ইফতার রাজনীতিতে ভোটের বার্তা, তৃণমূলে দল ও জোট চাঙ্গা করবে আ-লীগ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এবার রমজান মাসে চলবে রাজনীতির ইফতার। এতে তৃণমূল, জোট ও ভোট গোছানোর কাজ করবে আওয়ামী লীগ। ইফতার পার্টির মাধ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গার পাশাপাশি সরকারের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালাবে দলটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে থাকবে ইফতার আয়োজন। ঈদের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর রয়েছে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোট। আগামী ডিসেম্বরে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফলে তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করতে রমজান মাসে আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ইফতার রাজনীতিকে বেছে নিচ্ছেন জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রমজান মাস জুড়ে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে। এর মাধ্যমে দল ও জোটকে শক্তিশালী করা হবে। দলীয় সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ইফতারের আয়োজন না করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এ বছর আগামী ছয় দিন ইফতার কর্মসূচি রেখেছেন। এর মধ্যে ২১ মে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, এতিম, প্রতিবন্ধী শিশু ও আলেমদের সঙ্গে; ২৩ মে বিচারপতি, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা (সামরিক/বেসমারিক); ২৮ মে পেশাজীবী; ২ জুন আত্মীয়-পরিজন, ৪ জুন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ৬ জুন আইনজীবীদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মাসব্যাপী ইফতার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত দল ও দলের সহযোগী সব সংগঠনের নেতা-কর্মীকে চাঙা করা হবে। শুধু ঢাকাতেই নয়, ইফতার রাজনীতি তৃণমূলে প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। ইফতার রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই জমে উঠবে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। রমজানে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে ইফতারিসামগ্রী, জামাকাপড় ও জাকাত বিতরণের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা আদায়ের চেষ্টায় থাকবেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এ ছাড়া তৃণমূলে যেসব নেতা-কর্মীর সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব রয়েছে, তা নিরসনের চেষ্টা করবেন এবারের রমজানে। জানা গেছে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না এলেও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক রাজনীতি করবে রমজান মাস জুড়েই। প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইফতারের আয়োজন রাখা হচ্ছে। মহানগরী আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দল চাঙা হবে। এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রীরাও অংশ নেবেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য বলেন,রমজানে নেতা-কর্মী ও এমপি-মন্ত্রীদের নিজ নিজ এলাকায় যেতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আসা করি পবিত্র রমজান মাসে তারা স্থানীয় নেতা-কর্মী, ১৪ দলের শরিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এতে দল ও ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে মনে করি। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখ দেখে নয়, জরিপ দেখে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে শেখ হাসিনার এমন ঘোষণায় এমপি-মন্ত্রীরা এখন অনেকটাই এলাকামুখী। তাদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নির্বাচনী এলাকার গ্রাম-ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন,রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও দলের নেতা-কর্মীদের আয়োজনে বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি অনির্ধারিত আলোচনায় দলের বর্তমান অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। রমজানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও ইফতারে অংশ নিয়ে আমরা দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করব। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকটি জেলায় ইফতারে অংশ নেব। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও সারা দেশ সফরে যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে খুলনা সিটি নির্বাচনে
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বুধবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন,নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশএটা প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন,খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে অনেক আশঙ্কা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেদ একজন পরিচ্ছন্ন ও সফল মেয়র ছিলেন। খুলনার জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে বিজয়ী করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,আদালতের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করবে? রাজনীতি করার প্রশ্নই ওঠে না। সার্বিকভাবে মর্যাদার সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, বরং বিএনপিই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন,বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ বিজয় করেছি। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধুর জয় বাংলা স্লোগান পৌঁছে দিয়েছি। বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আজকে এই মহাকাশ বিজয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান,সিইসির পদত্যাগ দাবি রিজভীর
