শপথ নিয়ে ধোঁয়াশা ঐক্যফ্রন্টের ৭ সাংসদের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যরা শপথ নিচ্ছেন আজ। তবে, নির্বাচনে জয়ী বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত সদস্য শপথ নেবেন কিনা সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। অন্যদিকে, নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জয় পায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ করেছে ঐক্যফ্রন্ট। পরে গত ৩১ ডিসেম্বর আলাদা বৈঠক করে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও পুন-নির্বাচনের দাবি জানালেও নির্বাচিত সাত সংসদ সদস্য শপথ নিচ্ছেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট করেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
অনিশ্চয়তায় নেতাকর্মীরা বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। নানা বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে দলটি এ নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত গণফোরামের দুইজনসহ মোট সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে তারা। তবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে এরই মধ্যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি আদায়ে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদানসহ কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। তাছাড়া নির্বাচিতদের শপথ না নেওয়ারও আভাস দিয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আগামীতে বিএনপি আসলে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। পরিস্থিতি যাইহোক, নতুন বছরে নতুন কৌশল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। এ নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরাজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। এদিকে বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির প্রার্থীদের ডাকায় ডাকা হয়েছে। এ দিন সকাল ১০টায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। সূত্র মতে, প্রার্থীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ভোটে অনিয়ম-কারচুপির প্রমাণ, প্রতিটি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ভোটের হিসাব, গ্রেপ্তার এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের তালিকা, সহিংসতায় আহত ও নিহতদের তালিকাসহ আটটি বিষয়ে তথ্যসহ একটি প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে। ভোট কারচুপির ভিডিও থাকলে তাও প্রতিবেদনের সঙ্গে দিতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্র মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার দাবি না মানায় ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এরপর থেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামকে কেন্দ্র করে মূলত আওয়ামী লীগ সরকারে রোষানলে পড়ে বিএনপি। দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল দলটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একপর্যায়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতাদের তৎপরতায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ হয়। সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কয়েক দফা সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন আশ্বাসে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মামলা, গ্রেপ্তার-নির্যাতনসহ চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় বিএনপি জোট। তবে ধানের শীষের পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লবের আশায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে ভোটের দিনের চিত্র দেখে চরম হতাশ হন বিএনপি নেতারা। একপর্যায়ে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এদিকে নির্বাচন পরবর্তী অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে সোমবার পর্যায়ক্রমে দলের স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। এসব বৈঠক থেকে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান এবং অন্য কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে এসব কর্মসূচির সফলতা নিয়ে সন্দিহান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একেবারে বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে আমাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে নজিরবিহীনভাবে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ত্রাস-ভীতি সৃষ্টি করে এ নির্বাচনটি করা হয়েছে। এ নির্বাচনকে ভোট ডাকাতি বলা যেতে পারে, এ ভোট ডাকাতির ফলে আমরা এ নির্বাচনের ফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মনে করি, এ কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় অনুষ্ঠিত করতে হবে এবং এটা অনতিবিলম্বে করতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। দাবি আদায়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনও চলবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবশ্যই আমাদের কর্মসূচি থাকবে। ফখরুল বলেন, এ নির্বাচন পূর্ব পরিকল্পনায় হয়েছে। আর ইঞ্জিনিয়ারিংটা করা হয়েছে, ভোটের আগের রাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। এ কারণে জনগণ যে ১০ বছর ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছিল না, সেটা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হলো। ৩০ নভেম্বরের ভোট ও এর ফলের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন দলটির ঢাকা মহানগরের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি বলেন, এ রকম নির্বাচন আমরা আশা করিনি। এ অবস্থায় বিএনপিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করলে তা কতটুকু আদায় হবে অথবা পাঁচ বছর পরও এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা বিএনপিকে জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ দেবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় বিএনপিকে নতুন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরিশাল-৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবর রহমান সরোয়ার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে আজও মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, নির্বাচন কমিশন ঠিক হয়নি- এটা খুবই দুঃখজনক। ৩০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা যেভাবে প্রশাসনিকভাবে ভোট ডাকাতি করল, জাতি তা মনে রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি। নির্বাচন পরবর্তী দলের অবস্থা সম্পর্কে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, এ নির্বাচনে নীতি-নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের বিপর্যয় হয়েছে। এ নির্বাচনে আসলে বিএনপি হারেনি, হেরেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগ তাদের পুরানো চরিত্র যে পাল্টাতে পারেনি তা এ নির্বাচনে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ দল যতদিন থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
ধানের শীষ প্রতীকের ২৫৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জনই
অনলাইন ডেস্ক: ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। এ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনই জামানত হারিয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসেবে ২৫ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসেবে রাখা ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়। নির্বাচনে কোনও আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনও প্রার্থী যদি না পান তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ২৯৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। তারপরই বিএনপির অবস্থান। ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ১৫২ জন। তবে নৌকা প্রতীকের কোনও প্রার্থীই জামানত হারাননি। ২৫৯টি আসন পেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
জামানত হারিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। নির্বাচনে ২ হাজার ৭৭৫ ভোট পান তিনি। কুড়িগ্রামের ৪টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৪০। তাদের মধ্যে জামানত বাতিল হয়েছে ৩২ জনের। সবচেয়ে বেশি ১৬ জন প্রার্থী অংশ নেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভোট প্রদত্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৪টি। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ১০৫টি ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফ-উদ-দৌলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটের আগের দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি ৩৩৩ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান ৫৫ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। অন্যান্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম হাবিব ৭ হাজার ৩১৮ ভোট, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ২ হাজার ৭৭৫ ভোট, এসএম জাহাঙ্গীর আলম ৪২৯ ভোট, আবিদ আলভী জ্যাপ ৩০২ ভোট, আবুল হাশেম ৪১ ভোট, ইউনুছ আলী ৯৩ ভোট, ইমান আলী ৫১৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের আনছার উদ্দিন ৩ হাজার ৫৪১, বাসদের আবুল বাশার মঞ্জু ৫২৭ ভোট, গণতন্ত্রী পার্টির মো. আব্দুস সালাম কালাম ১০৯ ভোট, ওয়াকার্স পার্টির মহিউদ্দিন আহম্মেদ ৫০৬ ভোট, গণফোরামের মাহফুজার রহমান ২৫ ভোট, জাকের পার্টির শাহ আলম ১ হাজার ২৯৩ ভোট পেয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। এর কম পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
জাতীয় পার্টির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আগামীকাল: মসিউর রহমান
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টি এবার সরকারে থাকবে, না বিরোধী দলে থাকবে সে সিদ্ধান্ত আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) পার্টির উচ্চ পর্যায়ের সভায় নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। সোমবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় একথা জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামীকাল সংসদ সদস্য প্রেসিডিয়ান সদস্য নিয়ে আলোচনায় বসবো, আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নিবো আমাদের রাজনীতিটা কোন দিকে যাবে; আমরা সরকারের সাথে থাকবো না বিরোধী দল থাকবো। আরো বলেন, বিরোধী দলই কিন্তু ছায়া সরকার, আমরা যেন ছায়ার সরকার হয়ে থাকতে পারি। আমরা যেন আগামী দিনে সরকারে যেতে পারি। ৯০-৯৬ নব্বই এ যদি ভুল না করতাম আমরা সরকারে যেতে পারতাম। এবারো আমরা ভুল করলাম আগামী ৫ বছর এই ভুলের মাশুল দিতে হবে।
পলাতক অপরাধীদের দেশে এনে দণ্ড কার্যকর করা হবে : হানিফ
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, এবারের সরকারের আমলে আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত যেসব সন্ত্রাসী, খুনি, দুর্নীতিবাজ বিদেশে পলাতক রয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত পাঠ্যপুস্তক উৎসবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হানিফ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, যেসব অপরাধী বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আছে, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বিএনপির ভোট বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, নির্বাচন বাতিলের দাবি অযৌক্তিক, অসাংবিধানিক। জনগণ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার পক্ষে মহাজোটকে ভোট দিয়েছে। বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট কীভাবে ভোট পাওয়ার আশা করে? ক্ষমতায় বা ক্ষমতার বাইরে থাকতে তারা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করেনি। সে কারণেই জনগণ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। এবার তারা (বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট) তাঁর মুক্তির জন্য ভোট চেয়েছে, বলেন হানিফ। নতুন বছরের প্রথম দিনে আজ কুষ্টিয়া জেলার মোট ৩৮১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন বই বিতরণ করেন হানিফ। কুষ্টিয়া গার্লস স্কুল, জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এনটিভি
নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বৃহস্পতিবার: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, বলেন, আগামী ৩ জানুয়ারি সংসদ সদ্যরা শপথ নেবেন। এর আগে গেজেট জারি হবে। সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে সোমবার এ তথ্য জানান ইনু। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে। স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। গত রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ২৮৮টি আসনে (আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কাস পার্টি ৩, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১) বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বিএনপি জোট অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র সাতটি (বিএনপি ৫, গণফোরাম ২) আসন। স্বতন্ত্রসহ অন্যান্যরা জয় পেয়েছেন ৩টি আসনে।
খারাপ আচরণ করবেন না প্রতিপক্ষের সঙ্গে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিজয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে বাড়াবাড়ি করবেন না। রাজনীতির বাকবিতন্ডা মাঠে থাকবে, কারো বাড়ি ঘরে রাজনীতির রেশ নেবেন না। তিনি বলেন, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি আমি পছন্দ করিনা। ঘরোয়াভাবে ধৈর্য্যরে সঙ্গে সংযত হয়ে বিজয় আনন্দ উদযাপন করবেন। কাদের বলেন, রাজনীতি জোয়ার ভাটার মত। এ জোয়ার-ভাটা দেখে উল্লাসিত হবেন না। রাজনীতি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের নয়। সোমবার দুপুরে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাটে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বিজয় হয়েছে। কোন বিজয় উৎসব ও আনন্দ মিছিল না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিষেধ করেছেন। এ বিজয়ের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও অর্জন বয়ে আনবে। মন্ত্রী বলেন, আমি যা ওয়াদা করেছি তা আবারো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। এ এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরি ও বেকার দূরীকরণ করব। আমি এ এলাকায় যে দুটি ওয়াদা করেছি চাকরি ও প্রতিটি ঘরে গ্যাস সংযোগ। তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা আজ থেকে শুরু করব। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না। বাক বিতন্ডায় জড়াবেন না। ধৈর্যের সাথে বিজয় উদযাপন করবেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা বাংলাদেশে যে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো সে গণজোয়ারের সোনালী ফসল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক বিজয়। এ সময় মন্ত্রীর সাথে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মীর্জা, উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান , সহ উপজেলা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর