত সভা ডেকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে মোতাবেক আমরা বিভিন্ন জেলায় বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছি। ছোটখাটো বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, তৃণমূলকে আমরা বার্তা দিচ্ছি, দলকে সুসংগঠিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক কমিটিকে সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো। একই সঙ্গে ২০২০-২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে পালন করতে চাই। এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন সে দিকনির্দেশনা থাকছে জেলা সফরে। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। কোথাও এমপি বনাম আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্ব চলে আসছে।জাতীয় সম্মেলনের আগে এমন কোন্দল নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্য নিয়ে জেলা-উপজেলায় বর্ধিত সভার পাশাপাশি ঢাকায় ডেকে এনে কোন্দল নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় টিম কাজ করছে। কিছু জেলা নেতাকে ঢাকায় ডেকে বা তৃণমূলে গিয়ে বৈঠক করে সমাধান করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২০২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে মুজিববর্ষ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে। ইতিমধ্যে মুজিববর্ষ উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্য সচিব করে দলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে। দুটি কমিটির নেতৃত্বে গঠন করা হবে উপকমিটি। দলীয় সূত্রমতে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মুজিববর্ষ উদযাপিত হবে।এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে। দেশের জ্ঞানী-গুণী-বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে থাকবে আলাদা আয়োজন। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, পাশাপাশি সরকারিভাবেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জন্মশতবার্ষিকীতে শিশু-কিশোরদের জন্য ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুলভিত্তিক খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা থাকবে। কামার, কুমার, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন কাজ করেছেন তাদের জন্যও কর্মসূচি রাখবে আওয়ামী লীগ। জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতার জীবন এবং কর্ম নিয়ে বেশ কিছু বইও প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুজিব বর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা
১৩মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিবস ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের জন্যে আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি গত দশ বছরের উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনা করবে। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে এবং আগামী বছরের (২০২০ সালের) ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সে উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে প্রকাশনাসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।- আরটিভি
শুরু হলো অদম্য সাহস আর আত্মপ্রত্যয়ের অগ্নিঝরা মার্চ
১মার্চ,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শুরু হলো অদম্য সাহস আর আত্মপ্রত্যয়ের অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ এর এই মাসকে ধরা হয় মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত ক্ষণ হিসাবে। এ মাসেই দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন স্বাধীনতাকামী জনতা। নতুন পতাকা, বজ্রকন্ঠ ঘোষণা ও কালোরাত- সব মিলিয়ে নানা ঘটনা প্রবাহে উত্তাল ছিল মার্চ মাস। ছিল শতবাধা, প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধও ছিল অবিরত। শুরুটা বাহান্নতে, এরপর মুক্তি সংগ্রামের নানা ধাপ অতিক্রম করে, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয় পায় বাঙালি। শুরু হয় পাকিস্তানী সামরিক জান্তার নীল নকশা বাস্তবায়ন। বাঙালিও সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। একাত্তরের সাতই মার্চ। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু দাঁড়ালেন জনতার সামনে। বললেন, বাঙালির বঞ্চনার কথা, শোষণ আর শাসিত হবার কথা। উনিশ মিনিটের এক জাদুকরী ভাষণে জাতিকে দীপ্ত মুক্তিসেনানিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ২৫ শে মার্চ ১৯৭১। বাঙালি জীবনে আসে নিকষ কালো রাত। পাকিস্তানি বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যা করে ঘুমন্ত সাধারণ মানুষকে। এ রকম নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো একাত্তরে মার্চ। উত্তাল সেই মার্চ একই সাথে অহংকার ও সাহসের। অপরিসীম ত্যাগের পর বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছে ঠিক। তবে এখনও অর্জনের আছে অনেক কিছু। আর তাই দীর্ঘ সময় পার করেও প্রতিবছরই মার্চ যেন বাঙালিকে নতুন বোধ ও চেতনায় জাগ্রত করে।
বঙ্গবন্ধু উপাধির অর্ধশত বছর
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন এই দিনে। সেই উপাধি অর্জনের ৫০ বছর আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৬৬-র ৮ মে গভীর রাতে ৬ দফা কর্মসূচি প্রদানের অভিযোগে দেশরক্ষা আইনে শেখ মুজিব গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৩৩ মাস পর ৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন তিনি। আগরতলা মামলা থেকে সবেমাত্র মুক্তি লাভ করে ফিরে আসা শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি গণসংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেদিনের রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত। রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ সেদিন জনতার ঢল নেমেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ওই বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি, শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই। রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দু হাত তুলে সমর্থন করেন তাকে। এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ যাকে মহাত্মা উপাধি দিয়েছিলেন সেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকসহ পৃথিবীতে অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপাধি পেয়েছেন। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত হয়ে, গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, এমন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কেউ উপাধি পাননি। এরপর থেকেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় বঙ্গবন্ধু।
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের শুভ জন্মদিন
৪ ফেব্রুয়ারী,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আজ ১৫ তম জন্মদিন। মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনলাইনে একত্রীকরণের পরিকল্পনা থেকে দ্য ফেসবুক নাম নিয়ে শুরু হয় ফেসবুকের যাত্রা। ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৩২ কোটি। ২০১৮ সালে ফেসবুকের মোট মুনাফা ছিল ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। ফেসবুকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা না করা এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট ছড়ানোয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর