জনগণকে সক্রিয়ভাবে দেশ শাসনে অংশগ্রহণ করতে হবে: ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য জনগণকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন। নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, জনগণকে সক্রিয়ভাবে দেশ শাসনে অংশগ্রহণ করতে হবে। শুধু একদিন ভোট দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। তিনি বলেন, মালিকরা যদি তাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন না করেন, তবে তারা বঞ্চিত হন। সেই দায়িত্ব মনে রেখে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন যেন সুষ্ঠভাবে হয়, সেটা জনসাধারণকে মালিক হিসেবে পাহারা দিতে হবে। এ আইনজীবী বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনকে বাধা দেয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে। বাধা দিলে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে রক্ষা করতে হবে। বুথ খোলার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা সেখানে উপস্থিত হবেন। পরিবারকে নিয়ে ভোট দেবেন। দলীয় আনুগত্য ও ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন ছাড়াও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু প্রমুখ।
আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না ডলার ঢেলেও বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: লাখ লাখ ডলার খরচ করেও বিএনপি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শনিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ ডলার খরচ করেও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না। তারা গণতান্ত্রিকক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। শুধু পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। তারা বুঝে গেছে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারবে না। এজন্য তারা বাকযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের আশঙ্কা তারা নাশকতায় যায় কি-না? আগামী নির্বাচনে কিন্তু ভোট বিপ্লব হবে জগাখিচুড়ি জাতীয় ঐক্যফন্টের বিরুদ্ধে।
রওশনের আয় এরশাদের চেয়ে ৬ গুণ বেশি
অনলাইন ডেস্ক: ব্যবসা থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বছরে মাত্র ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। এই হিসাবে তার মাসিক আয় দাঁড়ায় মাত্র ১৭ হাজার ২০৮ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া এরশাদের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী হতে গত বুধবার সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। হলফনামায় পেশার বিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা হয়েছে বিএ পাস। হলফনামায় আয়ের উৎস বিবরণী থেকে জানা যায়, কৃষিখাত, বাড়ি-এপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত বাবদ এরশাদের কোনো আয় নেই। তবে তিনি রাষ্ট্রীয় বিশেষ দূত হিসেবে বাৎসরিক সম্মানী পান ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৯৬ টাকা। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হিসেবে জাপা চেয়ারম্যানের বাৎসরিক সম্মানী ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সম্মানী হিসেবে পান ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা। এরশাদের থেকে ৬ গুণ বেশি টাকা স্ত্রীর! এরশাদ অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়েছেন, নগদ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা। অবশ্য তার স্ত্রী রওশন এরশাদের হাতে নগদ দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ টাকা, যা এরশাদের উল্লেখিত হাতে নগদের প্রায় ছয় গুণ! এ ছাড়া ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জাপা চেয়ারম্যানের ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা জমা রয়েছে। শেয়ার মার্কেটে দেশের এই শীর্ষ রাজনীতিকের ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা রয়েছে। ফৌজদারি মামলা হলনামায় দেখা গেছে, জাপা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি মামলাই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে। এসব মামলার দুটি বর্তমানে বিচারাধীন, বাকি ৪টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া এরশাদের বিরুদ্ধে অতীতে আরও ২৭টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৩টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন, ৬টিতে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, ৪টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, তিনটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ও একটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হলফনামার তথ্য: বাড়ি-আসবাবপত্র নেই সালমান এফ রহমানের!
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান পাওয়া বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের বাড়ি বা আসবাবপত্র নেই। নেই কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী। নেই বৈদেশিক মুদ্রা। ঢাকা-১ আসনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি এ তথ্যই দিয়েছেন। অথচ ২০১৭ সালের মার্চে প্রকাশিত চীনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হুরুন গ্লোবালের তালিকায় ধনী ২ হাজার ২৫৭ জন ব্যক্তির মধ্যে তার অবস্থান ছিল ১ হাজার ৬৮৫তম। ইসির কর্মকর্তারা জানান, হলফনামায় অসত্য তথ্য বা তথ্য গোপন করলে এবং তা প্রমাণিত হলে একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আগামীকাল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন নির্ধারিত রয়েছে। সালমান এফ রহমান হলফনামায় নিজের নামে ৩৪ লাখ টাকার যানবাহন দেখিয়েছেন। কিন্তু তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো গাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করেননি। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকের সম্ভাব্য এ প্রার্থী হলফনামায় নিজের নাম উল্লেখ করেছেন সালমান ফজলুর রহমান, বাবা ফজলুর রহমান, মা সৈয়দা ফাতিনা রহমান। স্থায়ী ঠিকানা-বেথুয়া, মুকসুদপুর, দোহার, ঢাকা। দীর্ঘদিন ধরে জিএমজি এয়ারলাইন্সে ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকলেও সালমান এফ রহমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, আমি একক বা যৌথভাবে আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করি নাই।’ তবে সালমান রহমান আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী দায়-দেনার পরিমাণ ৮৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪১০ টাকা উল্লেখ করেছেন। হুরুন গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, সালমান এফ রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। যদিও তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার অস্থাবর সম্পদে কোনো কৃষিজমি নেই। নিজ নামে ২ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৬৮৭ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ৭০৮ টাকার অকৃষি জমি আছে। ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৯ টাকার আবাসিক-বাণিজ্যিক দালান আছে নিজ নামে। স্ত্রীর নামে আবাসিক বা বাণিজ্যিক দালান নেই। তবে স্ত্রীর নামে ২৫ কোটি ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৯ টাকার বিল্ডিং কন্সট্রাকশন আছে। স্থাবর সম্পত্তির বর্ণনায় তিনি বলছেন- নিজের কাছে নগদ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আছে। আর স্ত্রীর কাছে নগদ আছে ৬০ হাজার টাকা। নিজের কাছে, স্ত্রীর কাছে কিংবা নির্ভরশীল কারও কাছেই বৈদেশিক মুদ্রা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ১২৮ টাকা নিজ নামে এবং স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ টাকা জমা আছে। স্ত্রীর নামে না থাকলেও নিজের নামে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৬ টাকার। নিজের নামে বাস, ট্রাক, মোটর গাড়ি, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদি আছে ৩৪ লাখ টাকার। নিজের নামে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারাদি আছে ১৫ লাখ ৫ হাজার টাকার। আর স্ত্রীর নামে আছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার। হলফনামায় সালমান এফ রহমান বার্ষিক আয় হিসেবে ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। এছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ডিভিডেন্ট থেকে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৮ টাকা, চাকরি (সম্মানী ভাতা) থেকে ৪১ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানির বোনাস শেয়ার ও আইএফআইসি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার বাবদ ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী কোনো রকম সুদ ছাড়াই আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন কোম্পানিকে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা ঋণ দিয়েছেন। শীর্ষ নিউজ
আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করবেন আজ শনিবার বিকালে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত গ্রেফতার ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ৩ ডিসেম্বর। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। ৩ ডিসেম্বর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আসন বণ্টন ছাড়াও নির্বাচনী ইশতেহার, নির্বাচনী কৌশল নিয়েও আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাছাইয়ের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হবে। যারা বাছাইতে টিকবেন তাদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুলশানে বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে শনিবার (আজ) ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে: মওদুদ
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগ ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া ঠেকাতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। সেজন্য তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মওদুদ আহমদ মনে করছেন, জনগণ সরকারের ওপর এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে, ৩০ ডিসেম্বর তারা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেই ধানের শীষ জয়ী হবে। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এলেও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করে আসছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) এটা সামলাতে পারবে না যদি মানুষ ভোট দিতে পারে। সেজন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ভোটারদের বোঝাতে হবে, যত অসুবিধাই হোক না কেন, যত হুমকি-ধামকিই থাকুক না কেন, আপনাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটের মাধ্যমে এই সরকারের সব অপকর্মের উত্তর দিতে হবে। সভায় বিএনপির জোটসঙ্গী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সমস্ত মানুষ বলছে, এবার সুযোগ পেলে দেখিয়ে দেব। সারা বাংলাদেশ একই কথা বলছে। লড়াইটা বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একার নয়, ১০ কোটি ভোটারদের লড়াই। যত বড় বিপদ হোক, গ্রেপ্তার হন, মার খান, নির্যাতিত হন, মানুষকে একবার গিয়ে বলতে হবে- এটাই সুযোগ। এই ভোট দিলেই বেগম জিয়া জীবনে বাঁচবেন, কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। এই ভোট যদি দিতে পারেন, তাহলেই কেবল এই অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবেন। সভায় নোয়াখালীতে নিজের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গেরও অভিযোগ করেন মওদুদ। সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণ আপনাদের পক্ষে আছে। যেখানে যাই, এটা আমি দেখতে পাই। বাতাস আপনাদের পক্ষে আছে। এই সরকার টিকতে পারবে না। নৌকা ডুবে গেছে। এই নৌকাকে আর উঠানো যাবে না। আদর্শ নাগরিক আন্দোলন ও জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন-এর যৌথ উদ্যোগে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন,বিএনপির ভেতরে জগাখিচুড়ি অবস্থা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল, যা মির্জা ফখরুল ও তার দলের কন্ট্রোলের (নিয়ন্ত্রণ) বাইরে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ নয়। তারা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করবে? আসন বণ্টন নিয়ে মহাজোটের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ করে বাকিটা ঠিক করে নেব। জাতীয় পার্টিকে আসন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় পার্টিকে বলেছি-প্রয়োজনে ৩০০ আসনে আপনাদের প্রার্থী দিয়ে দেন। কিন্তু যোগ্য ও জেতার মতো হতে হবে। আমরা যাদের যোগ্য ও উইনেবল মনে করেছি, তাদের তো মনোনয়ন দিয়েছি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই বিএনপি নেতারা মনোনয়ন জমা দেয়নি-মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের (বিএনপি) কাঙ্ক্ষিত জায়গায়, নির্বাচনী এলাকা থেকে তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে তারা ক্ষোভে ও দুঃখে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। বিএনপি নেতাদের মনোনয়ন জমা না দেয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি যত দূর জানি, তাদের মধ্যে দুজন আছেন-তাদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় থেকে মনোনয়ন পায়নি বলে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। আর মির্জা আব্বাস সময়মতো মনোনয়ন জমা দেয়নি। নির্বাচন কমিশন তাই মনোনয়ন জমা নেয়নি। বিএনপি মনগড়া অভিযোগ করলে তো হবে না। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হচ্ছে-বিএনপি এমন অভিযোগকে মনগড়া মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বলুন-কোথায় কোথায় আপনাদের প্রার্থীকে বাধা দেয়া হচ্ছে। তা হলে নির্বাচন কমিশন তার ব্যবস্থা নেবে। অন্ধকারে ঢিল ছোড়া তাদের পুরনো অভ্যাস। জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে, আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি অভিনব কিছু নয়। জামায়াতকে আলাদা করে লাভ নেই। তারা একই বৃন্তে দুই ফুল। জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল, মন্তব্য করে কাদের বলেন, জামায়াত-শিবির ছাড়া বিএনপি চলতে পারে না। তারা একসঙ্গেই কাজ করছে, রাজনীতি করেছে এবং সাম্প্রদায়িকতা করেছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন কেন্দ্র করে যে সহিংসতা হয়েছে, তাতে জামায়াত বিএনপির সহযোগী ছিল মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সঙ্গে মিলে জামায়াত আন্দোলন করেছে। গাড়ি পুড়িয়েছে। আগুন সন্ত্রাস করে মানুষ মেরেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহম্মদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন,উত্তর জানা যায়নি আজও: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি জানি না, কী কারণ। কারণ তো আছে। সে কারণটা সত্যি সত্যিই সময়মতো প্রকাশ হবে। আর কামাল হোসেনকে তো ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলা হচ্ছে। কিন্তু কে তাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন? এই প্রশ্নটার উত্তর আজও জানা যায়নি। মানুষ স্বাভাবিক কারণে মনে করেছিল ড. কামাল হোসেন পিএম ফেস বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষের সে ধারণার অবসান হলো। এখন কে ঐক্যফ্রন্টের পিএম ফেস, এটা আবারও জানতে ইচ্ছে করছে। একটা দল একটা জোট নির্বাচন করছে, সামনে কে কে লিড দিচ্ছে। কোন ফেসটাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখছে, সে কথা আজও জানা গেল না। বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে জানান ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন ও বিএম মোজাম্মেল হক নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে থাকবেন। এই ব্যাপারে গত মঙ্গলবার তাদের ডেকে আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও কিছু পরামর্শ দেবেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সবাই নির্বাচন করে না। ভারতের অনেকেই কিন্তু দলকে সহযোগিতা করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না। আমাদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য দক্ষ এবং অভিজ্ঞ যে নেতৃত্ব, তারা সাধারণত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। কিন্তু এবার আমাদের নেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের বিজেপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের মতো কিছু নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রেখেছেন। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদেরও তো আছে, আমরা আগেভাগে আঁচ করতে পেরে কক্সবাজারের বদির মতো অনেককেই মনোনয়ন দেইনি। হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানাই। আপিল বিভাগও এই সিদ্ধান্তে অটল, এই ব্যাপারটাকে আমরা স্বাগত জানাই। সাকিলা ফারজানাকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়ার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জঙ্গি বলেই মনোনয়ন পেয়েছেন, জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই তাদের মনোনয়ন পেয়েছে। এখনও ঘোষণা তারা করেননি। তবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার যে এরা মনোনয়ন পাবে। তারা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। এটা আমরা অনেক দিন আগে থেকে বলে আসছি। বিএনপি জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। এই পৃষ্ঠপোষকতার পরে তারা জঙ্গিকে মনোনয়ন দেবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। জোট ও মহাজোটের আসন বণ্টনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন মেরুকরণের সময় নয়। সমীকরণের সময়। সমীকরণ কোথায় গিয়ে ঠেকে সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের কাজে নামার আহ্বান ছাত্রলীগ সভাপতির
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের কাজে নেমে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। নিজ নিজ এলাকায় দিনে অন্তত একঘণ্টা করে নির্বাচনী কাজ করার জন্য সংগঠনের সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শোভন বলেন, আপনারা (ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা) দিনে অন্তত একঘণ্টা করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রচারণা করুন। এলাকার চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান, কেন শেখ হাসিনাকে আবার প্রয়োজন। এটাও বোঝান, কেন ধানের শীষে ভোট দেওয়া যাবে না। বুধবার রাত দশটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে শিক্ষার্থী সংলাপ ও নির্বাচনী কর্মীসভা শিরোনামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজওয়ানুল হক এসব কথা বলেন। এই সভায় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্বাচনের প্রার্থীদের মতো কাজ করে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। বিজয়ের মাসে যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথানত করে, তাহলে এর দায়ভার পড়বে তরুণ সমাজের উপর। তাই আপনারা অনলাইনে আরও বেশি সক্রিয় হন। দিনে আট থেকে দশটি পোস্ট দেন। চারটি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন নিয়ে, চারটি বিএনপি জামায়াতের দুঃশাসন নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, নির্বাচনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্যাম্পাসে থাকবেন। কোনোভাবেই যাতে জামায়াত-শিবির এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সঞ্চালনায় সভায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও হল শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের অংশ হিসেবে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

রাজনীতি পাতার আরো খবর