বিএনপির ৩ নেতার বৈঠক ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপির তিন নেতা। রোববার যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সন্ধা সাড়ে ৬টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ অংশ নেন। সূত্র জানায়, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যেকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে করণীয় বিষয়ে বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। আলোচনায় নেতারা যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা ও নয় লক্ষ্য এবং বিএনপির উত্থাপন করা সাত দফা এবং ১২ লক্ষ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। এর বাইরে সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে করণীয় এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলনের বিষয়সহ নির্বাচনে এসব দলের চাওয়া-পাওয়া নিয়েও আলোচনা করেন বিএনপির তিন নেতা। এ ছাড়া বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেন বিএনপি নেতারা।
জোয়ার আর আসবে না -দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণই: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন ঠেকাতে আন্দোলনের নামে বিএনপি নাশকতার চেষ্টা করলে, জনগণ দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। শনিবার রাজধানীর চকবাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি নেতাদের নীতিহীন আখ্যায়িত করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের আন্দোলনের মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না। আওয়ামী লীগ দেউলিয়া দল নয়। গঠনতন্ত্র সংশোধন করে বিএনপিই দেউলিয়া ও দুর্নীতিবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে দেশ ও গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। বিএনপি নেতারা তাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা ও নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতার ওপর রাজপথে নির্যাতন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর যে মামলা-নির্যাতন করেছিল তা ভুলে যাওয়ার নয়। বিএনপিকে জনগণই প্রতিরোধ করবে- এমন দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন নয়, আবারও বোমা সন্ত্রাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির নাশকতা সহিংসতা কি নির্বাচন ঠেকাতে পারবে? আপনারা প্রতিরোধ করবেন? এইবার জনগণই সমুচিত জবাব দিয়ে দিবে, দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে দিবে।
গায়েবি মামলার চ্যালেঞ্জ করলে সবাই বিপদে পড়বেন: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মামলা ৯০ হাজার ৩৪০টি। আসামি ৩ লাখ ৬৫ হাজার। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই গায়েবি মামলা ৪ হাজার ১৮৯টি। নিহত ১৫ হাজার ১২ জন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত ৭৮২ জন। গুম ১ হাজার ২০৪ জন। ৪২৩ জনের এখনও কোনো খোঁজ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। শনিবার (০৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ভবিষ্যতে এসব গায়েবি মামলার তদন্ত হলে চ্যালেঞ্জ করলে সবাই বিপদে পড়বেন। ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে তারা, যারা গায়েবি মামলা করছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। আলোকিত বাংলাদেশ
দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় উৎফুল্ল আ.লীগ, হতাশ বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী গণসংযোগ। সেখানে নানা শর্ত আর বিভিন্ন ইস্যুতে এখনো গণসংযোগ শুরু করতে না পারায় কিছুটা হতাশ বিএনপির তৃণমূল নেতারা। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, তফসিলের আগেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, নির্বাচনী প্রচারণা নয়, তারা গণসংযোগের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এ মাসের ৩০ তারিখ থেকে শুরু হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। তাই ভোটারদের কাছে গিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারাও। উদ্দেশ্য, গত দশ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, গণসংযোগ নিয়ে কেন্দ্রের এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাদেরকে আগামী নির্বাচনী মাঠে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. এনামুর রহমান বলেন, আমরা ইউনিয়নে দলীয় নেতা-কর্মীদের যাচ্ছি। সেখানে পথসভা ওঠান বৈঠক করেছি। নারায়ণগঞ্জের- ৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড.সেলিনা হোসেন বলেন, মনোনয়ন আমাদের কাছে মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্যগুলো সাফল্যগুলো বজায় রাখা। এবং এলাকায় গিয়ে নৌকার প্রচার করা। নড়াইল-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম আসিফুর রহমান বাপ্পী বলেন, সরকার গত দশ বছরে যে উন্নয়নটা করেছে, সেটি দৃশ্যমান। সেই সঙ্গে সুফলে কথা জনগণের দৌড় গড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করলেও এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে তৃণমুল বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে এখনো নির্বাচনে যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে তারা গণসংযোগে নামতে পারছেন না। যশোর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার টি.এস.আইয়ুব আলী বলেন, গাড়ি সাজিয়ে, নৌকা সাজিয়ে যেভাবে তারা বিচরণ করছে, সেটা আমরা পারছিনা। কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ড থেমে নেই। চেষ্টা করছি, প্রতিনিয়তি না হলেও মাঝে মাঝে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্দোলনেও মাঠে আছি। সেই সাথে বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের চিন্তা করি না। বিএনপির তৃণমুল নেতাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ বলছে, মানুষের কাছে গিয়ে বলার মতো কোন ইতিবাচক দিক না থাকায় বিএনপি গণসংযোগে নামছে না। তবে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগে এভাবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা-তো নিজেদের প্রস্তুতি নিতে চাই। তারা আমাদের হাত-পা বেঁধে নিজেরাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি একবারেই নিষিদ্ধ। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা যাচ্ছেন। সরকারি গাড়ি করে। সরকারের লোকজন নিয়ে। এটাতো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান বলেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রচারণাকে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে না। যদি তারা দেশের আইন শৃঙ্খলা সংবিধান মেনে করে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা করছি না। নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেছি। আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ গণসংযোগের মাধ্যমে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে দলটি।
নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্র শুরু হয় দেশে: হানিফ
অনলাইন ডেস্ক: উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও প্রশংসিত ও সমাদৃত। হানিফ আরও বলেন, বিশ্বনেতারাও বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের জন্য অনুসরণীয় হতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বিচক্ষণতা ও সততার জন্যই দেশের এ অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। মাহবুব-উল-আলম হানিফ আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেটের সামনে আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতার চিত্র তুলে ধরতে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন,গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। জনগণ যাদের পছন্দ করবে, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি বলেন, যারা দেশকে দুর্নীতি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিল, দেশকে জঙ্গিবাদের আখড়ায় পরিণত করেছিল ও এতিমের টাকা চুরি করে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, তারাই আবার আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। হানিফ বলেন, আবার কিছু দলছুট, নীতিহীন ও সুবিধাবাদী নেতা রয়েছে, তারাও নির্বাচন হলে সক্রিয় হয়ে যায়, বিভিন্ন গঠনের নামে দেশে ষড়যন্ত্র শুরু করে। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আনার তৎপরতায় লিপ্ত হয়। তাদের সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হবে। সমাবেশ শেষে হানিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন এবং বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের মতো দেশে যেন কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে জন্যও জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেন।
পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের বড় আশীর্বাদ
অনলাইন ডেস্ক: খয়ের খাঁ পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই বাহিনীটি এখন গায়েবি তথ্যের কারখানায় পরিণত হয়েছে। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় নতুন করে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতার নামে সহিংসতার মামলার প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেপ্তার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর নীরব রাখতে চাইছে। বর্তমানে দেশজুড়ে গোরস্তানের নীরবতা আর কবরের ভেতরের অন্ধকারের শান্তিতে ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল, উল্লসিত। এ সময় বিএনপি নেতা আরও বলেন, পুলিশ বলেছে, মগবাজারে ঘটনা ঘটেছে, অথচ সাংবাদিকরা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ওই এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কোনো তথ্য-প্রমাণ তাঁরা পাননি। তিনি বলেন, এইচ টি ইমামের বক্তব্য ভোটবিহীন নির্বাচনের পূর্বাভাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ২০১৮ সালে এসে বিএনপির ভোট ৩০ শতাংশ আর আওয়ামী লীগের ভোট ৪২ শতাংশ হয়েছে। দেশের এবং জনগণের উন্নয়ন করার কারণে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। এ বিষয়ে সমীক্ষা আছে বলেও দাবি করেন তিনি। এইচ টি ইমামের এই পরিসংখ্যানকে উদ্ভট বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরও বলেন, এহেন অলৌকিক পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের মাথা থেকে আসাটা যৌক্তিক এই কারণে যে, খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য বিব্রতকর অবস্থা কাটাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে মোসাহেবদের ম্যারাথন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গতকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনরা ব্যথিত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাঁ হাত-পা, হাতের আঙুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট ব্যবস্থা করা হয়নি। খালেদা জিয়াকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্যই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবঞ্চিত রাখা হচ্ছে, বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। আলোকিত বাংলাদেশ
ফখরুলসহ ৭ নেতার আগাম জামিন
অনলাইন ডেস্ক: পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ঢাকার হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন জমা না দেয়া পর্যন্ত তাদের এই জামিন দেয়া হয়। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। জামিন পাওয়া অন্য নেতারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এর আগে গত ১ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ। মামলায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানকেও আসামি করা হয়। ইতোমধ্যেই এ মামলায় স্থায়ী কমিটিরি সদস্য মওদুদ আহমদ ও আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলায় পুলিশ বলছে, বিএনপি কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। মামলায় বলা হয়, বিএনপির এসব নেতার এমন বক্তব্যের পর ১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে হাতিরঝিল থানার মগবাজার রেলগেট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেন। পুলিশ জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ না করতে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা পুলিশকেই হত্যার উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। সেখানে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা লাঠি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মারধর শুরু করেন এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। মামলায় আরো বলা হয়, ভাঙচুর করা গাড়িগুলো আত্মরক্ষার্থে দ্রুত চলে যাওয়ায় গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ।
আ-লীগ হয়ে গেলেও আপত্তি নেই: আহমদ শফী
অনলাইন ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী বলেছেন, কেউ কেউ বলছেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গিয়েছি। তারা মিথ্যা কথা বলছেন। তবে আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও কোনও আপত্তি নেই। সোমবার চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রসায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আহমদ শফী বলেন, আমাদের বিরাট উপকার করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি কথা দিয়েছিলেন, কওমি স্বীকৃতি দেবেন। কত জনে কত কথা বলেছেন, সেদিকে লক্ষ্য করেননি; স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি শেখ হাসিনার শুকরিয়া আদায় করছি।’ এসময় তিনি সবাইকে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান। হেফাজতের আমির বলেন, কেউ কেউ বলছেন, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গিয়েছি। মিথ্যা কথা বলছেন। উনি (শেখ হাসিনা) আমাকে মহব্বত করে কওমি স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ হইনি। এটা আপনাদের ভুল ধারণা। কথা বলার সময় সত্য মিথ্যা যাচাই করে বলবেন। তবে আওয়ামী লীগ হয়ে গেলেও কোনও আপত্তি নেই। আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন এমন মানুষ আছেন যারা দ্বীনকে ভালোবাসেন, আমাদের মাদ্রাসায় সাহায্য করেন। আমি ওয়াজ করছি না, শেখ হাসিনার শুকরিয়া আদায় করছি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা বেফাক সভাপতি মাওলানা ছলিমুল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী মহাপরিচালক ও হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, বেফাক মহাপরিচালক মাওলানা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, বেফাক সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষনিউজ
বিএনপির ৭ দফা দাবি দিয়ে কিছু হবে না: নাসিম
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি ঘোষিত ৭ দফা দাবীর জবাবে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসেন, না এলে এসব দফা দিয়ে কিছু হবে না। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কর্মী সম্মেলন ও নির্বাচনী সংলাপ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, জাসদ নেতা নাজমুল হক প্রধান এমপি, ইসলামিক ফ্রন্টের মহাসচিব জয়নুল আবেদীন জুবাইর বক্তব্য রাখেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনে আসুন। যদি নির্বাচন না করেন তাহলে এসব দফা রফা হয়ে যাবে। নির্বাচনে না এলে যত দফাই দেন কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন,এবার আমরা খালি মাঠে গোল দিতে চাই না। খেলে গোল দিতে চাই। দফা একটাই, নির্বাচন হবে। নির্বাচনে এক দফা এক দাবিতে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপির জন্য এবার শেষ সুযোগ। যদি অস্তিত্ব রাখতে হয় তাহলে নির্বাচনে আসুন। জামাতের কথায় নির্বাচনে না এলে অস্তিত্ব থাকবে না, বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাগজে থাকবে বিএনপি কিন্তু অস্তিত্ব থাকবে না।