সরকারের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু করেছে :রিজভী
অনলাইন ডেস্ক :‘১/১১ এর কুশীলবরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারছেন না বলেই এখন প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন, গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন। সরকারের বিদায়ের সাইরেন বাজা শুরু করেছে।’ বুধবার (৮ আগস্ট) ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় বিএনপিকে জড়াতে তারা (আওয়ামী লীগ) কুৎসিত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। ৬ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যে ছবিটি ৬ বছরের পুরোনো ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি ছবি। ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদলের এক নেতার নাম, আসলে সে ছাত্রদলের নেতা নন এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ছবি।’ বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘নীরব মানুষের ক্ষোভ যে ছাই চাপা আগুনের মতো ধিকি ধিকি জ্বলছে এবং সেটা যে কোনো সময় কুণ্ডলী পাকিয়ে বিরাট আকার ধারণ করতে পারে সেটির আঁচ পেরেই বেসামাল কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের।’ ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘গতকাল আপনাদেরই একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরোক্ষে আপনাদের উদ্দেশ্য করেই স্বৈরাচারী চেহারার কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। মানুষের মতপ্রকাশর স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই উল্টো গণমাধ্যমের ওপর চলছে দলন নিপীড়ন, সশস্ত্র হামলা ও রক্তাক্ত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। ধমক দেয়া হচ্ছে ইলকট্রনিকস মাধ্যমকে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ, ন্যায় বিচারের বাণী গুমরে গুমরে কাঁদছে। দেশজুড়ে লুটের রাজত্ব চলছে সবই আছে সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। এই বিভৎস্য অনাচারমূলক অরাজক পরিস্থিতিকেই কি ওবায়দুল কাদের শান্তিময় পরিবেশ বলতে চাচ্ছেন।’ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এ যেন গোটা ছাত্রসমাজের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নেওয়া হচ্ছে। এটা জাতির জন্য শুধু লজ্জার নয় এ দৃশ্য দেখে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্মমতার পথ বেছে নিতে পারে, এটি তার একটি নিকৃষ্ট উদাহারণ।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা-৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খালেদার জামিন
অনলাইন ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য নতুন করে ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে হাজির না করে কাস্টডি ওয়ারেন্ট পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। কাস্টডিতে লেখা হয়, খালেদা আজ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অপরদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আইনজীবীরা তার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসানকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। একই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এ মামলায় তার জামিন হলেও অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় তিনি জামিনে মুক্ত হতে পারছেন না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সহ ৩ নেতার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজনকে আসামী করে ঢাকার আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম এ এইচ এম তোয়াহার আদালতে মামলার আবেদন করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আজ দুপুরে মামলার বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানান তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়। জানা যায়, গত ৪ আগস্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যেখানে শোনা যায় কুমিল্লায় অবস্থানরত নওমী নামে এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। নওমীকে তিনি বলছেন ঢাকা এসে লোকজন নিয়ে নেমে পড়তে। অপরদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ছাত্রদলের লোকজন ঢুকে পরে। তাছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর হুকুমে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মাঝে ছাত্রদলের কর্মীদের ঢুকিয়ে দিয়ে উত্তরায় এনা পরিবহনের দুই বাসে অগ্নিসংযোগ, জিগাতলায় আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুর ও হামলা করে কর্মীদের আহত করেছে, মিরপুরে মারপিট, হামলা ও গুলি বর্ষণ ঘটিয়েছে ছাত্রদলের কর্মীরা। আসামিরা সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলায় ফখরুলরা জড়িত: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার দল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের। রোববার (৫ আগস্ট) বিকেলে ওই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন,আমীর খসরু মাহমুদের ফোনালাপে মির্জা ফখরুলের সমর্থন দেয়ায় বিএনপির ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেছে। এর ফলে প্রমাণ হলো একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি জড়িত। তিনি বলেন,বিএনপি ও তার দলের দোসররা শিক্ষার্থীদের এ অরাজনৈতিক আন্দোলনের ওপর ভর করে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছে। শনিবার ও রোববারের হামলায় প্রমাণিত যে মির্জা ফখরুল ও তার দল জড়িত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মামলায় শুনানি পেছাল
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। রোববার মামলাগুলো শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু সবগুলো মামলার কার্যক্রম বেগম জিয়ার পক্ষে হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, জিয়া উদ্দিন জিয়া। পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এদিন ঠিক করেন। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া এসব তথ্য জানান। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা। ১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথোপকথন ফাঁসে অপরাধ কোথায়?মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক :নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ‘জড়িয়ে’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংশ্লিষ্ট যে অডিওটি ছড়িয়েছে, সেই ‘বার্তা’ সমর্থন করার কথা জানিয়েছে বিএনপি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার দুদিন পর আজ রোববার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন করেই দলের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথোপকথন ফাঁসে অপরাধ কোথায়? সমস্ত দেশই তো তাদের পক্ষে। আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলাম। শিক্ষণীয় আন্দোলন করছে তারা। দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, বুদ্ধিজীবী সবাই বলছে যৌক্তিক।’ ‘তবে তাঁর (আমীর খসরু) কথা বিকৃত করে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এখন তো সবই করা যায়,’ এটাও যুক্ত করেন বিএনপির মহাসচিব। আজ দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমীর খসরুর কথোপকথন জের ধরে গতকাল রাতে দুবার অভিযান চালানো হয়েছে তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য। কিন্তু কেন? তিনি তো সাবেক মন্ত্রী। এটিকে কেন্দ্র করে গতকাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এগুলো সবই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর অভিযানের শামিল। বিএনপিকে নিয়ে গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলছে, এটি শুধু আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য।’ ফখরুল বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের ওপর হামলা আর দেশটির ওপর হামলার শামিল। গতকাল রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় নৈশভোজে গিয়েছিলেন। তার আগেই সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছিল। তিনি বের হলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ হামলায় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এ হামলার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আমরা অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ চলমান আন্দোলন নিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতিকে শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা যারা বড় আছি, তাদের মাঠে নেমে আসতে হবে। অবৈধ সরকার জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বড়দের একটা শিক্ষা হয়েছে। এখন সরকার হটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড়দেরই মাঠে নেমে আসতে হবে।’ আন্দোলনে বিএনপিকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতেও সরকার আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপিকে জড়িয়েছে বক্তব্য দিয়েছে। এবারও একই পন্থা বেছে নিয়েছে। মূলত তারা দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, গতকাল ধানমণ্ডিতে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। সারা দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তারা। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ অনির্বাচিত স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী দল। তাদের কাছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল করির রিজভী প্রমুখ।
বেগম জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ
অনলাইন ডেস্ক :বেগম জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। পুরাতন, জ্বরাজীর্ণ, নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে ইঁদুর তেলাপোকায় ভরা পরিত্যক্ত রুমে তাকে থাকতে হচ্ছে। এটি সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের নানামুখী পদক্ষেপের একটি। দীর্ঘদিন থেকে তার ঠান্ডা জ্বর সারছেই না। বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তাহলে জনগণ ও অভিভাবকরা তাদের ক্ষমা করবে না, এর পরিণাম শুভ হবে না। তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে জন্য আজ রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীদের নির্দেশে আজকেও দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কষ্ট দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গণপরিবহন বন্ধ করেনি। মূলত পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যকারীদের হুকুমেই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের আন্দোলনে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করছে। রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজানো মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে তাকে সুচিকিৎসা না দেয়ায় প্রতিনিয়ত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। তিনি বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে আবারও বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, বেগম জিয়া নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হলেও তার ইচ্ছানুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাকে কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন সরকারপ্রধান। বিএনপির এই নেতা বলেন, গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো শেখ হাসিনা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা করেই যাচ্ছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবেন
অনলাইন ডেস্ক :দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলন করবেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নিসচার চেয়ারম্যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন তিনি। নিসচার চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এ দাবি কোনও অযৌক্তিক বিষয়ে নয়। এ দাবি সকল জনসাধারণের, তাদের দাবি সকলে নিরাপদে ঘরে ফেরার। সরকারকে এ মহৎ উদ্দেশ্যকে সাধুবাদ জানিয়ে শিগগিরই সঠিক সমাধানে পৌঁছানো দরকার। ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আগামী রোববার (৫ আগস্ট) এর মধ্যে সরকারকে শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। যদি সঠিক সময়ে বাস্তবায়নের কাজে ব্যর্থ হয়, তবে আমি আমার সংগঠন নিসচার কর্মীদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবো।’ তার ভাষ্য, সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েলের মৃত্যু ও ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা সারাদেশের মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের সড়ক নিরাপদ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মাঠেই রয়েছি এবং মাঠে থাকবো যতদিন না নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন হয়।

রাজনীতি পাতার আরো খবর