যাদের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র বাতিল হল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল-নিষ্পত্তির শেষ দিন আজ শনিবার। সকাল ১০ টা থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শেষ দিনে বাকি ২৩৩ জনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শেষ দিন আপিলে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে- মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্রগ্রাম-৫), মাওলানা আবু সাঈদ (চট্রগ্রাম-১১) এরশাদুর রহমান (নেত্রকোণা-১), মো. জাকির হোসেন (নেত্রকোণা-৫), শফী আহমেদ (নেত্রকোণা-৪), মো. ওয়ালিদুল (ময়মনসিংহ-৪), সামীউল আলম (ময়মনসিংহ-৩), এমএ রাজ্জাক খান (ময়মনসিংহ-৭), আলমগীর কবির (ময়মনসিংহ-৯), মাসুম বিল্লাহ (জামালপুর-৩), এসএম আসরাফুল হক (ময়মনসিংহ-১১), আহসানুল আলম কিশোর (কুমিল্লা-৩), রুহুর আমিন চৌধুরী (কুমিল্লা-১০)। এর আগে দুদিনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন ১৫৮ জন। বাতিল বা খারিজ হয়েছে ১৪১ জনের আপিল। দুই দিনে ৩১০টি আপিল শুনানি করে ইসি। বাকিগুলো পেন্ডিং রয়েছে।
ইসিতে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আজ
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কিনা তা আজ শনিবার নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করবে ইসি। কারাগারে থাকায় আপিল আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তবে তাঁর আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিবেন। আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ মনোভাব দেখালে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষে মনোনয়নপত্র কেনার মধ্য দিয়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা হয়। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন। গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন। আজ শনিবার তাঁর আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করার কথা। দুপুরের দিকে খালেদা জিয়ার শুনানি হতে পারে।
খালেদা জিয়া প্রার্থিতা পাবেন ন্যায়বিচার হলে: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে প্রার্থিতা বাতিল হলেও আপিলে বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার হলে খালেদা জিয়াও তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন,বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থীর আপিলে ন্যায়বিচার পাওয়া একধরনের বিজয়। ন্যায়বিচার পেলে বেগম খালেদা জিয়াও প্রার্থিতা পাবেন। নির্বাচন কমিশন আপিলে ন্যায়বিচার করায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নষ্ট করার জন্য প্রশাসন যুক্ত হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন,আমি উনার (কাদের) বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ, তিনি উনার দলের চেয়ে বিএনপি নিয়ে বেশি কথা বলেন। তিনি তো বলেছিলেন আমরা প্রার্থী পাব না। কিন্তু আমরা তো সারাদেশে ৮০০ প্রার্থী দিয়েছি।
বিএনপি মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থের লেনদেন করেছেন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থের লেনদেনের অভিযোগ করেছেন ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের নেতার অভিযোগ, টাকা নিয়েও অনেককে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ কারণে তারা বিএনপির বহু কেন্দ্রীয় নেতাকে খুঁজছে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক আলোচনায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কাদেরের অভিযোগ, টাকা নিয়ে মনোনয়ন দিতে না পেরে বিএনপির অনেক নেতা পালিয়ে গেছেন। বলেছেন, বিএনপিতে যারা টাকা দিয়েছেন তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মনোনয়নে জন্য। এখন প্রতিক্রিয়টা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। এবার বিএনপি ২৯৫টি আসনে মনোনয়নের চিঠি বিতরণ করেছে আটশর বেশি। তবে জমা পড়ে ৬৯৬টি। যাচাইবাছাইয়ে বাদ পড়ে যান ১৪১ জন। তবে আপিলে বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ৩৮টি ছাড়া বাকি প্রায় সব আসনেই বিএনপির একাধিক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা আর খেলাপি ঋণের কারণে বাদ পড়েছেন বহুজন। কাদেরের দাবি, বিএনপি যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তা সত্য নয়। প্রতি আসনে এত বেশি প্রার্থী দেয়ার কারণ মনোনয়ন বণিজ্য। টাকা পয়সা ছাড়া বিএনপিতে মনোনয়ন, এটা কল্পনাও করা যায় না। যারা মনোনয়ন পায়নি তারা এখন টাকার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ আবার মনোনয়নের টাকা নিয়ে ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এবার মনোনয়ন বাণিজ্যের খবর এসেছে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও। এই অভিযোগের পর মহাসচিবের পদ হারিয়েছেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তবে আওয়ামী লীগ এই সমস্যা থেকে মুক্ত বলে দাবি করেন কাদের। বলেন, আমি এতটুকু বলতে পারি এই মনোনয়ন বাণিজ্য আওয়ামী লীগকে স্পর্শ করেনি। এতে করে বড় ধরনের স্বস্তি আমরা পাচ্ছি। আমাদের প্রতিপক্ষ ঐক্যফ্রন্টের যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া তাতে ১৪১ জন বাদ পড়ার পরও ৫৫৫ জন রয়ে গেছে। তাদের মনোনয়নের যে রমরমা কারবার এবার সবাই লক্ষ্য করেছে।
চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি বিতরণ শুরু মহাজোটে
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনের লড়তে দলের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি বিতরণ করছে আওয়ামী লীগ। হাত আরো তিনদিন সময় থাকলেও আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যেই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির বৈঠকে এ কথা জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতা। গত ২৫ নভেম্বর বিভিন্ন আসনে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। আর যাচাইবাছাই শেষে ২৬৬ আসনে দলের ২৭৮ জন বৈধ প্রার্থী থেকে যায়। এর মধ্যে ১২টি আসনে একজন করে বিকল্প প্রার্থী রয়েছে। আবার মহাজোট করতে জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট এবং ১৪ দলকেও আসন ছাড় দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ৩০টি, ১৪ দলকে ১৫টি এবং যুক্তফ্রন্টকে ছয় থেকে সাতটি আসনে ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। এর বাইরে আরও ২০টির মতো আসন নিয়ে জোটের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কাদের জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই জোটের প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে ৩০০ নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের হাতে এই চিঠি পৌঁছে যাবে। আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের এবং জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের নেত্রী দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে দলের এবং জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করেছি। আওয়ামী লীগের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া সহজ ছিল না জানিয়ে কাদের বলেন, দল অনেকদিন ধরে ক্ষমতায়, অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল এবং জমা দিয়েছে। এর মধ্য থেকে সঠিক প্রার্থী বাছাই করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও একটা সুবিধা ছিল আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সাত বছর ধরে ছয় মাস অন্তর অন্তর সার্ভে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। পাঁচ থেকে ছয়টি দেশি-বিদেশি সংস্থা এই জরিপ কার্য সম্পাদন করেছে। ছয় মাস পর পর এটা আপডেট হয়েছে। আমাদের এবারের নমিনেশনে এই জরিপ রিপোর্টগুলো মূল ভূমিকা পালন করেছে। জরিপ রিপোর্টগুলো আপডেট করাতে আমরা আমাদের প্রার্থীদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছি। জরিপ এর বাইরে ও প্রশাসনিকভাবে পুলিশ প্রশাসন সিভিল প্রশাসন বিভিন্ন লেভেলেও আমরা সার্ভে করিয়েছি। শরিক এবং বিরোধী পক্ষের প্রার্থীদের নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় জরিপ করা হয়েছে বলেও জানান কাদের। বলেন, এতে করে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষের যেমন বিএনপি এবং অন্যান্য অপজিশন যারা আছে এলাকায়, তাদের অবস্থান কী সে সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে পেরেছি। এতে শুধু আমাদের দলের অবস্থানটাই পরিষ্কার হয়নি, আমরা অন্যান্য দলের জনমত জরিপের অবস্থান বুঝতে পেরেছি। এসব বিচার-বিবেচনা করে আমরা মনোনয়ন বোর্ড কয়েক দফা মিটিং করে মনোনয়ন পর্ব শেষ করেছি।
আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ বিকল্পই বাদ
অনলাইন ডেস্ক: আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগকেই হতাশ হতে হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, মূল প্রার্থীরা টিকে যাওয়ায় বিকল্পদের দলের প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যে ১২টি আসনে একজন করে বিকল্প নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজনের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এদের মধ্যে একজন আবার একটি শরিক দলের প্রধান। গত ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর মোট ২৬৬ আসনে প্রার্থী দেয় আওয়ামী লীগ। ১৪টি আসনে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয় দুইজনকে। এদের মধ্যে দুইজন জমা দেননি। ফলে ১২টি আসনে রয়ে গেছে দুইজন করে প্রার্থী। ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রার্থিতা জমা এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়ে গেছে। বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিলও করেছেন। তাদের আবেদন নিষ্পত্তি হবে আগামী তিন দিন। আর ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। সেদিন রাজনৈতিক দলগুলো জানিয়ে দেবে, কোন আসনে তাদের দলের প্রার্থী কে। ফলে বিকল্প কারও পক্ষে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী দেয়ার কারণ ছিল, পছন্দের প্রথম প্রার্থীর বিষয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা। তবে যাচাই-বাছাইয়ে সবাই বৈধ প্রার্থী হয়ে গেছেন, ফলে বিকল্পদের বেশির ভাগকে নিয়ে আর ভাবতে চাইছেন না তারা। এর মধ্যে একটি আসন ছিল কিশোরগঞ্জ-১। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই আসনের সংসদ সদস্য। তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন থাইল্যান্ডে। তাকে নিয়ে আশঙ্কা ছিল দলে। এ কারণে মশিউর রহমান হুমায়ুনকে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়। তবে আশরাফের অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো এবং চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি হাঁটাচলাও করছেন। আর তার মনোনয়নপত্র বৈধও ঘোষণা হয়েছে। এই অবস্থায় আশরাফকেই প্রার্থী করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। হুমায়ুন অবশ্য এরই মধ্যে নিজ উপজেলা হোসেনপুরে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও নানাভাবে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ ভরসা রাখতে পারে পুরনো কান্ডারি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ওপর। তিনি চারবার এই আসন থেকে জিতেছেন। তার মনোনয়ন বৈধ হয় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তাই সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরকে। বৈধ হয়েছে দুইজনেরই মনোনয়ন। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, শম্ভু আমাদের পরীক্ষিত প্রার্থী। বারবার জিতেছেন। প্রমাণ দিয়েছেন জনপ্রিয়তার। তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এখন প্রার্থী পাল্টানোর যুক্তি দেখছি না। টাঙ্গাইল-২ আসনে প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী তানভীর হাসান (ছোট মনির)। পরে বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় মশিউজ্জামান রুমেলকে। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে। ছোট মনি মনোনয়নের চিঠি পাওয়ার পর গণমাধ্যমে খবর আসে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানিরও নাগরিক। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কেউ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেনি বা তুললেও টেকেনি। এই আসনটিতে ছোট মনিরের বদলে রুমেলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, রুমেলের বাবা সংসদ সদস্য, বয়সের কারণে ভোটে লড়তে পারছেন না, কিন্তু ব্যাপক জনপ্রিয়। রুমেলও কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। তাকেই হয়তো শেষ পর্যন্ত আমরা বেছে নেব। ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লা আবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। ২৫ নভেম্বর তার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকেও দেয়া হয় দলের চিঠি। এই আসনটিতে হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছেন। হেরেছেন একবার। সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে প্রায় ৫৪ হাজার ভোটে পরাজিত করেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষিত সেনাকেই বেছে নেয়া হতে পারে। ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিমের মনোনয়ন বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগের। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার সাজা হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালতে সেই রায় টেকেনি। যদিও এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক। যাচাই-বাছাইয়ে হাজী সেলিমের মনোনয়ন বৈধও ঘোষিত হয়েছে। তাই চূড়ান্তভাবে তাকেই দলীয় প্রতীক দেয়া হতে পারে। এই আসনে হাজী সেলিম ২০১৪ সালে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই এ আসনে তার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতকে। যাচাই-বাচাইয়ে তার মনোনয়নও বৈধ ঘোষিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে আওয়ামী লীগেরও সন্দেহ ছিল তিনি (সেলিম) নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই ওই আসনে দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী আইনে তিনি টিকে গেছে এখানে। তো আমাদের কিছু করার নেই। ঢাকা-১৭ আসনের আকবর হাসান পাঠান ফারুকের মনোনয়ন স্থগিত করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে ফারুকের বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খানকে। দুইজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে ফারুককেই এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সম্পাদকম-লীর একজন সদস্য। আসনটি চাইছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও। ২০০৮ সালে এই আসনটি তাকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেখানে তাকে ছাড় দেয়া হবে কি না, এই বিষয়টি নিশ্চিত নয়। জামালপুর-১ আসনের আবুল কালাম আজাদের বিকল্প প্রার্থী নূর মোহাম্মদ। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের প্রার্থিতাই বহাল রয়েছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নে এগিয়ে আছেন সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ মিলে আসনটি। এর মধ্যে বকশীগঞ্জের নেতাকর্মীরা আজাদকে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তারা সবাই নুর মোহাম্মদের পক্ষে। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে আজাদ চারবারের সংসদ সদস্য। আর এরই মধ্যে দলের সবুজ সংকেত পেয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। ভোট পান হিসেবে ৪৯ হাজার ৬৪৯টি। এক লাখ ১৫ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে জেতেন আজাদ। ধানের শীষে পড়ে ৭০ হাজার ৬৮০ ভোট। তবে কপাল খুলতে পারে জামালপুর-৫ আসনের বিকল্প প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের। এই আসনে ১৯৯৬ সাল থেকেই জিতে আসছেন রেজাউল করিম হীরা। জিতেছেন মোট চারবার। এবারও পেয়েছেন দলের মনোনয়ন। তবে শিল্পপতি মোজাফফর এলাকায় এসে হীরার রাজত্বে ভাগ বসাতে চাইছেন। জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী তার পক্ষে অবস্থানও নিয়েছে। আর তার সমর্থকরা মনোনয়নের সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করছেন। এরই মধ্যে হীরার অনুসারীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। চাঁদপুর-১ আসনে মহিউদ্দীন খান আলমগীরের পাশাপাশি গোলাম রহমানকে এখানে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। দুইজনই সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মহিউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা হয়েছিল দুর্নীতির মামলায়। তবে উচ্চ আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেয়। এর বিরুদ্ধে আবার আপিল করেছে দুদক। তাই তার মনোনয়ন বৈধ হয় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দলের একজন সম্পাদকদ-লীর সদস্য জানান, দুইজনকে মনোনয়ন দেয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তাকে বাদ দেয়া কঠিন। চাঁদপুর-২ আসনে প্রথমে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে একাই মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়। দুই দিন পর চিঠি দেয়া হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল আমিন রুহুলকেও। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের মনোনয়ন ফরমই বৈধ ঘোষণা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের আমলে সাজা হয়েছিল মায়ার। পরে উচ্চ আদালতে পেয়েছেন খালাস। আপিল বিভাগের নির্দেশে সেই মামলা আবার শুনানির পর এসেছে একই রায়। ফলে মায়ার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। চাঁদপুর-৪ আসনেও দুইজনকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ২৫ নভেম্বর শামছুল হক ভূঁইয়াকে এবং দুই দিন পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামকে বিকল্প প্রার্থী করা হয়। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর এতে শামসুলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া বেড়ে গেছে। শামসুল হক ভূঁইয়ার খেলাপি ঋণ থাকতে পারে বলে তথ্য ছিল। তিনি ফারমার্স ব্যাংক থকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি বলে অভিযোগ আছে। তবে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসায় খেলাপি হিসেবে তাকে বিবেচনার সুযোগ ছিল না। নড়াইল-১ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি এবং জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। রিটার্নিং কর্মকর্তা দুইজনেরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, এই আসনে আম্বিয়াকে ছাড় দেয়া হবে এবং এরই মধ্যে তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। দুইজন জমা দেননি চিঠি মনোনয়নের চিঠি পেয়েও প্রার্থিতা জমা না দেয়ায় আগেই বাদ পড়ে গেছেন দুইজন। এরা হলেন বরিশাল-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস এবং বরিশাল-৫ আসনে জেবুন্নেসা হিরন। বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহে আলম। আর বরিশাল-৫ আসনে নৌকা নিয়ে লড়বেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম।
একদিনও শান্তিতে ঘুম হয়নি এরশাদের ক্ষমতা ছেড়ে
অনলাইন ডেস্ক: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নয় বছরে নামের পেছনে জুড়ে যায় স্বৈরাচারী খেতাব। পতন হয়েছে গণ আন্দোলনে। নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। তবে ৩৫ বছর পরেও তিনি ক্ষমতাদর্শী। ফের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ১৯৯১ থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে এরশাদ ছিলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালেও তাকে এবং তার দলের অবস্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ক্ষমতার মোহ এখনো তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ক্ষমতার মোহ থেকে এরশাদ যে এখনো বেরিয়ে আসতে পারেননি নানা সময়ে তার বক্তব্যে সেটা প্রকাশ পেয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও নানা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাপার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটর মহাসমাবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিজের জীবনের শেষ নির্বাচন বলে উল্লেখ করেন এরশাদ। বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে সব থেকে প্রবীণ আমি। রাজনৈতিক জীবনে সবেচেয়ে বেশি জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি আমি। ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে একদিনের জন্য শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। ২৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিজ দলের এক সভায় তিনি বলেন, যদি আবার ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে শান্তি ফিরে আসবে, সমস্ত ব্যথা-বেদনা দূর হবে। একবার হলেও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে মরতে চাই আমি। আবার নতুন সূর্য উঠবে, এই অপেক্ষায় আছি। মামলার ভয় ক্ষমতাচ্যুতির পর বিএনপি সরকারের আমলে এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এরশাদকে প্রথম গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়। এরপর ১৯৯২ সালে ক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া। পতনের পর এরশাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৪২টি মামলা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে তিনি সাজা ভোগ করেন। খালেদা সরকারের মেয়াদের পুরোটাই জেল খাটতে হয় এরশাদকে। এ সময় আওয়ামী লীগের পাশে থেকে খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এরশাদের জাতীয় পার্টি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে কারামুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোটে যোগ দেন এরশাদ। ২০০১ সালে ভোটের আগে ছেড়ে দেন মোর্চা। তবে তার দলের একটি অংশ থেকে যায়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক ধরনের আপসরফা করে নিজেকে বিপদমুক্ত রাখেন এরশাদ। ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আবার তাকে জোটে নেয়ার চেষ্টা করে বিএনপি। তবে এরশাদ বিএনপি জোটে না গিয়ে এবার আসেন আওয়ামী লীগে। সেনা সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে দুই শীর্ষ রাজনীতিক শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া জেল খাটলেও এরশাদ ছিলেন ধরার বাইরে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের ভোটে আওয়ামী লীগের মহাজোটে শরিক ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ দুই নৌকায় পা দেয়ার চেষ্টা করেন। ভোটে আসার ঘোষণা দিয়েও পরে দেন বর্জনের ঘোষণা। তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আর স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে একটি অংশ যায় ভোটে। জিয়ার পরামর্শক থেকে ক্ষমতা দখল পূর্বসুরী সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের সামরিক ও রাজনৈতিক পরামর্শকও ছিলেন এরশাদ। অভিযোগ আছে, তার পরামর্শেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দূরে ঠেলে দেন জিয়া। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদের নির্দেশেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা আবুল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন থেকেই উচ্চাকাক্সক্ষা বাড়তে থাকে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এরশাদ। জারি করেন সামরিক শাসন। এবার কী করবেন এরশাদ? জাতীয় নির্বাচনে এরশাদকে নিয়ে আবার রহস্য তৈরি হয়েছে। তাকে নিয়ে একেকদিন একে রকম খবর আসে। সত্যমিথ্যা নির্ণয় করা কঠিন। তাকে সবশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায় ২০ নভেম্বর। সম্প্রতি মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে তার দলের মহাসচিবকেও বদল করেছেন। এ ব্যাপারে বিবৃতি দিলেও এরশাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এরইমধ্যে তিনি অসুস্থ, সিএমএইচে ভর্তি, চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুর যাবেন, এমন খবরও আসে। তবে তার কোনোটাই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও গত মঙ্গলবার তার নতুন মহাসচিব জানান, তাদের চেয়ারম্যান এরশাদ অসুস্থ অবস্থায় বাসায় একা থাকতে ভয় পান বলেই মাঝেমধ্যে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান। মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর দলীয় অবস্থা বিবেচনা করে এরশাদ ১০ ডিসেম্বরের পর চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেন। জাতীয় নির্বাচন এলেই এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা আলোচনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই এমপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয় তাকে।
মনোনয়ন বৈধ রনির
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার অভিযোগে তার মনোনায়নপত্র বাতিল হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন রনি। বৃহস্পতিবার ওই আপিলের শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন রনিসহ ৫৪৩ জন। আজ থেকে টানা তিনদিন এসব আপিল আবেদন শুনানি নিষ্পত্তি করবে ইসি। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।