নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন :রিজভী
অনলাইন ডেস্ক :নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, “টিভি খুললেই দেখছি, অনেক চ্যানেলে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিএম’ বিজ্ঞাপন চলছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না?”‌ আজ বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝাও যায় না, বিজ্ঞাপনদাতা কে? আবার কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝা যায় বিজ্ঞাপনদাতা মন্ত্রণালয়।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‌‘নির্বাচন সামনে রেখে এখন কেন সরকারি অর্থে এ ধরনের প্রচার চালু রাখা হচ্ছে? এ বিজ্ঞাপন তো দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় প্রচারিত হচ্ছে। আর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আওয়ামী লীগ ভোটের সুবিধা নেবে। এটা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগের বিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।’ নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। ‌‘এ জন্য ভোটকেন্দ্র থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসারদের এ নির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। নির্দেশনাগুলো হলো, প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে না। ১০ মিনিটের বেশি কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারবে না। ভোটকক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ কারো সঙ্গে আলাপ করতে পারবে না। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে হবে। সংবিধান, নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
নাইকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ জানুয়ারি
অনলাইন ডেস্ক :নাইকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার বেলা ১২টায় তাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯নং বিশেষ জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক মাহমুদুল কবীর এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আজ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে আংশিক শুনানি হয়েছে। এ সময় আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সময় আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। তার এ আবেদনে সমর্থন দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। কারাগারের ভেতর আদালতের সংকুচিত পরিবেশ ও আইনজীবীদের বসার পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় অস্বস্তি প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এ কারাগারেই বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গত সপ্তাহে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। নাইকো দুর্নীতি মামলা সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল টাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।
নির্বাচন আরও পিছিয়ে দিতে বুধবার ইসিতে যাবে ঐক্যফ্রন্ট
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরও পিছিয়ে দিতে আগামীকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন,আমরা নির্বাচন কমিশনকে এক মাস নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ করেছিলাম। কমিশন নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আমরা হতাশ, দেশবাসীও হতাশ। ইসির পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়। অথচ একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসির ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি। এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ মুখপাত্র ভোট পেছানোর দাবি নিয়ে আগামীকাল বুধবার ফের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাবে ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে ১৬ নভেম্বর প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবে ঐক্যফ্রন্ট। এরপর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গেও বসার কথা রয়েছে তাদের বলে জানান। ফখরুল বলেন,নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এ দিনটিতে বড় দিনের ছুটি থাকে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য দিনটি বিশেষ। এ দিন তাদের জন্য উৎসবের। এছাড়া ইংরেজি নববর্ষের আগের দিন ৩০ ডিসেম্বর। এই দিনে ভোট হলে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসতে পারবেন না। তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন না। তাই আমরা নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি করছি। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৪০২৩ জন ,নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত হবে আগামীকাল
অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সকাল এগারোটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। এদিন মনোনয়ন জমাদানকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে কারা হচ্ছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদীয় বোর্ডের সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ দলীয় ফরম সংগ্রহকারীদের যথাসময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে, সোমবার শেষ হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম। আজ মঙ্গলবার ফরম জমা দেয়ার কাজ শেষ হবে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দলটির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৪০২৩ জন। গেল শুক্রবার (৯ নভেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আওয়ামী লীগের ফরম বিতরণ কার্যক্রম।
খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন ?
অনলাইন ডেস্ক :দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারেন- এমন শঙ্কার মধ্যেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রথম মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বগুড়া-৬ আসন থেকে এবং মির্জা আব্বাস বগুড়া-৭ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মামলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিলসহ আইনি সব প্রক্রিয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। গত ৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন জোট ও দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকালে কমিশন সভা করে ভোট পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ ধরে ঘোষিত পুনঃতফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৮ নভেম্বর, বাছাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর বিএনপি চেয়ারপারসন আদৌ কি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন- এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে মুখে। কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন উচ্চ আদালত। অপরদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সাজা দিয়েছেন নিম্ন আদালত। নির্বাচনে যদি অংশগ্রহণ করতেই হয় তাহলে সেটা কোন পন্থায়- এ নিয়ে আইনজ্ঞদের কাছ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সাজা হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের নজির ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই আছে। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, কোনোভাবেই খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি, নির্বাচন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে নানামুখী আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রাখতে চায় সরকার। তাই তড়িঘড়ি করে আদালতের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন বক্তব্যের পাল্টা জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, অপরাধের কারণে আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা হওয়ার পরও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আরও তিন মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বাদীও দুদক। সব মামলাই এক-এগারোর সময় দায়ের করা। এর বাইরে বর্তমান সরকারের আমলে নাশকতাসহ আরও কয়েক ডজন মামলা রয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না- সোমবার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রার্থী কমিশনে আপিল করতে পারবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো আদালতে দুই বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। তবে, আদালতের এমন রায়ের বিরুদ্ধে কেউ উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জমা হওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ কি অবৈধ, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার। রিটার্নিং কর্মকর্তা কারো মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে বাতিল করলে তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ইসিতে আপিল করতে পারবেন। কমিশন সেই আবেদন বাতিল করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, কমিশন সে অনুযায়ী কাজ করবে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন (ইসির) ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. মোহাম্মদ ইয়াসীন খান কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আমরা আগেই বলেছি, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। সাজা থেকে খালাস না পেলে উনি নির্বাচন করত পারবেন না। বিষয়টি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (গ) ধারায় উল্লেখ আছে। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কারও দুই বছর বা ততধিক সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাবেন। কিন্তু আদালত যদি সেই সাজা স্থগিত করেন তাহলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকবে না। এ নজির ভারতসহ উপমহাদেশের অনেক দেশেই আছে। তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনেকেই সাজা মাথায় নিয়ে নির্বাচন করেছেন। ম্যাডামের পক্ষে আমরা আবেদন করবো এবং ইনশাআল্লাহ তিনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব কি না- এর জবাবে তিনি বলেন, একদিনের মধ্যেই সম্ভব। দরখাস্ত দিলে একদিনেই আদালত সাজা স্থগিত করতে পারেন। এ জন্য বেশি সময়ের প্রয়োজন নাই। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, এখন যে অবস্থা, উনি (খালেদা জিয়া) যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত, সেহেতু তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য। এটা সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে আছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষীসাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে তাহলে তিনি নির্বাচনের যোগ্য হইবে না।এটা হলো সংবিধানের বিধান। তিনি আরও বলেন, এখন প্রশ্ন হলো, উনি (খালেদা জিয়া) একটাতে ১০ বছর এবং আরেকটাতে সাত বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি আপিল করার সুযোগ পেলেও আপিল শুনানি করে নির্দোষ প্রমাণের বিষয়টি তো সময়সাপেক্ষ। কাজেই এই পরিস্থিতিতে সংবিধানে যে বিধান আছে তাতে তিনি অযোগ্য হবেন। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি পারবেন বলে আমার মনে হয় না। দরখাস্ত দিলে একদিনেই আদালত সাজা স্থগিত করতে পারেন- খন্দকার মাহবুবের এই বক্তব্যের জবাবে শফিক আহমেদ বলেন, আপিল করলেই তো হবে না। ধরেন উনি আপিল করলেন, আপিলের শুনানি কবে হবে? সার্টিফাইড কপি নিতে হবে। এরপর আবার আপিল বিভাগ আছে। এই অল্পসময়ের মধ্যে এতগুলো স্টেজ অতিক্রম করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা; আমার মনে হয় অসম্ভব ব্যাপার। সে জন্য উনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান কারাবন্দী খালেদা জিয়ার: মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক বেগম খালেদা জিয়া। আজ বিকেলে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া খুব অসুস্থ, তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এসময় তিনি দলের চেয়ারপারসনের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন। এর আগে আজ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান দলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। তারা দুপুর আড়াইটায় জেলগেটে পৌঁছান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস ছিলেন এ প্রতিনিধি দলে। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বিকেল চারটা ২৫ মিনিটে কারাগার থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
কোন আসনে নির্বাচন করবেন তারা !
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। তফসিল ঘোষণার পরদিন ৯ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্যে দিয়ে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয় আওয়ামী লীগের । আসন দুটি হলো গোপালগঞ্জ -৩ (টুঙ্গীপাড়া-কোটালীপাড়া) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) । ১২ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রথম মনোনয়ন ফরম বিক্রির মধ্য দিয়ে ফরম বিক্রি শুরু করেছে দলটি। খালেদা জিয়ার নামে তিনটি আসনের মধ্যে ফেনী-০১ আসনের মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বগুড়া সদর-৬ আসনের মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন নজরুল ইসলাম খান এবং বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছে মির্জা আব্বাস। এছাড়া তিন আসনে লড়তে চান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। ১১ নভেম্বর ফরম বিক্রির শুরুতেই ঢাকা-১৭, রংপুর-৪ এবং নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপরই এরশাদের স্ত্রী ও পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ-৪ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নেন।
নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিলেন মাশরাফি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। রবিবার দুপুর একটার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে নড়াইল-২ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হাত থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন প্রমুখ। এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে যান মাশরাফি। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করে দোয়া নেন। এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য নাজিম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মাশরাফি ছাড়াও জাতীয় দলের আরেক তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু শনিবার রাতে সাকিব জানান, আপাতত রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীও আপাতত তাকে রাজনীতিতে থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।