উন্নয়নবার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফার যাত্রা শুরু
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা জনে জনে পৌঁছে দিতে তৃতীয় দফা নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। নির্বাচনী সড়ক যাত্রায় এবার ৯টি স্পটে পথসভা হবে। যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যাত্রায় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোথাও বিবাদ-কলহ থাকলে তা মিটিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের উন্নয়নেই নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে স্বাগতম। কিন্তু অশান্তি সৃষ্টি করলে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এ পথসভা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ আগস্ট আকাশ পথে ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে নীলফামারীর পথে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা হয়। এবারের যাত্রা শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তৃতীয় দফা যাত্রার প্রথম দিন শনিবার কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ স্কুল মাঠ, কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, এইচ জে পাইলট হাইস্কুল মাঠ, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট, সীতাকুণ্ডু হাই স্কুল মাঠ এলাকায় পথসভা নির্ধারিত রয়েছে। দ্বিতীয় দিন রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের শিকলবাহা ক্রসিং, এস আর স্কয়ার কর্ণফুলী, মেহেরুন্নেসা স্কুল মাঠ চুনতি লোহাগাড়া চট্টগ্রাম, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ঈদগাহ মাঠের সমাবেশ দিয়ে শেষ হবে এবারের নির্বাচনী যাত্রা। এ যাত্রায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
আ.লীগের মনোনয়ন চান রাবির সাবেক আট ছাত্রনেতা
অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক আট ছাত্রনেতা মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের এই তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন অবশ্য বর্তমানে সংসদ সদস্য। মাগুরা-১ আসনে এবার মনোনয়ন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাইফুজ্জামান শিখরের। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার বাবাও এখানে জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ছিলেন। শিখর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব হন। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান শিখরের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আয়েন উদ্দিন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে রাবি ছাত্রলীগে নেতৃত্বদানের পুরস্কার হিসেবে গত নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়। আসছে নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চান। আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড আবার মনোনয়ন দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’ শিখর-আয়েন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। তিনি এখন তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা এবার মনোনয়ন চাইছেন রাজশাহী-৪ আসনে। মনোনয়ন পেতে তিনি এলাকায় নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। রাবি ছাত্রলীগের আরেক সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা নাটোর-৪ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক লায়েব উদ্দিন লাভলু ছিলেন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি রাজশাহী-৬ আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দিনাজপুর-১ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হুসাইন বিপু। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বিপু স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো। তাজমহল হীরক এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক। আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনের মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন। রাবি ছাত্রলীগের সাবেক এই সহ-সভাপতির আশা, দল তাকে মনোনয়ন দেবে। জয়পুরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। হীরক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে কখনোই হয়নি। এই উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই দেশের মানুষ আগামীতেও আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চান।’ ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন থেকে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সরকার ফারহানা আখতার সুমি। তিনি এখন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তরুণ এ নেত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের মনোনয়ন নিয়ে শতভাগ আশাবাদী ফারহানা আখতার সুমি। তিনি নেতা নন সেবক সেবক হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান উল্লেখ করে সুমি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এলাকাতেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, যাতে কাজের জন্য এলাকা ছাড়তে না হয়। এ জন্য এলাকায় নদীকেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনসহ বাঁশ ও বালুনির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে তুলব। ঢাকাটাইমস
যুক্তফ্রন্টের মাহীকে নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগবিরোধী জাতীয় ঐক্যের কাঠামো গঠন হওয়ার আগেই যুক্তফ্রন্টের মাহী বি চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপিতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, যুক্তফ্রন্টের এই নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে মনে হয় বিএনপি তাদের চেয়ে ছোট দল। তবে এক যুগ ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে ঐক্যের স্বার্থে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ শনিবার রাজধানীতে ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ রয়েছে যেখানে বিএনপির উপস্থিতির আশা করছে আয়োজকরা। গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেয়া এই উদ্যোগে আগেই সমর্থন জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। আর তারা এই আয়োজনে আসবে, সেটা আগেই জানানো হয়েছে। এই আয়োজনের আগের দিন বিকালে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন নেতা। সেখানেও মাহী তাদেরকে ঐক্যের জন্য নানা শর্তের কথা জানিয়ে দেন। বি. চৌধুরী নামে পরিচিত বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিরই প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। আর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি বানালে তার ছেড়ে দেয়া আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহী। পরে বি চৌধুরীকে বিএনপি অসম্মানজনকভাবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করলে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মাহীও। আর বি চৌধুরী ২০০৪ সালে নিজের দল বিকল্পধারা গঠন করেন। এই বিকল্প ধারার সঙ্গে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জেএসডি এবং আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গঠন করা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠন হয়েছে যুক্তফ্রন্ট। তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া এই ফ্রন্ট আবার বিএনপিক সঙ্গে ঐক্যের আলোচনায়। এই ফ্রন্টের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম আবার গঠন করেছে ঐক্য। এদের সঙ্গে বিএনপি জোট করতে চায় যার নাম দেয়া হয়েছে জাতীয় ঐক্য। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট এই সুযোগে এমন সব শর্ত দিচ্ছে, এমন দাবি তুলছে যা বিএনপির পক্ষে মানা অস্বস্তিকর। তিনশ আসনের মধ্যে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে ১৫০ আসন আবার দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বও চায় তারা। যুক্তফ্রন্টের নানা দাবির মধ্যে বিশেষ করে মাহী বি চৌধুরী সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটি নিয়ে আপত্তি আছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে। এতদিন এসব প্রকাশ না করলেও ইদানীং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির নেতারা আকার ইঙ্গিতে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। ঐক্যের আলোচনায় ১৫০ আসনে ছাড় দেয়ার শর্ত প্রথম তুলেছিলেন মাহীই। আর এরপর জামায়াত থাকলে ঐক্য নয়- এমন গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেনের পর সবচেয়ে বেশি বলছেন মাহী। তবে মাহী জামায়াতের সঙ্গে এর আগে মিশেছেন, তার নির্বাচনের সময় জামায়াতের সহযোগিতা নিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার ফেসবুকে ছড়ানো এক ভিডিওতে মাহী প্লান বির যে কথা বলেছেন তা নিয়েও বিএনপিতে আছে সমালোচনা। আবার তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের সমালোচনাও করেছেন। গত ৩১ আগস্ট তরুণদের জন্য প্লান বি তুলে ধরতে গিয়ে মাহী বলেন,সারাদেশের সবগুলো বাসস্ট্যান্ড,রাস্তার টোল,ঘাট, কখনও ছাত্রদল কখনও ছাত্রলীগ সেটা দখল করে। যেসব বাজার তা কখনও ছাত্রলীগ আবার কখনও ছাত্রদলের কাছে ইজারা দেয়া হয়। তবে এসব বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা কৌশলী হলেও তৃণমূল এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, মাহী বি চৌধুরীর কথাবার্তা বিএনপিকে অবমূল্যায়ন করার শামিল। ঐক্যের ক্ষেত্রে বিকল্প ধারার এমন বক্তব্যের পেছনে অন্য রহস্য আছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন,বিকল্প ধারার মহাসচিব আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের সরকারদলীয় লোকদের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে। সেগুলো টিকিয়ে রাখতে ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব কথা বলা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা জানান,বিএনপির নমনীয়তার সুযোগে অবাস্তব সব দাবি করেছে নামসর্বস্ব দলগুলো।যা বিএনপির জন্য বিব্রতকর। বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন এমন একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিকল্প ধারা বলেন আর যুক্তফ্রন্ট বলেন এদের বাদ দিয়ে ঐক্য হলে ভালো হয়।কারণ রাজনীতিতে তাদের যে অবস্থান তাতে ঐক্যে না আসলে খুব ক্ষতি হবে এমনটা না। বিএনপির সহ তথ্য-গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল বলেন, মাহী বি চৌধুরী তার প্লান বিতে ছাত্রদল আর ছাত্রলীগকে এক করে দিয়েছেন। আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নেত্রীর মুক্তি। সেখানে তিনি বলছেন, আসন ভাগাভাগির কথা এটা ঠিক না। আর ছেলের (মাহী) কারণে তার বাবাকেও (বি. চৌধুরী) জোটের বাইরে রাখলে ভালো হবে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন,বিকল্প ধারার নেতারা যখন বিএনপিতে ছিলেও তখন তো জোটে জামায়াত ছিল। তখন তো তারা জামায়াত নিয়ে আপত্তি জানাননি। স্বার্থের ক্ষেত্রে আঘাত লাগলে এমন বাহানা অনেকেই শুরু করেন। রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন,তারা (যুক্তফ্রন্ট) যদি নিজেদের ওয়েট (ওজন) না বোঝে তাহলে কেমনে হবে? এখন হয়তো একজন বলবে আমি পতাকা উত্তোলন করছি আমি উপ-প্রধানমন্ত্রী হব তাহলে কী হবে? পলিটিক্সে ইগো থাকলে হবে না। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, জাতীয় ঐক্য খুবই জরুরি। এই ঐক্যের মাহী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা তার একক এবং স্ববিরোধী বক্তব্য। তিনি বলেছেন, জামায়াতের জোটে আসার সময় তাতে স্বাক্ষর করা তার বাবার বড় ভুল ছিল। তাহলে ২০০২ সালে উপনির্বাচনে যখন মাহী এমপি ছিলেন তখন তিনি দুধের শিশু ছিলেন? তার তো তখন ভালোমন্দ বোঝার বয়স হয়েছিল। তখন তিনি জামায়াত নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি কেন? বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলের শরিকরাও যুক্তফ্রন্টের শর্ত নিয়ে নাখোশ। এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে। তার মুক্তির দাবি করে একটি কথাও বলেননি ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। অথচ তারা বিএনপির সমর্থনে প্রধানমন্ত্রিত্ব চান। এটা অবান্তর। বিএনপির একটি দলের মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে চার দল যুক্তফ্রন্ট গড়ে ১৫০ আসন ও দুই বছরের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ দাবি করছে, তাদের একটি আসনেও নিজ দল থেকে ভোট করে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই। ঢাকাটাইমস
আজ খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার প্রশ্নে আদেশ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে বিচার চলবে কি না আর তিনি জামিনে থাকবেন কি না এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে আজ বৃহস্পতিবার। ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বিচারপতি ড. আখতারুজ্জামান শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। আরেক আসামি জিয়াউল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল হক এ বিচার কার্যক্রম আইনসম্মত নয় উল্লেখ করে মামলার কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল গত ১২ সেপ্টেম্বর। তবে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় কাস্টডি প্রতিবেদন পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরোধিতা করে শুনানি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি করেছিলেন বিচারক। গত ১ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের পর বিএনপি নেত্রী কারাগারে যাওয়ার সেই শুনানি আর হয়নি। এরপর শুনানির জন্য নির্দিষ্ট একাধিক দিন বিএনপি নেত্রী হাজিরা দেননি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। এই মামলায় তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসার কথা ছিল রায়। কিন্তু শুনানি হতে না পারায় মামলাটি ঝুলে যায় আর বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলে ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে বসে সেই আদালত। হুইল চেয়ারে করে আসেন বিএনপি নেত্রী। কিন্তু সেদিন খালেদা জিয়া বিচারককে বলেন, ‘আপনার যা ইচ্ছা আমাকে সাজা দিন। আমি আর আসতে পারব না। আমার শরীর অনেক খারাপ। মেডিকেল রিপোর্ট দেখলে আপনারা বুঝতে পারতেন। এই আদালতে ন্যায়বিচারও হবে না।’সেদিনের শুনানি শেষে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকলেও যাননি তার আইনজীবীরা। তবে গতকাল বিএনপি নেত্রী না এলেও উপস্থিত হন তার আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার মতোই চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা চলছে বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে। এর মধ্যে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ এসেছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাটিও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলারই অনুরূপ। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি করে দুদক। এতে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। মামলাটিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং হারিছের তৎকালীন একান্ত সচিব (বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।
আলোচনায় থাকলেও জনপ্রিয়তা নেই -তৃতীয় শক্তির
অনলাইন ডেস্ক: দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তির আলোচনা গণমাধ্যমে যত উঠে আসে, জনগণের মনে তা তত দাগ কাটে না। জাতীয় নির্বাচনগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই মিলেছে। ভোটের ফলগুলো বলছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি উঠেই আসতে পারেনি। আবার আওয়ামী লীগ সব সময় দুই প্রধান শক্তির একটি থেকেছে। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষণে ক্ষণে পাল্টেছে। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে লড়াই হলেও এক সময় জাতীয় পার্টি ছিল সেই জায়গায়। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর লড়াইটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই স্থির থেকেছে। আর এদের বাইরে আলোচিত দুই দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনও কমার প্রমাণই মিলছে। আর বাম দলগুলো পুরোপুরি আবেদন হারিয়েছে। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এক সময়ের আলোচিত আরও বেশ কিছু দল। ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে ভোট পড়েছে মাত্র ০.১ শতাংশ। এই ভোটের মধ্যে আবার ‘না’ ভোটও আছে। এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে যেসব প্রার্থী কিছু ভোট পেয়েছেন, তারাও মূলত দুই প্রধান দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা। এবারও জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে যুক্তফ্রন্ট নামে তিন সংগঠনের জোট। তবে তারা বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের আলোচনা করছে। এই আলোচনায় আবার ১৫০ আসন, দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রিত্বের মতো শর্ত দিচ্ছে। এর আগে বিশেষ করে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে তৃতীয় শক্তির তুমুল আলোচনা ছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহম্মদ ইউনূস তার নাগরিক শক্তি নামে দল গঠনের চেষ্টা করেও ক্ষ্যান্ত দেন। তবে আরও কিছু দল তখন আলোচিত হয়ে উঠে যা কিংস পার্টি নামে পরিচিতি পায়। কিন্তু তারাও পরে হারিয়ে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক আফসান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, যে যাই বলুক না কেন, আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে মানুষ অন্য কাউকে পাত্তাই দেয় না। অন্য কারও কথা চিন্তাও করে না। তৃতীয় শক্তি হিসেবে যাদের কথা বলা হচ্ছে তাদের কোনো জনপ্রিয়তাই নেই। তারা সবাই প্রাক্তন। ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে যারা তৃতীয় শক্তি হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে তাদেরকে মানুষ কখনও সিরিয়াসভাবে নেয় না। কারণ, তাদের কোনো জনভিত্তি নেই। তাদের জনসম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টাও নেই।’ সম্প্রতি আলোচিত হয়ে উঠা কয়েকজনের বিষয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘বি. চৌধুরী, কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, জাফরুল্লাহ- এদের বয়স ৮০-৯০ হয়ে গেছে, সাম্প্রতিক নেতা হিসেবে তাদের আর কোনো প্রভাব নেই। তাদের কিছুটা জনইমেজ আছে কিন্তু কোনো জনসমর্থন নেই।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘দেশের দুই বড় দলের বাইরে উত্তম বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। যে কারণে তারা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে না। আমরা যে যাহাই বলি না কেন-আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বড় দুই দলের প্রতিই সাধারণ মানুষের আকর্ষণ বেশি। যতক্ষণ না উত্তম বিকল্প তৈরি না হবে সে সময় পর্যন্ত শুধু তত্ত্বগতভাবে বিকল্প শব্দটি বলা যাবে, বাস্তবতায় নয়।’ ভোটের ফল কী বলছে বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭৩.২ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) ৮.৩ শতাংশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ৬.৫ শতাংশ, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) ৫.৩ শতাংশ, বামপন্থীদের জোট ১.১ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫.৩ শতাংশ ভোট পান। অর্থাৎ তখনও স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যযত কোনো বিরোধী দল গড়ে উঠেনি। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে প্রতিষ্ঠা করেন তার দল বিএনপি। আর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দলটি ৪১.২ শতাংশ ভোট পায়। ২৪.৫ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ। মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আরেক অংশ পায় ২.৮ শতাংশ ভোট। এর বাইরে মুসলিম লীগ ১০.১ শতাংশ, জাসদ ৪.৮ শতাংশ, কমিউনিস্ট পার্টি ৪.৮ শতাংশ, জাতীয় আওয়ামী পার্টি ২.২ শতাংশ, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০.২ শতাংশ ভোট পায়। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বাইরে জামায়াত ৪.৬ শতাংশ, জাসদের দুই অংশ ৩.৪, মুসলিম লীগ ১.৪, জাতীয় আওয়ামী পার্টির দুই অংশ ২ শতাংশ, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬.৩ শতাংশ ভোট পান। জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই সেনাপ্রধান থাকাকালে হুসেইন এরশাদ ক্ষমতা দখল করে নিজের দল জাতীয় পার্টি গঠন করেন। আর ১৯৮৬ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই জিতে যায় দলটি। প্রশ্নবিদ্ধ এই নির্বাচনে দলটির বাক্সে ৪২.৩ শতাংশ ভোট পরে বলে নির্বাচন কমিশনে তথ্য রয়েছে। এই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। আর আওয়ামী লীগ ২৬.২ শতাংশ ভোট পায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াতে ইসলামী জিয়াউর রহমানের আমলে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে এই নির্বাচনেই প্রথম দাঁড়ায়। তারা ৪.৬ শতাংশ ভোট পায়, আসন পায় চারটি। ১৯৮৮ সালে আরও একটি জাতীয় নির্বাচন হয় যেটি আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ মূলধারার বেশিরভাগ দলই বর্জন করে। জামায়াতও যায়নি ওই নির্বাচনে। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আসনের দিক থেকে তৃতীয় হয়। তবে ভোট সংখ্যার দিক দিয়ে তাদের অবস্থান ছিল চতুর্থ। জাতীয় পার্টি ওই বছর আসন পায় ৩৫টি, আর ভোট পায় ১১.৯ শতাংশ। আরেক আলোচিত দল জামায়াতে ইসলামী আসন পায় ১৮টি, আর তাদের ভোট ছিল ১২.১ শতাংশ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি তখন নৌকা প্রতীক নিয়ে ১.২ শতাংশ ভোট পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পান ৪.৪ শতাংশ। কোনো আসন পায়নি, এমন ৬৩টি অন্যান্য দল ভোট পাঢ ৪.৯ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একতরফা নির্বাচন করে দুই মাসের মধ্যে পদত্যাগ করে এবং ওই বছরের জুনে আরও একটি নির্বাচন হয়। আগের নির্বাচনের তুলনায় সে সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভোট বেশি পেলেও কমেছে জামায়াতের। প্রায় চার শতাংশ কমে তাদের ভোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮.৬ শতাংশ। আর আসন ১৫টি কমে হয় তিন শতাংশ। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আগেরবারের চেয়ে বেশি ভোট পেলেও তাদের আসন সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে যায়। ১৬.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা আসন পায় ৩২টি। এ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি কোনো আসন পায়নি আর তাদের ভোটের সংখ্যা ছিল অনুল্লেখযোগ্য। আসন পায়নি এমন ৭৪টি দল মিলে ভোট পায় ১.৬ শতাংশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট সংখ্যাও কমে হয় ১.১ শতাংশ। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী-ভোট কমে দুই দলেররই। লাঙ্গল প্রতীকে তখন ভোট পড়ে ৭.২২ শতাংশ, আসন ১৮টি কমে হয় ১৪টি। আর জামায়াতের ভোট আরও প্রায় চার শতাংশ কমে হয় ৪.২৮ শতাংশ। তবে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সুফল পায় দলটি, তাদের আসন ১৪টি বেড়ে হয় ১৭টি। আসন পায়নি এমন দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ভোট পায় ৪.০৬ শতাংশ। পরের নবম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভোট আরও খানিকটা কমে ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার সুফল পায় তারা। আসন সংখ্যা বেড়ে হয় ২৭টি। জামায়াতের ভোট এই নির্বাচনে সামান্য বেড়ে হয় ৪.৬ শতাংশ। তবে আসন সংখ্যা ১৫টি কমে হয় দুইটি। দুই দলের মনোনয়নবঞ্চিত ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীরা এই নির্বাচনে ভোট পায় মোট ৪.৯ শতাংশ। ছোটছোট অন্যান্য দলগুলো এই নির্বাচনে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ‘না’ ভোট এবং অন্যান্য দল মিলে ভোট পায় ০.১ শতাংশ। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট বর্জন করে এবং সেখানে সহজ জয় পায় আওয়ামী লীগ। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বাইরে মনোনয়নবঞ্চিত দুই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ কিছু আসনে উল্লেখ করার মতো ভোট পেয়েছেন।
উঠানামা করে বিএনপির ভোট
নলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটের তথ্য বলছে, দেশের দুই প্রধান দলের মধ্যে বিএনপি ভোট উঠানামা করে। দুটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোট আগেরবারের চেয়ে বাড়লেও দুটি নির্বাচনে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এমনও দেখা গেছে, আগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে হেরেছে আবার আগের চেয়ে কম ভোট পেয়েও জিতেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ভোট ১৯৭৯ সালের পর থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ধরলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথম নির্বাচনে তারা যত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার তুলনায় শেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ ২৪.৫ শতাংশ ভোট পেলেও ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৪৯.৯ শতাংশ ভোট পড়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি যত শতাংশ ভোট পেয়েছে, পরের চারটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবারই কেবল তারা সেই হারে ভোট পেয়েছে। বাকি তিনটি নির্বাচনেই ভোটের হার ছিল তার চেয়ে অনেক কম। বিএনপি ১৯৭৯ সাল প্রথমবার অংশ নিয়েই ৪১.২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আর ২০০৮ সালে সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তার চেয়ে দলটি ভোট কম পেয়েছে আট শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩.২ শতাংশ ভোটারের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী এমাজউদ্দিন আহমেদ অবশ্য দুটি নির্বাচনে বিএনপির ভোট কমার বিষয়টি স্বীকার করতে চান না। তার দাবি, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ফলে ওই নির্বাচনে কী হলো না হলো, সেটি ধরলে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটা কোন নির্বাচনই ছিল? ওটা তো ভোটের বাক্সে ব্যালট পেপার ঢুকানোর ব্যাপার ছিল। শেখ হাসিনা যখন বলল আপনারা যা কিছু করবেন (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আমরা তার সবকিছুই সমর্থন করি এবং সংসদে সব পাস করে নেব, তারপরে সামরিক কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে চলে গেল। তাই ওইটাকে নির্বাচন হিসাবে গণ্যই করা হয় না। ওই নির্বাচনকে বাদ দিলে দেখা যাবে বিএনপির ভোট ওঠানামা করে নাই, এটা বাড়তির দিকেই রয়েছে। ১৯৭৯ সালের তুলনায় ১৯৯১ সালে বিএনপির ১১ শতাংশ ভোট কমার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বুদ্ধিজীবী। আর বিএনপির জেতা ওই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তার মনে কোনো প্রশ্নও নেই। বিএনপিপন্থী আরেক বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিএনপির ভোট উঠানামার তথ্য জানিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে সেটা ধরলে হবে না। তবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান সমান। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়টি কখনও স্পষ্ট করতে পারেনি। জন্ম থেকেই তারা মূলত আওয়ামী লীগবিরোধী একটি মোর্চা। এর একটি বড় অংশ স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ থেকে এসেছে, একটি অংশ এসেছে ন্যাপ ভাসানী থেকে এবং একটি অংশ চীনপন্থী বামরা। এ কারণে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই। এই দলটি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেও তারা উদাহরণ তৈরির মতো কাজ করতে পেরেছে কমই। সুশাসনের দিক থেকেও তাদের সুনাম ছিল না। ফলে তারা সুবিধাভোগী কোনো জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারেনি-এমন মত দিয়ে ওই অধ্যাপক আরও বলেন, এখনও বিএনপি আওয়ামী লীগবিরোধী মোর্চার বাইরে নিজের অবস্থান করতে পারেনি। কোন নির্বাচনে কত ভোট ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসেই প্রতিষ্ঠা করেন তার দল বিএনপি। আর ১৯৭৯ সালের প্রথম নির্বাচনেও বাজিমাত করেন তিনি। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪১.২ শতাংশ ভোট এবং ২০৭ আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে ওই সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে হটিয়ে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেন আরেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেনাশাসক এরশাদ ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে নির্বাচন দিলে তাতে অংশ নেয়নি বিএনপি। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পরের বছরের নির্বাচনেও রায় আসে বিএনপির পক্ষেই। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় ওই নির্বাচনে দলটির ভোট কমে প্রায় ১১ শতাংশ। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে রায় দেয় ভোটারদের ৩০.৮১ শতাংশ। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা যত ভোট পেয়েছে, তত ভোটও না পেয়েও ক্ষমতায় আসে বিএনপিই। ওই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট পড়ে মোট ৩১.৩ শতাংশ ভোট। তবে ০.৫ শতাংশ ভোট কম পেয়েও বিএনপি যেখানে ১৪০টি আসন পায়, সেখানে নৌকা প্রতীকে জেতেন আওয়ামী লীগের ৮৮ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির পাঁচ জন সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো বর্জন করে। আর বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করে। কিন্তু তখন সব কটি আসনে ভোট করা যায়নি। আর ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলা হলেও বিএনপি বা অন্য কোন দল কত ভোট পেয়েছে, সেই পরিসংখ্যান নেই নির্বাচন কমিশনে। তবে ওই সরকার দুই মাসও টিকতে পারেনি। আর আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকার পদত্যাগ করে ওই বছরেরই জুনে আরেকটি নির্বাচন দেয়, যেখানে দলটি হেরে যায়। তবে ১৯৯১ সালের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তুলনায় ৯৬ এর জুনের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বাড়ে। তখন ভোটারদের ৩৩.৬ শতাংশের পছন্দ ছিল ধানের শীষ। ১৯৯১ সালের তুলনায় ২.৮ শতাংশ ভোট বেশি পেলেও এই নির্বাচনে বিএনপির আসন কমে ২৪টি। ১১৬টি আসন পেয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হয় বিএনপি। অবশ্য এই নির্বাচনে আগেরবারের তুলনায় ৬.১৪ শতাংশ ভোট বাড়ে আওয়ামী লীগের। ২০০১ সালে পরের নির্বাচনেও বিএনপির ভোট বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। এই নির্বাচনে ৪১.৪ শতাংশ ভোট পায় বিএনপি। আসন পায় ১৯৩টি। দলটির চেয়ে ১.৩৮ শতাংশ ভোট কম পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ আসন কম পায় ১৩১টি। তারা জেতে ৬২টি আসনে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ২০০১ সালে সর্বোচ্চ হারে ভোট পেয়েছে। তবে সেটি তাদের প্রথম নির্বাচনের তুলনায় খুব বেশি নয়। এরপরের নির্বাচনেও আবার ছন্দপতন ঘটে বিএনপির। প্রথমবারের তুলনায় দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে যেমন তাদের প্রায় ১১ শতাংশ ভোট কমে, তেমনি বিএনপির অংশ নেয়া চতুর্থবারের তুলনায় পঞ্চমবারেও তাদের ভোট কমে যায় আট শতাংশ। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পছন্দ ছিল ভোটারদের ৩৩.২ শতাংশ। আর ভোট কমার পাশাপাশি তাদের আসনও কমে ১৬৩টি। মাত্র ৩০টি আসন নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে দলটি। পরের জাতীয় নির্বাচনে তারা আসেনি। চতুর্থ এবং পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মতোই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। ঢাকাটাইমস
মাদ্রাসাছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়: হানিফ
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্ররা কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ এ মন্তব্য করেন। এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ফেইক কনটেন্ট ইন সোশ্যাল মিডিয়া: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে এমওভিই ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রতা, ভুয়া কনটেন্ট তৈরি বা সন্ত্রাসবাদে ইসলাম, মুসলমান, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কওমি মাদ্রাসা কোনোভাবেই জড়িত নয়। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা জড়িত। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সংগঠিত ঘটনার পেছনে উপকারভোগী কারা, সেটি বের করতে হবে। তাহলেই কারা উগ্রবাদে জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে। আওয়ামী লীগের নেতা হানিফ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে হানিফ বলেন, সবার সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত। এর নেতিবাচক প্রভাব জানা দরকার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন যোগাযোগ সহজ করেছে, তেমনি পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধও কমিয়ে দিয়েছে। এসবের ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পড়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রিফনটেইন, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইবরাহিম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, হুমায়ূন কবির, অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ।
মির্জা ফখরুলকে আটকিয়ে দেন নাই কেন: দুদু
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের জাতিসংঘের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আমাদের দলের মহাসচিবকে আমন্ত্রিত জানিয়ে ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা যে যখনই বিদেশে যায় তাকে এয়ারপোর্টে আপনারা আটকিয়ে দেন, তাহলে মির্জা ফখরুলকে কে আটকিয়ে দেন নাই কেন? তার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারটাও তো আপনারা জানতেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দুদু বলেন, আমাদেরকে যদি গ্রেফতার করতে চান তাহলে আমাদেরকে বলেন আমরা নিজেরাই গিয়ে হাজির হব, এভাবে বাসা বাড়ি তছনছ করিয়েন না, ছেলে মেয়েদেরকে আর ভয় দেখাবেন না। আমরা মিছিল করে হাজির হব দেখবো কত লক্ষ কোটি মানুষকে-নেতাকর্মীদেরকে আপনারা কারাগারে রাখতে পারেন, জায়গা দিতে পারেন। এভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করেন কেন? এটাতো বাংলাদেশ যুদ্ধ হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, কথা বলার জন্য, লেখার জন্য। ডিজিটাল আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা (প্রধানমন্ত্রী) কি ডিজিটাল আইন করেছেন? পাকিস্তান আমলেও এত বড় নির্মম আইন হয় নাই। দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাগ অভিমান যাই থাকুক না কেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) যাকে দেশের মানুষ, বিশ্বের মানুষ শ্রদ্ধা করে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছেন? কারাগারে যখন রেখেছেন তার পছন্দের ডাক্তার এবং তাকে সুচিকিৎসা দিচ্ছেন না কেন? এটা কি ধরনের নির্মমতা? ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শেখ হাসিনা আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। আর আপনাদেরকে এমন হারানো হারাবে যে, আঞ্চলিক একটা কথা আছে যে- গো হারানো হারাবে। আর এসব ঘটবে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আলবার্ট পি কস্তা প্রমুখ। শীর্ষনিউজ
সরকারের বিরুদ্ধে এখন জীবিত নয় মৃতরাও আন্দোলন করছে: নজরুল ইসলাম খান
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়। তা বাঁচানোর জন্য জনগণ লড়াই করতে চায়। আর খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে তা করতে চায়। তাই আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। আজ বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “দেড় বছর আগে মৃত ব্যক্তিদেরও পুলিশ ককটেল মারতে দেখেছে’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে এখন জীবিত নয় মৃতরাও আন্দোলন করছে। সরকার এখন গোরাস্থানেও প্রটোকল দিতে পারে। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দূষণেও দেশে অনেক মানুষ মারা গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দাবিতে সরকারের অযৌক্তিক কথা বলা এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো জনগণকে বিভ্রান্তি করে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর