সঙ্গীতশিল্পী মনির খানের পদত্যাগ বিএনপি থেকে
অনলাইন ডেস্ক: ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসন থেকে মনোনয়ন পাননি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সঙ্গীতশিল্পী মনির খান। এ কারণে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। রোববার বিকালে বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি মতিয়ার রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন মনির খান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই শিল্পী ও নেতা বলেন, নিজেকে সব রকম স্বার্থের বাইরে রেখে রাজনীতিতে এসেছি আমি। দলের ক্রান্তিলগ্নে মাঠে থেকেছি। কাজ করেছি। কিন্তু দিনের পর দিন এতো অনিয়মের মধ্যে থাকা যায় না। তাই দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলো। এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে উৎসব আমেজে আমি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিমান করে তিনি আরও বলেন, আমরা শিল্পীরা অনেক সমালোচনা মাথায় নিয়ে রাজনীতিতে আসি। দলের কাছে যদি এর সঠিক মূল্যায়ন না পাই তবে কেন থাকবো। আমি ভেবে চিন্তেই এই সিদ্ধান্তে নিয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, জানান, মনোনয়ন না পাওয়া ও দলীয় বিশৃঙ্খলাসহ নানা কারণে বিএনপি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাধা নেই নির্বাচন করতে ইমরান এইচ সরকারের
অনলাইন ডেস্ক: গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে ইমরানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে বলেছিল, ইমরানের মনোনয়নপত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনসমর্থনের তথ্য জমা না দেওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আপিল করেছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র। তবে সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বলা হয়, নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনের মোট ভোটারের ন্যূনতম এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন থাকতে হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইমরান এইচ সরকারের এ বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করেন। পরে সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ইমরান এইচ সরকার। আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে এ বিষয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিলের যে আদেশ দিয়েছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন আপিল আদেশের মাধ্যমে সেই বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিলেন, তা স্থগিত করেন। পাশাপাশি রিটকারীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে আদালত নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ইমরান এইচ সরকার। রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী—এই তিন উপজেলা গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে তিনি নির্বাচন করতে চান। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ৩০টি আসন,উন্মুক্ত ১৩২
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন নিয়ে কয়েক দিনের দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ৩০টি আসন দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও ১৩২টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন বলে এসব আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। রোববার জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এসব তথ্যের সততা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে ঋন খেলাপের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া দলটির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও রয়েছেন। তবে এই ৩০ টি আসনের মধ্যে দলটির সিনিয়র নেতাদের একজন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কোনো আসন নেই। মহাজোট থেকে যে ৩০টি আসন পেলো জাতীয় পার্টি: নীলফামারী-৩ আসনে মেজর অব রানা মো: সোহেল, নীলফামারী-৪ আহসান আদেলুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ গোলাম মোহাম্মদ কাদের, রংপুর-১ মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৩ এইচ এম এরশাদ, কুড়িগ্রাম -১একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনির উদ্দিন আহমেদ, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বগুড়া-২ শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬মো: নূরুল ইসলাম, বগুড়া-৭ আলতাফ আলী, বরিশাল-৩ গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রত্না, পিরোজপুর-৩ রুস্তম আলী ফরাজি, টাঙ্গাইল-৫ শফিউল্লাহ আল মুনির, ময়মনসিংহ-৪ রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক চুন্নু, ঢাকা-৪ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়নগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়নগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ, সিলেট-২ ইয়াহহিয়া চৌধুরী, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া-২ জিয়াউল হক মৃধা, ফেনী-৩ লে: জে: (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-২ মো: নোমান ও চট্রগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া পটুয়াখালী-১ রুহুল আমিন হাওলাদার। যদিও নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি আদালতে রিট করেছেন। ওদিকে এ তালিকায় নাম নেই পার্টির আরেক সিনিয়র নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর।
২৫ জন প্রার্থীকে ধানের শীষ বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি বিএনপির
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের ২৫ জন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)চিঠি দিয়েছে দলটি।এই ২৫ আসনসহ ৫৭ টি আসনে জোটের শরিকদের ছাড় দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে সই করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় এই চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দেন দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান। চিঠিতে জোটের আটটি দলের ২৫ জন প্রার্থীর নামে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়। এই আটটি দল হল ঐক্যফ্রন্টের শরিক ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীণ গণফোরাম, আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসপি), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ২০ দলের শরিক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফতে মজলিস, বাংলাদেশ কল্যান পার্টি এবং ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। এই দলগুলো ছাড়া বাকি দলগুলো আগেই ধানের শীষে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ইসিকে জানিয়েছিল। তারা ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং অফিসারের কাছে। আজকের তালিকায় গণফোরাম থেকে সাত জনের নাম দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- কুড়িগ্রাম-২ আমসাআ আমিন, পাবনা-১ আসনে অধ্যাপক আবু সায়িদ, ময়মদসিংহ-৮ আসনে এইচ এন খালেকুজ্জামান, ঢাকা-৬ আসনে সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-৭ মোস্তফা মহসীন মন্টু, মৌলভীবাজার-২ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মদ এবং হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া। জেএসডির (রব) চার জনকে ধানের শীষ প্রতীক দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তারা হলেন- কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৮ শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, কুমিল্লা-৪ আসনে আবদুল মালেক রতন এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আ স ম আব্দুর রব। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের তিন জনকে ধানের শীষ দিতে ইসিকে অনুরোধ করা হয়েছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল-৪ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, টাঙ্গাইল-৮ কুঁড়ি সিদ্দিকী এবং গাজীপুর-৩ আসনে ইকবাল সিদ্দীকী। ২০ দলের শরিক এলডিপি পাঁচটি আসনে জোটের মনোনয় পেয়েছে।তবে চার জন ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।তারা হলেন ময়মননিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৭ আসনে মোহাম্মদ নুরুল আলম।এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ কুলা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। ২০ দলের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের তিন জনকে ধানের শীষ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ-৪ মনির হোসাইন, সুনামগঞ্জ-৩ মো. শাহীনুর পাশা চৌধুরী এবং সিলেট-৫ উবাইদুল্লাহ ফারুক। খেলাফত মজলিস দুইটি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। এগুলো হলো-হবিগঞ্জ-২ আসনের আব্দুল বাসিত আজাদ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের আহমদ আব্দুল কাদের। বাংলাদেশ কল্যান পার্টি চট্টগ্রাম-৫ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। এই আসনে দাঁড়াচ্ছেন দলটির প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। সবশেষ ঢাকা ১৭ আসনে নির্বাচন করবেন বিজেপির প্রধান আন্দালিব রহমান পার্থ।তাকে ধানের শীষ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে মির্জা ফখরুলের পক্ষ থেকে।
ফখরুলের গাড়িতে হামলা, চালক আহত
অনলাইন ডেস্ক: ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছেন। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের উদ্দেশে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ছোঁড়া ইট-পাটকেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকরা চেয়ারপারসন কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। এ সময় সেখানে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতেও তারা হামলা করে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক হেলাল রক্তাক্ত হন। এর আগে শনিবার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে গুলশান কার্যালয় ও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ে শনিবারের চিত্র: সকালে দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করে। হামলায় আহত হন গোপালগঞ্জ-১ আসনের দলীয় প্রার্থী শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও তার পুত্র রিমন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন শাহ আলম ফারুকসহ কয়েকজন সাংবাদিক। সন্ধ্যার পর গুলশান অফিসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খানসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে অবরুদ্ধ করে তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে লাথি মারেন ও ইট-পাটকেল ছুড়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙে যায়। জানা গেছে, এই তাণ্ডবে অংশ নেন চাঁদপুর-১ আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ -১ আসনের বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা-১২ আসনের আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, চুয়াডাঙ্গার শামসুজ্জামান দুদু, চট্টগ্রামের মোস্তফা কামাল পাশা, ঢাকা-৬ এর ইশরাক হোসেন, ময়মনসিংহ-৪ এর দেলোয়ার হোসেন দুলু, ১০ এর সিদ্দিকুর রহমান, মানিকগঞ্জ-১ আসনের তোজাম্মেল হক তোজা, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতার কর্মী-সমর্থকরা। এর আগে সকালে এহছানুল হক মিলনের অনুসারীরা নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলায়। এর পর প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে দুপুর ২টার দিকে তালা খুলে দেয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এসে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেন তারা। এতে জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ সময় কিছু নেতা-কর্মী ইটপাটকেল নিক্ষেপকারীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রাতে দলের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হয়, আপনারা ধৈর্য ধরুন, শান্ত থাকুন। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান বিদেশে। এ অবস্থায় আপনারা সবাই ধৈর্য ধরুন। আপনারা দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মী। আপনারা আগামীকাল (আজ) রবিবার সকাল ১০টায় আসবেন। সকালে মনোনয়ন বিতরণ করা হবে। কেউ কোনো ঝামেলা করবেন না। সবাই চলে যান। ঘোষণায় আরও বলা হয়, সবাই দয়া করে শুনুন, এটা আমাদের সবার অফিস। আজকে কোনো মনোনয়ন বিতরণ করা হবে না, কারও মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দয়া করে কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না। এরপর রাত পৌনে সাতটার দিকে তৈমুর আলমের সমর্থকেরা সরে যান। তবে এ সময় তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল করে আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার-সাবধান শ্লোগান দিতে থাকেন। প্রার্থী বদল:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। শুক্রবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনটিতে সাজ্জাদ হোসেনের নাম ঘোষণা করলেও আজ শনিবার তা পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত প্রার্থীর নাম বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে দলের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে সাজ্জাদ হোসেনকে এ আসন থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে মনোনয়ন বঞ্চিতদের হামলা কচুয়ায় নেতাকর্মীদের গণপদত্যাগের হুমকি:এহসানুল হক মিলনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন দেওয়া না হলে কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেন কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আবেদীন স্বপন। মুন্সীগঞ্জে শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর:সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে শাহ মোয়াজ্জেমসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এসময় কমপক্ষে ৪/৫ টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত শাহ মোয়াজ্জেমের গাড়ির ড্রাইভারসহ তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকাল ৪ টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া কলেজ গেট এলাকায়। পরে শাহ মোয়াজ্জেম আহত অবস্থায় পূর্বনির্ধারিত পাথরঘাটা ও রামকৃষনদী গ্রামে সভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তৃতায় বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এমন হামলার শিকার হইনি। এর বিচার আমি আপনাদেরসহ দেশবাসীর নিকট দিয়ে গেলাম। এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে দলের একাংশ। দুপুরে মনোনয়ন বঞ্চিত সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকরা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলী পয়েন্টে সমাবেশ করে এই ঘোষণা দেন। এর আগে উপজেলার শেখরনগর থেকে ঝাড়ু মিছিল নিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এই পয়েন্টে জড়ো হন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। পরে তারা মানববন্ধন করেন। সমাবেশকারীরা ১২ ঘন্টার মধ্যে শেখ মো. আব্দুল্লাহকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নতুবা আরও কঠোর আন্দোলন ও পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তারা। ছাতকে ঝাড়ু মিছিল, গণপদত্যাগের হুমকি:সিলেট অফিস জানায়, বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা বাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী বদল করতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা দলের সিনিয়র নেতা কলিম উদ্দিন মিলনকে ধানের শীষের প্রার্থী না করলে ছাতকের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করবে বলে হুমকি দেন। তারা দল ঘোষিত প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীকে ছাতকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। এর আগে শহরে ছাত্রদল ও যুবদল ঝাড়ু মিছিল বের করে। আরো পড়ুন: এদেশের মানুষ অন্ধকারে ফিরে যেতে চায়না: নাসিম রংপুরে মির্জা ফখরুরেল কুশপুত্তলিকা দাহ রংপুর অফিস জানায়, আজ রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। বিএনপির বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরা। রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে প্রার্থী না করায় পূর্ব ঘোষিত ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষে এ কর্মসূচি পালন করে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় রংপুর মহানগরীর নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে একত্রিত হয়ে। দলের মহাসচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের কুশপুত্তলিকাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত জামায়াত পেল ২২ আসন
অনলাইন ডেস্ক: অনেক দরকষাকষির পর শেষ মুহূর্তে এসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন বলে এনটিভি অনলাইনকে আজ রোববার সকালে নিশ্চিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এ টি এম আবদুল হালিম। তবে এর বাইরেও আরো অন্তত ১৫টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতারা। আজ রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আসন সংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না জামায়াত নেতারা। গতকাল রাত এবং আজকে সকালে আরো আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ২২টি আসনে সমঝোতা হয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এ দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক ও ঐক্যফ্রন্টের মতো তাদেরও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। ২০ দলের শরিক শুধু এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ছাতা নিয়ে লড়াই করবেন। জামায়াতে ইসলামী যে ২২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে সেগুলো হচ্ছে : পিরোজপুর-১ শামীম বিন সাঈদী; ঢাকা-১৫ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান; কুমিল্লা-১১ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের; চট্টগ্রাম-১৫ শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ। ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম; দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ; দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম; নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু; নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম; রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী; গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার; সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান; পাবনা-৫ ইকবাল হুসেইন; ঝিনাইদহ-৩ মতিউর রহমান; যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন; বাগেরহাট-৩ আবদুল ওয়াদুদ; বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলিম; খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬ আবুল কালাম আযাদ; সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক ও সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম। এবারের নির্বাচনে ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে আপিলের আবেদন করেন ৫৪৩ জন। গত তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ২৪৩ জন। নির্বাচন আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে।
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নানা প্রশ্ন
অনলাইন ডেস্ক: দুদকের মামলায় চার বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শনিবার তাকে ঢাকা-১৭ আসনের বৈধ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটা কীভাবে সম্ভব, সে প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও। এবিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল গণমাধ্যমকে বলেন, এটা বুঝলাম না। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মনোনয়নপত্র কীভাবে বৈধ হয়। নির্বাচন কমিশন যদি সাজার ব্যাপারটা ঠিকমতো না বোঝে, তা হলে তো সংবিধান পরিপন্থী কাজ হয়ে যাবে। গতবারও মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ অনেকেই সুযোগ নিয়েছিলেন; কিন্তু তা ঠিক হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমার কথা হচ্ছে, কনভিকশন (ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা দণ্ড) স্থগিত হয় না। কনভিকশন স্থগিত করলে তা সংবিধান পরিপন্থী হয়ে যায়। জানি না, নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে হোক আর ভুলভাবে হোক, একটা আদেশ দিয়ে দিয়েছে। আশা করি ওই আসনে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী একটা পদক্ষেপ নেবে। সড়ক ও জনপথের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদাকে সাত বছর ও তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। হুদা দম্পতির আপিল পুনঃশুনানি শেষে গত বছর ৮ নভেম্বর নাজমুল হুদার সাজা কমিয়ে চার বছর করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সিগমা হুদা এরই মধ্যে যে পরিমাণ সাজা খেটেছেন, তা-ই শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হয় ওই রায়ে। গত ১৮ নভেম্বর এই রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়, যাতে নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ রয়েছে। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদক মামলাটি করে। এ ব্যাপারে দুদকের একজন শীর্ষ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা কীভাবে সম্ভব? নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বৈধ হলে খালেদা জিয়ারও বৈধ ঘোষণা করতে হবে। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কেউ অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কী কারণে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে, সেটা ইসিই ভালো বলতে পারবে। ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি মেয়াদে দ-িত হওয়ায় এবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আজ রোববার শেষ দিন। মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা বিকেল ৫টার মধ্যে নিজে বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। পাশাপাশি আজকের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের বৈধ প্রার্থীর নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। আগামীকাল সোমবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিক ভোট উৎসব। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সালের ১৬(২) ধারা অনুযায়ী, বৈধ একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বা সমমর্যাদাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষরে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠাতে হবে। দলের পক্ষ থেকে একজনকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হলে বাকিদের মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যদিও আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে এর আগেও অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট দুই হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি। মনোনয়নপত্র বাছাইকালে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে আপিলের আবেদন করেন ৫৪৩ জন। গত তিন দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন মোট ২৪৩ জন। নির্বাচন আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হচ্ছে।
খালেদার গুলশান কার্যালয়ে বিক্ষুব্ধদের হামলা-ভাঙচুর
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে তালা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেও শান্ত হয়নি মনোনয়ন বঞ্চিত সমর্থকরা। এবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা। গুলশান কার্যালয় থেকে বার বার মাইকে মিছিল স্লোগান না দেয়ার ঘোষণা দিলেও তা ভ্রুক্ষেপ করছে না মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এসে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা-১২ আসনের আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও শেরপুরের নালিতাবাড়ীর একটা আসনের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালান বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুরে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পক্ষে স্লোগান এবং বিক্ষোভ করেন। পরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফলাফল কলাপসিবল গেট গেইটে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর গেট খুলে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সমর্থকরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে। উল্লেখ্য, চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এহসানুল হক মিলন। কিন্তু সেখানে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন। আলোকিত বাংলাদেশ

রাজনীতি পাতার আরো খবর