আল্লামা শফিই জাফর ইকবালকে হত্যার তালিকা করেছিলেন:শাহরিয়ার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার তালিকা হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ২৫ মার্চের গণহত্যা শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। সেমিনারে দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় ২৫শে মার্চের গণহত্যা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় সদস্য ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা ও ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ বিষয়ে সেমিনারের অন্যতম আলোচক ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন,আমি স্বদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে দ্বিমত করছি। রাজীব হায়দার হত্যা ও জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা গণহত্যা নয় বলে আমি মনে করি। এগুলো টার্গেট কিলিং। একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠী তালিকা তৈরি করে বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করেছে। ১৯৭১ সালেও একইভাবে তালিকা হয়েছিল, আলবদররা এই তালিকা তৈরি করেছিল। সাম্প্রতিককালের রাজীব হায়দার থেকে জাফর ইকবাল পর্যন্ত হত্যার তালিকা হেফাজতে ইসলামের প্রধান আহমেদ শফী করেছেন। শাহরিয়ার কবির বলেন, শফি ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি কতগুলো নাম বলেছেন। সেখানে রাজিব ও জাফর ইকবালের নাম ছিল, আমার নাম ছিল, মুনতাসির মামুননের নাম ছিল। চিঠিতে আমাদের নাস্তিক, মুরতাদ কাফির বলা হয়েছে। মুরতাদ হচ্ছে যারা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে। ফতোয়া আছে মুরতাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তাই তাদের হত্যা এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি। উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাবি ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল। ঘটনাস্থলেই শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপর ১১ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারী ফয়জুর রহমান পরে বলেন,ভূতের বাচ্চা সোলায়মান নামক উপন্যাস লিখে নবী সোলায়মান (আ.) কে ব্যঙ্গ করায় অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তাকে হত্যা করার জন্য হামলা করেছি। উনি নিজেও নাস্তিক এবং অন্য সবাইকেও নাস্তিক বানানোর জন্য প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তার লেখা পড়ে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে।
পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
মহান স্বাধীনতা দিবস ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২৬শে মার্চ সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে স্থায়ী কমিটির শ্রদ্ধা, বিকালে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২৭শে মার্চ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ২৮শে মার্চ রচনা প্রতিযোগিতা। ২৯শে মার্চ সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা। ৩১শে মার্চ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আলোচনাসভা। তবে এখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভার অনুমতি পায়নি দলটি। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসময় ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক ৭৮টি জেলায় ৩৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যররা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলাগুলোতে গণসংযোগ চালাবে। জার্মান প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় পাঁচটি স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠে আসাকে বাঙ্গালী জাতির জন্য লজ্জার জানিয়ে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বাঙ্গালী হিসেবে আমি লজ্জিতবোধ করছি। সরকার দেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম এটা এখন থেকে বিশ্ব কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে। তিনি খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসি আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার মুক্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তার জামিন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বের নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যরা।
জাপা সরকার গঠন করবে আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে:এরশাদ
আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে তিনি একথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই এরশাদ বলেন,আজ এই জনসমুদ্রে আমি হাজির হয়েছি আপনাদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে। এ বার্তা ইতিহাস গড়ার, ইতিহাস সৃষ্টি করার। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার। ঢাকার বাইরে যান তাহলেই বুঝবেন দেশ কতটা উন্নয়নশীল হয়েছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন,আজ দেশে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে। এ সময় সমাবেশ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন,বাধা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহর আজ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সব রাস্তা বন্ধ। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এতেই প্রমাণিত হয়েছে জাপা আছে জাপা আগামীতে থাকবে। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় মহাসমাবেশে এরশাদ বক্তব্য রাখা শুরু করেন, সাড়ে ১২টায় তিনি বক্তব্য শেষ করেন। লিখিত বক্তব্যে এরশাদ ১৮ দফা পেশ করেন এবং ২৮টি বার্তা দেন। শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঢোল-তবলা, ব্যানারসহ ব্যাপক উৎসাহে তাদের সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জাপার ঢাকা উত্তর শাখা প্রেসিডেন্ট ফয়সাল চিশতি। মঞ্চে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, সেক্রেটারি রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সম্মিলিত ইসলামি জোটের নেতাদেরও মঞ্চে দেখা যায়।
বিজয় ছিনতাইয়ের প্রতিশোধ আগামী জাতীয় নির্বাচনে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় পার্টির বিজয় ছিনতাই হয়েছে বলে দাবি করেছের দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই বিজয় ছিনতাইয়ের প্রতিশোধ আগামী জাতীয় নির্বাচনে নেয়া হবে। শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যরা তাদের বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। বক্তৃতা দিতে গিয়ে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আজ আমরা প্রমাণ করলাম ক্ষমতা অর্জনের সকল শক্তি অর্জন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মিলিত শক্তিই দলকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে। নাসিরনগরে আমাদের বিজয় ছিনতাই হয়েছে, তার জবাব আমরা জাতীয় নির্বাচনে দেব।’
আওয়ামী লীগককে আবারও মানুষ ভোট দেবে: ওবায়দুল কাদের
বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিবাজ দল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে জেনেই দেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগেই ভোট দেবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীতে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। জনগণের কাছে পাত্তা না পেয়ে তারা এখন বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে। বেগম জিয়া কারাগারে গেলেন বিএনপি মনে করল এবার আন্দোলন হবে, মরা গাঙ্গে জোয়ার আসবে, কিন্তু সেটা কি হলো? নয় বছর ধরে বিএনপি আন্দোলন করবে বলে এ বছর ও বছর করছে। আসলে আন্দোলন করতে হলে ঐক্য লাগে। যা বিএনপির মধ্যে নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের জয়লাভ করতে হবে। আমাদের বিকল্প হচ্ছে বিএনপি’র নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক শক্তি। এই শক্তি যদি বিজয়ী হয় তবে দেশ আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ুন মজিদ ও জেলার সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
উন্নয়নের মিছিল করা হচ্ছে দুর্বলতা ঢাকতে:মন্তব্য বিএনপি নেতাদের
দুর্বলতা ঢাকতে উন্নয়নের মিছিল করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি'র শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের উন্নয়ন হলেও দেশ ও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জিয়া শিশুপার্কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, জিয়াউর রহমানকে এভাবে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে আলাদা অনুষ্ঠানে তারা এ মন্তব্য করেন। এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা উন্নয়নের নমুনা হতে পারে না। আজকে যে উন্নয়নশীল দেশের কথা বলছেন। আইএমএফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে নিম্নহারে সুদ দিত। এখন বাজার দরে সুদ নিতে হবে। অর্থাৎ বাজারে প্রতিযোগিতা করে ঋণ নিতে হবে। আমাদের স্ট্যাটাস অনুযায়ী বিনা শুল্কে প্রবেশ অধিকার ছিল ইইউতে। সেটাও হাতছাড়া হয়ে যাবে। আর আমেরিকায় তো বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সব মিলিয়ে উন্নয়নের পরিস্থিতি ভয়ংকর। এই মুহূর্তে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বৈষম্য বেশি বাংলাদেশে। অর্থাৎ গরীব ভয়ংকরভাবে গরীব হচ্ছে। বড় লোক বড় লোক হচ্ছে। এটা উন্নয়নের নমুনা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে জনগণকে চমক দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হাড় কঙ্কালসার যুবতীকে মেকআপ দিয়ে তাকে দেখালে যে অবস্থা হয়, ঠিক সেই অবস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতির। এই দেশের গণতন্ত্রের নামে জনগণের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় খরচে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করছেন। সরকারি কর্মচারীদের যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রিজভী বলেন, সরকারের আজকের কর্মসূচী এক বিকৃত তামাশা। গোটা ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট অচল হয়ে গেছে। জনগণ হয়ে গেছে সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ রাস্তায় আটকা পরে আছে। সরকার বলছে জনদুর্ভোগ তৈরি হয় এমন কোন কোন কর্মসূচী করতে দেয়া হবে না। অথচ উলটো সরকারই জনদুর্ভোগ তৈরি করছে। সত্যি আমরা আজব দেশে বাস করছি। শামসুর রহমানের একটা কবিতা মনে পরে যায় আজব দেশের ধন্য রাজা দেশ জোড়া তার নাম। বসলে বলে হাঁটরে তোরা। হাঁটলে বলে থাম থাম থাম। এই হলো পরিস্থিতি। এ সময় তিনি আরও বলেন, যতই ষড়যন্ত্র চলুক না কেন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোন নির্বাচন হবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না। যদি কোন ষড়যন্ত্র করেন এই দেশের জনগণ বুকের রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। রিজভী বলেন, এই দেশের কোমলমতি শিশুদের জন্যে যে শিশু পার্ক করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এটি করে সারা দেশের মানুষের কাছে তিনি অভিনন্দিত হয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই তার প্রতিষ্ঠাতাকে মুছে ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের দুর্বলতা কতটা নিচে নেমে গেছে যে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাদের এখন উন্নয়নের মিছিল করা লাগছে। মানুষ কি এতোটাই বোকা আছে যে আপনারা উন্নয়নের মিছিল করবেন আর জনগণ তা মেনে গিলবে। বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্ষমতার নিরাপত্তাহীনতা থেকে উন্নয়নের মিছিল করছে আর নৌকায় ভোট চাচ্ছে। উন্নয়নটা কাদের হয়েছে, তাদের হয়েছে। তাদের দলের হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন নেই। সাধারণ জনগণের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে গেছে। কমে গেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা।
এরশাদ-তারেক ঐক্য এখন সময়ের ব্যাপার: ববি হাজ্জাজ
অতীতের মতো এখনো মধ্যপ্রাচ্য বসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গী করতে এরশাদ সাহেবের সাথে গোপন সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তারেক-এরশাদ ঐক্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই ক্ষমতার মসনদে কে বসবে সেটা জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে। অতীতের মত ভোটকারচুপি আর বিনাভোটের নির্বাচন এনডিএম হতে দিবে না। বুধবার জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এর বনানীস্থ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক জরুরী বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এ কথা বলেন। সভা শেষে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার উন্নয়নশীল দেশের তকমা উদযাপনে আত্মহারা হলেও মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসে নাই। মানবাধিকারের উন্নয়ন, বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাকস্বাধীনতার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। তিনি বলেন, বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দুধ-ভাত দিয়ে পোষা বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টি ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে দুধ-কলা দিয়ে পোষা সাপটি কাল সাপে পরিণত হবে। ববি হাজ্জাজ বলেন, ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা হিসাবে তারেক রহমান গণতন্ত্রের চরিত্রে কালিমা লেপনকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আবারো রাষ্ট্রপতি করার টোপ দিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে একইভাবে বিএনপি শাহ আজিজুর রহমানের মত স্বাধীনতা বিরোধীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল। এনডিএম এর এই নেতা আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তারেক-এরশাদ ঐক্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই ক্ষমতার মসনদে কে বসবে, সেটা জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে। অতীতের মত ভোটকারচুপি আর বিনাভোটের নির্বাচন এনডিএম হতে দিবে না। আগামী ২৪ এপ্রিল দলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকার ঐতিহাসিক ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়নতনে সমাবেশ সফল করতে ঢাকা মহানগর এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলাসমূহে দলীয় সফর ও প্রস্তুতি বিষয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এনডিএম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরসহ সমাবেশ অনুষ্ঠান প্রস্তুতি কমিটির সদস্যবৃন্দ।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থাকছে না বেশিদিন:মওদুদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন,খুব বেশিদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে থাকছে না বিএনপি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি দেখা যাক সেটা কত দিন করা যায়। কারণ একটা পর্যায়ে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চাইবে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মওদুদ এসব বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপি নেতা বলেন, আর কত দিন আর আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে? একটা সময় আসবে মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পছন্দ করবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমাদের তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। তাই এ টুকু বলতে চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আবারও ফিরে আসবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন,আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছে। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু দেশের উচ্চতর আদালত আমরা পছন্দ করি আর না করি রায় আমাদের মেনে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করায় এখন দেশের কোনো বিচারপতির মুক্ত মনে বিচার করার সাহস নেই। এই সরকারের আমলে যদি বাংলাদেশের সব চাইতে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে সেটা হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ। তাই ইতিহাসে এ সরকার কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, সরকার জানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে বাংলাদেশে। তাই যত দিন যাবে সরকারই ততই চেষ্টা করবে তাঁকে কারাগারে রাখার জন্য। কিন্তু কারাগারে খালেদা জিয়াকে বেশিদিন রাখা সম্ভব হবে না। রাজনীতিবিদ হিসেবে এটা তাঁর চ্যালেঞ্জ। মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি যতই বিলম্বিত হবে ততই তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়বে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া।
সোহরাওয়ার্দীতে ২৯ মার্চ সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির
দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী ২৯ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আশা করবো সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, যাতে আমরা সমাবেশ করতে পারি। মির্জা ফখরুল জানান, একই দাবিতে আগামীকাল ২০ মার্চ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, আর ঢাকায় প্রতিটি থানায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে চাচ্ছে। তবে আমরা অতি সহজে ভিন্ন পথে পরিচালিত হবো না। আজকে (১৯ মার্চ) আমাদের সমাবেশ করার কথা ছিল, কিন্তু তার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি নিজে কয়েকবার টেলিফোন করেছি, তারা ফোন ধরেন নাই। আমাদের একটি টিম দেখা করতে গেলেও ডিএমপি দেখা করেনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।