বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৯
আন্তরিকভাবে দুঃখিত আমি: ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করায় শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ ঘটনার পর আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। ১৪ ডিসেম্বর সাংবাদিকরা আগামী নির্বাচনে জামায়াত প্রশ্নে ঐক্যফন্টের অবস্থান জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের ভৎসনা করেন এবং অসম্মানের সঙ্গে উল্টো জিজ্ঞাসা করেন কতো টাকা পেয়েছো? কাদের টাকায় এসব বেহুদা প্রশ্ন করছো, তোমার নাম কী? দেখে নেবো, কোন টিভি/পত্রিকায় কাজ করো, চিনে রাখব। এসময় তিনি প্রশ্নকারী সাংবাদিকের নাম পরিচয় জানতে চাওয়ার পাশাপাশি তাকে খামোশ বলে ধমক দেন। প্রশ্নকারী সাংবাদিকদের চিনে রাখার কথাও বলেছেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। সংবাদপত্রে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বিষয়টিকে ব্যাখ্য করেছেন। এতে তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জীবনে অসামান্য তাৎপর্যপূর্ণ। আমি প্রত্যেক বছরের মতো এবারও শহীদ বুদ্ধজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিরপুর স্মৃতিসৌধে গিয়েছি। এই দিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত আইনগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারা আমার কাছে সর্বদাই আবেগ অনুভূতির বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শুধুই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যান। তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, আমরা কতো মেধাবী সন্তানদের হারিয়ে তবে স্বাধীনতা পেয়েছি। তখন হঠাৎ করে বেদিতেই আমার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলো। আমি তাৎক্ষণিক সবিনয়ে বলি, আজকের এই দিনে, যেখানে আমাদের গভীর অনুভূতির বিষয়, এই বিষয়ে এখানে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পুনরায় একই প্রশ্ন তুললে আমি একই মনোভাব ব্যক্ত করি। কিন্তু তৃতীয়বার ভিড়ের মধ্যে থেকে কোথাও অনবরত দুই থেকে তিনবার আমি শুধু জামাত জামাত শুনতে পাই। তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। এ বিষয়ে আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমার বক্তব্য যদি কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের দোষ সরকারের ওপর চাপাচ্ছে: নানক
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের মধ্যে কোন্দল থেকে হামলা-বিশৃঙ্খলা করছে এবং সে দোষ সরকারের ওপর চাপিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ঐক্যফ্রন্টের এসব কার্যকলাপ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন নানক। তিনি বলেন, ভরাডুবি বুঝতে পেরে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চেষ্টা করছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ফ্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নানক। তিনি বলেন, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের মধ্যে কোন্দল থেকে হামলা-বিশৃঙ্খলা করছে এবং সেটা সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। এটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের অন্তরায়।
মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর
অনলাইন ডেস্ক: শেরপুরের নকলায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা তার কার্যালয় ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার টালকি ইউনিয়নের রামেরকান্দি ও নারায়নখোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলমসহ পাঁচ বিএনপি নেতাকে আটক করেছে। স্থানীয়রা জানায়, নকলার টালকি ইউনিয়নের রামেরকান্দি বাজারে শুক্রবার রাতে বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি নেয় স্থনীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এতে বাধা দেয় ওই এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এ নিয়ে বিএনপি কর্মীরা আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অতর্কিত মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্রে হামলা চালায়। এসময় ওই কার্যালয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রচার কেন্দ্রে ব্যবহƒত চেয়ার, টেবিল, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং মতিয়া চৌধুরীর ছবি সম্বলিত নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বিএনপি কর্মীরা। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলা সংঘর্ষ অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। তবে ওই ঘটনায় উভয়দল একে-অপরকে দায়ী করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে আজ শনিবার সকালে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, ওই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে। ঢাকা টাইমস
ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী রোডমার্চ শুরু টঙ্গী থেকে
অনলাইন ডেস্ক: টঙ্গী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ শনিবার দুপুরে বেলা ২টায় টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে শুরু হবে কর্মসূচি। এরপর রোড মার্চ ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর পর্যন্ত যাবে। ব্যালটের মাধ্যমে সরকার বদলের আহ্বান জানানো হবে রোড মার্চে। এতে বেশ কয়েকটি পথসভাও করা হবে। শনিবার বেলা ২টায় টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠে প্রথম পথসভাটি হবে। এরপরে গাজীপুর চৌরাস্তা, ময়মনসিংহের ভালুকা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, ফুলপুর হয়ে শেরপুর এই পথসভা শেষ হবে। রোড মার্চে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী অফিস পুরানা পল্টনে জোটের সমন্বয় কমিটির বৈঠকের পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার।
সাংবাদিকদের খামোশ বলেন ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক :বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরজাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যারা লোভ-লালসা নিয়ে লুটপাট করছে, তাদের থেকে দেশকে অবশ্যই মুক্ত করব। তিনি বলেন, আমরা শোষণমুক্ত সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। স্বাধীনতার স্বপ্নকে সামনে রেখে কাজ করে যাব এবং সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপান্তরিত অবশ্যই করব। বুদ্ধিজীবীদের আত্মদানকে মাথায় রেখেই আমরা ১৪ ডিসেম্বর পালন করব। এসময় জামায়াত প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বেহুদা কথা বলো, কতো পয়সা পেয়েছো এই প্রশ্ন করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছো? পয়সা পেয়ে শহীদ মিনারে এসে শহীদদের অশ্রদ্ধা করো? শহীদদের কথা চিন্তা করো। চুপ করো, চুপ করো, খামোশ। তিনি ড. কামাল বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন ও স্বাধীনতার আদর্শকে সামনে রেখে সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপান্তরিত করবো। যারা লোভ লালসা নিয়ে লুটপাট করছে তাদের থেকে দেশকে ইনশাল্লাহ আমরা অবশ্যই মুক্ত করবো, আমরা জয়ী হবো। এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ (শুক্রবার) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
বিজয় উপভোগ করবে বিজয়ের মাসে আ.লীগ: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে বিজয় উপভোগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকটি বিজয় ছিনিয়ে আনবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও আমরা বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। ওবায়দুল কাদের আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে দেশের সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরুর আগে এক সমাবেশে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর বিএনপির শুরু হয়েছে গণভাটা। আওয়ামী লীগের এ গণজোয়ার দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও লেগেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রমাণ হবে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ, সাহসী, বিচক্ষণ নেতৃত্বের সঙ্গে রয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শুভ শক্তির সঙ্গে রয়েছে। জনগণ যে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে নেই তাও প্রমান হবে। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের শপথ হল, একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করা। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম সেভাবেই জাতীয় নির্বাচনেও আমরা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করব। কাদের বলেন, বিএনপি খুনীদের দল, দুর্নীতিবাজদের দল, যারা পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। এ দলের নেতৃত্বে রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত, লন্ডনে পালতক তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও কাদের সিদ্দিকীর মত রাজনীতিবিদরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মূল্যবোধ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের দেখলেই বোঝা যায়। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, একটি চেতনাকে ধারণ করে আজ প্রখর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আপনারা যেভাবে অপেক্ষা করছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অংগন এখন আর মরা গাঙ নয়, জাতীয় নির্বাচনে নৌকার জোয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে লেগেছে। তাই তারাও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে শামিল হয়েছেন। অনুষ্ঠানে নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন শীল ঘোষাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, মাহফুজ আহমেদ, জাহিদ হাসান, চিত্রনায়িকা নূতন, অরুণা বিশ্বাস, অখিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, আজমেরী হক বাধন, সুইটি, তারিন, অভিনেতা শাকিল খান, সাইমন, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, সঙ্গীত শিল্পী এসডি রুবেলসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সংস্কৃতি কর্মীরা সুসজ্জিত বিশাল আকৃতির পাঁচটি ট্রাকে করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয় এবং বর্তমান সরকারের টানা দশ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জন ও বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে নানা নাশকতার তথ্য নিয়ে তৈরি লিফলেট বিতরণ করা হয়। তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। ট্রাক বহরটি টিএসসি, শাহবাগ, বাংলা মোটর, ফার্মগেইট, মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর ব্যালেটের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে হবে: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর হচ্ছে এই স্বৈরাচার সরকারের পতনের দিন। আপনরাই পারেন ব্যালটের মাধ্যমে ধানের শীষে একটি করে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদরে স্থানীয় সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার আবারো ক্ষমতায় আসতে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে যাচ্ছে। দুনীর্তি, নির্যাতন, নিপীড়ন গণতন্ত্র ধ্বংস করা দিন দিন চরম পর্যায়ে পৌছাচ্ছে। জাতির এই কঠিন সংকটে নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে আমরা অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণ আওয়ামী লীগের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। সে কারণে তারা এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেছে নিয়েছে। একদিকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার বিএনপির নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করছে, অপরদিকে তারাই হামলা ও ভাংচুর চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার কথা ছিল, তা কোনোভাবে সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় তাহলে এ সব বন্ধ করতে হবে। বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে সরকার পতন করে দেশ মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত আহবান জানান মির্জা ফখরুল। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি পয়গাম আলীসহ জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ে তিনদিন ধরে মির্জা ফখরুল নির্বাচনী পথসভা, জনসভা করছেন। পরে সালন্দর, রাজাগাঁও, রহিমানপুর, জামালপুর ইউনিয়নের ১৫ স্থানে পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।
হানাহানি ও মারামারি করে আমি এমপি হতে চাই না: তোফায়েল
অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, হানাহানি ও মারামারি করে আমি এমপি হতে চাই না। আমি চাই আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করুন। কাজ করতে মন্ত্রী হওয়া লাগে না, এমপি হলেই হয়। প্রয়োজনে আপনাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করব। বৃহষ্পতিবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমি এ পর্যন্ত বেশিরভাগ নির্বাচনেই জিতেছি। শুধু ১৯৭৯ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ভোলায় বিএনপির নেতারা আমার গাড়িতে বোমা মেরেছে। আমার উপর হামলা করে রক্তাক্ত করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচার করেছে। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসার পর তার প্রতিশোধ নেইনি। এমনকি বিএনপির কোনো নেতা কাজের জন্য আসলে আমি করে দেই। তোফায়েল আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আওয়ামী লীগ দেশে যে উন্নয়ন করেছে তা আর কোনো সরকার করেনি। আগামী নির্বাচনে আবার নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। পথ সভায় মন্ত্রীর হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি ও বিজেপির শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
খালেদা জিয়ার ভোট নিয়ে শুনানি আজ
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পৃথক রিট শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে আজ দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বিকেলে প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চ ঠিক করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে এনটিভি অনলাইন বলেন, খালেদা জিয়ার রিট তিনটি শুনানির জন্য ১, ২ ও ৩ নম্বরে রাখা হয়েছে। দুপুর ২টায় এর ওপর শুনানি হতে। এর আগে গত মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিটের বিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও মো. ইকবাল কবিরের দ্বৈত বেঞ্চ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভোটের ব্যাপারে এ বিভক্ত আদেশ আসে। পরে হাইকোর্টের দেওয়া দ্বৈত আদেশ বিস্তারিত লেখার জন্য নথি ফেরত পাঠানো হয়। দুপুরে বিস্তারিত লিখে আদেশ জমা দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বিকেলে নতুন করে এ বিষয়ে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করে দেন। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন যে রায় দিয়েছিল, তা স্থগিত ঘোষণা করেন এবং কেন এই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারি করেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাঁকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার আদেশ আসে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির কাছে থেকে। জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির। তিনি খালেদা জিয়ার আদেশ খারিজ করে দেওয়ার মত দেন। এর ফলে খালেদা জিয়া ভোটে ফিরতে পারবেন কি না, তা আপাতত অমীমাংসিতই রয়ে যায়। নিয়ম অনুসারে, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে শুনানির জন্য তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দিলেন আজ। সেই বেঞ্চই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত আদেশ দেবেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন করেন। গত শনিবার শুনানির সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তাঁরা তিনটি আসনেই খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। এর পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভোটের লড়াইয়ে ফিরতে শেষ আশ্রয়স্থল হাইকোর্টে আসেন। গত রোববার বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। দ্বৈত আদেশের এ রায়ের কপি মোট দুই পৃষ্ঠা। গত ৯ ডিসেম্বর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সারা দেশে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। আর ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

রাজনীতি পাতার আরো খবর