প্রয়োজনে ইসলাম-দেশের জন্য জীবন দেবো: মাহমুদুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে তিনি মারাত্মক আঘাত পান। আঘাত পেয়েও সাহসের মতো কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। গতকাল রোববার বিকেলে এই হামলার সময় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান বলছিলেন,প্রয়োজনে আমার দেশের জন্য আমি জীবন দেবো। যারা এমন করেছে তারা কুকুর। একা জীবন দিব দেশের জন্য। আমার দেশের জন্য জীবন দিব। ইসলামের জন্য জীবন দিব। জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা একটি মানহানি মামলায় মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে কুষ্টিয়া আদালতে যান। বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে মাহমুদুর রহমানের স্থায়ীভাবে জামিন মঞ্জুর করেন। তার জামিন মঞ্জুর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেতারা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এজলাসের ভেতর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। চার ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় বাইরে বের হলে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হকিষ্টিক ও লাঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে পেটাতে থাকে। হামলায় মাহমুদুর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। শীর্ষনিউজ
প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সতর্ক করেছেন: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, কোটা সংস্কার ইস্যুতে ছাত্রলীগের নামে কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি, কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন, এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের নামে আমরা কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ পেয়েছিলাম। গতকাল (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের সভা শেষে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে আমার সামনে ছাত্রলীগের নেতাদের বলেছেন— ছাত্রলীগের নামে যেন কোনো বাড়াবাড়ির অভিযোগ আর তিনি না পান। পরিষ্কারভাবে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, যাতে ছাত্রলীগের নামে বাড়াবাড়ির কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে না আসে।’ তিন সিটি করপোশন নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘল না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে ইলেকশন সম্পন হয়, সে বিষয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে সহযোগিতা করেন, আমরা তা বলে দিয়েছি। সরকারিভাবেও প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে এ বার্তা পাঠিয়েছেন যে, কোনো প্রকারের বাড়াবাড়ি যেন না হয়। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হয় এমন কোনো অভিযোগ যাতে না আসে।’ ‘বিএনপির দেয়া কোনো শর্ত মেনে দেশে নির্বাচন হবে না। সংবিধানের বিধান অনুসারে নির্বাচন হবে। এখানে সরকারের ধরণ কোনো বিষয় নয়’, যোগ করেন সেতুমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেন ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সংলাপের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংলাপ তো হয়েছে। সংলাপ করেছে ইলেকশন কমিশন। সেখানে বিএনপি অংশ নিয়েছে। এখন এটাতো আমাদের কোনো বিষয় নয়।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন আরেকটি সংলাপ করবে কিনা সেটা জানি না। তা কি বিএনপির সঙ্গেই করবে নাকি সবার সঙ্গে, তা ইলেকশন কমিশনই ঠিক করবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো সংলাপের প্রয়োজন অনুভব করছি না। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেটার জন্য সংলাপ করতে হবে।’ বর্তমান মন্ত্রিসভা কতটা ছোট হচ্ছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীই ভালো জানেন। তিনি ছাড়া এটা কেউ বলতে পারবে না। তবে এর সাইজ ছোট হবে, এটা বলতে পারি।
রাজশাহী জেলা বিএনপি নেতা মন্টু গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার (২১ জুলাই) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করে। সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অডিও টেপও ফাঁস হয়েছে তবে তা এখনও পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। গ্রেফতারের সময় মন্টুর লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ব্যাপারে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দাবি করেন, তার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মন্টুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা নেই। এটি নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটকেরই একটি অংশ। গত ১৭ জুলাই বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া বটতলার মোড় এলাকায় বুলবুলের গণসংযোগস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতেই মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আট জনের নামে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আলোকিত বাংলাদেশ
সোহরাওয়ার্দী অভিমুখে জনস্রোত
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা ঘিরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে জনস্রোত নেমেছে।শনিবার সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন। এখানেই জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হবেন শেখ হাসিনা। ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় তাকে এই গণসংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। বিকেল তিনটা থেকে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। শুরুতে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত ৩০ মিনিটের একটি পরিবেশনা থাকবে। মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতাকর্মীদের হলুদ ক্যাপ ও টি-শার্টে সুসজ্জিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে দেখা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা পরেছেন লাল ক্যাপ ও টি-শার্ট। ঢাকার বাইরে থেকেও আসা আওয়ামী লীগের মিছিল চোখে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত সকাল নয়টায় বিশাল বহর নিয়ে সোনারগাঁও থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আগতরা ঢাক-ঢোলের তালে তালে জয়বাংলা, বাংলার জয়; ভোট দিন ভোট দিন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট দিন স্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত করে তুলেছেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে ৩ লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ইতোমধ্যে সংবর্ধনাস্থলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। ইংরেজী বর্ণ এল (L) আকৃতিতে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে। ওয়ান নিউজ
স্বর্ণ কেলেঙ্কারিতে গভর্নরের পদত্যাগ করা উচিত: মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, যেমনিভাবে রিজার্ব চুরির দায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেছিলেন, তেমনি স্বর্ণ কেলেঙ্কারিতে বর্তমান গভর্নরেরও পদত্যাগ করা উচিত। তাহলে তার সম্মান বাঁচবে। শনিবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের ‘সংঘাতের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মওদুদ বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি টাকায় আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। সেভাবে বিএনপিকেও সমাবেশ করতে দিতে হবে। আলোকিত বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ
অনলাইন ডেস্ক :ডিজিটাল জালিয়াতি করতেই সরকার ইভিএম মেশিনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তোড়জোড় শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। রিজভী বলেন, সরকার আরেকটি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তারা জানে জনগণের সমর্থন তাদের সাথে নেই। আর সেই জন্য ভোট কারচুপি করে নিজেদের পক্ষে ফলাফল নিতেই ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করেছে। ইভিএম সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। বাংলাদেশের ভোটাররা ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরণের এই পদ্ধতি ব্যবহার চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সংলাপ চলাকালে ও পরর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে পুরোনো ভুত জেগে উঠলো কেন? আসলে এই ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন কমিশনের মহা আয়োজনের কল কাঠি নাড়ছে বর্তমান সরকার। রিজভী আহমেদ বলেন, ইসি সচিব বলেছেন, জাতীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে কমিশনের। গত সোমবার তিনি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে আড়াই হাজার ইভিএম মেশিন কেনা হয়েছে। আরো ২৬০০ কোটি টাকার ইভিএম মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। এই বিতর্কিত মেশিন নিয়ে সরকারের কেন এত তোড়জোড় সে বিষয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সরকার কেন এ অগ্রহণযোগ্য বিতর্কিত মেশিন কিনতে উন্মুখ সেটা কারো বুঝতে বাকী নেই। আমরা জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যাবহারের দাবী থেকে সরে আসতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী কালের সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমাবেশের সব প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি। পুলিশকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছি। আমাদের দুজন প্রতিবিধান মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গেছেন তার সাথে কথা বলতে। আমরা আশা করছি প্রশাসন আমাদের সমাবেশের অনুমতি দিবে। ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন- চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, কবির মুরাদ, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আওয়াল খান প্রমুখ।
খালেজা জিয়া গুরুতর অসুস্থ-অভিযোগ সঠিক নয়
অনলাইন ডেস্ক: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘এমন কোনো নতুন রোগে আক্রান্ত হননি যে জন্য তিনি (খালেদা) গুরুতর অবস্থায় আছেন। জেলকোড অনুযায়ী যদি আরও কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে তা গ্রহণ করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার বাইরে তিনি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিতে চাইলে সে ব্যবস্থা করা কঠিন।’ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আগের অসুস্থতার চিকিৎসা চলছে। তিনি নতুন কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন না। সুতরাং তিনি গুরুতর অসুস্থ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সে অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তিনি আর সেখানে যাবেন না। পরে আমরা সিএমএইচে নেয়ার কথা বলেছি, তিনি সেখানেও যাবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রীও অসুস্থবোধ করলে সিএমএইচে যান, সেখানেও (সিএমএইচ) যদি তিনি না যান, তবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নেয়াটা কঠিন। সরকারিভাবে তার জন্য যা যা করার আমরা তা গ্রহণ করেছি। তার যেসব ডাক্তারা সেবা দিয়ে থাকেন তারা সার্বক্ষণিক দেখছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার দেখবেন।’ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটছে না। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অথবা দুটি মনের মিলনে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সাথে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? -সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তৈরি করা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা কমন পড়ছে তাদের ধরা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। সে জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরাম নিহত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একরামের পরিবারের সাথে দেখা ও কথা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আর র‌্যাব সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি তদন্তের অংশ। তদন্তে যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে বিদেশ চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারো কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছে খবর আসে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আইনমন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। সেখানে আমি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য। কে কোথায় সেসব দেশের আইন ও দেশীয় আইন মিলে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ যায় না। ভুলে যান কেন? কারা কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবনে হামলা করেছে। ভাঙচুর হয়েছে। ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরা হচ্ছে। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, যে অন্যায় করবে তার বিচার হতেই হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেজন্য সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এ কথা বলতে পারি, তদন্তের রুট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যদি বিচারিক ব্যবস্থারও প্রয়োজন হয় খুব শিগগিরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে জোর গলায় বলতে পারি, কোউকে ছাড় দিচ্ছি না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম। আলোকিত বাংলাদেশ
হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়: পানিসম্পদ মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়ন ক্ষেত্রের প্রভূত অগ্রগতি হয়েছে মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী থাকলেই এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা জাগ্রত হয় এবং ভাগ্য পরিবর্তন বেশি বেশি ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীতেও যাতে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসে সে জন্য এ এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে উন্নয়নের এই ধারা আরও গতি অর্জন করতে পারে।’ সোমবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালীর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, নদী ভাঙ্গনরোধে রক্ষা বাঁধ ও সেতু নির্মাণ কাজ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত কয়েকটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপজেলা জেপির নেতা কর্মী, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন আক্তার সুমীসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল হক, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, কাজি ওয়াহেদুজ্জামান বাচ্চু, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০ দলীয় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা। তারা বলছেন, অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সরকারের লোভনীয় প্রস্তাব নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে জোটের ঐক্যে। এদিকে, সরকারের প্ররোচনায় জোট ছাড়লে জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জামায়াতই বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সিলেট সিটি নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপি দলীয় একক প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জামায়াত আলাদা করে প্রার্থী দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে জোটের বৈঠকে দফায় দফায় দেন-দরবার হলেও এ নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী রাখার ব্যাপারে অনড় থাকে জামায়াত। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর সখ্য নিয়ে কানাঘোষা, জামায়াতের আমিরের কারামুক্তি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ, জল্পনা-কল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, এসব কি তাহলে জামায়াতের জোটত্যাগের আলামত? বিভিন্ন সমীকরণ বিবেচনায় জোটের শরীক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহীম এমনটাই অাভাস দিয়ে বলেছেন, জামায়াতকে বোঝাতে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা জামায়াতকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। জামায়াত উত্তর দিয়েছে তারা তাদের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করবে। নির্বাচনের আগে বড় দু'টি দলের বাইরের দলগুলোর কাছে অনেক লোভনীয় প্রস্তাব আসবে। একটু এদিক-ওদিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমারও মনে হয়। এই মুহূর্তে জোট ছাড়লে মূল্য দিতে হবে জামায়াতকেই এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, ১৯৯৬ সালে তারা মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু জোটবদ্ধভাবে তারা ১৭টি আসন পেয়েছিল। তাদের ভাবতে হবে তারা কম আসন চায় নাকি বেশি আসন। জোট ভাঙলেও ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করে মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ২০ দলীয় জোটে আমরা যারা অবিচল আছি। সামনের দিনগুলোতেও থাকবো। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জোটে কোন ধরণের উনিশ-বিশ হবে না। কিন্তু কেউ যদি জোট থেকে এদিক-ওদিক যায় তাহলে তার সিদ্ধান্তটাই ভুল হবে। কিন্তু মওদুদ আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ভোটের রাজনীতির স্বার্থেই ক্ষমতাসীনরা জামায়াতকে জোট থেকে সরাতে চাইছে। তিনি বলেন, সরকার আগে বলেছে জামায়াতকে ছেড়ে আসলে কোনো সমস্যা নেই। এখন দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের লোকজনই আওয়ামী লীগে যোগদান করছে, এতে আবার তাদের কোনো সমস্যা নেই। সরকার সবসময়ই দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে আসছে। এটা সরকারের একটা অপকৌশল হতে পারে। কিন্তু, তাতে জোটের কোন ক্ষতি হবে না, বিএনপিরও কোন ক্ষতি হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বিএনপির এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বহির্বিশ্বের চাপে বিএনপি নিজেই জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দিচ্ছে। রাজ্জাক বলেন, আমরা কোন মদত দিচ্ছি না। তারা নিজেরাই বুঝতে পেরেছে যে, পশ্চিমা বিশ্ব, উন্নত বিশ্ব, গণতান্ত্রিক বিশ্ব চাচ্ছে যে, জামায়াতের মতো ধর্মান্ধ, মানবতাবিরোধী দলের কাছ থেকে বিএনপির সরে আসা উচিৎ। বিএনপি এখন যাই করুক আগামী নির্বাচনে তারা সমর্থন পাবে না বলেও মন্তব্য আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যের।

রাজনীতি পাতার আরো খবর