খালেদা জিয়ার মামলা: আদালত বসবে কারাগারে
অনলাইন ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালত কারাগারে বসতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডস্থ পুরাতন কারাগারে সাজা খাটছেন তিনি। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বুধবার একটি আদালত বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল ওই আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারব বলে আমরা মনে করছি। আইন মন্ত্রণালয়ে আমরা আবেদন করেছি। এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, মামলাটিতে ৩২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে, তাদের পক্ষে যুক্তিতর্কও হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক হয়ে গেছে। আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কও প্রায় শেষ। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বাকি কিছু বক্তব্য শোনার পর হয়তো আদালত এই মামলার রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে আশা করছি। এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে এখনও কিছু জানেন না উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, কারাগারে আদালত বসলে সেটি আইনের পরিপন্থী হবে। এর আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে শুনানি যেখানেই হোক, খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আমাদের সেখানে উপস্থিত থাকতেই হবে উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।
ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক আজ
অনলাইন ডেস্ক: দেশের চলামান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থতি নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে দলটি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে দলের মহাসচিব মর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র এবং কূটনৈতিক উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মনোভাব, নির্বাচন কমিশনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরবে বিএনপি।
আওয়ামী আক্রোশের শিকার তারেক রহমান: ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক: তারেক রহমান আওয়ামী সরকারের আক্রোশের শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সমকালীন রাজনীতির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস এবারে যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি আমরা। কারণ দেশে এখন অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশ। তারেক রহমানের ওপর সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের ধারা এখনো বয়ে চলেছে। নানাভাবে তাকে বিপর্যস্ত-বিপন্ন করার জন্য সরকার কূটচাল চেলেই যাচ্ছে। নির্দোষ তারেক রহমান আওয়ামী সরকারের আক্রোশের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের হস্তান্তর ক্ষমতা ধারণ করার পর থেকে তারেক রহমানের ওপর আরো নানাভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের বহুমাত্রার অভিনব প্রয়োগ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। ১/১১ সরকার যে মামলায় তারেক রহমানের নাম অভিযোগপত্রে দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সেই মামলায় সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে তারেক রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল সেগুলো পরবর্তীতে বানোয়াট ও বানানো গল্প হিসেবে প্রমাণ হতে থাকে। বেগম খালেদা জিয়া অন্যায় বিচারে কারাবন্দি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিহিংসা চরিতার্থের নেশায় উম্মাদ সরকার দেশনেত্রীকে হয়রানি ও হেনস্তা করার জন্য বানোয়াট মামলা এবং পরিকল্পিত আইনি প্রক্রিয়ার নামে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এক ব্যক্তির অদম্য ক্রোধ ও হিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলন চায় তৃণমূল-উজ্জীবিত বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করলো বিএনপি। নানা চাপে থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন কর্মসূচি পালন করতে পেরে কিছুটা ফুরফুরে মেজাজে দলটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে সভা-সমাবেশ করতে চাইলেও অনুমতি মিলছিল না। অবশেষে দুটি সমাবেশের অনুমতি পাওয়ায় আন্দোলন করার আশার আলো দেখছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী। বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শেষ সময়ে এসে সরকারের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। যে কারণে তারা বিএনপিকে বাধ্য হয়ে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে। সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই। এখন অনুমতি না দিলেও মাঠে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও অনেকে জানান। অন্যদিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়াকে সরকারের দুর্বলতা বা নমনীয়ভাব বলে মানতে রাজি নন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত, এমন কর্মসূচি পালন করার ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচিতে অবশ্যই এর প্রভাব পড়বে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, বিএনপিকে কর্মসূচি করতে না দেয়া বা বাধা দেয়ার সুযোগ আর সরকারের নেই। কারণ তাদের সময় শেষ। আর আমাদেরও আর ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আসছি। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। অবশেষে তারা দুটি সমাবেশ করার অনুমতি দিল। তবে এর বিশেষ কোনো রাজনৈতিক গুরুত্ব নেই। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা কোনো রাজনৈতিক সূত্রে গাঁথা নয়। তবে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এমন কর্মসূচির বিকল্প নেই বলেও মনে করেন এই নেতা। দীর্ঘ আড়াই বছর পর গত জুলাই মাসে নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে বন্দী দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ওই সমাবেশ করেছিল বিএনপি। একই দাবিতে আরও অনেকবার আবেদন করেও সমাবেশের অনুমতি পায়নি দলটি। এর আগে সবশেষ বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করেছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। এরপর নানা ইস্যুতে বেশ কয়েকবার সমাবেশের অনুমতি চাইলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি মেলেনি। এবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার রাজধানীতে নয়াপল্টনে জনসভা করে বিএনপি। ডিএমপির পক্ষ থেকে আগের তুলনায় এবার সহজেই অনুমতি পায় দলটি। শান্তিপূর্ণ এই জনসভায় রাজধানী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর থেকেও বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে জনসভায়। এমন সমাবেশ নেতাকর্মীদের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলছে- এমন প্রশ্নে বিলকিস জাহান শিরিন বলেন,একবাক্যে বললে নেতাকর্মীরা মনে হয় জেগে উঠেছে। মানসিক শক্তি সবার বেড়ে গেছে। দল এবং কর্মীদের জন্য এটা পজিটিভ দিক। এটাকেই ধরে রেখেই আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে হবে। একই ধরণের বক্তব্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ বিএনপির সভাপতি নিপুন রায়েরও। নিপুন বলেন, আমাদের ধারণা বাইরে নেতাকর্মী কেরাণীগঞ্জ থেকে এসেছে। শেষ পর্যন্ত সমাবেশে অবস্থান করেছে। এদের যাতায়াত, খাবার দাবারেরও কোনো আয়োজন আমাদের পক্ষ থেকে করতে হয়নি। নিজ উদ্যোগে তারা এসেছে। যারা অনেক দিন ধরে কর্মসূচিতে আসেন না তেমন বয়স্ক মানুষরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের সামনের দিনে প্রত্যাশা কি? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তৃণমূল শুধু আন্দোলনের পথে হাঁটতে চায়। এজন্য যে কোনো ধরণের ত্যাগ স্বীকারেও আমরা প্রস্তুত। গত জুলাইয়ে সমাবেশ মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ঘোষণা দিয়েছিলেন আর কোনো অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি পালন করা হবে না। সামনের দিনগুলোতে এমন চিন্তা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ঢাকাটাইমসকে বলেন,সরকার যে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে, অধিকার হরণ করছে এটা দেশি বিদেশে বিভিন্ন সংস্থার নজরে এসেছে। যে কারণে সরকারের উপর নানা ধরণের চাপ আছে। সরকার এজন্য বাধ্য হয়েছে অনুমতি দিতে। তবে আমরা আশা করি সামনের দিনগুলোতে সরকার আরো নমনীয় হতে বাধ্য হবে। সমাবেশের ফলে নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জনসভার উপস্থিতি দেখে উদ্বেলিত। এটা আমাদের জন্য কাজে লাগবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন বলেন, ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। যে কারণে কর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও দলের কর্মসূচিতে তারা স্বতস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে জানিয়ে দিয়েছে সরকারের সময় শেষ। প্রত্যেকটি নেতাকর্মী আশার আলো দেখছে। দলকে এসব বুঝে সংগঠন গুছিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করতে হবে। সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন,অনেক দিন পর সুযোগ পেয়ে নেতাকর্মীরা ছুটে এসেছে। এটা বিএনপির বড় সমাবেশগুলোর একটি হয়েছে। দলের জন্য এটা ভালো হয়েছে। সরকারের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন,সামনে নির্বাচন। সরকার এখনো যদি দরজা জানালা বন্ধ করে রাখে তাহলে জনমত যে আরো তাদের বিরুদ্ধে যাবে এটা তো বুঝে গেছে। এজন্যই সহজে অনুমতি দিয়ে নির্বিঘ্নে কর্মসূচি করতে দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ পার পাবে না এবার : রিজভী
অনলাইন ডেস্ক: সংবিধানের দোহাই এবার আওয়ামী লীগ পার পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। শনিবার নয়াপল্টনে অনুর্ষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার সংবিধানের বাইরে যাবে না। ওবায়দুল কাদেরের এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে আজ শনিবার রুহুল কবির রিজভী বলেন, যতই ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা ও অপলাপ করুন না কেন আপনাদের এবার বিদায় নিতেই হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনে সেনামোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোন গড়িমসি চলবে না। জনগনের ভোট জনগন দিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন জনগন হতে দেবে না। শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্রু পক্ষ। তাঁর অধীনে নির্বাচনের অর্থই হচ্ছে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ। তিনি বলেন, জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নীলনকশা বন্ধ করুন। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্প সংখ্যক দেশে যারা ইভিএম চালু করেছিল তারাও এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কেন এ গণবিরোধী সরকার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট করতে চায়, সেটি এখন জনগন টের পেয়ে গেছে। সারাবিশ্বব্যাপী ইভিএম নিয়ে সন্দেহ প্রবণ এ মাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে তখন বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকার এ মেশিন চালু করতে এতো উৎসাহি কেন তা সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রাতে বিএনপির জনসভার বক্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ নয়, নির্ভর করছে আদালতের ওপর। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপি সরকারের যে পদত্যাগের দাবি করেছে, তা নাকচ করে দিয়ে কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমি বলব- ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য কোনভাবে গ্রহনযোগ্য নয়। জনগণ আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকালের জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগমেই প্রমাণিত হয়েছে জনগন এ সরকারকে আর চায় না। বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জামিন বার বার বাধাগ্রস্ত করছে সরকার। তিনি একের পর এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আবার তা নানা কায়দায় আটকে দিচ্ছে সরকার। সরকারের নির্দেশেই খালেদা জিয়া কারাগারে আটকে আছে। তিনি সুবিচারে নয় প্রতিহিংসামূলক সরকারি বিচারে কারাবন্দি। তাঁর কারাবন্দীত্ব শুধুমাত্র সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে।" তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলন পৃথিবীর কোথাও ব্যর্থ হয়নি, আমরাও ব্যর্থ হবনা। যেই দাবি আদায়ের জন্য আমাদের আন্দোলন চলছে তাতে আমরা ব্যর্থ হবনা, আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছারবই। সফল হবই ইনশাআল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন - বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছা সেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশফাক প্রমুখ।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর মাধ্যমেই বিএনপির জন্ম
অনলাইন ডেস্ক: দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর মাধ্যমেই বিএনপির জন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়। সেই একদলীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করেন জিয়াউর রহমান। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,দেশে আবারও একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে। আর সেই চেষ্টা সফল করার জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রাখা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ। তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করা হয়েছে। সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে। হত্যা, গুম করে দেশে দুঃশাসন কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের শপথ করতে হবে, আমরা অবশ্যই দেশকে এই দুঃশাসন থেকে মুক্ত করব। বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা দুঃস্বপ্ন দেখে আসল-আসল বিএনপি আসল, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আসল। এই নিয়ে তাদের ঘুম হয় না। ২৪ ঘণ্টায় তাদের ভীতি কাজ করে। এ থেকে রক্ষা পেতে এখন ইভিএম নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, কারণ তারা জানে এবার সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের আর শেষ রক্ষা হবে না। ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় বলত আওয়ামী লীগ হচ্ছে যুবকদের দল, তরুণদের দল। কিন্তু বর্তমানে তরুণ সমাজ আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে হাঁপিয়ে উঠেছে। তারা এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ দেশকে বাকরুদ্ধ করতে চাই উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন,এখন সরকারের বিরুদ্ধে সত্য কথা বললেও তাকে কারাবন্দি করা হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে তাদের অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব শহীদুল আলমকে মারতে মারতে কারাগারে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বর্তমান সরকারকে অবৈধ বলাই তার দোষ। বিএনপি মহাসচিব দেশের জনগণের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন,দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দায়িত্ব আপনাদেরই। আপনারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। এর আগে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর একটি অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করে জনসভা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হলেও অনেক আগে থেকেই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীরা এসে জনসভায় যোগ দেন। মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই ফকিরাপুল মোড় থেকে নাইটেঙ্গল মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
আন্দোলনে নামতে হবে নেতাকর্মীদের: মোশাররফ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,এ দেশে খালেদা জিয়া ও বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। সারা দুনিয়া চায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এ নির্বাচন এভাবে হবে না। এজন্য নেতাকর্মীদের আন্দোলনে নামতে হবে। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বচলেন তিনি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, কারণ দলের চেয়ারপারসন কারাগারে। আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি করেছিলো। জিয়াউর রহমান সেই শূন্যতাপূরণ করেন। আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন, সেজন্য বিএনপিকে তারা এত ভয় পায়। যার প্রমাণ আজকের জনসভাও। এ সভা আজ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বলতে চাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নেত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সরকারি আমলাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমলাদের বলছি আপনারা তফসিল ঘোষণার আগেই নিরপেক্ষ হয়ে যান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এরই অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে এ জনসভা করে বিএনপি। এর আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়সহ দেশব্যাপী বিএনপির কার্যালয়গুলোতে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ১০টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দলের সিনিয়র নেতারা।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই এখন বিএনপির চ্যালেঞ্জ: ফখরুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দানবীয় সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই এখন বিএনপির চ্যালেঞ্জ। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই দিনটি আমাদের জন্য কোন উৎসবের দিন নয়। দুঃখ, ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। কারন আমাদের দলের চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত। তাদেরকে ছাড়াই আমরা আজ এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। আজকের দিনে আমাদের শপথ হবে এই ফ্যাসিস্ট সরকার, গণতন্ত্র বিরোধী সরকার, সমাজ বিরোধী সরকার, যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা (সরকার) জবরদস্তি মূলকভাবে ক্ষমতায় বসে মানুষের সকল অধিকার হরণ করেছে। আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের শপথ এই দানবকে অপসারণ করে তাদের দুঃশাসন থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, দেশনেত্রীকে মুক্ত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনা। ইনশাল্লাহ আমরা অচিরেই আমাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। এসময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ,ড.আব্দুল মঈন খান,আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী,আলতাব হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈয়মুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন,খায়রুল কবির খোকন। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-য্বু বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম সজল, মো.মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা আজ
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ শনিবার। এ উপলক্ষে বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে ডিএমপির লিখিত অনুমতি পেয়েছে দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নয়াপল্টনে অথবা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়েছিল। এ বিষয়ে ২৯ আগস্ট বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। তখন পুলিশ কমিশনার প্রতিনিধি দলকে মৌখিকভাবে নয়াপল্টনে জনসভা করার অনুমতি দেন বলে রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে জানান। পরে শুক্রবার বিকালে বিএনপিকে শর্তসাপেক্ষে লিখিত অনুমতি দেয় বিএনপি। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ শর্তে পুলিশ জনসভার অনুমতি দিয়েছে। শর্তের মধ্যে আছে- জনসভা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে নেতাকর্মীদের সমবেত না হওয়া, বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করা, জনসভাস্থলে লাঠি-সোটা নিয়ে না আসা, জনসভার জন্য নির্ধারিত সীমানার বাইরে নেতাকর্মীদের সমবেত না হওয়া ইত্যাদি। দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কার্যালয়ে দলের অঙ্গসংগঠনের যৌথসভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। প্রথমদিনের অন্য কর্মসূচি হচ্ছে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন। পরদিন বিকাল ৩টায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাখা হয়েছে আলোচনা সভা। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি কঠিন সময়ে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রায় ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি অনেকটা বিপর্যস্ত। এর আগে এতটা দুর্দিনে কখনও পড়েনি কয়েকবার ক্ষমতায় আসা দলটি। ৪০ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকালে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করা দলটি এখন অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে। দলটির নেতাকর্মীরা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও বিএনপি এখনও নির্বাচনে যাবে কি না তা ঘোষণা করতে পারেনি।