মত ও পথের অনেক অমিল হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা এক: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আট দলীয় বাম জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মত ও অমতের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের মত ও পথের অনেক গড়মিল আছে, আবার চেতনায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, বঙ্গবন্ধুর অবিসাংবাদিত নেতৃত্ব, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মিল আছে মঙ্গলবার রাতে গণভবনে ৮ দলীয় বামজোটের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কাদের আরো বলেন, এখন কিছু কিছু বিষয়ে তাদের ভিন্নমতও আছে। আর তারা এটাও মনে করছেন যে সাংবিধানিকভাবে, সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন সম্ভব। আর সংবিধানের ভেতরে থেকেও আরো কিছু সমস্য আছে যেগুলো সমাধান করা সম্ভব। সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি। আমাদের নেত্রী মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শুনেছেন। আট দলীয় জোটের অলমোস্ট সব পার্টি তারা বক্তব্য রেখেছেন। এবং তাদের ভিন্নমতের কথাও তারা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেছেন। সেজন্য আমাদের নেত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমি যখন কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে গিয়েছিলাম, তারা তখন এটা বলেছে যে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও নেই বিএনপির সঙ্গেও নেই। এখন তারা আপনাদের কী বলেছে জানি না। আমরা সবার কথা শুনছি। আগামীকাল দুপুরেও শুনব। দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য বুধবার ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ১১ জনের নাম পাঠিয়েছেন জানিয়ে কাদের বলেন, তারা দ্বীতিয় দফা সংলাপে অংশ নেবেন। আবার রাতে ২৫ টি দলের সঙ্গে সংলাপ আছে সন্ধ্যা ৭ টায়। কালকেই শেষ হবে সংলাপ। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে ৮ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী এ কয়দিন যে সংলাপ হয়েছে তা নিয়ে সরকারি ও পার্টির সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দেশবাসীকে জানিয়ে দেবেন। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার আর কী বাকী আছে সেটা সবিনয়ে কাল সংলাপে জানতে চাওয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাদের যে জনসভা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেখানে যে ভালগারিজম, অবসিনিটি এটা আবার নতুন করে বাংলাদেশের পলিটিক্সে দেখলাম। দেখলাম যে মানুষের হতাশা যখন বেড়ে যায় তখন মানুষ বেপড়োয়া হয়ে যায়। অনেক নেতার বক্তব্যে এটাই মনে হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত শালীনতা ছাড়া কথা বলা হয়েছে। তাঁর নামটিও উচ্চারণ করা হয়েছে অশালীন ভাবে। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, কার মনে কী কারণে যন্ত্রণা, কী কারণে আতে ঘা লাগে আমি এটা খুব ভালো করে জানি। লেখালেখিতেও লিখছেন আবার আজকে একহাত নিলেন তো এগুলো কেউ ভালো চোখে, ভালোভাবে নেয় না। তাদেরকে আমি বলব যৌক্তিকভাবে কথা বলতে। ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে গেলে এটা কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য শুভফল বয়ে আনবে না। সবার হাড়ির খবর আমরা জানি। যারা যারা বড় বড় কথা বলেন এবং হঠাৎ করে এমন দুয়েকজনকে দেখলাম খুব তাফালিং করছে। এ তাফালিংটা এমনভাবে যে এরা আবার ভদ্রমূর্তি ধরাণ করেন। এরকম ভাষা, এত নোংড়া ভাষা দেশের মানুষ পছন্দ করে! ‘আসুন আন্দোলন করুন। ঘরে ঘরে বসে আন্দোলনের নামে রাস্তায় নাশকতা করবেন, সহিংসতা করবেন আর আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব এটা যেন মনে না করেন’, হুঁশিয়ারি দেন কাদের। নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে কাদের জানান, নির্বাচনকালীন কোনো সরকার নেই । যে সরকার আছে এ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।
সংলাপ নিয়ে নাটক করা চলবে না :মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামীকাল ছোট একটা সংলাপের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমরা সংলাপে বিশ্বাসী কিন্তু এটা নিয়ে কোনো নাটক করা চলবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পদত্যাগ চাই। ৭ দফা আদায় করতে চাই। বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে দাবি না মানা হলে ৮ নভেম্বর রাজশাহীর উদ্দেশে রোডমার্চ করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সংলাপে দাবি না মানলে ৮ নভেম্বর রোড মার্চ করে রাজশাহীতে যাবো, ৯ নভেম্বর সেখানে সমাবেশ হবে।মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি না মানার আগেই তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশনের অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে।
অধীকার উদ্ধার করে ছাড়ব :ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক :শুরুতেই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপোষহীন আন্দোলন চলবে- অধীকার উদ্ধার করে ছাড়ব। দেশের মালিক জনগণ জেগেছে- মালিকা ফিরিয়ে আনব। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রেন্টের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, গ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে, এটা চলতে পারে না, বেআইনী কার্যক্রমের জবাবদিহী করতে হবে। সংবিধান ষোল আনা উপেক্ষা করে ক্ষমতা চালাচ্ছে সরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে পাহাড়া দেয়ার আহবান জানান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা, গণফোরাম সভাপতি। এ সময় বিএনপি মহাসচিব, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দ আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাচ্ছে। সংলাপে বলা হলেও গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি। আগামীকাল সংলাপে যাব তবে নাটক করলে চলবে না। সাত দফা মানতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সাত দফা আদায় করা হবে। খালেদা জিয়াকে সর্ব প্রথম মুক্তি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সংলাপে দাবি না মানলে ৮ তারিখ রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ, ৯ তারিখ সমাবেশ আর তফসিলের তারিখ না পেছালে নির্বাচন কমিশন বরাবর পদযাত্রা করা হবে। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সোহরাওয়ার্দী থেকে যে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, সেইভাবেই খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। আর জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, এ লড়াই মুক্তির লড়াই, এ লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। খালেদা জিয়ার মুক্তি দেন- নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। সাত দফা মানতে হবে।
ক্ষুব্ধ এরশাদ- আসন নিয়ে কথা হয়নি
অনলাইন ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে জাতীয় পার্টির জোটগতভাবে আলোচনার কথা বলা হলেও সেখানে আসন চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংলাপের বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ এ কথা জানান। এরশাদ বলেন, কোনো সংলাপ হয়নি। আসন বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ৩০ জন মানুষ নিয়ে কি আসনের কথা বলা যায় নাকি? অবশ্য সংলাপ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমরা একমত হয়েছি যে, ১৪ দলীয় মহাজোট একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করবে। তবে রাজনীতিতে যেভাবে মেরুকরণ হবে সেভাবে জোটের সমীকরণ হবে। পরে জাপা চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, আলোচনা অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। নির্বাচনের আগে আরও চমক আসতে পারে জানিয়ে জাপা মহাসচিব বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেবেন। তিনি সবসময় যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। আর পরিস্থিতিই বলে দেবে, জাপা কতো আসনে প্রার্থী দেবে।
আগামী শুক্রবার ৯ নভেম্বর থেকে আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু!
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের কাছে আগামী শুক্রবার (৯ নভেম্বর) থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার মনোনয়ন ফরমের মূল্য ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মনোনয়ন ফরম বিক্রির জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশের নির্বাচনী কার্যালয়েও সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা রাখার জন্য আজ সোমবার (৫ নভেম্বর) আট বিভাগের জন্য আটটি নতুন ট্রাংক কেনা হয়েছে এবং সেগুলো মনোনয়ন বিক্রি ও জমাদানের রুমে রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী অফিসের পুরনো অসম্পূর্ণ রুমগুলোও নতুন করে সাজানো হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তফসিল ঘোষণার পরপরই মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাদানের কাজ গুছিয়ে নিতে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন,তরিকুল ইসলাম আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়ে আমাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছেন। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ও দলের কঠিন সময়ে তিনি চলে গেছেন। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জানাজার পর তরিকুলের কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, তরিকুল ইসলামকে হারিয়ে দল একজন প্রজ্ঞাবান নেতাকে হারাল। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম দল ও দেশের জন্য কাজ করেছেন। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সংগ্রাম করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো তিনি আপস করেননি। ফলে দল হারালো উচ্চ মানের প্রজ্ঞাবান একজন নেতাকে। আর জাতি হারালো একজন জাতীয় নেতাকে। ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম এক ইতিহাসের নাম। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার অবদান গোটা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি যখন চলে গেলেন জাতি তখন এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। তার এই চলে যাওয়ায় বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো। এ শূন্যতা কেবল বিএনপির জন্য নয়, গোটা জাতির জন্য। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জানাজার আগে তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমার বাবা সারাজীবন আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে তিনি তার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার। দলের নীতি, আদর্শ এবং সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কখনো যাননি। তারপরও আমার বাবার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। দোয়া করবেন তার সন্তান হিসেবে আমরাও যেন দল, দেশ এবং মানুষের সেবা করতে পারি। জানাজা শেষে দলীয় পতাকায় মোড়ানো তরিকুলের কফিনে দলের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু কঠিন রোগে আক্রান্ত তরিকুল গতকাল রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সোমবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী শোকদিবস পালন করছে বিএনপি। শোকদিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। যশোর থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় খালেদা জিয়ার সরকারে প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন প্রয়াত বিএনপি নেতা।
৭ নভেম্বরের পর দেশ চালাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট : দুদু
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আগামী ৭ নভেম্বরের পর দেশ চালাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আপনাদের (আওয়ামী লীগ সরকারের) ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে কি না। দুদু বলেন, আন্দোলন এখনো শুরু হয় নাই। ৭ নভেম্বরের আলোচনার পর দেশ কীভাবে চলবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেটা নির্ধারণ করবে। গণতন্ত্র কীভাবে আমরা ফিরাব তা নির্ধারণ করব। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আপনি তো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাবিদার। সংবিধানের কথা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতবার বলেন অন্য কেউ এত বার বলে না। কিন্তু সংবিধানে আমার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সভা-সমাবেশে নিশ্চিত করা হয়েছে, আপনি তো সেটা মানেন না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে যে আইন করেছেন তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আপনি তা পাস করিয়েছেন। তাহলে সংবিধান এখন কোথায়? সাবেক এ ছাত্র নেতা বলেন, ‘ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী গুম অথবা নিখোঁজ। এখন আপনি যদি মনে করেন আপনার শাসনকালের পরে আর কোনো শাসনকাল নাই, সেটা ভুল করবেন। সে শাসনকাল যখন পরিবর্তন হবে তখন তো আমরা আমাদের নেতাকর্মী যারা গুম, খুন হয়েছে তাদের ফেরত চাইব। ফেরত যদি না দিতে পারেন আসামির কাঁঠগড়ায় আপনাকে দাঁড়াতে হবে। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে দুদু বলেন, জামিনযোগ্য মামলায় জামিন তো দেন নাই বরং তাঁকে রংপুরে নিয়ে তাঁর ওপর আপনার কর্মী বাহিনীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। মইনুল হোসেনের ওপর বন্দি অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে। এগুলা ভালো দৃষ্টান্ত না। এগুলো গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে যায় না। এগুলো স্বৈরশাসকের কাজ। আপনি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করেবেন, স্বৈরশাসকের কাজ করবেন, দুইটা এক সাথে যায় না। জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সুকুমার বড়ুয়া, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। শীর্ষনিউজ
ফের সংলাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি
অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় দফা ছোট পরিসরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে চিঠি নিয়ে রওনা হয়েছেন এক্যফ্রন্টের দুই নেতা। আজ রোববার ধানমন্ডি ৩ নম্বরের আওয়ামী লীগ অফিসের উদ্দেশ্যে চিঠি নিয়ে রওনা দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ অ ম শফিক উল্লাহ এবং জগলুল হায়দার আফ্রিক। এরআগে শনিবার রাতে মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব ভবিষ্যতে সংলাপের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা হবে। আমরা মনে করি, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাতে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই বৈঠকে হয়। শীর্ষ নিউজ