দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে:রিজভী
১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে আইন শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে। সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুমিল্লার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে কি ভয়ংকর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, গতকাল কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় কী ভয়াবহ নজিরবিহীন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে! আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সামনে একজন আসামি আরেকজন আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন, এই হত্যার শিকার আমিও হতাম কিম্বা এটির শিকার আমার কোনো সহযোগী বা কোনো আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের আসলে কোনো নিরাপত্তাই নেই। রিজভী বলেন, সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে। দেশে কি ভয়ংকর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করছেন। আর সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক কায়দায় হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার অবিচারের মহামারিতে। আর অবৈধ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে। তিনি বলেন, প্রশাসন, বিচার ও আইনী ব্যবস্থায় গণবিরোধী প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে বলেই এই সকল সরকারী যন্ত্র ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করে আসছে। তাই এই যন্ত্রই ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভোট বাক্স ভর্তিতে সহযোগিতা করে এবং জনগণকে ভোট কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় ঢুকতে না দিয়ে অবৈধভাবে গদি দখলে সরকারকে সহযোগিতা করে কৃপাধন্য হয়েছে। ফলে তারা আর সরকারের আদেশ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। তারাও এই অবৈধ সরকারকে রক্ষার ব্রত নিয়ে ভোট বঞ্চিত জনগণের প্রতিপক্ষ হিসাবে কাজ করছে। এই রাষ্ট্র কার্যত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দেশে কোন সরকারই নেই। তাই আমি এই ব্যর্থ সরকারের প্রতি আহবান জানাবো-ক্ষমতা জোর করে বেশী দিন ধরে রাখা যায় না, জোর জবরদস্তির পরিণতি বড় করুণ এবং ভয়ংকর, তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।
রংপুরে নয়, এরশাদের দাফন ঢাকাতেই : জিএম কাদের
১৬জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ রংপুরের পল্লীনিবাসে নয়, ঢাকার সামরিক কবরস্থানেই সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মরদেহ তার নিজের এলাকা রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জি এম কাদের। তিনি বলেন, আজ দুপুরে রংপুরে নামাজে জানাজা শেষে রাজধানীর বনানীতে সেনা কবরস্থানেই সমাহিত করা হবে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, উনার শেষ ইচ্ছানুযায়ী বনানীতে সেনাবাহিনীর কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে। এই কবরস্থান সেনানিবাস এলাকায় হলেও যেকোনো সময় যে কেউ সেখানে যেতে পারেন। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের নেতাকর্মীরা তাকে সেখানেই সমাহিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে এরশাদের রংপুরের বাড়ি পল্লীনিবাসের লিচুবাগানে তারা দাফনের জন্য কবরও খুঁড়ে রেখেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার নিজের এলাকা রংপুরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চতুর্থ নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুর ক্যান্টনমেন্টে অবতরণ করার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে করে এরশাদের মরদেহ রংপুর কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ যোহর এরশাদের চতুর্থ জানাজা শেষে মরদেহ রংপুরের সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে এরশাদের মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ফের রাজধানীতে আনা হবে। বাদ-আসর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মরদেহবাহী কফিনের সঙ্গে যান তার ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।
কাকরাইলের পার্টি কার্যালয়ে এরশাদের মরদেহ
১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শেষবারের মতো সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজার পূর্বে এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের এরশাদের জন্য ক্ষমা চেয়ে তার আত্মার শান্তি কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান। এছাড়া দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া চান। এদিকে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির নামাজে জানাজায় অংশ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণে সংসদ এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা। গতকাল রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচ এম এরশাদ। গতকালই বাদ জোহর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মৃত্যুর পর পরই দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা দলের পক্ষ থেকে সিএমএইচে গণমাধ্যমের কাছে এরশাদের ব্যাপারে পরবর্তী কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের মরদেহ রাখা হবে দলীয় নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরশাদের আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ফের সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হবে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) হেলিকপ্টারে করে এরশাদের মরদেহ রংপুর নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে এরশাদের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নামাজে জানজার স্থান পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান রাঙ্গা।
নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে
১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক ,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম:বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট এ মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদনের উপর শুনানি হবে।কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দ্বিতীয় ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ-৯ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত আজ রোববার এ আদেশ দেন।আজ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষও তাকে অসুস্থতার জন্য আদালতে হাজির করেনি। তাই খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে দেন।খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জিয়াউদ্দিন জিয়া ও জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
আর নেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
১৪জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাহ ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি মারা যান। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৬ জুন থেকে তিনি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। গত প্রায় আট মাস ধরে টানা অসুস্থ ছিলেন এরশাদ। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অসুস্থ হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি অংশ নিতে পারেননি। এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কুচবিহার ও রংপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগদান করেন। ১৯৬০ থেকে ৬২ সালে তিনি চট্টগ্রামে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অ্যাডজুট্যান্ট ছিলেন। এরশাদ ১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে শিয়ালকোটে ৫৪তম ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-৭০ সালে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। তিনি ১৯৭৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কর্নেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। একই বছর তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রতিরক্ষা কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পর থেকেই সংবাদপত্রে বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতিতে এরশাদের আগ্রহ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। তিনি দেশের সংবিধানকে রহিত করেন, জাতীয় সংসদ বাতিল করেন এবং সাত্তারের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন। তিনি নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে বলেন যে, সাংবিধানিক পদটি একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানেরই প্রাপ্য ছিল। তিনি ঘোষণা করেন যে, ভবিষ্যতে সামরিক আইনের অধীনে জারিকৃত বিধিবিধান ও আদেশই হবে দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সকল আইন অকার্যকর হবে। এরপর এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে দেশ শাসন করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরশাদ ১৯৮৪ সালে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রচলন করেন। উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের মধ্যে ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদ তার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদকালের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর আগে একই বছর মে মাসে কারচুপির মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়ে এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাশ করে সেদিন জাতীয় সংসদ সংবিধান পুনর্বহাল করে। এর মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখলসহ সামরিক আইন ও বিধিবিধান দ্বারা সম্পাদিত সকল কাজ ও পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বিরোধী দলের প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ তৃতীয় জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। প্রধান বিরোধী দলগুলো ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনও বর্জন করে। এরশাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অবিরাম আন্দোলন চলতে থাকে এবং প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ১৯৯১ সালে জেনারেল এরশাদ গ্রেপ্তার হন এবং তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে এবং কোনো কোনোটিতে দোষী প্রমাণিত হয়ে তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার কারণে সংসদে তার আসন বাতিল হয়ে যায়। ২০০০ সালে জাতীয় পার্টি তিনটি উপদলে বিভক্ত হয়। আমৃত্যু তিনি মূল অংশের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সাথে মহাজোট গঠন করেন। ক্ষমতা হারানোর পর এরশাদ গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত কারারুদ্ধ ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত ও সাজাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর কারারুদ্ধ থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূল ধারার তিনি আমৃত্যু চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২টি আসন পায় তার দল জাতীয় পার্টি। তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিন :এমাজউদ্দিন
১৩ জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাকে অন্যায়ভাবে আঁকড়ে ধরে তাদের পরিণতি ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় যেমন হয়েছে, আপনার পরিণতিও তেমন হবে। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত অনশন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। প্রফেসর এমাজউদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ যতটুকু অর্জন করেছে তা থেকে একটুও এগোয়নি বরং পিছিয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ৩০ ডিসেম্বর না বলে ২৯ ডিসেম্বর বলাই ভালো। এবার নির্বাচনের নামে যে মস্ত বড় প্রহসন ঘটেছিল জাতি তা দেখেছে। সেদিন এক দুঃস্বপ্ন জাতি দেখেছে। আপনি অনেক চালাক। আপনার যতটুকু বুদ্ধিমত্তা আছে তা দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করুন। আপনার ন্যায়নীতি যতটুকু আছে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চাওয়ার পাওয়ার দিকে অগ্রসর হন। খালেদা জিয়ার বন্দিদশা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখি দুই কোটি টাকাকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই দুই কোটি টাকার একটি টাকাও অপচয় হয়নি। বরং এই টাকা বেড়ে সাত কোটি হয়েছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা যারা মেরেছে তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলছেন। এ ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিন। সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে ন্যায়বিচার আজ ভূলুণ্ঠিত। মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলুম, নির্যাতন করা হচ্ছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে যে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিন। অন্যথায় দেশে একটা বড় গণ বিষ্ফোরণ হবে। সেই বিষ্ফোরণে সরকারের পতন হবে। আজকের অনশন সারা বাংলার মানুষের আকাঙ্খার প্রতিফলন। আমি দাবি জানাই, খালেদা জিয়ার সকল মামলা স্থগিত করা হোক এবং তার সুচিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হোক। মানববন্ধনে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি, আইনজীবী আন্দোলন’ এর সভাপতি অ্যাড তৈমুর আলম খন্দকার এর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাড গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ।
জুলুম চালাচ্ছে সরকার :রিজভী
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণ আওয়ামী দুঃশাসনের কারণে তাদের ঘৃণা করে। এই ঘৃণার প্রতিশোধের অংশ হিসেবে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর জুলুম চালাচ্ছে সরকার। দেশের সম্পদ লুট এবং জনগণের রক্ত চুষতে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যাচ্ছে এই সরকার। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষ সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অবৈধ অর্থ উপার্জন করে সরকারের লোকজন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে রহুল কবির রিজভী বলেন, এই অনৈতিক সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার। বর্তমান মধ্যরাতের ভোটের সরকার জনগণের ভোটে বিশ্বাসী না হওয়ার কারণে তারা জনগণ নয়, বরং নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের নীতিতেই বিশ্বাস করে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করার জন্য দাবি জানান তিনি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে জনগণের আন্দোলন ও ক্ষোভে-বিক্ষোভে বিএনপি শামিল হতে দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যুগে যুগে স্বৈরাচারী শাসকদের জুলুমের শাসনকে ডিঙ্গিয়ে সেরা স্বৈরশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন শেখ হাসিনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসন যন্ত্র ও দলীয় সন্ত্রাসীদের ওপর ভর করে দেশে ভয়াবহ নব্য বাকশালী দুঃশাসন জারি রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের জনগণ যাতে সরকারের জুলুমের শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে, সে জন্য তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারান্তরীণ করা হয়েছে। শাসকগোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে মাটিচাপা দিয়ে বিএনপিসহ সব বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু জনগণ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর লালিত অলিক-অবাস্তব স্বপ্ন কোনোদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় মহিলা দলের নেতাকর্মীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দল সভানেত্রী রাজিয়া আলিম, উত্তরের সভানেত্রী পেয়ারা মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক আমেনা বেগম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিনা শাহীন, মিলি জাকারিয়া, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মিনা বেগম মিনি, স্বনির্ভও বিষয়ক সম্পাদক জেসমিন জাহান, সহ দপ্তর সম্পাদক গুলশান আরা মিতা প্রমুখ।
শপথ নিলেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপি'র নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে শপথ বাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, হারুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, জাহিদুর রহমান জাহিদ এবং রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।শপথ গ্রহণ শেষে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।উল্লেখ্য, বগুড়া-৬ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৭ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচন দেওয়া হয়। পরে গত ২৪ জুন ওই আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।