বিএনপির 'কালো পতাকা' মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
বিএনপির আজকের কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি। আজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন অনেকে। এ সময় হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তাদের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ফটকের কাছ থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এটা কোন ধরনের আচরণ? সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচির মধ্যে এভাবে জলকামান দিয়ে পানি ছিটানো, লাঠিপেটা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। রিজভী বলেন, ‘দলের মহাসচিবকেও তারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’ বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী। বেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাঁদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্যই তাঁদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
রাজনীতি করতে হলে জেলে যেতে হয় :এরশাদ
এনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও জনপ্রিয় নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছেন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এরশাদ আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরশাদ এসব কথা বলেন। ‘শোনা যাচ্ছে, আপনার দলে বিএনপির কিছু নেতা যোগ দিচ্ছেন’—এমন প্রশ্নের উত্তরে এরশাদ বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছে করে আমার দলে যোগ দিতে চায়, কেন তাদের নেব না?’ এরশাদ বলেন, ‘তারা যদি ভালো নেতা হয়, যোগ্য প্রার্থী হয়, তাদের অবশ্যই দলে নেব এবং আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেব।’ জাপায় আসতে চাওয়া বিএনপির এসব নেতা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘এটা এখন বলা যাবে না।’ এ কথা বলে হাসেন এরশাদ। এরশাদ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, তাতে কিছুই যায়-আসে না। তাদের জন্য নির্বাচন বন্ধ হবে না। নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আর আওয়ামী লীগ তো আছেই। ফলে, নির্বাচন না করার ব্যাপারে বিএনপির হুমকি-ধমকি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া নিয়ে এরশাদ বলেন, ‘রাজনীতি করলে জেলে যেতে হবে। আমিও জেলে গেছি। এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কী আছে। রায় দিয়েছেন বিচারক। দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিচার হয়েছে। তাঁর জেল হয়েছে। এখানে এ নিয়ে হইচই করে লাভ কী?’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন করাকে তিনি দোষের কিছু মনে করেন না জানিয়ে বলেন, তারা আন্দোলন করতেই পারে। তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না দেওয়াই তাদের জন্য মঙ্গল মনে করেন তিনি। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সরাসরি মোটর শোভাযাত্রাসহকারে রংপুর সার্কিট হাউসে আসেন। এ সময় নবনির্বাচিত সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, মহানগর জাপা সম্পাদক ইয়াসির আহামেদসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় এরশাদের সঙ্গে ছিলেন জাপার নেতা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিয়ার রহমান রাঙ্গা। এরশাদের ছোট ভাই জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে, বল্লেন এরশাদ
দেশে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে ইঙ্গিত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে বলে কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যখনই নির্বাচন হোক জাতীয় পার্টি অংশ নিতে প্রস্তুত। জাতীয় পার্টি এককভাবে ৩শআসনে প্রার্থী দেবে। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনীতিতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা কিন্তু অস্থির নই। আমরা ভালো আছি। আমাদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। জীবনে সুযোগ বারবার আসে না, আল্লাহ এবার সুযোগ দিয়েছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। রোববার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় রজনীগন্ধায় সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে জোটের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করার অনুরোধ জানিয়ে এরশাদ বলেছেন, এই সমাবেশে লাখো লোক আনতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে জাতীয় পার্টি অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। প্রার্থী যাচাই-বাছাই অনেক দূর এগিয়েছে। তৃণমূল থেকেও মতামত নেয়া হবে। আগামীতে বোর্ড বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটের রাজনীতির সংস্কৃতিকেও মাথায় রাখা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল দাবি করলেও একই সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও রয়েছে, বিষয়টি সাংঘর্ষিক কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে কখনও কখনও সরকারে থাকাটা বাঞ্ছনীয় হয়ে ওঠে। আমরা সংসদে কি রোল প্লে করছি সেটাও দেখার বিষয়। বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ায় বিষয়ে নানারকম গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তারা যেহেতু এখনও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়নি, তাই ধরে নিতে হবে তারা নির্বাচনে আসছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এটাই কাম্য। নির্বাচনে জিতলে সুষ্ঠু হয়েছে, আর হারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি- এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৯৯০ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাদের সঠিকভাবে নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। তবুও আমরা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচনে ছিলাম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সউম আবদুস সামাদ, মাওলানা আনম মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, অর্থ সচিব সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ, অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, ক্বারী মাওলানা আসাদুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ মুফতি মহিবুল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল হাছানাত, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, মুখপাত্র শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, সমন্বয়কারী আখতার হোসেন, এআরএম জাফর বিল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
দুই নেত্রীর লড়াইয়ে ক্লান্ত দেশের মানুষ ( বিবিসি)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নারীর লড়াইয়ে দেশের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছে বিবিসি। গতকাল রবিবার বিবিসি অনলাইনের ফিচার বিভাগে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই দাবি করেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যটির দক্ষিণ এশিয়া করেসপনডেন্ট জাস্টিন রৌউলাট। নিবন্ধটিতে বিরোধী দল দমনে সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। নিবন্ধটিতে বিবিসি প্রতিনিধি রৌলাট বলেছেন, বিএনপির বিগত সাধারণ নির্বাচন বর্জন করার অন্যতম কারণ ছিল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিম তহবিলের অপব্যবহারে সরকারের মামলা দায়ের করা। সেই মামলায়ই গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়েছে। নিবন্ধে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে চলা সমীহা জাগানো দুই ভদ্রমহিলার মধ্যে যে লড়াই চলে আসছে, সম্প্রতি বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজা সেই লড়াইয়ের সর্বশেষ চাল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার মধ্যে তিক্ত শত্রুতা দেশকে সহিংসতার পাঁকে ফেলে দিয়েছে। ফলে বাসে বোমা, নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা নির্মমভাবে নিয়মিতভাবে দেখা যায়। তবে তাঁদের সম্পর্ক সব সময়ই এমন শত্রুতাপূর্ণ ছিল এমন নয়। আশির দশকে তাঁরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করেছেন এবং একনায়ক এরশাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। দুই নারীরই রাজনীতিতে আসা পরিবারতান্ত্রিকভাবে। এরশাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার পর ১৯৯০ সাল থেকে দুজনই পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করে এসেছেন। তবে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি ধূর্ততার সঙ্গে পরাজিত করেছেন এবং নির্মমভাবে ক্ষমতা সুরক্ষিত করেছেন। শেখ হাসিনা সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন উন্মুক্ত ভোটাভুটিতে। বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করায় তাঁর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স পূর্ণ করেছে। এর ফলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। এ বিষয়ে বিবিসি প্রতিনিধি রৌলাট বাংলাদেশের এক প্রবীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন ছেড়ে দিলেও অন্য কোনো প্রার্থী কি দাঁড়াতে চাননি? জবাবে ওই পর্যবেক্ষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, অবশ্যই প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁরা শুধু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার অপেক্ষায়ই ছিলেন। অথবা হতে পারেন এ জন্য তাঁদের প্ররোচিত করা হয়েছিল। রৌলাটের দাবি, এই প্ররোচনাই বাংলাদেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। নিবন্ধ বলা হয়, সর্বশেষ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয়লাভ করে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন করেন এবং তার প্রধান অংশীদার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেন। আর গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজাও আগামী নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে পারে। এটা হলে শেখ হাসিনা (বিবিসির ভাষায়) টানা চতুর্থবারের মতো জয় পাবেন। কারণ বাংলাদেশি আইনে দুই বছরের বেশি কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। যদি খালেদা জিয়া আশা করছেন যে তিনি আপিল করবেন এবং এ মামলা ঝুলে থাকবে বিধায় তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন। রায়ের আগের দিন তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, এবার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। তবে খালেদা জিয়ার এটাও জানা যে তাঁর মাথার ওপর আরো ৩০টি মামলা ঝুলছে। গত মাসেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গণগ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকতে শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী খালেদা জিয়ার সমর্থকদের ওপর লাঠিপেটা করেছে, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। নিবন্ধে বলা হয়, এই অবস্থায় বাংলাদেশে রাস্তার পাশে যেকোনো চায়ের দোকানে দুই নেত্রীর এই লড়াইয়ের কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে জনগণের বেদনার অনুভূতিও উঠে আসে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশিরা দুই নারীর ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তারা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি দুই নারীকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সরাতে পারবে না। তাদের দুজনের বয়স এখন ৭০-এর ঘরে হলেও তাঁরা তাঁদের লড়াই বন্ধ করতে নারাজ। রৌলাট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাষ্যকার বলতেই পারেন বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতি ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। তবে খালেদা জিয়া শেষ হয়ে যেতে রাজি নন। গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালত ছাড়ার আগে বলেছেন, আমি ফিরে আসব। কান্নাকাটির কিছু নেই।
খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডিত হলেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজাও খাটেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি)। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজা খেটেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামির বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণিত হয়নি দাবি করে সব আসামির খালাস দাবি করেছেন। অন্যদিকে, দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন দাবি করে খালেদা জিয়াসহ সব আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছেন। এদিকে, রায় শুনতে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাবেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ছানাউল্লাহ মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন বলে তিনি জানান।
আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তত :খালেদা জিয়া
বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগই প্রকাশ্য সন্ত্রাস করে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে গুলশানে চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, 'আদালত রায় দেওয়ার বহু আগেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নয়, শাসক মহলই রায় ঠিক করছে।' প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার 'চাপের মুখে' পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, আদালত চাপ উপেক্ষা করে রায় দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, 'ন্যায় বিচার হলে আমার কিছু হবে না, আমি বেকসুর খালাস পাব। আর যদি শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য অন্য কোনো রায় হয়, তাহলে তা কলঙ্কের প্রতীক হয়ে থাকবে। নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতেই এই মামলায় 'সাজানো রায়' দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, 'আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তত। জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না। আমি মাথা নত করব না। একদলীয় শাসন দীর্ঘায়িত করার খায়েস পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে :রিজভী
জিয়া অরফাজের ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা দেয়া হলে সরকারের যেকোনো হুমকির মুখে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে।এ কথা বলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে। ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।বিএনপি নেতাকর্মীদের আশঙ্কা যে কোনো সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থানরত দলটির কর্মী সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আগামী ৮ই ফেব্রুয়রি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তায় বিজিবিও নামানো হলো
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলার রায়কে সামনে রেখে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশ এবার নিরাপত্তায় নামানো হলো আধাসামরিক বাহিনী বিজিবিকে।দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের অনুরোধে বাহিনীটিকে মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত সহিংসতাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোতেই প্রাথমিক পর্যায়ে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী ববস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীতে নিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।সোমবার রাত থেকেই বিশেষ টহলে নেমেছে র‌্যাবও। তারাও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চৌকির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালতের এলাকায় বিভিন্ন অংশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ।রায়ের দিন রাজধানীতে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনাতেও একই কথা বলা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের ওপর চলছে নজরদারি।
নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দাবী বিএনপির
আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বলে দাবী করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন অন্য কোনোভাবে নয়, পরিবর্তন আসতে হবে ভোটের মাধ্যমে। তারা (সরকার) বিএনপিকে মাইনাস করে নির্বাচন করতে চায়। এসব করে তারা কীভাবে এককভাবে নির্বাচন করবে তার ষড়যন্ত্র করছে। আগামী নির্বাচনে ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইভিএন-টিবিএম চলবে না। সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে খালেদা বলেন, সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে- যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট দিতে পারে। হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভার উদ্বোধনে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়ার ইংগিত দিয়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হবে আমাদের শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক। সেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি যে হবে, সেই কর্মসূচিতে আমি জনগনকেও আহবান করব।
দিনাজপুরে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচার
আওয়ামী লীগ-বিএনপি জোট সরকার ১৪ বছর দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী যেই হোক ভোট দিন লাঙ্গলে। শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা স্মরণীতে এক পথসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুলিশের চাকুরী নিতে ১৬ লক্ষ, পিয়নের চাকুরী নিতে ১০ লক্ষ আর মাষ্টারী চাকুরী নিতে ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ও আওয়ামী লীগ ১৪ বছর সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী যেই হোক লাঙ্গলে ভোট দিয়ে জনগনের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করুন। তাঁর ৯ বছরের শাসনামলকে সফল ও গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সহায়ক সরকার বলে কিছু নেই। উপজেলা সভাপতি হাসান মোঃ নিজামুদ্দৌলা মতির সভাপতিত্বে পথ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাপার মহাসচিব এ.বি.এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মোঃ মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক আহম্মেদ শফি রুবেল, উপজেলা সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহিনুর ইসলাম, পৌর শাখার আহ্বায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন ও জাতীয় যুব সংহতি নেতা মাহাবুব হোসেন, জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতা নেহাল হোসেন লায়ন। সভা পরিচালনা করেন নাজমুল ইসলাম মিলন।
