সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে :এরশাদ
আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে বলে দাবি করেছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শনিবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে দলের কর্মীসভার যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। এরশাদ বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দলটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টিই সরকার গঠন করবে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নানা অপকর্মের ফলে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে জাতীয় পার্টির সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। এ সময় জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরে যাওয়ার আগেই এ সপ্তাহে আ'লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা হতে পারে
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফরে যাওয়ার আগেই চূড়ান্ত করতে পারেন দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ২০১৮। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার কাছে ৩৬ সদস্য কমিটির একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে এ কমিটি হবে ২১ অথবা ১৯ সদস্যের। আজকালের মধ্যেই কমিটি চূড়ান্ত করে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, খসড়া তালিকা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা হয়েছে। তিনি যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির আকার চূড়ান্ত করবেন। সূত্র মতে, গতবারের কমিটি ছিল ১৭ সদস্যের। এবার তা বাড়িয়ে ১৯ অথবা সর্বোচ্চ ২১ সদস্যবিশিষ্ট করা হতে পারে। দলের সভাপতির বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টরা ৩৬ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব রয়েছে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নাম। রীতি অনুযায়ী সদস্য সচিব হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম রয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে শেষ নামটি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছারের। এছাড়া এতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ড. মশিউর রহমান, ড. রাশিদুল আলম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্ল্যাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু এবং চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমানের নাম রয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত কমিটিতে আট সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নামও রয়েছে। সম্পাদকীয় পদের মধ্যে প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যদের মধ্যে নাম রয়েছে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, আখতারুজ্জামান, মেরিনা জাহান প্রমুখ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, তারা আশা করছেন, আজকালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কমিটি চূড়ান্ত করবেন। এতে তিনি সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন। প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে বেছে নেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দু’একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে তিনি যাই করুন বিদেশে যাওয়ার আগেই চূড়ান্ত করে যাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের বাদশাহের আমন্ত্রণে মিলিটারি এক্সারসাইজ ‘গালফ্ শিল্ড-১’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আগামীকাল রোববার বিকাল ৪টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যুক্তরাজ্য হয়ে দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২২ এপ্রিল দেশে ফিরে তিনি আবার ২৬ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন এবং ৩০ এপ্রিল দেশে ফিরবেন।
অডিও ভাইরাল ছাত্রী নির্যাতনকারী সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর
কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এষা কিভাবে দরজা লাগিয়ে হলে সাধারণ ছাত্রীদের উপর নির্যাতন করার পাশাপাশি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ-বিস্তার ও দখলদারিত্ব কায়েম করেছে তার প্রমাণ একটি অডিও রেকর্ডে শোনা গেছে। পাঠকদের জন্য দেয়া হল- অডিও রেকর্ডের শুরুতে এষা তার রুমে বসে সাধারণ ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে ধমকাচ্ছেন-এমন শোনা যায়। এষা : এই তোরে অনেক দিন দেখা যায় না। তুই না কি আমারে নিয়ে কি সব বলছিস রুমের মধ্যে? কি বলসিন সাধারণ ছাত্রী : কে বলছে? এষা : যেই বলুক তোর কোন জেনে লাভ আছে । কেউ না কেউ তো বলসে যারা শুনছে। নাইলে বাতাসে ভেসে তো আর আমার কানে কথাটা আসে নাই। চেটাং চেটাং কথা বলা বাদ দিস। নাইলে তোর মত শ্রাবণীকে এখানে মারতে মারতে মেরে ফেলব। আমারে তো চিনোস নাই যা বলবি পঞ্চাশবার ভেবে বলবি । এই কথার কারণে বহুবার অনেকেরে জীবন খারাপ অবস্থা নেমে এসেছে। আপা স্লামলাইকুম বলে আরেক ছাত্রী এষার রুমে ঢুকলে তাকেও জেরা করতে শুনা যায়। তখন এষা তাকে জিজ্ঞাসা করে তোর নাম ফেসবুকে জান্নাতুল ফেরদৌস আশা। আরেক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, না আপা আমার নাম জান্নাতুল সুমী। এষা : গতকাল কারা কারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়েছিলি। হাত তোল। এই তুই ভাব নিয়ে দাড়ায় আাসোস কেন? সোজা হয়ে দাড়া। তোরা যে প্রিন্স ভাইয়ের কথায় গেছিস। প্রিন্স ভাই কি হলের কেও। তারে ফোন দে ডাক দে বল তোর এষা আপা ডাকছে। আজকে কারা গেছিলি হাত তোল। তুই গেসিলি। তোরা আমারে ধানায় পানায় বুজদিস, আমার উঠে নাই না কি?
উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন এরশাদ পহেলা বৈশাখে
চারদিনের সফরে পহেলা বৈশাখ রংপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই সফরে তিনি রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় দলীয় ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই দিন সকাল পৌনে ১০টায় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। দুপুর ১২টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি রংপুর সার্কিট হাউসে উপস্থিত থাকবেন এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় গুপ্তপাড়ায় রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেল ৫টায় রংপুর পল্লীনিবাসে জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেবেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৬ এপ্রিল দুপুর ১২টায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বিকেল ৪টায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কুমড়ীরহাট এসসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। ১৭ এপ্রিল দুপুরে রংপুর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজধানীতে ফিরবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৪ জুন:গ্যাটকো মামলায়
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া শুনানি পেছানোর আবেদন করলে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক আতাউর রহমান আবেদন মঞ্জুর করেন এ দিন ধার্য করেন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। পরে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এর তিনদিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেন। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী। তবে মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ২০।
মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদেরের সমবেদনা
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মায়ের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে টেলিফোন করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দুপুর মির্জা ফখরুলকে টেলিফোন করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মির্জা ফখরুলকে টেলিফোনে ওবায়দুল কাদের বলেন, মায়ের মৃত্যুর বেদনা আমি বুঝি। কিছু দিন আগে আমারও মাতৃ বিয়োগ ঘটেছে। আপনি অতিদ্রুত এই শোক কাটিয়ে ওঠেন এটাই প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনাকে সমবেদনা জানাই। এ সময় মায়ের দাফন কোথায় হবে জানতে চান ওবায়দুল কাদের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঠাকুরগাঁও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খালেদার পক্ষে লড়বেন ৩শ - আইনজীবী
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা বাড়ানোর জন্য জারি করা রুলের উপর শুনানি করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়তে ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের স্বাক্ষরের পর তা গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন,সিনিয়র আইনজীবীসহ অসংখ্যা আইনজীবী রয়েছেন বেগম খালদা জিয়ার পক্ষে লড়াই করার জন্য। তাদের সংখ্যা তিন শতাধিক হবে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আইনজীবীদের তালিকা সম্বলিত ওকালতনামা আমি নিজে জমা দিয়েছি। এখন রুলের শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অংশ নেবেন ওকালত নামায় স্বাক্ষরকারী আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির জন্য হাইকোর্ট ইতোপূর্বে যে রুল জারি করেছিলেন তা আইনগতভাবে মোকাবেলা করার জন্য আইনজীবীরা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওকালত নামা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে মামলায় লড়বেন অন্য আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদআহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মাদ আলী, সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজাক খান, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির, সাবেক মন্ত্রী ও ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধরী। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈয়মুর আলম খন্দকার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও দলের যুগ্ম-মহাসিচব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বারের সাবেক সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার বদরোদ্দোজা বাদল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান, মির্জা আল মাহমুদ জাকির হোসেন ভুঁঞাসহ প্রায় তিন শতাধিক আইনজীবী। খালেদা জিয়ার দণ্ড থেকে খালাস পাওয়ার জন্য করা আপিল আবেদনের শুনানিতে ৫৩ জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে প্রধান করে করা আইনজীবী প্যানেলের ৫৩ সদস্যই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এবার ঢাবি থেকে বহিষ্কার ছাত্রলীগ নেত্রী এশা
কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন ও এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত আরা এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি এশাকে হল থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এদিকে একইসাথে তাকে সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। জানা যায়, সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে এশার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়। পরে আন্দোলন থেকে ফিরে আসলে তাদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে এশা নিজ হাতে মোরশেদা বেগম নামের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ করে হলের ছাত্রীরা। হলের সিঁড়ি ও মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, গতকালও আন্দোলন থেকে ফেরত ছাত্রীদেরকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন এশা। গতকাল সেটি ভয়ে কেউ স্বীকার করতে চায়নি। আজকেও একইভাবে সে ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালালে হলের ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে ওঠে। এদিকে ছাত্রী নির্যাতনের প্রতিবাদে সুফিয়া কামাল হল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছাত্রদের হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হয়। এদিকে জিয়াউর রহমান হল সহ কয়েকটি হলে ছাত্রদের বের হতে বাধা দিলে এক পর্যায়ের গেইটের তালা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ছাত্ররা। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা যায়, ঢাবির পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টিএসসি, শহিদ মিনার সহ কয়েকটি জায়গায় ছাত্ররা বিক্ষোভ ও মিছিল করছে। এদিকে ছাত্রী হলের নিরাপত্তায় পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে মুক্তি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান। আলালের মুক্তির বিষয়টি জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ডেপুটি জেলার মো. মাসুদ হোসেন জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে এ কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে কিছু দিন তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারেও বন্দি ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে নয়াপল্টন কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি শেষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন আলাল। সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হলে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে।