দুখু মিয়ার কবিতাই হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ছন্দ
বহু দশক ধরে কাজী নজরুল ইমলামের কবিতাই হয়ে উঠেছে বাংলা ভাষায় বিদ্রোহ আর প্রতিবাদের ছন্দ। মানুষের কাছে কাজী নজরুল এভাবেই সমাদৃত। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি, কিন্তু সমানভাবে সমাদৃত ভারতসহ গোটা বিশ্বে। কিন্তু তাঁর জন্মভিটার গ্রাম চুরুলিয়াতে কীভাবে বেঁচে আছেন দুখু মিয়া? সেখানকার সাধারণ মানুষ, আর ওই গ্রামে বাস করেন তাঁর যেসব উত্তরপুরুষ, তারা কীভাবে ধরে রেখেছেন নজরুল ঐতিহ্য? আসানসোল শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে চুরুলিয়া। গ্রামে যাওয়ার পথে দূর থেকেই চোখে পড়ে বেশ কিছু টিলা। আর মাটির নীচে প্রায় সর্বত্রই কয়লা। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান কয়লাখনি অঞ্চল এটি। আঠারোশ নিরানব্বই সালে যখন চুরুলিয়া গ্রামেরই কাজী ফকির আহমেদের ঘরে জন্ম নেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র, তার কয়েক বছর পরেই কাছের অজয় নদের ওপারে, ঘণ্টা কয়েকের রাস্তা পেরিয়ে শান্তিনিকেতনে আশ্রম গড়ায় মন দিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি তখন সাহিত্য কীর্তির প্রায় মধ্য গগনে। ১১ই জ্যৈষ্ঠ তাঁর জন্মক্ষণে উঠেছিল ঝঞ্ঝা তুফান ঘোর, উড়ে গিয়েছিল ঘরের ছাদ ও ভেঙেছিল গৃহদ্বার নিজের জন্মের সময়কার কথা এভাবেই কবিতায় জানিয়ে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। সেই খড়ে ছাওয়া মাটির জন্ম ভিটে আর নেই। সেই জায়গায় তৈরি হয়েছে নজরুল একাডেমীর পাকা বাড়ি। তবে মাটির বাড়িটির একটিই মাত্র ছবি রয়ে গেছে নজরুল একাডেমীর সংগ্রহশালায়। কবির ছোট ভাই কাজী আলি হোসেনের পুত্র কাজী রেজাউল করিম সেই ছবিটা দেখাচ্ছিলেন। ১৯৫৬ সালে এই মাটির বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেখানেই এখন নজরুল একাডেমীর দোতলা বাড়ি হয়েছে। মাটির বাড়িটা ভাঙ্গার আগেই আমরা একটা ছবি তুলিয়ে রেখেছিলাম। তাই কেমন ছিল কবির জন্মভিটা, সেটা এখনও দেখা যাচ্ছে। ছবিটা না তুলে রাখলে হারিয়েই যেত ওই বাড়িটা- বলছিলেন মি. করিম। তার স্ত্রী রোকেয়া করিমের পৈত্রিক বাড়ি কবির বাড়ির একেবারে উল্টোদিকে। নজরুল ইসলামের ছোটবেলার কথা অনেক শুনেছেন নিজের বাবার কাছে। তাঁর কথায়, আমরা যখন কবিকে দেখেছি, তখন তিনি নির্বাক, অসুস্থ। তিনি আর আমার বাবা তিন বছরের ছোট বড়, তারা বাল্যবন্ধু। কবির ছোটবেলার বহু গল্প শুনেছি বাবার কাছে। জন্মের পরে তিনদিন নাকি তিনি কোনও সাড়াশব্দ করেন নি। সবাই তো ভেবেছিল এ ছেলে বাঁচবে না। তবে গ্রামে এক সাধক ছিলেন। তিনি কবিকে জন্মের পরে দেখেই বলেছিলেন এ মহাপুরুষ হবে। ছোটবেলায় খুব দুরন্তও নাকি ছিলেন কবি। বড় হয়েও সেটা কাটে নি - কিছুটা অভাবের তাড়নায়, কিছুটা স্বেচ্ছায় তিনি দৌড়ে বেরিয়েছেন। কখনও রুটির দোকানে কাজ নিয়েছেন, কখনও মক্তবে শিক্ষকতা বা ইমামতী করেছেন, আবার তার পরে সেনাবাহিনীতে গেছেন। ছোটবেলায় নজরুল ইসলামের নাম ছিল দুখু মিয়া। একটু বড় হতেই বাড়ির সামনের মক্তবেই শুরু হয়েছিল পড়াশোনা। সেই বিদ্যালয় এখন চুরুলিয়া নজরুল বিদ্যাপীঠ। বড় দোতলা বাড়ি। সামনের মাঠে প্রতিবছর কবির জন্মদিনে শুরু হয় সপ্তাহ ব্যাপী নজরুল মেলা। সেটাই গ্রামের প্রধান উৎসব হয়ে উঠেছে বেশ অনেক বছর ধরে। ওই মাঠের ধারেই সমাধিক্ষেত্র। কবি- প্রমীলা দেবীর সমাধির পাশেই রয়েছে ঢাকায় কবির সমাধি থেকে কবি-পুত্র কাজি সব্যসাচী যে মাটি নিয়ে এসেছিলেন, তা দিয়ে তৈরি বেদী। সেই পুরনো মক্তবটির একটি ছবি রাখা আছে নজরুল সংগ্রহশালায়। একাডেমীর পরিচালক রেজাউল করিম বলছিলেন, আগে ওই বিদ্যালয়ের নাম ছিল নজরুল মুসলিম বিদ্যাপীঠ। আমরা গ্রামের মানুষদের ডেকে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে নজরুলের মতো একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষের নামে স্কুল, সেখানে কেন মুসলিম কথাটা থাকবে? অধিকাংশ মানুষ সেটা মেনে নিয়েছিল। সেই থেকেই স্কুলটার নাম নজরুল বিদ্যাপীঠ। বাবার হঠাৎ মৃত্যুর পরে ছেদ পড়েছিল পড়াশোনায়। তখন ওই মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন নজরুল ইসলাম। ততদিনে তাঁর চাচা বজলে করিমের উৎসাহে শুরু হয়েছে গান রচনা। আর সেই সূত্রেই লেটো গানের দলের যোগ দেওয়া। কবির সম্পর্কে নাতি ও সঙ্গীতশিল্পী সুবর্ণ কাজির কথায়, নজরুলের সময়কার সেই লেটো গান বা লেটোর দল এখন আর এই অঞ্চলে পাওয়া যায় না। বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে সেগুলো। তবে নজরুলেরই রচনায় এখনও বেচে আছে কিছু লেটো গান। সুবর্ণ কাজি গেয়ে শোনালেন নজরুলের লেখা লেটো গান 'রব না কৈলাশপুরে, আই অ্যাম ক্যালকাটা গোয়িং'। নজরুলের লেখা আরও একটি লেটো গান 'আয় পাষণ্ড যুদ্ধ দে তুই' শোনাচ্ছিলেন রেজাউল করিমের কন্যা সোনালি কাজি। গ্রাম ছেড়ে অল্প বয়সেই নজরুল ইসলাম পাড়ি দিয়েছিলেন কাছের আসানসোল শহরে। কাজ নিয়েছিলেন একটি পাউরুটির কারখানায়। মানুষ আর গাড়ির ভিড়ে ঠাসা আসানসোল বাজারে কয়েকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে খুঁজে পেয়েছিলাম মেহের আলি বক্সের সেই বেকারি। তারই উত্তরাধিকারী যুবক শেখ আসিফ ওসমান বলছিলেন, তাদের পরিবার সেই ১৮৮০ সাল থেকেই দোকানটি চালায়। তিনি বলছিলেন নজরুল ইসলাম যখনও কবি নজরুল হয়ে ওঠেন নি, সেই সময়ে হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন তাঁদের পাউরুটির কারখানায়। উনি যখন এখানে হিসাব রাখার কাজ করতেন, সেই সময়ে আমার দাদুর বাবা দোকানটা চালাতেন। তিনি যে চেয়ার টেবিলে বসে হিসাব লিখতেন, সেটা এখনও আমাদের বাড়িতে রাখা আছে। দু'একদিন অন্তরই কেউ না কেউ আমাদের দোকানে নজরুল ইসলামের খোঁজে আসেন। কেউ বাংলাদেশ থেকে, কেউ কলকাতা থেকে আসেন এম. এ. বক্সের দোকানে। আমাদের গর্ব এটাই যে আমাদের এই দোকানের সঙ্গে নজরুল ইসলামের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, বলছিলেন মি. ওসমান। কাজ ছেড়ে দিয়ে আবারও পড়াশোনা রাণীগঞ্জ শহরের স্কুলে। পড়াশোনার শেষে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। নজরুল ইসলাম পরিবারের গৃহবধূ রোকেয়া করিম জানান তারপরে আর খুব একটা গ্রামে আসেন নি কবি। কলকাতায় তাঁর সাহিত্যচর্চা থেকে শুরু করে বিবাহ এবং অবশেষে অসুস্থ হয়ে পড়ার যে জীবন, তা হয়তো চুরুলিয়া থেকে অনেকটা দূরে, তবে চুরুলিয়ার মানুষের মনের খুব কাছের। কবির সেই জীবনের নানা দিক নিজেদের মতো করে সাজিয়ে রেখেছে নজরুল একাডেমী।যেমন আছে নজরুল ইসলামের পরিচিত-অপরিচিত অনেক ছবি, পদক, তেমনই আছে ধুতি পাঞ্জাবী, পাণ্ডুলিপি, গ্রামোফোন। আমরা এগুলো সব কলকাতা থেকে নিয়ে এসে সাজিয়ে রেখেছি ঠিকই। কিন্তু কতদিন রাখা যাবে, সেটাই বড় চিন্তা। যেমন এই পাণ্ডুলিপিগুলো। কাগজগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চেয়েছিলাম সরকার এই সংগ্রহশালা অধিগ্রহণ করুক। আশ্বাস পেয়েছি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে যে তারা এই সংগ্রহশালা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে, জানালেন রেজাউল করিম। তবে নিজেদের গ্রামের কবি নজরুল ইসলামকে নিয়ে গর্ব চুরুলিয়ার মানুষেরও কোনও অংশে কম না। বছরভর নজরুল একাডেমীর কোনও না কোনও অনুষ্ঠানে যেমন গ্রামের মানুষই এগিয়ে আসেন, তেমনই মূল অনুষ্ঠান - ১১ই জ্যৈষ্ঠ থেকে প্রতিবছর যে নজরুল মেলা হয়, তাতেও মেতে ওঠে গোটা চুরুলিয়া গ্রাম। একাডেমীর পরিচালক রেজাউল করিমের কথায়,গ্রামের যে শিক্ষিত অংশ, তাদের বেশীরভাগই এখন শহরে চলে গেছেন। চুরুলিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকজন গবেষণাও করেছেন নজরুলকে নিয়ে। তারা নিজেদের মতো করে নজরুল চর্চা করেন। আর রইল গ্রামের মানুষ। তাদের না আছে অর্থবল, না আছে বিশেষ লেখাপড়া। তারা অবশ্য নজরুল মেলা বা একাডেমীর সব কাজে কর্মে এগিয়ে আসে - পরিশ্রম করে। এভাবেই নিজেদের গ্রামের কবির প্রতি সম্মান জানায় তারা। কীভাবে চুরুলিয়া গ্রামের মানুষ নজরুলের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, সেটা জানতে চেয়েছিলাম একাডেমীর সামনেই বিকেলের আড্ডা দিতে জড়ো হওয়া কয়েকজনের কাছে। তাঁদেরই একজন, বাগবুল ইসলাম বলছিলেন, আমাদের গ্রামের কবি নজরুলের প্রতিভার কথা তো আর নতুন করে প্রচার করার কিছু নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে তাঁর আদর্শের কথা আরও বেশী করে তুলে ধরা যায়, সেই চেষ্টাই করি। আমাদের যতটুকু জ্ঞানগম্যি, তার মধ্যেই সাধ্যমতো চেষ্টা করি আর কি। এখন চারদিকে যা পরিস্থিতি, তার মধ্যে নজরুলের বাণীই আরও বেশী করে প্রচার করা উচিত - বিশেষ করে আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান - এধরণের লেখা বা কবিতাগুলো, বলছিলেন গ্রামেরই মধ্যবয়সী রাজিবুল হক। লটারির টিকিট বিক্রি করতে নানা জায়গায় ঘোরেন মজনু মোল্লা। তিনি বলছিলেন, লটারির টিকিট বিক্রি করতে বহু জায়গায় ঘুরতে হয়। কেউ কেউ জানতে চায় আমার বাড়ি কোন গ্রামে। যখন বলি যে চুরুলিয়া, তখনই লোকে বলে বাবা! সে তো নজরুলের গ্রাম! গর্ব হয় তখন। চুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ যেমন স্বাভাবিক ভাবেই গর্বিত নিজেদের নজরুল ইসলামের গ্রামের মানুষ বলে পরিচয় দিতে, তেমনই গর্ব অনুভব করেন নজরুল ইসলাম পরিবারে বিবাহসূত্রে আসা একেবারে নবীন প্রজন্মের সদস্যরাও। সম্পর্কে নজরুল ইসলামের প্রপৌত্র-বধূ শাহনাজ পারভিন। কখনও তো ভাবি নি যে স্কুলে ছোটবেলা থেকে যার কবিতা পড়ে, গান গেয়ে বড় হয়েছি, সেই পরিবারেই বিয়ে হবে। যখন ঠিক হল বিয়েটা, তখন একটা অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল যেটা বলে বোঝানো যাবে না, বলছিলেন মিসেস পারভিন। গর্ব যেমন আছে, তেমনই রয়েছে অনুযোগও - অথবা বলা যায় নজরুল ইসলাম পরিবার বা তাঁর গ্রামের মানুষের দাবী। তাঁরা চান চুরুলিয়াতে তৈরি হোক নিয়মিত সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। তা হতে পারে কাছের আসানসোলে সদ্য গড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বিভাগকে এই গ্রামের স্থানান্তরিত করা বা অন্য কোনও ভাবে। আর প্রয়োজন নজরুল সংগ্রহশালাটি অধিগ্রহণ করে কবির স্মৃতিগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। একই সঙ্গে কাছের অজয় নদের ওপরে যদি একটি সেতু গড়া যায়, তাহলে শান্তিনিকেতনে যাতায়াতের পথ অতি সুগম হয়ে যাবে - পর্যটকরাও একই সঙ্গে ঘুরে যেতে পারবেন বাংলাভাষার দুই মহান স্রষ্টার কর্মকেন্দ্র আর জন্মভিটায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ
উত্তাল মার্চের সপ্তম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর ভাষণের সেই ঐতিহাসিক দিন। দিনটি বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও গৌরবের। বীর বাঙালি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কোর তৈরি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ইউনেস্কোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য স্মরণিকা হিসেবে নির্বাচনের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ওই ভাষণ কার্যকরভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এজন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মানুষকে উদ্দেশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাড়া দেয়া জনতার কাছে বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ছিল শতভাগ প্রত্যাশিত। ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেও ঘোষণার মর্মার্থ বুঝতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী খানিক দ্বিধায় পড়ে। তবে নতুন দেশের স্বপ্নে বিভোর বাঙালি জাতি ঠিকই বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, এরপর যদি একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। ... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। ওইদিন একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর এই ১৯ মিনিটের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ অফুরান অনুপ্রেরণার উৎস। একাত্তরের এই ঐতিহাসিক দিনে কেবল বঙ্গবন্ধুর তরফেই নয়, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির প্রচারপত্রে আহ্বান জানানো হয়-আঘাত হানো সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করো জনতার স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করো। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মুজাফফর) পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ পালন করতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আবার মুখোমুখি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল , টান টান উত্তেজনা
আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে টান টান উত্তেজনা চলছে। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে নাকি তিনি খালাস পাবেন, আর সাজা হলে কেমন হবে পরিস্থিতি তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা আছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর আবার মুখোমুখি দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠ দখলে মরিয়া উভয় দল। পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি চলছে দুই পক্ষেই। রায় নেতিবাচক হলে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর রাজপথে কোনো ধরনের সহিংসতা করতে না দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ওইদিন গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছে সরকারি দল। যে কোন অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধারণা, দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখতেই সরকার এ পথে হাঁটছে বলে তারা মনে করে। সে কারণে রায় নেতিবাচক হলেই আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কার পরামর্শে দল চলবে সেসব সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই গুলশান বিএনপি নেত্রীর বাড়ি থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত খালেদা জিয়া যে পথ দিয়ে আদালতে যাবেন সে পথে মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা ঢাকার শক্তি জানান দেবেন। তবে কোনো ধরনের উসকানি দেবে না তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে বলে মনে করেন তারা। সে কারণে ওইদিন রাজপথে বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা করতে পারে বলে তাদের কাছে খবর আছে। তাই ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। তারা পরিস্থিতির আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর সকল থানাসহ এবং সারাদেশে পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সব ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। কোনো নাশকতা ও নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। এদেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। এদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দল বৈঠক করে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংগঠনের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা সতর্ক থাকবে। শুধু ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে তারা রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজ গুলিস্তানের দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। একইভাবে আজ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা থেকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কারা কোথায় এবং কীভাবে অবস্থান করবেন সেটা নির্দেশনা দেওয়া হবে। রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা হচ্ছে, বকশীবাজারের আদালত থেকে কোন দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। নানা আলোচনা। নানা মত। খালেদা জিয়া খালাস পেলে বিকল্পের আলোচনা নেই। তিনি সোজা গুলশানে যেতে পারবেন। অন্য কোথাও যাওয়াও তারই মর্জি। রায় বিপক্ষে গেলে গন্তব্য কোন দিকে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় সাধারণত কারও দণ্ড হলে কারাগারে না গিয়ে আপিলের সুযোগ নেই। তৃণমূল অবশ্য খালেদা জিয়ার বিপক্ষে রায় গেলে হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার বাইরের নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জ্বালাও পোড়াও করা শুরু করে তাহলে স্থানীয় জনগণ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে রাজপথে সহিংসতা করতে দেবে না তারা। মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর সুযোগ দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল।
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। ১৯৫২ সালের এ দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৯) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাই এ দিন শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। বঙ্গীয় সমাজে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়ে বাঙালি মুসলমানের আত্ম-অন্বেষায় যে ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে। ওই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জববার ও আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাদিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারিগানের করুণ সুর বাজতে থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এর পক্ষ থেকে দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচী।
শনিবার বেলা ৩ ঘটিকায় মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিটির পক্ষ হইতে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। উক্ত চাল বিতরণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথী ও উদ্ভোদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম, বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ লোকমান আলী চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম জেলা, এম.এ নুরনবী চৌধুরী চেয়ারম্যান উত্তর জেলা ও মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন কাদের চেয়ারম্যান মহানগর কমিটি, এতে সার্বিক সহোযোগীতায় ছিলেন ফয়সাল হাসান মহাসচীব চট্টগ্রাম জেলা ও মৃদুল মজুমদার মহাসচীব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ এম.এ হক চৌধুরী রানা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম জেলা, মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান পাহাড়তলী থানা কমিটি, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ চেয়ারম্যান আকবরশাহ্ থানা কমিটি, মোহাম্মদ তসলিম কাদের চৌধুরী সাংঘঠনিক সচীব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি, সাইফুল ইসলাম যুগ্ন মহাসচিব চট্টগ্রাম জেলা, বিজয় রঞ্জন পাল প্রচার ও প্রকাশনা সচিব চট্টগ্রাম জেলা, নেহার কন্তি দাশ সমাজ কল্যান সচিব চট্টগ্রাম জেলা, মোহাম্মদ শাহ আলম, বিশ্বজীত, মোহাম্মদ করিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথী ভারপ্রাপ্ত নিছার উদ্দিন আহম্মদ মঞ্জ বলেন উক্ত সংঘটন অসহায় ও দরিদ্রদের কল্যানে নিরর্দিধায় কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সামাজিক কর্মকান্ডে আমি সুন্তুষ্ট, আশাকরি উক্ত সংঘঠন সকল মানুষের কল্যানে ও অধিকার আদায়ে আরো অধিক ভূমিকা রাখবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ
হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে গাড়ি না চালানোর আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ৫ নভেম্বর সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার আগে গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৩ আগস্ট আগের রিটের শুনানি শেষে রুল জারিসহ রাজধানীতে চলাচলকারী সব যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ, ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে সেই গাড়ি জব্দ এবং হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি বন্ধ করে বাজারে এখনও যেসব হর্ন রয়েছে, তা জব্দের নির্দেশ দেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।