বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০১৯
অধিনায়ক মাশরাফির জন্য ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ (লোহাগড়া-নড়াইল সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। তাকে হিরার টুকরা উল্লেখ করে তার জন্য ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়ায় নির্বাচনী জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সে মাশরাফির জন্য ভোট চান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাশরাফি হিরার টুকরা, সোনার ছেলে, ক্রিকেট খেলোয়াড়। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমরা হারিয়েছি। আপনারা মাশরাফিকে ভোট দিবেন। মাশরাফি তার পায়ের ব্যাথার জন্য নড়াইলে যেতে পারেনি। তাকে আমার কাছে রেখেছি। শেখ হাসিনা বলেন, এর আগে নড়াইলের দুটি আসন থেকে আমি নির্বাচন করেছিলাম। এবার নড়াইল-১ আসনে বিএম কবিরুল হক মুক্তিকে ও নড়াইল-২ আসনে মাশরাফিকে দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছি। আপনারা উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। নড়াইল দুইটি সিটই আমাকে উপহার দিবেন। তিনি আরও বলেন, যারা মনোনয়ন পাননি তারাও নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবেন। ভিডিও কনফারেন্সে মাশরাফি বলেন, আমাকে নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর সম্মান ও সমবেদনা প্রদর্শন করি। আমার পায়ের ব্যাথার জন্য নড়াইলে আসতে দেরি হচ্ছে। আমি অচিরেই এসে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নৌকায় ভোট চাইবো। তিনি আরও বলেন, নড়াইলবাসী আমার জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন, নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী কবিরুল হক মুক্তি এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস বোস, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরার হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ। এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস বোস একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি করেন।
মারা গেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ফজলে রাব্বী
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্যাপুর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতের ছোট ভাই বাদশা চৌধুরী জানান, ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের জনক। রাব্বী চৌধুরী ১৯৩৪ সালে ১ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। জাতীয় পার্টি থেকে গাইবান্ধা-৩ আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ১৯৮৪ সালে ফজলে রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তী সময় ভূমি মন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জনগণের চেয়ে বড় অস্ত্র, বড় হাতিয়ার আর কিছু নেই: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: জনগণের শক্তি নিয়ে আমরাই (আওয়ামী লীগ) বিজয়ী হবো' মন্তব্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটের মাঠে জনগণের চেয়ে বড় অস্ত্র, বড় হাতিয়ার আর কিছু নেই। জনগণের ভোটেই উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনা আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় মন্ত্রী তার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের কবিরহাট উপজেলার ফরাজী বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন। মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের মতামত বিষয়ে বলেন, এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। চারজন ইসির মধ্যে একজনের ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত যেদিকে যাবে, সেটাই সত্য এবং তার আলোকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওবায়দুল কাদের এ সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে বলেন, মওদুদ সাহেবের চোখে এখন পানি আর পানি। জনসমর্থন না থাকায় নিজ বাড়িতে বসে এখন শুধু মিডিয়ার কাছে কান্নাকাটি করছেন। কিন্তু উন্নয়নের বাংলাদেশে এখন চোখের পানিতে মানুষের পেট ভরে না। মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেবও এখন কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। এসব কান্নাকাটির আড়ালে তার অন্য মতলবে আছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধান্দায় আছে। জনগণ তাদের চায় না। তারা জনগণের সাথে একধরনের ধোঁকাবাজি খেলছে। পরে মন্ত্রী একই এলাকার টেকেরবাজার, পশ্চিম দরপ নগর, নুর সোনাপুর বাজারে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসব পথসভায় তিনি সাধারণ ভোটারদের নৌকা মার্কা ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। একই সাথে আগামীবার নির্বাচিত হলে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন করে আয়-রোজগার করার প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রী এ সময় সরকারের ২১ দফা ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণ কী সুবিধা ও উপকারভোগী হবে তাও তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হানসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্র পাহারা দিতে বললেন মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: জনগণকে ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ৩০ তারিখের নির্বাচনে আপনারা সকলে ভোট দিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিবেন। ভোট গণনা শেষে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবেন। বুধবার দুপুর ১টায় কুমিল্লার চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এ সরকার চক্রান্তকারী সরকার। জনগণের কাছে কোন চক্রান্তই টিকবে না। আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোট বিপ্লব ঘটনাবেন। আপনাদের ভোটের মাধ্যমে মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মুক্তি পাবেন বেগম খালেদা জিয়া, দেশে ফিরতে পারবেন তারেক জিয়া। মির্জা ফখরুল তার বক্তৃতায় বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ভুয়া আখ্যায়িত করে বলেন, এ সরকারও ভুয়া এবং এ নির্বাচন কমিশনও ভুয়া। একজন নির্বাচন কমিশনার বলছেন- লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই, আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন তার কথা সঠিক নয়। তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। তিনি বলেন, এই আওয়ামীলীগের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একে একে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতায় অর্জন করা সকল সম্পদ কেড়ে নিয়েছি। আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে, আমাদের সংগঠন করার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, সর্বপরি আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তত্ত্ববধায় সরকারের ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৪ সালে মানুষের সমর্থন ছাড়া জোর করে বেআইনি ভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। আজকে তারা ক্ষমতায় আছে, নির্বাচনের সময়ে এই ক্ষমতায় থাকা কোন ক্রমেই উচিত হয়নি। আজকে তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, পুলিশকে ব্যবহার করছে, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। এবারের নির্বাচন প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচন, এই নির্বাচন পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বাচন। এসময় তিনি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী কাজী মুজিবুল হক এর হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাদের পক্ষে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খান, চান্দিনা উপজেলা যুবদল সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন সহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপি ও এলডিপির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
ইসিতে ভিন্ন মত থাকবে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই আসল: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার কী বললেন, তা দেখার বিষয় নয়। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই আসল। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নোয়াখালীর কবিরহাটে নির্বাচনী প্রচারে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আজ প্রচার শুরু করেন সেতুমন্ত্রী। দুদিন আগে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন- কোথাও নির্বাচনের সমতল ক্রীড়াভূমি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নেই। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসিতে ভিন্ন মত থাকবে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই আসল। একজন কমিশনার কী বললেন তা দেখার বিষয় নয়। নোয়াখালী-৫ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ওবায়দুল কাদের। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। প্রচারকালে তার নির্বাচনি এলাকায় গত ১০ বছরে শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে বলে ভোটারদের মনে করিয়ে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আবারও যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে এক বছরের মধ্যে এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেবেন ভোটারদের
ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী,সৈয়দ আশরাফের জন্য
অনলাইন ডেস্ক: কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফ আজ অসুস্থ। সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই। তার নির্বাচনকে নিজেদের নির্বাচন মনে করে আপনারা করে দিবেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সবাইকে নিয়ে আশরাফের পক্ষে কাজ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করবেন। তিনি আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রার্থীদের সাথে কথা বলার সময় হাজার হাজার জনতার উদ্দেশে এ কথাগুলো বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১/১১-এর সময় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জবাসী সব সময় নৌকায় ভোট দিয়ে আসছেন। আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকায় ভোট দিবেন, যাতে আমরা উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারি। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের ১০টি উপজেলায় বিদ্যুৎ দিয়েছি। আরও তিনটি উপজেলায়ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাবে। কিশোরগঞ্জে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। হাওরের উন্নয়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছি। মিঠামইনে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প হচ্ছে। স্বাধীনতার সুফল যেন সব মানুষ পায়, সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান হুমায়ুনের সার্বিক পরিচালনায় এ ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম.এ. আফজল, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ সাদী, হোসেনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম নূরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মাহবুবুল হকের সাথে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীদেরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য কিশোরগঞ্জবাসীর ভোট চান। এ সময় কিশোরগঞ্জের বক্তারা আগামী নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীদের জয়ী করার আশ্বাস দেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুসহ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন।
নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না খালেদা
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার প্রার্থিতা নিয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ। এর ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তিনি। ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ তিনটি আসনে বেগম জিয়ার প্রার্থিতার বিষয়ে বিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি প্রার্থিতা বৈধ বললেও কনিষ্ঠ বিচারপতি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিলেন। কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না- আদালতের এমন আদেশের পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বেগম জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ এবং বগুড়া -৬ ও ৭ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বেগম জিয়া দুটি আলাদা মামলায় ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১২র ঘ ধারা অনুযায়ী তিনটি আসনেই তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। পরে এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন বেগম জিয়া। নির্বাচন কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে বেগম জিয়ার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করলে হাইকোর্টে যান বিএনপির চেয়ারপারসন। হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশের পর বিষয়টি যায় তৃতীয় বেঞ্চে। তবে সেখানে রিটটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না।
২১টি বিশেষ অঙ্গীকার আ.লীগের ইশতেহারে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১০টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার গ্রাম, আমার শহরশিরোনামে গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবারের ইশতেহারে । একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়-পরায়ণতা এবং জনসেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে গ্রামে আধুনিক সুবিধার উপস্থিতি, শিল্প উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষা, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২১টি অঙ্গীকার করে আওয়ামী লীগ এই ইশতেহারের নাম দিয়েছে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। এবারের ইশতেহারের মূল বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়নকে। এবারের ইশতেহারে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা নিশ্চিতকরণ, তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের (শূন্য সহিষ্ণুতা) নীতি গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ। ইশতেহারে নারীর ক্ষমতা, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। দলটি পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন করতে চায় আগামী পাঁচ বছরে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করাসহ দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দারিদ্র্য নির্মূল, সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ। খাদ্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। এবার অঙ্গীকার করেছে আধুনিক কৃষিব্যবস্থা সম্প্রসারণের। যার লক্ষ্য হবে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। এছাড়া অঙ্গীকার করেছে দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কথা। এবার ব্লু-ইকোনমি এবং সমুদ্র উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তার অঙ্গীকারও করছে দলটি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উল্লেখ করে ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ৫,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিকদের কল্যাণসহ টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছেে এবারের ইশতেহারে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর