নানা রোগের ঝুঁকি বেড়েছে খালেদা জিয়ার
সুচিকিৎসার জন্য অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক সমাজ। তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, স্যাঁতসেঁতে ও বসবাস অযোগ্য ভবনে বন্দি রাখার কারণে বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদরোগ, পক্ষাঘাত, ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণুর মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। কারাগার বিশেষ করে পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনে স্বাস্থ্য ও জীবন উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। এই বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। এটা কেবল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা এ আশঙ্কার কথা জানান। সেই সঙ্গে তারা প্রত্যাশা করেছেন, সরকার একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য দেশে সকল মানুষের বাক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার অধিকারের বিষয়টি সুনিশ্চিত করবেন। ড্যাবের মহাসচিব প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর ডা. সাইফুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিদারুণ অমানবিক ও মানবেতর আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে নানা মহলে। জানা যায়, পরিত্যক্ত ঘোষিত একটি সূর্যালোকহীন, নির্জন, স্যাঁতসেঁতে পুরোনো ও বসবাস অযোগ্য ভবনে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। ডিভিশন দেয়া হলেও বলা হচ্ছে, তাঁর বিছানা, বালিশ ও আসবাবও অত্যন্ত নিম্নমানের ও ব্যবহার অযোগ্য। একজন অসুস্থ মানুষ হিসাবে তাঁর খাদ্য-খাবারের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ তাঁর এই বন্দি অবস্থাকে বীভৎস নির্যাতনের প্রতীক কনসানট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন। তাঁর পরিবারের অন্যদের মতো খালেদা জিয়াকেও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়াই প্রকৃত উদ্দেশ্য সে বিষয়ে জনমনের সন্দেহ প্রকট হচ্ছে। বক্তব্যে তিনি বলেন, এই পরিবেশে একজন সুস্থ মানুষেরও নানা মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মতো আগে থেকেই বয়সজনিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা’ সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানা রোগে ভুগছেন। ইতিপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন, চোখের অপারেশন হয়েছে। তিনি কোনো সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। সে হিসাবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা সকল সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য। এর অভাবে, সমপ্রতি তিনি ঘাড়, মেরুদণ্ড ও স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকরা বলেন, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে যেকোনো সময়ে পড়ে গিয়ে তাঁর হাঁটু, উরুসন্ধি, হাত ও মেরুদণ্ডের হাড়ভাঙ্গা সহ মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে আঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগ ঘটতে পারে। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতাসহ নানা মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁঁকিও বেড়েছে। পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনের বিষাক্ত পরিবেশে তাঁর মারাত্মক ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণুর মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া ভয়ঙ্কর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এই বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। এটা কেবল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। কারাগার বিশেষ করে পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনে স্বাস্থ্য ও জীবন উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই কারাগারের বসবাস অযোগ্যতা ছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার কোনই সুযোগ সুবিধা নেই। হেফাজতে সামপ্রতিক বছরকালে সাড়ে ছয় শতাধিক মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যে নানাবিধ শঙ্কা বাড়িয়েছে। ফলে বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীর পাশাপাশি দেশবাসীও খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে দুঃখভারাক্রান্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা বলেন, অনেকেরই বিশ্বাস খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রশাসনিক তৎপরতার বিষয়টি এক রকম লোক দেখানো, হঠকারিতামূলক ও জনবিভ্রান্তি সৃষ্টির সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। কারণ গত ৭ই এপ্রিল কোনো রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া হুট করে তাঁকে সরকারি চিকিৎসক দলের দেয়া মামুলী এক্স-রে ও রক্ত-পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময়ে একজন বিশেষ শারীরিক চাহিদাসম্পন্ন রোগীর গাড়ি থেকে নামা ও সাধারণ চলাচলের উপযুক্ত ন্যূনতম সুবিধেও তাঁর জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়নি। চিকিৎসকরা বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তার নিজস্ব পছন্দের ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের সরকারি অনুমতি থাকলেও কার্র্যত সরকার ও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রশাসনের লোকজন তাঁকে এই প্রত্যাশিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন। কার্যত ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যথাস্থানে উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে মামুলী সৌজন্য বিনিময়ের বাইরে চিকিৎসা বিষয়ে কোনো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। চিকিৎসকরা বলেন, নতুন কোনো চিকিৎসক দলের পক্ষে খালেদা জিয়ার সম্পূর্ণ অবস্থা এক নজরে ও এক নিমিশে অনুধাবন ও নির্ণয় করা একেবারেই অবাস্তব কল্পনা। ফলে, সরকারকে খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল ও তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে যত্নবান প্রমাণ করতে হলে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের ভূমিকা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। তারা বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্য সেবা সংবিধান বলে একটি মৌলিক অধিকার। এ বিষয়ে বন্দি-অবন্দি নাগরিক অবস্থা নির্বিশেষে সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে বন্দি অবস্থায় সকল দায় সরকারের ওপর বর্তায়। জেল-কোড অনুযায়ী যেকোনো বন্দি তার বিশেষ স্বাস্থ্যগত চাহিদার কারণে পছন্দের চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে এ ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটাই একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে সরকার সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রকাশে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে দেশবাসীর বিশ্বাস। চিকিৎসকরা বলেন, ধারাবাহিক বিষয়াবলী জনমনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়, জীবন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পক্ষের ব্যাপক ও বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও অভিসন্ধি বিষয়ে গভীর উৎকণ্ঠা জন্মানোর সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন, জনগণ আশা করে সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ভেদ করে সসম্মানে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন তিনি। চিকিৎসকরা প্রত্যাশা করেন, সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাবে। সেই সঙ্গে সকল নাগরিকগণের উন্মুক্ত সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করে, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক নির্যাতনের অবসান ঘটাবে। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর ডা. আবদুল মান্নান মিয়া, প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন, প্রফেসর ডা. গোলাম মঈনউদ্দিন, প্রফেসর ডা. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রফেসর ডা. মোস্তাক রহিম স্বপনসহ অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় মঞ্জু,গাজীপুরে হাসান বিএনপির প্রার্থী
আসন্ন খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সামনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল জানান, গাজীপুরে বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাসান সরকার ও খুলনায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এরআগে দুই সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৯ জন রোববার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে গাজীপুরের বর্তমান মেয়র আবদুল মান্নানসহ ছয়জন এবং খুলনার বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনিসহ তিনজন মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এ দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গাজীপুরে নৌকা প্রতীকে নতুন প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয়। আর খুলনায় গতবার হেরে যাওয়া তালুকদার আবদুল খালেক এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায়। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ১৫-১৬ এপ্রিল ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে :নানক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে অশুভ শক্তির হাত আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে এসে নিজের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। নানক বলেন, ‘আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি। যৌক্তিক দাবিতে, নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কিন্তু গতকাল কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হলো সেটা কোন ধরনের?’ গতকাল রোববার ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘গান পাউডার দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিসির বাসভবনে হামলা হয়েছে। এগুলো আন্দোলনের আওতায় পড়ে না। এগুলো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি।’ এর পেছনে যারা আছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে বলে জানান নানক। তিনি বলেন, ‘দেশ বর্তমানে স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখানে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’ সরকার মেধাবীদের অবহেলার পক্ষে নয় বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা।
আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে :ড. খন্দকার মোশাররফ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিভিন্ন ইস্যুতে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ এসব অ্যাকাউন্টের খবর একদিন নেবে এবং তার বিচারও করবে। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শফিউল বারী বাবু, ইয়াসীন আলী মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত প্রতিবাদী সভায় তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতায় আসার পর পরই পিলখানায় ঘটনা ঘটেছে। এটার কিন্তু সম্পূর্ণ রিপোর্ট বের হয়নি। এটা অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। শেয়ার বাজার লুট করে লাখ লাখ মানুষকে পথে বসানো হয়েছে সেটারও একটি রিপোর্ট করা হয়েছিল। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, রিপোর্ট যাদের নাম আছে, তাদের হাত অর্থমন্ত্রীর চেয়ে লম্বা। তারা অর্থমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী। তাহলে তারা কারা হবেন? এই অ্যাকাউন্টও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে খোলা হয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি করেছেন। এ দাম বৃদ্ধি করে প্রত্যেকের (জনগণের) পকেট কেটেছেন। এটাও কিন্তু অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে? ব্যাংক ও রিজার্ভ লুট করা হয়েছে। এগুলোরও অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়াকে যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে সেটারও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছ মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আবোল-তাবোল বকছেন। বলছেন, বিএনপির জন সমর্থন নেই। জন সমর্থন যদি না থাকে তাহলে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে জনসভা করার অনুমতি দিতে ভয় পান কেন? আওয়ামী লীগ যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো, দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মত প্রহসনের নির্বাচন আর হতে দেবে না। এ বছর নির্বাচনের বছর উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে গণতান্ত্রিক স্পেস প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের বছরে সে সুযোগ সরকার দিচ্ছে না। এছাড়া গণতান্ত্রিক স্পেসকে আওয়ামী লীগ তাদের বাক্সবন্দী করে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। এতেই সরকার ভীত! সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।
বিএনপি ২৫০-এর বেশি অধিক আসন পাবে :জয়নুল আবদিন ফারুক
বিএনপি ২৫০-এর বেশি আসন পাবে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, সরকার নেতাকর্মীদের নামে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে বিএনপিকে চিরতরে রাজনীতি থেকে বিদায় করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার যদি জনপ্রিয় হয়ে থাকে, যদি দেশের উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারের ভয় পায় কিসের? সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারেক একাডেমি আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি আরও বলেন, ভয় একটাই দেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে আর জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে বিএনপি ২৫০-এর বেশি অধিক আসন পাবে। এখন প্রশ্ন একটাই ২০১৮ সালে কি সংসদ নির্বাচন হবে? জনগণ কি ভোট দিতে পারবে? এ সময় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, আলমগীর হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত : ফখরুল
কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করলে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোটা রেখে বাকি কোটা তুলে দেবে। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিবাদ বিক্ষোভে মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশ সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। ফখরুল বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন সম্পর্কে আমরা অবহিত। বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সম্পর্কে আমরা উৎকণ্ঠিত। বিনা উসকানিতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি পুলিশের হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। যারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি ‘ভিশন-২০৩০’-এ কোটার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই আন্দোলনে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবসমাজের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি উৎকণ্ঠিত। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিএনপি-মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে
আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে যারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই খুলনা সিটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বোর্ডের কাছে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল ( অব) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। খুলনা সিটিতে বিএনপির টিকিটে লড়তে আগ্রহীরা হলেন, বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে লড়তে দলের মনোনন পেতে চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও গাজীপুর সিটির বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান, দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসানউদ্দিন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, মেয়র মান্নানের ছেলে এম মনজুরুল করীম, গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকার, আবদুস সালাম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরাফত হোসেন।
বিএনপিকে আস্থা রাখার আহ্বান নাসিমের-খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওপর আস্থা রাখতে বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গেছেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার চিকিৎসা সেবার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, একজন রাজনীতিবিদ, তিনি অবশ্যই সুচিকিৎসা পাবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে নাসিম বলেন, তারা খালেদা জিয়াকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্য দাবি করেছিলেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালটি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ হাসপাতাল। এখানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, তিনি সুচিকিৎসা পাবেন। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
ফের কারাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়া
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টায় শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে তাকে নিয়ে কারাগারের উদ্দেশে রওনা করে কারা কর্তৃপক্ষের গাড়ি বহর। দুপুর ২টায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে পৌঁছায়। এর আগে তাকে বিএসএমএমইউর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর কক্ষে নিয়ে এক্সরে করানো হয়। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেটে গাড়িতে ওঠেন। কড়া নিরাপত্তায় তাকে নিয়ে কারাগারের পথে রওনা দেন কারারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় গাড়িবহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি গাড়ি ছিল। এর সামনে পেছনে র‌্যাবের পাহারা ছিল। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে প্রথমে নেয়া হয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে। ৫১২ নম্বর কেবিনে কিছুক্ষণ রাখার পর কেবিন ব্লকের প্যাথলজি বিভাগে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষা শেষে বিএনপি নেত্রীকে এক্সরে করতে নেয়া হয়। জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য গঠিত চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের জন্য খালেদা জিয়ারকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর থেকে গত দুই মাসে ধরে তিনি পুরনো কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে ৭৩ বছরের বিএনপি নেত্রীর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। জানা গেছে, শনিবার খালেদা জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্সরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড তার পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।