বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ
অনলাইন ডেস্ক :ডিজিটাল জালিয়াতি করতেই সরকার ইভিএম মেশিনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, সরকার আরেকটি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তারা জানে জনগণের সমর্থন তাদের সাথে নেই। আর সেই জন্য ভোট কারচুপি করে নিজেদের পক্ষে ফলাফল নিতেই ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করেছে। ইভিএম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরণের এই পদ্ধতি ব্যবহার চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সংলাপ চলাকালে ও পরর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে পুরোনো ভুত জেগে উঠলো কেন? আসলে এই ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন কমিশনের মহা আয়োজনের কল কাঠি নাড়ছে বর্তমান সরকার। রিজভী আহমেদ বলেন, ইসি সচিব বলেছেন, জাতীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের। গত সোমবার তিনি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে আড়াই হাজার ইভিএম মেশিন কেনা হয়েছে। আরো ২৬০০ কোটি টাকার ইভিএম মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। এই বিতর্কিত মেশিন নিয়ে সরকারের কেন এত তোড়জোড় সে বিষয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সরকার কেন এ অগ্রহণযোগ্য বিতর্কিত মেশিন কিনতে উন্মুখ সেটা কারো বুঝতে বাকী নেই। আমরা জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যাবহারের দাবী থেকে সরে আসতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী কালের সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমাবেশের সব প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি। পুলিশকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমাদের দুজন প্রতিবিধান মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গেছেন তার সাথে কথা বলতে। আমরা আশা করছি প্রশাসন আমাদের সমাবেশের অনুমতি দিবে। ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন- চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, কবির মুরাদ, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আওয়াল খান প্রমুখ।
খালেজা জিয়া গুরুতর অসুস্থ-অভিযোগ সঠিক নয়
অনলাইন ডেস্ক: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘এমন কোনো নতুন রোগে আক্রান্ত হননি যে জন্য তিনি (খালেদা) গুরুতর অবস্থায় আছেন। জেলকোড অনুযায়ী যদি আরও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে তা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চাইলে সে ব্যবস্থা করা কঠিন।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আগের অসুস্থতার চিকিৎসা চলছে। তিনি নতুন কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন না। সুতরাং তিনি গুরুতর অসুস্থ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সে অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি আর সেখানে যাবেন না। পরে আমরা সিএমএইচে নেয়ার কথা বলেছি, তিনি সেখানেও যাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রীও অসুস্থবোধ করলে সিএমএইচে যান, সেখানেও (সিএমএইচ) যদি তিনি না যান, তবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নেয়াটা কঠিন। সরকারিভাবে তার জন্য যা যা করার আমরা তা গ্রহণ করেছি। তার যেসব ডাক্তারা সেবা দিয়ে থাকেন তারা সার্বক্ষণিক দেখছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার দেখবেন।’ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সাথে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? -সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তৈরি করা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা কমন পড়ছে তাদের ধরা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। সে জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একরামের পরিবারের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আর র‌্যাব সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে বিদেশ চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারো কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছে খবর আসে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আইনমন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। সেখানে আমি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য। কে কোথায় সেসব দেশের আইন ও দেশীয় আইন মিলে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ যায় না। ভুলে যান কেন? কারা কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবনে হামলা করেছে। ভাঙচুর হয়েছে। ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরা হচ্ছে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, যে অন্যায় করবে তার বিচার হতেই হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেজন্য সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এ কথা বলতে পারি, তদন্তের রুট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যদি বিচারিক ব্যবস্থারও প্রয়োজন হয় খুব শিগগিরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে জোর গলায় বলতে পারি, কোউকে ছাড় দিচ্ছি না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। আলোকিত বাংলাদেশ
হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়: পানিসম্পদ মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়ন ক্ষেত্রের প্রভূত অগ্রগতি হয়েছে মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী থাকলেই এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা জাগ্রত হয় এবং ভাগ্য পরিবর্তন বেশি বেশি ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীতেও যাতে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসে সে জন্য এ এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে উন্নয়নের এই ধারা আরও গতি অর্জন করতে পারে।’ সোমবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালীর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, নদী ভাঙ্গনরোধে রক্ষা বাঁধ ও সেতু নির্মাণ কাজ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত কয়েকটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপজেলা জেপির নেতা কর্মী, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সুমীসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল হক, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, কাজি ওয়াহেদুজ্জামান বাচ্চু, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০ দলীয় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা। তারা বলছেন, অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সরকারের লোভনীয় প্রস্তাব নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে জোটের ঐক্যে। এদিকে, সরকারের প্ররোচনায় জোট ছাড়লে জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জামায়াতই বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সিলেট সিটি নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপি দলীয় একক প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জামায়াত আলাদা করে প্রার্থী দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জোটের বৈঠকে দফায় দফায় দেন-দরবার হলেও এ নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী রাখার ব্যাপারে অনড় থাকে জামায়াত। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর সখ্য নিয়ে কানাঘোষা, জামায়াতের আমিরের কারামুক্তি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ, জল্পনা-কল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, এসব কি তাহলে জামায়াতের জোটত্যাগের আলামত? বিভিন্ন সমীকরণ বিবেচনায় জোটের শরীক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহীম এমনটাই অাভাস দিয়ে বলেছেন, জামায়াতকে বোঝাতে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা জামায়াতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। জামায়াত উত্তর দিয়েছে তারা তাদের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবে। নির্বাচনের আগে বড় দু'টি দলের বাইরের দলগুলোর কাছে অনেক লোভনীয় প্রস্তাব আসবে। একটু এদিক-ওদিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমারও মনে হয়। এই মুহূর্তে জোট ছাড়লে মূল্য দিতে হবে জামায়াতকেই এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, ১৯৯৬ সালে তারা মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু জোটবদ্ধভাবে তারা ১৭টি আসন পেয়েছিল। তাদের ভাবতে হবে তারা কম আসন চায় নাকি বেশি আসন। জোট ভাঙলেও ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করে মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ২০ দলীয় জোটে আমরা যারা অবিচল আছি। সামনের দিনগুলোতেও থাকবো। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জোটে কোন ধরণের উনিশ-বিশ হবে না। কিন্তু কেউ যদি জোট থেকে এদিক-ওদিক যায় তাহলে তার সিদ্ধান্তটাই ভুল হবে। কিন্তু মওদুদ আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ভোটের রাজনীতির স্বার্থেই ক্ষমতাসীনরা জামায়াতকে জোট থেকে সরাতে চাইছে। তিনি বলেন, সরকার আগে বলেছে জামায়াতকে ছেড়ে আসলে কোনো সমস্যা নেই। এখন দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের লোকজনই আওয়ামী লীগে যোগদান করছে, এতে আবার তাদের কোনো সমস্যা নেই। সরকার সবসময়ই দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে আসছে। এটা সরকারের একটা অপকৌশল হতে পারে। কিন্তু, তাতে জোটের কোন ক্ষতি হবে না, বিএনপিরও কোন ক্ষতি হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বিএনপির এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বহির্বিশ্বের চাপে বিএনপি নিজেই জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দিচ্ছে। রাজ্জাক বলেন, আমরা কোন মদত দিচ্ছি না। তারা নিজেরাই বুঝতে পেরেছে যে, পশ্চিমা বিশ্ব, উন্নত বিশ্ব, গণতান্ত্রিক বিশ্ব চাচ্ছে যে, জামায়াতের মতো ধর্মান্ধ, মানবতাবিরোধী দলের কাছ থেকে বিএনপির সরে আসা উচিৎ। বিএনপি এখন যাই করুক আগামী নির্বাচনে তারা সমর্থন পাবে না বলেও মন্তব্য আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যের।
পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা জোট রাজনীতি
অনলাইন ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। কী হয়, কী হবে, নানা অনিশ্চয়তা। তারপরও পর্দার অন্তরালে তৎপরতা থেমে নেই। নিজেদের প্রস্তুত করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এরই মধ্যে দলের তৃণমূলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে ধরে নিয়ে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনই দলটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে করছে। ওদিকে, নানা অনিশ্চয়তার পরও বিএনপি নির্বাচনের এক ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি এখন সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করছে অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠনের জন্য। বিএনপির পক্ষ থেকে একে জাতীয় ঐক্য নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এ জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্প ধারা, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ দলই অভিন্ন স্বার্থে এ জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একমত হয়েছে। শুরুর দিকে ভিন্ন মঞ্চ থেকে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। তবে, বেশ কিছু জটিলতাও এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের ভেতরও কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে জোটের বাইরে গিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। অন্য সিটিগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির পক্ষে সেভাবে সরব নেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান কোন দিকে যায় সেদিকে দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের। জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে, বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব, প্রলোভন আর চাপ এ তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সিটি নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে হয়েছে। এরআগে নানা চাপ এবং প্রলোভনে ২০ দলের শরিক বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। সামনের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরো প্রবল হতে পারে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ নিয়ে ছাড় দিতেও বেশিরভাগ দল প্রস্তুত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে জোটের নেতৃত্বে বড় ধরনের চমকও থাকতে পারে। সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির আগামী দিনে কী ভূমিকা হতে পারে তা নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা রয়েছে। অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা নাটকীয়তা তৈরি করেছিলেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে কখনও তার নির্বাচনী ঐক্য হয়নি। চার দলীয় জোট গঠনের সময় এরশাদ ঐক্যের কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেও পরে জোট ত্যাগ করেন। এখন জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদও একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, আগামীদিনে মহাজোটে জাতীয় পার্টির স্থান অন্য একটি দল নিতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। যে দলটি এখন বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টার আলোচনাতেও আছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে পরে রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সর্বত্রই ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। এবং এ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা সর্বত্র একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে তা বলাই বাহুল্য। নানা ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো কিছু নড়াচড়ার চেষ্টা করলেও সরকারের যে তা পছন্দ হয়নি তা তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারতের এক ধরনের ঠান্ডা লড়াইয়ের খবর মাঝে মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বেরোয়। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে এটা বুঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, চীনের অবস্থান শুধুই বাণিজ্যিক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে এখন বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরাও কোনো আশার কথা বলছেন না। দলটি শেষ পর্যন্ত এ ইস্যুতে কী কৌশল অবলম্বন করে, আদৌ কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে কি-না সেদিকেও খেয়াল রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রকাশ্যে রাজনীতি এখন স্থির। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ। পর্দার আড়ালে জোট রাজনীতিতে নড়াচড়া চলছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো তীব্র হবে। যদিও তীব্র প্রতিযোগিতার কোনো আভাস নেই। সূত্র: মানবজমিন
২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় বিএনপির বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোববার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা আসাদুল করীম শাহীন, আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির বিক্ষোভ ২০ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক :কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোববার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা আসাদুল করীম শাহীন, আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে: মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: এখন সময় খুব কম। আর মাত্র আড়াই মাস সময় আছে। এ অল্প সময়ের মাঝে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে শারীরিক ও মানসিকভাবে। এবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেব না। বিনা চ্যালেঞ্জে সরকারকে একতরফা নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ বলেন, এবার সরকারকে আগের মতো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সরকার যদি বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে সেটি প্রতিহত করা হবে। খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। সাবেক এ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হতে হবে। ২০১৪ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা প্রস্তুতি নিন, আর যে আড়াই মাস সময় আছে তার মধ্যে নিজেদের তৈরি করতে হবে সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে। আমরা সঠিক সময়ে কর্মসূচি দেওয়া। এখন কর্মসূচি দিলাম সেটি সফল না হয় তাহলে লাভ কি হবে? দেখেন না এখনো সব কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই সময় মতো আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। সে জন্য প্রস্তুত থাকুন। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এখন সময় এসেছে সরকারে অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার। গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সময় মতো ডাক আসবে। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি বা বিরোধী দল নয় আওয়ামী লীগের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন তারাও স্বীকার করবেন, আজ যে সংকট তৈরি হয়েছে, অতীতে তা আর কখনো হয়নি। আজ আমাদের বাংলাদেশ অনেক পেছনে চলে গেছে। আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো অনুপস্থিত। আমাদের সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। অথচ এ স্বাধীনতার জন্য আমরা ২৬ বছর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কোটা আন্দোলনের বিষয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন কোটা থাকবে না। এখন আবার সেই প্রধানমন্ত্রীই সংসদে বললেন হাইকোর্টের রায় আছে, তাই মুক্তিযুদ্ধ কোটা বাতিল হবে না। যদি আদালতের রায় থাকে, তাহলে সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের উচিত আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা রক্ষা করা। কাজটি আসলে এপ্রিলের পরেই করা দরকার ছিল সরকারের। প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া।
বিএনপি নেতাদের দেখে মনেই হয় না নেত্রী জেলে!
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৫ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক কিংবা কোনো সম্পাদক, কাউকে দেখে কিংবা তাদের ভাব-ভঙ্গিতে মনেই হয় না যে খালেদা জিয়া ৫ মাস ধরে কারাগারে। বিএনপির কর্মসূচি থেকে শুরু করে নেতাদের চালচলনেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গত ৫ মাসে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে তেমন কোনো কঠোর কোনো কর্মসূচিও চোখে পড়েনি। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতেও লোকসমাগম তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। সিনিয়র নেতাদের কার্যকলাপে মনে হয় তারা অনেক ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় রমজান মাস কিংবা ঈদ কোনোটাতেই প্রভাব পড়েনি নেতাদের কাজে-কর্মে। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন রাস্তাঘাটে, চায়ের টেবিলের আলোচনায় এ ধরনের কথাই বলছেন। সূত্র জানায়, শুধু মিডিয়ার সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চান নেতারা। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। একজন অপরজনকে বলেন, ঘরে বসে আন্দোলন করলে হবে না। রাস্তায় নামতে হবে। কেউ আবার কঠোর কর্মসূচির কথা বলেন। কিন্তু কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা কে, কখন, কিভাবে দেবেন সে বিষয়ে কেউ কিছু বলেন না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও বক্তৃতা বিবৃতিতে বলেন আইনি লড়াইয়ে নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না। নেত্রীর মুক্তির জন্য কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। কিন্তু সেই কঠোর কর্মসূচি কী, কখন ঘোষণা হবে সেটা কেউ জানেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ গত ৫ মাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বলেছেন সরকার খালেদা জিয়াকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না। আইনের মাধ্যমে তিনি শিগগিরই বের হয়ে আসবেন। আবার তিনিই বলেছেন, তাকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। উপযুক্ত সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে এই সরকার মুক্তি দেবে না। আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘর থেকে বাইরে বের হতে হবে। ঘরের মধ্যে সভা-সমাবেশ করলে কোনো লাভ হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের কাছে কে কিভাবে যাবে তার কোনো নির্দেশনা নেই তার বক্তৃতায়। নেতাদের এসব বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সিনিয়র নেতারা আন্দোলন কর্মসূচির পক্ষে কেউ নেই। তাদের দেখে মনে হয় সবাই ভালো আছেন। সুতরাং আন্দোলনও হবে না, খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন না। আওয়ামী লীগ সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে মানবাধিকার নিয়ে কূটনীতিকদের দাওয়াত দিয়ে যে গোলটেবিল করা হলো, সেখানে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কঠোর কোনো বক্তব্য ছিল না। দু’একজন নেতা বক্তৃতার মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি উচ্চারণ করলেও প্রামাণ্য চিত্রে খালেদা জিয়ার মামলা বা তার জেল জীবন নিয়ে কোনো কিছু দেখানো হয়নি। গত রমজানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, নেত্রীর মাধ্যমে যাদের গাড়ি বাড়ি হয়েছে। সুনাম হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছেন এমপি হয়েছেন। তাদের কি নেত্রীর জন্য মোটেও দরদ হয় না। তাকে জেলে রেখে ঈদ করেন, কেনাকাটা করেন, এতে কি মোটেও গায়ে বাধে না? গয়েশ্বরের সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নেতাদের চাল-চলন দেখে মোটেই বোঝা যাবে না, যে তাদের নেত্রীর কারাবাসের ৫ মাস ইতোমধ্যেই শেষ। আদৌ তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পাবেন কী না তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। একের পর এক যেভাবে তাকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে তাতে তার মুক্তি এখন সুদূর পরাহত। প্রতীকী অনশনে আশানুরূপ জনসমাগম হয়নি স্বীকার করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, অনুমতি পাওয়া না পাওয়া ও পুলিশী হয়রানির কারণেই সেখানে উপস্থিতি কম ছিল। তবে নেত্রী জেলে নেতাদের আচরণে এমনটি মনে হয় না এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আব্দুস সালাম বলেন, আমরা নেত্রীর জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে আমরা পুলিশী নির্যাতনে জর্জরিত এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর