বিএনপিকে প্রস্তুত হতে বললেন এমাজউদ্দীন
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিএনপিকে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, যা সত্য তার জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। এটি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের প্রথম স্মরণ সভায় তিনি একথা বলেন। ড. এমাজউদ্দীন বলেন, বর্তমান এই রাজনৈতিক সংকটের কারণ-গত ৮/৯ বছরের মধ্যে সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। সরকার মেধাবী লোকদের নিয়োগের বাইরে রেখেছেন। আজকের এই সংকটের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি বলেন, গত ৮/৯ বছরে প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে মেধার ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি। এর প্রমাণ পাবেন যদি আপনি যেকোনো বিভাগে তাকিয়ে দেখেন। কোনো বিভাগেই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাননি কেও। তিনি বলেন, সরকার সব জায়গায় ষড়যন্ত্রের কথা বলেন। এমনকি জাতীয় ঐক্যকেও ষড়যন্ত্র বলা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে জাতীয় ঐক্য, এটা ষড়যন্ত্র না। বরং রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দলীয় কাজে ব্যবহার করাটাই সরকারের ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই ষড়যন্ত্রকে মুছে ফেলার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐক্য দরকার। এখন জাতীয় পর্যায়ে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে এখানে আমার-আপনার অবদান কতটুকু তা ভাবতে হবে। কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছি সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এজন্য কারও সমালোচনা না করে আত্মসমালোচনা করা দরকার। একইসঙ্গে আমাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়া দরকার। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহম্মদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষনিউজ
অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে এরশাদ
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। এরশাদের পরিবার সূত্র জানিয়েছে, রোববার দুপুরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে। তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাত দেড়টার সময় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার অসুস্থ এরশাদের কাছ থেকে বাসায় ফেরেন। এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ওনার চিকিৎসা চলছে। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। আমরা আশাবাদী তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন বলেন জি এম কাদের।
চলে গেলেন জাগপা সভাপতি রেহানা প্রধান
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কেয়া হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাগপার মহাসচিব খন্দকার লুৎফুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিকসসহ জটিল রোগে ভুগছিলেন। রেহানা প্রধান ৭২ এ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ধারাবাহিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান ও ত্যাগ রয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর জাগপার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৭ সালের ২১ মে স্বামী শফিউল আলম প্রধানের আকস্মিক ইন্তেকালের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ওই বছরের ২৯ নভেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাগপার সভাপতি নির্বাচিত হোন রেহেনা প্রধান। শীর্ষ নিউজ
সাত দাবি পূরণের আভাস নেই, কী করবে ঐক্যফ্রন্ট
অনলাইন ডেস্ক: নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে আলোচনা থাকলেও রাজনীতিতে দৃশ্যত কোনো চাপ নেই এর। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ তারা যে সাতটি দাবি করেছে, সেগুলোর কোনো একটিও মেনে নেয়া হবে- এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দূরতম কোনো ইঙ্গিতও নেই। আবার দাবি আদায়ে জোরাল কর্মসূচির আভাসও নেই ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। এমনকি কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও নেতারা পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থার কথাই বলছেন। এই দাবিগুলো নতুন নয়, বিএনপি আগে থেকেই দাবিগুলো জানিয়ে আসছে আর সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বহুবার জানানো হয়েছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন নিয়ে চিন্তার সুযোগ নেই। আর নির্বাচন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল নিয়ে। উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়। আর এর প্রতিবাদে বিএনপি-জামায়াত জোট এবং সমমনারা ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। সেই নির্বাচন ঠেকানো এবং ২০১৫ সালে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে নেমে ব্যর্থতার পর দৃশ্যত সরকারকে চাপ দেয়ার ক্ষমতা হারায় বিএনপি। আর এরপর থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নানা চেষ্টার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, নাগরিক ঐক্য এবং জেএসডি মিলে গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই ঐক্যের আলোচনা যখন শুরু হয়, তখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন তারা ঐক্য গড়ে তিন দিনে সরকারের পতন ঘটাবেন। এর মধ্যেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নভেম্বরের শুরুতেই কমিশন জানিয়ে দেবে ভোট কবে হবে আর এ জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় কবে। অর্থাৎ হাতে সময় দুই সপ্তাহের মধ্যে। আর এই সময়ে সংলাপের কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের তারিখ ঘোষণা হয়েছে, তাও ঢাকার বাইরে। যদিও ২৩ অক্টোবর সিলেটে জমায়েতের অনুমতি না পেয়ে কর্মসূচি একদিন পিছিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সাত দফা দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে তো কোনো আভাস নেই, এই অবস্থায় কী করবেন- এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমাদের দাবি না মালে আমাদেরেই লাভ হবে। -সেটা কেমন? তারা সব কিছুই করল, কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হলো না। ওটাও তো আমাদেরই বিজয়। তবে আমাদের নিয়ে সরকার আলোচনা করছে, আলোচনা হচ্ছে কিন্তু সেটা ফরমালি নয়। ঐক্যফ্রন্টকে সরকার ভয় পাচ্ছে এ জন্য তারা বিভিন্ন কথা বলছে। তোফায়েল আহমেদ বলছেন ড. কামালের সামর্থ্য জানা আছে। এখন কথা হলো, তোফায়েল স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়ালে তিনি কি পাস করতে পারবেন? আর তিনি যা বলছেন তা হলো কথার কথা। এই কথার কথা না বলাই ভালো। আমরা জনগণকে নিয়ে কাজ করছি, জনগণকে না জানিয়ে কিছু করব না। জাফরুল্লা অবশ্য তাদের কিছু দাবি মেনে নেয়ার আভাস পাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের সাত দফা সরকার মেনে নেবে না আমি এভাবে ভাবতে চাই না। আমি যদি উল্টো করে ভাবি তবে আমাদের দুই দফা তো সরকার মেনেই নিয়েছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে, সেটা সরকার আমলে নিয়ে বলছে এটা নির্বাচন কমিশন দেখবে। আমরা নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে বলছিলাম, তারা সেটা মানা করছে না। এ ছাড়া খালেদার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে তারা নাকচ করে দিচ্ছে না, তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মুক্তির কথা বলছে। সে কারণে এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি না। আমার চিন্তা অন্য জায়গায়, সরকার তার কথা রাখছে না। কোন কথা রাখছে না- এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, সরকার কথা দিয়েছিল নির্বাচনের আগে কেবিনেট ছোট করা হবে। কিন্তু সে বিষয়ে কিছু আসছে না। সেই কেবিনেটে নিরপেক্ষ প্রতিনিধি নেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু সে বিষয়ে কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে সরকার যদি কিছুই না মানে, তবে লাভ হবে না। একই প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণাপত্র পাঠকারী নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা দেশে একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সাত দফা দবি উত্থাপন করেছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চাপ দিতে থাকব। আমাদের দাবি না মানা হলে তখন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব। সরকারকে কীভাবে চাপ দেবেন- জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশররফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা আমাদের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি, আরও যাব। আমাদের দাবি যখন মানবে না, তখন পরিস্থিতি বুঝে আমরা কর্মসূচি দেব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি ঢাকাটাইমসকে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা নিয়ে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আগামী নির্বাচনে আইনবিরুদ্ধ কোনো কিছু হবে না। এ নিয়ে আলোচনারও কিছু নেই। দেশের আইন ও সংবিধান মোতাবেক আগামী নির্বাচন হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতি করার চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনা মোতায়েন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তারা এটা নিয়ে অযথা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ কখনোই সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে কথা বলে না। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কি হবে না সেটা দেখবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান মোতাবেক সেনাবাহিনী কাজ করবে। সেটা সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যদি নির্বাচন কমিশন চায় এবারও তাই হবে। যা আছে সাত দাবিতে ১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন একং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল -কালো আইন-বাতিল করতে হবে। ৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। ৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পুলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। ৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ঢাকাটাইমস
আজ এরশাদের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ। সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা শুরু করেছেন। শনিবার ভোর থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাস বোঝাই করে নেতাকর্মীরা রাজধানীতে আসতে থাকেন। এতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের রাস্তায় সকাল থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের আগের নিজেদের সামর্থ্য দেখাতেই জাতীয় পার্টি এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে। স্মরণকালের বৃহত্তর সমাবেশ করার দাবি করেছেন জাপা নেতারা। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যেই সমাবেশ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা। মহাসমাবেশ সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এর আগে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। পার্টির নির্দেশনা নিয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মহাসমাবেশের পর দেশব্যাপী কাজ শুরু করতে হবে। বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন বহাল রাখা এবং দেশে সর্বসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জনপ্রিয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় পার্টি এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
রাষ্ট্রদ্রোহের কী করেছেন, প্রশ্ন জাফরুল্লাহর
অনলাইন ডেস্ক: সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের কী করেছেন, তা বুঝতে পারছেন না জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সেনাপ্রধানের বিষয়ে বলতে গিয়ে শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে জানিয়ে বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী বলেন,এর জন্য তো আমি ক্ষমাও চেয়েছি। কেউ যদি সমালচনা করে সে কি রাষ্ট্রদ্রোহী? আমি একটা কথা বলেছিলাম কথাতে শব্দের ভুল ছিল। তাই বলে কি আমি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছি? বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন জাফরুল্লাহ। মুভমেন্ট ফর জাস্টিস নামের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। গত ৯ অক্টোবর একটি বেসরকাটি টেলিভিশনের টক শোতে জাফরুল্লাহ একুশে আগস্টের হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডের উৎস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দাবি করেন ২০০৪ সালে আজিজ আহমেদ চট্টগ্রামের জিওসি থাকাকালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খোয়া যায়। এ নিয়ে পরে কোর্ট মার্শাল হয় তার। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী জানায়, আজিজ আহমেদ কখনও চট্টগ্রামের জিওসি ছিলেন না, আর তিনি তার চাকরি জীবনে কখনও কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হননি। পরে জাফরুল্লাহ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল না হলেও কোর্ট অব ইনকোয়ারি হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী থেকে এই তথ্যকেও অসত্য বলে জানানো হয়। আর জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করা হয় সেনা সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে। তার এই বক্তব্যের পেছনে কারা, সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয় এই ডায়েরিতে। পরে এই সাধারণ ডায়েরিটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। জাফরুল্লাহ বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামত প্রয়োজন। আজকে দেখেন আমি একটা কথা বলেছি, কথাটাতে একটা ভুল ছিল। শব্দের ভুল ছিল, শব্দ বিভ্রাট হয়েছে, শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে। তাহলে আমি কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছি? আমি যদি কারও সমালোচনা করি..., আমি ভুলটা স্বীকারও করেছি। আমি পরবর্তীতে স্বীকারও করেছি। তার মানে কী? রাষ্ট্র আজকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছে। গণতন্ত্র মানে হলো কথা বলার সুযোগ থাকা, সমালোচনা করা, এমনকি ভুল সমালোচনা করলেও তাকে করতে দিতে হবে। ভুল হলে সংশোধন করবে। যেমন আমি করেছি। এটাকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। শেখ হাসিনা অনেক ভালো কাজ করেছেন বলেও স্বীকার করেন জাফরুল্লাহ। বলেন, হাসিনা দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। পদ্মা সেতু করছে। তবে এই সেতু করতে আট হাজার কোটি টাকা লাগার কথা ছিল দাবি করে ঐক্যফ্রন্ট নেতা প্রশ্ন তোলেন কেন সেখানে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই বাড়টি টাকা শেখ হাসিনা নয়, তার চারপাশের চাটুকারদের হাতে গেলে চলেও দাবি করেন জাফরুল্লাহ। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা হারলে তাকে জেলে যেতে হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা। বলেন, তার যথাযথ বিচার হবে। তিনি জামিন পাবেন। খালেদা জিয়ার উপরে যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তার উপরে হবে না। একই জিনিস যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কোথা থেকে? জাফরুল্লাহ বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমালোচনা করেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনও। বলেন, আমার বন্ধু জাফরুল্লাহ সাহেব একটা ভুল করেছে, ক্ষমাও চেয়েছে। ...এর পরে যা হলো, আমি নিশ্চই বিশ্বাস করি না এটা আর্মি চিফের চিন্তাভাবনা। এটা একটা স্বাধীন দেশ। ঠিক আছে একটা ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে। সেই জন্য দেশদ্রোহী মামলা দিতে হবে, এটা কী কথা? কষ্ট লাগে, আজকে মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে গেল? কি কথা একটু সমালোচনা করছে। এটা যেহেতু আমাদেরই সামরিক বাহিনী, একটু আধটু ভুলভ্রান্তি হতে পারে- বলেন মইনুল। সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক সানাউল হক নীরু এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মইনুল হোসেন, আ ব ম মোস্তফা আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ। -ঢাকাটাইমস
দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তারা: হাছান মাহমুদ
অনলাইন ডেস্ক: ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঐক্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মওদুদ আহমদ সুকৌশলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে মাইনাস করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সে দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে জানান তিনি। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি, জামায়াত ও ড. কামাল হোসেন গংদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ নামের একটি সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছে। এ সমাবেশগুলোতে তারা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে। এধরনের অপচেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগের অন্যতম এই মুখপাত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন,তারা মূলত ষড়যন্ত্রকারী। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের ভাড়া করেছেন। তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গতকাল ২০ দলীয় জোট থেকে ন্যাপ ও এনডিপি বেরিয়ে গেছে। সামনে আরও কয়েকটি দল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন,২০ দলীয় জোটের ঐক্য যারা ধরে রাখতে পারে না, তাদের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ভাঁততাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। হাছান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনে শয়তানের সাথে ঐক্য করারও ঘোষণা দিয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে বিএনপি যাদের সাথে নতুন করে ঐক্য করেছে তারা আসলে কে। ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে হাসান মাহমুদ বলেন, ড. কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আত্মার সাথে বেঈমানি করেছেন। তিনি কথায় কথায় নিজেকে বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবে দাবি করলেও যে দল তাকে খুন করেছে, খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে ও পুরস্কৃত করেছে, সেই দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। ড. কামাল হোসেন কথায় কথায় মানবাধিকার ও আইনের শাসনের কথা বললেও বঙ্গবন্ধুর খুনি, ২১ আগস্টের হামলাকারী, এতিমের টাকা আত্মসাতকারীরে সাথে ঐক্য করেছেন। তিনি আগে শুধু একজন জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন, এখন তিনি পচে যাওয়া রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। সংগঠনের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিরাজ হোসেন, সংগঠনের সভাপতি জিন্নাত আলী খান জিন্নাহ ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টোয়েল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এনডিপি ও ন্যাপ বেরিয়ে গেল ২০ দলীয় জোট থেকে
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল বাংলাদেশ ন্যাপ (নিবন্ধিত) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)। মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন দল দুটির চেয়ারম্যান। ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। সংবাদ সম্মেলনে দলদুটি জানায়, বিএনপি নেতেৃত্বে চার দলীয় জোটকে সম্প্রসারণ করে ১৮ দলীয় জোটে রূপান্তর হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) এ জোটের অংশীদার। ‌তারা জানায়, বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে আমরা সাধ্যমত অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। নিজেদের মতবিরোধী ও মতাপার্থক্য থাকলেও জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবসময় আন্তরিক ছিলাম। গাণি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব থাকার পরেও জোটের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো কেউ তৎকালীন ১৮ দলীয় জোট ছাড়েনি। কিন্তু এই ত্যাগকে বিএনপি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনো মূল্যায়ন করেছে বলে আমাদের কাছে কখনো প্রতীয়মান হয়নি। বরং তাদের ভাবখানা ছিল এমন যে আমরা যাব কোথায়? তিনি বলেন, সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিএনপির উপস্থিত নেতৃত্ব বলেছেন, তাদের ওপর আজকের এই ঝড় কেবল ২০ দলীয় জোটের কারণেই হয়েছে। এই জোট না থাকলে তারা জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক চাপে মুখে থাকত না। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের কারণে কেউ চাপে থাকুক, তা আমরা প্রত্যাশা করি না। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে যে এই দলগুলো তাদের পাশে ছিল বলেই অনেক ব্যর্থতার ভাগ তারা শেয়ার করতে পেরেছে। না থাকলে তাও পারত না। এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বৈঠকের আলোচনা নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়ার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাদানুবাদ হয়েছে। মোস্তফা ভূইয়া বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে ওয়ান ইলেভেন সরকার এবং সেই সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গেলে মির্জা ফখরুল তার বক্তব্য শেষ না করতেই দিয়েই তাকে বলেন, এসব উঠিয়ে এখন দোষ ত্রুটি খুঁজতে যাবেন না। গণআন্দোলনে ব্যক্তি, দল, জোট, যে যেখান থেকে সমর্থন করবে সবাইকে আনতে হবে।
ঐক্য হলো, এরপর কী?
অনলাইন ডেস্ক: বহুল আলোচিত ঐক্য হলো, কিন্তু কীভাবে তারা আগাবে, সেটি নির্ধারিত হয়নি এখনও। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে গঠিত এই ঐক্যের নেতারা বলছেন, বৈঠক করেই ঠিক হবে কর্মপন্থা আর গন্তব্য। দীর্ঘ আলোচনার পরে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের ঐক্যের ঘোষণা আসে ১৩ অক্টোবর। ঘোষিত হয়েছে সাত দফা দাবি আর ১১ লক্ষ্য। দাবির হিসেবে যেগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো নতুন নয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, ভোটের ১০ দিন আগে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের বিএনপি আগে থেকেই তুলছে সেগুলো। কিন্তু পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। আর বিএনপিও কার্যত কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না। এই অবস্থায় কামাল হোসেনের গণফোরাম, জেএসডি আর নাগরিক ঐক্যের মতো দৃশ্যত দুর্বল রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তারা সরকারকে বাধ্য করতে কী এমন শক্তি অর্জন করেছে-এ নিয়ে আলোচনা চলছে তিন দিন ধরেই। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও যুক্তফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, এই বৈঠকের পরে বলতে পারা যাবে। কেবল কর্মপন্থা নয়, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াত বা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী অন্য দলগুলোর সম্পর্ক কী হবে, সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু ঐক্যের নেতারা কিছু বলছেন না। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না- গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দেয়া ড. কামাল হোসেন তার কথা ভঙ্গ করেছেন। বিএনপি এবং জামায়াতের বাঁধন আলগা হয়নি এতটুকু। এর মধ্যেও বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ায় এক যুক্তি তারা দেখাচ্ছে এভাবে: ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতের সঙ্গে নয়। এর মধ্যে ২০ দলের শরিকদেরকে নিয়েও আলাদা বৈঠকে হয়েছে বিএনপির। সেখানেও স্পষ্ট হয়নি সামনে কী হবে। ঐক্যের কর্মসূচিতে বিএনপির শরিকরা কী ভূমিকা রাখবেন জানা যায়নি। জামায়াত, মুসলিম লীগের মতো স্বাধীনতাবিরোধীরা যুগপদভাবেই পালন করবেন কি না, সেটিও ভবিষ্যতের জন্যই রেখে দিয়েছে বিএনপি। মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকাটাইমসকে বলেন,(আজ) আ স ম রবের উত্তরার বাসায় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক আছে। এ বৈঠকটি শুরু হবে দুপুর ১২টায়। সেখানেই সব ঠিকঠাক হবে। একই প্রশ্ন ছিল ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের কাছে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমাদের ঐক্য হয়েছে, এখন আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হবে। এরপরে বলা যাবে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে। এই মুহূর্তে আমি এর বেশি কিছুই বলতে পারব না। এর বেশি আর কিছুই আমি জানি না। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানান, তারা জোটে নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। জামায়াতে ইসলামী বাদে ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোকে দ্রুতই এ জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের বাইরের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে আনতে শেষ চেষ্টা চালানো হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, তারা আশা করছেন বিকল্পধারার নেতা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী শেষ পর্যন্ত তাদের জোটে আসবেন। ওই নেতা জানান, জোট সম্প্রসারণের এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক, চলতি মাসে ঢাকার বাইরে সিলেট, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম শহরে জনসভা করবে। এর বাইরে বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঢাকাটাইমস