জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলি চায় ২০ দলীয় জোট: অলি আহমেদ
অনলাইন ডেস্ক: পক্ষপাতদুষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বদলির দাবি জানিয়েছে ২০ দলীয় জোট। একইসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের পিএস ও এপিএসদের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ না দেয়ারও দাবি জানানো হয়। রোববার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান, ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপির) চেয়ারম্যান ও জোটের অন্যতম নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, ইসি আমাদের ১৩ দফা দাবি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের শাস্তি চাই না, বদলি চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে এক জেলার কর্মকর্তাদের অন্য জেলায় বদলি করা জরুরি। এখনও সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। ইসির নির্দেশনার মাঠ পর্যায়ে কোনো প্রতিফলন নেই। কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, এখনও সারাদেশে গায়েবি মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এসব মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না থাকায়, নির্বাচনের আগে পুলিশ বিএনপির এজেন্টদের এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবে। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব মামলা স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছি। তিনি বলেন, আজকের দিন পর্যন্ত ইসি প্রমাণ করতে পারেননি তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন। তাদের সীমাবন্ধতা আছে সেটা আমরা জানি, তবে আমরা যে ১৩টি প্রস্তাব এনেছি তাতে ইসি একমত হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের দাবি সম্বলিত চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তালিকা দেয়া হয়েছিল। তাদের নির্বাচনকালীন সময়ে অন্যত্র বদলির দাবি জানানো হয়েছিল। ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দলও মনে করে এগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য অতীতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইসির নির্দেশনা সত্ত্বেও সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। কমিশনকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকা বাঞ্ছনীয় বলেও মনে করে বিশ দলীয় জোট। বেসরকারি গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইসির তরফ থেকে একটি গাইড লাইন করা প্রয়োজন। ১৫ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা প্রয়োজন। এসময় আরও উপিস্থত ছিলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়ম মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।
অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে হবে সিইসির জায়গায়,অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা: ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ মন্তব্য করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে রোববার ড. কামাল হোসেন এ দাবি করেন। এদিন আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক জেনারেল (অব.) আবছা আমিন এবং একুশে টেলিভিশনের সাবেক মালিক আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিরপেক্ষ হচ্ছে না। তাই তার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক। আর তা না হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব। ড. কামাল বলেন,যারা আদিষ্ট হয়ে কাজ করে তারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গণফোরাম সভাপতি বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। এ জন্য চারদিকে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকবে। রাষ্ট্রের মালিক ভেবে জনগণকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও সরকার নানা অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। বিনা কারণে, বিনা অপরাধে গ্রেফতার, অন্তরীণ চলছে। ড. কামাল বলেন, আমরা সুশাসন চাই, গণতন্ত্র চাই। সুষ্ঠুভাবে জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে সেই পদক্ষেপ সরকারকে নিতে হবে। পুলিশ এক্ষেত্রে সুন্দর ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা যদি নিজেদের সরকারের বাহিনী না ভেবে রাষ্ট্রের বাহিনী মনে করে তাহলেই তা সম্ভব। তিনি আরও বলেন,এতদিন যা হয়েছে আমরা তা মেনে নিয়েছি। এখন থেকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সরকারকে নিতে হবে। তা না হলে আমরা কঠিন পদক্ষেপ নেব।
নবম সংসদ নির্বাচনে ৭০ আসনে ধানের শীষ চান নারীরা
অনলাইন ডেস্ক: নবম সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি থেকে ১৩ আসনে ১১ জন নারী সরাসরি নির্বাচন করেছিলেন। এবার দলের আরও বেশি সংখ্যক নারীনেত্রী নামতে চাইছেন ভোটের লড়াইয়ে। সারা দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনেই ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান নারীরা। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ সাবেক ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেত্রী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আগ্রহীদের মধ্যে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের স্ত্রী, কন্যাদের সংখ্যাও কম নয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন, ভোটে লড়ার যোগ্যতা তাদের আছে। দলের বিপদে মাঠে ছিলেন। নেতাকর্মীদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। যে কারণে তারা এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে কেউ কেউ ভবিষ্যতের নির্বাচনের কথা ভেবে এবার মনোনয়ন চেয়েছেন। ২০২০ সালের মধ্যে দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের প্রতিশ্রুতি আছে রাজনৈতিক দলগুলোর। নইলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে। তবে সেই কোটা এখনো পূরণ হয়নি। আর নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মনে করছেন, তাদের প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিএনপি এই শর্ত পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতিবারই একাধিক আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। দুর্নীতির দুই মামলায় তিনি কারাগারে থাকলেও তার পক্ষে বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবারও এই আসন থেকে মনোনয়ন চান। ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষ চাইছেন দলের স্বনির্ভর সম্পাদক ও নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী শিরিন সুলতানা। ঢাকা-১৩ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হেলেন জেরিন খান। ২০০৮ সালে তিনি মাদারীপুর-২ আসনে ধানের শীষ নিয়ে ভোটে লড়েছিলেন। হেলেন জেরিন ঢাকা টাইমসকে বলেন,আমাদের মধ্যে অনেক নেত্রী আছেন, যারা পুরুষ নেতাদের থেকেও যোগ্যতাসম্পন্ন। আশা করি, মনোনয়ন পেলে ভালো করব। আমি ৩২ বছর ধরে টানা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের বিপদে লুকিয়ে থাকি নাই কখনো। বান্দরবান থেকে মা ম্যা চিং দলীয় মনোনয়ন চান। সংস্কারপন্থী থেকে দলে ফেরা ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ঝালকাঠি-২ আসনে লড়তে চান। তিনি ওই আসনে জিতেছেন দুবার। জামালপুর-১ আসনে শাহিদা আক্তার রিতা ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রয়াত নাসিরউদ্দীন আহমেদ পিন্টুর বোন ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি মনোনয়ন চেয়েছেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, নীলফামারী-৪ আসনে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে কনক চাঁপা ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান। নাটোর-১ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। সিলেট-১ আসনে নুরুন্নাহার বেগম, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী চেয়েছেন মনোনয়ন। মৌলভীবাজার-৩ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য খালেদা রব্বানী, বরিশাল-৪ ও ৫ আসনে চেয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। বিলকিস জাহান বলেন,সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে নারীরা সক্রিয় হয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। আমরা আশা করি, সবকিছু বিবেচনা করে আমরা যারা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের মনোনয়ন দেবে। বরিশাল সদর আসনে ছাত্রদলের নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, ঝালকাঠি-১ আসনে মমতাজ বেগম, ময়মনসিংহ-১১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নূরজাহান ইয়াছমিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম-২ আসনে মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী নুরে আরা সাফা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, চট্টগ্রাম-৬ আসনে ফরিদা আকতার, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বেগম ফাতেমা বাদশা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু চেয়েছেন মনোনয়ন। নেত্রকোনা-২ আসনে আরিফা জেসমিন নাহিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মিনারা বেগম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নায়লা আক্তার ও মুসেনা আক্তার, নীলফামারী-৪ আসনে বিলকিস ইসলাম, নেত্রকোনা-৫ আসনে বেগম রাবেয়া আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে সিমকী ইমাম খান, ফেনী-২ আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনী-৩ আসনে শাহানা আক্তার শানু চেয়েছে মনোনয়ন। বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মানী, চাঁদপুর-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, ময়মনসিংহ-৩ আসনে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তানজীন চৌধুরী লিলি, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা গিয়াস, জামালপুর-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, হবিগঞ্জ-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, কুষ্টিয়া-২ আসনে ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে ফরিদা মনি, রাজশাহী-৫ আসনে মাহবুবা হাবিবা, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আহমেদ খান চাইছেন ধানের শীষ। ফরিদপুর-৪ আসনে শাহরিয়া ইসলাম শায়লা, গাজীপুর-৩ আসনে ফরিদা ইয়াসমিন স্বপ্না, বাগেরহাট-১ আসনে রুনা গাজী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম হোসেনের মেয়ে মমতাজ হোসেন লিপি, ময়মনসিংহ-৪ আসনে মহিলা দলের নেত্রী মির্জা ফারজানা রহমান হোসনা, শরীয়তপুর-৩ আসনে জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী আল আসমাউল হোসনা, পাবনা-৩ আসনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনা-১ আসনে খায়রুন নাহার খানম মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সেলিমা রহমান বলেন,মনোনয়ন পেলে জয়ী হতে পারব বলে আশা রাখি। আর দলও নারী প্রার্র্থীদের মূল্যায়ন করবে, এই প্রত্যাশাও সবার। কারণ, এখন নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন,আন্দোলন-সংগ্রামে নারী সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এটা অস্বীকার করা যাবে না। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আছেন ১৯ নেতার স্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী শাহিদা রফিক ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন। সিলেট-২ থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা লড়তে চান। তবে তার বড় ছেলে আবরার ইলিয়াসও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ফরহাত কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৭ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। নেত্রকোনা-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান। কক্সবাজার-১ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেলেও সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন হাসিনা আহমেদ। ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও মনোনয়ন চান। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত নাসিরউদ্দীন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছেন প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন আরা সিদ্দিকী। পঞ্চগড়-২ আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য মোজাহার হোসেনের স্ত্রী নাদিরা আখতার, নাটোর-১ আসনে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরীন ও চাঁদপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবি। নোয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর স্ত্রী শামীমা বরকত লাকী। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ ২০০৮ সালে সরাসরি ভোটে জিতেছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন। নাটোর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুবের স্ত্রী তানিয়া রহমান সুমী, যশোর-৫ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর স্ত্রী জাহানারা বেগম মনোনয়ন চাইছেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনে কাজী সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ ও শরীয়তপুর-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য হেমায়েত উল্যাহ আওরঙ্গজেবের স্ত্রী তাহমিনা আওরঙ্গ চেয়েছেন ধানের শীষ। আছেন নেতাদের মেয়েও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন করতে চান। তিনি সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ মুন্নুর মেয়ে। ফরিদপুর-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে চান দলের প্রয়াত মহাসচিব ওবায়দুর রহমানের মেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়ন ফরম কেনা শাকিলা ফারজানা ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। এ ছাড়া ঢাকা-৩ আসন থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, একই আসন থেকে গয়েশ্বরের পুত্রবধূ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ্র রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায়, ঢাকা-১ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নান ও সাবেক নেতা নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা চেয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন।
আ.লীগের মিডিয়া উপকমিটিতে আছেন যারা
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা মিডিয়া উপকমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে মিডিয়া উপকমিটির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নূর, সদস্য সচিব কাশেম হুমায়ুনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মিডিয়া উপকমিটিতে যারা রয়েছেন: আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, আশরাফুল আলম খোকন, আহমেদ জুবায়ের, মোজাম্মেল বাবু, সাদিকুর রহমান পরাগ, তারেক সুজাত, রঞ্জন সেন, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, মোল্লা জালাল, সাবান মাহমুদ, সোহেল হায়দার চৌধুরী, আবু জাফর সূর্য, ফরিদা ইয়াসমিন, শফিকুর রহমান, সাইফুল আলম, শুক্কুর আলী শুভ, স্বদেশ রায়, জাফর ওয়াজেদ, সুভাস সিংহ রায়, মুঞ্জরুল ইসলাম, আজমল ফরাজী, আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জগদীষ এষ, আনোয়ার হোসেন, উত্তম চক্রবর্তী, মোহসিনুল হাকিম, সৈয়দ শামীম, সুব্রত চন্দ, ইরেশ জাকের, সুদীপ্ত আরিফুজ্জামান, হাসান জাহিদ তুষার, নাসিরুদ্দীন আহমেদ মানু, জাহিদুর রহমান পিন্টু, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, আসাদুজ্জামান কাজল, অধ্যাপিকা সাদেকা হালিম, তারানা হালিম, জাকারিয়া কাজল, ওমর ফারুক, রফিকুল ইসলাম রনি, রাশেক রহমান, সুফি ফারুক, আবদুল জলিল ভূইয়া, মাহফুজ মাসুম, জাকারিয়া জিকু, আহকাম উল্লাহ, আ হ ম তারেক উদ্দীন, এস এম আমজাদ হোসেন, রামেন্দু মজুমদার, গোলাম কুদ্দুস, হাসান আরিফ, অশোক চৌধুরী বৈশাখী, মধুসূদন ম-ল, রাশেদ চৌধুরী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মনির হোসেন লিটন, খ ম হারুন, মোশাররফ হোসেন, নকিব আহমেদ, জিয়াউল করিম ইমরান, জ ই মামুন, শ্যামল দত্ত, সুভাষ চন্দ্র বাদল, দেবাশীষ রায়, আলী আসিফ শাওন, স্বপন সাহা, মনোজ রায়, চপল বাসার, আতাউর রহমান, সন্তোষ শর্মা, মাইনুল আলম, আশীষ সৈকত।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,সুযোগের অপেক্ষায় সব পক্ষই !
অনলাইন ডেস্ক :নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আছে আর মাত্র পাঁচ দিন। কিন্তু কোনো দল বা জোটই এখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেনি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন, সেটা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে দুই দল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক প্রকাশ আটকে আছে জোটের সমীকরণ আর পরস্পরের প্রার্থিতা জানার আগ্রহে। দুই দলের নেতারাই বলছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দেড় শ থেকে দুই শ আসনে প্রতিপক্ষ দলের কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা মোটামুটি আগে থেকেই জানা থাকে। তারপরও তাঁরা সব আসনেই নিজ দলীয় প্রার্থীর প্রতিপক্ষ কে হচ্ছেন সে ব্যাপারে খোঁজ রাখছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, তাঁরা পরস্পরের মনোনয়নের দিকে তাকিয়ে আছেন। কোন আসনে কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, সেটা নিশ্চিত হয়ে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করবেন, এমন সুযোগের অপেক্ষায় সব পক্ষই। অবশ্য নিজেদের জোটগত আসন ভাগাভাগি এখনো শেষ হয়নি। সেই ভাগ-বাঁটোয়ারায় বাদ পড়তে পারেন দলীয় অনেকেই। দুই দলের দায়িত্বশীল নেতারাই বলছেন, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থী কারা, সেটা জানার চেষ্টা তাঁরা করছেন। বিশেষ করে যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী কে, সেটা জানাটা জরুরি। দুই দলের দুজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, ইতিমধ্যে তাঁরা বিভিন্ন উৎসে কিছুটা জেনেছেন। এটা নির্বাচনের আগে সব সময়ই করা হয়। অবশ্য ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতারা এও বলছেন, আগে আগে চূড়ান্তভাবে একক প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হলে ক্ষমতাসীনরা ওই প্রার্থীকে নানাভাবে হয়রানি করার সুযোগ পাবে। প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও নিতে পারে। এসব কথা বিবেচনা করেও বিএনপি কিছুটা দেরিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ আগামী ২৫ বা ২৬ নভেম্বর দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে দলটি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে কোনো সময়ের কথা এখনো উল্লেখ করেনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ হাজার ২৩টি ও বিএনপি থেকে হয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। দুই দলেরই সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে মনোনয়নের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। আওয়ামী লীগের প্রায় সব কটি আসনেই কারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন, সেটা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন তারা কোন আসনে ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপির কে প্রার্থী হতে পারেন, সে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থী বাছাই করে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে তাঁর দল। তিনি বলেন, সময়মতোই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সম্পর্কে যেমন খবর রাখে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে, তাঁকে কীভাবে ভোটের মাঠে মোকাবিলা করতে হবে, সে সম্পর্কেও তথ্য রাখে। ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপির প্রার্থিতা ও জোটের সমীকরণ খোলাসা হতে আরও বেশ কয়েক দিন লেগে যেতে পারে বলে দাবি বিএনপির একাধিক নেতার। এমনকি সেটা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এখন পর্যন্ত বিএনপি তাদের মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকেই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেছে। পরবর্তীতে নিজেদের জোটের সমীকরণ মিলিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে তারা। সে ক্ষেত্রে দুই পক্ষই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়। জাতীয় পার্টি ২ হাজার ৮৬৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করলেও সাক্ষাৎকারে ডেকেছিল বাছাই করা ৭৮০ জনকে। কিন্তু সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলে দিয়েছেন, ৩০০ আসনে তিনিই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। সবাই যেন তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে দলের পক্ষে কাজ করেন। জোটের বিষয়েও তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সে হিসেবে ১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত বনিবনা হয়নি বলেই ধরে নিচ্ছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ৬৫-৭০ আসন ছাড়তে চাইলেও শরিকদের দাবি আরও বেশি। তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, তাদের সংসদীয় বোর্ড দলীয় প্রার্থীদের বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে। ৮-১০টি আসন বাকি আছে, যেগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই চূড়ান্ত করবেন। জোট ও মিত্রদের যেসব আসন নিয়ে একাধিক ব্যক্তি মনোনয়ন চান, সেগুলোর ব্যাপারেও তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরে জোটগতভাবেই মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত গণফোরাম ৩৫০টি, জেএসডি ৫৪৭টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। দলগুলোও জানিয়েছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মনে করেন, দলীয় প্রার্থী বা জোটের প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা কৌশলগত কারণে সুনির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের প্রার্থীরাই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। তাঁর দল অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে জিততে পারবেন, এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন, সময়মতোই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সূত্র : প্রথম আলো
আক্রমণাত্মক কথা বলে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি নেতারা আক্রমণাত্মক কথা বলে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর র;্যডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ৩শ থেকে ৫শ নেতা-কর্মী অবস্থান করবে। আমরাও যদি একইভাবে আমাদের নেতা-কর্মী কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বলি, তাহলে কি গৃহযুদ্ধ হবে? সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা অবিরাম তারা অ্যাগ্রেসিভ (আক্রমণাত্নক) মুডে কথা-বার্তা বলছেন, অবিরাম তারা আক্রমণাত্নক ভাষায় কথা বলছেন। তারা গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট কেন্দ্র কেন্দ্রে ৩শ থেকে ৫শ লোক থাকার অর্থ কি? এখন আমরাও যদি ৩শ ৫ শ লোক কেন্দ্রে কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করি, তাহলে কি হবে? ভোট হবে? না গৃহযুদ্ধ হবে? ভোট হবে না সংঘাত হবে, ভোট হবে না ভায়োলেন্স হবে? আমি প্রশ্ন রাখতে চাই। অবিরামভাবে তারা অ্যাগ্রেসিভ ভাষায়, আক্রমণাত্নক ভাষায় কথা বলছে। নির্বাচন, গণতন্ত্র এসব তাদের ভাষায় নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা আরো বলেন, আজকে দেশের জনগণ একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। তারা অবাধ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। বিএনপি নেতারা আক্রমণাত্নক ভাষা ব্যবহার করে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশটাকে নষ্ট করছেন। কেন তারা এমন করছেন? নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচারণ করছে কিনা সেটা ইসিকে জিজ্ঞেস করুন। তবে আমার দৃষ্টিতে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আমি পাচ্ছি না। বরং আমরা কিছু অভিযোগ করেছি সে বিষয়ে তারা বলছে আরপিও কাভার করে না আমরা সেখানে আপত্তি করি নাই। কারণ আমাদের অনেক কিছুই ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের আচারণে টলারেন্সের পরিচয় দেব, ধর্য্যের পরিচয় দেব। কিন্তু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট যেভাবে অ্যাগ্রেসিভ টোনে কথা বলছে, সেটা কিন্তু সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে। যেটা এ সুন্দর পরিবেশকে, নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে, নষ্ট করবে। তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগ করার নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ডা. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতাদের এক কানাকড়ি দাম নেই, বিএনপি তাদের ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপি নেতাদের ঢল নামবে আওয়ামী লীগে সবুজ সংকেত পেলে
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত দিলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যদি নেত্রীর ক্লিয়ারেন্স পাই বা নেত্রী একটু সবুজ সংকেত দিলেই, সারাদেশ থেকে বিএনপির বিপুল নেতাকর্মীর যে স্রোতধারা আওয়ামী লীগ অভিমুখে যাত্রা করবে, এই যাত্রা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বন্ধ করতে পারবে না। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী দিনে দল বদলের রাজনীতির কোনো চমক আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হর্স ট্রেডিং আছেই। ঘোড়া বদলের যে রাজনীতি, এটা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নতুন কোনও বিষয় নয়। নতুন কোনও দৃশ্যপটও নয়। কে কোন দিকে অবস্থান নেবে? অলরেডি তো হচ্ছেই। ড. কামাল হোসেন, সুলতান মনসুর, মাহমুদুর রহমান মান্না সবাই আওয়ামী লীগে ছিলেন, তারা ওপাশে গিয়েছেন (বিএনপির সঙ্গে জোট করেছেন)। সবার অধিকার আছে এদিক থেকে ওদিকে যাওয়া এবং আসার। আওয়ামী লীগ ও জোট শরিকদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। অলরেডি আমরা মৌখিকভাবে ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি এ ব্যাপারে কথা বলেছি। মনোনয়ন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি আছে। কিছু প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক তালিকা তৈরি করা বাকি আছে। নির্বাচন কমিশনে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অভিযোগ আর নালিশ বিএনপির পুরনো অভ্যাস। নির্বাচনে জেতার শতভাগ গ্যারান্টি না দিলে, তারা এমন অভিযোগ করতেই থাকবে। এগুলো তাদের নাটক, তাদের পুরনো অভ্যাস। আরও নতুন নাটকের চমক আপনারা দেখতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।
নির্বাচনে কারচুপির নীলনকশা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: বর্তমান নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় কিনা তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে চট্টগ্রামের বিভাগের ৩৬ সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আসলে সুষ্ঠু, অবাধ , নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় কিনা সে ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরেও পুলিশ একই ভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং হয়রানি করছে। একইভাবে জামিনের জন্য যারা যাচ্ছেন এবং যারা জামিন পেয়েছেন তাদের জামিনকে বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং তাদেরকে জামিনে বের করছে না। তারা এ বিষয়ে কিছুই করছেন না, তারা তাদের কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন যদি একটা সমতল ভুমি তৈরি না করে, পুলিশের এই গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ না করে, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ না করে তাহলে এই নির্বাচন জনগনের কাছে কখনোই গ্রহনযোগ্য হবে না। পুলিশের ভুমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে পুলিশ যে ভুমিকা পালন করেছে তা ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা আবারো খবর পাচ্ছি বিশ্বস্ত সূত্রগুলোতে যে, পুলিশকে দিয়ে আবারো নির্বাচনে কারচুপি করার নীলনকশা তৈরি করা হচেছ। তিনি বলেন, যে কর্মকর্তা পুলিশের সদর দফতরে বসে পরিকল্পনা করেছিলেন সেই একই পুলিশ কর্মকর্তা আবারো তিনি হেডকোয়াটারে বসে নীল নকসা তৈরি করছেন যে কিভাবে নির্বাচনকে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে এবং কারচুপি করা যাবে। আমরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে পুলিশ সদর দফতর থেকে বদলি করে দেয়া অথবা ক্লোজড করে দেয়ার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, নির্বাচন কমিশন যাদের ওপর দায়িত্ব বর্তিয়েছে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ করবার জন্যে, নির্বাচনের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবার জন্যে এর কোনোটাই তারা(ইসি) করছেন না। আমি আশা করবো নির্বাচন কমিশনের বোধদয় হবে, তারা জেগে উঠবে। সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব তাদের রয়েছে, ক্ষমতা তাদের রয়েছেন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তারা তাদের কাজ করবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার দাবি আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো পুরোপুরি ভাবে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপরীত অবস্থানে নিয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন নিজেই একটা অবস্থান নিয়ে নিয়েছেন যে তারা এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করবেন না। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকার কবে চূড়ান্ত হবে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী- ১ ও ফেনী- ২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একসঙ্গে সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের কাযর্ক্রম রু হয়ে শেষ হয় বেলা আড়াইটায়। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হয়েছে সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্কাইপে বন্ধ থাকায় অন্য ভিডিও কল অ্যাপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এই সাক্ষাৎকারে যুক্ত হন। চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জেলার ৩৬ টি সংসদীয় আসন, কুমিল্লা বিভাগে ৩টি জেলার ২২টি আসন এবং সিলেট বিভাগে ৪টি জেলার ১৯টি আসনের জন্য প্রায় ছয় শতাধিক প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। পার্লামেন্টারি বোর্ডে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার ময়মনসিংহ, ফরিদপুর এবং ঢাকা বিভাগের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।
রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক: সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, রফিকুল ইসলাম মিয়াকে সন্ধ্যায় ইস্কাটনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবি উত্তরের এডিসি শাহজাহান সাজু সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এর আগে দুপুরে দুদকের মামলায় তাকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহাবুব এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়াও রফিকুল ইসলাম মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রফিকুল ইসলাম মিয়া ঢাকা-১৬ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এছাড়া বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যও তিনি। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়,২০০১ সালের ৭ এপ্রিল সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সমস্যা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তার যাবতীয় সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার জন্য ৪৫ দিনের সময় দিয়ে একটি নোটিশ দেয় দুদক। ২০০১ সালের ১০ জুন তিনি দুদকের নোটিশটি গ্রহণ করেন। নোটিশ গ্রহণ করার পরও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০০১ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত কোনো সম্পদের হিসাব দাখিল করেনি। হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় ২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুদকের অফিসার লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত শেষ করে ১৯৫৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৪(২) অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিভিন্ন সময় ৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর