সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০
জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত
২৬ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সপ্তাহিক দিন গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন,সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে (মুসলিম, হাদিস: ১৮৬১)। তার মানে দুনিয়াতে মানুষের আগমন ঘটেছিল এই জুমার দিনেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন,জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে,সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি,হাদিস : ৬৪০০)। উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে,জুমার দিনের বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে,যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সব দোয়া কবুল করেন। কিন্তু জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি কোনটি-তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ঃ আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি,তিনি বলেন,আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি,তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ,হাদিস: ১০৪৯)। আসরের শেষ সময় ঃ অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসুল (সা.) বলেছেন,জুমার দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে,তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ.)-কে এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। এই দিনই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন এবং এই দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এই দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো অভাব পূরণের জন্য দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কাআব (রা.) বলেন,এই সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,না,বরং প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর কাআব (রা.) (এর প্রমাণে) তাওরাব পাঠ করে বলেন,রাসুল (সা.) সত্যই বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাআব (রা.) ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন,আমি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন,যেকোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে। কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামাজ আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,রাসুল (সা.) কি বলেননি,যে ব্যক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত নামাজরত বলে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা বলেন,আমি বলালাম,হ্যাঁ। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,তা এরুপই। (আবু দাউদ,হাদিস : ১০৪৬)। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব
২১ডিসেম্বর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: পৌষের শুরুতেই জেঁকে বসেছে শীত। হিমশীতল কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে দেশ,কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত। শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে বেশ কষ্ট পাচ্ছে। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছে না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে করুণ দশা অনেকের। দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য শীতকাল বড়ো কষ্টের। খাবারের চেয়েও তাদের শীত নিবারণ এখন অতীব প্রয়োজন। শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার ন্যূনতম ব্যবস্থা ও তাদের নেই। যদিও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাপানো শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিত্তবানদের অনেকেই ঘরের বাইরে বের হন না। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড ঠান্ডায় ও ঘরের বাইরে যেতে হয়। তীব্র শীতে বিশেষ করে শিশু,বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় অবস্থায় পৌছায়। এ সময় বেড়ে যায় জ্বর,শ্বাসকষ্ঠ,সর্দি,কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ। ফুটপাত এবং খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের কষ্ঠের সীমা থাকে না। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। গরিব-দুস্থরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ হিসেবে বেচেঁ থাকার মৌলিক অধিকারগুলো তাদের ও প্রাপ্য। আসুন আমরা মানবিক মূল্যবোধ থেকে মিলেমিশে ফুটপাতে বা খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী অসহায় মানুষের শীত নিবারণে হাত বাড়িয়ে দেই।লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনের সর্বোচ্চ এক গৌরবের দিন
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের দিন। এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের দিন। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙ্গালি জাতি থাকবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ থাকবে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রুপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি, শুরু করে গণহত্যা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার সপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে বর্বর গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারীনির্যাতন, ধর্ষণ, শহরের পর শহর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস ও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারীসহ সব শ্রেনী-পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। এই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী ভারত। অস্ত্র, সৈন্য, খাদ্য, আশ্রয়সহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি
১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।
১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে ১৬ টাকায় মোবাইল ফোন
০১ডিসেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাত্র ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার সুযোগ দিচ্ছে ই-কমার্স ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস ইভ্যালি। ইভ্যালির স্মার্টফোন ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অর্ডার করলেই প্রথম তিন হাজার গ্রাহক পাবেন ১৬ টাকায় ফিচার ফোন কেনার এই সুযোগ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ইভ্যালির প্রথম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় এই অফারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অফারের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী শনিবার (৭ ডিসেম্বর) গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এই অফার। সফলভাবে অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রথম তিন হাজার গ্রাহককে ১৬ টাকার বিনিময়ে দেয়া হবে ওয়ালটন অলভিও এমএম২১ মডেলের মোবাইল সেট। এ অফারে মোবাইল কিনতে হলে পুরনো বা নতুন গ্রাহক হওয়ার কোনোদিকের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন বা পুরনো উভয় ধরনের তিন হাজার গ্রাহকই পাবেন এই সুযোগ। তবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ একটি (মোবাইল) কিনতে পারবেন মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে। এ ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল নিউজ একাত্তরকে বলেন, প্রথম বর্ষ পূর্তি উদযাপন এবং দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণ আগামী ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির ইতিহাসের জন্যও এ দিনটি বেশ গুরত্বপূর্ণ। মূলত এসব বিষয়কে সামনে রেখেই গ্রাহকদের জন্য আমাদের এই অফার। তিনি বলেন, অফার শুরুর আগেই এবারও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। প্রথমে আমাদের পরিকল্পনা ছিল দুই হাজার গ্রাহককে এই অফারের আওতায় মোবাইল ফোন দেয়া হবে। কিন্তু ঘোষণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই গ্রাহকেরা যে সাড়া দিয়ে আসছেন এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাতে আমরা সদস্য সংখ্যা বাডিয়ে তিন হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রনে সু-দৃষ্টি দিন
২৪নভেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে তথ্য-আদান প্রদানের অন্য যে কোন মাধ্যমের তুলনায় অধিক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মোট ব্যবহারকারীর তরুনদের সংখ্যাই বেশি। এতে পুথিবীর যে কোন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ হওয়ার সাঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। আর ব্যবহারকারীরা তা দেখার পাশাপাশি তাদের মতামত দিতে পারছেন। প্রথমেই প্রশ্ন আসে কতটুকু সহায়তা বা উপকৃত হওয়া যাবে?এই মাধ্যমগুলো থেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেটভিত্তিক আ্যাপ্লিকেশনগুলোর একটি গ্রুফ। এটি ওয়েব ২.০ এর আদর্শ ও প্রযুক্তিগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ব্যবহারকারীরা তাদের তৈরি করা কনটেন্ট বিনিময় করে থাকে। এখানে সমস্যা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীরাই কনটেন্ট তেরি করছেন এবং তা শেয়ার করছেন। এটি অনেক সময় খুবই বিপদজ্জনক। প্রসঙ্গত ফেলে আসা ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে দেখেছি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভোলার বোরহানউদ্দিনে ও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখছি। নিয়ন্ত্রনের দিক দেখলে বলা যেতে পারে ব্যবহারকারীরা নিয়ন্ত্রনের মধ্যেই নেই। অনেক সময় দেখা যায় যাচাই-বাচাইয়ের বিষয়টি ও নেই। অনেকাংশে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই কনটেন্ট তৈরি করছেন এবং তা শেয়ার করছেন। এই কনটেন্ট সঙ্গে সঙ্গে থামানো অনেক সময় প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে প্রতিক্রিয়া,তা নিয়ন্ত্রনে আমরা এখনো অভ্যস্ত হইনি। তথ্যটি গুজব,নাকি সত্য-তা যাচাই করার ক্ষমতা আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। এর প্রদান কারন কোনো তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে কোনো ধরনের যাচাই-বাচাই না করে আমরা তা গ্রহন করছি নিজের মতো করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম। ভালো-মন্দ মানুষ নিয়েই এই পৃথিবী। তাই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যেও কিছু মানুষ রয়েছে যারা খারাপ মনমানসিকতা নিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে। এই ধরনের মানুষগুলো নানান পন্থায় হ্যাক করছে অন্যজনের একাউন্ট ও। অসংখ্য নিরাপরাদ বাংলাদেশি কতিপয় এবং খারাপ স্বাভাব চরিত্রের মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত মানমর্যদা হারাচ্ছে। তাই মাননীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাব,উক্ত বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর সুরক্ষা প্রদানে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।লেখক: মো: ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক: ই-প্রিয়২৪,(ছাত্র)।
সার্ভার ত্রুটিতে ঝুঁকির মুখে ১২০ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য
২৪নভেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি গুগল ক্লাউড সার্ভারে ১২০ কোটি ব্যবহারকারীর ৪০০ কোটি তথ্য অরক্ষিত অবস্থায় পেয়েছেন দুজন সিকিউরিটি গবেষক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ব্যক্তিগত এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, চাকরির পদ, ইমেইল অ্যাড্রেস, ফোন নম্বর ও অবস্থান। এর মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ফোন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা রয়েছে ৬২২ মিলিয়ন। কিছু তথ্য লিঙ্কডইন, ফেইসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান গবেষকরা। গবেষণার এ ফলাফল পাওয়া যায় গত অক্টোরে। নাইট লায়ন কোম্পানির সিইও ও ডার্ক ওয়েব গবেষক ভেনি ট্রোয়া এবং বব ডিয়াচেনকো সার্ভারটি শনাক্ত করেন। তিনি জানান, সার্ভারে থাকা বেশির ভাগ তথ্য নেওয়া হয়েছে পিপল ডেটা ল্যাবস ও অক্সিডেটা নামের দুটি কোম্পানির কাছ থেকে। পিপল ডেটা ল্যাবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, সার্ভার নির্মাতা তাদের এনরিচ মেন্ট প্রোডাক্ট নামের একটি সার্ভিস অন্য সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত করে চারটি ডেটাসেটের মাধ্যমে সার্ভারটি তৈরি করতে পারে। ডেটা যাদের সার্ভারে পাওয়া যাবে দায় দায়িত্ব তাদেরই। অনলাইনের বিভিন্ন সোর্স থেকে তারা তথ্যগুলো স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে। ট্রোয়া সার্ভারটির ব্যাপারে এফবিআইকে অবহিত করলে তারা সেটি সরিয়ে নেয়। কারা সার্ভারটি তৈরি করেছে তা জানা যায়নি। সার্ভারটির আইপি অ্যাড্রেস ছাড়া আর কোনো তথ্য জানা যায়নি। গুগলের ক্লাউড সার্ভারে ডেটাসেটটি পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে গুগলের কোনো সংযোগ নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। কে সার্ভারটি তৈরি করেছে বা কেন করেছে সে বিষয়ে গবেষকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।
যৌতুক মামলা মিথ্যা হলে কী করবেন পুরুষ
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বের অনেক দেশে কিছু বেসরকারি সংগঠন ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালন করে। রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। নারায়ণগঞ্জেও কর্মসূচি পালন করেছে এই সংগঠনটি, যাদের দাবি- বাংলাদেশে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হয়। তাদের দাবি- পুরুষরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা থাকা দরকার বলে তারা মনে করেন। খবর-বিবিসি বাংলা। সংগঠনের সভাপতি শেখ খায়রুল আলম গণমাধ্যমে বলেন, ৮০ শতাংশ পুরুষই নানাভাবে নির্যাতনের শিকার। বিশেষ করে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা তা বলতে পারেন না। এ ছাড়া মামলা বা প্রতারণার শিকার তো অনেকেই হচ্ছেন। সমাজ কি এড়িয়ে যাচ্ছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে কতটা হচ্ছেন তা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। তিনি বলেন, তবে পুরুষরা কেন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা আগে আমাদের জানতে হবে। নির্যাতনের শিকার হলে সেটি কি কারণে হচ্ছেন, তা খুঁজে বের করতে হবে। রংপুরে বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশন-এর আইনি পরামর্শক রিজওয়ানা আখতার শিরিন বলেন, সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকজন পুরুষকে পেয়েছেন যাদের নির্যাতিত বলেই তার কাছে মনে হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়া বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি ঘটনা পেয়েছি, যেখানে স্ত্রী পরকীয়া করতে গিয়ে স্বামীর টাকা-পয়সা নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে উল্টো নির্যাতন ও দেনমোহরের মামলা করেছেন। এমন নানা ধরনের ঘটনা আমরা এখন পাচ্ছি। এসব কারণেই আইনি সুরক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে পুরুষ অকারণে ভিকটিম না হন। মিথ্যা যৌতুক মামলা থেকে বাঁচতে কী করবেন: ১. মিথ্যা মামলা হলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। একজন ভালো আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। তিনি আপনাকে একটি ভালো পরামর্শ দেবেন। ২. নিম্নআদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন। ৩. মিথ্যা মামলায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে নিম্নআদালতে জামিন চাইতে হবে। জামিন না হলে পর্যায়ক্রমে উচ্চআদালতে আবেদন করতে হবে। ৪. আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন। ৫. অনেক সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। তাই আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে। ৬. যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর) হয়, তা হলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন। ৭.দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি পাল্টা মামলা করতে পারেন। ৮. মিথ্যা নালিশ আনয়নকারী সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ২৫০ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ করা যায়। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আমলযোগ্য নয় এ রকম কোনো মামলায় মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও এ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যায়।-বৈচিত্র নিউজ
বাংলাদেশের স্বাধিকার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাস
১৭নভেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জন্মস্থান টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাধিস্থ করা হয়।তার জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও ভাসানী জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর-যৌবন থেকেই জড়িত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন।দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন তিনি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধিকার-স্বাধীনতাসহ যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। এ কারণে পরিচিতি পান মজলুম জননেতা হিসেবে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মজলুম জননেতা ভাসানীকে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হবে আজ।