রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের কাজে নামার আহ্বান ছাত্রলীগ সভাপতির
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের কাজে নেমে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। নিজ নিজ এলাকায় দিনে অন্তত একঘণ্টা করে নির্বাচনী কাজ করার জন্য সংগঠনের সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শোভন বলেন, আপনারা (ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা) দিনে অন্তত একঘণ্টা করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রচারণা করুন। এলাকার চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান, কেন শেখ হাসিনাকে আবার প্রয়োজন। এটাও বোঝান, কেন ধানের শীষে ভোট দেওয়া যাবে না। বুধবার রাত দশটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে শিক্ষার্থী সংলাপ ও নির্বাচনী কর্মীসভা শিরোনামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজওয়ানুল হক এসব কথা বলেন। এই সভায় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্বাচনের প্রার্থীদের মতো কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। বিজয়ের মাসে যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথানত করে, তাহলে এর দায়ভার পড়বে তরুণ সমাজের উপর। তাই আপনারা অনলাইনে আরও বেশি সক্রিয় হন। দিনে আট থেকে দশটি পোস্ট দেন। চারটি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন নিয়ে, চারটি বিএনপি জামায়াতের দুঃশাসন নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, নির্বাচনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্যাম্পাসে থাকবেন। কোনোভাবেই যাতে জামায়াত-শিবির এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সঞ্চালনায় সভায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও হল শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের অংশ হিসেবে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিবিদ বেশি নৌকায়
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী হিসেবে যাদেরকে বেছে নিয়েছে তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ বেশি। কেউ কেউ অবশ্য রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। আর যারা রাজনীতি করেন, তাদের সিংহভাগই ছাত্রলীগের মাধ্যমে দীক্ষা নিয়েছেন। তবে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকায় প্রার্থী হিসেবে দলটি বেছে নিয়েছে বড় ব্যবসায়ীদের। রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও টাঙ্গাইলে একাধিক আসনে আছেন বড় ব্যবসায়ী। প্রার্থী তালিকা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি তৃণমূলের রাজনীতি করে আসা নেতারা। এদের কারও কারও পরিবার আবার দাদা বা বাবার আমল থেকেই আওয়ামী লীগে জড়িত। ৩২ জনের বাবা ছিলেন সংসদ সদস্য। এবার ২৫২ আসনে ২৬৬ জনকে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৪টির মতো আসনে আছে একজন করে বিকল্প প্রার্থী। প্রার্থীদের মধ্যে ৩৪ জন আছেন মুক্তিযোদ্ধা। অন্তত ৪৪ জন ছাত্রলীগের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। আরও ১৮ জন উঠে এসেছেন তৃণমূলের রাজনীতি করে। ৩৭ জনের পরিচয় শুধুই রাজনীতিক। তারা আর কিছু করেন না। ৩০ জন রাজনীতি করে আসছেন পাকিস্তান আমল থেকেই। ৯৯ জন রাজনীতির পাশাপাশি জড়িত ব্যবসায়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিল্পপতি। আর ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছেন ১৭ জন। বাকিরা রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। কৃষিতে জড়িত ১০ জন। ১০ জন আছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। পাঁচজন জড়িত ছিলেন শিক্ষকতায়। আটজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। অন্তত ১২ জন চিকিৎসক। ২১ জন আছেন আইনজীবী। রংপুর বিভাগের প্রার্থীরা পঞ্চগড়-১ আসনের মাজহারুল হক প্রধান পুরনো রাজনীতিক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পঞ্চগড়-২ আসনের নুরুল ইসলাম সুজন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিক। সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা রয়েছে তার। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রমেশ চন্দ্র সেন তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। এখন রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের দবিরুল ইসলাম রাজনীতির পাশাপাশি আয়ের জন্য কৃষি ও ব্যবসা করেন। দিনাজপুর-১ আসনের মনোরঞ্জন শীল গোপাল জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি সংবাদপত্রের ব্যবসা করেন। দিনাজপুর-২ আসনের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ছাত্রলীগের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দিনাজপুর-৩ আসনের ইকবালুর রহিম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখন রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করেন। দিনাজপুর-৪ আসনের এইচ এম মাহমুদ আলী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে জড়ানো মাহমুদ আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরে কাজ করতেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদ্রোহ করেন। দিনাজপুর-৫ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান ৬০ দশক থেকেই রাজনীতিতে জড়িত। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ব্যবসা করেন। দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু ছিলেন ওই আসনের সংসদ সদস্য। নীলফামারী-১ আসনের আফতাব উদ্দিন সরকার তৃণমূলের রাজনীতি করেই উঠে এসেছেন। তিনি আয়ের জন্য ব্যবসাও করেন। নীলফামারী-২ আসনে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। পরে অভিনয়ে যোগ দেন। তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটির ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দেশ টিভির পরিচালক। লালমনিরহাট-১ আসনের মোতাহার হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষকতা করতেন। লালমনিরহাট-২ আসনের নুরুজ্জামান আহমেদ রাজনীতি করেন বহু বছর ধরেই। পাশাপাশি আছে পারিবারিক ব্যবসা। রংপুর-২ আসনের আবুল কালাম মো. আহসানুল হক রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ছিলেন না। তিনি একজন ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালে প্রথম ভোটে দাঁড়ান। রংপুর-৪ আসনের টিপু মুনশি শিল্পপতি রাজনীতিতে জড়িত বহু বছর ধরেই। পাশাপাশি পোশাক কারখানাও রয়েছে তার। বিজিএমইএর সভাপতিও ছিলেন তিনি। রংপুর-৫ আসনের এইচ এন আশিকুর রহমান পাকিস্তান আমলে ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর যোগ দেন আওয়ামী লীগে। রংপুর-৬ আসনের শেখ হাসিনা রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলেই। ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। এ আসনের আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাকির হোসেন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন। গাইবান্ধা-২ এর মাহাবুব আরা বেগম গিনি পেশায় ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে হঠাৎ করেই তিনি পান মনোনয়ন। গাইবান্ধা-৩ আসনের ইউনুস আলী সরকার পেশায় চিকিৎসক। পাশাপাশি রাজনীতিও করেছেন। গাইবান্ধা-৫ আসনের ফজলে রাব্বী মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়ান। পরে আইনজীবী পেশা বেছে নেন। সঙ্গে চালিয়ে যান রাজনীতি। রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীরা জয়পুরহাট-১ সামছুল আলম দুদু পুরোদস্তুর রাজনীতিক। আর আয়ের জন্য গড়ে তুলেছেন পাশাপাশি গরুর খামার, মৎস্য চাষ। জয়পুরহাট-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ছিলেন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক। আয়ের জন্য ব্যবসা করেন। বগুড়া-১ আসনের আব্দুল মান্নান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিক। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। আয়ের জন্য তিনিও ব্যবসা করেন। বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। ছিলেন এসপি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় কাজ করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল পেশায় চিকিৎসক। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নেতা। তার বাবাও ছিলেন চিকিৎসক এবং আওয়ামী লীগের নেতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জিয়াউর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক ব্যবসাও করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের আব্দুল ওদুদ ছাত্রজীবনে জড়িয়েছেন রাজনীতিতে; ছাত্রদলের নেতা হিসেবে। পরে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আয়ের জন্য ব্যবসা করেন। নওগাঁ-১ আসনের সাধন চন্দ্র মজুমদার কয়েক যুগের রাজনীতিক। তিনি আয়ের জন্য কৃষিভিত্তিক ব্যবসা করেন। নওগাঁ-২ আসনের শহীদুজ্জামান সরকার কয়েক যুগ ধরেই রাজনীতিতে জড়িত। তিনি আইনজীবী হলেও প্র্যাকটিস করেন না। ইদানীং জড়িয়েছেন ব্যবসায়। নওগাঁ-৩ আসনের ছলিমউদ্দিন তরফদার তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেতেন। মাছ চাষে জড়িত। নওগাঁ-৪ আসনের ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক ৬০ দশক থেকেই রাজনীতিতে জড়িত। পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। নওগাঁ-৫ আসনের নিজাম উদ্দিন জলিল জন রাজনীতিতে এসেছেন বাবা আবদুল জলিলের মৃত্যুর পর। জলিল ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলম শ্রমিক নেতা হিসেবে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। ছিলেন ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনিও আয়ের জন্য কৃষি ও পরিবহন ব্যবসা করেন। রাজশাহী-১ আসনের ওমর ফারুক চৌধুরী খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসা করতেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান। রাজশাহী-৩ আসনের আয়েন উদ্দিন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেন। ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা। এখন ব্যবসাও করেন। রাজশাহী-৪ আসনের এনামুল হক আবাসন ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। রাজশাহী-৫ আসনে মনসুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রাজনীতি করেন। রাজশাহী-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম পেশায় ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন। নাটোর-১ আসনের শহীদুল ইসলাম বকুল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। নাটোর-২ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শিমুল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ করে আওয়ামী লীগে এসেছেন। নাটোর-৩ আসনের জুনায়েদ আহম্মেদ পলক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগ করতেন। ২০০৮ সালে ভোটে লড়েন প্রথমবারের মতো। নাটোর-৪ আসনের আব্দুল কুদ্দুস পাকিস্তান আমল থেকেই রাজনীতি করেন। শুরুটা ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধেও যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শিক্ষকতা করতেন, তবে এখন কৃষিতে জড়িত। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ নাসিম পুরোদস্তর রাজনীতিক। তিনি জাতীয় নেতা মনসুর আহমেদের ছেলে। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের হাবিবে মিল্লাত পেশায় চিকিৎসক। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হন। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের আবদুল আজিজও পেশায় চিকিৎসক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নেতা। সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামের ছেলে। তানভীর প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০১৪ সালে। পেশা হিসেবে উল্লেখ আছে ব্যবসা ও সমাজসেবা। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আব্দুল মমিন ম-ল বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ ম-লের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী; ম-ল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের হাসিবুর রহমান খান স্বপনের রাজনৈতিক হাতেখড়ি এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে। পরে করেছেন বিএনপি। ৯৬ সালের পর আসেন আওয়ামী লীগে। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। পাবনা-১ আসনের শামসুল হক টুকু ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িত। জড়িত আইন পেশায়। ২০০৮ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। পাবনা-২ আসনের আহমেদ ফিরোজ কবির তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছিলেন ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যান। পাবনা-৩ মকবুল হোসেন তৃণমূলের রাজনীতি করেছেন দীর্ঘ দিন। রাজনীতিতে জড়িত ছাত্রজীবন থেকেই। এখন কৃষিতে জড়িত। পাবনা-৪ আসনের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু পাকিস্তান আমলের শুরু থেকেই রাজনীতিতে যোগ দেন। ছিলেন ভাষা আন্দোলনে, করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। পাবনা-৫ আসনের গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। আয়ের জন্য ব্যবসা করেন। খুলনা বিভাগের প্রার্থীরা মেহেরপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন দোদুল শিক্ষকতা করতেন কলেজে। ২০১৪ সালে রাজনীতিতে আসেন, এখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বাবা সহিউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন সংসদ সদস্য। মেহেরপুর-২ আসনের সহিদুজ্জামান খোকন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। ছাত্রজীবনে জড়ান ছাত্রলীগে। বর্তমানে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কুষ্টিয়া-১ আসনের আকম সারোয়ার জাহান ছাত্রনেতা ছিলেন। পরে আসেন আওয়ামী লীগে। কুষ্টিয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফও দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে যুক্ত। বর্তমানে ব্যবসাও করেন। কুষ্টিয়া-৪ সেলিম আলতাফ জর্জ আইন পেশায় জড়িত। দাদা গোলাম কিবরিয়া, চাচা আবুল হোসেন, চাচি সুলতানা তরুণও ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেন। করেছেন মুক্তিযুদ্ধও। পাশাপাশি জড়িতে ব্যবসাতেও। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের আলী আসগর টগর রাজনীতিতে এসেছেন ২০০৮ সালে। তিনি ব্যবসা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং ব্যবসা করেন। তার পরিবারও রাজনীতিতে জড়িত ছিল না। ঝিনাইদহ-১ আসনে আব্দুল হাই পুরনো রাজনীতিক। তিনি পাকিস্তান আমল থেকেই রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রলীগের মাধ্যমে। করেছেন মুক্তিযুদ্ধও। ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকী ডাকসাইটে রাজনীতিক নূরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে। তাহজীব রাজনীতিতে জড়িয়েছেন ২০১৪ সালে। স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য হন। ঝিনাইদহ-৩ আসনের শফিকুল আজম খানের বাবা ছিলেন রাজনীতিক। ছিলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য। শফিকুল আওয়ামী লীগে আসেন ২০০১ সালে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের আনোয়ারুল আজিম আনার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন ১৯৯২ সালে। আগে থেকেই ব্যবসা সঙ্গে জড়িত। যশোর-১ আসনের শেখ আফিল উদ্দিন পরিচিত ছিলেন ব্যবসায়ী হিসেবেই। পোল্ট্রি ফার্ম, মুদ্রণ ও কাগজ মিলের ব্যবসা করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন। যশোর-২ আসনে নাসির উদ্দিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ছিলেন চিকিৎসা কোরে। এবারই প্রথম মনোনয়ন পেয়েছেন। যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদও ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত। ২০০৮ সালে প্রথম নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। যশোর-৪ আসনের রণজিত কুমার রায় তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানও। পরে হন সংসদ সদস্য। যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্যও তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যানও। ব্যবসা করেন। যশোর-৬ আসনের ইসমাত আরা সাদেকের সুনির্দিষ্ট পেশা নেই। তার স্বামী এইচ কে সাদেক সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন। ২০১৪ সালে ইসমাত প্রথম সংসদ সদস্য হন। মাগুরা-১ আসনে সাইফুজ্জামান শিখর কৈশোর থেকেই রাজনীতি করেছেন। ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তার বাবা আসাদুজ্জামানও ছিলেন এই আসনের সংসদ সদস্য। মাগুরা-২ আসনের বীরেন শিকদারও পুরনো রাজনীতিক। তিনি আইন পেশায় জড়িত। নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করা জাসদের একাংশের সভাপতি নুরুল আম্বিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেছেন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। নড়াইল-২ আসনের মাশরাফি বিন মুর্তজার পরিবার আওয়ামী লীগপন্থী হলেও তিনি কখনো রাজনীতি করেননি সরাসরি। বাগেরহাট-১ আসনের শেখ হেলাল উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরের ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করেন। বাগেরহাট-২ আসনের শেখ সারহান নাসের তন্ময় এবার প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে নেমেছেন। তিনি শেখ হেলালের ছেলে। বাগেরহাট-৩: আসনের হাবিবুন নাহার রাজনীতিতে এসেছেন স্বামীর হাত ধরে। জীবনসঙ্গী তালুকদার আবদুল খালেক খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার পর ২০০৮ সালে ভোটের লড়াইয়ে নামেন। বাগেরহাট-৪ আসনের মোজাম্মেল হোসেন পুরনো রাজনীতিবিদ। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। খুলনা-১ আসনের পঞ্চানন বিশ্বাস তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। তার পেশা ব্যবসা ও মৎস্য চাষ। খুলনা-২ আসনের শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এবারই প্রথম নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আপন ভাতিজা। খুলনা-৩ আসনের বেগম মন্নুজান সুফিয়ান রাজনীতিতে যোগ দেন ৮০ এর দশকে। প্রয়াত স্বামীর আবু সুফিয়ানের মতোই তিনিও করেছেন শ্রমিক রাজনীতি। ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। খুলনা-৪ আসনের আব্দুস সালাম মুর্শেদী রাজনীতিতে নতুন। তিনি ব্যবসায়ী নেতা। এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। খুলনা-৫ আসনের নারায়াণ চন্দ্র চন্দ তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। পেশায় পরে করেছেন শিক্ষকতা আর এখন পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসাও করেন। খুলনা-৬ আসনের আকতারুজ্জামান বাবু ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মীর মোশতাক আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পর ঢাকায় চলে আসেন। পরে ২০০৮ সালে রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন। সাতক্ষীরা-৩ আসনের আ ফ ম রুহুল হক চিকিৎসক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নেতা। ২০০১ সালে প্রথম ভোটে লড়েন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের জগলুল হায়দার তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ১৩ বছর ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্য হন ২০১৪ সালে। বরিশাল বিভাগের প্রার্থীরা বরিশাল-১ আসনের আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য। পাকিস্তান আমলেই জড়ান রাজনীতিতে। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। আয়ের জন্য ব্যবসাও করেন। বরিশাল-২ আসনে শাহে আলম ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বহু বছর ধরেই। বিকল্প প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুস আইনজীবী। আওয়ামী লীগে এসেছেন ছাত্রলীগ করে। ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। বরিশাল-৪ আসনের পঙ্কজ দেবনাথও রাজনীতিতে এসেছেন ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে। ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক। বরিশাল-৫ আসনের জেবুন্নেছা আফরোজ রাজনীতিতে এসেছেন স্বামীর মৃত্যুর পর। তার জীবনসঙ্গী শওকত হোসেন হিরণ ছিলেন বরিশালের মেয়র এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালে তার মৃত্যুর পর জেবুন্নেছা সংসদ সদস্য হন উপনির্বাচনে। এই আসনে বিকল্প প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। কর্নেল হিসেবে অবসরে যান তিনি। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বরগুনা-১ আসনের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু পুরনো রাজনীতিক। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। পেশায় আইনজীবী। বিকল্প প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বরগুনা-২ আসনের শওকত হাচানুর রহমান রিমন ব্যবসায়ী। ২০১৩ সালে সংসদ সদস্যের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জেতেন। পটুয়াখালী-১ আসনের শাহজাহান মিয়া পুরনো রাজনীতিক। রাজনীতি করে আসছেন বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। পটুয়াখালী-২ আসনের আ স ম ফিরোজও স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে করেছেন যুদ্ধ। পাশাপাশি শিল্পকারখানার মালিক। পটুয়াখালী-৩ আসনের এস এম শাহাজাদা মূলত ব্যবসা করতেন। এবারই প্রথম যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। পটুয়াখালী-৪ আসনের মুহিবুর রহমান মুহিব রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রলীগের মাধ্যমে। সেটি আশির দশকের কথা। বর্তমানে করেন শিক্ষকতা। ভোলা-১ আসনের তোফায়েল আহমেদকে রাজনীতিতে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। পাকিস্তান আমলে যে তুমুল ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল তার অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভোলা-২ আসনের আলী আজম মুকুল রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ। ২০১৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। তিনি সম্পর্কে তোফায়েলের ভাতিজা। ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন যুবলীগের রাজনীতি করেছেন। করেছেন ঠিকাদারি। আছে আবাসন ব্যবসাও। ভোলা-৪ আসনের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব পারিবারিক সূত্রেই এসেছেন রাজনীতিতে। তার বাবা নজরুল ইসলাম ১৯৯১ সালের সংসদ সদস্য ছিলেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বজলুল হক হারুন মূলত ব্যবসায়ী। তিনি ২০০১ সালে প্রথম আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন। ঝালকাঠি-২ আসনের আমির হোসেন আমু পাকিস্তান আমল থেকেই রাজনীতিবিদ। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রথমে জেতেন। পিরোজপুর-১ আসনে শ ম রেজাউল করিম ছাত্রলীগ করেছেন। আইন অঙ্গনেও তিনি পরিচিত মুখ। আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক। ঢাকা বিভাগের প্রার্থীরা টাঙ্গাইল-১ আসনের আবদুর রাজ্জাক ছাত্রলীগ করেছেন। পরে করেছেন সরকারি চাকরি। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য। টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান (ছোট মনির) প্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন। আগে রাজনীতি করতেন না। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। এই আসনে বিকল্প প্রার্থী মশিউজ্জামান রুমেল বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে। আসাদুজ্জামান ছিলেন সরকারি চাকুরে। রুমেল ব্যবসায়ী। টাঙ্গাইল-৩ আসনের আতাউর রহমান খান পুরনো রাজনীতিক। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাংকার হিসেবে অবসরে গেছেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনের হাছান ইমাম খান ছাত্ররাজনীতি করে উঠে এসেছেন। তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন চলতি শতকের শুরুর দিকে। টাঙ্গাইল-৫ আসনের ছানোয়ার হোসেন মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতেন। রাজনীতিতে নতুন। ২০১৪ সালে প্রথম প্রার্থী হন। টাঙ্গাইল-৬ আসনের আহসানুল ইসলাম টিটু ব্যবসায়ী। তার বাবা মকবুল আহমেদ ১৯৯৬ সালে ঢাকার ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। টাঙ্গাইল-৭ আসনের একাব্বর হোসেন পুরনো রাজনীতিক। পাকিস্তান আমলে করেছেন ছাত্ররাজনীতি। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। টাঙ্গাইল-৮ আসনের জোয়াহেরুল ইসলামের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে। ছিলেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বিকল্প মশিউর রহমান হুমায়ুন রাজনীতি করেছেন ৯০ দশকে ছাত্রজীবন থেকেই। ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নূর মোহাম্মদ পুলিশের সাবেক আইজি, ৮০ দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় করেছেন ছাত্রলীগ। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের রেজোয়ান আহাম্মেদ তৌফিক রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন। তার বাবা আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি। কিশোরগঞ্জ-৫ আফজাল হোসেন মূলত ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হন প্রথম। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের নাজমুল হাসান পাপন ডাকসাইটে রাজনীতিক জিল্লুর রহমানের ছেলে। সরাসরি রাজনীতিতে জড়ান ২০০৯ সালে তার বাবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর। উপনির্বাচনে জিতে হন সংসদ সদস্য। পরে জেতেন আরও একবার। মানিকগঞ্জ-১ আসনের এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। তার পরিবার আওয়ামীপন্থী আগে থেকেই। ২০১৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগম মূলত সংগীতশিল্পী। ২০০৯ সালে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হয়। ২০১৪ সালে পান নৌকার মনোনয়ন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জাহিদ মালেক স্বপনের বাবা এম এ মালেক বঙ্গবন্ধুর আমলে এই আসন থেকে জিতেন। স্বপন রাজনীতিতে এসেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। ২০০৮ সালে প্রথম ভোটে দাঁড়ান। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন রাজনীতি করেই। তার পরিবার রাজনীতিতে জড়িত আগে থেকেই। ২০০১ সালে প্রথম নির্বাচন করেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের মৃণাল কান্তি দাস ছাত্রলীগ করে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক। আইন পেশায় জড়িত। ঢাকা-১ আসনের সালমান এফ রহমান মূলত ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের বন্ধু। ঢাকা-২ আসনের কামরুল ইসলাম ৬০ এর দশকে ছাত্রলীগের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে জড়ান। তবে রাজনীতিতে তার উত্থান সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ঢাকা-৩ আসনের নসরুল হামিদ বিপু প্রতিষ্ঠিত ছিলেন আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে। রাজনীতি করেছেন ছাত্রজীবনেই। ২০০৮ সালে প্রথম নির্বাচন ভোটে দাঁড়ান। ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লা পুরনো রাজনীতিক। দলের সঙ্গে জড়িত ৬০-এর দশক থেকে। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। ব্যবসাও করেন। এই আসনে দলের বিকল্প প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিম প্রতিষ্ঠিত হন ব্যবসায়ী হিসেবে। শুরুতে বিএনপি করতেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। এই আসনে দলের বিকল্প প্রার্থী আবুল হাসনাতও বড় ব্যবসায়ী। পাশাপাশি জড়িত ছিলেন তৃণমূলের রাজনীতিতে। ঢাকা-৯ আসনের সাবের হোসেন চৌধুরী মূলত ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে প্রথম তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। ঢাকা-১০ আসনের শেখ ফজলে নূর তাপস আইনজীবী। তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৮ সালে সরাসরি রাজনীতিতে আসেন তাপস। ঢাকা-১১ আসনের এ কে এম রহমতুল্লাহ ৬০-এর দশক থেকেই রাজনীতি করেন। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। চামড়া ও জুতা রপ্তানিকারক হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। ঢাকা-১২ আসনের আসাদুজ্জামান খান কামাল উঠে এসেছেন তৃণমূলের রাজনীতি করে। ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সিরামিক শিল্পের ব্যবসা করেন। ২০০৮ সালে প্রথম মনোনয়ন পান। ঢাকা-১৩ আসনের সাদেক খান তৃণমূলের নেতা। ছিলেন ঢাকার কাউন্সিলর। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। ঢাকা-১৪ আসনের আসলামুল হক তৃণমূলের রাজনীতি করেছেন। তবে তিনি প্রতিষ্ঠিত হন ব্যবসায়ী হিসেবে। ঢাকা-১৫ আসনের কামাল আহমেদ মজুমদার শুরুতে পরিচিত ছিলেন শিল্পপতি হিসেবে। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি নির্বাচন করে আসছেন। ঢাকা-১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ব্যবসা করেন। তার বাবা হারুনুর রশীদ মোল্লা ছিলেন ১৯৯১ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে নৌকার মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। ঢাকা-১৭ আসনের আকবর হাসান পাঠান ফারুক চলচিত্র অভিনেতা, একই আসনে বিকল্প প্রার্থী কাদের খান পুরোদস্তুর রাজনীতিক। উঠে এসেছেন তৃণমূলে রাজনীতি করে। ঢাকা-১৮ আসনে সাহারা খাতুন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তবে উত্থান বলতে গেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে। পেশায় আইনজীবী। ঢাকা-১৯ আসনের এনামুর রহমান চিকিৎসক, রাজনীতিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর। আহতদের চিকিৎসা হয়েছিল তার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা-২০ আসনের বেনজীর আহমেদ পুরনো রাজনীতিক। ছাত্ররাজনীতি করে উঠে এসেছেন। বর্তমানে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। গাজীপুর-১ আসনের আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতিতে জড়িয়েছেন ৬০-এর দশকে। পেশায় আইনজীবী। গাজীপুর-২ আসনে জাহিদ আহসান রাসেল রাজনীতিতে এসেছেন বাবা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার পর। তিনি ব্যবসা করেন, তবে সে পরিচয় কখনো বড় হয়নি। গাজীপুর-৩ আসনের ইকবাল হোসেন সবুজ রাজনীতিতে এসেছেন ছাত্রলীগ করে। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গাজীপুর-৪ আসনের সিমিন হোসেন রিমি জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে। সরাসরি রাজনীতি করতেন না। ভাই সোহেল তাজ পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। গাজীপুর-৫ আসনের মেহের আফরোজ চুমকির বাবা ময়েজউদ্দিন ছিলেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা। বাবার পথ ধরে রাজনীতিতে আসেন। প্রথম জেতেন ২০০৮ সালে। নরসিংদী-১ আসনের নজরুল ইসলাম হীরু সাবেক সেনা কর্মকর্তা। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০০৮ সালে প্রথম ভোটে দাঁড়ান। নরসিংদী-২ আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ চিকিৎসক। করেছেন তৃণমূলের রাজনীতিও। বর্তমানে পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নরসিংদী-৩ আসনে জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন ছিলেন ব্যবসায়ী। প্রথম মনোনয়ন পান ২০০৮ সালে। নরসিংদী-৪ আসনের নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন রাজনীতিতে জড়িত ৭০-এর দশক থেকেই। পেশায় আইনজীবী। নরসিংদী-৫ আসনের রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু ৬০-এর দশকের রাজনীতিক। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা। প্রথম মনোনয়ন পান ২০০৮ সালে। শিল্পপতি হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন এর আগ পর্যন্ত। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম বাবু ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এ কে এম শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তার বাবা শামসুজ্জোহাও জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগে। শামীম ওসমান রাজনীতি করেছেন ছাত্রজীবন থেকেই। রাজবাড়ী-১ আসনের কাজী কেরামত আলী পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে জড়িত। তার বাবাও ছিলেন সংসদ সদস্য। আয়ের জন্য করেন ব্যবসা। রাজবাড়ী-২ আসনের জিল্লুুল হাকিম রাজনীতি করেছেন ছাত্রজীবন থেকেই। ৯৬ সাল থেকেই নির্বাচন করে আসছেন। ওষুধ ও রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যবসা করেন। ফরিদপুর-১ আসনের মঞ্জুর হোসেন সাবেক সচিব, রাজনীতিতে নতুন। ফরিদপুর-২ আসনের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিতে জড়িয়েছেন ৬০-এর দশকেই। ফরিদপুর-৩ আসনের মোশাররফ হোসেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সাল থেকে ভোটে লড়ছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আছেন। ফরিদপুর-৪ আসনের কাজী জাফরউল্লাহ রাজনীতি ও ব্যবসায় সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ফারুক খান সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ১৯৯৬ সাল থেকে তাকে প্রার্থী করে আসছে আওয়ামী লীগ। গোপালগঞ্জ-২ আসনের শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রধানমন্ত্রীর ফুপাতো ভাই। তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন ছাত্রজীবনেই। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের শেখ হাসিনা রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলেই। ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। মাদারীপুর-১ আসনের নূর ই আলম চৌধুরী লিটন শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে। রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রজীবনে। ১৯৯৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য। মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান মুক্তিযোদ্ধা, শ্রমিক নেতা। রাজনৈতিক দীক্ষা পেয়েছেন পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগের হাত ধরে। মাদারীপুর-৩ আসনের আব্দুস সোবহান গোলাপ মুক্তিযুদ্ধের পর রাজনীতিতে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। শরীয়তপুর-১ আসনের ইকবাল হোসেন অপুু ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন ৯০-এর দশকে। পুরোদস্তুর রাজনীতিক। শরীয়তপুর-২ আসনের এ কে এম এনামুল হক শামীম ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ৯০ দশকের মাঝামাঝি। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক তার বাবা আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন। প্রথম সংসদ সদস্য হন ২০১১ সালে উপনির্বাচনের পর। ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীরা জামালপুর-১ আসনের আবুল কালাম আজাদ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতিতে জড়ান ৬০-এর দশকে। পেশায় আইনজীবী, পাশাপাশি করেন ব্যবসা। এই আসনে আজাদের বিকল্প প্রার্থী পুরোদস্তুর রাজনীতিক। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। জামালপুর-২ আসনের ফরিদুল হক খান জাতীয় পার্টি করতেন এরশাদ আমলে। প্রতিষ্ঠিত পাট ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে প্রথম নৌকা নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য হন। জামালপুর-৩ মির্জা আজম ছাত্রলীগ করেছেন, ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯১ সাল থেকে টানা জিতে এসেছেন ওই আসনে। জামালপুর-৪ আসনে মুরাদ হাসান চিকিৎসক। ছাত্রলীগ করেছেন। এখন স্বাচিপ নেতা। জামালপুর-৫ আসনে রেজাউল করিম হীরা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৭০-এর দশকে। তার বিকল্প প্রার্থী মোজাফফর হোসেন মূলত ব্যবসায়ী। সম্প্রতি এসেছেন রাজজনীতিতে। শেরপুর-১ আসনের আতিউর রহমান আতিক পুরনো রাজনীতিক। ১৯৯৬ সাল থেকেই এই আসনে জিতে এসেছেন। শেরপুর-২ আসনের মতিয়া চৌধুরী পাকিস্তান আমলেই অগ্নিকন্যা হিসেবে পরিচিত হন ছাত্ররাজনীতি করে। তখন করতেন ছাত্র ইউনিয়ন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য। শেরপুর-৩ আসনের এ কে এম ফজলুল হক ব্যবসায়ী। করতেন বিএনপি। ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে জিতেন ধানের শীষ প্রতীকে। পরে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ময়মনসিংহ-১ আসনের জুয়েল আরেং রাজনীতিতে এসেছেন বাবার হাত ধরে। তার বাবা প্রমোদ মানকিন পূর্ণকালীন রাজনীতিক ছিলেন। ময়মনসিংহ-২ আসনের শরীফ আহম্মেদও রাজনীতিতে এসেছেন বাবার হাত ধরে। তার বাবা শামসুল হক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি ব্যবসাও করেন। ময়মনসিংহ-৩ আসনে নাজিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতিতে এসেছেন ছাত্রলীগের হাত ধরে। ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের যে কমিটিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সেখানে নাজিম ছিলেন সভাপতি। ময়মনসিংহ-৬ আসনের মোসলেম উদ্দিন ৬০-এর দশক থেকেই রাজনীতি করেন। পেশায় আইনজীবী। ময়মনসিংহ-৭ আসনের রুহুল আমিন মাদানীও ৭০-এর দশক থেকে রাজনীতি করে আসছেন। ময়মনসিংহ-৯ আসনে আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন তরুণ রাজনীতিক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তিনি। ২০১৪ সালে প্রথম হন সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-১০ আসনে ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল রাজনীতিতে এসেছেন বাবার হাত ধরে। তার বাবা আলতাফ গোলন্দাজ ছিলেন ডাকসাইটে রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা। ময়মনসিংহ-১১ আসনে তাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনুর পরিবার রাজনীতিতে জড়িত আওয়ামী লীগের জন্ম থেকেই। বাবা ছিলেন ভাষাসংগ্রামী। ধনু যুবলীগের নেতা, ছিলেন ছাত্রলীগেও। নেত্রকোণা-১ আসনের মানু মজুমদার ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করে এসেছেন। তিনি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী কর্মকর্তা। নেত্রকোণা-২ আসনের আশরাফ আলী খান খসরুর জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে। তার বাবা এন আই খান ১৯৭১ সালে নেত্রকোণায় প্রথম স্বাধীনতার পতাকা তোলেন। বাবার মতোই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। নেত্রকোণা-৩ আসনের অসীম কুমার উকিল ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। নেত্রকোণা-৪ আসনের রেবেকা মমিন রাজনীতিতে এসেছেন স্বামী আবদুল মমিনের মৃত্যুর পর। মমিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের পর ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। নেত্রকোণা-৫ আসনের ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পেয়েছেন বীর প্রতীক খেতাব। রাজনীতি করেন পাকিস্তান আমল থেকেই। সিলেট বিভাগের প্রার্থীরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ব্যবসায়ী হিসেবে। রাজনীতিতে আসেন ২০০৮ সালে। সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়া সেনগুপ্ত প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে জেতেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এম এ মান্নান সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। ছাত্রলীগ করতেন ছাত্রজীবনে। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মুহিবুর রহমান মানিক পুরনো রাজনীতিক। ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা। প্রথম সংসদ সদস্য হন ১৯৯৬ সালে। সিলেট-১ আসনে এ কে আবদুল মোমেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই। মোমেন সরাসরি রাজনীতিতে নতুন। সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ৭০ দশক থেকেই রাজনীতিতে জড়িত। ১৯৯৬ সাল থেকে ভোটে লড়ছেন। সমধিক পরিচিত পোশাক ব্যবসায়ী হিসেবে। সিলেট-৪ আসনের ইমরান আহমদ ১৯৮৬ সাল থেকেই এই আসনে নির্বাচন করে আসছেন। তিনি চা-বাগান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মালিক। সিলেট-৬ আসনের নুরুল ইসলাম নাহিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু পাকিস্তান আমলে। ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সাল থেকে ভোটে লড়ছেন। মৌলভীবাজার-১ আসনের শাহাব উদ্দিন পুরনো রাজনীতিক। ১৯৯৬ সাল থেকেই লড়াই করে আসছেন। তার পেশা ব্যবসা ও কৃষি। মৌলভীবাজার-৩ আসনের নেছার আহম্মেদ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, পরে যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এবারই প্রথম ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৪ আসনের আব্দুস শহীদ পাঁচবারের সংসদ সদস্য। রাজনীতিতে জড়িয়েছেন পাকিস্তান আমলে। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। হবিগঞ্জ-১ আসনে দেওয়ান শাহনেওয়াজ মিল্লাত গাজীর পরিবার রাজনীতিতে জড়িত পাকিস্তান আমল থেকেই। তার বাবা দেওয়ান ফরিদ গাজী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। হবিগঞ্জ-২, ৩ ও ৪ আসনে যথাক্রমে আব্দুল মজিদ খান, আবু জাহির ও মাহবুব আলীÑতিনজনই পেশায় আইনজীবী। এদের মধ্যে আবু জাহির আশির দশকে ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা। উঠে এসেছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। মজিদ খান ছিলেন ন্যাপের নেতা। ১৯৯৭ সালে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। আর মাহবুব আলী ঢাকায় রাজনীতি করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের প্রার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের বদরুদ্দোজা ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম ৯০ দশকের শেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। চলতি বছর ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী পাকিস্তান আমলে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। পরে বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরি করেছেন। ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার। বর্তমানে পেশায় ব্যবসায়ী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আনিসুল হক প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। তার বাবা সিরাজুল হক চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠদের একজন। তিনিও ওই আসনে নির্বাচন করতেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এবাদুল করিম বুলবুল প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বিকন ফার্মাসিউটিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোহিনূর ক্যামিকেলের পরিচালক। এবারই প্রথম ভোটের লড়াইয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এ বি তাজুল ইসলাম সাবেক সেনা কর্মকর্তা। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। কুমিল্লা-১ আসনের সুবিদ আলী ভূঁইয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা। ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। কুমিল্লা-২ আসনের সেলিমা আহমাদ মেরী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। নিটল-টাটা গ্রুপের পরিচালক। এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে নামলেন। কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। তিনি রাজনীতিতেও নতুন নন। কুমিল্লা-৪ আসনের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র হিসেবে জেতেন। তার বাবা ফখরুল ইসলাম মুন্সি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সাবেক সংসদ সদস্য। কুমিল্লা-৫ আসনের আব্দুল মতিন খসরু পেশায় আইনজীবী। রাজনীতি করেন ৬০-এর দশক থেকেই। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কুমিল্লা-৬ আসনের আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার পুরোদস্তুর রাজনীতিক। ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। করেন ব্যবসাও। কুমিল্লা-৭ আসনের আলী আশরাফ বঙ্গবন্ধুর ¯েœহভাজন ছিলেন। তিনি ওই আসনে দাঁড়িয়েছেন ১০ বার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষক। কুমিল্লা-৯ আসনের তাজুল ইসলাম মূলত ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। কুমিল্লা-১০ আসনের আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। যদিও রাজনীতিতে জড়িত আগে থেকেই। কুমিল্লা-১১ আসনের মুজিবুল হক মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতি করেন ৬০-এর দশক থেকে। পেশায় আয়কর উপদেষ্টা। চাঁদপুর-১ আসনের মহিউদ্দীন খান আলমগীর অথবা গোলাম রহমান নৌকা প্রতীক পাবেন। দুজনই সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। এদের প্রথমজন আওয়ামী লীগের যোগ দেন ৯০-এর দশকে। চাঁদপুর-২ আসনের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা। পেয়েছেন বীর বিক্রম খেতাব। রাজনীতি করেন ৬০ দশক থেকে। এই আসনে বিকল্প প্রার্থী নুরুল আমিন রুহুল ছিলেন ছাত্রলীগের অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি। চাঁদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি চিকিৎসক এবং আইনজীবী। পারিবারিকভাবেই রাজনীতিতে জড়িত। বাবাও ছিলেন সংসদ সদস্য। চাঁদপুর-৪ আসনের শামছুল হক ভূঁইয়া মূলত শিল্পপতি। এই আসন থেকে প্রথম নির্বাচন করেন ২০০১ সালে। বিকল্প প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও সেখানে ভোটে দাঁড়ান। ফেনী-২ আসনের নিজামউদ্দিন হাজারী তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। এর বাইরে তার পরিচয় নেই। নোয়াখালী-১ আসনের এইচ এম ইব্রাহিম মূলত ব্যবসায়ী। ২০০৯ সালে প্রথম নির্বাচন করেন, হেরে যান। পরে জেতেন ২০১৪ সালে। নোয়াখালী-২ আসনের মোর্শেদ আলম মূলত ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে যোগ দেন ২০১৪ সালের আগে। নোয়াখালী-৩ আসনের মামুনুর রশীদ কিরণও মূলত ব্যবসায়ী। গ্লোব শিল্পগোষ্ঠীর মালিক। প্রথম ভোটে দাঁড়ান ২০০৮ সালে। নোয়াখালী-৪ আসনের একরামুল করিম চৌধুরী একই সঙ্গে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। নোয়াখালী-৫ আসনের ওবায়দুল কাদের পুরোদস্তুর রাজনীতিক। হাতেখড়ি ৬০-এর দশকে। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নোয়াখালী-৬ আসনের আয়েশা ফেরদাউস রাজনীতিতে এসেছেন স্বামী মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে। ২০০৮ সালে প্রথম নির্বাচন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এ কে এম শাহজাহান কামাল পাকিস্তান আমলের রাজনীতিক। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। বিকল্প প্রার্থী গোলাম ফারুখ পিংকু মূলত ব্যবসায়ী। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের মো. আবদুল্লাহ মূলত পেশায় ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালে প্রথম সংসদ সদস্য হন। চট্টগ্রাম-১ আসনের মোশাররফ হোসেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিতে জড়ান ৬০-এর দশকে। রাজনীতির পাশাপাশি হোটেল, গ্যাস ও খনিজ নির্মাণ, ট্রেডিং ও ভবন নির্মাণের ব্যবসা করেন। চট্টগ্রাম-৩ আসনের আসনের মাহফুজুর রহমান মূলত ব্যবসায়ী। তার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান সন্দ্বীপের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর আসেন রাজনীতিতে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলম শিল্পপতি। রাজনীতিতে নবাগত। ২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচন করেন। চট্টগ্রাম-৬ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী পুরনো রাজনীতিক। ঘনিষ্ঠতা ছিল বিএনপির সঙ্গে। আওয়ামী লীগের যোগ দিয়ে প্রথম নির্বাচন করেন ১৯৯৬ সালে। চট্টগ্রাম-৭ আসনের হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে পেশা শিক্ষকতা ও ব্যবসা। চট্টগ্রাম-৯ আসনের মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল রাজনীতিতে এসেছেন বাবা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে। নওফেল ব্যারিস্টারি পাস করে পূর্ণকালীন রাজনীতি করছেন। চট্টগ্রাম-১০ আসনের আফছারুল আমীন চিকিৎসক। রাজনীতিতে জড়ান ৬০-এর দশকে। করেছেন মুক্তিযুদ্ধ। চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফ মূলত পোশাক ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগে এসে নির্বাচন করেন। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সামশুল হক চৌধুরী শিল্পপতি। খাতুনগঞ্জভিত্তিক ব্যবসা করেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রথম নির্বাচন করেন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ শিল্পপতি। তার বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন খ্যাতিমান রাজনীতিক। ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নজরুল ইসলাম চৌধুরী আবাসন নির্মাণ ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে নামেন ১৯৯৬ সালে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন। ২০১৪ সালে তিনি ওই আসন থেকে জেতেন। পেশায় শিক্ষক। কক্সবাজার-১ আসনের জাফর আলম তৃণমূলের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ছিলেন চকরিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান। চিংড়ি খামারের মালিক। কক্সবাজার-২ আসনের আশেক উল্লাহ রফিক ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে আসেন ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কক্সবাজার-৩ আসনের সাইমুম সারোয়ার কমল রাজনীতিতে জড়িত ছাত্রজীবন থেকে। ব্যবসাও করেন। প্রথম নির্বাচন করেন ২০০৮ সালে। কক্সবাজার-৪ আসনের শাহিনা আক্তার চৌধুরী বর্তমান সাংসদ আব্দুর রহমান বদির স্ত্রী। তিনি রাজনীতিতে এলেন স্বামী মনোনয়ন না পাওয়ায়। খাগড়াছড়ির কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ব্যবসায়ী, রাঙামাটির দীপংকর তালুকদার পুরনো রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। বান্দরবানের বীর বাহাদুর উসৈ সিংও পুরনো রাজনীতিক। কৃষিভিত্তিক ব্যবসাও করেন।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিকল্প প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে
অনলাইন ডেস্ক: এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে অনেকটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটি বেশির ভাগ আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। এতে প্রায় আড়াইশ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০০। এর মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পাবেন, এটা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এই কৌশল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বাড়তে পারে অন্তঃকোন্দলও। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, কোনো আসন যেন ধানের শীষের প্রার্থীশূন্য না হয়, সে জন্যই একাধিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সংকটের এই মুহূর্তে সবাইকে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা বিভাগের একটি আসন থেকে। একাধিকবারের এই সংসদ সদস্যের আসনে আরও দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, এটা ঠিক হয়নি। কেন দুজনকে দেওয়া হলো জানি না। আমি তো দুই দিনের জন্য রাজনীতিতে আসিনি। আমাকে বলা হয়েছে বাকিরা শেষ মুহূর্তে সরে যাবেন। আর না গেলে নাই আমি তো আছি। তবে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ঢাকা টাইমসকে বললেন ভিন্ন কথা। তার সঙ্গেও একজনকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, যাদের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে তারা জানে কে মূল প্রার্থী। তাই এখানে অসুবিধার কিছু নেই বরং দল এবং প্রার্থীর সুবিধার কথা চিন্তা করে এমনটা করা হয়েছে। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে, এমন আশা করি না। মূল কথা হলো কোনো আসন যেন খালি না যায়, এ জন্যই এটা করা হয়েছে। দুই দিনের বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে মঙ্গলবার আড়াই শতাধিক আসনে দলের প্রায় ৮০০ নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেয় বিএনপি। এর মধ্যে অল্প কিছু আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে দলটি। আবার কিছু কিছু নেতা নিজে থেকে পরিবারের সদস্যদের বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন। যেমন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনকে দুই আসনের একটিতে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। আবার আমানউল্লাহ আমান আগে থেকেই তার আসনে ছেলেকে বিকল্প প্রার্থী রেখেছেন। আবার কোথাও কোথাও জোটের শরিকদের জন্য ছাড় দিতে হচ্ছে বিএনপিকে, যা নিয়ে কিছুটা চাপা ক্ষোভ আছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেখানে আরও দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই এই আসনে প্রার্থী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব কোনো সমস্যা হিসেবে দাঁড়াবে না বলে মনে করেন বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে এবার বিএনপি বা জোটের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা করবে না। বরং তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ করবে। কারণ সবাই জানে এবার আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। মঞ্জু বলেন,আশা করছি চূড়ান্ত মনোনয়নের পরও ঝামেলা হবে না। বিভক্তি ঠেকাতে খুলনায় দলীয় বৈঠক করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একসঙ্গে সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাব। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একজনকে দল শেষ পর্যন্ত প্রার্থী রাখবে, এটা সবাই জানেন। আশা করি, সবাই দলের জন্য এ বিষয়ে সেক্রিফাইস করবে। আর শুরুতে একটু সমস্যা মনে হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর সব ঠিক হয়ে যাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন দেওয়ার সময় প্রার্থীদের বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার অর্থ আপনি ধানের শীষ পাবেন এমনটা নয়। ৯ ডিসেম্বর যাদের নামে চিঠি যাবে, তারাই ধানের শীষ পাবেন।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সালমা
অনলাইন ডেস্ক: মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঢাকা-১ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। গতবার এ আসনে আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দিলেও এবার ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে। বুধবার দুপুরে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। সালমা ইসলামের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক (হিসাব) শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। দোহার-নবাবগঞ্জ মিলে গঠিত ঢাকা-১ আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন সালমা ইসলাম। সেবার আওয়ামী লীগ দলের শরিক জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছেড়ে দেয়। তবে এবার বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। সূত্রে জানা গেছে, এতে জাতীয় পার্টির নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন সালমা ইসলাম। পরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সালমা ইসলাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির চার শরিকের ১৫৫ প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির চার শরিক মোট ১৫৫টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি তারাও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়েছে দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দেবেন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার দিন তারা তা তুলে নেবেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজকের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। তবে প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর সেদিনই নিজের দল ও জোটের আসন চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির শরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে গণফোরাম। তারা মোট ১১১ জনকে দিয়েছে মনোনয়নের চিঠি। এরপর আছে জেএসডি। তারা চিঠি দিয়েছে ২০ জনকে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৫ জন এবং নাগরিক ঐক্য নয়জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন তারা দুই জোট ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টকে ৬০টির বেশি আসন দেবেন না। এর মধ্যেই ২০ দলের শরিক এলডিপিকে চারটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-কে দুটি, বিজেপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, এনপিপি ও মাইনরিটি জনতা পার্টিকে একটি করে আসনে ছাড় দিয়েছে। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের দুই অংশ এবং খেলাফত মজলিসকেও একাধিক আসন দেওয়া হতে পারে। জামায়াতে ইসলামীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ২৫টির মতো আসনে। এই হিসাব করলে ঐক্যফ্রন্টের জন্য থাকছে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২১টি আসন। তবে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আশা করছেন, তার দল ৩০ থেকে ৪০টি আসন পাবে। আসন বণ্টনের এই আলোচনা কোন পর্যায়ে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বললেন না বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের কোনো শরিক। ব্যক্তি ভাবমূর্তি, দলের ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তার দিক বিচার করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা বলছেন তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতা বলেন, সময়স্বল্পতার কারণে এখন জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। আপাতত দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। পরে বসে এগুলোকে সমন্বয় করা যাবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপাতত জোটগতভাবে নয়, দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। পরে আলোচনা সাপেক্ষে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করে বাকিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হবে। গণফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমাদের হাতে এখনো সময় রয়েছে এর মধ্যে আসন বিন্যাস ঠিক হয়ে যাবে। আমরা প্রতীক বরাদ্দের আগেই কতটা আসনে জোটগতভাবে করব, সেটা নির্ধারণ হবে। তবে আমরা কোনো আসন নিয়ে অনড় অবস্থানে নেই। একই দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন,আমাদের পক্ষে একশর ওপরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কাল (আজ) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়, এরপর আমরা সকলেই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজ আমাদের নয়টি আসনের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এগুলো চূড়ান্ত নয়, আবার আলোচনা হবে। আমরা সকলেই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন ঢাকা টাইমসকে বলেন,আমরা ২০টি আসনে মনোনয়ন জমা দেব। আমাদের সভাপতি ইতিমধ্যে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আর বাকিগুলো কালকের (আজ) মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।
সংসদ নির্বাচন: ২৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলেও ২৫ আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে জামায়াতের প্রার্থীরা। তবে তারা ধানের শীষ প্রতীকে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তা এখনো জানা যায়নি। নির্বাচনে অংশ নিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ২৫টি আসন দেওয়া হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের নেতারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত ২৫ প্রার্থী হলেন: শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), মোহাম্মদ হানিফ (দিনাজপুর-১), আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), হামিদুর রহমান আজাদ (কক্সবাজার-২), শামসুল ইসলাম ( চট্টগ্রাম-১৫)। মনিরুজ্জামান মন্টু (নীলফামারী-২), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মাজেদুর রহমান সরকার (গাইবান্ধা-১), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ইকবাল হুসেইন (পাবনা-৫), আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন (যশোর-২), আব্দুল ওয়াদুদ (বাগেরহাট-৩), আবদুল আলিম (বাগেরহাট-৪), মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), আবুল কালাম আযাদ (খুলনা-৬), রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১), ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫) ও হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬) । হাইকোর্টে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণার পর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই দল হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই জামায়াতের। তবে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিংবা নিবন্ধিত অন্য কোনো দলের প্রার্থী হয়ে সেই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এরই মধ্যে জানিয়েছেন, অনিবন্ধিত কোনো দল নিবন্ধিত কোনো দলের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ইসির কিছু করার থাকবে না। এই বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা নেই।
নির্বাচনে শরিক দলগুলোকে ৬০টির বেশি আসন দিচ্ছে বিএনপি: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোকে বিএনপি ৬০টির বেশি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল জানান, জামায়াত ছাড়া ২০ দলকে ১৫টি আসন ছাড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত। তবে ঐক্যফ্রন্টকে কতটি ছাড়া হয়েছে তা জানাননি তিনি। সব মিলে কতটি আসন বিএনপি ছাড়বে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মোর দেন সিক্সটি হবে। এটা এদিক-সেদিক হতে পারে এছাড়া এখন পর্যন্ত বিএনপি ৮০০ মনোনয়ন চিঠি বিতরণ করছে বলে জানান ফখরুল।
উচ্চ আদালতের রায় সরকারের হস্তক্ষেপে এসেছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: দণ্ড স্থগিত না হলে ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্যতা থাকবে না বলে উচ্চ আদালতের রায় সরকারের হস্তক্ষেপে এসেছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে ঠেকাতে চাইছে। বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদনের পর মঙ্গলবার এক রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেই ভোটে দাঁড়ানো যাবে না। দণ্ড বাতিল অথবা স্থগিত হতে হবে এবং জামিন পেতে হবে। সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, আবদুল ওহাব ও মশিউর রহমান সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ হয়। আর এই রায়ের ফলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ভোটে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফল ঘটেছে। ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে প্রতিহত করার জন্যই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। গুলশানে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফখরুল। বলেন, যড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার এ চক্রান্ত জনগণ মানবে না। শরিকদের মধ্যে কে কতগুলো আসনে পাচ্ছে এমন প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টকে মিলিয়ে ৬০টির বেশি আসন দেওয়া হবে না। আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩১ জানুয়ারি
অনলাইন ডেস্ক :দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩১ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।মঙ্গলবার রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকা-২ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএইচএম রুহুল ইমরান আসামি পক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।বিএনপি চেয়াপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন তার পক্ষে হাজিরা দাখিল করেন।মামলার অভিযোগ:দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। ওই বছরই ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (মৃত), সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদ (মৃত), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার (মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এসআর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।এরই মধ্যে দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে রায়র ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি।

রাজনীতি পাতার আরো খবর