সিলেট থেকে এরশাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি এ প্রচারণা শুরু করলেন। এ সময় এরশাদ বলেছেন, বর্তমান সংবিধান মেনেই তিনি নির্বাচনে নেমেছেন। তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তিনি আর চান না। জাতীয়পার্টি আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে নামবে মন্তব্য করে এরশাদ জানান- তার দলের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ মামলার বিচারের রায় সবাইকে মেনে নিয়ে শান্ত থাকার আহবান জানান এরশাদ।
রাষ্ট্রপতি পদে ফের আবদুল হামিদকে মনোনয়ন
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকেই ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনীত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, সভায় সর্বসম্মতভাবে মো. আবদুল হামিদকেই আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী, ৮ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের নাম প্রস্তাব করলে দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ তা সমর্থন করেন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ বিষয়ে সকলে একমত হন। গত ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১৮ ফেব্রুয়ারি ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীরা ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৭ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা বলেন, সম্প্রতি দুজন সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় ৩৫০ আসনের সংসদের বর্তমান সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৮ জন। বিদ্যমান সদস্য সংখ্যা দিয়েই জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারবে। নূরুল হুদা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
পুলিশের ওপর হামলা বিএনপি করেনি: ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাইকোর্টের সামনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছেন তাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। অনুপ্রবেশকারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ফখরুল বলেন, হাইকোর্টের সামনে যে হামলা হয়েছে, আমরা নিজেরাই তাদের এক্সাক্টলি চিনতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তল্লাশির নাম করে দলের শত শত নেতাকর্মীর বাসায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি বলেন, গতরাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে গুলশান ১-এর পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। পরে রাত ১২টায় তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে পুলিশ। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে রাত প্রায় ১২টার দিকে তার শান্তিনগরের বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করেনি বলে জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে পুলিশ। এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের ধানমণ্ডির বাড়ি, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর শান্তিনগরের বাড়ি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের বাসা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসা, মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের পল্লবীর বাসা, আইনজীবী রফিক সিকদারের বাসা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিনের শান্তিনগরের বাসা, যুবদল নেতা কাজী আজিজুল হাকিম আরজুর বাসাসহ শত শত বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রমনা হোটেল থেকে বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে গ্রেফতার কেরেছ পুলিশ। মঙ্গলবার যুবদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব হাসান রিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৭০ নেতা গ্রেফতার হন। তাদের মধ্যে দক্ষিণখান থানার বিএনপি নেতা এম মিন্নত আলী, হারুন অর রশীদ, মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আনোয়ার হোসেন, পল্লবী থানা বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানা বিএনপি নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানা বিএনপি নেতা ডল, কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা বাবুল, মানিক, নিউমার্কেট থানা বিএনপি নেতা মতিউর রহমান, চকবাজার থানা বিএনপি নেতা আলামীন, শ্যামপুর থানা বিএনপি নেতা জামান আহমেদ পিন্টু, পল্টন থানা বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, আরজু, ঢাকা মহানগর শ্রমিক দল নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম ও আলম দেওয়ান উল্লেখযোগ্য।
নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকার দাবি রিজভীর
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকার জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করা হলেও প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারায় হয়রানিমূলক। এ ধারার আওতায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নতুন করে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ আইনে বাকস্বাধীনতাকে অপরাধে পরিণত করা হয়েছে। গণতন্ত্রকামীরাই ক্রিমিনাল হিসেবে অভিহিত হবে। ফিরে যাওয়া হবে মধ্যযুগের অন্ধকারে। এ সম্পর্কে কোনো রিরূপ মন্তব্য করা যাবে না, প্রশ্ন করা যাবে না, সমালোচনা করলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হবে। রিজভী বলেন, আমেরিকার সংবিধানে ১৭৯১ সালে তারা বলেছিল, সংসদ বাকস্বাধীনতা খর্ব করে কোনো আইন পাস করতে পারবে না। ওটা হল গণতন্ত্র। এটা পনের শ’, ষোল শ’ এবং সতের শ’ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিতে বড় বড় রাজারা করতেন। তারা তখন আইন করতেন রাজার ব্যাপারে, তাদের পুত্র, কন্যা, তাদের ড্রেস ও মুকুটের ব্যাপারে- কোনো বিরূপ মন্তব্য করলে শূলে চড়ানো হবে। হাজার হাজার লোককে মধ্যযুগে শূলে চড়ানো হয়েছে। মধ্যযুগ আর গণতন্ত্রের পার্থক্য হল- গণতন্ত্রে সবাই কথা বলতে পারবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, বহুল আলোচিত নিপীড়নমূলক আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারাসহ ৫টি ধারা বিলুপ্ত করে গতকাল ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’র খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। যা আরও একটি কালো আইন হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ আইনটি পাস হলে মানুষের বাকস্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলেও কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতি যাতে প্রকাশ না পায় বা কেউ প্রকাশ করতে না পারে সে জন্যই এ আইনটি করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া আইনের খসড়ায় কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ সংক্রান্ত ৩২ ধারায় সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আসাতুল কবির শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮ ফেব্রুয়ারি সতর্ক অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি সতর্ক অবস্থানে থাকবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির যে কোনো ধরনের সহিংসতাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে শাসক দলের। ওইদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। সে অনুযায়ী রায়ের আগে ও পরে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে ইতোমধ্যে পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত জেলাগুলোয় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওইসব জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের যেসব নেতাকর্মী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, তাদের গোপন তালিকা ধরে গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ঢাকায় সহিংসতা চালাতে পারে- এমন বার্তা সরকারের কাছে রয়েছে। তবে বিএনপির সহিংসতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে মোকাবিলার পক্ষে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা। তাদের মতে, বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে বদনাম কুড়াবে না আওয়ামী লীগ। বিএনপির নৈরাজ্য ঠেকানোর জন্য র্যাব-পুলিশই যথেষ্ট। তার পরও আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি থাকবে, প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে দলটির নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সোমবার বিকালে বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। রায় কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে বিষয়টি প্রশাসন দেখবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ দেশে আইনের শাসন সুরক্ষিত করা। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তিত নই আমরা। আওয়ামী লীগ চায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে। যারা অপরাধী তাদের শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি যারা অবজ্ঞা প্রদর্শন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অতীতে যারা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তাদের ধরতে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান। এরই অংশ হিসেবে তাদের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের নতুন আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শিগগিরই বৈঠক করবেন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে। কাল তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, রায় ঘিরে কেউ নৈরাজ্যের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ঠেকাতে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজধানীর মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা দেওয়া হলে তারা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে বিএনপি দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায় ঘিরে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই রাজধানীতে থাকবে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা। রাজধানীর সব থানায় মোতায়েন করা হবে বাড়তি পুলিশ। নিরাপত্তাব্যবস্থায় থাকবে জলকামান, এপিসিসহ অন্যান্য ব্যবস্থাও। ওইদিন সকাল থেকেই পুরান ঢাকার বিশেষ আদালত ঘিরে নেওয়া হবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, পল্টন, জিরোপয়েন্ট, মগবাজার, মালিবাগ, আজিমপুর মোড়সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে ইউনিফর্মে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে। রাস্তায় সতর্ক পাহারায় থাকবে র্যাব। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে যেসব বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের খোঁজখবর এখনই শুরু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের ওপর এখন গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গতিবিধিও নজরে রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা। আওয়ামী লীগের নেতারা আরও জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় এসে জড়ো হতে না পারেন, সে জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয়। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে যেন মিছিল নিয়ে কেউ রাজপথে নামতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, রাজধানীর পাড়া-মহল্লা থেকে বেরিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন নৈরাজ্য চালাতে না পারে, সে জন্য আমাদের লক্ষ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সতর্ক অবস্থানে থাকবে শাসক দল আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা সফর চলমান রয়েছে। এসব সফরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে যে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকেও শক্ত অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো আরও জানায়, খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তাই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠ দখলে রাখবে। ইতোমধ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে এ কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ, যাতে বিএনপি রায়কে ইস্যু করে মাঠে নামতে না পারে।