মঙ্গলবার, নভেম্বর ২০, ২০১৮
আজ ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে ড. কামালের সংবাদ সম্মেলন
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে কথা বলতে বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিভিআইপি লাউঞ্জে এটি অনুষ্ঠিত হবে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডাকা আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের নাগরিক সমাবেশ, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগসহ নানা ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন তিনি। গণফোরাম এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত থাকবেন। এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্বঘোষিত আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ করার অনুমতি এখনও পাননি ড. কামাল হোসেন। প্রায় এক মাস আগে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে এদিন রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। এ জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে অনুমতিও চান। কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে ঐক্য প্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে একই দিন বেলা ৩টায় গুলিস্তানে অবস্থিত মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়রের কাছে আবেদনটি করেন।
শিগগিরই গণ-ঐক্যের মাধ্যমে স্বৈরশাহী বিদায় নেবে: বি. চৌধুরী
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আমাদের আন্দোলন স্বাধীনতা বিরোধী ও ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে। যারা গণতন্ত্র, সুন্দর বাংলাদেশ এবং স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চান আমরা তাদের পক্ষে আছি, সঙ্গে আছি। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঐক্যের মাধ্যমেই জনগণের বিজয় অর্জিত হবে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে অল কমিউনিটি ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিকল্পধারার সহযোগী সংগঠন প্রজন্ম বাংলাদেশ-এর ‘প্ল্যান-বি পজিটিভ’ শীর্ষক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বি চৌধুরী। মাহী বি চৌধুরীর পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। বি চৌধুরী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই একদলীয় শাসন দেখেছি, গণতন্ত্রের নামে দলীয় শাসন দেখেছি এবং স্বৈরশাসন দেখেছি ও দেখছি। কিন্তু প্রকৃত অর্থে জনগণের শাসন এখনো দেখিনি। এই স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন। যারা দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের সঙ্গেই আমরা আছি। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা জানেন যে, দেশে আজ কী অবস্থা চলছে। আইনের শাসন নেই, বিচার নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সকল গণমাধ্যম সরকার নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেন, এসব থেকে মুক্ত হতে হলে আমাদের ভারসাম্যের রাজনীতির প্রয়োজন। যেমন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনতে হবে। জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল থেকে স্পিকার নির্বাচিত হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে হবে বিরোধী দল থেকে। এভাবেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও দেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে হবে। জাতীয় ঐক্যের সাফল্য নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ একত্রিত হলে অসম্ভবের কিছুই নেই। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই সেই গণ-ঐক্যের মাধ্যমে স্বৈরশাহী বিদায় নেবে। আ স ম আবদুর রব বলেন, আমাদের আন্দোলন ক্ষমতাসীন সরকার ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে। এর বাইরে যুক্তফ্রন্ট যে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে- যারাই এসব প্রস্তাব মেনে নিয়ে এগিয়ে আসবেন তাদেরকেই আমরা স্বাগত জানাব। তিনি বলেন, দেশের এই অর্বাচীন সরকার মানুষের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ন্যায় বিচার নেই, মৌলিক অধিকার নেই। এসব অধিকারসহ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের আজকের আন্দোলন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের চরম সংকটকালেও এই তরুণদের দেখে আজ আমরা শতভাগ আশাবাদী। কিছুদিন আগেও আমরা এই তরুণ যুবকদের অথর্ব ও স্বার্থপর ভেবেছিলাম। কারণ দেশ ও দেশের রাজনীতি নিয়ে এদের কোনো মাথা ব্যথা ছিল না। কিন্তু সেই তরুণ-যুবক ও শিশু-কিশোররা এবার কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মাধ্যমে যা দেখিয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির প্রতিনিধি দল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজ রোববার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপির প্রতিনিধি একটি দল। দলটির চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান শীর্ষনিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে হাসপাতালে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় আইনজীবীরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে এ অনুরোধ জানান। কারাগার থেকে বের হয়ে আইনজীবীরা জানান, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ জন স্থায়ী কমিটির সদস্য এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। তারা ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা, রোজার ঈদ আর কোরবানির ঈদের কথা বলে শুধুই কালক্ষেপণ করেছে। গত ১০ বছরে ২০টি ঈদ চলে গেলেও তারা আন্দোলন করতে পারে নাই। এরপরে তারা কোটা সংস্কার আর ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ওপর ভর করেও কোনো সুবিধা করতে পারেনি। মির্জা ফখরুল সাহেবরা ভেবেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জেলে গেলে সারাদেশে হয়তো বঙ্গপোসাগরের মতো ঢেউ তুলবেন কিন্তু সেটাতো দূরের কথা বিএনপি ছোট একটা নদীর ঢেউ তুলতেও পারেনি। তিনি দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেনে শনিবার দেশের উত্তরাঞ্চল সফরের সময় নাটোর রেল স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দলীয় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা নয়, আদালত আপনাকে মামলায় সাজা দিয়েছে, তাই আপনাকে মুক্ত করার এখতিয়ারও আদলতই রাখে, শেখ হাসিনা নয়।’ ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি দেশের মানুষকে আগুন সন্ত্রাস, পেট্রোল বোমা আর দুর্নীতিতে বারবার চাম্পিয়ন করা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। আর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, বয়স্করা বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধীরা প্রতিবন্ধী ভাতা আর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ ভাতা পাচ্ছেন। দেশের মানুষ এখন অনেক ভালো আছেন। তারা আর অন্ধকারে ফিরতে চান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সালাম জানিয়ে সবার কাছে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট চান। তিনি সকালে নীলসাগর ইন্টারসিটি ট্রেনে ঢাকা থেকে চিলাহাটি যাওয়ার পথে বেলা আড়াইটার দিকে নাটোর রেল স্টেশনে আসেন। অপেক্ষমাণ হাজার হাজার দলীয় নেতা-কর্মী আর সমর্থকদের দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আজ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এলে এই পথসভা জনসমুদ্রে রূপ নিত। এ সময় তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনার ট্রেন সফরের সময়ে এই নাটোরেই তার গাড়িতে মুহুর্মুহু গুলি করা হয়েছিল। তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। এর আগে ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও মুলাডুলি রেল স্টেশনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তার সফর সঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক এমপি, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এবং বিএম জাহাঙ্গির হোসেন এমপি। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এবং নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এর আগে সকাল থেকেই জেলা সদর ও নলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক রেল স্টেশনে উপস্থিত হওয়ায় পথসভাটি জনসভায় পরিণত হয়ে যায়।
আ-লীগের প্রতিনিধি দল উত্তরবঙ্গের পথে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের। দুই দিনের সফরে টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত ১৫টি সাংগঠনিক দলের চলমান সফরের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেসে চড়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি নিলফামারী গিয়ে থামবে। যাত্রা পথে ট্রেনটির ৮টি স্টপেজে যাত্রাবিরতীর জায়গাগুলোতে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মী।
কারাগারে আদালত স্থানান্তরের প্রতিবাদে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল
অনলাইন ডেস্ক: দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার বিচারাধীন মামলার আদালত কারাগারে স্থানান্তরের প্রতিবাদে এবং তার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ৮ টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে তোপখানা রোডে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আরিফুর রহমান নাদিমসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ গ্রহণ করে। মিছিলটি বিএমএ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়। গত বুধবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। শীর্ষ নিউজ
ঐক্য চান ফখরুল-জামায়াত ছাড়ার শর্ত কামালের
অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীতার কথা বললেন বিএনপি, গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তবে সবাই কিছু না কিছু শর্ত দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার কথা বলেছেন। বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ইভিএম বর্জন, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তাদের বক্তব্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে অতীতের ভেদাভেদ ভুলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলেন। অন্যদিকে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ সাম্প্রদায়িক শক্তিমুক্ত ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আর ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের প্রধান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেন,আমরা সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। কেননা, আমাদের একাত্তর পর্যন্ত একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। জামায়াতের কথা না বলে পারা যায় না। তারা যেভাবে ধর্ম দেখার চেষ্টা করেছে, একাত্তরে তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তারপরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডসহ অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু এটা দিয়ে তারা আর যেটা চেয়েছে সেটা করতে পারবে না। পারার প্রশ্নই ওঠে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটা নিঃশর্ত ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,আমরা সবার কাছে যাচ্ছি, বলছি। এখানে ধর্ম, বর্ণ, মত- সবকিছু দূরে রেখে আজকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবার জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবার জন্য, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা আর হিংসা দেখতে চাই না। আমরা একটা সত্যিকার অর্থেই ঘৃণার রাজ্য থেকে বেরিয়ে ভালোবাসা শান্তির রাজ্যে আসতে চাই। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন,শেষ কথা মনে রাখতে হবে, আমি ক্ষমতা চাই, আমরা ক্ষমতা চাই, এই বলে আবার একই পদ্ধতি, একই স্বেচ্ছাচারী সরকার আসবে। এক স্বৈরাচারের পর আরেক স্বৈরাচার, এক স্বেচ্ছাচারের পর আরেক স্বেচ্ছাচার আসবে। এটা বন্ধ করতে হবে। এই স্বৈরাচারী সরকারের পুনরাবৃত্তি যাতে না হতে পারে সে জন্য একটা ফর্মুলা তুলে ধরেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বলেন,এটা বন্ধ করার জন্য নতুন ফর্মুলা দিয়েছি। এক হলো- সংসদে ভারসাম্য; দুই. মন্ত্রিসভায় ভারসাম্য এবং তৃতীয় হলো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য। সভায় জেসএসডির আ স ম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অন্য নেতারা নির্বাচন সামনে রেখে তারা যে কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন তাতে যেন সরকার কোনো ধরনের বাধা না দেয় সেই আহ্বান জানান। মান্না সরকারের উদ্দেশে বলেন,আমরা কয়েকটা জেলায় জনসভা করতে অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু এখনো অনুমতি দেয়া হয়নি। একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা অনুমতি না দিলেও আমরা কর্মসূচি পালন করব। আর এই সরকারের দাফন করা হবে। ঢাকাটাইমস
কোন্দল মেটাতে রাজশাহীর নেতাদের সঙ্গে আজ বসছেন কাদের
অনলাইন ডেস্ক: কোন্দল জর্জরিত রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরোধ মেটাতে তাদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ সকালে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। কাল শুক্রবার জেলা ও মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনের আগেই নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় দলের একটি সূত্র। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের পরস্পরের বিরোধ তুঙ্গে। মহানগর আওয়ামী লীগে তেমন দ্বন্দ্ব না থাকলে জেলায় নেতাদের মধ্যে দুটি বলয় তৈরি হয়েছে। একটি বর্তমান সংসদ সদস্যদের এবং অপরটি মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের। দলীয় কর্মসূচিতে দুই গ্রুপের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামাল বক্তব্য দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রাজশাহীর নেতাদের অভিযোগ, দাবি-দাওয়া শুনবেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক। সভার ফলাফল কাল শুক্রবার জানানো হবে সভাপতি শেখ হাসিনাকে। সেদিন সকালে শেখ হাসিনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য। আসছে নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়ন-প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাত নেতা। তাদের সঙ্গেও বিরোধ ওমর ফারুক চৌধুরীর। ফলে ওই সাত নেতা আসাদের অনুগত। এভাবে রাজশাহী-৫ ও ৬ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য ও আসাদুজ্জামান আসাদের দুটি বিরোধী পক্ষ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী-৪ আসনেও একই অবস্থা। তবে এই আসনটির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আসাদের। আসাদ নিজে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন চাইবেন। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে তুমুল বিরোধ তার। তবে ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে আয়েনের সম্পর্ক ভালো। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। শরিক দলের সংসদ সদস্য থাকায় এখানে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই। বিরোধ নেই ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের সঙ্গেও। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-ওয়ার্কার্স পার্টি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। মেয়র পদে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের। এই নির্বাচনে আসাদুজ্জামান আসাদও নৌকার পক্ষে ভূমিকা রাখেন। রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের সঙ্গে বিরোধ বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের। আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন-প্রত্যাশী সান্টু ও কালাম এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এর আগে। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সান্টু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান। কিন্তু সান্টু-কালামসহ তাদের অনুসারীরা এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তলে যাচ্ছেন। রাজশাহী-৫ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন-প্রত্যাশী সাত নেতা। সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তারা ওয়াদুদ দারাকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। ওই অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান আসাদ সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারাকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘আপনাদের বলে দিতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিক্রি করে কেউ যদি টাকার মালিক হন, আর যা-ই হোক তাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দেবেন না। মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা করার দরকার আছে বলে মনে করি না, শেখ হাসিনা এই অপদার্থদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।’ রাজশাহী-৬ আসনে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চান বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ছাড়াও এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রায়হানুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলীসহ কয়েকজন। তারা আসাদুজ্জামান আসাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দলীয় নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় বিভিন্ন আসনের নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিরক্ত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। হাইকমান্ড মনে করে, এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে এসব নেতার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলাটাও প্রয়োজন মনে করেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল। কোন্দলে জর্জরিত নেতাদের পরস্পরের মান-অভিমান ভাঙানো ও নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। তবে কেন্দ্রে তাদের ডাকাকে সাংগঠনিক রুটিন ওয়ার্ক বলে দাবি করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করার জন্য জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে ডাকা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান নেত্রীকে দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনের আগে এটা রুটিন ওয়ার্ক।’ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, আসছে নির্বাচন উপলক্ষে এই সভা ডাকা হয়েছে। সভার ফলাফল পরদিন শুক্রবার দলের সভানেত্রীকে জানাতে হবে। সেদিন তিনি শুধু জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
একদিনের আন্দোলনেই সরকার পতন,বারবার নয়: খন্দকার মাহবুব
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বারবার আন্দোলন করতে চাই না। নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে, একদিনের আন্দোলনেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশে ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ওই আলোচনা সভায় মাহবুব হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশে বিচার যেমন বন্ধ তেমনি আদালতও আজ বন্ধ। সরকার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। হঠাৎ করে কিসের নিরাপত্তার অযুহাতে সরকার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম কারাগারের ভেতর স্থানান্তরিত করল? কারণ, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে আদালতে হাজির করা যাবে না। সরকার তাড়াহুড়ো করে খালেদা জিয়াকে অন্য একটি মামলায় সাজা দিতে চাচ্ছে। সরকার গ্রেনেড হামলা মামলায় পাতানো রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন বিএনপির সিনিয়র এই আইনজীবী। তিনি আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীদের গণতান্ত্রিকভাবে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। সরকার হটাতে হবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মাদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মো. হানিফ প্রমুখ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর