বিএনপি নেতাদের দেখে মনেই হয় না নেত্রী জেলে!
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৫ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক কিংবা কোনো সম্পাদক, কাউকে দেখে কিংবা তাদের ভাব-ভঙ্গিতে মনেই হয় না যে খালেদা জিয়া ৫ মাস ধরে কারাগারে। বিএনপির কর্মসূচি থেকে শুরু করে নেতাদের চালচলনেও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গত ৫ মাসে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে তেমন কোনো কঠোর কোনো কর্মসূচিও চোখে পড়েনি। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতেও লোকসমাগম তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। সিনিয়র নেতাদের কার্যকলাপে মনে হয় তারা অনেক ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় রমজান মাস কিংবা ঈদ কোনোটাতেই প্রভাব পড়েনি নেতাদের কাজে-কর্মে। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন রাস্তাঘাটে, চায়ের টেবিলের আলোচনায় এ ধরনের কথাই বলছেন। সূত্র জানায়, শুধু মিডিয়ার সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি চান নেতারা। একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। একজন অপরজনকে বলেন, ঘরে বসে আন্দোলন করলে হবে না। রাস্তায় নামতে হবে। কেউ আবার কঠোর কর্মসূচির কথা বলেন। কিন্তু কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা কে, কখন, কিভাবে দেবেন সে বিষয়ে কেউ কিছু বলেন না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও বক্তৃতা বিবৃতিতে বলেন আইনি লড়াইয়ে নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না। নেত্রীর মুক্তির জন্য কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। কিন্তু সেই কঠোর কর্মসূচি কী, কখন ঘোষণা হবে সেটা কেউ জানেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ গত ৫ মাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে বলেছেন সরকার খালেদা জিয়াকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না। আইনের মাধ্যমে তিনি শিগগিরই বের হয়ে আসবেন। আবার তিনিই বলেছেন, তাকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। উপযুক্ত সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে এই সরকার মুক্তি দেবে না। আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘর থেকে বাইরে বের হতে হবে। ঘরের মধ্যে সভা-সমাবেশ করলে কোনো লাভ হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের কাছে কে কিভাবে যাবে তার কোনো নির্দেশনা নেই তার বক্তৃতায়। নেতাদের এসব বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সিনিয়র নেতারা আন্দোলন কর্মসূচির পক্ষে কেউ নেই। তাদের দেখে মনে হয় সবাই ভালো আছেন। সুতরাং আন্দোলনও হবে না, খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন না। আওয়ামী লীগ সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে মানবাধিকার নিয়ে কূটনীতিকদের দাওয়াত দিয়ে যে গোলটেবিল করা হলো, সেখানে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কঠোর কোনো বক্তব্য ছিল না। দু’একজন নেতা বক্তৃতার মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি উচ্চারণ করলেও প্রামাণ্য চিত্রে খালেদা জিয়ার মামলা বা তার জেল জীবন নিয়ে কোনো কিছু দেখানো হয়নি। গত রমজানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, নেত্রীর মাধ্যমে যাদের গাড়ি বাড়ি হয়েছে। সুনাম হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছেন এমপি হয়েছেন। তাদের কি নেত্রীর জন্য মোটেও দরদ হয় না। তাকে জেলে রেখে ঈদ করেন, কেনাকাটা করেন, এতে কি মোটেও গায়ে বাধে না? গয়েশ্বরের সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নেতাদের চাল-চলন দেখে মোটেই বোঝা যাবে না, যে তাদের নেত্রীর কারাবাসের ৫ মাস ইতোমধ্যেই শেষ। আদৌ তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পাবেন কী না তারও কোনো গ্যারান্টি নেই। একের পর এক যেভাবে তাকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে তাতে তার মুক্তি এখন সুদূর পরাহত। প্রতীকী অনশনে আশানুরূপ জনসমাগম হয়নি স্বীকার করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, অনুমতি পাওয়া না পাওয়া ও পুলিশী হয়রানির কারণেই সেখানে উপস্থিতি কম ছিল। তবে নেত্রী জেলে নেতাদের আচরণে এমনটি মনে হয় না এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আব্দুস সালাম বলেন, আমরা নেত্রীর জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে আমরা পুলিশী নির্যাতনে জর্জরিত এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না
অনলাইন ডেস্ক :কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে বললেন কোটা থাকবে না। আবার ২৭ জুন বললেন কোটা থাকবে। তিনি সংসদকে সম্মান করেন না বলেই কথা দিয়ে কথা রাখেননি। শুক্রবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মওদুদ বলেন, এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলছেন আদালতের নাকি রায় আছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা যাবে না। আমি মনে করি না যে এ ধরনের কোনো রায় আছে। যদি থেকেও থাকে অ্যাটর্নি জেনারেল সেটা যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারেন। নিয়ত ঠিক থাকলে সবকিছুই করা সম্ভব। কোটা আন্দোলনে জড়িতদের পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের বিচার একদিন এদেশে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ডা. জাফরুল্লাহকে দায়িত্ব নিতে বলে মওদুদ বলেন, আমরা যদি জাতীয় ঐক্য করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আপনি দায়িত্ব নিয়ে সেই ভূমিকা পালন করবেন। চেকোস্লোভাকিয়ায় ডা. জাফরুল্লাহর মতো একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি সেই দেশের ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায়ের সময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জাফরুল্লাহর উদ্দেশ্যে মওদুদ আহমদ আরও বলেন, আপনি একজন ডাক্তারও। ফ্যাসিবাদী সরকারের কারণে গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায়। এখান থেকে উদ্ধার করতে হবে। সেজন্য আপনাকে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, একমাত্র বিকল্প জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। পৃথিবীর কোথাও সাধারণ নিয়মে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়নি। হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিলেও তিনি একদিনের জন্যও বাইরের আলো-বাতাস দেখার সুযোগ পেলেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নিম্নতম পর্যায়ের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের কারণেই এটা হয়েছে। উচ্চ আদালতের চেয়ে তিনি বেশি ক্ষমতাবান। তারপরও আমাদের কোনো উপায় নেই। ওই আদালতের কাছেই আমাদের যেতে হবে। আমি আশাবাদী নির্বাচনের আগেই খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। তাকে ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। কারণ খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে এ সমাবেশেরআয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহম্মদ রহমাতুল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেটএহসানুল হুদা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, ২০ দলীয় জোট যুক্তরাজ্য শাখার সমন্বয়কারী মাওলানা সোয়ায়েব আহমেদ, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির, স্বাধীনতা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।
এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
অনলাইন ডেস্ক :সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইস্যুতে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের হুমকির মুখে ইসি প্রতিরোধহীনভাবে আত্মসমর্পন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, আগে নিয়ম ছিল বিনা ওয়ারেন্টে নির্বাচনের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কিন্তু এখন সে নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান। এ সিদ্ধান্ত সরকারের হুমকির মুখে ইসির প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন। আগামী নির্বাচন গুলোতে সরকার খুলনা-গাজীপুর মার্কা নতুন মডেলের ভোট সন্ত্রাসের নির্বাচন নির্বিঘ করতেই ইসি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। যে দেশে আইনের শাসন নেই, সেদেশে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলো ভোটারদের সঙ্গে নয় বরং সরকারের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সুতরাং আগামী নির্বাচনগুলো কোন রং ও রূপে আত্মপ্রকাশ করবে তা এখনই খুব সহজে অনুমান করা যায়। তিন সিটিতেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নির্লজ্জভাবে সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। রিজভী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মামলা হামলার হুমকির মুখে আমাদের নেতাকর্মীদের নিজ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাহিরে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আর গ্রেপ্তারের হিড়িকতো চলছেই। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী অনাচারে লিপ্ত কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগে কান না দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। রাজশাহীতে সারা শহরজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এমনভাবে পোস্টার সেঁটেছে যে সেখানে অন্য কারও পোস্টার লাগানোর কোন জায়গাই নেই। সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরির প্রচার প্রচারণা বিরত রেখে থানার সামনে অনশন করতে হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য। বরিশাল ও রাজশাহীতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে। অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বরিশালে বিএনপির সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে ফেলছে, মাইক ভাঙচুর করছে, সমর্থকদের মারধর করছে। খুলনা ও গাজীপুরে অনুসৃত নীতি বাস্তবাায়ন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত পরশু জাতীয় সংসদে বলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করতে হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৪-২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করা যেত। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পরিকল্পনা শেখ হাসিনা অনেক আগেই করেছিলেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করেন। সুতরাং গত পরশুদিনের বক্তব্য সত্যের অপলাপ। সরকার প্রধান যে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে আটকে রাখবেন তার আরও প্রমাণ রয়েছে যেমন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিগত কয়েকবছর ধরে বলে আসছেন বেগম জিয়ার জন্য কারাগারের সেল প্রস্তত করা হয়েছে। সুতরাং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বেগম জিয়াকে মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় ক্যাঙ্গারু আদালত কর্তৃক সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে এটি বোঝার জন্য বেশী কষ্ট করতে হয় না। শেখ হাসিনার জিঘাংসার শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার জন্য অসহ্যের কারণ। অবৈধ ক্ষমতার মৌতাতে বুঁদ হওয়া নিষ্ঠুর একদলীয় চেতনার শেখ হাসিনা কখনই বেগম জিয়ার সাফল্য ও জনপ্রিয়তাকে একেবারেই মেনে নিতে পারেন না বলেই তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করতে কারাগারে বন্দী করে রেখেছেন। শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে সাজা দিয়ে কারাবন্দী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দশ্যে পরিস্কার করে বলতে চাই আপনি যতই ষড়যেন্ত্রের জাল বুনতে থাকুন না কেন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না জনগন হতে দেবে না। বন্ধুরা, হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাহলে তিনি ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের কথা কেন বলেছিলেন? তখনতো হাইকোর্টের রায় ছিল। তখন তাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা মনে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে ৭১এর রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অব) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগকে দিয়ে হামলা করাতেন না। এ হামলা পরিকল্পিত, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা করা হয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে যে কোন ঘোষনা মানেই সেটি আইনের সমতুল্য এবং তা কার্যকর হতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায়নি তারা কোট সংস্কার চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে এটা এখন সুস্পষ্ট যে, তিনি ছাত্র আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই সেদিন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেদিন আমরা বলেছিলাম কোটা বাতিলের ঘোষনা একটা ধাপ্পাবাজি। আন্দোলনে ছাত্র নেতাদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই দিনে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ম্যাকিভ্যালির চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈদের পর আবারও ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন দলন পীড়নের নিষ্ঠুর পথ। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে হাতুড়ি রাম দা আর বাশেঁর লঠিসহ ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা রাশেদকে দিনের পর দিন রিমান্ডের নামে তাকে থেতলে দেওয়া হচ্ছে। তার অত্যাচারের বিভীষিকার কাহিনী শুনলে কোন মানুষই চোখের পানি আটকে রাখতে পারবে না। তার মায়ের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। একের পর এক কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্রদের এখন গ্রেপ্তার করে তাদের উপর পৈশাচিক উৎপীড়নের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোন আন্দোলনের পরিণতি কত ভয়ংকর হতে পারে। সরকার প্রধান যে কত ভয়াবহ প্রতিশোধ পরায়ণ হতে পারেন তার একের পর এক দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি আন্দোলনরত শিক্ষাথীদের ওপর নেমে আসা বর্বরতার নিদর্শন দেখে। এ অবৈধ সরকার রাষ্ট্র সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়াচ্ছে। ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। মানবজমিন
মানবধিকার লংঘন এখন বাংলাদেশের নিত্য ঘটনা
অনলাইন ডেস্ক :মানবধিকার লংঘন এখন বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী নিখোঁজ ও ১০ হাজার নেতাকর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের বিএনপির ৭৮হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দেওয়া হয়েছে। ১৮ লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই কথা বলেন।দেশের চলমান রাজনীতি ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের অবহিত করে সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের লাশ পড়ে থাকছে, নারীরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সম্ভ্রম হারাচ্ছে, শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে, রাজনীতিক দলের যারা ভিন্নমত পোষণ করে তাদের ওপরে রাষ্ট্রীয়বাহিনীর নির্যাতন, ভিন্নমত পোষণকারী ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে, এটা এখন বাংলাদেশের প্রতিদিনের চিত্র।বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অনেকবার এ বিষয়গুলো বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে বলেছি। কিন্তু দুভার্গ্যরে কথা এতো কিছু পরেও সরকারের কর্নগোচর হয় না। আমরা জানি এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ কারনে তারা ন্যায় নীতি সংবধিান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবধিকার লংঘন করে তারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদদু আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানপ্রমুখ।
খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট
অনলাইন ডেস্ক :জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আপিলের শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদার পক্ষে ছিলেন মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী , জয়নুল আবেদীন ও আব্দুর রেজাক খান। দুদকের পক্ষে রয়েছেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। এর আগে সকাল এগারোটায় খালেদার আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান মামলার পেপারবুক থেকে এফআইআর পড়া শুরু করেন। এরপর চার্জশীট পড়েন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এদিকে এ মামলায় খালেদার জামিনের মেয়াদ ১২ জুলাই শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন আইনজীবীরা। এ আবেদনের পর আদালত ১৯ জুলাই পর্য্ন্ত জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মওদুদ আহমদ। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
অনুমতি না থাকায় আমরা দেখা করতে পারিনি
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে হেঁটে ঢাকায় আসেন ছয় যুবক। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাপ্রাঙ্গণে যান। কিন্তু পূর্বঅনুমতি না থাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের দেখা করার সুযোগ দেননি কারা কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ। ছয় যুবকের মধ্যে একজন শহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকায় আমরা দেখা করতে পারিনি। আমরা আরও দুয়েক দিন ঢাকায় থাকবো। আমরা দেখা করতে না পারলেও একটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে।’ গত ৫ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু করেন তিন যুবক। সীতাকুন্ডু থেকে তাদের সঙ্গে একজন আর কুমিল্লা থেকে যোগ দেন দুই যুবক। বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান তারা। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের স্বাগত জানান। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শহীদুজ্জামান, শফিউল আলম রানা, আজিম উদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে রওনা করেন, পরে সীতাকুন্ডু থেকে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সোহেল মন্টু। আর কুমিল্লা থেকে সাদ্দাম মজুমদার ও সোহেল রানা তাদের সঙ্গে হেঁটে ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় আসার পর তাদের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক ও আব্বাস আলী সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন।
খালেদার আইনজীবী কার্লাইলকে ঢুকতে দিলো না ভারত
অনলাইন ডেস্ক: বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে ভারত প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। বুধবার (১১ জুলাই) রাতে তাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলা’র লর্ড কার্লাইলের মিডিয়া টিমের সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বুধবার গভীর রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান খালেদা জিয়ার আইনজীবী। তখন ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে জানান, ভারত সরকার তার ভিসা প্রত্যাহার করেছে। এরপর তাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই লন্ডনের ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি পাঁচতারা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন লর্ড কার্লাইলের সেই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে বলে তার মিডিয়া টিম থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে দিল্লি ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব তার শুক্রবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি বাতিল দেয়। এরপরই তিনি দিল্লি ওই পাঁচতারা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। অালোকিত বাংলাদেশ
অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে মুলতবি
অনলাইন ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ রিভিউ চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ না করতে পারলে রিভিউ আবেদন বিবেচনা (কনসিডার) করবেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগে ৯ জুলাই এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদনের পর খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর গত ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চতর আদালত। পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের পর ৫ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সোমবার (৯ জুলাই) শুনানির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুসারে সোমবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এ মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা এ আবেদন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন আদালত। এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত।
বাংলাদেশ রসাতলে যাবে বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: একদিনের জন্য বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে বাংলাদেশ রসাতলে যাবে। একদিনেই দেশে রক্তের নদী বয়ে যাবে, একদিনেই দেশ সন্ত্রাসের লীলাভূমি হয়ে যাবে, পুরনো হাওয়া ভবন পুরনো খাওয়া ভবনে রূপান্তর হবে। বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নারী নেতৃত্বের ওপর এক কর্মশালায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সিআরআই এর উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১০ই জুলাই) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসুন, জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। জনগণ আমাদের ভোট না দিলে আমরা তো সরকারে আসতে পারবো না। কাজেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরীক্ষা নিতে পারেন। গাজীপুরে শিক্ষা হয়নি, খুলনায়ও শিক্ষা হয়নি, আর কত শিক্ষা চান? ‘খালেদা ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না’ এমন বক্তব্যের জেরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপির কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। অক্টোবরে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে, দেখা যাবে এই কথার মানে কী? তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে যাবেন কি, যাবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছেন আদালত, মুক্তিও দিতে পারেন আদালত। তাদের কথায় মনে হয় আওয়ামী লীগই যেন তাকে আটকে রেখেছে, শেখ হাসিনা আটকে রেখেছেন। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা বলেছেন ইসির সচিব আওয়ামী লীগ দলীয় অফিসে যান। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ইলেকশন কমিশন সচিব কোনো দিনও আওয়ামী লীগ অফিসে যাননি। এটা তাদের সাজানো, বানোয়াট, মিথ্যা কথা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা তাদের প্রমাণ করতে হবে। তা না হলে এর জবাব দিতে হবে।