কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না: ওবায়দুল কাদের
ছাত্রলীগে যেন আর কোন অনুপ্রবেশকারী ডুকতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি অডিটরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ল ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন,বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহা সড়কে নিয়েগেছে বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে আসতে হবে। সুনামের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে অতীতের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগ কোন সিন্ডিকেট দিয়ে চলবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,আমি চাই ত্যাগী যোগ্য নেতৃত্ব। কারো পকেটের কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না। কোন সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। এর বাইরে কোন ভাবনা চিন্তা করার অবকাশ নেই। ছাত্রলীগে যেন আর কোন অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন,আমি নেতৃবৃন্দদের বলবো আপনা আপনাদের পূর্বসূরিদের কথা ভাবুন। নেতা বানিয়ে যাবেন কিন্তু আপনি যখন বিদায় নিবেন তখন নতুনরা আপনাকে কি চোখে দেখবে সেটা একবার ভেবে দেখুন। চিরদিন কারো ক্লাউড থাকে না। চলে গেলে অনেক কিছুই অনেকে ভুলে যায়। টাকা পয়সার কর্মীরা থাকবে না, আদর্শের কর্মীরা থাকবে। যবরদস্তি করে অযোগ্যকে নেতা বানাবেন, দুঃসময় এলে হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাহসী মেধাবী চরিত্রবান নেতা বানান সর্বেস্তরে। তিনি বলেন,অনুপ্রবেশকারী পরগাছা যেন পার্টির নেতৃত্বে আর না আসতে পারে। পরগাছাদের জন্য ছাত্রলীগ কোন সুযোগ দিবে না। সোহাগ জাকিরকে বলবো তোমরা ভালো কিছু করে যাও। ভালো কিছু দিয়ে যাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন
ঢাবি ছাত্রলীগ ইভিনিং কোর্স বন্ধ চায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নৈশ্য বিভাগে কোন ছাত্র যাতে আর না ভর্তি হতে পারে সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ ও সম্মেলনের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন দাবি তুলেন প্রিন্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস আমাদের প্রানের ক্যম্পাস। বাংলাদেশের সকল সফল আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা করেছে। আর আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন,আর এই বহিরাগতদের আনাগোনা বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং কোর্সের মাধ্যমে বহিরাগত বাড়ছে। আমি বলতে চাই অবিলম্বে এই কোর্স বন্ধ করতে হবে, বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
আচরণবিধির লঙ্ঘন গাজীপুরে মন্ত্রী-এমপিদের ভোট চাওয়া
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রী-এমপিরা ভোট চেয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। রিজভী বলেছেন, গাজীপুরের মৌচাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে নির্বাচনী যৌথসভায় সংসদ সদস্য (এমপি) জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করতে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার (২৯ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আসন্ন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত ওই দুই সিটিতে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি সংস্থাটি। বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও দুই সিটিতে ক্ষমতাসীনদের অস্ত্রের ছড়াছড়ি এখনও চলছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগ জমা দিলেও ইসি অন্ধের ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে আরও অবনতি হয়েছে। দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা তার সঙ্গে দেখা করার পর খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন তিনি। রিজভী বলেন, এখনও পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে সরকার প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে এখন নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খালেদার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি আবারও খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের অন্তহীন ষড়যন্ত্র বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপ প্রেস সচিবের ফেসবুক আইডি থেকে নানা মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, প্রচারণা সম্পাদক শহীদ উদ্দিন এ্যানী, সহ-দফতর সম্পাদক মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় স্বার্থের পরাজয়
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দলের বড় বড় নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে দলীয় স্বার্থ পরাজিত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে আওয়ামী লীগের অনুসন্ধান কমিটি।আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এ চিত্র বেরিয়ে এসেছে। পাশাপাশি অধিকাংশ নেতাই দলীয় শৃঙ্খলা না মানায় অন্তঃকোন্দলের চাপ দৃশ্যমান হয়েছে কমিটির কাছে। অনুসন্ধান কমিটির একাধিক নেতার কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৮-১৯ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পদে জয় পান বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। ২০১৭-১৮ সেশনের মেয়াদেও সভাপতি-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন তারা। অন্যদিকে সহ-সম্পাদকসহ চারটি পদে জয় পান সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে দাঁড়ানো অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের চেয়ে ৫৪ ভোট বেশি পান। এর আগের মেয়াদেও সভাপতি নির্বাচিত হন জয়নুল আবেদীন। সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ভোট পান দুই হাজার ৬১৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট এস কে মো. মোরসেদ। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন টানা ষষ্ঠবারের মতো বিজয়ী হন। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয় এবং সারাদেশে দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আরও রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। কমিটি গঠনের পরের দিন অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধনে প্রার্থীদের ডেকে কথা বলেন। পরাজিত প্রার্থীদের কাছ থেকে পরাজয়ের কারণগুলো জেনে নেয় কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজীবুল্লাহ হীরু ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। গত ৭ এপ্রিল দলের আট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করে অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির তথ্য মতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে চারটি বৈঠক করেন তারা। বৈঠকগুলোতে অংশ নেয়া নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হয়। এরই মধ্যে বাংলা নতুন বছর এবং গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের ব্যস্ততায় অনুসন্ধান কমিটির কাজে কিছুটা গতি হারায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধান কমিটির এক সদস্য বলেন,আমাদের দলের ভেতরে অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা মানেন না, সবাই এমপি হতে চান, সবাই মন্ত্রী হতে চান। এসব কারণে তারা নিজের স্বার্থটা দলের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখেন। এ জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। ওই নির্বাচনে দলের অনেক বড় বড় আইনজীবী দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অথবা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। কমিটির সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতা থাকায় সারাদেশেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র ভয়াবহ। নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে দলের ক্ষতি করছেন এসব নেতারা। আরও দু-একটা বৈঠক করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। ওই প্রতিবেদনে জাতীয় নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ এসব দ্বন্দ্বে জড়িতদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কড়া বার্তা দিতে দলীয় প্রধানের কাছে সুপারিশ করবে অনুসন্ধান কমিটি। অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন,আপনি কি মনে করছেন প্রার্থী নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল? এবার যদি আমাকে হারিয়ে দেন তাহলে আগামীতে আপনি সুযোগ পাবেন। অনেক বড় বড় নাম এসেছে যারা দলীয় ফোরামে থাকা সত্ত্বেও তাদের যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল সেটা তো তারা রাখেই নাই বরং নেতিবাচক অনেক কথাবার্তা বলেছেন। আশা করছি শিগগিরই আমরা প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।
ছাত্রলীগের আগামীর নেতৃত্ব ভোট নয়, সিলেকশনেই আসবে
দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব আনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ছাত্রলীগে ভোট প্রক্রিয়া চালু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরামর্শেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত তিনটি সম্মেলনে এভাবেই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলরা এই ভোটে অংশ নেন। তবে যে লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা গত তিনটি কমিটি তা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দলীয় সভাপতিও তেমনটাই মনে করেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনে আবার সিলেকশন পদ্ধতির দিকে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। আসন্ন ২৯তম সম্মেলন থেকেই এটা কার্যকর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় একটি অংশও ভোট বিরোধী। ওই অংশটি গত তিনটি কমিটির কার্যক্রম তুলে ধরে ভোটে নেতা নির্বাচনের নানা কুফল শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরেন। তারা মনে করে, ভোট প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভোটের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নানা কৌশলে ব্যর্থ নেতৃত্ব বের করে আনা হয়েছে। তাই ভোট প্রক্রিয়া আপাতত বাদ দিতে আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পারিবারিকভাবে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, পরিবার থেকেই মুজিব আদর্শে অনুপ্রাণিত, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ এবং শিক্ষিত মার্জিত ছেলে মেয়েদেরকেই নেতা হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এসব যোগ্যতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নয়, এমন কেউ পাওয়া গেলেও নেতা হওয়ার সুযোগ থেকে যাবে। জানা গেছে, ভোট পদ্ধতিতে ব্যর্থ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার ফলে এখন বাধ্য হয়েই ভোট প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা। সংগঠনে গণতন্ত্রের চর্চা করতে ভোট প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও নেতৃত্ব নির্বাচনে গত তিনটি সম্মেলনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় আবারও সিলেকশন পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া আর থাকছে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেকশনে পদ্ধতি এই সংগঠনের নেতা বের করে আনবেন। আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, সর্বশেষ দুটি সম্মেলনে ভোটে নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কলুষিত করা হয়েছে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের বদৌলতে অদক্ষ, অযোগ্য, অসাংগঠনিক, ভিন্ন চিন্তা-চেতনা এবং ভিন্ন আদর্শের ছেলেরা ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচিত হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে নানা দুষ্কর্মের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অনুপ্রবেশের সুযোগটিও ভোট প্রক্রিয়ার ফলে এসেছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে এবার ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন না করার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর তিন জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচন এবার ভোটে হবে না। দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করে প্রস্তবিত নামগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই জন নেতা নির্বাচন করবেন। তাদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব অর্পণ করবেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ কোনও ভূমিকা পালন করতে পারেনি। বরং ছাত্রলীগই এই আন্দোলনে ইন্ধন যুগিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা মনে করেন, দুর্বল নেতৃত্ব থাকার কারণে এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিষয়টি শেখ হাসিনাকে হতাশ করেছে। ওই দুই নেতা আরও বলেন, শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছন ভোটের সুযোগ নিয়ে দুর্বল নেতারা নেতৃত্বে এসেছে। অনুপ্রবেশের সুযোগটিও এসেছে ভোট পদ্ধতিতে। তাই এ পদ্ধতি আপাতত স্থগিত করতে তিনি ইতিমধ্যেই সম্মত হয়েছেন। শেখ হাসিনা এবার ছাত্রলীগের সম্মেলন দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রের অনেক নেতাকে। তাদের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে ছাত্রলীগের এবারের নেতা নির্বাচিত হবে সিলেকশনে। শেখ হাসিনা নিজেই এবার নেতা সিলেকশন করবেন।
আ.লীগের প্রার্থী হিসেবে বরিশালে আলোচনায় যারা
গাজীপুর এবং খুলনায় ভোটযুদ্ধ শুরুর পর অন্য তিন মহানগরী রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটেও উঠতে শুরু করেছে ভোটের আলোচনা। সেখানে কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন, প্রথমে ভোট হতে যাওয়া দুই মহানগরের মতো এখানেও প্রার্থী বদল হয় কি না, এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যেই কিছু নাম সামনে এসেছে। আগামী ঈদ উল ফিতরের পরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। যে কারণে বেশ খোশ আমেজে রয়েছে বরিশালের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বেশ দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে দুই শক্ত প্রার্থীর মধ্যে। ২০০৮ সালে মহানগরে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হীরন জিতেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নগরে এই প্রথম এই দলটির প্রার্থী জয়ী হয়। আর মেয়র থাকাকালে পাঁচ বছরে শহরের চেহারাই অনেকটা পাল্টে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৩ সালে হীরন হেরে যান বিএনপির আহসান হাবীব কামালের কাছে। ওই নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হীরন। কিন্তু ওই বছরের ৯ এপ্রিল তিনি মারা যান। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত মহানগরে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্তিশালী করতে হীরনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এখনও তার বিকল্প হিসেবে এককভাবে কারও নাম সামনে আসেনি। ফলে সিটি নির্বাচনে দল কাকে বেছে নেয়, সেটা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে যেমন আলোচনা আছে, তেমনি বিরোধী পক্ষেরও আছে দৃষ্টি। কারণ, প্রার্থী যেই হোক, তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন, এটা নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বরিশাল আওয়ামী লীগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। জাহিদ ফারুক শামীম বরিশালে তেমন সক্রিয় না হলেও তিনি বেশ কয়েকবার বরিশাল সদর আসন থেকে থেকে নির্বাচন করেছেন। দলের কেন্দ্রে তার অবস্থানও ভালো। তবে নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যেই সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষ নিয়েছেন। আবার নিজ দলে সাদিক আবদুল্লাহর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া নেতাও আছেন। তারা চাইছেন অন্য কাউকে প্রার্থী করা হোক। তাহলে হারানো করপোরেশনের আবার দখল নেয়া যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতা বলেন,একাধিক কারণে আমরা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদে দেখতে চাই না। তবে এটা বলব না যে তার যোগ্যতায় ঘাটতি আছে। সে চেষ্টা করছে মানুষের কাছে যাওয়ার। কিন্তু বরিশাল নগর পিতার পদের জন্য আরো সিনিয়রিটি (জ্যেষ্ঠতা) দরকার। তা না হলে আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যাবে। কেননা এখনই অনেকে পেছনে বসে নানা আলোচনা করছে। দেখা যাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই সাদিক আব্দুল্লাহকে ভোট দেবে না। তাতে সর্বোপরি সাদিক আব্দুল্লাহর নয়, ক্ষতি হবে আওয়ামী লীগের। একইভাবে জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়েও আছে অসন্তোষ। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা হলেও নগরে তিনি সক্রিয় না থাকা একটি সমস্যা। মহানগর আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন,তিনি (জাহিদ ফারুক শামীম) আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তাকে মাঝে মধ্যে দেখা যায়। তিনি এখন নিজের প্রচারণা চালাচ্ছেন কিছু ছেলে দিয়ে। আর রাস্তায় রাস্তায় করাচ্ছেন পোস্টারিং। আমরা বরিশাল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত যোগ্য ও ত্যাগী একজন নেতাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রশ্নে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, আমরা চাই আওয়ামী লীগের জন্য যারা কাজ করে তারাই নির্বাচনে প্রার্থিতা পাক। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানিয়েছি যাতে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষকে আর ভাবতে হবে না। জাহিদ ফারুক শামীমের বেশ কয়েকজন অনুসারীর কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তারা এই মুহূর্তে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন। অন্য যারা আগ্রহী সাদিক এবং জাহিদ ছাড়াও ভোটের লড়াইয়ে আগ্রহী ২০১৩ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া যুবলীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুনও। তিনি প্রকাশ্যে তার ইচ্ছার কথা বলে যাচ্ছেন। আলোচনায় আছেন প্রয়াত নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে খোকন সেরনিয়াবাতও।
পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন তারেক রহমান,সারেন্ডার করেননি: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, কিন্তু সারেন্ডার করেননি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন। এ কথাটি আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে। রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন, সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় বিএনপির মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই- আপনি কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? আপনার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? রিজভীর অভিযোগ, সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে ব্যর্থ হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছে। কিন্তু শাহরিয়ার আলম দেশের মানুষের সমালোচনার মুখে নিজের ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করেন এ বিএনপি নেতা। সংবাদ সম্মেলনে বুধবার গ্রেফতার বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলের মুক্তি দাবি করা হয়।
বাকশাল চালুর ইঙ্গিত হানিফের বক্তব্যে: রিজভী
শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, তার এই বক্তব্য গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন? রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিভাবে ছিলেন? তার ছোট বোন শেখ রেহানা কিভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করেছিলেন? জাতির সামনে এর জবাব দেয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সরকারি ষড়যন্ত্রের যেন শেষ নেই। তারেক রহমানকে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচনার মুখে তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সকল ডকুমেন্টস সরিয়ে নিয়ে এখন বলছেন, তার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে। মূলত প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে তিনি সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান ব্রিটেনের আইন মোতাবেক সেখানে বসবাস করছেন যা দলের পক্ষ থেকে বার বার উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও তদ্বির করে ব্যর্থ হয়ে তার কেবিনেটের প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করাচ্ছেন। দেশের মানুষের সমালোচনা ও প্রত্যাখানের মুখে শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক থেকে উপস্থাপিত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। বিনা ভোটের সরকারকে সবসময় জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েই চলতে হয়। আমি পরিষ্কার ভাষায় আবারো বলতে চাই- তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে শত শত দেশের নাগরিকরা যেভাবে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে অবস্থান করেন সেভাবেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের হোম ডিপার্টমেন্টে পলিটিক্যাল এসাইমেন্টের জন্য তার পাসপোর্টটি জমা দিয়েছেন, সারেন্ডার করেননি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছেন, ততদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে, শেখ হাসিনা ততদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। ২০১৮ সাল নয়, ২০২৪ সালে নয়, ২০২৯ সালের পরে তাদের ক্ষমতায় আসার জন্য ভাবনা করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারেরই যথার্থ প্রতিধ্বনি। এই বক্তব্যে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা যে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহি:প্রকাশ। তিনি বলেন, দেশজুড়ে বেকারত্ব, রাজনৈতিক মতপ্রকাশে স্বাধীনতাহরণ, লুটপাট ও দমননীতির বেপরোয়া উত্থানকে আরো দীর্ঘায়িত করা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনী কারাবাসে আটকে রেখে তাকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর করার এক ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের যে অংশ, তা হানিফ সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন মনকে অন্যদিকে নিবদ্ধ করার জন্যই সরকারের নানা কারসাজির মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্ভট, ভুয়া ও হাস্যকর প্রশ্ন তোলা আরেকটি কারসাজি। তিনি বলেন, হানিফ সাহেবের বক্তব্যে কী প্রমাণ হলো আপনারা সদলবলে ভারতে গিয়েছিলেন কী ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করতে? বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার জেনে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০/২২টির বেশি আসন পাবে না। তাই একতরফা নির্বাচনের পক্ষে নাক গলাতে তারা দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে। দেশকে গণতন্ত্রহীন করে আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হানিফ সাহেবের বক্তব্যে জাতির সামনে ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসলো, গণতন্ত্র বিধ্বংসী আওয়ামী লীগের পকিল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। কিন্তু জনগণ এবার আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। রিজভী বলেন, গতকাল বগুড়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদা লালুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণের এক পর্যায়ে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জুয়েলকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।