রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯
বিএনপির টিকিট পেলেন বেবী নাজনীন ও কনকচাঁপা
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বেশকিছু দল থেকে এবার একাধিক তারকা মনোনয়নপত্র কিনেছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াই করবেন তারা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে চিত্রনায়ক ফারুক, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মাশরাফি বিন মর্তুজা মনোনয়ন পেয়েছেন। রোববার এই তারকাদের নাম ঘোষণা করে সরকারদলীয় আওয়ামী লীগ। এদিকে সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষিত হয়েছে। এদিন দুপুর থেকেই রংপুর বিভাগ দিয়ে শুরু হয়েছে নাম ঘোষণার কার্যক্রম। মনোনয়ন পাওয়াদের তালিকায় নিজেদের নাম শোনার অপেক্ষায় ছিলেন চার তারকা। তারা হলেন- চিত্রনায়ক হেলাল খান ও তিন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান এবং বেবী নাজনীন। এর মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র কেনার পর থেকে এলাকার মানুষ আমাকে শুভেচ্ছা পেয়েছি। আমি সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিএনপিকেই চেয়েছি এবং পেয়েছি। মনোনয়ন পেলাম এবার বিজয়ের পালা। আরেক তারকা বেবী নাজনীনও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।। এই গায়িকা বলেন, আমি নীলফামারী-৪ আসনের এলাকার মানুষের জন্য আগে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেয়েছি। জয়িও হবো ইনশাআল্লাহ। আমার জন্মস্থান সৈয়দপুরে, আমি এলাকার মানুষের পাশে থাকতে এই নির্বাচনে অংশ নেব। ঝিনাইদহ-৩ আসনে মনোনয়নপ্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মনির খান। এখনো ঝিনাইদাহ-৩ আসনের কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। মনোনয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন চিত্রনায়ক হেলাল খান। তিনি সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, মনোনয়ন যারা পেয়েছে তাদের নাম ঘোষণা কেবল শুরু হয়েছে। আমার নাম জানতে জানতে পারিনি এখনো। তবে আমি মনোনয়ন পাবো বলেই আশা করছি। আগামীকাল দুপুরের আগেই জানাতে পারবো।
১১৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে গণফোরাম
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে গণফোরাম। দু-একদিনের মধ্যেই তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। লঞ্চিং গণফোরাম লিড পাবলিক পলিসি ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মন্টু বলেন, সাড়ে তিনশ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমে ১৪০ জনের নাম খসড়া তালিকা করা হয়। পরে ১১৩ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বুধবারের মধ্যেই আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। রাজনীতিতে ভাষার ব্যবহারে আরো সংযত হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতিবাচক-উসকানিমূলক ভাষা পরিহার করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
ভিন্নমত বিএনপির, স্বাগত জানিয়েছে আ'লীগ ইসির সিদ্ধান্তে
অনলাইন ডেস্ক: বিশেষ একটি দলকে সুবিধা দিতেই নির্বাচন কমিশন স্বপদে থেকে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উদ্দেশ্যমূলক। তবে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ বলছে, এর ফলে সব দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা অনেকটা সহজ হবে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বপদে থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দফায় দফায় চিঠি চালাচালি হয়। বিষয়টি তখন আদালতেও গড়ায়। আদালত সেসময় দ্বিধাবিভক্ত রায় দেয়। ফলে গত এক দশকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনে বিএনপিসহ কয়েকটি দল চিঠি দেয়। এসব বিষয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক করেন সচিব ও কমিশনাররা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের পদ লাভজনক সেহেতু এ পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, এর ফলে বড় দলগুলো থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা অনেক প্রার্থী আপনাআপনি বাদ পড়ে যাবে। ফলে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়াও অনেক সহজ হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আমাদের যারা নমিনেশন পেয়েছেন তাদের ভেতরে কিন্তু আমরা কোন উপজেলা চেয়ারম্যান বা জেলা পরিষদ, তাদের সুযোগ দেইনি। চার হাজারের ওপরে আমাদের মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে কমপক্ষে এক হাজার উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র বা এরকম প্রার্থী ছিল। তিনি বলেন, এতে সব দলের জন্য সুবিধা হবে। কারণ যখন আইনি বাধা থাকছে তাই তাদের এতটা সান্ত্বনা দিতে হবে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাইকে কিছু না কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার জন্য। তবে স্বপদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে বিএনপি বলছে, ইসি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এটার পেছনের উদ্দেশ্য কী তারাই বলতে পারবে। যে আইন ছিল সেই আইনে তো বহুদিন চলেছে। কেন পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে? নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্তগুলো একটা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে একটা গোষ্ঠী, দলকে সুযোগ দেয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন, এই সমস্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের তো কোন প্রয়োজন নাই। এগুলো তো চলে আসছে। কেউ যদি লোকাল গভমেন্ট থেকে সংসদে যেতে চায় তাকে বাধা দেয়ার তো কোন সুযোগ নাই। এটা তো সবার অধিকার। ২০০৮ সালে পৌর মেয়রের পদে থেকে এবং ২০১৪ সালে উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদে থেকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
যারা পেলেন বিএনপির মনোনয়ন
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া শুরু হয় সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্র দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ওই তিন বিভাগের মনোনয়নপত্র দেওয়া শেষ হওয়ার পর আংশিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা বিভাগের কিছু প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় দিনের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া শুরু হবে। মঙ্গলবারের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে । ঢাকা বিভাগ: আমানউল্লাহ আমান (ঢাকা-২); গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩); সালাহউদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৪); নবীউল্লাহ নবী (ঢাকা-৫); আবুল বাশার (ঢাকা-৬); মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৮); হাবীব-উন নবী সোহেল (ঢাকা-৯); আবদুস সালাম (ঢাকা-১৩)। খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১); সানাউল্লাহ মিয়া (নরসিংদী-৩)। চট্টগ্রাম বিভাগ: মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মামুনুর রশীদ (নোয়াখালী-১); জয়নুল আবদিন ফারুক ও জাফর ইকবাল (নোয়াখালী-২); বরকত উল্লাহ বুলু ও ডা. কাজী মাজহারুল ইসলাম (নোয়াখালী-৩); শাহিনুর বেগম (নোয়াখালী-৪); মওদুদ আহমদ (নোয়াখালী-৫), ফজলুল আজিম (নোয়াখালী-৬)। হাসিনা আহমেদ (কক্সবাজার-১); লুৎফর রহমান কাজল (কক্সবাজার-৩); শাহজাহান চৌধুরী ও মো. সালাহ্উদ্দিন (কক্সবাজার-৪); সাচিং প্রু জেরি ও উম্মে কুলসুম সুলতানা (বান্দরবান); দীপেন দেওয়ান ও মনি স্বপন দেওয়ান (রাঙামাটি); আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া (খাগড়াছড়ি)। শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১, এলডিপি); আবুল খায়ের ভুইয়া (লক্ষ্মীপুর-২); শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী (লক্ষ্মীপুর-৩); আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪)। খালেদা জিয়া (ফেনী-১); জয়নাল আবেদীন (ফেনী-২,ভিপি জয়নাল); আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩)। বরিশাল বিভাগ: জহির উদ্দিন স্বপন ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান (বরিশাল-১); সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ও শহীদুল হক জামাল (বরিশাল-২); সেলিমা রহমান ও জয়নাল আবেদীন (বরিশাল-৩); মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও রাজিব আহসান (বরিশাল-৪); মুজিবর রহমান সরোয়ার ও এবায়দুল হক চান (বরিশাল-৫); আবুল হোসেন খান ও রশিদ খান (বরিশাল-৬)। আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আলতাফ চৌধুরী (পটুয়াখালী-১); শহীদুল আলম তালুকদার ও তার স্ত্রী সালমা আলম (পটুয়াখালী-২); গোলাম মাওলা রনি, হাসান মামুন ও মো. শাজাহান (পটুয়াখালী-৩); এবিএম মোশাররফ হোসেন ও মনিরুজ্জামান মনির (পটুয়াখালী-৪)। আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১); হাফিজ ইব্রাহিম (ভোলা-২); হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (ভোলা-৩), নাজিমউদ্দিন আলম (ভোলা-৪)। শাহজাহান ওমর বীর উত্তম (ঝালকাঠি-১); রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও জেবা খান (ঝালকাঠি-২)। ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন (পিরোজপুর-১); রুহুল আমিন দুলাল ও কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিয়া (পিরোজপুর-৩)। মতিউর রহমান তালুকদার ও নজরুল ইসলাম মোল্লা (বরগুনা-১); নুরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২)। সিলেট বিভাগ: তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট-২); সুলতান মুহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২, ঐক্যফ্রন্ট)। ময়মনসিংহ বিভাগ: ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও এম আবু ওহাব আকন্দ (ময়মনসিংহ-৪)। রংপুর বিভাগ: মঞ্জুরুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ (দিনাজপুর-১); সাদিক রিয়াজ (দিনাজপুর-২); সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও মোজাম্মেল হোসেন দুলাল (দিনাজপুর-৩); হাফিজুর রহমান ও আক্তারুজ্জামান মিয়া (দিনাজপুর-৪); রেজাউল হক ও এসএম জাকারিয়া বাচ্চু (দিনাজপুর-৫); লুৎফর রহমান মিন্টু ও শাহীনুর ইসলাম মন্ডল (দিনাজপুর-৬)। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও তৌহিদুল ইসলাম (পঞ্চগড়-১); জাহিদুর রহমান, ফরহাদ হোসেন আজাদ ও জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২)। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১); মো. আবদুস সালাম ও জুলফিকার মুর্তাজা চৌধুরী তুলা (ঠাকুরগাঁও-২); জাহিদুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম জিয়া (ঠাকুরগাঁও-৩)। মোকাররম হোসেন সুজন (রংপুর-১); ওয়াহেদুজ্জামান মামুন ও মোহাম্মদ আলী (রংপুর-২); মোজাফফর আহমদ ও রিটা রহমান (রংপুর-৩), এমদাদুল হক ভরসা (রংপুর-৪); সোলাইমান আলম ও ডা. মমতাজ (রংপুর-৫); সাইফুল ইসলাম (রংপুর-৬)। সালাউদ্দিন হেলাল (লালমনিরহাট-২); আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট- ৩)। রাজশাহী বিভাগ: কাজী রফিকুল ইসলাম ও মো. শোকরানা (বগুড়া-১); আবদুল মুহিত তালকদার ও মাসুদা মোমেন (বগুড়া-৩); গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও জানে আলম খোকা (বগুড়া-৫); খালেদা জিয়া (বগুড়া-৬ ও ৭)। মো. আমিনুল হক (রাজশাহী-১); মিজানুর রহমান মিনু ও সাঈদ হাসান (রাজশাহী-২); এ কে এম মতিউর রহমান মন্টু ও শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩); মো. নাদিম মোস্তফা, মো. আবু হেনা, মো. নুরুজ্জামান খান মনির ও মো. আ গফুর (রাজশাহী ৪); আবু সাঈদ চাঁদ ও মো. নুরুজ্জামান খান মানিক (রাজশাহী-৬)। ফয়সাল আলীম ও মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১); মো. খলিলুর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা (জয়পুরহাট-২)। ডা. সালেক চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), শামসুজ্জামান খান ও খাজা নজিব উল্লাহ চৌধুরী (নওগাঁ- ২); রবিউল আলম বুলেট ও পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী (নওগাঁ-৩); শামসুল আলম প্রামানিক ও ডা. একরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪); জাহেদুল ইসলাম ধলু ও নজমুল হক সনি (নওগাঁ-৫); আলমগীর কবির ও শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (নওগাঁ-৬)। মো. শাহজাহান মিয়া ও বেলালী বাকী ইদ্রিসি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১); আনারুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২); আব্দুল ওয়াহেদ ও হারুনর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)। কনক চাঁপা ও নাজমুল হাসান রানা (সিরাজগঞ্জ-১); ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২); আব্দুল মান্নান তালুকদার ও আইনুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩); মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪, জামায়াত); রকিবুল করিম খান পাপ্পু ও আমিরুল ইসলাম খান আলিম (সিরাজগঞ্জ-৫); কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিশ ও এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬)। কামরুন্নাহার শিরিন ও তাইফুল ইসলাম টিপু (নাটোর-১); রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি (নাটোর-২); দাউদার মাহমুদ ও আনোয়ার ইসলাম আনু (নাটোর-৩); আব্দুল আজিজ (নাটোর-৪)। একেএম সেলিম রেজা হাবিব (পাবনা-২); কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (পাবনা-৩); হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম (পাবনা-৪); শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (পাবনা- ৫)। খুলনা বিভাগ: মনির খান (ঝিনাইদহ-৩)। মাসুদ অরুন (মেহেরপুর-১); আমজাদ হোসেন (মেহেরপুর-২)।
রনি বিএনপিতে যোগ দিলেন
