বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা ও কর্মসূচি ঘোষণা আজ
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং বিএনপির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর ঐক্যর রূপরেখা ঘোষণা করা হবে আজ। শনিবার বিকাল পাঁচটায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে রূপরেখা এবং কর্মসূচি চূড়ান্তের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানানো হবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করেন বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের কয়েকজন নেতা। বৈঠক শেষে কেউ সাংবাদিকদের সামনে কথা না বললেও আজ আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা এবং দাবি-দাওয়া চূড়ান্ত করতে গতকালের বৈঠকটি হয়। সেখানে চলমান ঐক্য প্রক্রিয়ার দাবি ও লক্ষ্যের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শনিবারের পরবর্তী বৈঠকে এসব বিষয় পুরোপুরি চূড়ান্ত করা হবে। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আবদুর রবের উত্তরার বাসায় এই বৈঠক শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করে তারা ৬টা ২৭ মিনিটে বের হন। গতকালের বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নাগরিক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ।
এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে আদালত ও ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা। ফখরুল বলেন, মিডিয়ার একাংশ এ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রকাশ করে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ‌‌‌এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণের প্রশ্ন, এতো-শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি, তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। আজ শুক্রবার (১২ অক্টোবর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা’ বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি। মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে চলমান থাকে। '২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয়' বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হলো কোন যুক্তিতে? ১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা এ দলের কোনো নেতাকে অভিযুক্ত-এমনকি সম্পৃক্তও করেনি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের ২টি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে। ‘অন্যদিকে হুজি নেতা মুফতি হান্নান শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তা তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেও তারই জবানবন্দিকে ভিত্তি করে তারেক রহমান ও অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেওয়াটা কতটা মানবিক এবং যুক্তিযুক্ত কিংবা আইনসঙ্গত হয়েছে তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবেন বলে আমরা আশা করি’। আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত মন্তব্য করে বিএনপির এ অন্যতম শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক মন্ত্রী এস এম এ কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ থাকলেও বিচারকের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সরকারি দলের আচরণ কেমন হওয়া উচিৎ, সে সম্পর্কে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, ছাত্রদল নেতা জাকিরসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোনো কথা নেই কেন জনগণ তা জানতে চাইতেই পারে। রায়ের পর্যবেক্ষণে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গত ১০ বছরে হাজারো গুম, খুন, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা, হাজার হাজার গায়েবী মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর ঘরছাড়া করে রাখা, গ্রেফতার করে রিমাণ্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করার বিষয়ে কোনো কথা না থাকা রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল হবে এমন আশা প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন সরকারই মামলা দায়ের করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে। এ মামলার মূল আসামি মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে তৎকালীন সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কাজেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে আদালতের যে পর্যবেক্ষণ -তা যুক্তিগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, মুফতি হান্নানের বেআইনি ২য় জবানবন্দি বাদ দিলে তারেক রহমান ও অন্য অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকেই এ মামলায় অভিযুক্ত করা যেতো না। প্রকাশ্য আদালতে মুফতি হান্নান যাতে তাকে দিয়ে জোর করে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, এটা বলতে না পারেন সে জন্যই অন্য একটি মামলায় দ্রুততার সঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকাও বিস্ময়কর ও সন্দেহমূলক। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, জ্যৈষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক মনির হোসেন ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।
২১ আগস্টের খুনিদের ঐক্য মানুষ মানবে না: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশে আগস্টের খুনিদের সঙ্গে কোনো ধরনের জাতীয় ঐক্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির ২৮তম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বুধবার (১০ অক্টোবর) তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসি হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওই হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তারেক রহমানের ফাঁসি হওয়া উচিত বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন।
গ্রেনেড হামলা তারেককে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফরমায়েশি রায়ের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি'র নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিএনপির জৈষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সিএমএম কোর্টের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপূণ রায় চৌধুরীসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে বক্তারা অবিলম্বে এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাহারের দাবি জানান। আলোকিত বাংলাদেশ
রায়ে অখুশি নই- তবে সন্তুষ্টও নই: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিলম্বিত এ রায়ে আমরা অখুশি নই। তবে পুরোপুরি সন্তুষ্টও নই। এই হামলার যে প্ল্যানার বা মাস্টারমাইন্ড, তার শাস্তি হওয়া উচিত ছিল সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড। আজ বুধবার রায়ের পর সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলে গেছেন, হামলায় তারেক রহমানের অনুমতি ছিল। তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তখনকার সরকার আলামত নষ্ট করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া তখন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু সরকার চালাচ্ছিল হাওয়া ভবন, বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, তখনকার সরকার এফবিআইকে তদন্ত করতে দেয়নি। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকেও আসতে দেয়নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
রায় প্রত্যাখ্যান-দেশজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে প্রতিহিংসামূলক বলে প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিএনপি। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুল হক মিলন বলেন, এই রায় সাজানো। শহীদ জিয়ার পরিবারকে ধ্বংস করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই রায় দেয়া হয়েছে। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যরা। রায়ের প্রতিবাদে বরিশালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করে শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে বরিশাল নগরীর স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে রায়ের প্রতিবাদে মিছিল বের করার চেষ্টাকালে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামিমসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাদের সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে রংপুর গ্রান্ডহোটেল মোড় এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ করে বিএনপি। রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি যুবদল স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল। দুপুরে নগরীর রানীরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। রায় ঘোষণার পর জামালপুরে বিএনপি ও ছাত্রদল শহরে পৃথক পৃথক মিছিল করেছে। এ সময় পুলিশ ছাত্রদলের মিছিলকারীদের ধাওয়া করে । এর আগে পুলিশ শহর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন বাবুল এবং বিএনপির নেতা আনিসুর রহমান বিপ্লবকে শহরের বোষপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামালা মামলার রায় প্রত্যাখান করে নোয়াখালীতে বিএনপি আইনজীবী পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা বলেন, এ রায় সরকারের আজ্ঞাবহ রায়, এ রায়ে ন্যায় প্রতিফলন হয়নি। রায়ের পর সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। তবে সে মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এমন রায় দেয়া হয়েছে। রায়ের প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এসময় বক্তারা বলেন, তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখার জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া: ঐক্যমতে পৌছেছে বিএনপি: মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ঐক্যমতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সোমবার (০৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। এর আগে রাত ৯টায় বৈঠকটি শুরু হয়। এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, ‌আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে এখন সব বিষয় বলা যাবে না। তবে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই লক্ষ্য ও কর্মসূচি ঘোষণা করবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১১ অক্টোবর গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় আরেকটি বৈঠক করবে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে কর্মসূচির একটি গ্রাফ তৈরি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তিন দলীয় জোটের নাম কি হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মোস্তফা মহসীন মন্টু, আ ব ম মোস্তফা আমীন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, মেজর (অব) মান্নান, আব্দুল মালেক রতন, এসএম আকরাম, শহীদুল্লাহ কায়সার, তানিয়া রব ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
স্ত্রী ও ভাইয়ের সঙ্গে কোন দ্বন্দ্ব নেই আমার : এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমার স্ত্রী (রওশন এরশাদ) ও ছোট ভাইয়ের (জিএম কাদের) সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ক্ষমতায় যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সোমবার (৮ অক্টোবর) সকালে দুই দিনের সফরে রংপুরে এসে নগরীর স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা জানান তিনি। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে তার দল। প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হবে। এসময় এরশাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) খালেদ আকতার, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, খতিবার রহমান, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আব্দুল বারী, শামীম সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রিপন প্রমুখ। এরআগে সকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টিতে শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে যোগদান করেন ডা. রূপক।
যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্য প্রক্রিয়া- ৫ দফা দাবিতে মাঠে নামবে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাঁচ দফা দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীকে বাইরে রেখেই পথ চলবে তারা। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকবে জামায়াত। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে তাদের প্রকাশ্যে দেখা যাবে না। রোববার প্রথমবারের মতো বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। রাত সোয়া ৯ টায় গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যুক্তফ্রন্টের পক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের- জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর(অব.) মান্নান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ ও আবম মোস্তফা আমীন অংশ নেন। এছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ সময় ছিলেন। বৈঠক চলার মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য ভোটের দাবিতে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এক সঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।অভিন্ন দাবিতে এক সঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে তারা বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বাইরে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের সব অসাম্প্রদায়িক, গণতন্ত্রমনা ও প্রগতিশীল শক্তির সমন্বয়ে আমরা দেশে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বৈঠক থেকে এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হল। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে একমঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন রাখা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ইভিএম ব্যবহার না করা, নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া। বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ত থাকাসম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল এখানে থাকতে পারবে। তবে বিএনপির সঙ্গে অন্য কেউ থাকবে কি-না তা আমরা বলতে পারব না। বাংলাদেশের জনগণ চায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচটি মৌলিক দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলব। এই দাবিগুলো আদায় করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করব। তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি- খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি এবং কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আদোলনকারীদের মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেয়া, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা।

রাজনীতি পাতার আরো খবর