ইসির সঙ্গে আঁতাতের প্রমাণ চাইলেন ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,এই দল (বিএনপি) দুর্নীতিতে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কানাডার ফেডারেল আদালত সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে তাদের। সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিপরায়ণ দল হিসেবে যে দুর্নাম, সেটি তারা কিভাবে ঘোচাবে? তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নেই, এজন্য এভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। দুর্নীতিটা তাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে হাইকোর্ট সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে ইসি বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে, এমন কোনো প্রমাণ থাকলে আমাদের দিন। বিএনপির নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন দাবির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন,নির্বাচনের বাকি ২৪ দিন। যারা এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা বলবে, বুঝতে হবে তাদের অন্য কোনো মতলব আছে। তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এই সময়ে এসে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার মতো অবস্থা নেই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন,আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। আজকে আমরা এই অঙ্গীকারই করবো, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো। এদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে সকাল থেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী যুবলীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, ছাত্রলীগের পক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষে সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় যুব সংহতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে সোহরাওয়ার্দীর কবরে। এসময় সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নৌকার হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে,আটঘাট বেঁধে প্রচারে নামবে আওয়ামী লীগ
অনলাইন ডেস্ক: নৌকার হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমের দলীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। দলীয়ভাবে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে বিজয়মঞ্চ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীর জন্য ভোট চাইবেন তারা। এছাড়া দলীয়ভাবে নির্বাচনি কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে এনে সবাইকে একযোগে মাঠে নামানোর জন্য কাজ চলছে। নৌকার জয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার লক্ষ্যে পুরোদমে নির্বাচনি কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সবগুলো শাখার নেতারা। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড প্রায় গুছিয়ে এনেছে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন উপকমিটির সদস্যরা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ ১৫টি উপকমিটির কোনো না কোনো কমিটির সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের মতো করে বৈঠক করছেন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা লক্ষ্যে। এছাড়া নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রমসহ নির্বাচনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিও গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার সকালে কমিটির আহ্বায়ক ড. গওহর রিজভী ও সদস্য সচিব আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। শিগগিরই সারা দেশের ৩০০ আসনে এ কমিটি কাজ করবে। প্রতিটি আসনে সংগঠনের অবস্থা ও দলীয় নেতাকর্মীদের কার্মকাণ্ডের চিত্র তুলে আনতে কাজ করবে এ কমিটির সদস্যরা। মাঠের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে প্রতিটি জায়গায় ২ থেকে ৩ জনের একটি টিম পাঠানো হবে। সেই টিম এসে মাঠের চিত্র তুলে ধরে রিপোর্ট জমা দেবে কেন্দ্রে। এছাড়া ১১ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার মধ্য দিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কার্যক্রম শুরু করার যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে তাও দুই একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলা হবে বলেও জানা গেছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও প্রচার উপকমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এরই মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করে ফেলেছি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরেই আমাদের প্রার্থীরা নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া ও প্রচারের কাজ শুরু করবেন। অন্যদিকে দলীয় প্রধানের প্রচারে নামার বিষয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কাজে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্যতম আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ১১ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কার্যক্রম শুরু করার যে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে তাও দুই-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলা হবে। এরপর নেত্রীর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করারও কথাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতেও যাওয়ার চিন্তা করছেন। নেত্রীর কাছে সময়সূচি জমা দেওয়া হয়েছে দুই-একদিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনাসহ সব ধরনের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানোর পাশাপাশি নির্বাচনি কাজের মনিটরিং ও সমন্বয় করার জন্যই কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এবার নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে পুরো নির্বাচনি কাজ পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করার জন্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা ও দেখভাল করবেন। সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে বিভিন্ন বিষয়ে রিপোর্ট করবেন। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। তারা নির্বাচন করছেন না। তারা কেন্দ্রে থাকবেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কাজ করবেন। এতে হেড কোয়ার্টারে নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ হবে। আমিও মাঝে মাঝে আসব। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ নেতা ধানমন্ডি অফিস থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বোঝাচ্ছেন, সঙ্গে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কঠোর বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছেন। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলে সবাইকে মাঠে নামানো সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন দায়িত্বশীলরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছি। ফলও ভালো। এরই মধ্যে বিভিন্ন আসনেও বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। আশা করছি, দুই-একদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করবে। এদিকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে জেলা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে বিজয়মঞ্চ করে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য কাজ করছে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের অন্যতম নেতা ডা. দিলীপ বড়ুয়া আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজয়মঞ্চ গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুসকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও করা হবে। ৬ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এছাড়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে সোমবার ৮ বিভাগের জন্য বিভাগীয় নির্বাচন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বিভাগের জন্য দুইজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিথ্যাচারের ফ্যাক্টরি হচ্ছে নয়াপল্টন: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: রোজ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নানা অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নয়াপল্টন হচ্ছে মিথ্যাচারের ফ্যাক্টরি। সেখানে একজন আবাসিক নেতা রয়েছেন, তিনি সবসময়ই মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। রাজধানীর ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিহাস বলে-জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিরাপদে কারা বিদেশ পাঠিয়েছিল, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে কারা খুনিদের বিচার বন্ধ করেছিল, খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল, কারা পঞ্চম সংশোধনী করেছিল-সবই দেশবাসী জানে। বিএনপিই এসব করেছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) জিয়াউর রহমান, তার ছেলে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকন্যা হত্যা প্রচেষ্টা (একুশ আগস্ট) মামলায় দণ্ডিত-এমতাবস্থায় জিয়া পরিবারকে বাংলাদেশে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কোনো চিন্তা আওয়ামী লীগের আছে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতিহাস বলে-জিয়া পরিবার বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে। জিয়া পরিবারকে সরিয়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। ১৫ আগস্টের নেপথ্যে তারাই ছিল-খুঁজলে তাই বেরিয়ে আসবে। তারাই আবার সেই খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, পুনবার্সিত করেছে। আমাদের নেত্রীকে লক্ষ্য করে ২১ আগস্ট বোমা হামলা ঘটিয়েছিল। এর বিচারও হয়েছে-যোগ করেন কাদের। বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার পাপে আমি ভিকটিম (ভুক্তভোগী)। আমার অন্যায়ে আমি ভিকটিম। এখানে অন্যদের কি করার আছে? তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালত আদেশ দিয়েছেন। এখানে রাজনৈতিকভাবে আমরা তাদের হয়রানি করিনি। বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে, অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি বাণিজ্য করেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে, তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়িতে গিয়েও ধরণা দিচ্ছেন। আমাদের খবর আছে- সেসব বিএনপি নেতা (টাকা নেয়া) এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির এত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও ৫৫৫ প্রার্থী টিকে থাকাই প্রমাণ করে, তারা মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ অভিযোগ করেন। জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, তা আওয়ামী লীগ চায় না বলেও মন্তব্য করেন কাদের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য বিএনপির ৬৯৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কমিশন কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থী টিকে আছে ৫৫৫ জন। ৩০০ আসনের জন্য এত সংখ্যক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে বিএনপির মনোনয়ন-বাণিজ্য বলে অভিযোগ করলেন ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, ১৪১ জন বাদ যাওয়ার পরও ৫৫৫ জনের নাম এখনো প্রার্থিতায় আছে। আমরা তো বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি এবং গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। ডালপালা বিস্তার করেছে। যে বিএনপি মনোনয়ন-বাণিজ্যে এবার রেকর্ড করেছে। এ সময় জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, তা আওয়ামী লীগ চায় না বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন! জিয়া পরিবারই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বারবার চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করেছে। নেপথ্যে কি ছিল না ১৫ আগস্টের? অস্বীকার করতে পারে তারা? আমরা তো তাদের নিশ্চিহ্ন করতে চাইনি। তাদের ওপর যা হচ্ছে, সেটা আদালতের আদেশে হচ্ছে। এখানে আমাদের, রাজনৈতিকভাবে আমরা কোনোভাবে হয়রানি, হুমকি এসব আমরা করতে যাইনি। নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না জেনে বিএনপি দেশে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন কাদের। বিএনপি নেতারা ক্রমাগত তাদের নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপি গঠনের পর এই প্রথম জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে চায়। কাদের বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। এটা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দল থাকলেও আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। এ সময় জনগণের কথা চিন্তা করে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
জেলগেটে নিপুণসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক: নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা আরেক মামলার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন আদেশ দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পল্টন থানার নাশকতার আরেক মামলায় নিপুণসহ দুজনকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াসহ একাধিক আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিনের আবেদন খারিজ করে একদিন জেলগেটে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেন। গত ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল থেকে নিপুণকে আটক করা হয়। এর পরে তাঁকে পল্টন থানার নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে আরিফা সুলতানা রুমাকে একই দিন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নথি থেকে জানা যায়, মনোনয়নপত্রের ফরম সংগ্রহের সময় গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এতে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে। তিন মামলাতেই আসামি করা হয়েছে নিপুণ রায়কে।
আওয়ামী লীগের ৩,বিএনপির ১৪১ মনোনয়ন বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মধ্যে সারা দেশে বিএনপির ১৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বাতিল হয়েছে তিনটি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ঋণখেলাপি, তথ্য গোপন করা এবং মনোনয়ন ফরম পূরণে ভুল হওয়ায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসাররা। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৭৮ প্রার্থী বৈধ। আর বিএনপির ৫৫৫ প্রার্থী বৈধ। এর আগে বিএনপির ছিল ৬৯৬ জন। আওয়ামী লীগের ছিল ২৮১ প্রার্থী। ২৮ নভেম্বর ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসাররা। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বুধবার পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। সোমবার প্রথম দিনের ৮২ আপিল আবেদন পড়েছে। এগুলোর মধ্যে নেত্রকোনা-১ আসনের বৈধ প্রার্থী মানো মজুমদারকে ঋণখেলাপি উল্লেখ করে তার প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য আবেদন করেছেন ওই আসনের শাহ কুতুবুদ্দীন আহমদ। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর শুনানি করে আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
মনোনয়ন বাতিলে আশঙ্কার প্রতিফলন দেখছে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক: নানা অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে আশঙ্কার প্রতিফলন দেখছে বিএনপি জোট। এ ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ জোটটি। তবে আগে থেকেই এমন আশঙ্কা আঁচ করতে পারায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিও নিয়েছিল তারা। তাই এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হলেও হতাশ হচ্ছে না জোটটি। বরং আইনি মোকাবিলায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টাসহ নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও দেখছেন নেতারা। বিএনপি জোটের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, নানা অভিযোগ, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বিএনপি জোট। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুরু থেকেই নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও আগে থেকেই বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে বিএনপি জোট। বিভিন্ন অজুহাতে মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কা থেকে সব আসনেই একাধিক প্রার্থী রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ের পর ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তাই রোববার বিএনপি জোটের যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা আশঙ্কারই বাস্তবায়ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার নতুন কৌশল গ্রহণ করছেন তারা। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ছোটখাটো বিষয়ে কারও মনোনয়ন বাতিল করা হবে না। কিন্তু রোববার খুব ছোটখাটো অভিযোগে অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কেউ ক্ষমতার বলে পার পেয়ে যাচ্ছেন, আর কাউকে নানা অজুহাতে আটকানো হচ্ছে এটা অদ্ভুত একটা দেশ। শেষ পর্যন্ত সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে থাকতে দেবে কি না, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন দলটির শীর্ষ এ নেতা। তিনি বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তারা আপিল করবেন। আশা করি, ইসি তাদের মনোনয়ন বহাল রাখবেন। তবে এরপরও যদি কোনো আসনে আমাদের দলের প্রার্থী না থাকে, সেক্ষেত্রে সমমনা কাউকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি। ইসি সূত্র মতে, ঋণখেলাপি, আদালতে দণ্ড হওয়া, তথ্য প্রদানে ঘাটতিসহ নানা কারণে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ৮০ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প প্রার্থীদেরও বাতিল করায় ছয়টি আসনে বর্তমানে বিএনপি জোটের কোনো প্রার্থীই নেই। মনোনয়ন বাদ পড়াদের তালিকায় আছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এম মোরশেদ খান, আমানউল্লাহ আমান, আসলাম চৌধুরী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আফরোজা আব্বাস, সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী গোলাম মাওলা রনি, গণফোরামে যোগদানকারী রেজা কিবরিয়া প্রমুখ। বিভিন্ন অজুহাতে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান ইসি সরকারেরই প্রলম্বিত ছায়া। উনাদের (আওয়ামী লীগ) দন্ডপ্রাপ্ত যারা, সবাই টিকে গেলেন। স্বাক্ষর করেননি, তথ্য দেননি, বেসামরিক বিমান পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তারটা টিকে গেল। এখানেই বুঝতে পারেন কার পরামর্শে ইসি চলছে। যেসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না, সেখানে কী হবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ছয়টি আসনে তো বিএনপির কোনো প্রার্থীই নেই। এতে নির্বাচন কমিশন সরকারের কথায় যে কারিগরি করছে, ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটায় তারা (সরকার) যে ক্রীড়াশীল এটাতে তা স্পষ্ট। সেখানে কী করব, সেটা আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। সূত্র মতে, মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কার কথা আগে থেকেই প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি জোটের নেতারা। এজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনে দুই থেকে তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। জোটের শরিকরাও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেয়। একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, কোনো আসন যেন শূন্য না থাকে, সেজন্যই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ইসির যাচাই-বাছাইয়ের পর একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বাকিরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। সে অনুযায়ী ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনসহ বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো :হিরো
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় পার্টির সমর্থন না পেয়ে বগুড়া ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেয় হিরো আলম। ২রা ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করলে তিনি আজ ইসিতে আপিল করতে আসেন। কী কারণে আপনার মনোনয়নপত্র বাতিল হলো, ভুলটা কার ছিল?সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বগুড়া ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম বলেন, আমি তো জানি আমার কোনো ভুল ছিল না। আমি এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর দিয়েছিলাম। ওখান থেকে তারা শতকরা ১০ জন সিলেক্ট করছিল। এর মধ্যে ওরা সাতজন বলে রিয়েল (প্রকৃত) পাইছে, বাকি তিনজন খুঁজে পায়নি। তারা যখন রাতে কাগজ দেয়, ওখানে দেখায় সবই ভুল। আবার তারা যখন বলল সাত জনের কথা, যখন কাগজ দিল তখন বলল তিনজনের কথা ।এরা এদেশের লোকজন এরা কোনো দিনও চায় না, প্রজারা রাজা হোক।এদেশের এমপি-মিনিস্টার চায় না, জনসাধারণ আমরা এমপি-মিনিস্টার হোক। কী কারণে, এরা অলটাইম চায় - এদের বউ, এদের বাচ্চা, এদের বাপ, নানা-নানি এমপি হোক। আমাদের মতো জনসাধরণদের এরা এমপি হতে দিবে না।তার মানে আপনারটা কী ষড়যন্ত্র করে বাতিল করা হয়েছে, প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম বলেন, অবশ্যই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।কে ষড়যন্ত্র করেছে? কার ইঙ্গিত ছিল? এর উত্তরে হিরো আলম বলেন, ওখানে যারা আমার কেন্ডিডেট ছিল। ওই এলাকায় আপনারা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেন, হিরো আলম ছাড়া কেউ কোনো কিছু বলে না। হিরো আলম আওয়াজ ওঠে গেছে। আমার যারা প্রতিদ্বন্ধী, সব কয়টায় মিইলা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।ওখানে আরও কয়েকজন দাঁড়ালো, তাদের মনোনয়ন বাতিল হলো না। ওখানে আরও দুইজনের বাতিল হয়েছিল, তারা কী করল, হইচই করল। গন্ডগোল লাগাতে চেষ্টা করল। তারপরে তাদেরটা গ্রহণ করা হলো।তিনি বলেন, আমি বলব, আমার ক্ষমতার জোর নাই, আমার অর্থ-সম্পদ না নাই, জোর গলায় কথা বলতে পারলাম না। আমারটা গ্রহণ করল না। তাছাড়া একবার বলল সাতটা, যখন কাগজ দিল পাঁচটা। তারা অবশ্যই আমার সঙ্গে দুর্নীতি করছে।আপনি কী শেষ পর্যন্ত লড়াইটা চলে যাবেন?আমি যেহেতু জিরো থেকে হিরো। লড়াই করতে করতে এতদূর আসছি। আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট আপনাদের মিডিয়া। মিডিয়া আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসে। মিডিয়ার সাথে জনগণের ভালোবাসা আছে। যে কারণে আমি আজ এত দূর। তাই শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। পাই আর না পাই, বীরের মতো মাথা তুলে যাব এখান থেকে।
জাপার নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদ থেকে আবারও আউট হলেন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সোমবার সকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে চিঠি পেয়েছেন জাপার নতুন এই মহাসচিব। এর আগ পর্যন্ত দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এরশাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, আপনাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি আপনি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে-যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা টানাপোড়েনের কারণে বর্তমান মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পরিবর্তে রাঙ্গাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজনীতি পাতার আরো খবর