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। নয়াপল্টনে দলীয় অফিসে বুধবার (১৬ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মঙ্গলবারের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার লজ্জায় গণমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন- খুলনায় চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। উনি ঠিকই বলেছেন। ওইখানকার ভোটের পরিবেশই হচ্ছে শেখ হাসিনা মার্কা নির্বাচন- যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে একই সঙ্গে বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে। কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়। পুলিশের সহায়তায় কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়। কেন্দ্র দখল করে আধা ঘণ্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই। তাদের সে সামর্থও নেই, যোগ্যতাও নেই। ভোট ডাকাতি, ভোট সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোট কেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয় নিশানে হাওয়া লাগে না। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজন ২দিন আগে দেখা করেছেন। তারা তার অসুস্থতা দেখে বেদনাহত হয়েছেন। তার শারীরিক অসুস্থতা ক্রমাগত অবনতিশীল। সরকারের নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাকে দেয়া হয়নি অর্থোপেডিক বেড, করা হয়নি নিয়মিত ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা এবং উন্নত মানের এমআরআই দিয়ে পরীক্ষা করা। প্রতিরাতে জ্বরে ভুগছেন তিনি। বারবার দাবি জানানোর পরেও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে খালেদার চিকিৎসা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদাসীনতা ও উপেক্ষায় তার কোনরুপ ক্ষতি হলে সরকার কোনভাবেই রেহাই পাবে না। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হলেও জেল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না নেয়ায় রিজভী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদার আরও ৬ মামলায় জামিন দরকার মুক্তির জন্য
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকলেও এখনি মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। মুক্তির জন্য তাকে আরও ছয় মামলায় জামিন নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। বুধবার (১৬ মে) দুপুরে আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, মুক্তির জন্য খালেদা জিয়াকে ঢাকা, কুমিল্লা ও নড়াইলে বিচারাধীন আরও ছয় মামলায় জামিন নিতে হবে। এর মধ্যে ঢাকায় দু’টি, কুমিল্লায় তিনটি ও নড়াইলে একটি মামলা রয়েছে। মেজবাহ আরও জানান, ঢাকার মামলা দুটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১৭ মে) দিন ধার্য করা হয়েছে। আগে সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল করেন আপিল বিভাগ। জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার এ রায় দেন। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যে আপিল করেছেন সে আপিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিল বিভাগে খালেদার জামিন বহাল
আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতুত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার সকালে এ রায় দেন। তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকায় তিনি আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গত ৯ মে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। গতকাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন আদালত। খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এ ছাড়া ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা খালেদার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম উপস্থিত ছিলেন। ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকার, দুদক ও আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে এ আদেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। ১৪ মার্চ খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত করে লিভ টু আপিল দায়েরের জন্য দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। এ ছাড়া এই মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। পাশাপশি নিম্ন আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।
বিএনপি মিথ্যাচার করছে
খুলনার জনগণ স্বাধীনভাবেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই বিএনপি ধারাবাহিক মিথ্যাচার করছে। আসলে এটা তাদের জন্মগত অভ্যাস। আজ দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।নানক আরও বলেন, খুলনার এই অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য রিজভী সাহেব সকাল থেকেই মিডিয়ার সামনে নানাবিধ গুজব রটাচ্ছেন। ভোটে জনগণ নৌকা মার্কার প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে বিপুল ভোটে জয়ী করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নানক।
খুলনা সিটিতে জাল ভোটের মহোৎসব চলছে
খুলনা সিটিতে জাল ভোটের মহোৎসব চলছে জানিয়ে বিএনপি বলছে- অশান্তি আর নিগ্রহে ভরপুর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আসলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন মানে বিরাট ধাপ্পা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আজ সকাল আটটা থেকে শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের কল্যাণেই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চিরাচরিত উৎসবের আমেজ নেই, শুধু ভোটারদের মনে শুণ্যের হাহাকার। ধানের শীষের মহিলা এজেন্টদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়, ভোট কেন্দ্রে গেলে হেনস্থা হবে। পুরুষ এজেন্টদের ওপর হামলা করে আহত করা হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্ট, সাধারণ ভোটারদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শনের সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনে জয়লাভ ক্ষমতাসীনদের করায়ত্ত্ব করতে তারা মরিয়া। রিজভী জানান, ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন-সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুুলিশের সহায়তায় ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। সকাল আটটায় ২৫ নং ওয়ার্ডের ৫টি ভোটকেন্দ্রসহ নুরানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের এজেন্টদের তালিকা নিয়ে যাবার সময় মনির নামে এক বিএনপি কর্মীকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। নজরুল নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। খালিসপুর-১৫ নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্ট লিলি এবং লিমা আক্তারকে মধ্য পালপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের এজেন্ট কার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির এর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। হাজী মালেক মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে না যেতে ভোটারদেরকে মুক্তার হোসেন সড়কে বাধা দেয়া হচ্ছে। ২০নং ওয়ার্ডে এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাধারণ ভোটারদেরকে বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে। ২২নং ওয়ার্ডে জেলা স্কুল ও নতুন বাজার চর কেন্দ্রে যেতে ভোটারদেরকে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। ফাতেমা স্কুল কেন্দ্র যেখানে নৌকার মেয়র প্রার্থী ভোট দিয়েছেন সেখানে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। ২৫ নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ও নুরানী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দিচ্ছে। বিএনপির এই নেতা জানান, ২৬নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকায় জাল ভোট দেয়ার মহোৎসব চলছে। ১৫নং ওয়ার্ডে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল ও পলিটেকনিক স্কুল কেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের কাছ থেকে আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডে দেয়ানা উত্তর পাড়া কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং বিএনপি কর্মী মিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৩০নং রুপসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটার ও সমর্থকদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ২১নং ওয়ার্ডে প্রভাতী স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা চলছে। পোলিং এজেন্টদেরকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয়া হয়েছে। ১৯নং ওয়ার্ড ইসলামাবাদ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলা চলছে, পোলিং এজেন্টকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দিয়েছে। পাইওনিয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের হামলা, মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দিয়েছে বিএনপি’র পোলিং এজেন্টদেরকে। রিজভী বলেন, সদর থানা কয়লাঘাট স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। পলিটেকনিক কলেজ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী হামলায় পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়। গল্লামারি লায়ন্স স্কুল ও নিরালয় স্কুল কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টকে প্রশাসনের সামনে মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ১১-কেন্দ্র ৮০ বিএনপি এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। বুথের সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজেদের এজেন্টদেরকে বলছে নৌকা মার্কায় জাল ভোট দেয়ার জন্য। ২২নং ওয়ার্ডের ১৭৯নং কেন্দ্রের সামনে থেকে যুবদলের কর্মী সেলিমকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী বিকু কাজী ধরে নিয়ে গেছে। একই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা খান মঈনুল হাসান মিঠু ও আলী আকবরকে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
খালেদার জামিন বিষয়ে রায় আগামীকাল
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে রায় আগামীকাল বুধবার ধার্য করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেন। আজ খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ফের শুনানির জন্য আবেদন করেন। দুপুরে শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেন আদালত। গত ৯ মে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার ধার্য করেন আপিল বিভাগ। খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাছাড়া ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা খালেদার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম শুনানি করেন। ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকার, দুদক ও আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে এ আদেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। ১৪ মার্চ খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত করে লিভ টু আপিল দায়েরের জন্য দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। এ ছাড়া এই মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। পাশাপশি নিম্ন আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।
বিএনপি আজ রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া: হানিফ
জনগণ বিএনপির চেহারা দেখেছে, তাদেরকে আর কখনও ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন,বিএনপি আজ রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছে। তাই এখন পাগলের প্রলাপ বকছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোট নিয়ে তারা মিথ্যাচার করে সরকারের উপর দায় চাপাতে চাচ্ছে। আজ সোমবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডস্থ নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদরউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সংসদসহ সব জায়গায় আলোচনা হয়েছে। এটা লুকানোর কি আছে। নির্বাচন আসলেই বিএনপির ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট দিয়ে মানুষের সহানুভূতি পেতে চায়। বিএনপির সেদিন শেষ হয়ে গেছে। এরপর বেলা ১১টায় তিনি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদেন। মাহবুব উল আলম হানিফ পরে দুপুর সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী আরজুর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। বিকেল ৪টায় তার কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে কৃতি খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পূর্বপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক উঠান বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।