জাতীয় পার্টি বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে
সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন, সুন্দরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপ-নির্বাচনের ফলে বেশ আত্মবিশ্বাসী জাতীয় পার্টি (জাপা)। আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেনো আকাশে উড়ছিল দলটি। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয় যেন উড়ন্ত জাপার ধপাস পতন। এমনটাই মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, টানা তিনটি নির্বাচনে ভালো ফলাফলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙ্গাভাব চলে এসেছিল। খোদ এরশাদও অনেক সভায় বলেছিলেন, জাতীয় পার্টির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ দু’টি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রংপুর সিটি নির্বাচন ও সুন্দরগঞ্জের উপ-নির্বাচন তারই নমুনা। বেশ জোর দিয়েই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, জনগণ আর প্রার্থী খুঁজবে না, শুধু লাঙল মার্কা দেখেই ভোট দেবে। ওই মুহূর্তেই খুলনা সিটি করপোরেশনে লজ্জাজনক পরাজয়ে বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে জাতীয় পার্টি। হুঙ্কার দিয়ে নির্বাচনে নামলেও শেষ পর্যন্ত জামানতও রক্ষা করতে পারেননি জাপা প্রার্থী। চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটারের মধ্যে জাপার মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুসফিক পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৭৭ ভোট। কেসিসি নির্বাচনে জাপার এমন লজ্জাজনক পরাজয়ে দলের মধ্যেই চলছে নানা রকম বিশ্লেষণ। বিশেষ করে ‘হায়ার’ করা নেতা দিয়ে নির্বাচন করার বিপক্ষে সব কর্মীরা। অনেক নেতাই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরশাদকে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, খুলনায় পরাজয়ের পর পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো সভা সমাবেশেও এ নিয়ে কথা বলেননি পার্টি চেয়ারম্যান। তবে নির্বাচনের দুইদিন পরেই খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজন অজনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন খুলনার নেতারা। কেন্দ্র বুঝতে না পারলেও স্থানীয় নেতারা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন নির্বাচনের ফল। আর সে কারণেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এসএম শফিকুর রহমান মুসফিককে যখন দলে যোগদান করানো ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার পর পদত্যাগ করেন খুলনা মহানগর জাপার সভাপতি সম্পাদকসহ ২৬ নেতা। ওই সময় পদত্যাগকারীরা মুসফিককে ‘খুনি’ হিসেবে উল্লেখ করে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ, আমলে নেয়নি কেন্দ্র। বরং গণপদত্যাগের পরে খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্য সচিব করা হয় সমালোচিত মুসফিককে। তৃণমূল নেতাদের অনেকেই বলেছেন, ওই সময় তৃণমূলের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন এরশাদ নিজেই। যে আগুনে জাপা পুড়েছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, পার্টিতে তৃণমূলে কার কি অবদান সেটা মূল্যায়ন করা হয় না। এরশাদের বাসা ও অফিসে যাতায়াত করলে, বিশেষ কিছু নেতার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দ্রুত প্রমোশন হয়ে যায়। তৃণমূলের নেতারা চেনেনই না এমন অনেকে কেন্দ্রীয় নেতা বনে যাওয়ার নজিরও রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, শুধু খুলনা নয়, এমন অনেক জেলা রয়েছে যেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হায়ার করা লোকের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে খুলনার মতো আরও পরাজয় দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পার্টি প্রধানকে। পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে এতদিন যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলেন তারাও এখন নড়ে বসেছেন। যদিও অনেকেই মনে করেন জাপার এতসব শোডাউন বেশিরভাগেই ভাড়া করা ও লোক দেখানো। কোনো কোনো জায়গায় কিছু কাজ হয়েছে তাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় বলে জানান অনেক নেতা। পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করে একটা লোক দলে এসে অ্যাবনরমাল (অস্বাভাবিক) পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এটা দেখা হবে। দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে নতুন করে কমিটি করা হবে। মহাসচিব আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন মতো প্রার্থী না হওয়ায় তারা মাঠে নামেনি, দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। যে কারণে খুলনায় যথেষ্ট জনসমর্থন থাকার পরও এমন খারাপ ফল হয়েছে। কারণ জাপা ক্ষমতায় থাকার সময়ে খুলনার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ সে কথা এখনও ভুলে যায়নি। কেসিসি নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় অনেক রয়েছে। আশা করি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
খুলনার অভিজ্ঞতায় জয় চায় আওয়ামী লীগ,দৃষ্টি এবার গাজীপুরে
খুলনা সিটি করপোরেশনের জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজীপুরে জয় চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্র থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনের সার্বিক মনিটরিং করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় ও গাজীপুরের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন-কোনো অজুহাত শুনতে চান না তিনি। খুলনার চেয়ে আরও ভালো ব্যবধানে গাজীপুরে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। গোপালগঞ্জের পর আওয়ামী লীগের শক্তঘাঁটি বলা হয় গাজীপুরকে। এ ছাড়া গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নানকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পায়নি নগরবাসী। তাই, এবার সরকারদলীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন প্রত্যাশা নেতাদের। সে কারণে প্রথমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা না থাকলেও দলের বর্ধিত সভা, ইফতার পার্টি, ও কর্মিসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলা হচ্ছে। সূত্রমতে, খুলনার কৌশল ও ফল গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কৌশল প্রণয়ন সহজ করে দিয়েছে। খুলনার নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও কৌশল গাজীপুরের নেতাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বলছে, নির্বাচনে জিততে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে পূর্বের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে জয়ের মিশনে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীনরা। এই পর্যায়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ১৩ জন নেতা গাজীপুরে গিয়ে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের বাসায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা অনৈক্য দূর করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হয়ে দলীয় মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমকে উদার ও নমনীয় হয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বলেন নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল। সরকারের উন্নয়নগুলো প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রার্থীরও ইমেজ ছিল। সব মিলে আমাদের জয় এসেছে। গাজীপুরের স্থানীয় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচনে কোনো রকম ঝামেলা যেন না হয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থী কে হলো সেটা বিষয় নয়, নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনার বিজয়ে দলীয় প্রচারণায় যে মূলমন্ত্র কাজে লাগানো হয়েছিল তা গাজীপুরের নির্বাচনেও কাজে লাগানো সম্ভব। খুলনায় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ছিল। গাজীপুরেও সেই সুযোগ কাজে লাগাব। তিনি বলেন, খুলনার মানুষ বর্তমান বিএনপির মেয়রের দ্বারা যেমন কোনো উন্নয়ন পায়নি, তেমনি গাজীপুরেও বিএনপির মেয়র কোনো উন্নয়ন করেনি। ভোটের মাধ্যমে খুলনার মানুষ যেমন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিজয়ী করেছেন, ঠিক গাজীপুরেও তাই করবেন। এ প্রসঙ্গে সিটি নির্বাচনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে এখনো প্রচারণা শুরু হয়নি। তাই এই মুহূর্তে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা দলকে গুছিয়ে নিচ্ছি। যেখানে ছোটখাটো সমস্যা ছিল সেগুলো নিরসন করছি।’ তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটির চেয়ে গাজীপুরে ভোটার অনেক বেশি। তাই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রচারণা চালাব না। অঞ্চলভিত্তিক প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দেব। এ জন্য সিটিকে আটটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন—এমন আশা করতেই পারি।’ গাজীপুর সিটি নির্বাচন গত ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি রিটের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। আপিল করা হলে তা আগামী ২৬ জুন ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। এতে করে এই এক মাস অতিরিক্ত সময় পায় প্রার্থীরা। গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অনেকটাই উজ্জীবিত। তারা মনে করছেন, রমজান মাস ও ঈদের কারণে এক মাস সময়ের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের মান-অভিমান ভেঙে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গাজীপুরে মেয়র পদে নৌকার বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এ ছাড়াও এই নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের আগে চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সংসদ নির্বাচনের আগে জয়ের বিকল্প ভাবছেন তারা।
বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রাখল কানাডার ফেডারেল কোর্ট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রেখে কানাডার ফেডারেল কোর্ট সেখানে আশ্রয়প্রার্থী এক যুবদল নেতার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। গত ৪ মে কানাডার ফেডারেল কোর্ট কামালের রিভিউ আপিলের রায় ঘোষণা করে, যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় সোমবার। রায়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিএনপি’কে ‘সন্ত্রাসী দল’ বলে মন্ত্রীর বক্তব্যকেই আবারও মেনে নিয়েছেন ফেডারেল কোর্ট। আশ্রয়প্রার্থী মোস্তফা কামাল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় যান। তার আবেদনের বিষয়ে কানাডীয় সরকার আদালতকে তখন বলেছিল, তিনি বাংলাদেশে বিএনপি নামে যে রাজনৈতিক দলের সদস্য পরিচয়ে আশ্রয় চাচ্ছেন, সেই রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। দেশটির জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রী আদালতে দাবী করেন, বিএনপি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কানাডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তৈরি একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ দাবি করেন তিনি। মোস্তফা কামালের রিভিউ আবেদনের পর ফেডারেল কোর্ট কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের অভিবাসন বিভাগ (আইডি)-কে জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। ওই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মন্ত্রীর যুক্তি পর্যালোচনা করে আইডি কানাডা সরকারের আগের বক্তব্যই সঠিক বলে সিদ্ধান্তে আসে। আইডি তার সিদ্ধান্তে জানায় বিএনপির আচরণকে ‘উম্মত্ত সহিংসতা’ বলে আখ্যায়িত করে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বিবেচনা করে আইডি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। কামাল ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে দাবী করেন। তার আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন বাতিল হয়ে গেলে তিনি যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, বিএনপির নয় বলে রায় পুনর্বিবেচনার দাবী জানান। রিভিউতে বলা হয়, কামাল অনুবাদক ও উকিলের সহায়তা নিয়ে আবেদনের ফর্ম পূরণ করেছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে তিনি তার দেয়া তথ্য অস্বীকার করেছেন। এছাড়াও যুবদল বিএনপিরই অঙ্গ সংগঠন, এই বিষয়টিও বিবেচনা করে আদালত।
১৫০ আসন বিএনপির টার্গেট !
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বা নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনে সফলতার আশা এক রকম ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি! রাজপথের এই বিরোধী দলটি এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়ে উঠছে। সেজন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপি এগুচ্ছে বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের উপর ছেড়ে দিয়েই চলছে দলীয় হাইকমান্ড। আর সরকারের অনড় অবস্থানের মুখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের আশাও তেমন আর দেখছেন না তারা। ফলে নির্বাচনের ছক কষা, নিজস্ব কৌশল ঠিক রাখা, বাধাবিপত্তি কাটিয়ে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে দলটির হাই কমান্ড। বিএনপির সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট বলেছেন, তারা ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন না করার মতো ভুল আর করবেন না। একই সাথে নির্বাচনকালীন জিয়া পরিবারের কোনও একজন সদস্যকে মাঠে নামানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তারা। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান বা শর্মিলা রহমানকেই পছন্দের শীর্ষে রাখছেন তারা। ৩ ক্যাটাগরিতে প্রার্থী বাছাই বিএনপির একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, তিন ক্যাটাগরিতে এরইমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করেছে বিএনপির একটি বড় গবেষণা ও জরিপ দল। দলটি ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব নির্বাচনী এলাকা জরিপ করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী এবং বিকল্প প্রার্থীদের খোঁজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে রেখেছে। এই গবেষণা ও জরিপ দলটিতে শতাধিক রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা, সাবেক সেনাসদস্যসহ বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা কাজ করেছেন। এসব কাজের অধিকাংশই খালেদা জিয়া মুক্ত থাকতে শেষ হয়েছে। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি বিষয় সামনে রেখে এগুচ্ছে দলটি। প্রথমত: এর আগে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রার্থীদের খোঁজ নেয়া হয়েছে। তারা গত ১০ বছর দলের সংকটে সক্রিয় ছিলেন কিনা বা দল বিরোধী কোনও কাজ করেছেন কিনা তা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত: একেবারে নবীন প্রার্থী যারা আছেন তারা কিভাবে নিজেকে যোগ্য দাবি করছেন তা নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান করা। তৃতীয়ত: ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে যৌক্তিক কারণে যারা হেরেছেন তাদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই তিন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৫০টি আসন ন্যূনতম ভোটের ফলে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তেমন একটি পরিবেশ করতে চায় বিএনপি। বিএনপি নেতারা মনে করেন, ভোটযুদ্ধে সরকারি দলের প্রার্থী থেকে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা যাবে এমন ১৫০টি আসন নিশ্চিত রাখতে পারলে দল ক্ষমতায় আসবে। সেসব আসনের তৃণমূলের নেতাদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠ গুছিয়ে এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জোটভুক্ত প্রার্থীদের চেয়ে নিজেদের দলের প্রার্থীদের উপরই বেশি ভরসা রাখতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন ১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী জিততে পারলে বাকী শরিক পাওয়া কোনও সমস্যা হবে না। যদিও জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপি নির্বাচন করবে নিশ্চিত, তবে এখনই কোনও প্রার্থীকে সরাসরি মনোনয়নের প্রত্যাশা দেয়া হচ্ছে না। সেটি চূড়ান্ত করবে শেষ সময়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড। তিনি বলেন, যেসব জায়গায় একাধিক আগ্রহী প্রার্থী আছেন তারা তাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেসব জায়গায় একজনই প্রার্থী সেসব আসনের কথা আলাদা। উদাহরণ হিসাবে ড. মোশাররফ তার নিজের আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার আসনে তিনি নিজে একাই প্রার্থী। তাই সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি তিনি বিএনপির পক্ষ থেক একাই নিচ্ছেন। বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, আন্দোলনের সুফল আসবে না তা বলা যায় না। এবার আর আগের মতো হবে না। শেষ মুহূর্তে সরকার আন্দোলনের মুখে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে। জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছিলো। এবার আর দলের কেউ সে ভুল করবে না। যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক আগের ভুলে পুনরাবৃত্তি না করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। সেক্ষেত্রে দলের নিজস্ব প্রস্তুতি সবই রাখা হয়েছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সব কিছুই বিএনপির ইচ্ছা আর সুবিধাজনকভাবে হবে তাতো নয়। সরকার তার মতো করে নির্বাচন চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যা যা প্রস্তুতি দরকার তা চলছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান।
মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প মাদকবিরোধী অভিযান
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুখবর আওয়ামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেই। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প মাদকবিরোধী অভিযান। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই আমরা। অপরাধীদের গ্রেফতার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনেই মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু তা না করে সারাদেশে বন্দুকের অপব্যবহারে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। আবার মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাদেরকে ধরা হচ্ছে, মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের। বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পিছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন— সরকারদলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে। অভিযোগ করে রিজভী বলেন, পবিত্র রমজানেও পোশাকে ও সাদাপোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানী চলছে। সোমবার সেহরীর কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশ তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালায়। জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ইলিয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে। আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকে। পরে ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে অবস্থান নেয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যক্তিরা চলে যায়। তিনি বলেন, বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভুমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা নির্বাচন আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করবে। অবৈধ ক্ষমতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী আইন কানুনও মানতে রাজি নন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মোড়লগিরি করছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার হায়দার আলী, চেয়ারপারসনের উপদেস্টা কবির মুরাদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
বিচার বহির্ভূতহত্যার চেয়ে অন্যায় আর কিছু নেই: এরশাদ
বিগত ৩ থেকে ৪ মাসে ৭৩ জনকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে এমন কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এর থেকে অন্যায় আর কিছু নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা কারা, তাদের কি অন্যায় তা কিছুই জানা গেলো না। সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, বিশ্বের অন্য দেশে রোজা আসলে পণ্যের মূল্য কমে, আর আমাদের দেশে বৃদ্ধি পায়। রোজায় মূল্য বাড়ানো শরিয়ত বিরোধী। তিনি বলেন, দেশে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টা দামি গাড়ি বিক্রি হয়। আর অন্যদিকে চকবাজার ইফতারের বাজারের পাশে গরীব মানুষ খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। ব্যাংকের টাকা দেশে বাইরে চলে গেছে, তার জবাব কে দিবে এমন প্রশ্ন তুলে এরশাদ বলেন, এখানে মানুষ না খেয়ে মরছে, আর দেশের বাইরে একশ্রেণী বাড়ি বানাচ্ছে। এ সময় জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে বৈষম্য কমিয়ে আনবো। লো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে চিন্তিত এরশাদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মুখে কে ইফতার তুলে দিবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তাদের নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ।
মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে নিয়ে শেরপুরে চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। তাকে জেলা কমিটি ও সংসদীয় এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রে জেলা কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষ মুখোমুখি। সেখানে বিরাজ করছে উত্তেজনা। শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ আসনের এমপি একেএম ফজলুল হকসহ ৫ জনকে জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার ও নালিতাবাড়ী উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হুইপ মো. আতিকুর রহমান আতিকের সভাপতিত্বে সভায় জেলা কার্যনির্বাহী পরিষদের ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে সভার সিদ্ধান্ত জানার পর মতিয়া চৌধুরীর অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। কর্মসূচির মধ্যে গতকাল জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও হুইপ আতিকের কুশ পুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি বৃহৎ অংশ মতিয়া চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমেছে। প্রতিবাদে তারা গতকাল সংবাদ সম্মেলনসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও তার কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছে। শহরের খরমপুরস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্তকে তথাকথিত, অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে উল্লেখ করে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জেলা আওয়ামী লীগের এখতিয়ার বহির্ভূত। এছাড়া সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সাক্ষরিত এক পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোন কমিটি বা কোন নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও সেই কমিটি বাতিল বা সেই নেতাকে কোনক্রমেই বহিষ্কারের সুযোগ নেই কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ব্যতীত। অর্থাৎ ওই নির্দেশনা অনুযায়ী দলের কাউকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার একমাত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেরই রয়েছে। কাজেই জেলা আওয়ামী লীগের ওই সিদ্ধান্তই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিককে দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য ও রাজাকারের সন্তানদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে উল্লেখ করে তাকে দলীয় দায়িত্বসহ জাতীয় সংসদের হুইপ পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ায় শেরপুর সদর, শহর, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিল এবং জেলার দলীয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে হুইপ আতিকের দুর্নীতি-অপকর্মের তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনসহ জেলা আওয়ামী লীগের তথাকথিত সভার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান নেতারা। অন্যথায় সর্বস্তরের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে দুর্নীতিবাজ হুইপ আতিককে অবাঞ্চিত ঘোষণাসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান। ওইসময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক তাপস সাহা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুন্নাহার কামাল, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইফতেখার হোসেন কাফি জুবেরী, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান বায়েযীদ হাছান, জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক এডভোকেট ফারহানা পারভীন মুন্নী, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ খোকন, সদস্য আব্দুল হান্নান ও আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, পৌর প্যানেল মেয়র তৌহিদুর রহমান বিদ্যুৎ, নেপোলীস্থ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন হাজারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাটসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কমীরা রাস্তায় হুইপ আতিকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরে ঝাড়ুসহ এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এদিকে নকলা ও নালিতাবাড়িতেও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতা-কর্মীরা।
খালেদার জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিন মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। রবিবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ জামিন আবেদন দাখিল করা হয়েছে।বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল জানান, নিম্ন আদালতে এসব মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছিলাম। কিন্তু জামিন আবদনের শুনানি গ্রহণ করলেও অধিকতর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। যা সচরাচর অন্য মামলার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এ কারণে হাইকোর্টে আমরা জামিন চেয়েছি। তিনি আরও জানান, কুমিল্লার ২টি নাশকতার এবং নড়াইলের একটি মানহানির মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ছেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চে জামিন আবেদন শুনানির জন্য অনুমতি চান খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে আদালত আবেদন দাখিলের অনুমতি দেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়। বর্তমানে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র :রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্বাচনের বিশাল সম্পর্ক আছে। কাদেরের বক্তব্য, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার গভীর ষড়যন্ত্র। এটা জবরদস্তিমূলক, একতরফা নির্বাচনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। এ সময় রিজভী বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশে বলতে চাই-বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মানেই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক, খালেদা জিয়া মানেই বিএনপি, খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। খালেদা জিয়াবিহীন কোনো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যাবে না, যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আসাদুল করীম শাহীন, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।