টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালাতে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল মিয়ানমার
অনলাইন ডেস্ক :রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। এমন প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকে। ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ফোরটিফাই রাইটসকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টাইম ম্যাগাজিনের অনলাইন। এতে ক্যাসি কুয়াকেনবুশ লিখেছেন, বিশেষ এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই রিপোর্টে এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এমন অভিযোগের ফৌজদারী তদন্তের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরটিফাই রাইটস। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিত বলেছেন, গণহত্যা স্বত্বঃস্ফূর্তভাবে ঘটে নি। এসব অপরাধে দায়মুক্তি দেয়ায় ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে এবং হামলা হবে। এ অবস্থায় বিশ্ব অলস হয়ে বসে থাকতে পারে না এবং প্রত্যক্ষ করতে পারে না যে, আরেকটা গণহত্যা ঘটুক। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলেই তা ঘটছে। রোহিঙ্গারা হলেন মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু। তারা নির্যাতিত ও তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত ২৫ মে আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এরপরই রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস প্রতিশোধ নেয়া শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা বেছে নেয় তারা। এতে বাধ্য হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হলো তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার একটি কৌশল। এমন কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। আগস্টে আরসা যে হামলা চালিয়েছিল সেটা ছিল এমন দ্বিতীয় হামলা। এ গ্রুপটি প্রথম হামলা চালিয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবরে। তার জবাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালায়। তারা ধর্ষণ করে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালায়। এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালাতে বাধ্য হয়। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা আরো শক্তিশালী হয়েছে। তাই তারা আরসার দ্বিতীয় আরেকটি হামলার জন্য অপেক্ষা করছিল। এ জন্য তারা আগে থেকে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা নন এমন স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেয়া, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল তা ভেঙে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গাদের খাদ ও জীবন রক্ষাকারী জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত রাখা। যাতে তাদেরকে দুর্বল করে দেয়া যায়। তাদের ওপর হামলা জোরালো করা যায়। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ হারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী মোতায়েন করা হয় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব প্রস্তুতি দেখে বোঝা যায় এগুলো করা হয়েছিল গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করার জন্য। এতে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যখন হামলা শুরু হয় তাতে জড়িত ছিল মিয়ানমারের কমপক্ষে ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১০০০। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন। ওই রিপোর্টে ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে এসব নৃশংসতার জন্য দায়ী করা হয়। বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী তদন্ত করে বিচার করা উচিত। এই তালিকায় রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উউন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাইয়া তুন ও। উল্লেখ্য, গত মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই রকম অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের ১৩ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করে। মানবজমিন
মুজিবরকে বাঁচাতেই ৯৩০০০ পাক বন্দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইন্দিরা
অনলাইন ডেস্ক :১৯৭২-এর ২রা আগস্ট। ঠিক আট মাস আগেই শেষ হয়েছে ১৩ দিনের ভারত-পাক যুদ্ধ। এদিন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিমলা চুক্তি। এর ফলে ভারত ৯৩০০০ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। ৭১-এর যুদ্ধ চলাকালীন এদের বন্দি করা হয়েছিল ভারতে। এটা ছিল ভারতের অত্যন্ত বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। কেন এই সময় ওই বন্দিদের হাতের তাস করে কাশ্মীর নিয়ে দরাদরি করেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী? হয়তো মিটে যেত সমস্যা! কিসের জন্য পাক বন্দিদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যান ইন্দিরা? এর পিছনে আসল গল্প কি ছিল? সেটা জানলে হয়তো বিতর্কের সমাধান হতো। কিন্তু সেই গল্প রয়ে গিয়েছিল গোপনেই। কোনোদিন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে সেই যুদ্ধের। সেদিন কেন পাক বন্দিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটন করেছেন এক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। THE WAR পত্রিকায় তিনি লিখেছেন সেই ইতিহাস। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাক যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে ঢাকায়। ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। ভারত আর বাংলাদেশের জন্য সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সেইসময় ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত অন্য এক বিপদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিকে যুদ্ধের বিপুল খরচ, তার উপরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা প্রায় ১ কোটি শরণার্থী, যারা পাক সেনার অত্যাচারে সীমান্ত পার করে চলে এসেছিল তাদের খরচ। তার মধ্যে বাড়তি খরচ এই ৯৩০০০ পাক সেনা। ইন্দিরা গান্ধীর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল, কিভাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন তিনি। সেকথা তিনি একজনকেই বলেছিলেন। তিনি হলেন তৎকালীন জঅড প্রধান রাম নাথ কাও। পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে ফাঁসির সাজা দেয়া হয়েছিল তাঁকে, নৃশংসভাবে হত্যা করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সেটাই ছিল ইন্দিরা গান্ধীর সব থেকে বড় দুঃস্বপ্ন। হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল ভারত। তাই মুজিবর রহমানকে হত্যা করা হলে, ভারতের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। এটাই ছিল ভয়। বাংলাদেশকে অনাথ দেখতে চাননি তিনি। এদিকে, পরাজয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। আমেরিকায় থাকা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফোন করে সে কথা জানান। দায়িত্ব দিয়ে যান ভুট্টোকেই। তড়িঘড়ি রাওয়ালপিন্ডির বিমান ধরেন ভুট্টো। ইন্দিরার ঐতিহাসিক কূটনীতি ভুট্টোর ফেরার খবর পেয়েই জরুরি মিটিং ডাকেন ইন্দিরা গান্ধী। ভুট্টোর বিমান রিফুয়েলিং-এর জন্য থামার কথা ছিল হিথরো বিমানবন্দরে। ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন, সেইসময় সেখানে উপস্থিত থাকুক কোনও ভারতীয় প্রতিনিধি। যাতে তিনি জানতে পারেন, মুজিবর রহমানকে নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? সেই বৈঠকে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা দুর্গা প্রসাদ ধর, জঅড প্রধান রাম নাথ কাও, প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি পিএন হাসকার, বিদেশ সচিব টিএন কাউল। মুজফ্ফর হোসেন, পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ভারতে যুদ্ধবন্দি হন এবং ডিপি ধরের বাড়িতে অতিথির মর্যাদায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন লন্ডনে। ফলে সেইসময় কূটনীতিকদের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতেন স্বামী-স্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনিই দুজনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন ফলে দুজনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। লায়লা ছিলেন ভুট্টোর একসময়ের বান্ধবী। সেই লায়লাকেই কাজে লাগান ইন্দিরা। ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে পাঠান লায়লাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। মুজিবরকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা জানা। এই শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ই লায়লাকে জানান, তিনি যাতে হিথরো বিমানবন্দরে গিয়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভুট্টোকে বলেন, তাঁর স্বামীকে ভারত থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে। সেইমত এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে দেখা হয় দুজনের। কথাবার্তা শেষে লায়লাকে কাছে টেনে তাঁর কানে কানে একটা বার্তা দেন ভুট্টো। বলেন, লায়লা আমি জানি, তুমি কি জানতে এসেছ। একটা মেসেজ দিও ইন্দিরা গান্ধীকে। বোলো, আমি মুজিবর রহমানকে মুক্তি দেবো। কিন্তু বদলে কি চাইব? সেটা পরে জানাব। বার্তা জানান লায়লা। তবুও সন্দেহ দূর হয় না। ভারতকে ভুল পথে চালিত করছেন না তো ভুট্টো? কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সন্দেহের অবসান হলো। খবরটা সত্যি সেটাই জানা গেল। বদলে চাওয়া হলো ৯৩০০০ যুদ্ধবন্দিকে। ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি ছেড়ে দেয়া হলো মুজিবর রহমানকে। ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন তিনি। এর ঠিক আট মাস পরে ছেড়ে দেয়া হয় ওইসব পাক যুদ্ধবন্দিকে।মানবজমিন
২০২০-২১ মুজিব বর্ষ
অনলাইন ডেস্ক :জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে মুজিব বর্ষ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভার উদ্বোধনকালে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছরই বাংলাদেশ উদ্যাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। খবর বিডিনিউজের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যৌথসভার শুরুতে বলেন, ২০২০-২১ সাল আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে পালন করব। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হবে। টুঙ্গিপাড়ায় এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান স্কুল জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন শেখ মুজিব। ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন। ওই সময় থেকেই নিজেকে ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে, যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তিনি বারবার কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন জনদাবি আদায়ের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিব। বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শেখ মুজিবকে বারবার কারাগারে যেতে হতে হয়েছে। আর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে নিয়ে যায় বাঙালির নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি, যার ফলে ১৯৬৮ সালে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হতে হয়। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ দেন। ৭১-এর মার্চে শুরু করেন অসহযোগ আন্দোলন। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে তার ঘোষণা এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বাঙালিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে ধাবিত করে। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করার পর সে রাতেই বন্দি হন বঙ্গবন্ধু। তবে তার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকলেও তার নামেই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। অন্যদিকে স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের অভিযোগ এনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে গোপন বিচারের নামে প্রহসন শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় আসে। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি তিনি পা রাখেন স্বাধীন ভূমিতে। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের দায়িত্বভার নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, যদিও ওই সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে ছিল না। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন, গঠন করেন বাকশাল; যার ফলে দেশে অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়, চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্য সব সংবাদপত্রও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কিছু দিনের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক দল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য রাজপথ কিংবা কারাগারে যার জীবন কেটেছে, সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে অবসান ঘটে স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়কের এবং তা বাঙালিরই হাতে।পূর্বদেশ
ম্যাক্স হাসপাতাল ও চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু রাইফার মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল ও চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু রাইফা খানের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সিভিল সার্জন গঠিত তদন্ত কমিটি। বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসম্পাদক সবুর শুভ। তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর ও সুপারিশের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান সবুর শুভ। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও ত্রুটি নিয়ে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ১৫০ শয্যার এ হাসপাতালে লাইসেন্স নবায়নে ত্রুটি, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো নিয়োগপত্র না থাকা, প্যাথলজি বিভাগ ও চিকিৎসকের কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন পাঠান। আগামী ১৫ দিনের মধ্য এসব অনিয়মের পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকলে এ হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গলার ব্যথাজনিত কারণে নগরীর মেহেদীবাগ ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তির পর গত ২৯ জুন রাতে মারা যায় শিশুকন্যা রাইফা খান। এর পর থেকে আন্দোলন করে আসছেন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিকরা।সূত্র: এনটিভি
চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধের দাবি
অনলাইন ডেস্ক :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।বুধবার (৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে সমকালের সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফা খানের হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠন দু’টির নেতারা এ দাবি জানান।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ তিন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে অবৈধ বলে চিহ্নিত হলেও এখনও কেন ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ করা হচ্ছে না, বিক্ষোভ সমাবেশে এমন প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। পাশাপাশি ম্যাক্স হাসপাতালের ফয়সাল, দেবাশীষ ও বিধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।সংগঠনের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আমাদের শত্রু হতে পারে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবিলম্বে ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন, সিনিয়র সাংবাদিক, আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, জাকারিয়া কাজল, খায়রুজ্জামান কামাল, মধু সূদন মণ্ডল প্রমুখ।গত ২৯ জুন রাতে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সমকালের সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফা খানের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সবাইকে ঈদ মুবারক
নাড়ীর টানে ছুটছে মানুষ শিকড়ের কাছে। এই ছুটে যাওয়ার মধ্যে কোন ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই। প্রিয় মাটি ও মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার আনন্দ মুছিয়ে দিচ্ছে সকল কষ্ট। ঈদে বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী, সীমাহীন যানজটের ঝক্কি থাকে প্রতি বছরই। তার উপর সড়ক পথের বেহাল অবস্থা। এ নিয়ে সরকারী মহল থেকে প্রতিবছরই আশ্বাসবাণী ধ্বণিত হয় কিন্তু কাজের কাজ হয়না তেমন । আমাদের প্রত্যাশা, শিকড়মুখো মানুষগুলো যেন নিরাপদে ঈদ যাপন করে ফিরে আসতে পারে । সবাইকে ঈদ মুবারক । মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক / প্রকাশক সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ নিউজ একাত্তর ডট কম চেয়ারম্যান , পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন লি:
৬৪ জেলার নিয়ন্ত্রণে ৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী
৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, নিজস্ব তথ্য প্রমাণ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মতামত এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় খুবই নিখুঁতভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজের শত্রু এ সব মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে দিনরাত কাজ করছে। অভিযানে গুলি বিনিময়কালে প্রায় প্রতিদিনই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা নিহত হচ্ছে। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে গুলি বিনিময়কালে গতকাল শনিবার পর্যন্ত মারা গেছে ১৩৪ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয় ৩৩ জন, পুলিশের অভিযানে ১০১ জন নিহত হয়েছে। গত ৪ মে র‌্যাব মাদক নির্মূল অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে পুলিশের অভিযান শুরু হয় পয়লা রজমান থেকে। ৩৬০০ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ঢাকা নিয়ন্ত্রণকারী হলেন ৫০ জন। এদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন রাজধানীর ৫০ জনের অধীনস্থ রয়েছে এলাকাভিত্তিক ১৩৮৪ জন মাদক ব্যবসায়ী। এ তালিকা মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। এ তালিকা ধরেই রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। টেকনাফ থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকার এ শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর কাছে আসে। পরে তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে যায়। তারা বিভিন্ন জেলায় চাহিদা অনুযায়ী ইয়াবা সরবরাহ করেন। এ দিকে র‌্যাব এ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে ৮৩৮টি। এতে গ্রেফতার করা হয়েছে ১০২৬ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সারাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। নিজস্ব তথ্য প্রমাণের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৬০০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। অভিযান যাতে কোনো ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য খুবই সতর্ক রয়েছে র‌্যাব। এ দিকে অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তা তৎপর। যারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত উেকাচ গ্রহণ করতো; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সেসব অসাধু কর্মকর্তা এখন অভিযান ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অপরদিকে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি ঘরোয়া কর্মকর্তারা অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ন করতে তৎপর রয়েছে। কোনো কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এ সংস্থার পক্ষ থেকে ঘুষখোর কর্মকর্তা ও সরকারবিরোধী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাঁস হয়ে গেছে মাদক কারবারীদের নামের তালিকা। মাদক কারবারীর তালিকা ফাঁস করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক কানেকশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ, অসত্ কর্মকর্তা। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। মাদকের ব্যবসা করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে উৎকোচ দিতেই হয়। তবে এ উৎকোচের পরিমাণ জনপ্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় প্রশাসন, রেঞ্জ, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, গোয়েন্দা বিভাগ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তার নিয়মিত উেকাচ গ্রহণের ফলেই দেশব্যাপী মাদকের দ্রুত বিস্তার ঘটেছে, যা থেকে প্রতি মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিচ থেকে অনেক উপরে যায়; যা কাঁচা টাকা হিসেবে পরিচিত। এখন অভিযানের কারণে ওই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। অতীতে বিভিন্ন সময় অভিযান হলেও কখনো মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এত কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান হয়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধ ,রায়ের অপেক্ষায় আরও ২ মামলা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা আরও ২টি মামলা এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল সম্প্রতি মামলাগুলোর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষামন (সিএভি) রেখে আদেশ দেয়। এর মধ্যে একটি মামলায় গত ৩০ মে পটুয়াখালীর ৫ আসামীর বিষয়ে যুক্তিতর্ক শেষে যেকোনো দিন রায় (সিএভি) ঘোষণা করবে বলে আদেশ দেয়া হয়। এটি হবে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৪তম রায়। এর আগে গত ২০১৭ সালের ৮ মার্চ এই আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামীদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি পেশ করে শুনানি করে প্রসিকিউশন। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা জারির পর ৫ জনকেই গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিুযদ্ধকালীন হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৩তম রায় ঘোষণাও অপেক্ষায় রয়েছে। এই মামলায় মৌলভীবাজারের রাজানগর উপজেলার সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক আকমল আলী তালুকদারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৭ মার্চ যে কোন দিন রায় ঘোষণার (সিএভি) জন্য রাখা হয়েছে। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) হাজির ছিলেন। বাকি ৩ আসামি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া পলাতক। প্রসিকিউটর সায়েদুল হক সুমন জানান, শিগগিরই এ মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে তিনি আশাবাদী। মানবতাবিরোধী অপরাধে এই পর্যন্ত ৬৩ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত টিম তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এর মধ্যে ৩৩ মামলার বিচার শেষ হয়েছে। ৩২ টির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ২ টি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল সুপ্রিমকোর্টে নিস্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
নারীর মাতৃত্ব হোক নিরাপদ
২৮মে (সোমবার) বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। নারীর সুস্থ স্বাভাবিক মাতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ২৮মে থেকে এই দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৭ সালের ২৮মে শ্রীলংকার এক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই দিবসটিকে বাংলাদেশেও পালনের ঘোষণা দেন। তখন থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। নারী পূর্ণতা পায় মাতৃত্বে। প্রতিটি মায়ের জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব লাভ হচ্ছে তাদের অধিকার। এটা গর্ভবতী নারীর সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। একজন মায়ের গর্ভকালীন সুস্থ্যতাই পারে একটি সুস্থ শিশু জন্ম দিতে। কিন্তু নারী মাতৃত্ব গ্রহণের ক্ষমতা রাখলেও নিরাপদ মাতৃত্বের দায়ভার নারীর একার নয়। মূলত নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়গুলোর আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে নারী থাকলেও এর পরিধি জুড়ে থাকে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ধর্ম তথা একটি রাষ্ট্র। সন্তান ধারণ বিষয়টিকে নারীর ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দেখা যায় দরিদ্র পরিবারে গর্ভবতীর প্রতি বিশেষ যতœ ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নেওয়া হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় কবিরাজ, পানিপড়াসহ বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার রীতি-নীতির মধ্যেই গর্ভবতীর চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এভাবে পারিবারিক অসচেতনতা, ভুল চিকিৎসা, দারিদ্র, অশিক্ষা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পরিবারের পুরুষের অবহেলা ইত্যাদি কারণে নারীরা যথাযথ মাতৃসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ পরিমিত যতেœর সুযোগ পেলে এবং চিকিৎসা পেলে সুস্থ শিশু জন্ম দেওয়া সম্ভব এবং মাতৃস্বাস্থ্যে ঝুঁকির হার কমে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রোগ ও দাওয়া দুটিই পাঠিয়েছেন এবং প্রতিটি রোগেরই ওষুধ পাঠিয়েছেন, সুতরাং তোমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করো।’ (মিশকাত ও আবু দাউদ) গর্ভবতী মায়ের পর্যাপ্ত খাবার একটা সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে গর্ভধারনের শেষের তিন-চার মাস থেকে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন খুবই বেশি। তাই সুস্থ সবল শিশু পেতে হলে গর্ভবস্থায় মাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। খাদ্যের বেলায় আর্থিক সংগতি যতটা দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী কুসংস্কার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “সন্তানের বাবার দায়িত্ব হলো মায়ের খাওয়া-পরার উত্তম ব্যবস্থা করা।”(সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৩৩) নারী মাতৃত্ব গ্রহণের পর দেখা যায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বিশেষত ১৮ বছরের নিচে বিবাহিত মেয়েদের। যার ফলে নারী ও শিশু মৃত্যু হার বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে বলে বাংলাদেশ সরকার বাহবা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর মধ্যে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে বিধান রেখে নিরাপদ মাতৃত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলায় সমালোচিত হচ্ছে। মেয়ে শিশু অল্প বয়সে বিয়ে ও দ্রুত সন্তান হওয়ার কারণে তার শারীরিক সুস্থতা নানা হুমকির মধ্যে পড়ছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ১৯ ধারায় উল্লেখ আছে, ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে আদালতের নির্দেশ ও মা-বাবার সম্মতিতে অনুষ্ঠিত বিয়ে বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারন এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আদালত ও পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’ তাবে ১৮ বছরের নিচে কত বছরে বিয়ে হতে পারবে তা এই খসড়া আইনে নির্দিষ্ট করে বলা নেই। যার ফলে দেখা যাচ্ছে নারী নির্যাতন, মাতৃমৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস শুধু দিবস হিসেবে পালন নয় একে সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখে নারীর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ মাতৃত্ব, নারীর অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, সেই সাথে কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, অনিরাপদ মাতৃত্বের ত্রুটিসমূহ দূর করে নারীর নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সকলের কর্তব্য।