বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু আজ
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১৮ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়। প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগ এবং দুপুর আড়াইটা থেকে রাজশাহী বিভাগের সাক্ষাৎকার হবে। দলের মনোনয়ন বোর্ড এ সাক্ষাৎকার নেবে। বোর্ডে উপস্থিত রয়েছেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাক্ষাৎকারের সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগ, দুপুর আড়াইটায় খুলনা বিভাগ, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে বৃহত্তর কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগ, বুধবার সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিক্রি ও জমা শুরু হয় ১২ নভেম্বর, যা শেষ হয় শুক্রবার রাতে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতের সময় আবেদন ফরম জমাদানের রসিদ অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারবেন না। সমর্থকদের সঙ্গে করে আনলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, গুলশান কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এর আশপাশে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও আমন্ত্রিতরা ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না। শুধু মহানগর ও জেলাধীন নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতের সময় ওই মহানগর ও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্টবিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরাও উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, মোট ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। তবে জমার সংখ্যাটা পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে ৫ হাজার টাকায়। জমার সময় ফরমের সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে দিতে হয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের। চার দিনে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে বিএনপির আয় হয়েছে ২ কোটি টাকার ওপরে।
আগামী জাতীয় সংসদে হিজড়াদের আটটি আসন দাবি!
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদে তৃতীয় লিঙ্গের অন্তত আটজন প্রতিনিধি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হচ্ছে। সংরক্ষিত নারী কোটায় তাদের মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে বলে মত তাদের। আগামী সপ্তাহে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে হিজড়া ও যৌন সংখ্যালঘুদের সংগঠন কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন সিবিও। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সিবিওর সভাপতি ও চট্টগ্রামের সূর্যের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি ফাল্গুনী হিজড়া বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলছেন। তিনি নিজেও চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী। খুলনা বিভাগ থেকে সংগঠনের তালিকায় শীর্ষে ছিন্নমূল মানবকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি পাখি হিজড়া। ময়মনসিংহের তালিকায় আছেন সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি ময়ূরী হিজড়া, সিলেটে হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুন্দরী হিজড়া, রংপুরে ন্যায় অধিকারের সভাপতি নাদিরা হিজড়া, রাজশাহীতে দিনের আলো হিজড়া সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলি হিজড়া। এর বাইরে বরিশালে লিংকআপ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ও ঢাকার সচেতন সমাজসেবা হিজড়া সংঘের সভাপতির কথা তালিকায় রয়েছে। কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন সিবিওর সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, আটটি বিভাগে আমাদের এই সংগঠনের আটজনকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে নিতেই হবে। সংসদে আমাদের প্রতিনিধি থাকলে আমাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। সরক্ষিত নারী আসনের পদপ্রার্থী পাখি হিজড়া বলেন, আমরা সমাজে নানাভাবে বঞ্চিত। মহান জাতীয় সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে এত বড় একটি সম্প্রদায়ের জন্য কথা বলার সুযোগ হবে। আমরা অন্য লিঙ্গের মানুষের মতো সুন্দর পরিবেশে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। ময়ূরী হিজড়া বলেন, আমাদের ফোরাম থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। আশা করছি, আমাদের দাবি মোতাবেক আটটি বিভাগে একজন করে প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হবেন। চট্টগ্রামের ফাল্গুনী হিজড়া বলেন, সরকারপ্রধানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আরও যার যার সঙ্গে দরকার কথা বলব। সিবিওর তথ্যমতে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ হিজড়া রয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার।
৩শ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে আ-লীগ আজকালের মধ্যেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনে আজকালের মধ্যেই আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আজকালের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন দেবে আওয়ামী লীগ। এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো দলকে কত আসন দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত করা হবে। তবে শরীক দলের প্রার্থী যদি বিজয় নিশ্চিত করতে পারে তাহলে সেসব আসনও ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ। আজ শনিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেল আয়োজিত সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা জানান। সেতুমন্ত্রী বলেন, বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সংশয় সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সম্প্রতি নয়াপল্টনে তাদের সহিংস আচরণও ইঙ্গিত দেয় নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী হবে? এ সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে একটি সাম্প্রদায়িক জোট বলেও আখ্যা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এ জোটে বিএনপিও যোগ দিয়েছে। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে অংশ নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
