রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
জাপার নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদ থেকে আবারও আউট হলেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সোমবার সকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চিঠি পেয়েছেন জাপার নতুন এই মহাসচিব। এর আগ পর্যন্ত দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এরশাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, আপনাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি আপনি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে-যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা টানাপোড়েনের কারণে বর্তমান মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পরিবর্তে রাঙ্গাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সোমবার আপিল করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। নিজের মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিলের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। ইমরান এইচ সরকার বলেন, প্রার্থিতা বহালে আপিল করতে নির্বাচন কমিশনে এসেছি। আশা করি, কমিশন এটা বিবেচনা করবে। তিনি দাবি করেন, নগণ্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমারসহ অন্যদের মনোনয়ন বাতিলে যেসব কারণ দেখানো হয়েছে, তাতে করে দেশে কোনো বৈধ প্রার্থীই থাকার কথা নয়। গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন,আমার সমর্থকদের নামের সিরিয়াল একটু এদিক-সেদিক হয়েছে। এতেই অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়া হলো। আমার বাড়তি ৫০০ সমর্থন ছিল। তারা সেটি নেননি। এক শতাংশের তালিকা ঠিক ছিল। হয়তো সিরিয়াল এদিক-সেদিক ছিল। এরপর আমি বলেছি, এটা ঠিক করে দেই। কিন্তু, রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার আবেদন রাখেননি। কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ইমরান এইচ সরকার। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা সংশ্লিষ্টদের সামান্য ভুলে মনোনয়নপত্র বাতিল না করার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরও এমন অভিযোগ আসল। একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংক্ষুব্ধরা সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে ইসিতে অভিযোগ করতে পারবেন। পরে তাদের আবেদনের উপর ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে।
আওয়ামী লীগ একতরফা অবস্থা সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না : কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেপেশে খেলা বা ফাঁকা মাঠে গোল করার কোনো পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন বাতিলের যে ঘটনা ঘটেছে, এটা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের কারণেই হয়েছে। এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। গতকাল রোববার সারা দেশে একযোগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও জোটের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী লড়াইয়ের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন। মনোনয়ন বাতিলের এবার রেকর্ড হয়েছে। অতীতে আর কখনই এত বেশি সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, সারা দেশের ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। সারা দেশে যে সংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাতে দেখা গেছে বেশিরভাগই বিএনপির মনোনয়নপত্র। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, সরকারের বিজয়ের পথ সুগম করতেই ২০ দলীয় জোটের ৮০ প্রার্থীকে আজ মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। অবশ্য যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করবে ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর। আজ সোমবার সকালে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো অবস্থাতেই আমরা একতরফা কোনো অবস্থা সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না। এটা একপেশে খেলা হোক, এটা একপেশে ম্যাচ হোক- এটা আমরা চাই না। গণতন্ত্র হচ্ছে দুই চাকার বাইসাইকেল- এমনটা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটা চাকার অপজিশন আরেকটা চাকা। এখানে কে অপজিশন হবে সেটা গণমানুষ ঠিক করবে। কিন্তু এখানে অন্যদের ঠেকিয়ে, আটকে রেখে আমরা একা নির্বাচন করব, ফাঁকা মাঠে গোল দেব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোটেই এ ধরনের ইচ্ছে পোষণ করেন না। এটা আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে, দেশবাসী, জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই। আমাদের তো এই দেশেই থাকতে হবে। জনগণের মাঝেই থাকতে হবে। আজকে একটা কথা বললাম রাজনীতিবিদ হিসেবে, একটা রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে, এই কথার যদি ২৫-২৬ দিন পরে ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে মানুষ তো এটা মনে রাখবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, কাজেই ফাঁকা বুলি, ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। যা সত্য তাই বলছি, আমরা একটা ক্রেডিবল ইলেকশন করতে চাই, একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আমরা কতে চাই। কারণ, গত নির্বাচনে বিএনপি অনুপস্থিত থেকে একটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে, আপাতদৃষ্টিতে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য, এই পার্লামেন্টের সদস্যই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবের হোসেন চৌধুরী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশে-বিদেশে সবার দৃষ্টি রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এই নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হোক সেটা আমরা চাই না, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।
আজ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিল হওয়া ৭৮৬ জনের আপিল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার যাচাই-বাছাই শেষে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, সারা দেশের ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করবে ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর। এ ছাড়া যাদের আবেদন বৈধ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনে প্রমাণসহ আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনে তার শুনানিতে আইনজীবীর বক্তব্য প্রদানেরও সুযোগ দেবে। সারা দেশে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ৩৫টি আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। ২৬৫টি আসনে এক বা একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সর্বোচ্চ বাতিল হয়েছে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে। এখানে ১৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জমা পড়েছিল ২৩টি মনোনয়নপত্র। যেসব আসনে ছয়টির বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল ঢাকা-১৭ আসনে ২৭টির মধ্যে ১১টি বাতিল হয়েছে। ফরিদপুর-৪ আসনে ১৪টির মধ্যে ১০টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ২৭টির মধ্যে ১১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ১৬টির মধ্যে ১০টি ও কুমিল্লা-৩ আসনে ২৭টির মধ্যে ১০টি বাতিল হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনে ১৪টির মধ্যে ৭টি, রাজশাহী-১ আসনে ১২টির মধ্যে ৮টি, যশোর-২ আসনে ১৫টির মধ্যে ৭টি, ময়মনসিংহ-৩ আসনে ১৭টির মধ্যে ১০টি, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ১০টির মধ্যে ৭টি ও ঢাকা-৮ আসনে ২২টির মধ্যে ৭টি বাতিল হয়েছে। যে ৩৫টি আসনে কারো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, জয়পুরহাট-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, নওগাঁ-২, নাটোর-৩, পাবনা-২ ও ৪, কুষ্টিয়া-৩, বাগেরহাট-৩, খুলনা-১, ৩, ৪, ৫, সাতক্ষীরা-৩, পটুয়াখালী-৪, ভোলা-৩, বরিশাল-৪ ও ৫, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-২, ৫, জামালপুর-২, নেত্রকোনা-৩, ঢাকা-১২ ও ১৩, নরসিংদী-৪, গোপালগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৪, কুমিল্লা-৭, চাঁদপুর-৩, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫, লক্ষ্মীপুর-৩ এবং কক্সবাজার-১। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত পুনঃতফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে ২৬৪ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ২৮১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অন্যদিকে ২৯৫ আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন এবং ২১০ আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এ ছাড়া ৪৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিএনপি অধিকাংশ আসনেই একের অধিক প্রার্থী দেয়। আওয়ামী লীগ ১৭ আসনে এবং জাতীয় পার্টি ২৩ আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ ৭৮৬ প্রার্থী, ২০ দলের ৮০
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ে গেছেন প্রতি চারজন প্রার্থীর একজন। বাদ পড়ে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি এবং তার ২০ দলীয় জোটের অন্তত ৮০ জন প্রার্থী আছেন। শুরুতে বিএনপিতে শঙ্কা ছিল মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং দণ্ড নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন খেলাপি ঋণের কারণে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের পদ না ছাড়া বা ছাড়লেও পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় বাতিল হয়েছে একাধিক নেতার মনোনয়ন। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়েছেন অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায়। একটি জেলায় একজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন মনোনয়নপত্রে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই না মেলায়। এবার ২৯৫টি আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যদিও বিএনপি মনোনয়নের চিঠি দিয়েছিল আট শতাধিক নেতাকে। এসব আসনের মধ্যে আড়াইশরও বেশি আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ছিল। আইনি জটিলতায় কেউ বাদ পড়ে যেতে পারেন, এই আশঙ্কা থেকেই বিকল্প রাখা হয় এসব আসনে। তারপরও সব মিলিয়ে পাঁচটি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে এখন ২৯০টি আসনে প্রার্থী আছে তাদের। অবশ্য বাদ পড়ে যাওয়া প্রার্থীদের পক্ষে এখনো সুযোগ আছে। বুধবার পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। সেখানেও সন্তুষ্ট না হলে যেতে পারবেন উচ্চ আদালতে। যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান ও মীর নাছির হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলটির চারজন বর্তমান সংসদ সদস্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী, তৃণমূল বিএনপির নাজমুল হুদাও। গণফোরামে যোগ দেয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ আ স ম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নও বাতিল হয়েছে খেলাপি ঋণের কারণে। তিনি ক্রেডিট কার্ডের খেলাপি। দলটির আরও বেশ কয়েকজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে একই কারণে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সবা প্রার্থীই বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো বহু নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাদের সিংহভাগই স্বতন্ত্র এবং তারা বাদ হয়েছেন মূলত একটি কারণে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের সই জমা দিতে হয় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। কিন্তু প্রায় সবার ক্ষেত্রেই জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। গতকাল দিনভর যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন,জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে দুই হাজার ২৭৯টি। এবার নির্বাচনে লড়াই করতে ৩০০ আসনে তিন হাজার ৫৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। এদের মধ্যে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন দুই ২৭৯ জন। বাদ পড়াদের মধ্যে কোন দলের কতজন তা জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তবে ২০ দলের নেতা অলি আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের জোটের ৮০ জনই বাদ পড়েছেন। দণ্ড ও মামলা জটিলতায় বাদ যারা দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- পাওয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল শুরু থেকেই। তারপরও ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে তার নামে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। কিন্তু দ- স্থগিত করাতে না পারায় বাতিল হয়েছে তিনটি মনোনয়নপত্রই। ঢাকা-২ আসনে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের কারণে। তবে এই আসনে তার ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ আসনে সাবেক মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মামলার কারণে। রাজশাহী-১ আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মামলা-সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি না থাকায়। এই আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। এখানে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী আভা হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়েছে। রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ১০টি মামলার তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপি হওয়ায়। নাটোর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাশকতা ও ঋণখেলাপির মামলায় সাজা হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখানে বিএনপি নেতার স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ছবি। সাজা হওয়ায় খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সিংহভাগই বাদ খেলাপি ঋণের কারণে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম-১ আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনে গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ আসনে কারাবন্দি আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী, টাঙ্গাইল-১ আসনে মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-৬ আসনে নূর মোহাম্মাদ খান, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনে নাসিমা আক্তার কল্পনা, ঢাকা-৯ আসনে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১৯ আসনের কফিল উদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সুলতানা আহমেদ, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আখতারুজ্জামান রঞ্জন, ফেনী-৩ আসনের আবদুল লতিফ জনি, ভোলা-১ আসনে গোলাম নবী আলমগীর, শেরপুর-১ আসনে হযরত আলী, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আবদুল খালেক। টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনে বিএনপির শরিক ঐক্যফ্রন্টের শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী, হবিগঞ্জ-১ আসনে গণফোরামের রেজা কিবরিয়া এবং ঢাকা-১০ আসনে গণফোরামের খন্দকার ফরিদুল আলমের প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে খেলাপি ঋণের কারণে। খুলনা-৬ আসনে বিএনপির শফিকুল আলম মনার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপির জামিনদার হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে এম মোরশেদ খানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায়। শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির নাছির উদ্দিন কালুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৩০ বছর ধরে টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায়। অসম্পূর্ণ আবেদন পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মওলা রনির প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে হলফনামায় সই না করায়। কুমিল্লা-৩ আসনে কে এম মজিবুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে আয়কর সনদ না থাকায়। মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষরে অমিল পাওয়ায়। ময়মনসিংহ-৮ আসনে রুহুল আমিনের দলীয় কাগজ ছিল না মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। শেরপুর-১ আসনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ফজলুল কাদেরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দলীয় মনোনয়নের চিঠি সংযুক্ত না করায়। পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নের কারণে। একই কারণে বাদ পড়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এস এম জিলানী। নওগাঁ-৫ আসনে নজমুল হক সনি বাদ পড়েছেন মনোনয়নপত্রে ভুল ও অসম্পূর্ণ থাকায়। দিনাজপুর-১ আসনের মোহাম্মদ হানিফ বাদ পড়েছেন আয়করের কাগজপত্র না দেয়ায়। স্থানীয় সরকারের পদ-সংক্রান্ত জটিলতা ঢাকা-১ আসনে বিএনপির আবু আশফাক এবং ফাহিমা হোসেন জুবলীর মনোনয়ন বাতিলের কারণ স্থানীয় সরকারে তাদের পদ। নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে আবু আশফাক পদত্যাগ করলেও নির্বাচন কমিশন বলছে, পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। অন্যদিকে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ না ছেড়েই মনোনয়নপত্র জমা দেন ফাহিমা হোসেন জুবলী। এই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলার চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে তোজাম্মেল হক (দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান), মানিকগঞ্জ-৩ আসনে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তারা বাদ পড়েছেন। জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বাদ পড়ে গেছেন সরিষাবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে যথাযথভাবে পদত্যাগ না করায়। ময়মনসিংহ-১ আসনের আবুল বাশার আকন্দের মনোনয়নও একই কারণে বাতিল হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ না ছেড়েই ময়মনসিংহ-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন আহাম্মেদ তাইয়েবুর রহমান হিরন, ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ ওয়ালিদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনের জয়নাল আবেদীন, দিনাজপুর-১ আসনে মামুনুর রশিদ চৌধুরী। পঞ্চগড়-১ আসনের তৌহিদুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব না ছেড়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায়। লালমনিরহাট-২ আসনের জাহাঙ্গীর আলম বাদ পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ না ছাড়ায়। দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বাদ পড়েছেন পৌর মেয়রের দায়িত্ব না ছাড়ায়।
সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদার তিন মনোনয়নপত্রই বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় জমা দেয়া তিনটি আসনেই বাতিল হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা। এর মধ্যে একটি আসনে বিএনপির কোনো বৈধ প্রার্থী নেই। বাকিগুলোতে দলের বিকল্প প্রার্থী আছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের জন্য জমা দেয়া মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হয় গতকাল। জমা পড়া তিন হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করে বাতিল হয় কয়েকশ প্রার্থী যাদের সিংহভাগই স্বতন্ত্র। আর দলীয় হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে বিএনপির। বিএনপির যারা বাদ পড়েছেন তারা মূলত ঋণখেলাপি এবং দুই বছরের বেশি সাজার কারণে বাদ পড়ে গেছেন। এদেরই একজন খালেদা জিয়া। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সাজা হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। খালেদা জিয়া দণ্ড হওয়া দুই মামলাতে আপিল করেছেন। তবে দলের পাঁচ জন দণ্ডিত নেতা তাদের সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর বিএনপি নেত্রীর ভোটে আসার পথ এক অর্থে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়া আরেক নেত্রী দণ্ড স্থগিত করতে পারলেও পরে আপিলে আটকে যান তিনি। ফলে দণ্ডিতদের ভোটে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে জানিয়ছে, কেউ দণ্ড স্থগিত করতে না পারলে তার মনোনয়নপত্র যেন গ্রহণ করা না হয়। ফেনী-১ সকালে প্রথম দফায় ফেনী-১ আসনে বিএনপি নেত্রীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তার মনোনয়নপত্রের সব কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলেও বিভিন্ন সংস্থার কাছে কোনো আপত্তি আছে কি না জানতে চান রিটানির্ং কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলায় ১৭ বছর সাজার কথা জানানো হয়। তখন রিটার্নিং কর্মকর্তা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৭২ এর ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,খালেদা জিয়া দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। পুলিশের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট ১৩ জন। এদের মধ্যে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০ জনের প্রার্থিতা। খালেদা জিয়ার ছাড়াও বাতিল হয়েছে দলের আরেক নেতা ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদারের মনোনয়ন। তিনি ধানের শীষে ভোট করতে চাইলেও দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। তবে আসনটিতে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মজনুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জোটের শরিক জাসদের শিরীন আখতারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে। তিনি নৌকা প্রতীকে লড়বেন। বগুড়ায় বাতিল হওয়া দুই আসনের একটিতে বিএনপির বৈধ প্রার্থী নেই দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। এর মধ্যে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপিতে দুই জন বিকল্প প্রার্থী আছেন। এরা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এই আসনে মোট ১১ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে বাদ পড়ে যায় তিনটি। বিএনপি নেত্রী ছাড়া অন্য দুই জন হলেন দলের বিকল্প প্রার্থী এ কে এম মাহবুবুর রহমান এবং জাকের পার্টির ফয়সাল বিন শফিক। মাহবুবুরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় তিনি পৌর মেয়রের দায়িত্ব না ছেড়ে প্রার্থিতা জমা দেয়ায়। অন্যদিকে জাকের পার্টির নেতার মনোনয়ন বাতিল হয় খেলাপি ঋণের কারণে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। ক্ষমতাসীনদের সমর্থনে সেখানে ভোটে লড়বেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন এবং সরকার বাদলের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। ফলে সেখানে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকল না। মোরশেদ মিল্টন ভোটে দাঁড়াতে গত ২৮ নভেম্বর গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন মিল্টন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহাম্মদ জানান, তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে মিল্টন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। অন্যদিকে সরকার বাদল শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ না ছেড়েই প্রার্থিতা জমা দেন। আবার তার দলীয় প্রত্যয়নও ছিল না। এই আসনে মোট ১৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে বাতিল হয়ে যায় সাতটি। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জাতীয় পার্টিও আলতাফ আলী এবারও এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে ভোট করবেন। আওয়ামী লীগের মোস্তফা আলম নান্নু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: ঋণ খেলাপি হওয়ায় পটুয়াখালী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নি অফিসার। তিনি মহাজোটের হয়ে এই আসনে লড়তে চেয়েছিলেন। রবিবার বিকাল ৪টায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ঢাকার গুলশান শাখায় রুহুল আমিন হাওলাদার ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী-১ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নির্ধারিত থাকলেও রুহুল আমিন হাওলাদারের আইনজীবী বিকাল ৪টায় বাছাইয়ের আবেদন জানান। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিকাল ৪টায় এই আসনের মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিল ইমরানের
অনলাইন ডেস্ক: গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রোববার (২ ডিসেম্বর) বাতিল করেছে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্রসহ ৫৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে ১০ জন, কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে ১৫ জন, কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে ৯ জন এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে ২৩ প্রার্থী ছিলেন। এ সব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাইয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বিএনপি সমর্থিত আব্দুল খালেকসহ ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটারের স্বাক্ষরের ক্রমিক নম্বর ভুলের কথা বলে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এখন তিনি মনোনয়নপত্র বৈধতার জন্য নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, তথ্যগত ত্রুটির কারণে এ সব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সব প্রার্থী বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ মনোনয়ন জমা দেয়া বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার বেলা তিনটার দিকে বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের তথ্য জানান। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। নির্বাচনে বিএনপি প্রধান অযোগ্য হলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আরও তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদল, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিল্টন। মনোননয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা চারজনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন। এর আগে ফেনী-১ ও বগুড়া-৬ আসনেও খালেদার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও খালেদার পক্ষে গত বুধবার মনোনয়ন জমা দিয়েছিল দলটির নেতারা। তবে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত কারও পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে উচ্চ আদালত এক আদেশ দেয়। আদালতের এমন আদেশে খালেদা জিয়ার ভোটে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেজন্য খালেদার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।

রাজনীতি পাতার আরো খবর