আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি নির্বাচনে না এলেও আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখাউড়া নাসরিন নবী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে যোগ দেন আনিসুল হক। এর আগে আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একটা আদালত এতিমের টাকা চুরি করার জন্য দণ্ড দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি হচ্ছে। কোর্ট খালেদা জিয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা কোর্টের ব্যাপার। তারা নির্বাচন করবে কি না করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। আইনত, সংবিধান মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন ডিসেম্বরে ইনশাআল্লাহ হবে। এ ছাড়া এই মহিলা সমাবেশে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল কায়সার জীবন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাব
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি আলোচনায় বসতে চায়, আমার মনে হয় এটা ভালো লক্ষণ। আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাব। শুক্রবার (২৭জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(জেটব) কর্তৃক আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান আমাদের কিছু ন্যায্য দাবি রয়েছে। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনায় বসতে চাই। আমরা বলছি না খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে দিন। বরং আপনারা সরকারি উকিল দিয়ে বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করছেন। সেটা বন্ধ করুন, আমরা চাই তিনি জামিনে বের হয়ে আসুক। তিনি যেনো তার চিকিৎসা নিতে পারেন এবং আমরা যেন তার নেতৃত্বে নির্বাচন করতে পারি। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ যখন চলে, তখন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। কাজেই আন্দোলন-সংগ্রাম ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আলোচনায় বসতে চায়, আমার মনে হয় এটা ভালো লক্ষণ। বিএনপি চাইলে আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে রাজি আছে ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যেকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এই কথা কতক্ষণ স্থির থাকে এ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকার একটা মামলাবাজ, একটা হামলাবাজ সরকার। তারা মিথ্যা মামলা দেন,আপনি যদি সেই মামলায় হাজির না হন। গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে আপনাকে কারারুদ্ধ করা হবে। আর যদি আপনি হাজিরা দিতে যান তাহলে তাদের দলীয় লোক দিয়ে আপনার উপর হামলা করা হবে। মাহমুদুর রহমানকে তাই করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এ হামলায় কারা রয়েছে, কারা তাকে মারছেন এবং তিনি এবং তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন সব কিছু দেখা যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হলো না। আমি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত গণতন্ত্র, জনগণের শাসন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটা সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়াই করছি। এবং সে নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণে হতে হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। হামলা-মামলা আর সিট ভাগাভাগি ২০১৪ সালের নির্বাচন আমরা হতে দেব না। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খাইরুল কবির খোকন,জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, উপদেষ্টার অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুখ।
আমরা বহুবার আলোচনার জন্য বলেছি
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বহুবার আলোচনার জন্য বলেছি এবং আহ্বান করেছি। আজকে আপনাদের মাধ্যমে আবারও আহ্বান করছি। আসেন আমরা কথা বলি। কোথায় বসবেন? কি করবেন? বলেন। আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।’ আলোচনার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে ফোন করা হবে কি–না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ফোন করলে আমরা ফোন করবো।’ শুক্রবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচনকে তামাশা ও চূড়ান্ত তামাশায় পরিণত করেছে। রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তারা জাতিকে বায়োস্কোপ দেখাচ্ছে।’ বর্তমান নির্বাচন কমিশন উচ্ছিষ্টভোগী দলে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি জানি আমার এ কথায় তারা মর্মাহত হবেন। গতকালও আমি তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি। তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছি, আপনাদের কাজতো চেষ্টা করা নয়। চেষ্টা করার জন্য আপনাদের রাখা হয়নি। সাংবিধানিকভাবে আপনাদের যে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োগ করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা আপনাদের দায়িত্ব।’ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হয় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন, না হয় দয়া করে পদত্যাগ করে জাতিকে রক্ষা করুন। যে নির্বাচন কমিশন একজন পুলিশের ওসি বা এসপিকে সরাতে পারে না তাদের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার কোনও যোগ্যতা নেই। এই কমিশনের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার কোনও যোগ্যতা নেই।
দুদকের তদন্ত আইওয়াশ মাত্র :রিজভী
অনলাইন ডেস্ক :বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির বিপুল পরিমান কয়লা লোপাটের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের শুড়ির সাক্ষী মাতাল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কয়লা খনির দুর্নীতির খবরে দেশ-বিদেশ যখন সরগরম। অর্থাৎ রোগী মরিবার পর ডাক্তার আসিলেন। শুক্রবার (২৭জুলাই) নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির বিপুল পরিমাণ কয়লা লোপাট হওয়া বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদাসীন থাকাটা রহস্যজনক। তাছাড়া কয়েক বছর ধরে লোপাট হয়ে গেল লক্ষ লক্ষ টন কয়লা, অথচ খনি কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। দুদক তখন তদন্ত শুরু করে, দুদক হচ্ছে সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন। আর বিরোধীদলের জন্য দুদক টর্চারিং মেশিন। দুদকের তদন্ত আইওয়াশ মাত্র। তিনি বলেন, খনির কয়লা উৎপাদন বন্ধ থাকার ঘোষণা, কয়লা সরবরাহ বন্ধ হয়ে আসা, গত বছর জুলাইয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গত রবিবার থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পরও মন্ত্রণালয়ের হুঁস হলো না কেন, তাতেই প্রমাণিত হয়- ক্ষমতাসীন মহলের গ্রীণ সিগন্যাল ছাড়া লক্ষ লক্ষ টন কয়লা অদৃশ্য হয়ে যায়নি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকারের মুখে উন্নয়নের জোয়ার, কাজে দুর্নীতির পাহাড়। দুর্নীতি, সুপার দুর্নীতি, মেগা দুর্নীতিরই জয়জয়কার। শেয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে পদ্মা সেতু হয়ে ব্যাংক-বীমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে প্রাইমারী স্কুল থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত পরীক্ষা ও সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ পরীক্ষার হাইপার দুর্নীতি মহা ধুমধামেই চলছে এই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।
বর্তমান সময়কে অন্ধকার সময় দেখছেন মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান সময়কে ‘অন্ধকার সময়’ বলে অভিহিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের চারদিকে কেন জানি একটা অস্বস্তিকর, অন্ধকার পরিবেশ। দেশে খবরের কাগজের পাতা যখন উল্টাই তখন দেখি, এখানে আমাদের শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছে, আমাদের মায়েরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আমাদের ভাইয়েরা নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে পড়ছে। তখন সত্যিকার অর্থেই আমরা ব্যথিত হই, বিপর্যস্ত হই। কখনো কখনো মনে হয়, আসলে চারদিকে কি অন্ধকার! আলো কি নেই? অবশ্যই আলো আছে। আর এই আলোর সন্ধানেই আমরা এবং শিশুরা যাব।’ বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিশু-কিশোরদের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, অভিনয়ে জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা 'শাপলাকুঁড়ি'র পুরস্কার বিতরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘জিয়া শিশু একাডেমী’ নামের একটি সংগঠন। দেশের নারী-শিশু থেকে সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়া শিশু একাডেমী আজকে আমাকে একটি ভিন্ন জগতে নিয়ে এসেছে। যদিও এই জগতটি আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের। আমি এই জগতেরই একজন মানুষ ছিলাম। এখানে এসে মনে হয়েছে, আমি সেই ভিন্ন জগতে উপস্থিত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে শিশুরা যে পারফর্মেন্স করেছে তা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। জিয়া শিশু একাডেমী দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে। উদীয়মান শিশুদের খুঁজে বের করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতে তারা ভালো করতে পারে সেই চেষ্টা করছে।’ শিশুদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তোমরা উড়ে যাও, পাখা বন্ধ করো না। একদিন না একদিন তোমরা তীরে পৌঁছাবেই। নিশ্চয় আমরা হাস্যোজ্জ্বল শিশুদের দেখতে পাব। একটা ভালো বাংলাদেশ দেখতে পাব।’ সংগঠনের পরিচালক এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম, জিনাত ফারহানা, চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, অভিনেত্রী চাঁদনী, ইভান শাহরিয়ার শোভা প্রমুখ।
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় ভারত: জাপা
অনলাইন ডেস্ক: চার দিনের ভারত সফরে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপের বিষয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। ভারতের নেতারা বলেছেন, তারা বাংলাদেশে সবসময়ই সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর বনানীতে জাপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টি তুলে ধরেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সংবাদ সম্মেলনটি ডেকেছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি উপস্থিত না থাকতে পারলেও এতে ছিলেন দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ। গত ২২ জুলাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে দিল্লি সফরে যান জাপা নেতারা। সফরকালে তারা দেখা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। এ বিষয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তারই প্রেক্ষিতে ওই সফর। সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ভারতের নেতারা বলেছেন- তাদের সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় দেখতে চান। তারা একান্তভাবে প্রত্যাশা করেছেন যেন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে। ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে বলেও জানান দেশটির নেতারা। সংসদে জাপার ভূমিকা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থেকেও সরকারে দায়িত্ব পালন করে বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সুষমা স্বরাজ। তিনি জানিয়েছেন- বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। অালোকিত বাংলাদেশ
চারদলীয় জোট সরকার দেশের নৌপথ ধ্বংস করে দিয়েছিল: নৌপরিবহন মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কেউ নেই। তাই নদী রক্ষা ও দখল-দূষণ রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) সকালে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে সচিবালয়ে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। মন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকার দেশের নৌপথ ধ্বংস করে দিয়েছিল। আমরা নদী খননের মাধ্যমে তা উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এরমধ্যে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নৌপথ ধ্বংস করা হচ্ছে। নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। নদী তার গতিপথ হারাচ্ছে, পাল্টাচ্ছে। এভাবে নদীকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আমরা এসব রোধে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব ও কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছি। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, নদীর দখল ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও জেলা প্রশাসকদের দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নদী রক্ষায় নদীপাড়ের মানুষকে সচেতন করতে নদীর পাড় সংরক্ষণ, সীমানা নির্ধারণ, নদী পাড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, মানববন্ধন আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের বলেছি মানুষের মধ্যে মৌলিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এটা বোঝানো যে, নদীই বাংলাদেশের প্রাণ, অর্থনীতির মূল শক্তি, ও প্রবাহপথ। তাই যতো প্রভাবশালীই হোক না কেনো নদী রক্ষায় সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
কামরানের ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ৩৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২৫ জুলা) দুপুর ১টার দিকে তিনি সিলেট নগরের একটি হোটেলে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় কামরান বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে দেশে উন্নয়নের গণজোয়ার বইছে। সিলেটেও এই সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা অতীতে কোনও সরকার করেনি। এই সিলেটকে বাংলাদেশে মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে আপনারা নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করুন। কারণ নৌকা উন্নয়নের প্রতিক। ইশতেহারগুলো হলো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যানজট নিরসন, হকারমুক্ত ফুটপাত, জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংযোগ চালুর উদ্যোগ, বিশুদ্ধ পানি, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, পর্যটন, নদীর তীর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধন, খেলার মাঠ, সংস্কৃতি, তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, শিশু নির্যাতন রোধ, নারীর সুরক্ষা ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন, প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করা, বৃক্ষরোপণ, নগরের পরিচ্ছন্নতা, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল নগর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সিটি করপোরেশনের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত করা, মাদক নির্মূল, ভেজালমুক্ত খাদ্য, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও প্রতিবন্ধী অধিকার।
ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লিতে এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফরে গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করছেন। দিল্লি সফররত জাতীয় পার্টির নেতারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের দলের যে ভূমিকা এই সফরে ভারত কার্যত তারই স্বীকৃতি দিচ্ছে। দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা তৃতীয় শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির যে জায়গাটা আছে সেটাকে আরও ভালভাবে বুঝতেই জেনারেল এরশাদকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ভোটের বছরে এরশাদের এই দিল্লি সফরের তাৎপর্য কী? আসলে গত দু-তিনমাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি- বাংলাদেশের এই প্রধান দুই দলের নেতারাই ভারতের রাজধানীতে সফর করে গেছেন। এখন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির যে দলটি দিল্লিতে রয়েছে, ভারত সরকারের হয়ে নিজে গিয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জানাচ্ছেন, “অন্য দলের কথা বলতে পারব না, তবে আমরা এসেছি খোদ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আর দিল্লিতেও এখন অবস্থান করছি তাদের আতিথ্যেই।” “আসার পর প্রথম দিনেই আমাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। পরদিন আমরা বৈঠকে বসি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে।” তিনি বিবিসিকে আরও বলেছেন, দিল্লিতে তাদের বৈঠক হয়েছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও। কিন্তু ভারতের এই নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে এরশাদ ও তার সঙ্গীরা ঠিক কী নিয়ে কথাবার্তা বললেন? “দেখুন ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আর ওদিকে বাংলাদেশেও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টি লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে আমরা শুধু এই কারণে অংশ নিয়েছিলাম যাতে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকে।” “বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনও বিকাশশীল – আমাদের হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু যে কোনও অবস্থাতেই আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, আর এ ব্যাপারে ভারতও আমাদের সাথে পুরোপুরি একমত। মূলত এই বিষয়েই দু’পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে”, বলছিলেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য আবার বলছেন, ভারত এখন জামায়াত ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই একটা সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী – জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। তার কথায়, “তা ছাড়া সে দেশে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি তৃতীয় শক্তি, এবং আপনি চান বা না-চান তারা পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দলও বটে। এর ওপরে এরশাদ নিজে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, কাজেই কেন নয়?” ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো না-হলেও এবারের নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, ভারত এই ফ্যাক্টরটাও মাথায় রাখছে বলে বলছিলেন মিস ভট্টাচার্য। “প্রথমত বিএনপি এখনও পরিষ্কার করে বলেনি তারা নির্বাচনে যাবে কি না। তবে তারপরও গণতন্ত্রে একটা তৃতীয় শক্তির সব সময়ই কিন্তু বড় ভূমিকা থাকে।” “আসলে আমরা এখনও পর্যন্ত জানি না নির্বাচনী চিত্রটা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। কিন্তু কে বলতে পারে, জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে একটা বড় ভূমিকা নেবে না?”, বলছিলেন জয়িতা ভট্টাচার্য। কিন্তু এই দিল্লি সফরে ভারতীয় নেতৃত্বর কাছ থেকেই বা জাতীয় পার্টি ঠিক কী প্রত্যাশা করছে? জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কথায়, “আমাদের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত কিন্তু বরাবরই আমাদের সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। গতবারও তারা ঠিক সেটাই করেছে।” “আসলে ভারতের সাহায্য বলতে কি, ভারতে গণতন্ত্র কিন্তু একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়ে গেছে এবং তাদের থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি, অনেক কিছু শিখতে পারি। কোনও দিনই ভারতে সামরিক শাসন আসেনি, তাদের গণতন্ত্র অনেক দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত – এগুলো নিয়ে আমাদের অনেক কথাবার্তা হল!”, জানাচ্ছেন তিনি। চারদিনের সফর শেষে কাল বুধবারই ঢাকায় ফিরছেন জেনারেল এরশাদ ও তার সঙ্গীরা। আর তারা এই বার্তা নিয়েই ফিরছেন, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনও সঙ্কটে জাতীয় পার্টি ইতিবাচক ভূমিকা নিলে ভারতও তাদের পাশেই থাকবে। সূত্র: বিবিসি

রাজনীতি পাতার আরো খবর