আবার লড়াই কাদের-মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দৃষ্টি থাকবে সবার, তার মধ্যে নোয়াখালী-৫ একটি। এখানে লড়বেন দুই প্রধান দলের ডাকসাইটে প্রার্থীরা। একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অন্যজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। আসনটিতে দুই দলের অবস্থানই শক্তিশালী। মওদুদ একাধিকবার ভোটে লড়েছেন দুটি দল থেকেNtilde;বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। আর ওবায়দুল কাদের ১৯৯১ সাল থেকেই নৌকা নিয়ে লড়ছেন সেখানে। নব্বই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এই দুই নেতার প্রথম দেখা ১৯৯১ সালে। সেই থেকে মোট চারবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। দুবার করে জয় পেয়েছেন দুজনই। এবার একজনের এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। ওবায়দুল কাদের রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রজীবনে। ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। নেতৃত্বের একেকটি সিঁড়ি পেরিয়ে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে মওদুদ আহমেদ রাজনীতিতে আসেন বিএনপির জন্মের পর। ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জেতেন। কিন্তু এরশাদের সামরিক শাসনামলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পরের নির্বাচনে লড়েন লাঙ্গল প্রতীকে। হন এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। এরশাদ সরকারের পতনের পরও ১৯৯১ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জয় পান তিনি। ১৯৯৬ সালে মওদুদ জাতীয় পার্টির হয়ে লড়ে হেরে যান কাদেরের কাছে। এরপর তিনি চলে যান বিএনপিতে। পরের দুটি নির্বাচনে তিনি অংশ নেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। ১৯৯১ সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক চারটি নির্বাচনেই ওই আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের ও মওদুদ আহমদ। এর মধ্যে ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জয় পান কাদের। ১৯৯১ আর ২০০১ সালে মওদুদ। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন। ভোটারসংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার ৬৯। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৮ এবং নারী এক লাখ ৬৩ হাজার ৩৩১ জন। এই আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে একমাত্র মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে বিএনপির হয়ে মওদুদ ছাড়াও ফরম নিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বজলুল করিম চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম। তবে তাদের দুজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না দলের নেতারা। কাদের ও মওদুদের লড়াই বরাবরই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। ১৯৯১ সালে মওদুদ জেতেন চার হাজারের কম ভোটে। ১৯৯৬ সালে কাদের জেতেন ১২ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর ভোট মিলিয়ে মওদুদের চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি ছিল। ভোট ভাগাভাগির সুযোগে জিতে যান বিএনপির নেতা। আবার ২০০৮ সালে কাদের জেতেন এক হাজারের কিছু বেশি ভোটে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাদের সংসদ সদস্য হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। কোম্পানীগঞ্জে কাদেরের ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল আওয়ামী লীগ নেতার হয়ে প্রচার ও গণসংযোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কাদেরও এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ও খোঁজখবর নেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সরাসরি। আবদুল কাদের মির্জা বলেন, এই আসনে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প নেই। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ কওে, কোম্পানীগঞ্জবাসীর দুঃখ নদীভাঙন রোধে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুছাপুর ক্লোজার বাঁধ নির্মিত হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নোয়াখালী-চট্টগ্রাম যাতায়াত সহজ করতে সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক নির্মাণ ও একটি সেতুসহ ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন কাদের। তাই আমরা আশাবাদী, বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের তুলনা হয় না। তিনি শুধু এ আসনে নয়, সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয়। বিগত ৯ বছরের উন্নয়নে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় এখন ওবায়দুল কাদের। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান বলেন, কাদের সাহেব এ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মওদুদের বিজয় নিয়েও আশাবাদী দলের স্থানীয় নেতারা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম বলেন,আমরা শতভাগ আশাবাদী। মওদুদ সাহেব এমপি থাকাকালে এলাকার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেন। কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাটে ওনার বিকল্প নেই। আমরা সবাই ওনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।
ক্রীড়াজগত থেকে জাতীয় নির্বাচনে আছেন যারা
অনলাইন ডেস্ক: ভোটযুদ্ধ আসন্ন। দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী হাওয়া। চারদিকে ভোটের আমেজ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এবার ক্রীড়াজগতের বেশ কয়েকজন তারকা অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। ক্রীড়া সংগঠকেরাই শুধু নন, কয়েকজন খেলোয়াড়ও মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পতাকায় নির্বাচন করতে যাচ্ছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া সাবেক খ্যাতিমান ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমে বীর বিক্রম, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, খুরশিদ আলম বাবুল, আরিফ খান জয়, সাইদুর রহমান প্যাটেল, ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সাবেক হকি তারকা আরিফুল হক প্রিন্সের মতো সুপরিচিত ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা ভোটের মাঠে যোগ করেছেন বাড়তি উত্তাপ। ক্রিকেট দলকে একটা সময় নেতৃত্ব দেওয়া নাঈমুর রহমান দুর্জয় আর সাফজয়ী দলের সদস্য আরিফ খান জয় গত সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকায় জিতেছিলেন। তবে তাদের নিয়ে এখন খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে না, যতটা হচ্ছে মাশরাফিকে নিয়ে। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান মাশরাফি। মাশরাফির সঙ্গে বিশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও রাজনীতিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আমিনুল হকের নামটি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন খেলেছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে, দেশকে দিয়েছেন নেতৃত্ব। ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর এখন তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। বিএনপি থেকে তিনি মনোনয়ন চাইছেন ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন থেকে। বিএনপির সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় হকি দলের সাবেক খেলোয়াড় আরিফুল হক প্রিন্স টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হওয়ার আশায় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য। ওই আসনে তার মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে। এবারও তিনি ওই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে তার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা আছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, বিসিবির পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয় গত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে। কিছুদিন আগে খুলনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী। অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আসন্ন নির্বাচনে তিনি ওই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। গত নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন আবাহনীর পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি (বিসিবি) নাজমুল হাসান পাপন। এবারও তার ওপর আস্থা রাখবে আওয়ামী লীগ। বিসিবির সাবেক সভাপতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল গতবার কুমিল্লা-১০ আসন থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এবারও এই আসনে মনোনয়ন চাইছেন তিনি। ঢাকা মোহামেডানের সাবেক সহসভাপতি শরিফুল আলম কিশোরগঞ্জ-৭ আসনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে চাইছেন। বাফুফের সহসভাপতি ও আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। এবারও তিনি একই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। সাবেক কৃতী ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ আসন থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন।
অসুস্থ হয়ে সামরিক হাসপাতালের সিএমএইচে এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনের আগে আবারো অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিনি সিএমএইচে ভর্তি আছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার শনিবার সকাল পৌনে ৯ টার দিকে শীর্ষনিউজকে বলেন, চেয়ারম্যান সারের বড় কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি সুস্থ আছেন। নিয়মিত চেকআপের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেও তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ভাল আছেন। উল্লেখ্য, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বার বার সিএমএইচে ভর্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কিছু দিন আগেও নির্বাচন হবে কি না সন্দেহ আছে এমন বক্তব্য দেয়ার পর তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন। এরপর হাসপাতাল থেকে বাসায় এসেই আবার বললেন নির্বাচন যথা সময়েই হবে কোনো সন্দেহ নেই।
ঐক্যফ্রন্ট একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করবে আর সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ: মাহমুদুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক: শরিক দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক জোটের আরেক শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। চলমান রাজনীতি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করবে। আর সেই প্রতীক হবে ধানের শীষ। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় নয়া পল্টনে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মান্না আরও বলেন, সরকার যেকোন উপায়ে নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে। আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, জোটের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আ.লীগের বৈঠক আজ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আজ বৈঠকে বসবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ বুহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। তাদের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হবে। এতে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। জানা গেছে, এ বৈঠকে আওয়ামী লীগ তার দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। জোটের আসনগুলো নিয়েও আলোচনা হবে এতে। এর আগে চারদিনে চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি।
সরকারের সদিচ্ছা নেই,আমরা নির্বাচনে যেতে চাই: ২০ দল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিন্তু এতে সরকারের সদিচ্ছা নেই বলে অভিযোগ করেছেন জোটের সমন্বয়ক ও এরডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। অলি বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু ২০ দলের নির্বাচনে আসার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নেই। সরকার ও ক্ষমতাসীন দল চায় না ২০ দল নির্বাচনে আসুক। নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নেই। সরকারি দল ও তাদের শরিকরা বেশি সুবিধা পাচ্ছে। ২০-দলীয় জোটের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ করে অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেয়া সত্ত্বেও এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড় বন্ধ হয়নি। সারা দেশে ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বুধবার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের প্রতিবাদ জানিয়ে অলি আহমেদ বলেন, মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময় একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের হামলা নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশের বিঘœ ঘটাচ্ছে। অলি আহমেদ নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারি দল ও তাদের মিত্ররা বীরদর্পে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর