খালেদা জিয়ারটা বিলম্বিত করা হচ্ছে-অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত
একই মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন উচ্চ আদালতে বহাল রাখার পরও তিনি এখনো কেন মুক্তি পাচ্ছেন না দেশের মানুষের কাছে এটা বড় প্রশ্ন। এর প্রধান কারণ হলো নিম্ন আদালত।’ তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় তিনটি, নড়াইলে একটি ও ঢাকায় দুইটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এগুলো একেবারে নিষ্ক্রিয় ও হয়রানিমূলক মামলা ছিল। এই ছয়টা মামলায় অন্য আসামিরাও কিন্তু জামিনে মুক্ত আছেন। এই যে বৈষম্যটা দেশনেত্রীর ক্ষেত্রে করা হচ্ছে, শুধু তার জামিন বিলম্বিত করার জন্য।’ জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে করা ৩৬টা মামলায় জামিন হয়েছে। শুধু এই ছয়টি ছাড়া। এসব মামলায় হাইকোর্ট নিম্ন আদালতকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দিয়েছেন। নড়াইল ও কুমিল্লার মামলায় শুনানি হলেও আদেশ দেবে যথাক্রমে ১৭ জুলাই ও ৮ আগস্ট। কত নিচু মনের সরকার!’ তিনি দাবি করে বলেন, ‘নিম্ন আদালতকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। এজন্য নিম্ন আদালতের বিচারকরা এমনটা করছেন। তা না হলে হাইকোর্টের আদেশের পরও নিম্ন আদালতের বিচারকরা মানছেন না। এটা ভয়ঙ্কর একটা বিষয়। এটা আদালত অবমাননার শামিল তো বটেই, এটা বড় অপরাধও।’ এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতাদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৯ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিও পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়ার একটি মামলায় একটি আদেশ দেয়া হয়েছে। যে আদেশটি আমাদের বিম্মিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। গোটা জাতি আজকে বিক্ষুব্ধ হয়েছে। আপিল বিভাগ থেকে এই আদেশটি হয়েছে।’ বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশনেত্রীকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে কারাগারে আটক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি ‘যথাসময়ে গণমাধ্যমকে’ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সরকারের পেটোয়া বাহিনী’র হামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন ও নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুল কাইয়ুম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে মার্কিন দূতাবাস: জয়
বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন অভিযোগ করেন। জয় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস অনেকটা বিএনপির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মন্তব্যগুলোই তারা পুনরাবৃত্তি করছে এবং অনিয়মের কথা বলছে অথচ নির্বাচনে বিএনপির সহিংসতা চালানোর চেষ্টা নিয়ে কিছুই বলছে না।’ ‘নির্বাচনে ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি অর্থাৎ ২.১ শতাংশ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছিল। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করে। আমাদের নতুন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী হাসান থেকে ২ লক্ষের বেশি ভোট, অর্থাৎ দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সকল নির্বাচনী পর্যবেক্ষক একমত যে অনিয়মের অভিযোগ যা এসেছে তা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।’ উল্লেখ করেন তিনি। জয় আরও লিখেছেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমানের ফোনালাপ থেকে আমরা জানতে পারি যে তার দল সহিংসতা তৈরি করার মাধ্যমে নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল।’ তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের বক্তব্যে এই বিষয়টিকে কিন্তু এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। তাই বক্তব্যটি বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেরই বলে ধরে নেয়া যায়। বুঝাই যা যাচ্ছে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের বিএনপির বন্ধুদের সাথে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছেন আজকাল।
কোটা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার বিষয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (০২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বর্তমান আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর গণবিরোধী কার্যকলাপ এখন বীভৎস রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেজন্য সরকার জনগণের ভেতরের নানা শ্রেণিপেশার মানুষের পক্ষ থেকে কোনো দাবির আওয়াজকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে দ্বিধা করে না। তাদের ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবিকে অগ্রাহ্য করতেও পিছপা হয় না। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, কোটা সংস্কার নিয়ে ইতোপূর্বে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের ওপর ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলা করে আন্দোলনকারীদের গুরুতর আহত করা ও পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো কখনোই সুস্থ মানসিকতার পরিচয় বহন করে না। দেশের বিবেকবান কোনও মানুষই সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এ ধরনের বিবেক বর্জিত নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন মেনে নিতে পারে না।
খালেদাসহ তিন আপিল শুনানি একসঙ্গে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে অপর কারাবন্দি দুইজনের আপিল এবং খালেদার সাজা বৃদ্ধিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিভিশন আবেদনের শুনানি একইসঙ্গে হবে। রোববার (০১ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই আপিলসহ দুদকের আবেদনের শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ধার্য করেন। গত বুধবার খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানির জন্যও ৩ জুলাই দিন ঠিক করেছিলেন। আদালতে ছিলেন- দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা প্রমুখ। মামলায় ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুইজন হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, এই মামলায় দণ্ডিত ছয় আসামির মধ্যে তিনজন কারাবন্দি। বাকিরা পলাতক। ইতোমধ্যে কারাবন্দি তিনজনেরই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তাছাড়া দুদকের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে একটি রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। এখন খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে বাকি দুই আসামির আপিল এবং দুদকের রিভিশনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি একসঙ্গে হবে বলে ‍জানান দুদকের এই কৌসুলি। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে খালেদার ছেলে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় ছাত্রদলের নিন্দা
সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্রদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোবাবর (১ জুলাই) সকালে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আড়ালে এই অবৈধ সরকার আসলে প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। আর সেজন্যই আন্দোলনে যুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি, হুমকি-ধামকির মাধ্যমে তাদেরকে তটস্থ করে রেখেছে ছাত্রলীগ। শনিবার (৩০ জুন) তাদের ওপর হামলা একটি উদাহরণ মাত্র। ‘ইতিহাস স্বাক্ষী ঢাবি ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়ে কোনো স্বৈরশাসক ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। তথাকথিত কোটা পদ্ধতির কথা বলে অযোগ্য ও ছাত্রলীগ দেখে নিয়োগ দেওয়ার কারণে মেধাবীরা সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। যুক্তিসংগত ও নায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা প্রমাণ করে এই অবৈধ সরকার এখন আর কারও উচ্চ কন্ঠ শুনতে চায় না।’ বিবৃতিতে আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ যেভাবে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে এর দায় অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। আহত শিক্ষার্থীদের সুস্থতা কামনা করে তাদের সুচিকিৎসা এবং ক্ষতিপুরন দেওয়ার জোর দাবি জানান বিবৃতিতে।
তিন সিটি নির্বাচন শেষ পরীক্ষা: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য শেষ পরীক্ষা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত এক সমাবেশে মওদুদ আহমদ এ মন্তব্য করেন। মুক্তি বারতা তোমার হাতে দেশমাতা খালেদা জিয়াগানের সিডি উদ্বোধন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দলীয় সরকারের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নয়। তিনি বলেন, আসন্ন তিন সিটিতেও অংশ নেবে বিএনপি। এ তিন সিটি নির্বাচনের পর দলটি নতুন করে চিন্তা করবে যে, আর কোনো সাধারণ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করবে কিনা। কারণ এরই মধ্যে খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে অংশ নিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। গাজীপুরে কোনো নির্বাচন হয়নি মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার শত প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পরেও যারা পত্রিকা পড়েছেন, তারা দেখেছেন যে, গাজীপুরে কোনো নির্বাচন হয়নি। খুলনার পরে আমরা গাজীপুর নির্বাচনে গিয়েছিলাম দেশের মানুষকে জানাতে যে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং সুষ্ঠু এবং অবাধ হতে পারে না। এটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা বারবার প্রমাণ করতে চাই এবং এটাই হবে শেষ পরীক্ষা, সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য। এ সিটিগুলোর নির্বাচন যদি খুলনা ও গাজীপুরের মতো হয়, তাহলে প্রথমত আমরা প্রমাণ করতে পারলাম যে, একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কোনো দিন নিরপেক্ষ হয় না। দ্বিতীয়ত, আমাদের তখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে যে, সাধারণ নির্বাচন কোনো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই আমরা নির্বাচন করব কি করব না। এ তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের সেই পথ দেখিয়ে দেবে। সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে আছে। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের ভাগ্যে স্বাধীনতার পর আর আসেনি। চ্যালেঞ্জটা হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ। কেননা এগুলো সবকিছু আমরা হারিয়েছি। আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, বিলম্বিত হলেও খালেদা জিয়া আমাদের মধ্যে খুব শিগগিরই ফিরে আসবেন। তিনি মুক্তি পাবেন, এ মুক্তি কেউ আটকাতে পারবেন না। জামিন একটা মৌলিক অধিকার। জামিন তো মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নয়। আইনে যে কোনো মানুষের জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু এ আইনের অপপ্রয়োগ করে তার জামিন বিলম্ব করছেন তারা (সরকার)। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও কণ্ঠ শিল্পী মনির খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম রানা।
খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় যুক্তি উপস্থাপন পেছাল
কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাকে আজও আদালতে হাজির না করায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় যুক্তি উপস্থাপন ফের পিছিয়ে আগামী ১০ জুলাই ধার্য করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ তারিখ ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওইদিন পর্যন্ত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর জামিনের মেয়াদও বৃদ্ধি করেছেন আদালত। এর আগে আজও কারাকর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হওয়ার মতো শারীরিকভাবে সুস্থ নন মর্মে আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠায়। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে শুনানি করেন।
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে দলটি।বুধবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সরকার আবারও প্রমাণ করল তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নির্লজ্জভাবে একের পর এক ভোট ডাকাতি করে সব নির্বাচনীব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করছে। খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসিচব।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আরও একটি কলঙ্কময় অধ্যায় সংযোজন হল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। বারবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে রায় ছিনিয়ে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। গাজীপুরের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আবার সেটি প্রমাণ করেছে।এ অবস্থার মধ্যেও আসছে সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী সিটি নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আর সেটি আমাদের চলমান আন্দোলনের অংশ। যার মাধ্যমে জনগণের সামনে বর্তমান গণবিরোধী সরকারের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কারণ এটি আমাদের আন্দোলনের অংশ। এর মাধ্যমে জনগণের সামনে সরকার ও ইসির চরিত্র বের হয়ে আসবে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা ইসিকে বলব- আপনাদের সঠিক সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুন। একই সঙ্গে জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন।এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আবারও বলছি- বিএনপি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও পুনর্গঠন চায়। কারণ তারা তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তাই নতুন করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসিচব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এ সিটির ৪২৫টির মধ্যে ৪১৬টি কেন্দ্রের ফল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দীন মণ্ডল আজ সকালে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে চার লাখ ১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি’ হওয়ায় নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই বিএনপি জালভোট, কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগ আনলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখতে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একত্রে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশে কারাগারে রাখতে (সরকার) রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক একাকার হয়ে গেছে।’ বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে দেওয়া পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল শুনানির জন্য ৩ জুলাই দিন ঠিক করার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এ সভাপতি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ডেথ রেফারেন্সের কত মামলা পড়ে রয়েছে ওইসব মামলার শুনানি করছেন না। শুধু খালেদা জিয়ার মামলা দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশে। জয়নুল আবেদীন বলেন, তারা (দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ) ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তাঁরা জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। খালেদা জিয়াকে কারাবাস দীর্ঘ করার অন্তরালে জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চাওয়া, মামলার দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখতে নানা কূটকৌশল করছে সরকার ও দুদকের আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগ ১৬ মে রায় ঘোষণা দেন। রায়ে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। গত ১৬ মে খালেদাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায় দেন। আপিল বিভাগের রায়ে অনুযায়ী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মামলা শুনানির জন্য আজ এই দিন ঠিক করেন। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে আজ শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন, ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার মো. ফজলুল রহমান জুয়েল,এ কে এম এহসানুর রহমান, এম আতিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর ওই দিন থেকেই পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বন্দি আছেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর