খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ কাল
কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা দুইটি এবং নড়াইলে করা মানহানির মামলাসহ তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল সোমবার সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ মামলাগুলোর শুনানি হয়। এর আগে হাইকোর্টের আজকের কার্যতালিকার এ শুনানি শীর্ষে রাখা হলেও আজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে আদালত দুপুর ২টায় শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়। আজ রোববার এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করেন আদালত। কুমিল্লায় নাশকতার অপর মামলা এবং নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানি হয় আজ। কুমিল্লায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগের মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নড়াইলের মানহানির মামলায় করা জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেন বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ সময় আদালত বলেন, আমরা আগামী রোববার (আজ) তিনটি মামলাতেই একসাথে শুনানি শেষে আদেশ দেবো। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করেন। গত ২২ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে জামিন আবেদন দায়ের করার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার মামলা ও নড়াইলে মানহানির মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। কুমিল্লার মামলা : ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে। নড়াইলে মানহানি মামলা : ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই রায়ের পর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। পরে অর্থাৎ গত ১৬ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারত সফর প্রধানমন্ত্রীর : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কলকাতার গণমাধ্যমের খবরে এটা পরিষ্কার শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থে ভারত যাননি, তিস্তার পানির জন্য যাননি, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যাননি। তিনি গেলেন ক্ষমতায় টিকে থাকার দেনদরবার করতে। আজ রোববার সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ সব কথা বলেন। রিজভী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের কাছে আকুতি জানাতে সেখানে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে স্বার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে ট্রানজিটসহ ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দিয়েছে তাঁর সরকার। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায়নি বাংলাদেশ। তবে প্রতিদান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। এসব আমাদের কথা নয় সেদেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বিএনপি নেতা বলেন, শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন ট্রানজিটসহ সব দিয়েছে তাঁর সরকার, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে এবার তাই ভারতের সহযোগিতা চাই। বিএনপির এ নেতা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিদেশিদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নিজ দেশের জনগণকে বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এখন মুরুব্বিদের কাছে দেনদরবার শুরু করেছেন। কারণ শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছেন তাঁদের দুঃশাসনের জবাব দিতে মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে। তাঁর বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। গণতন্ত্র হত্যা করে, দেশের বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করে বন্দুকের জোরে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।’ বিএনপি নেতা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সব দলের অংশগ্রহণে। অবশ্যই সেটি হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে না। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা আগেও বলেছিলাম, সরকারের ইচ্ছে পূরণে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী সরকারের ভোট জালিয়াতির বৈধতার রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে কাজ করছেন। দেশের ভোটাররা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) সুষ্ঠু ভোটের শত্রুপক্ষ বলে মনে করে। তিনি বলেন, এরই আগে কমিশনের কাছে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যেসব সুপারিশ করেছিলেন সেগুলোর একটিকেও আমলে নেওয়া হয়নি। রিজভী বলেন, সরকারের হুকুমে সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণায় সুযোগ করে দিতে আইন করা হয়েছে সংবিধান লঙ্ঘন করে। এইচ টি ইমামের আহ্বানে তড়িঘড়ি করে এই বিধি সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান ইসির পুরো আচরণ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন
বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কার্যকর ও কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শফিউল বারী মুক্তি পরিষদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। তবে এভাবে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করা যাবেনা। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন। তাই প্রস্তুতি নিন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য। কার্যকর আন্দোলনের জন্য। আমাদের বক্তৃতায় খুব বেশি সাহসী হওয়ার চেয়ে কাজে বেশি সাহসী হতে হবে। জনগণ বর্তমান সরকারের পক্ষে নেই। তারা সুযোগ পেলে বিএনপিকেই ভোট দিতে চায়। তিনি বলেন, আজকে দেশে অস্বাভাবিক সব ঘটনা ঘটছে। মিথ্যা অভিযোগে সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেন। জামিন নিয়ে টালবাহানা শুরু হল। জামিন পেলেন। কিন্তু সরকার পক্ষ চেম্বার জজের কাছে চলে গেলেন। সময় নেয়া হল অনেক। এক শুনানি থেকে আরেক শুনানির দূরত্ব অনেক। অবশেষে জামিন হল। তবে এর আগেই আরেকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হল। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু না। এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আমাদের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। জনতা পারেনা এমন কোন কাজ নেই। আমরা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন পেরেছি কারণ তখন আমাদের আন্দোলনের বয়স ছিল। তবে এখন যদি করতে বলেন তাহলে পারব না। এখন আন্দোলন করতে হবে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে। তিনি আরো বলেন, সবারই ধৈর্যের সীমা থাকে। এই দেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়ে গেছে। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে যথেষ্ট অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন- এমন অবস্থায় থাকলে তিনি পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সরকারি চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করার পরও সরকার সেটা আমলে নেয়নি। এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক লের সহ সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।
এখন গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা-বাণিজ্য চলছে
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, একদিকে জনগণকে ভয় পাইয়ে দিতে সরকারি চক্রান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে অন্যদিকে নিরীহ লোকদের ধরে হত্যা ও হত্যার ভয় দেখিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলছে ঈদের আগে রমরমা বাণিজ্য। প্রত্যেক ঈদ মওসুমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেয়া হয়, এখন গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা-বাণিজ্য চলছে।’ আজ দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।এসময় রিজভী আহমেদ বলেন, এখন দেশজুড়ে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে সেখানে পুলিশ তাদের ইচ্ছামতো সাধারণ মানুষের বিশেষ করে কোথাও কোথাও বিএনপিসহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ধরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে, হয়রানি করছে এবং দাবিকৃত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদেরকে নির্মমভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে তালিকা করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আসলে মাদক ব্যবসায় যারা গডফাদার তারা মূলত আওয়ামী লীগেরই লোক, আর সেই কারণেই তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি, যা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এবং ভোটের ময়দান ধ্বংসের সামিল। এর ফলে ভোটের মাঠে সমান সুযোগ থাকবে না। এটি ভোটারদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয় এনকাউন্টার:কাদের
এনকাউন্টার তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে-বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না, এটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট আছে, তাদের সন্ত্রাসী আছে। তাদের সঙ্গে অস্ত্রধারী আছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায়, তখন অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করে, এনকাউন্টার হয়। এনকাউন্টার তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নয়। যারা ধরতে যাবে, তাদের অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে। তাহলে পুলিশ কি ওখানে গান গাইবে? তারা এনকাউন্টার করবে না?’ তিনি বলেন, বিএনপি গালিগালাজ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটি কথা বলেছে? একটি শব্দও বিএনপি উচ্চারণ করেনি। কাজেই এ ব্যাপারে বিএনপির কথা বলার কোনো অধিকার নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিএনপি এত চিৎকার করছে কেন? তাদেরও বহু লোক জড়িত, তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দাবি করে বলতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ এই অভিযানে খুশি। জনগণ কেন এই অভিযানে খুশি, এর জন্য তাদের (বিএনপি) গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। বিএনপির এখানে গায়ের জ্বালা।’ কাদের আরও বলেন, ‘আজকে মাদকের যে ভয়ংকর অবস্থা এসেছে, সবাই মিলে যদি আমরা সব দল সোচ্চার থাকতাম, তাহলে এই ভয়ংকর অবস্থা আসত না। আজকে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হতো না। আজকে অভিযান কেন হচ্ছে, জনস্বার্থে করা হচ্ছে, একটা ভয়ংকর অবস্থার অবসানের জন্য।’ কক্সবাজারের এমপি আবদুর রহমান বদির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আবদুর রহমান বদি কেন? আরও প্রভাবশালী কেউ যদি সরকারি দলের হন, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। যে তালিকাগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এমপিদের নামও পাওয়া যাচ্ছে। নাম আসেনি, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের অবশ্যই এই অভিযানের আওতায় আনতে হবে। আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও ধরা হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না। একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণিত হলে তিনি যদি অপরাধী হন, অবশ্যই তার শাস্তি হবে।’ বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মোট ১ হাজার ২১৭টি মামলা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দালাল হিসেবে ২৭ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি ২৩টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৫২টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
তথাকথিত শিক্ষিতের মায়াকান্না বিএনপি নেত্রীর জন্য
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। তার জন্য কিছু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের মায়াকান্না যেন উপচে পড়ছে। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বেগম জিয়া এতিম শিশুদের টাকা লুটের দায়ে আদালত কর্তৃক দোষীসাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে জেল খাটছেন।’ ‘একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয় একটাই, তিনি দুর্নীতিবাজ। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে কথা বলাও দুর্নীতি করার শামিল।’ মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে শহর সমাজসেবা কার্যালয়-২, রমনা, ঢাকা আয়োজিত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাবই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের চৌদ্দদলীয় জোট সরকার বর্তমানে দেশের দুর্নীতি ও মাদকের মূলোৎপাটনে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনই এতিমের টাকা লুট করার মানসিকতা পোষণ করেন না। যারা এতিমের টাকা লুট করেছে জেলখানাই হবে তাদের আসল ঠিকানা। ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক তপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০ ও ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি ঢাকায় বিধবা ভাতা প্রদানে মন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে মেনন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম ১৯৭৪ সালে দেশে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থার প্রচলন করেন। এরপর তার মেয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে অসহায় মানুষের জন্য নানা রকম ভাতা প্রথার প্রচলন করেন। বিধবা ভাতা ঢাকার বাইরে চালু থাকলেও ঢাকায় এটি কী কারণে নেই তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই ঢাকায় বিধবা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাতা গ্রহণে গ্রামের মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা উৎকোচ গ্রহণ করেন- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেনন বলেন, পূর্বে কী হয়েছে তা জানি না। আমি এ মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন দেশের কোনো প্রান্ত থেকে এমন দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী রমনা ও মতিঝিল থানা থেকে আগত অসহায়, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে ভাতাবই তুলে দেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন হাবিবুন নাহার বাগেরহাট-৩ আসনে
বাগেরহাট-৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মানোনীত প্রার্থী হাবিবুন নাহার। আর কোনও দলের প্রার্থী এই উপ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এক্ষেত্রে এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই শুধু বাকি। নির্বাচন কমিশন এখন তার মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই করবেন এবং ৪ জুন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করবেন। হাবিবুন নাহার খুলনার নবনির্বাচিত সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী। এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেন তালুকদার আব্দুল খালেক। এর ফলে বাগেরহাট-৩ আসন বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার পকেটেই থাকলো। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে স্বামী ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেককে সঙ্গে নিয়ে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়েমনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাবিবুন নাহার। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রিটার্নিং অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার। এসময় বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট. মীর শওকাত আলী বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, বাগেরহাটের পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য তালুকদার আব্দুল বাকী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদারসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে রির্টানিং অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল আজ। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। উপ-নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ মে বাছাই এবং ৩ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র ঠিক থাকলে আগামী ৪ মে হাবিবুন নাহারকে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূরণের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ মাস। তাই দলীয় নির্দেশে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার অভিপ্রায়ে তালুকদার আব্দুল খালেক এ আসনটি ছেড়ে দিলেও এর উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অন্য বিরোধীদলগুলোর মধ্যে কোনও উত্তেজনা বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে গত ২০ মে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিত্রনায়ক শাকিল খান (শাকিল আহসান) এর পক্ষে তার ভাগ্নে খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনিমহল এলাকার শাহরিয়ার নাজিম মনোনয়নপত্র ক্রয় করলে এ উপনির্বাচন খানিকটা আলোচনায় আসে। কিন্তু এর আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে শাকিল খান মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাননি হাবিবুন নাহার। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সর্বসম্মতক্রমে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনের উপ-নির্বাচনে খুলনার নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তালুকদার আব্দুল খালেক সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় ১০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ মে মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৩ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ভোট গ্রহণের কথা ছিল ২৬ জুন। রামপাল-মোংলা নিয়ে গড়া এ আসনের মোট ভোটার দুই লাখ ২৬ হাজার ২৪৯ জন।
একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের মানুষ খুশি, তবে শুধু গাত্রদাহ কাদের? বিএনপির। কেন? তারা এতো চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেন? কারণ, তাদেরও লোকজনও মাদকে জড়িত। আর মাদক ব্যবসায়ীরা যেভাবে সিন্ডিকেট করে অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে তাতে কি র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে? বৃহস্পতিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিএ আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার এনকাউন্টার করছে, আতঙ্ক তৈরি করছে- বিএনপির এমন দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ কী মনে করে? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করে না। তবে মাদক নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের সঙ্গে অস্ত্রধারীরা আছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেলে তারা অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে। এখানে এনকাউন্টার হয়। অভিযানে উভয়পক্ষের হাতে অস্ত্র থাকছে। এই এনকাউন্টারকে তো আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলতে পারি না। ওরা অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করবে আর পুলিশ কি সেখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? ‘বিএনপিকে বলতে চাই, গত ৯ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে শুধু বিএনপিসহ সব দলই তো আওয়ামী লীগকে বিষোদগার করে বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু কোনো দল কি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে? বলনি। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু ঘোষণা দিয়েছেন। কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু আব্দুর রহমান বদি কেন, আরও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি দলের প্রভাবশালী কেউ যদি হয়ও, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে, ড্রাগ ডিলিংয়ের সঙ্গে যেই বা যারা জড়িত যতো প্রভাবশালী হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। এই অভিযানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ করতে হবে তো? গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে মাদক সেবনকারী থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছেন। এ ছাড়া অভিযান শুরু পর প্রতি রাতেই কয়েকজন করে নিহত হচ্ছেন বন্দুকযুদ্ধে, বলা হচ্ছে যারা মাদক কারবারী। এদিকে এই অভিযান নিয়ে কথা উঠেছে যে, মাদকের গডফাদাররা অভিযানের আওতামুক্ত থেকে যাবেন কি না। কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, যার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ থাকলেও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমি ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিছু মিডিয়াও ইয়াবা ব্যবসা করছে। সাংবাদিকরাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি যখন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই, তখনই মিডিয়ারা সিন্ডিকেট করে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ কারণে সংসদে আমি চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিয়েছি।
জাতীয় পার্টি বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে
সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন, সুন্দরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপ-নির্বাচনের ফলে বেশ আত্মবিশ্বাসী জাতীয় পার্টি (জাপা)। আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেনো আকাশে উড়ছিল দলটি। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয় যেন উড়ন্ত জাপার ধপাস পতন। এমনটাই মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, টানা তিনটি নির্বাচনে ভালো ফলাফলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙ্গাভাব চলে এসেছিল। খোদ এরশাদও অনেক সভায় বলেছিলেন, জাতীয় পার্টির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ দু’টি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রংপুর সিটি নির্বাচন ও সুন্দরগঞ্জের উপ-নির্বাচন তারই নমুনা। বেশ জোর দিয়েই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, জনগণ আর প্রার্থী খুঁজবে না, শুধু লাঙল মার্কা দেখেই ভোট দেবে। ওই মুহূর্তেই খুলনা সিটি করপোরেশনে লজ্জাজনক পরাজয়ে বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে জাতীয় পার্টি। হুঙ্কার দিয়ে নির্বাচনে নামলেও শেষ পর্যন্ত জামানতও রক্ষা করতে পারেননি জাপা প্রার্থী। চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটারের মধ্যে জাপার মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুসফিক পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৭৭ ভোট। কেসিসি নির্বাচনে জাপার এমন লজ্জাজনক পরাজয়ে দলের মধ্যেই চলছে নানা রকম বিশ্লেষণ। বিশেষ করে ‘হায়ার’ করা নেতা দিয়ে নির্বাচন করার বিপক্ষে সব কর্মীরা। অনেক নেতাই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরশাদকে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, খুলনায় পরাজয়ের পর পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো সভা সমাবেশেও এ নিয়ে কথা বলেননি পার্টি চেয়ারম্যান। তবে নির্বাচনের দুইদিন পরেই খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজন অজনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন খুলনার নেতারা। কেন্দ্র বুঝতে না পারলেও স্থানীয় নেতারা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন নির্বাচনের ফল। আর সে কারণেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এসএম শফিকুর রহমান মুসফিককে যখন দলে যোগদান করানো ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার পর পদত্যাগ করেন খুলনা মহানগর জাপার সভাপতি সম্পাদকসহ ২৬ নেতা। ওই সময় পদত্যাগকারীরা মুসফিককে ‘খুনি’ হিসেবে উল্লেখ করে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ, আমলে নেয়নি কেন্দ্র। বরং গণপদত্যাগের পরে খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্য সচিব করা হয় সমালোচিত মুসফিককে। তৃণমূল নেতাদের অনেকেই বলেছেন, ওই সময় তৃণমূলের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন এরশাদ নিজেই। যে আগুনে জাপা পুড়েছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, পার্টিতে তৃণমূলে কার কি অবদান সেটা মূল্যায়ন করা হয় না। এরশাদের বাসা ও অফিসে যাতায়াত করলে, বিশেষ কিছু নেতার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দ্রুত প্রমোশন হয়ে যায়। তৃণমূলের নেতারা চেনেনই না এমন অনেকে কেন্দ্রীয় নেতা বনে যাওয়ার নজিরও রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, শুধু খুলনা নয়, এমন অনেক জেলা রয়েছে যেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হায়ার করা লোকের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে খুলনার মতো আরও পরাজয় দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পার্টি প্রধানকে। পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে এতদিন যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলেন তারাও এখন নড়ে বসেছেন। যদিও অনেকেই মনে করেন জাপার এতসব শোডাউন বেশিরভাগেই ভাড়া করা ও লোক দেখানো। কোনো কোনো জায়গায় কিছু কাজ হয়েছে তাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় বলে জানান অনেক নেতা। পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করে একটা লোক দলে এসে অ্যাবনরমাল (অস্বাভাবিক) পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এটা দেখা হবে। দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে নতুন করে কমিটি করা হবে। মহাসচিব আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন মতো প্রার্থী না হওয়ায় তারা মাঠে নামেনি, দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। যে কারণে খুলনায় যথেষ্ট জনসমর্থন থাকার পরও এমন খারাপ ফল হয়েছে। কারণ জাপা ক্ষমতায় থাকার সময়ে খুলনার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ সে কথা এখনও ভুলে যায়নি। কেসিসি নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় অনেক রয়েছে। আশা করি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।