অনলাইন ডেস্ক :আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। আজ সোমবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটিতে যোগ দেন তিনি। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমি আমার দল আওয়ামী লীগ থেকে সজ্ঞানে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। আমি আমার সমস্ত মেধা দিয়ে দেশ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে কাজ করবো। রনি বলেন, আমি স্বজ্ঞানে সুস্থ মাথায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিলাম। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে দেশের মানুষকে সেবা দানের জন্য যোগদান করলাম। এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি এবং মৃত্যু পর্যন্ত থাকবো ইনশাল্লাহ। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ২০ দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কঠিন সময়ে ও সংগ্রামে রনির যোগদান আমাদেরকে প্রেরণা যোগাবে। তার মতো মেধাবী ও দেশপ্রেমিক মানুষ বিএনপিতে যোগদানের জন্য অনুরোধ করছি। তাকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের সংগ্রাম দেশনেত্রীর নেতৃত্বে রনি যোগ দিলেন। তাকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমরা খুব জটিল অবস্থার মধ্যে কাজ করছি। চেষ্টা করছি যাতে কোনো আসনে কেউ বাদ পরলে সেটা শুন্য না থাকে। বিএনপি রনিকে অবশ্যই মূল্যায়ণ করবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। এর আগে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালি-৩ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এই আসনের সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম মাওলা রনি। সোমবার দুপুরে তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। সাবেক এই এমপি তার ফেসবুকে লিখেন, 'পুরুষের কান্নায় গলাচিপা দশমিনার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছে। অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের মাঠে নামবো। দেখা হবে সবার সঙ্গে- এবং দেখা হবে বিজয়ে। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার ভাগিনা এসএম শাহজাদা সাজু। সাজু আওয়ামীলীগ বা অঙ্গসংঠনের প্রাথমিক সদস্যও নন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যবসায়ি গোলাম মাওলা রনি। তিনি শেখ রেহেনার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। দলের বিরুদ্ধে সমলোচনামূলক বক্তব্যের কারণে ২০১৪ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হন।
খালেদা জিয়াকে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন শুরু
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে দলটির মনোনয়ন বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার দুপুরে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। সবাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পক্ষপতিত্ব করছেন। বিএনপির প্রার্থীরা হলেন: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও বগুড়া- ৭। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মনোনয়ন চিঠি গ্রহণ করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ও উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন বরিশাল-৫ আসনে মুজিবর রহমান সারোয়ার, পাবনা-৫ আসনে শিমুল বিশ্বাস। রংপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মোকাররম হোসেন সুজন, রংপুর-২ আসনে ওয়াহেদুজ্জামান মামুন ও মোহাম্মদ আলী, রংপুর-৩ আসনে মোজাফফর আহমদ ও রিতা রহমান ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন। রংপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ আসনে সোলাইমান আলম ও ডা. মমতাজকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। রংপুর-৬ আসনে সাইফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর-১ আসনে মনজুরুল ইসলাম/মামুনুর রশিদ, দিনাজপুর-২ আসনে সাদেক রিয়াজ/মামুনুর রশিদ, দিনাজপুর-৪ আসনে হাফিজ/ আখতারুজ্জাম্না মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনে রেজানুল হক/বাচ্চু, দিনাজপুর-৬ লুতফুর রহমান/ শাহিন। এদিকে মনোনয়ন চিঠি পেয়ে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর পথে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সব দল ঐক্য হয়ে নির্বাচনে এসেছি। এখন ইসির ওপর নির্ভর করবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা। তিনি বলেন, ইসি বলেছে, পুলিশ চাইলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তা না হলে সুষ্ঠু হবে না। এই ইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ দূর করেনি। এসময় মনোনয়ন নিয়ে তিনি বলেন, যেসব আসনে সিনিয়র নেতারা নির্বাচন করবেন সেখানে একজন করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অন্য আসনগুলোতে দুইজন করে মনোনয়ন হয়েছে। পরবর্তীতে একজনকে প্রত্যাহার করা হবে। তিনি এরপর একে একে মনোনয়ন প্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। যা এখনো চলছে। এ সংক্রান্ত দলের সিদ্ধান্তের একটি চিঠি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের স্বাক্ষরে প্রতিটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির দলীয় টিকিট দেয়ার কথা ছিল। সোমবার দুপুর ১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেয়া হয়। তার আগেই রংপুর বিভাগের প্রার্থীদের নাম প্রকাশিত হল। নোটিশে বলা হয়েছে-বিকাল ৪টায় বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হবে। সন্ধ্যা ৬টায় রংপুর বিভাগের দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। আর রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীদের রাত ৮টায় দলের টিকিট দেয়া হবে। সোমবার এ তিনটি বিভাগের প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেয়া হবে। বাকি বিভাগগুলোর প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে মঙ্গলবার। মনোনয়নপত্র নিতে গুলশান কার্যালয়ে এসে ভিড় করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গুলশান কার্যালয়ের সামনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শক্রমে গতরাতে আবারো প্রার্থী তালিকায় সংযোজন বিয়োজন করা হয়। ২৩০ থেকে ২৪০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেশ কিছু আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। এসব জায়গায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে দেয়া হবে চূড়ান্ত নির্দেশনা। বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রার্থীদের চেয়ে নির্বাচনে অভিজ্ঞতা আছে, সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবে এমন প্রার্থীদের এবার অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বেশি। তরুণেরাও পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন, তবে সে সংখ্যা খুব বেশি নয়। কারাগারে কিংবা দেশের বাইরে থেকে দলের বেশ কিছু নেতা নির্বাচন করতে চাইলেও তাতে বিএনপির হাইকমান্ড তেমন আগ্রহ দেখায়নি।
অধ্যাপক আবু সাঈদ যোগ দিলেন গণফোরামে
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে আরামবাগে গণফোরামের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সদস্য পদ গ্রহণ করেন। গণফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুর সঙ্গে দেখা করে আবু সাঈদ গণফোরামে যোগ দেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে গঠিত ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পাবনা জেলার গভর্নর নিযুক্ত করেন। ২০১৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ বাংলাদেশ : এ ডিপলোমেটিক ওয়ার। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাবনা-১ (বেড়া-সাঁথিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
কাঁদলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: কাঁদলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এই প্রথম নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি- এ পর্যন্ত বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সোমবার ঢাকার গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে কেঁদে ফেলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। এ সময় গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থলে থাকা দলটির অন্য নেতারাও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। কাঁদতে থাকায় প্রায় ২ মিনিট তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি তিনি। এরপর আবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। সোমবার বিকেল থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে প্রত্যায়নের চিঠি হস্তান্তর শুরু করেছে বিএনপি। বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনোনয়নের চিঠি বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দলটির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি বিতরণ কার্যক্রম। আজ সোমবার বিকেল তিনটায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এ চিঠি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্তদের চিঠি বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল। তবে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি কেন বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সে সম্পর্কে বক্তব্য দেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলেও আবার জানান তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো আলামত তিনি দেখছেন না বলেও জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে তাকে ছাড়া এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি নির্বাচন কমিশন মানেনি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তারপরেও শুধু জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ে তারা নির্বাচনে যাচ্ছেন। এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে সে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সরকারকে দাবি দিয়েছিলাম, সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছি। নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছি কিন্তু তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরোন্ত তারা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করেছেন। আমরা বারবার বলেছি কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করতে পারেননি। প্রশাসনে রদবদলের কথা বলেছিলাম। তাও হয়নি। ইভিএম বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। সেটাও করা হচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, পুলিশ যা করছে তা তার নির্দেশেই করছে। তার মানে এখন সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের যে গ্রেফতার করা হচ্ছে তা তার নির্দেশেই করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অর্তাৎ সিইসির বোনের ছেলে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা হওয়ার পর সিইসি দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ সিইসি নিজেই নিরপেক্ষ নন। নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হবে সে বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের সন্দেহ দূর করতে সিইসি একটুও কাজ করেননি বলে অভিযোগ বিএনপির এই শীর্ষ নেতার। তিনি বলেন, তবু আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে এসেছি। এখন নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করবে যে তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চান কি না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান কি না, জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালন করতে চান কি না। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে, গণজাগরণ সৃষ্টি করতে, সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রধান লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর ১৯৯১ ও ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। আর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী হন খালেদা জিয়া। এখনো তিনি জেলে আছেন। এই নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনেকটাই অনিশ্চিত। খালেদা জিয়া তিনটি আসনে দলের প্রার্থী হচ্ছেন বলে বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে। এগুলো হলো ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭।
ভাগ্নেকে মনোনয়ন দিয়েছে সিইসিকে কাজে লাগাতে : রিজভ
অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার ভাগ্নে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁকে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, সিইসিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই তাঁর ভাগ্নে এস এম শাহজাদা সাজুকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। সাজুকে মনোনয়ন দেওয়া সরকার কর্তৃক সিইসিকে ভেট দেওয়ার একটি পরিষ্কার উদাহরণ। আমরা মনে করি, এই মনোনয়ন সিইসির জন্য স্বার্থের সংঘর্ষের একটি সুস্পষ্ট ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যার কারণে সিইসি স্বীয় পদে অব্যাহত থাকার নৈতিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন। তাঁর পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে আওয়ামী লীগের অঘোষিত নেতা, তা তাঁর কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত। সিইসি নির্বাচন কমিশনের প্রধান হওয়ার কারণে নিজে নৌকায় না উঠে ভাগ্নেকে নৌকার মাঝি করলেন। আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সিইসির আপন বোনের ছেলে এস এম শাহজাদা সাজু। রিজভী দাবি করেন, সেখানকার আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণ একটি, সেটি হলো শাহজাদা সিইসির ভাগ্নে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ভাই বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ড. শাহ মোহাম্মদ ফরিদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগে দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যাতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন কোনোভাবেই উঠতে না পারে। কারণ সেই নির্বাচনে তাঁর ভাই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও তিনি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। তবু তিনি পদত্যাগ করে এক অসাধারণ নজির স্থাপন করেছিলেন। রিজভী বলেন,আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি যে, ভাগ্নে সাজুর মনোনয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি অনুরূপ উচ্চনৈতিক মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর