বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ ৯ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
অনলাইন ডেস্ক :বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ নয়জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দুদক থেকে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) দেওয়া চিঠিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনে তাদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সই করা চিঠিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মোসাদ্দেক আলী ফালু ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ও পরিচয় জানতে চাওয়া বাকিরা হলেন এস এ কে একরামুজ্জামান, কামার উজ জামান, মোহাম্মদ আমির হোসেন, সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, এম এ মালেক, আশফাক উদ্দিন আহমেদ, মাকসুদুল করিম ও শায়লিন জামান আকবর। দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ে পাচার করে অফশোর কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে আরও শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে এই নয়জনের বিরুদ্ধে।
ছাত্রদের আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনকে ন্যায্য উল্লেখ করে ‘পূর্ণ সমর্থন’ জানিয়েছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে ব্যর্থতা স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবিও জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান ও দাবি তুলে ধরেন বিএনপি নেতা। ফখরুল বলেন, ‘ছাত্ররা ন্যায্য দাবি করছে। এই দাবি সবার। এই সরকার সকল অনিয়ম, অরাজকতার জন্য দায়ী। দেশে পাশবিক নির্যাতন চলছে। এখানে সরকার বলতে কিছু নেই।’ গত রবিবার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্ররা। টানা তৃতীয় দিনের কর্মসূচির পর বুধবার বিকালে সব দাবি মেনে নিয়ে ছাত্রদের উঠে যেতে আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার আগের দিনের মতোই ব্যাপক আকারে ছাত্ররা রাজপথে নেমেছে। ফখরুল বলেন, ‘পুরোপুরি ব্যর্থ এই অবৈধ সরকার। শুধু নৌমন্ত্রী নয়, সব ঘটনার জন্য অবিলম্বে সরকারকে দায়ী করছি এবং এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।’ ‘দেশের সমস্ত জায়গায় অরাজকতা চলছে৷ সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই৷ প্রতারক সরকার সমস্ত প্রতিষ্ঠান শেষ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন একেবারেই শেষ। তারা যেভাবে পারে বিরোধী মতকে দমন করছে। এ বিষয়গুলো জনগণের জানা আছে।’ আগের দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যেরও নিন্দা জানান ফখরুল। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দুঃখ, তার বিচারটা করতে পারলাম না। তার আগেই সে মারা গেল।’ ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী আবারও জিয়াউর রহমানের উপর আক্রমণ করেছেন।… জিয়াউর রহমান নিয়ে কারো কোনে অভিযোগ নেই। কোথাও কেউ বলেনি, কোনো সাক্ষীতে কেউ তাকে দায়ী করেননি, প্রমাণও নেই। অথচ জিয়াউর রহমানকে দায়ী করছেন প্রধানমন্ত্রী।’ ‘মূলত বর্তমান পরিস্থিতির মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য তিনি এমন বক্তব্য রাখলেন’-বলেন বিএনপি মহাসচিব। ফখরুল বলেন, ‘তাহলে আমরাও তো দায়ী করতে পারি যে, আপনি বিদেশ থেকে ফিরে আসার ১৭ দিনের মধ্যে জিয়াউর রহমান নিহত হন। কিন্তু এধরনের কথা আমরা সমীচীন মনে করি না। এগুলো করলে অনেক সময় কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।
ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মো. রেজানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর অর্পিত ক্ষমতা বলে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি অনুমোদন করা হয়। সভানেত্রীর পক্ষে কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা : সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত চন্দ্র দাস। ঢাকা মহানগর (উত্তর) শাখা : সভাপতি মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়। ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) শাখা : সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. জোবায়ের আহমেদ।
শিক্ষার্থীদের আর এক ফোঁটা রক্তও ঝরাবেন না: ইমরান এইচ সরকার
অনলাইন ডেস্ক: আর এক ফোঁটা রক্তও ঝরাবেন না। এ শিশু-কিশোরদের উপর মাস্তানি দেখানোর চেষ্টা করবেন না। বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক পাতায় এ মন্তব্য করেন। তিনি ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে আরও লিখেন, রাজপথে এদের দেখে ভাববেন না এরা একা। এদের ভাই বোনরা ছড়িয়ে আছে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা-মা'রা অফিস-আদালত-রান্নাঘর থেকে দেখছে রক্ত ঝরছে তাদের ছেলেমেয়েদের। তিনি আরও লিখেন, এ শিশু-কিশোরদের উপর মাস্তানি করছেন কিন্তু তাদের বাবা-মা-ভাই-বোন মিলে রাস্তায় নেমে আসলে সামনা সামনি দাঁড়ানোর সাহসও পাবেন না। বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে আজও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা নৌপরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ ও ঘাতক বাস চালকের বিচারের দাবিসহ নয় দফা দাবি উত্থাপন করে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কয়েকটি জায়গায় বাসে আগুন ও ভাঙচুর করেছে। শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে। ৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে। ৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না। ৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। গত রোববার কুর্মিটোলায় রেডিসন ব্লু হোটেলের সামনের সড়কে রমিজ উদ্দিন স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষর্থী জাবালে নূর পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭) বাসচাপায় নিহত হয়। নিহতরা হলো, উচ্চমাধ্যমিক প্রথমবর্ষের ছাত্রী দিয়া আখতার মিম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল করিম। এতে আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন। শীর্ষনিউজ
দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা
অনলাইন ডেস্ক: ভুয়া জন্মদিন পালন ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে দায়ের দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস এই আদেশ দেন। এরআগে আদালতে জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। গত ৫ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম ভুয়া জন্মদিন পালন ও মহানগর হাকিম আহসান হাবীব মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার মামলায় জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দিয়েছিলেন। পরে তারা ১২ জুলাই মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত ৩১ জুলাই জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন। ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার অন্য আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ-২ সিটির ফল প্রত্যাখ্যান
অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আগামী বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘জনগণ তিন সিটি নির্বাচনে সরকারি দলের ভোট কারচুপি ও জবরদখল দেখেছে। এই সরকার এবং নির্বাচন কমশিন আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রাজশাহী ও বরিশালের ভোট প্রত্যাখ্যান করছি। সেখানে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। ভোট কারচুপির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার সারাদেশের জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা হবে।’ এ সময় তিনি দাবি করেন, সিলেটেও ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে। তা নাহলে আরিফুল হক লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন। উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই বরিশালে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার ভোট বর্জন করেন। পরে দিনে শেষে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১ লাখ ৯ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সরওয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪১ ভোট। অন্যদিকে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। তবে সিলেটে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক এগিয়ে আছেন। সংঘাতের কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে ১৩২ কেন্দ্রের ভোটে বিএনপির আরিফুল হক পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। বিপরীতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। অর্থাৎ ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন আরিফুল হক। আর স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭ ভোট।
ইস্যু তৈরি করতেই বিএনপির ভোট বর্জন
অনলাইন ডেস্ক: তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নিজেরাই গোলযোগ তৈরি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইস্যু তৈরির কৌশল হিসেবেই ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘তিনটি সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা নিজেদের লোক দিয়ে গোলযোগ করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করা ছিল বিএনপির মূল টার্গেট।’ বিএনপি নির্বাচনে চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটিয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইস্যু সৃষ্টির অংশ হিসেবে নির্বাচন বর্জনের কৌশল গ্রহণ করে বলে মন্তব্য করেন কাদের। সোমবার (৩০ জুলাই) বিকেলে তিন সিটির ভোট শেষে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যেএসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। আজ সকাল ৮টা থেকে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে একযোগে ভোটগুহণ শুরু হয়। ভোট চলে টানা ৪টা পর্যন্ত। এ সময় বরিশাল সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানকার একটি কেন্দ্র অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের দুটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। সেখানকার বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। রাজশাহীর ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। ভোট শেষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আবার প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকারের অধীনে ইসির পক্ষে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোট করা সম্ভব নয়।’ তবে তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা দাবি করেছেন, সেখানে সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। দুপুরে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, তিন সিটিতে ভোটের উৎসব বিরাজ করছে। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবালোকের মতো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। কেউ যদি প্রতিযোগিতায় জিততে না চায় এবং প্রতিযোগিতাকে ভেস্তে দিতে তাহলে কারো কি কিছু করার থাকে?’ ‘কেউ যদি স্রেফ অভিযোগের পসরা সাজিয়ে মিথ্যাচার করা শুরু করে, অভিযোগ করা শুরু করে এবং অভিযোগের ক্ষেত্র তৈরির জন্য নিজেরাই মরিয়া হয়ে উঠে, এবং মিডিয়াকে ফাঁদে ফেলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার সর্বাত্মক চেষ্টায় লিপ্ত হয়, তাহলে জনগণ কী করতে পারে? হ্যাঁ, জনগণ পারে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচন বিনষ্টের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রায় দিতে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থী ভোট না দিয়ে সারাদিন কেন্দ্রের সামনে নাটক করেছেন। আর তা মিডিয়াতে দেখিয়ে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করেছে।’ ‘বরিশালে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাড়ির সামনের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সেখানকার নির্বাচনের গোলযোগের সূত্রপাত করেন। গণমাধ্যমে সাংবাদিক বন্ধুরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। বরিশালের বিএনপির প্রার্থী গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, পুরোটা দেখে মনে হয়েছে তিনি নির্বাচন বানচাল করায় লিপ্ত তিনি’, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।
কুমিল্লায় নামঞ্জুরের পর খালেদার হাইকোর্টে জামিন আবেদন
অনলাইন ডেস্ক: সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন কুমিল্লায় নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে। রোববার (২৯ জুলাই) সকালে খালেদার পক্ষে জামিন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান জানান, গত ২৫ জুলাই আবেদন করা হলে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ কে এম শামছুল আলম শুনানি শেষে বিএনপি প্রধানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তার আগে খালেদার আইনজীবীরা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করলে শুনানি শেষে ২৩ জুলাই বিষয়টি ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় গত ১ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন নিম্ন আদালত। সেই আদালতে জামিন চেয়ে খালেদার আইনজীবীরা আবেদন করলে শুনানির জন্য ৮ আগস্ট শুনানির দিন ঠিক করা হয়। খালেদার জামিন না দিয়ে এবং আবেদন নিষ্পত্তি না করে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ঠিক করায় বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলেন নিম্ন আদালতকে। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে আট জন যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। এ ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে আসামি করে হত্যা ও নাশকতার পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামিন নামঞ্জুর হলেও নাশকতার অপর মামলায় জামিনে আছেন বিএনপি প্রধান।
সরকারের একপেশে নির্বাচনের ডিজাইনার ইসি: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: তিন সিটি নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ভোট থেকে বঞ্চিত করতেই আশেপাশের দলীয় লোকদের নির্বাচনী এলাকায় জড়ো করেছে সরকার। শনিবার (২৮ জুলাই) সকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে তিনটি সিটি করপোরেশনে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। ক্ষমতাসীনগোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের অধিকার ফিরে পাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এজন্য তার ভোট চুরির নতুন নতুন মডেল আবিষ্কার করে যাচ্ছে। বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার না করার প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তা থামিয়ে দেয়া হয়। বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গতকাল সারারাত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে। বাসায় গিয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের বলেছে ২ আগস্টের আগে কাউকে যেন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেখা না যায়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে গ্রেফতার না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সেটিকে অমান্য করে পুলিশ লাগাতার গ্রেফতার করছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের। ধানের শীষের প্রার্থীর উঠোন বৈঠক ও সভাও ভেঙে দিচ্ছে পুলিশ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর