খালেদার গুলশান কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধদের হামলা-ভাঙচুর
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে তালা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেও শান্ত হয়নি মনোনয়ন বঞ্চিত সমর্থকরা। এবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা। গুলশান কার্যালয় থেকে বার বার মাইকে মিছিল স্লোগান না দেয়ার ঘোষণা দিলেও তা ভ্রুক্ষেপ করছে না মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা-১২ আসনের আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর একটা আসনের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুরে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পক্ষে স্লোগান এবং বিক্ষোভ করেন। পরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফলাফল কলাপসিবল গেট গেইটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গেট খুলে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সমর্থকরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে। উল্লেখ্য, চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এহসানুল হক মিলন। কিন্তু সেখানে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন। আলোকিত বাংলাদেশ
খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল তিন আসনেই
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বৈধতার জন্য নির্বাচন কমিশনে তার পক্ষে করা আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পথ বন্ধ হয়ে গেল। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিলের ওপর শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তার আপিল নামঞ্জুর করা হয়। ফলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়াটা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। তবে ইসির এই সিদ্ধান্তের ওপর উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। শনিবার সেই আপিল আবেদনের ওপর নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য ছিল। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিকালে আদেশ দেয়া জন্য পেন্ডিং রেখেছিল ইসি। মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ১২/১-এর ‘ঘ’ অনুসারে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। সেখানে যেসব সেকশন রয়েছে সেসব কানেকটেড নির্বাচনী আচরণ-সংক্রান্ত। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রার্থিতা বৈধ আব্বাস-আফরোজার
অনলাইন ডেস্ক: মনোনয়ন ফিরে পেলেন ঢাকা-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ঢাকা-৯ আসনে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের প্রার্থিতাও বৈধ বলে ঘোষণা করে কমিশন। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) ইসির অস্থায়ী এজলাসে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের করা আপিল (৪৪৪ নম্বর) শুনানি শেষে মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বহালের আদেশ দেয় কমিশন। এর পরপরই আব্বাসপত্নীর প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহাল রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। একই দিন (২ ডিসেম্বর) ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা না দেয়ায় আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ টেলিকমের কাছ থেকে আফরোজা আব্বাসের ঋণখেলাপি থাকার কথা সেসময় জানান তিনি। প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানির তৃতীয় দিন চলছে। আজ শুনানির শেষদিনও। আপিল শুনানির প্রথম দিনে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী ১ থেকে ১৬০, দ্বিতীয় দিন ৭ ডিসেম্বর ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর প্রার্থীর আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শেষদিন আজ (৮ ডিসেম্বর) ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি হয়। প্রতিটি আবেদনের শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গে রায় জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপিও সরবরাহ করা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৫৪৩ প্রার্থী আপিল করেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হয় আপিল শুনানি। প্রার্থীদের আপিল শুনানি নিষ্পত্তি করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। গত ২৮ নভেরের মধ্যে তিন হাজার ৬৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমাদেন। বাছাইয়ে বাদ পড়ে ৭৮৬টি, বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দুই হাজার ২৭৯টি। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।
স্থগিত কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন স্থগিত রেখেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ এবং টাঙ্গাইল-৮ এই দুই আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। শনিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। তার মানে, এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি। এর ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি লড়তে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার কিছু পরে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ১১ তলায় এ লক্ষ্যে গঠিত এজলাসে আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করছেন। ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিচারকদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই আপিল শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আবেদনের ওপর শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আর গতকাল শুক্রবার ১৫০টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এর মধ্যে ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি এদিন ৬৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল এবং সাতজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। দুদিনে মোট ১৫৮ জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পান। এতে ভোটের মাঠে তাদের লড়াইয়ের আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকল না। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের তিনটি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র রয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি। এর মধ্যে আপিলের আবেদন এসেছে ৫৪৩টি। ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
বৈধ হলেন যারা শেষ দিনের আপিলে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিরুদ্ধে প্রার্থীদের করা তিনদিনের আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি আজ শেষ দিনের মতো শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টার কিছু পরে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ১১ তলায় এ লক্ষ্যে গঠিত এজলাসে আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করছেন। ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিচারকদের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ যারা মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়েছেন তারা হলেন- নঈম জাহাঙ্গীর (জামালপুর-৩); আব্দুল কাঈয়ুম খান (নেত্রকোনা-১); এ কে এম লুৎফর রহমান (ময়মনসিংহ-১); চৌধুরী মোহাম্মদ ইসহাক (ময়মনসিংহ-৬); জেড খান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন (চাঁদপুর-৪); মো. মহিউদ্দিন মোল্লা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২); মো. নাসির উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫); মামা চিং (বান্দরবান); সৈয়দ মাহামুদুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩); এম মোরশেদ খান (চট্টগ্রাম-৮); মো. আবু বকর সিদ্দিক (রাজশাহী-৫)। আপিল করে মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন- মো. আবু সহিদ চাঁদ (রাজশাহী-৬) আলেয়া বেগম (জয়পুরহাট-১); মো. মজিবুর রহমান (রাজশাহী-১); মো. ইবাদুল খালাসী (যশোর-৫); মো. তছির উদ্দিন (কুষ্টিয়া-৪); আবু তালেব সেলিম (ঝিনাইদহ-২); মো. সাজেদুর রহমান (যশোর-১); লিটন মোল্লাহ (যশোর-৪); রবিউল ইসলাম (যশোর-৫); মোছা. মেরিনা আক্তার (চুয়াডাঙ্গা-১)। এ ছাড়া আজ আপিলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই আপিল শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আবেদনের ওপর শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আর গতকাল শুক্রবার ১৫০টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এর মধ্যে ৭৮ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি এদিন ৬৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল এবং সাতজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে নির্বাচন কমিশন। দুদিনে মোট ১৫৮ জন তাদের মনোনয়ন ফিরে পান। এতে ভোটের মাঠে তাদের লড়াইয়ের আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকল না। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের তিনটি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র রয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি। এর মধ্যে আপিলের আবেদন এসেছে ৫৪৩টি। ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
যাদের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র বাতিল হল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল-নিষ্পত্তির শেষ দিন আজ শনিবার। সকাল ১০ টা থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শেষ দিনে বাকি ২৩৩ জনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শেষ দিন আপিলে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে- মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্রগ্রাম-৫), মাওলানা আবু সাঈদ (চট্রগ্রাম-১১) এরশাদুর রহমান (নেত্রকোণা-১), মো. জাকির হোসেন (নেত্রকোণা-৫), শফী আহমেদ (নেত্রকোণা-৪), মো. ওয়ালিদুল (ময়মনসিংহ-৪), সামীউল আলম (ময়মনসিংহ-৩), এমএ রাজ্জাক খান (ময়মনসিংহ-৭), আলমগীর কবির (ময়মনসিংহ-৯), মাসুম বিল্লাহ (জামালপুর-৩), এসএম আসরাফুল হক (ময়মনসিংহ-১১), আহসানুল আলম কিশোর (কুমিল্লা-৩), রুহুর আমিন চৌধুরী (কুমিল্লা-১০)। এর আগে দুদিনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন ১৫৮ জন। বাতিল বা খারিজ হয়েছে ১৪১ জনের আপিল। দুই দিনে ৩১০টি আপিল শুনানি করে ইসি। বাকিগুলো পেন্ডিং রয়েছে।
ইসিতে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আজ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কিনা তা আজ শনিবার নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করবে ইসি। কারাগারে থাকায় আপিল আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তবে তাঁর আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিবেন। আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ মনোভাব দেখালে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষে মনোনয়নপত্র কেনার মধ্য দিয়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা হয়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন। গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন। আজ শনিবার তাঁর আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করার কথা। দুপুরের দিকে খালেদা জিয়ার শুনানি হতে পারে।