ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অংশ নেননি মুখপাত্র মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংলাপের বিষয়ে আলোচনা ও পেশাজীবী সম্মেলনের আয়োজনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে আসেননি স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে মির্জা ফখরুলে অংশ না বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে মির্জা ফখরুল আজকের বৈঠকে অংশ নেনেনি। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. মঈন খাঁন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির নিজস্ব কিছু বৈঠকে অংশ নেয়ায় তারা যথাসময়ে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন-ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সুলতান মনসুর চৌধুরীসহ দলের সিনিয়র নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জাতীয় সংলাপের বিষয়ে আলোচনা হবে। সংলাপে কে কে যাবে, কী কী এজেন্ডা থাকবে, সেগুলো নিয়ে কথা হবে। এছাড়াও পেশাজীবীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে এ মাসের শেষ দিকে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেই সম্মেলনের প্রস্তুতি, তারিখ নির্ধারণ,কারা কারা দাওয়াত পাবেন, কীভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে এসব বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বৈঠকে।
১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং মহাজোটের মধ্যে কোনো ধরনের বিবাদ নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মহাজোট নামে যে ঐক্য তা নিবাচনী আর ১৪ দলের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক তা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক জোট থাকবে, তা আমরা ভেঙে দেইনি। জোট ও মহাজোটের মধ্যে কোনো ধরনের বিবাদ, ভাঙন বা টানাপোড়েন নেই। যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয় তাহলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিক জোট যদি বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে, গঠনমূলক আলোচনা করে তা সরকারের জন্য ভালো, তাদের জন্যও ভালো। রাজনৈতিক কারণে ১৪ দলের শরিরদের বিরোধী দলে থাকাই ভালো। এতে সরকারের ভুল সংশোধন এবং সমালোচনার সুযোগ থাকবে, যোগ করেন তিনি। বিএনপিকে বেপরোয়া গাড়িচালকের সাথে তুলনা করে কাদের বলেন, পরাজিত বিএনপি বেপরোয়া হলেও সরকার ধৈর্যশীল। আওয়ামী লীগ বিশাল জয় অর্জনের সাথে দেশ ও মানুষের প্রতি বিশাল দায়িত্ব পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণ টিআইবির রূপকথার গল্পের জবাব দেবে: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের জনগণ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টিআইবির অলীক ও অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্পের জবাব দেবে। তিনি বলেন, টিআইবি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি বলে অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে। নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপির কোন এজেন্ট বা টিআইবির একজন প্রতিনিধিও নির্বাচনের দিন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, নির্বাচনের দিন তারা নির্বাচনের কারচুপির কোন কারণ খোঁজে পাননি। আর এখন তারা নির্বাচন নিয়ে কেন অলীক রূপকথার গল্প সাজাচ্ছেন তা আমরা জানি। দেশের জনগণই তার জবাব দেবে। ওবায়দুল কাদের বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া চালক হয়ে গেছেন। কখন যে তিনি কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, গত দশ বছরে বিএনপির যে মহাসচিব দশ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি, যার নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দশটিরও কম আসন পায়, লজ্জা-শরম থাকলে তিনি আরো আগেই পদত্যাগ করতেন। কাদের বলেন, আন্দোলনে চরম ব্যর্থতা, নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়, লজ্জা-শরম থাকলে আপনাকে আরো অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, তার (ফখরুল) নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ ভাল লাগছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত অভূতপূর্ব ফলাফল ৭৫-পরবর্তী সময়ে কেউ কখনো দেখেনি। এ বিজয়কে যারা প্রত্যাখ্যান করে জনগণের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। সেতুমন্ত্রী কাদের আরো বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার দলের শোচনীয় পরাজয়ের জন্য পদত্যাগ না করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন। নির্বাচনে কারচুপি হলে তিনি (ফখরুল) কীভাবে জয়লাভ করলেন? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। আগামী ১৯ জানুয়ারির আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশকেও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন বলেও জানান তিনি।- আলোকিত বাংলাদেশ
জোটগত হবে না উপজেলা নির্বাচন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন উপজেলা নির্বাচন শরিকদের সঙ্গে জোটগতভাবে করবেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জোটগত হবে না। যার যার দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসবেন, এ নিয়ে কোনো ধূম্রজাল নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু শুভেচ্ছা জানানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানাবেন। ৭৫টি দলের সঙ্গে তিনি পর্যায়ক্রমে সংলাপ করেছেন। সবাইকে আবারও তিনি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাতে চান। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্য সংলাপ নয়। নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই, এ নিয়ে ধূম্রজাল কেন হবে। আমরা সংলাপ শব্দটাই উচ্চারণ করিনি। নির্বাচনের ক্রেডিবিলিটি নিয়ে কোনো দেশ প্রশ্ন তোলেনি। এখানে কেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আমি জানি না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয় উদযাপনের লক্ষ্যে আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে দলে, সুশৃঙ্খলভাবে ব্যানার নিয়ে, ফেস্টুন নিয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে ও উৎসবের সরঞ্জাম নিয়ে কালারফুল একটা সমাবেশ আমরা করতে চাই। মানুষ যেন এই ধারণা না পায়, যে মহাবিজয়ে ক্ষমতা পেয়ে মহাদাপট দেখাচ্ছে। এবার বিজয় বড়, ধৈর্যও ধরতে হবে বড়। আমাদের সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। বড় বিজয়ের সঙ্গে বড় দায়িত্ব এসে গেছে।
আ. লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু সংরক্ষিত নারী আসনে
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মনোনয়নপত্র বিক্রির নির্ধারিত সময়ের আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলের নারী নেতারা এসে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের মতোই বিভাগওয়ারি বুথ করে মনোনয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে ২৫৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ শেষে মন্ত্রীরা দায়িত্বও পালন করতে শুরু করেছেন। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি চারটি, বিএনপি একটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে একটি সংরক্ষিত আসন পেতে পারেন। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। সে হিসাবে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। এ বিষয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের (সংসদ সদস্য) ভোটের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে। দলগুলো অন্য কোনো রাজনৈতিক দল না জোটের সঙ্গে নির্বাচন করবে- তা জানানোর জন্য বলা হবে। স্বতন্ত্র এমপিরা কীভাবে নির্বাচন করবেন তাও জানাতে বলা হবে। এককভাবে থাকবেন না জোটগতভাবে নির্বাচন করবেন তা ইসিকে ৩০ জানুয়ারি মধ্যে অবহিত করতে হবে। এ নির্বাচনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ৫০টি সংরক্ষিত আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংলাপ নয়, হবে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপ নয়, নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি বলেন, সংলাপ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সেহেতু তিনি (শেখ হাসিনা) নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানাতে চান। সেতুমন্ত্রী বলেন, সংলাপে প্রায় ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল। এই রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে। এ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যুক্তফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, বামজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রয়েছে। ওবায়দুল কাদের সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশকে সফল করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো বিষয় নেই। এ নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বে কোনো বিতর্ক ও সংশয় নেই। পুরো গণতান্ত্রিক বিশ্ব নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। সংলাপের দাবি হাস্যকর। তারপরও গতকালের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংলাপ নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ বিষয়টি পরিষ্কার করলাম। কাদের এ বিষয়ে আরো বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছায় আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেয়া হবে। এটা সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ নয়। সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ মহাবিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বিজয় অব্যাহত থাকবে। আসন্ন উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই মহাবিজয়ে দলের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে। তবে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারের মধ্যে যাতে দল হারিয়ে না যায়। দল যেন সরকারকে পরিচালনা করে। আওয়ামী লীগ যত ঐক্যবদ্ধই থাকুক না কেন, সংগঠন হিসেবে আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। রাজধানীতে যেমন রয়েছে সারাদেশেও তেমনি রয়েছে। নির্বাচনে বিজয়কে সুসংহত করতে হলে সাংগঠনিক এই দুর্বলতা দূর করতে হবে। দলকে সংগঠিত করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের বিজয়কে সুসংহত করতে চাই। আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে সমর্থ হলে বঙ্গবন্ধুর এই দল কখনো পরাজিত হবে না। দলের মধ্যে যে দুর্বলতা রয়েছে তা অনতিক্রম্য নয়, তা অতিক্রমযোগ্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিজয় সমাবেশে যারা মিছিল নিয়ে আসবেন তারা বাদ্যযন্ত্র ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আসবেন ঠিক আছে। তবে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কেউ সমাবেশস্থলে প্রবেশ করবেন না। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ সমাবেশস্থল ত্যাগ করবেন না। তিনি আরো বলেন, সমাবেশস্থলে প্রবেশের জন্য আগের চেয়ে বেশি প্রবেশপথ তৈরি করা হবে এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকবে। সমাবেশ যাতে সর্বোচ্চ সুশৃঙ্খল হয় সে বিষয়টিকে সকলকে প্রধান্য দিতে হবে।
নির্বাচনের এজেন্ডা থাকলে ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে যাবে: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কেন্দ্রীক এজেন্ডা থাকলেই কেবল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সিলেট পৌছে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। খবর ইউএনবির বেলা সাড়ে ১২টায় শহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় বিমানযোগে সিলেটে এসে পৌঁছান মির্জা ফখরুল। সফরকারী দলে আরও রয়েছেন, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন বাতিল করতে হবে। বর্তমান অযোগ্য নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, গতবারের মতো সংলাপ হলে তা অর্থবহ হবে না। আমাদের দাবি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে, কোনো দ্বন্দ্ব নেই। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে নেতৃবৃন্দ হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পরে তারা বালাগঞ্জ যাবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা সুহেলের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সাথে সাক্ষাত করে সমবেদনা জানাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রী ফের সংলাপে ডাকবেন সব দলকে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনের আগে যেসব দল ও জোট সংলাপে অংশ নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আবারও গণভবনে সংলাপের জন্য ডাকবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার (১৩ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চার জেলার নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। কাদের বলেন, তাদের আবার চিঠি দিয়ে সংলাপে ডাকবেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগে ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টসহ ৭৫ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ হয়েছিল। নির্বাচন সফলভাবে শেষ হয়েছে। ওই সব দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা ফের কথা বলবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শনিবার দলের ওয়ার্কিং কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যৌথসভা করেছেন। সেখানে বলেছেন, ভোটের আগে যাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে তাদের ফের গণভবনে আমন্ত্রণ জানাবেন। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরাও সবাই একমত, যারা সংলাপ এসেছিলেন তাদের আবারও নেত্রী সংলাপে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। কবে ডাকা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, একসঙ্গে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হবে। তারিখ খুব শিগগির জানিয়ে দেয়া হবে। সব রাজনৈতিক দল গণভবনে আমন্ত্রিত। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জাতীয় সংলাপ-এর ডাক দেয়ার পর ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে সব দলের সঙ্গে বসার উদ্যোগ নেয়া হল। বিএনপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে গত ১৩ অক্টোবর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় যুক্তফ্রন্টও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধিরাও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে মাত্র আটটি আসন পায় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখনও শপথ নেননি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন ফল বাতিল এবং পুনর্নির্বাচন দাবিতে জাতীয় সংলাপ করার ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।
হুইলচেয়ারে করে আদালতে খালেদা জিয়া
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এ শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি রেখেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়া গত দিনের শুনানির মতোই আজকেও হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির হন। তাঁর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। দুপুর ১২টার কিছু পরে আদালতে আসেন খালেদা জিয়া। তিনি আজ বেগুনি শাড়ি পরেছিলেন। আর তাঁর পা ঢাকা ছিল সাদা একটি কাপড়ে। খালেদা জিয়া আদালতে আসার কিছু পরই বিচারক শুনানি শুরু করেন। দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত শুনানি চলে। এরপর খালেদা জিয়াকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো মামলাটি করেন। পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।ntvbd

রাজনীতি পাতার আরো খবর