হঠাৎ বিদেশ মিশন শুরু করেছে বিএনপি
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎই বিদেশ মিশন শুরু করেছে দীর্ঘ ১১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। গত রবিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যাংককে যান। একই দিনে ব্যাংকক যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি জোটের শরিক দল এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজাও ব্যাংককে। আজ যাচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সেখান থেকে দুই নেতার লল্ডনে যাওয়ার কথা রয়েছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে তাদের। এরই মধ্যে দিল্লি সফরে গেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। সেখানে তার কয়েকজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভিসুটের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টও করা হয়। সেখানে গতকাল তিনি হার্টের চিকিৎসা করেছেন। এরপর আইবিএস চিকিৎসা করাবেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুলের সহধর্মিণী রাহাত আরাও শারীরিক চেকআপ করাবেন। আগামী সপ্তাহেই তাদের দেশে ফেরার কথা। বিএনপি মহাসচিবের হৃদরোগ ছাড়াও রয়েছে ঘাড়ে ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারিতে জটিলতা। এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যাংকক থেকে লন্ডন ও আমেরিকা যাওয়ার কথা রয়েছে। আগে যুক্তরাষ্ট্র তারপর যুক্তরাজ্য যেতে পারেন তিনি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ব্যাংকক সফর ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, দুই নেতা লন্ডনও যেতে পারেন। তবে লন্ডনে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বিএনপি মহাসচিব। দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্যাংকক যাচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ফিরবেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও একই কথা বলে যান। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ব্যাংককে তিনি চোখের চিকিৎসা করাবেন। তবে জোটের শরিক দলের নেতা গোলাম মর্তুজা ব্যাংকক সফরে কেন গেছেন তা জানা যায়নি।
আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় কৌশলী আওয়ামী লীগ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করবে না এমন অবস্থানে ক্রমেই সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। আর গত নির্বাচনের মত এবারও তারা নির্বাচনসংক্রান্ত ব্যাপারে প্রভাব বিস্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্য দিয়ে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঈদের পর থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তৎপরতা আরো বাড়বে সে চিন্তা মাথায় রেখে যেকোন ধরণের চাপ সুকৌশলে ও শক্তভাবে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। গত জাতীয় নির্বাচনের আগেও এমনটি হয়েছিল। তাই আন্তর্জাতিক মহলকে সুকৌশলে এবং সচেতনতার সঙ্গে মোকাবেলা করা হবে যেন তারা জাতীয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। ক্ষমতাসীনদের কৌশল- শক্তের ভক্ত, নরমের জম।কেউ যেন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেজন্য শক্ত অবস্থানে থাকা এবং অপরদিকে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন প্রশ্ন, শঙ্কার বিষয়ে যুক্তিযুক্তভাবে সঠিক জবাব উপস্থাপন ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তাদের সন্তুষ্ট করা। এই কৌশল এজন্য যে, কোন দল বা গোষ্ঠী যাতে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। এছাড়া বৈদেশিক শক্তির উপর ভরসা করে কোন রাজনৈতিক দল যেন সহিংসতা তৈরী করতে না পারে সে ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রাখবে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য বৈদেশিক শক্তির কাছে তিনটি ইস্যু রয়েছে- এক. নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুই. নির্বাচনকালীন সরকার, তিন. কম গণতন্ত্রের অজুহাত। এছাড়া তারা যে যে ইস্যুতে কথা বলতে চায় এবং বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধীদলগুলো তাদের যেভাবে সরকারবিরোধী ইস্যুতে কথা বলার সুযোগ করে দেবে সেসব বিষয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এজন্য দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক উপ-কমিটি যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে যেন যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করার মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট কর যায়। এই উপ-কমিটি এখন থেকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবে। এছাড়া কেউ যেন তাদের ভুল বোঝাতে না পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেবে। এদিকে কয়েকটি দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সেইসব দেশের বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সরকার বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র হয় কি না সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার মামলা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সরকারের তরফ থেকে বার্তা দেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার জেল হবার পেছনে সরকারের কোন হাত নেই; দেশের গতানুগতিক আইন অনুযায়ী এই বিচার হয়েছে। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি; করেছে ১/১১এর তত্তবধায়ক সরকার এবং এ মামলায় খালেদা জিয়া যে নিতান্তই দোষী তার তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে কূটনীতিকদের বার্তা দেয়া হচ্ছে তাদের দেশ অর্থাৎ আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডাসহ বেশিরভাগ দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে তাদের দেশের মত একই আইন ও সংবিধানে যেহেতু বাংলাদেশের নির্বাচন হচ্ছে তাই তাদের এ বিষয়ে চিন্তি হবার কিছু নেই। আর কম গণতন্ত্রের বিষয়ে কয়েকটি দেশের অজুহাতের বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের দেশে গণতন্ত্র কতটুকু রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা যা করছে এর চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো রয়েছে। তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র শিখতে হবে না। এছাড়া বিগত সময়ে বিএনপির অগ্নি-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, সহিংসতা তুলে ধরে দলটি থেকে বিভিন্ন দেশের সমর্থন নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। সম্প্রতি ২৩ মে গণভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ মে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় দায়িত্বরত বিভিন্ন দেশের অর্ধ-শতাধিক কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ কমিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয় বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয় বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার তথ্য। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি ও রাজনীতিক রয়েছেন যারা নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভূমিকা রেখে থাকেন। বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভুল বুঝিয়ে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে সহযোগীতা করেন। এবার সে দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে দলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া শুধু নির্বাচন নয় কোন বিষয়েই যেন বৈদেশিক শক্তি হস্তক্ষেপ না করতে পারে সে বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে সরকার। প্রয়োজনে দল ও সরকারের তরফ থেকে নিয়মিত এ ধরণের ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের মাদকবিরোধী অভিযানে নজর রাখার কথা জানিয়ে জাতিসংঘের মাদক অপরাধবিরোধী সংস্থা ইউএনওডিসিও। তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে কারো চাপে মাথা নত না করার শক্ত অবস্থান তুলে ধরে স্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের অধিকার রয়েছে, তা তারা করুক। আমাদের বিদেশি কোনো বন্ধু পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে করুক। কারও চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না, নতি স্বীকার করব বাংলাদেশের জনগণের চাপে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, রাজনীতির মাঠে বারবার বিএনপি ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে লবিস্ট নিয়োগ করে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশকে তারা বিভ্রান্ত করা চেষ্টায় লিপ্ত। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দলটি বৈদেশিক শক্তির উপর ভরসা করছে। তাই কোন ভাবেই বিএনপিকে এ ধরণের সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশের অনেক বুদ্ধিজীবি সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত। তারা বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে প্ররোচনা দিচ্ছে। তাদের বিষয়ে তীক্ষ নজর রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে, তবে তাদের কোনো চাপ বা প্রভাব থাকার কোনো সুযোগ নেই। খালেদা জিয়া জেলে থাকলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না- এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এই নীতিনির্ধারক বলেন, নির্বাচন হবে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের কার মনেও প্রশ্ন থাকার সুযোগ নেই কারণ এ দেশে যে আইনে নির্বাচন হয়; তাদের দেশেও এই আইনোই নির্বাচন হয়। তিনি বলেন, যদি তাদের কোনো চাপ থাকে তাহলে তা বিএনপির ওপর রয়েছে, সরকারের ওপর নয়।
এই সরকারের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই
গণতন্ত্র এখন ক্রসফয়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অগ্রগতির দিকে নয়, অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যাচ্ছে দেশ। তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একেবারেই তামাশা এবং মস্করা। এটা যে একেবারে পেছন দিকের অন্ধকারের অতলে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা জনগণ জানে। নিশ্চয় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেটা বলবেন না। আর গণতন্ত্র এখন ক্রসফয়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার (০৫ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে শোভা পায়। দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সড়কের খানাখন্দ আর দুর্ভোগের আশঙ্কায় লাখ লাখ মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কিনা তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তারা বিকল্পভাবে বাড়ি যেতে ট্রেনের টিকিটের পেছনে ছুটছে, সেখানেও পাচ্ছে না কাঙ্খিত টিকেট। সরকারের বেপরোয়া লুটপাটের নীতির কারণেই সড়ক-মহাসড়কের দুদর্শা কাটছে না, ঈদের প্রাক্কালে ঘরে ফিরতে চরম দুর্গতির জন্য এই সরকারের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই যে, মানুষকে নূনতম কোনো সেবা প্রদান তারা (সরকার) দিতে পারে না। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নড়াইলের আদালতে খালেদার জামিন না মঞ্জুর
স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে নড়াইলের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে দায়েরকৃত মানহানি মামলায় সঠিকভাবে জামিন আবেদন উপস্থাপন না করায় জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে জামিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আব্দুল আহাদ। উল্লেখ্য, গত ৩০ মে বুধবার বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন করলে জামিন শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেন আদালত। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নড়াইল সদর আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে ওই বছরের ২৫ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন একই আদালত। মামলার বিবরণে আরো জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়। মামলার বাদী নড়াইলের চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে এ খবরটি পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হন। পরে রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত তার নিজস্ব নিয়মে চলে-কোনো রাজনৈতিক দলের কথায় নয়:সেতুমন্ত্রী
বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের কথায় নয়, আদালত তার নিজস্ব নিয়মে চলে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, রায় পক্ষে গেলে বিএনপি আইন মানে আর বিপক্ষে গেলে বলে তা সরকারের হস্তক্ষেপ। ঈদকে সামনে রেখে সোমবার সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বিশেষ সেবা বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে বিভিন্ন রুটে চলবে বিআরটিসির ৯০৪টি বাস। ঢাকা মহানগরের ছয়টি ডিপো এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ডিপো থেকে চলবে ৪৭৫টি বাস। বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে মঙ্গলবার। এ ছাড়া রাজধানীসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অবস্থান করবে আরও ৫৪টি বাস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালত খালেদা জিয়াকে কেন জামিন দিচ্ছেন নাবিএনপি নেতাদের এমন প্রশ্ন সরকারের কাছে নয়, আদালতের কাছে জিজ্ঞাসা করা উচিত। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন,বিএনপির বিরুদ্ধে গেলেই তা সরকারের হস্তক্ষেপ। আর যেটা তাদের পক্ষে যাবে আদালতের রায় সেখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাদের পক্ষে না গেলে তারা আইন মানে না, বিচার মানে না, বিচার ব্যবস্থাও মানে না। বিষয়টা আদালতকেই জিজ্ঞেস করুন। বেগম জিয়াকে (জামিন বিষয়ে) কেন আবার আইন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। আদালত আওয়ামী লীগ-বিএনপির কথায় চলবে না। আদালত তার ভাষায় কথা বলবে।
খালেদা জিয়াকে ২৮ জুন পর্যন্ত জামিন দিয়েছে আদালত
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত জামিন দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যে প্রডাকশন ওয়ারেন্ট ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অসুস্থতাজনিত কারণে আজ সোমবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকলে তার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিনের মেয়াদ ২৮ জুন পর্যন্ত বাড়ান ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। পাশাপাশি বিএনপি প্রধানের বিরুদ্ধে এ মামলায় হাজিরা পরোয়ানা (পিডব্লিউ) প্রত্যাহারের আবেদনও করেছিলেন তার আইনজীবীরা।সেটাও মঞ্জুর করে আদালত।
ঢাকা মহানগর উত্তরের থানা ও ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা বিএনপির
বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি গঠনের এক বছরের বেশি সময় পর থানা ও ওয়ার্ডের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এসব কমিটি অনুমোদন করেছেন। এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক থানা কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে মহানগর কমিটির সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের পদ মর্যাদা এবং একইভাবে ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে থানা কমিটির সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের মর্যাদা লাভ করবেন। ২৫টি থানায় প্রতিটি কমিটিতে ১২১ জন্য সদস্য এবং ৫৮ ওয়ার্ডের প্রতিটি কমিটিতে ৭১ সদস্য রয়েছেন। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই সময় ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি করা হয় হাবিব উন নবী খান সোহেলকে এবং উত্তরের সভাপতি করা হয় কাইয়ুমকে।
চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গেছেন মির্জা ফখরুল
চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে রোববার (৩ জুন) বেলা ১১টা ০৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পরিবার সদস্যরা জানান, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভিসুটের অ্যাপয়েন্টমেনটও করা হয়েছে। আগামী সাপ্তাহেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল মির্জা ফখরুল ব্যাংকক যান। হৃদরোগ ছাড়াও মির্জা ফখরুলের ঘাড়ে ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারিতে জটিলতা রয়েছে। এর চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা বাংলাদেশে না থাকায় ২০১৫ সালে ১৪ জুলাই কারাবন্দী ফখরুলকে বিদেশে যেতে জামিন দেন সুপ্রিমকোর্ট। এরপর কয়েক দফায় তিনি সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।
মাদকের উৎসমুখ বন্ধ করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চায়। মাদক বিস্তারের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার তাদের টিকে থাকার সমাধান খোঁজে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়। একটি বেআইনি হত্যা আরো অনেক হত্যার বিস্তৃতি ঘটায়।’ রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মাদকের উৎসমুখ বন্ধ করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ‘গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এদের বেশিরভাগই আবার তরুণ-যুবক। তারা কে কতটুকু অপরাধের সঙ্গে জড়িত, সে সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বিনা বিচারে হত্যার পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’ গত ২৬ মে দিবাগত রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার নোয়াখালীয়াপাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন বলে র্যাসপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পুলিশের এই এলিট ফোর্সের আরো দাবি, তিনি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে টেকনাফ পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল নির্দোষ ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পাঁচ দিন পর একরামুলের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করে। যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। একরামুলের পরিবার এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছে একরামের পরিবার। একপর্যায়ে র্যারবের সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখার’ কথা জানানো হয়। এ নিয়ে সর্বশেষ গতকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই একরামের ব্যাপারটা… সে আমাদের পার্টিরই একজন কর্মী। এখানে কি সে ভিকটিম হয়ে গেল, অসহায় ভিকটিম—এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযানে দু-একটা ভুল হতে পারে। আমি জানি না খতিয়ে দেখার আগে। এ বিষয়টাতে… এটা কোনো নিরীহকে শিকার করা হলো কি না?’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা। খুনি-সন্ত্রাসীদের ন্যায় বেআইনি হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া।’ রিজভী মাদক নির্মূলে মাদকের উৎসমুখ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে সরবরাহের উৎস পথ আটকে যাচ্ছে না কেন? তাহলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে?’ ‘কারণ এই উৎসমুখগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন বদিদের মতো এমপিরা—প্রশাসনের সহায়তায়। বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কীভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল, জাতি তা জানতে চায়। আসলে সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করছে,’ যোগ করেন বিএনপি নেতা। এ দিন সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারি বহু টালবাহানার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও সরকারি কারসাজিতে তাঁর জামিন আটকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট কোনো মামলায় জামিন দেওয়ার পর আপিল বিভাগ কারো জামিন স্থগিত করে এমন নজির বাংলাদেশে আর একটিও নেই।’ ‘জামিন আটকে রেখে দেশনেত্রীর মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধু একজনের প্রতিহিংসার প্রতিফলন। আমি আবারও দাবি জানাই, জামিন নিয়ে কানামাছি খেলবেন না,’ যোগ করেন রিজভী। তিনি ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।