মাদকের উৎসমুখ বন্ধ করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান
চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী সরকার বাংলাদেশে একটি এতিম জেনারেশন তৈরি করতে চায়। মাদক বিস্তারের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বেআইনি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার তাদের টিকে থাকার সমাধান খোঁজে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে অন্যায়ের প্রতিশোধ প্রকৃতি নিজেই নেয়। একটি বেআইনি হত্যা আরো অনেক হত্যার বিস্তৃতি ঘটায়।’ রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মাদকের উৎসমুখ বন্ধ করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ‘গত চার মাসে ২৫০ জন মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এদের বেশিরভাগই আবার তরুণ-যুবক। তারা কে কতটুকু অপরাধের সঙ্গে জড়িত, সে সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বিনা বিচারে হত্যার পেছনে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’ গত ২৬ মে দিবাগত রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার নোয়াখালীয়াপাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন বলে র্যাসপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পুলিশের এই এলিট ফোর্সের আরো দাবি, তিনি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে টেকনাফ পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল নির্দোষ ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পাঁচ দিন পর একরামুলের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করে। যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। একরামুলের পরিবার এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছে একরামের পরিবার। একপর্যায়ে র্যারবের সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখার’ কথা জানানো হয়। এ নিয়ে সর্বশেষ গতকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই একরামের ব্যাপারটা… সে আমাদের পার্টিরই একজন কর্মী। এখানে কি সে ভিকটিম হয়ে গেল, অসহায় ভিকটিম—এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযানে দু-একটা ভুল হতে পারে। আমি জানি না খতিয়ে দেখার আগে। এ বিষয়টাতে… এটা কোনো নিরীহকে শিকার করা হলো কি না?’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ভুল! ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য মানবাধিকারকে ঠাট্টা করা। খুনি-সন্ত্রাসীদের ন্যায় বেআইনি হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া।’ রিজভী মাদক নির্মূলে মাদকের উৎসমুখ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে সরবরাহের উৎস পথ আটকে যাচ্ছে না কেন? তাহলে কারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক ঢুকতে সহায়তা করছে? রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কি উৎসমুখ খোলা থাকে?’ ‘কারণ এই উৎসমুখগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন বদিদের মতো এমপিরা—প্রশাসনের সহায়তায়। বদিসহ ক্ষমতাসীনদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কীভাবে এতগুলো গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছেড়ে গেল, জাতি তা জানতে চায়। আসলে সরকারই গডফাদারদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করছে,’ যোগ করেন বিএনপি নেতা। এ দিন সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারি বহু টালবাহানার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও সরকারি কারসাজিতে তাঁর জামিন আটকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট কোনো মামলায় জামিন দেওয়ার পর আপিল বিভাগ কারো জামিন স্থগিত করে এমন নজির বাংলাদেশে আর একটিও নেই।’ ‘জামিন আটকে রেখে দেশনেত্রীর মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধু একজনের প্রতিহিংসার প্রতিফলন। আমি আবারও দাবি জানাই, জামিন নিয়ে কানামাছি খেলবেন না,’ যোগ করেন রিজভী। তিনি ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।
সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার :ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির হারাবার আর কিছু নাই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন সময় এসেছে রুখে দাঁড়াবার।’শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে রচিত ‘রণধ্বনি’ গানের সিডি মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ফখরুল এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘এখন সময় শেষ, আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশনেত্রীকে যেভাবে আটক রাখা হয়েছে, তা একেবারেই বেআইনি। হাইকোর্ট বেল (জামিন) দিয়েছেন। এরপরও নানা কৌশলে মাসের পর মাস খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে। উচ্চতর আদালত ছুটির কথা বলে প্রলম্বিত করছে।’তিনি বলেন, ‘এসব বললে আদালত অবমাননা হয় কি না। হলেও কিছু যায়-আসে না, এখন তো আর আমাদের হারানোর কিছু নেই।’বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বহুবার আলোচনা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার আমাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তারা বলে সংবিধান অনুযায়ী সব করবে। যে সংবিধান তারা কেটে-কুটে নিজেদের মতো করে নিয়েছে।’নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদেরকে দেশ রক্ষায় নামতে হবে। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। গায়ের জোরে তাঁকে আটক রাখার মানে হলো গণতন্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করা। মানুষের অধিকার, মানুষের ভোটাধিকার নষ্ট করে এক ব্যক্তির শাসন নিশ্চিত করা। এ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতার চেতনা হত্যা করেছে। সময়টা এতই খারাপ, আজকাল বাসায়ও জড়ো হয়ে কথা বলতে পারে না মানুষ। আমরা পাকিস্তানের আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এরশাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু তখন আজকের মতো এত ভয়াবহ সময় ছিল না।’বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অত্যাচার-নির্যাতনের দিক থেকে এ সরকার অতীতের সকল স্বৈরশাসককে হার মানিয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগের মতো দল এভাবে শাসন করছে। অথচ আওয়ামী লীগ একটি পুরোনো দল। তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে একসময়। কিন্তু আজ তারাই গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় নয় শুধু, এক ব্যক্তির শাসন শুরু করেছে। আমাদেরকে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। এ দানবকে প্রতিহত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে একটি অর্থবহ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’মেহেরপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার।
এটা কি জনগণের সরকার? রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তিনি নাকি কিছু জানেন না। গোপনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কী ভয়ঙ্কর অবস্থা। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী তাকে স্যাঁতসেঁতে ঘরের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তাকে সঠিক চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দলীয় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে সারা দেশে মাদকের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এটা কি জনগণের সরকার? এরা তো গডফাদার, সন্ত্রাসী ও বেআইনি কাজে যারা জড়িত তাদের সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। রিজভী অভিযোগ করেন, গিয়াস কাদের চৌধুরী যে বক্তব্য দেননি সেটা টুইস্ট করে চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। অথচ ওই বক্তব্যের কারণে ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত সায়েমের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। যেখানে ২০টির মতো গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। তিনি বলেন, যখন হামলা হয় তখন সেখানে পুলিশ থাকলেও তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এই হলো অবস্থা। পুলিশ আর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা একাকার হয়ে গেছে। তারা একেবারে খালাতো ভাইয়ের ভূমিকা পালন করছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ত্রাণ বিতরণ, ইফতার বিতরণ করতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, এসব দেখে মনে হচ্ছে আমাদের আর বসে থাকার সময় নেই। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগেই বলেছি আন্দোলনের গতি কেমন হবে তা সরকারের আচারণের উপর নির্ভর করছে। ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ভারতেকে সব দিয়ে দিয়েছেন। অদ্ভূত কথা। আমরা লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদের, প্রেমের কথা শুনেছি, দেবদাস- পার্বতীর প্রেমের কথা শুনেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ও ভারতের সঙ্গে প্রেম ইতিপূর্বের সকল প্রেমকে হার মানিয়েছে। এত প্রেম এর আগে আমরা দেখিনি। রিজভী বলেন, তারা না চাইতেই সবকিছু উজার করে দিয়ে দেন। তার প্রেম এত গভীর ভারতের জন্য। যার জন্যে যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কথা বলবে তাদের তো জেলে থাকতে হবেই। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, সহ দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, নির্বাহী সদস্য শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো
খালেদা জিয়াকে সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে দীর্ঘদিন জেলে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, যেহেতু ইতিমধ্যে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হবে এটা সরকারও জানে। ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এখন আমরা চাচ্ছি ন্যায়নীতির মাধ্যমে আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদেশ দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের সভাপতির কক্ষের সামনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। হাইকোর্ট মেরিটে বেইল কনসিডার করলেও সুপ্রিম কোর্ট এটা ইন্টারটেইন করেছে মন্তব্য করে জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা চলতে পারে না। যেহেতু ওয়ারেন্ট হয়েছে সেহেতু আবেদন করেছি। আদালত আমাদের বেইল দিয়েছে। আমরা সেই বেইলটা বহাল রাখার জন্য বলেছি। তিনি আরও বলেন, আর সরকার চাচ্ছে যেকোনো উপায়ে খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে হবে, কারাবন্দি রাখতে হবে। যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে সে মামলায় আমরা জামিন পেয়েছি। অথচ রাজনৈতিক মামলায় যেখানে খালেদা জিয়া বন্দি ছিল গুলশান অফিসে। তাকে সম্পৃক্ত করে আসামি করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত
কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত আপিল করতে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকালে এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী। ২৯ মে কুমিল্লায় নাশকতার দুই মামলায় দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে মামলা দুটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৩১ মে দিন ধার্য করেন আদালত। তাছাড়া ওইদিন নড়াইলের মানহানি মামলার জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আদালত। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ২৮ মে কুমিল্লায় নাশকতার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের পৃথক তিন মামলায় হাইকোর্টের অনুমতির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। এরপর গত ২১ মে আদালতে খালেদা জিয়ার দুই মামলায় জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে গত ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিন আংশিক শুনানি নিয়ে মামলাটি ২৩, ২৪ ও ২৭ মে আবারো শুনানি হয়। সেই শুনানি শেষে আদালত গত ২৮ মে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন আদেশ দেন। এরপর সে আদেশ স্থগিত চেয়ে একইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখাই সরকার মূল লক্ষ্য :মির্জা ফখরুল
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশনেত্রী বেগন খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখাই সরকার মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও কারামুক্তি আটকানোর জন্য সরকার বাধা সৃষ্টি করছে। যাতে তিনি বের হতে না পারেন। সেই ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। কারণ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা।’ গতকাল বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন পরে তাদেরকে বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পরে তারা দেখেছেন, বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। আর এ অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, তিনি ঠিক মত হাঁটতে পারছেন না।’ ‘প্রতিদিন রাতে বেগম খালেদা জিয়ার জ্বর আসে। পরে এই জ্বরটা আর যাচ্ছে না। আর যে রান্না হয়, সেই রান্নার মানও অনেক খারাপ হয়ে গেছে। অপরদিকে তার বাসা থেকেও কোনো খাবার দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তার রক্ত পরীক্ষা করা দরকার।’ কালবিলম্ব না করে ইউনাইটেড হসপিটালে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য আবারও জোর দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, কারাগারের বাইয়ে ইউনাইটেড হসপিটালে এনে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য। এটা কারাকর্তৃপক্ষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এবিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তাকে (প্রধানমন্ত্রী) অনুরোধ করেছেন। দেশ ও বিদেশ থেকে তার কাছে অনুরোধ এসেছে, বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও চিকিৎসার জন্য যাতে ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেননি।
খালেদাকে মুক্ত করা সম্ভব নয় আদালতের মাধ্যমে: ড. মোশাররফ
আদালতের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। ড. মোশাররফ বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে আইন-আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এজন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি, আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকব না। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘যে ধরনের কর্মসূচিতে একটি স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়, আগামীতে সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলন কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন হবে।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদার মুক্তির ঘোষণা বিএনপির
আন্দোলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, আইন ও আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে। এই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিইশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা এ আহ্বান জানান। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের নেত্রী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখেছেন, দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন; সেই নেত্রীকে আজকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল তারাই আজকে আবার দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশের মানুষের সমস্ত অধিকারগুলোকে হরণ করে নিয়েছে সরকার। সেই জন্য সবাইকে জেগে উঠতে হবে। নতুন করে শপথ নিতে হবে, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে ঐক্যববদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে। সেই আন্দোলনে অবশ্যই সবাই সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। অবশ্যই তাকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, একদলীয় নির্বাচনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। সেই জন্যই বলছি, সবার আগে দেশনেত্রী খালদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করাও দাবি জানান মির্জা ফখরুল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে সরকার সময়ক্ষেপন করছেন। তাই এ সরকারের আমলে আইন আদালতের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আর এ জন্য আমরা যে ধরনের আন্দোলন করছি। আগামীতে এ ধরনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, আগামীতে যে ধরনের কর্মসূচিতে একজন স্বৈরচার সরকারের পতন হয়, সেই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি মাঠে থাকবে। সামনের দিনে আন্দোলনের কর্মসূচির ধরণ পরিবর্তন হবে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশে হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়া আন্দোলনের জন্য রাস্তা নেমে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হলে গণআন্দোলন হবে দেশে। আর গণআন্দোলনের মুখে এ সরকার বাধ্য হবে সহায়ক সরকারের দাবি মানতে। তিনি বলেন, সহায়ক সরকারে কথা বলে লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারেই ফিরতে হবে। অন্য কোনো সরকারে কথা বলে লাভ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার। সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
সরকার চাইলেই খালেদার মুক্তি
কুমিল্লার দুটি নাশকতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। তবে একই দিন আদেশের জন্য রাখা নড়াইলের মানহানির মামলাটির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার সকালে বিচারপতি মো. আসাদুজ্জামান ও জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায়ের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, কুমিল্লার দুটি নাশকতার মামলায় জামিন হওয়ার পর অন্য মামলাগুলো সবই জামিনযোগ্য। এগুলো বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে উত্থাপন করলেই জামিন পাওয়া যাবে। মূলত সরকারের সদিচ্ছাই এখানেই যথেষ্ট। সরকার যদি মনে করে, তাহলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কুমিল্লার দুটি মামলায় জামিন পেলে সরকার খালেদা জিয়াকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখাবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের উল্লেখ করেন খন্দকার মাহবুব। তিনি বলেন, ‘এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেটাই দেখার বিষয়।’ খালেদা জিয়া আর কয়টি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নড়াইলেরটিসহ আর চারটি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন। তবে এখানে সঠিক তথ্য বলা যাবে না। কেননা সরকারই ভালো বলতে পারবে। আমরা দৃশ্যমান মামলাগুলোর জামিন করিয়েছি। সরকার আবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখায়।