বিএনপি জনরায়ের প্রতি সম্মান জানাতে ব্যর্থ: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: শপথ না নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট পুরনো ভুলের পুনারাবৃত্তি করছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছিল, এবার শপথ না নিয়ে একই ভুল করছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। জনরায়ের প্রতি সম্মান জানাতে বিএনপি ব্যর্থ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৩০ ডিসেম্বর জনগণ যে রায় দিয়েছে, যেটুকু রায় দিয়েছে- এটি তাদের সম্মান করা উচিত। সেটি তারা সম্মান করতে ব্যর্থ। ব্যর্থতার গণ্ডিতে বারবার আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। ব্যর্থতা থেকে বেরোতে পারছে না তারা। আওয়ামী লীগ বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকেও আমন্ত্রণ করেছিলাম। তাদের অনুরোধ করেছিলাম- জনগণের রায়কে অসম্মান করা উচিত হবে না। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ভোট বাতিল দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব হচ্ছে বিরোধী দলের সুলভ আচরণ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রতিবার যে সিনারিও, হেরে গেলেই যে সিনারিও হয়, যে দৃশ্যপট জন্ম নেয় সেই দৃশ্যপটের পুনরাবৃত্তি আমরা বারবার দেখি। তো এটি একসময় থেমে যাবে। কারণ দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। শেখ হাসিনার ম্যাজিকে এই জনরায় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, উন্নয়নের পক্ষে এবং আমাদের নেত্রীর ব্যক্তিগত সততা ও ক্যারিশমার পক্ষে এ জনরায়। এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই নির্বাচনের বিজয়ের মূলচালিকাশক্তি হচ্ছে- 'হাসিনা ম্যাজিক'। এটিই হল বাস্তবতা। লিডারের প্রতি তার উন্নয়ন, তার রাজনীতি, তার স্বচ্ছতা, তার সততা, তার যোগ্যতা-দক্ষতার প্রতি সমর্থন দিয়েছে দেশের মানুষ। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি কাদের বলেন, ছাত্রলীগ সময়ের চাহিদা পূরণে দায়িত্ব পালন করবে। উন্নয়নের পক্ষে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে সংগঠিত করবে। ছাত্রলীগ তো তারুণ্যের প্রতীক, এনার্জির প্রতীক।
বিরোধী দলে জাতীয় পার্টি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। একইসঙ্গে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির কোনো সদস্য থাকবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন এরশাদ। আজ শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভাপতি হবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
ইসিতে স্মারকলিপি ঐক্যফ্রন্টের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের যে কজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন তারা আজ বৃহস্পতিবার শপথ নেননি। নবনির্বাচিতরা শপথ নেবনে না বলে জানেয়েছেন তারা। ঐক্যফ্রন্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে নানা অনয়িমের অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ বিকেলে ইসিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। পরে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের নামে জাতির সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের জয়ীরা শপথ নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। শপথ নেয়ার প্রশ্ন আসবে কেন? যেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সেখানে কারচুপি হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন,সেগুলোতেও ডাকাতি হয়েছে, তবে তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনি।’ এর আগে আজ দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন না বলে জানান বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'ফল প্রত্যাখ্যান করলে শপথ থাকে নাকি আর? আমরা শপথ নিচ্ছি না, পরিষ্কার করে বললাম। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থী আলাদাভাবে নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন বলে এ সময় জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, সারাদেশে নির্বাচনের দিন অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগসহ স্মারকলিপি দিতে বিকেলে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার কিছু সময় পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মহাজোট প্রধান শেখ হাসিনাসহ জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এসময় বিএনপির নির্বাচিত পাঁচজনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতজন শপথ নেননি।
মামলা করা হবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে: মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফল প্রত্যাখান করলে শপথ থাকে নাকি। সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে শপথ হয়েছে গেছে। আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে শপথ নেব না। বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ২টার দিকে গুলশানে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তো নির্বাচনের ফলাফল আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি। অন্যদের শপথ নেওয়া হয়ে গেছে। আমরা শপথ নিচ্ছি না। তিনি বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আজকে আমরা স্মারকলিপি দেবো। এদিকে শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সংসদ ভবনের সংশ্লিষ্ট কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে শুরুতেই শপথ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার আগে, মঙ্গলবার নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আগে শপথ গ্রহণ করেন। পরে স্পিকার হিসেবে তিনি নির্বাচিত অন্য সদস্যদের শপথ পড়ান। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার নিজেই নিজের শপথ পড়ান। শপথ শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বৈঠক করে নিজেদের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসেননি। ইতিমধ্যে তারা ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে তাদের শপথ নিতে হবে। তা না হলে তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে হবে। একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত না করলে বা শপথ না নিলে সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সংবিধানে বাধ্যবাধকতা আছে। এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (২)-এর (১) দফায় বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের যে কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে। নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। কাজেই গেজেট প্রকাশের দিন থেকে এক মাসের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দশম সংসদের মেয়াদ আছে। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। মোট ২৯৮ জন সংসদ সদস্যের নামে গেজেট জারি করা হয়। বাকি দুটির মধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন হয়নি। এ ছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন করতে হবে বলে সেখানে ফলাফল স্থগতি রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই জিতেছে ২৫৭টি আসনে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোট পেয়েছে ৭টি আসন। বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ৫টি। নির্বাচনে এককভাবে ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছে জাতীয় পার্টি। একাদশ সংসদে তারাই বিরোধী দল হতে যাচ্ছে। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। তার পরের দিন ৯ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করে নির্বাচিত সদস্যরা। আর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জানুয়ারি।
শপথ নিয়ে ধোঁয়াশা ঐক্যফ্রন্টের ৭ সাংসদের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন আজ। তবে, নির্বাচনে জয়ী বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত সদস্য শপথ নেবেন কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। অন্যদিকে, নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জয় পায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছে ঐক্যফ্রন্ট। পরে গত ৩১ ডিসেম্বর আলাদা বৈঠক করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও পুন-নির্বাচনের দাবি জানালেও নির্বাচিত সাত সংসদ সদস্য শপথ নিচ্ছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট করেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
অনিশ্চয়তায় নেতাকর্মীরা বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে দলটি এ নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত গণফোরামের দুইজনসহ মোট সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে তারা। তবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে এরই মধ্যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি আদায়ে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদানসহ কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তাছাড়া নির্বাচিতদের শপথ না নেওয়ারও আভাস দিয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আগামীতে বিএনপি আসলে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। পরিস্থিতি যাইহোক, নতুন বছরে নতুন কৌশল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। এ নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরাজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। এদিকে বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির প্রার্থীদের ডাকায় ডাকা হয়েছে। এ দিন সকাল ১০টায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। সূত্র মতে, প্রার্থীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ভোটে অনিয়ম-কারচুপির প্রমাণ, প্রতিটি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ভোটের হিসাব, গ্রেপ্তার এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের তালিকা, সহিংসতায় আহত ও নিহতদের তালিকাসহ আটটি বিষয়ে তথ্যসহ একটি প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে। ভোট কারচুপির ভিডিও থাকলে তাও প্রতিবেদনের সঙ্গে দিতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্র মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবি না মানায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এরপর থেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে মূলত আওয়ামী লীগ সরকারে রোষানলে পড়ে বিএনপি। দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল দলটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একপর্যায়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতাদের তৎপরতায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ হয়। সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কয়েক দফা সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন আশ্বাসে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মামলা, গ্রেপ্তার-নির্যাতনসহ চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বিএনপি জোট। তবে ধানের শীষের পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লবের আশায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে ভোটের দিনের চিত্র দেখে চরম হতাশ হন বিএনপি নেতারা। একপর্যায়ে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এদিকে নির্বাচন পরবর্তী অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে সোমবার পর্যায়ক্রমে দলের স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। এসব বৈঠক থেকে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান এবং অন্য কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে এসব কর্মসূচির সফলতা নিয়ে সন্দিহান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একেবারে বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে আমাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে নজিরবিহীনভাবে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ত্রাস-ভীতি সৃষ্টি করে এ নির্বাচনটি করা হয়েছে। এ নির্বাচনকে ভোট ডাকাতি বলা যেতে পারে, এ ভোট ডাকাতির ফলে আমরা এ নির্বাচনের ফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মনে করি, এ কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় অনুষ্ঠিত করতে হবে এবং এটা অনতিবিলম্বে করতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। দাবি আদায়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবশ্যই আমাদের কর্মসূচি থাকবে। ফখরুল বলেন, এ নির্বাচন পূর্ব পরিকল্পনায় হয়েছে। আর ইঞ্জিনিয়ারিংটা করা হয়েছে, ভোটের আগের রাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। এ কারণে জনগণ যে ১০ বছর ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছিল না, সেটা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হলো। ৩০ নভেম্বরের ভোট ও এর ফলের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন দলটির ঢাকা মহানগরের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি বলেন, এ রকম নির্বাচন আমরা আশা করিনি। এ অবস্থায় বিএনপিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করলে তা কতটুকু আদায় হবে অথবা পাঁচ বছর পরও এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা বিএনপিকে জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ দেবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় বিএনপিকে নতুন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরিশাল-৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবর রহমান সরোয়ার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে আজও মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, নির্বাচন কমিশন ঠিক হয়নি- এটা খুবই দুঃখজনক। ৩০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা যেভাবে প্রশাসনিকভাবে ভোট ডাকাতি করল, জাতি তা মনে রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি। নির্বাচন পরবর্তী দলের অবস্থা সম্পর্কে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, এ নির্বাচনে নীতি-নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের বিপর্যয় হয়েছে। এ নির্বাচনে আসলে বিএনপি হারেনি, হেরেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগ তাদের পুরানো চরিত্র যে পাল্টাতে পারেনি তা এ নির্বাচনে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ দল যতদিন থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
ধানের শীষ প্রতীকের ২৫৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জনই
অনলাইন ডেস্ক: ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। এ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই জামানত হারিয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসেবে রাখা ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়। নির্বাচনে কোনও আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনও প্রার্থী যদি না পান তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ২৯৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। তারপরই বিএনপির অবস্থান। ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। তবে নৌকা প্রতীকের কোনও প্রার্থীই জামানত হারাননি। ২৫৯টি আসন পেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
জামানত হারিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। নির্বাচনে ২ হাজার ৭৭৫ ভোট পান তিনি। কুড়িগ্রামের ৪টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৪০। তাদের মধ্যে জামানত বাতিল হয়েছে ৩২ জনের। সবচেয়ে বেশি ১৬ জন প্রার্থী অংশ নেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভোট প্রদত্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৪টি। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ১০৫টি ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফ-উদ-দৌলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটের আগের দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি ৩৩৩ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান ৫৫ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। অন্যান্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম হাবিব ৭ হাজার ৩১৮ ভোট, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ২ হাজার ৭৭৫ ভোট, এসএম জাহাঙ্গীর আলম ৪২৯ ভোট, আবিদ আলভী জ্যাপ ৩০২ ভোট, আবুল হাশেম ৪১ ভোট, ইউনুছ আলী ৯৩ ভোট, ইমান আলী ৫১৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের আনছার উদ্দিন ৩ হাজার ৫৪১, বাসদের আবুল বাশার মঞ্জু ৫২৭ ভোট, গণতন্ত্রী পার্টির মো. আব্দুস সালাম কালাম ১০৯ ভোট, ওয়াকার্স পার্টির মহিউদ্দিন আহম্মেদ ৫০৬ ভোট, গণফোরামের মাহফুজার রহমান ২৫ ভোট, জাকের পার্টির শাহ আলম ১ হাজার ২৯৩ ভোট পেয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। এর কম পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।