তথাকথিত শিক্ষিতের মায়াকান্না বিএনপি নেত্রীর জন্য
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। তার জন্য কিছু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের মায়াকান্না যেন উপচে পড়ছে। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বেগম জিয়া এতিম শিশুদের টাকা লুটের দায়ে আদালত কর্তৃক দোষীসাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে জেল খাটছেন।’ ‘একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিচয় একটাই, তিনি দুর্নীতিবাজ। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে কথা বলাও দুর্নীতি করার শামিল।’ মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে শহর সমাজসেবা কার্যালয়-২, রমনা, ঢাকা আয়োজিত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাবই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের চৌদ্দদলীয় জোট সরকার বর্তমানে দেশের দুর্নীতি ও মাদকের মূলোৎপাটনে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনই এতিমের টাকা লুট করার মানসিকতা পোষণ করেন না। যারা এতিমের টাকা লুট করেছে জেলখানাই হবে তাদের আসল ঠিকানা। ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক তপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০ ও ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি ঢাকায় বিধবা ভাতা প্রদানে মন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে মেনন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম ১৯৭৪ সালে দেশে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থার প্রচলন করেন। এরপর তার মেয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে অসহায় মানুষের জন্য নানা রকম ভাতা প্রথার প্রচলন করেন। বিধবা ভাতা ঢাকার বাইরে চালু থাকলেও ঢাকায় এটি কী কারণে নেই তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই ঢাকায় বিধবা ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাতা গ্রহণে গ্রামের মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা উৎকোচ গ্রহণ করেন- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেনন বলেন, পূর্বে কী হয়েছে তা জানি না। আমি এ মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন দেশের কোনো প্রান্ত থেকে এমন দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী রমনা ও মতিঝিল থানা থেকে আগত অসহায়, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে ভাতাবই তুলে দেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন হাবিবুন নাহার বাগেরহাট-৩ আসনে
বাগেরহাট-৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মানোনীত প্রার্থী হাবিবুন নাহার। আর কোনও দলের প্রার্থী এই উপ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এক্ষেত্রে এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই শুধু বাকি। নির্বাচন কমিশন এখন তার মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই করবেন এবং ৪ জুন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা করবেন। হাবিবুন নাহার খুলনার নবনির্বাচিত সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী। এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেন তালুকদার আব্দুল খালেক। এর ফলে বাগেরহাট-৩ আসন বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার পকেটেই থাকলো। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে স্বামী ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেককে সঙ্গে নিয়ে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়েমনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাবিবুন নাহার। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রিটার্নিং অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার। এসময় বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট. মীর শওকাত আলী বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, বাগেরহাটের পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য তালুকদার আব্দুল বাকী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদারসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে রির্টানিং অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল আজ। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। উপ-নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ মে বাছাই এবং ৩ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র ঠিক থাকলে আগামী ৪ মে হাবিবুন নাহারকে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূরণের বাকি আর মাত্র ৬ থেকে ৭ মাস। তাই দলীয় নির্দেশে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার অভিপ্রায়ে তালুকদার আব্দুল খালেক এ আসনটি ছেড়ে দিলেও এর উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অন্য বিরোধীদলগুলোর মধ্যে কোনও উত্তেজনা বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে গত ২০ মে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চিত্রনায়ক শাকিল খান (শাকিল আহসান) এর পক্ষে তার ভাগ্নে খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনিমহল এলাকার শাহরিয়ার নাজিম মনোনয়নপত্র ক্রয় করলে এ উপনির্বাচন খানিকটা আলোচনায় আসে। কিন্তু এর আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে শাকিল খান মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাননি হাবিবুন নাহার। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সর্বসম্মতক্রমে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসনের উপ-নির্বাচনে খুলনার নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তালুকদার আব্দুল খালেক সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় ১০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ মে মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৩ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ভোট গ্রহণের কথা ছিল ২৬ জুন। রামপাল-মোংলা নিয়ে গড়া এ আসনের মোট ভোটার দুই লাখ ২৬ হাজার ২৪৯ জন।
একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের মানুষ খুশি, তবে শুধু গাত্রদাহ কাদের? বিএনপির। কেন? তারা এতো চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেন? কারণ, তাদেরও লোকজনও মাদকে জড়িত। আর মাদক ব্যবসায়ীরা যেভাবে সিন্ডিকেট করে অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে তাতে কি র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে? বৃহস্পতিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিএ আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার এনকাউন্টার করছে, আতঙ্ক তৈরি করছে- বিএনপির এমন দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ কী মনে করে? জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করে না। তবে মাদক নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের সঙ্গে অস্ত্রধারীরা আছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেলে তারা অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে। এখানে এনকাউন্টার হয়। অভিযানে উভয়পক্ষের হাতে অস্ত্র থাকছে। এই এনকাউন্টারকে তো আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলতে পারি না। ওরা অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করবে আর পুলিশ কি সেখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? ‘বিএনপিকে বলতে চাই, গত ৯ বছর ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে শুধু বিএনপিসহ সব দলই তো আওয়ামী লীগকে বিষোদগার করে বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু কোনো দল কি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে? বলনি। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু ঘোষণা দিয়েছেন। কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, শুধু আব্দুর রহমান বদি কেন, আরও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি দলের প্রভাবশালী কেউ যদি হয়ও, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে, ড্রাগ ডিলিংয়ের সঙ্গে যেই বা যারা জড়িত যতো প্রভাবশালী হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। এই অভিযানের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে একজন এমপিকে তো চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ করতে হবে তো? গত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে মাদক সেবনকারী থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হচ্ছেন। এ ছাড়া অভিযান শুরু পর প্রতি রাতেই কয়েকজন করে নিহত হচ্ছেন বন্দুকযুদ্ধে, বলা হচ্ছে যারা মাদক কারবারী। এদিকে এই অভিযান নিয়ে কথা উঠেছে যে, মাদকের গডফাদাররা অভিযানের আওতামুক্ত থেকে যাবেন কি না। কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, যার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ থাকলেও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে, আমি ইয়াবা বা অন্য কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিছু মিডিয়াও ইয়াবা ব্যবসা করছে। সাংবাদিকরাও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি যখন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই, তখনই মিডিয়ারা সিন্ডিকেট করে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ কারণে সংসদে আমি চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিয়েছি।
জাতীয় পার্টি বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে
সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন, সুন্দরগঞ্জ উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপ-নির্বাচনের ফলে বেশ আত্মবিশ্বাসী জাতীয় পার্টি (জাপা)। আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেনো আকাশে উড়ছিল দলটি। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে লজ্জাজনক পরাজয় যেন উড়ন্ত জাপার ধপাস পতন। এমনটাই মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, টানা তিনটি নির্বাচনে ভালো ফলাফলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙ্গাভাব চলে এসেছিল। খোদ এরশাদও অনেক সভায় বলেছিলেন, জাতীয় পার্টির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ দু’টি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে রংপুর সিটি নির্বাচন ও সুন্দরগঞ্জের উপ-নির্বাচন তারই নমুনা। বেশ জোর দিয়েই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, জনগণ আর প্রার্থী খুঁজবে না, শুধু লাঙল মার্কা দেখেই ভোট দেবে। ওই মুহূর্তেই খুলনা সিটি করপোরেশনে লজ্জাজনক পরাজয়ে বেলুনের ফুটোর মতো চুপষে গেছে জাতীয় পার্টি। হুঙ্কার দিয়ে নির্বাচনে নামলেও শেষ পর্যন্ত জামানতও রক্ষা করতে পারেননি জাপা প্রার্থী। চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটারের মধ্যে জাপার মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুসফিক পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ৭৭ ভোট। কেসিসি নির্বাচনে জাপার এমন লজ্জাজনক পরাজয়ে দলের মধ্যেই চলছে নানা রকম বিশ্লেষণ। বিশেষ করে ‘হায়ার’ করা নেতা দিয়ে নির্বাচন করার বিপক্ষে সব কর্মীরা। অনেক নেতাই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরশাদকে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, খুলনায় পরাজয়ের পর পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো সভা সমাবেশেও এ নিয়ে কথা বলেননি পার্টি চেয়ারম্যান। তবে নির্বাচনের দুইদিন পরেই খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজন অজনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন খুলনার নেতারা। কেন্দ্র বুঝতে না পারলেও স্থানীয় নেতারা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন নির্বাচনের ফল। আর সে কারণেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এসএম শফিকুর রহমান মুসফিককে যখন দলে যোগদান করানো ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার পর পদত্যাগ করেন খুলনা মহানগর জাপার সভাপতি সম্পাদকসহ ২৬ নেতা। ওই সময় পদত্যাগকারীরা মুসফিককে ‘খুনি’ হিসেবে উল্লেখ করে দলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ, আমলে নেয়নি কেন্দ্র। বরং গণপদত্যাগের পরে খুলনা মহানগর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সদস্য সচিব করা হয় সমালোচিত মুসফিককে। তৃণমূল নেতাদের অনেকেই বলেছেন, ওই সময় তৃণমূলের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন এরশাদ নিজেই। যে আগুনে জাপা পুড়েছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেছেন, পার্টিতে তৃণমূলে কার কি অবদান সেটা মূল্যায়ন করা হয় না। এরশাদের বাসা ও অফিসে যাতায়াত করলে, বিশেষ কিছু নেতার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে দ্রুত প্রমোশন হয়ে যায়। তৃণমূলের নেতারা চেনেনই না এমন অনেকে কেন্দ্রীয় নেতা বনে যাওয়ার নজিরও রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, শুধু খুলনা নয়, এমন অনেক জেলা রয়েছে যেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হায়ার করা লোকের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে খুলনার মতো আরও পরাজয় দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পার্টি প্রধানকে। পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে এতদিন যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলেন তারাও এখন নড়ে বসেছেন। যদিও অনেকেই মনে করেন জাপার এতসব শোডাউন বেশিরভাগেই ভাড়া করা ও লোক দেখানো। কোনো কোনো জায়গায় কিছু কাজ হয়েছে তাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয় বলে জানান অনেক নেতা। পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, হঠাৎ করে একটা লোক দলে এসে অ্যাবনরমাল (অস্বাভাবিক) পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এটা দেখা হবে। দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে নতুন করে কমিটি করা হবে। মহাসচিব আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন মতো প্রার্থী না হওয়ায় তারা মাঠে নামেনি, দলের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। যে কারণে খুলনায় যথেষ্ট জনসমর্থন থাকার পরও এমন খারাপ ফল হয়েছে। কারণ জাপা ক্ষমতায় থাকার সময়ে খুলনার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ সে কথা এখনও ভুলে যায়নি। কেসিসি নির্বাচনের ফলাফল বিপর্যয়ে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় অনেক রয়েছে। আশা করি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
খুলনার অভিজ্ঞতায় জয় চায় আওয়ামী লীগ,দৃষ্টি এবার গাজীপুরে
খুলনা সিটি করপোরেশনের জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজীপুরে জয় চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্র থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনের সার্বিক মনিটরিং করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় ও গাজীপুরের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন-কোনো অজুহাত শুনতে চান না তিনি। খুলনার চেয়ে আরও ভালো ব্যবধানে গাজীপুরে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। গোপালগঞ্জের পর আওয়ামী লীগের শক্তঘাঁটি বলা হয় গাজীপুরকে। এ ছাড়া গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নানকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পায়নি নগরবাসী। তাই, এবার সরকারদলীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন প্রত্যাশা নেতাদের। সে কারণে প্রথমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা না থাকলেও দলের বর্ধিত সভা, ইফতার পার্টি, ও কর্মিসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলা হচ্ছে। সূত্রমতে, খুলনার কৌশল ও ফল গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কৌশল প্রণয়ন সহজ করে দিয়েছে। খুলনার নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও কৌশল গাজীপুরের নেতাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বলছে, নির্বাচনে জিততে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে পূর্বের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে জয়ের মিশনে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীনরা। এই পর্যায়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ১৩ জন নেতা গাজীপুরে গিয়ে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের বাসায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা অনৈক্য দূর করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হয়ে দলীয় মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমকে উদার ও নমনীয় হয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বলেন নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল। সরকারের উন্নয়নগুলো প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রার্থীরও ইমেজ ছিল। সব মিলে আমাদের জয় এসেছে। গাজীপুরের স্থানীয় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচনে কোনো রকম ঝামেলা যেন না হয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থী কে হলো সেটা বিষয় নয়, নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনার বিজয়ে দলীয় প্রচারণায় যে মূলমন্ত্র কাজে লাগানো হয়েছিল তা গাজীপুরের নির্বাচনেও কাজে লাগানো সম্ভব। খুলনায় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ছিল। গাজীপুরেও সেই সুযোগ কাজে লাগাব। তিনি বলেন, খুলনার মানুষ বর্তমান বিএনপির মেয়রের দ্বারা যেমন কোনো উন্নয়ন পায়নি, তেমনি গাজীপুরেও বিএনপির মেয়র কোনো উন্নয়ন করেনি। ভোটের মাধ্যমে খুলনার মানুষ যেমন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিজয়ী করেছেন, ঠিক গাজীপুরেও তাই করবেন। এ প্রসঙ্গে সিটি নির্বাচনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে এখনো প্রচারণা শুরু হয়নি। তাই এই মুহূর্তে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা দলকে গুছিয়ে নিচ্ছি। যেখানে ছোটখাটো সমস্যা ছিল সেগুলো নিরসন করছি।’ তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটির চেয়ে গাজীপুরে ভোটার অনেক বেশি। তাই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রচারণা চালাব না। অঞ্চলভিত্তিক প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দেব। এ জন্য সিটিকে আটটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন—এমন আশা করতেই পারি।’ গাজীপুর সিটি নির্বাচন গত ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি রিটের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। আপিল করা হলে তা আগামী ২৬ জুন ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। এতে করে এই এক মাস অতিরিক্ত সময় পায় প্রার্থীরা। গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অনেকটাই উজ্জীবিত। তারা মনে করছেন, রমজান মাস ও ঈদের কারণে এক মাস সময়ের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের মান-অভিমান ভেঙে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গাজীপুরে মেয়র পদে নৌকার বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এ ছাড়াও এই নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের আগে চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সংসদ নির্বাচনের আগে জয়ের বিকল্প ভাবছেন তারা।
বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রাখল কানাডার ফেডারেল কোর্ট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রেখে কানাডার ফেডারেল কোর্ট সেখানে আশ্রয়প্রার্থী এক যুবদল নেতার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। গত ৪ মে কানাডার ফেডারেল কোর্ট কামালের রিভিউ আপিলের রায় ঘোষণা করে, যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় সোমবার। রায়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিএনপি’কে ‘সন্ত্রাসী দল’ বলে মন্ত্রীর বক্তব্যকেই আবারও মেনে নিয়েছেন ফেডারেল কোর্ট। আশ্রয়প্রার্থী মোস্তফা কামাল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় যান। তার আবেদনের বিষয়ে কানাডীয় সরকার আদালতকে তখন বলেছিল, তিনি বাংলাদেশে বিএনপি নামে যে রাজনৈতিক দলের সদস্য পরিচয়ে আশ্রয় চাচ্ছেন, সেই রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। দেশটির জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রী আদালতে দাবী করেন, বিএনপি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কানাডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তৈরি একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ দাবি করেন তিনি। মোস্তফা কামালের রিভিউ আবেদনের পর ফেডারেল কোর্ট কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের অভিবাসন বিভাগ (আইডি)-কে জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। ওই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মন্ত্রীর যুক্তি পর্যালোচনা করে আইডি কানাডা সরকারের আগের বক্তব্যই সঠিক বলে সিদ্ধান্তে আসে। আইডি তার সিদ্ধান্তে জানায় বিএনপির আচরণকে ‘উম্মত্ত সহিংসতা’ বলে আখ্যায়িত করে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বিবেচনা করে আইডি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। কামাল ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে দাবী করেন। তার আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন বাতিল হয়ে গেলে তিনি যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, বিএনপির নয় বলে রায় পুনর্বিবেচনার দাবী জানান। রিভিউতে বলা হয়, কামাল অনুবাদক ও উকিলের সহায়তা নিয়ে আবেদনের ফর্ম পূরণ করেছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে তিনি তার দেয়া তথ্য অস্বীকার করেছেন। এছাড়াও যুবদল বিএনপিরই অঙ্গ সংগঠন, এই বিষয়টিও বিবেচনা করে আদালত।
১৫০ আসন বিএনপির টার্গেট !
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বা নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনে সফলতার আশা এক রকম ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি! রাজপথের এই বিরোধী দলটি এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়ে উঠছে। সেজন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপি এগুচ্ছে বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের উপর ছেড়ে দিয়েই চলছে দলীয় হাইকমান্ড। আর সরকারের অনড় অবস্থানের মুখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের আশাও তেমন আর দেখছেন না তারা। ফলে নির্বাচনের ছক কষা, নিজস্ব কৌশল ঠিক রাখা, বাধাবিপত্তি কাটিয়ে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে দলটির হাই কমান্ড। বিএনপির সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট বলেছেন, তারা ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন না করার মতো ভুল আর করবেন না। একই সাথে নির্বাচনকালীন জিয়া পরিবারের কোনও একজন সদস্যকে মাঠে নামানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তারা। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান বা শর্মিলা রহমানকেই পছন্দের শীর্ষে রাখছেন তারা। ৩ ক্যাটাগরিতে প্রার্থী বাছাই বিএনপির একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, তিন ক্যাটাগরিতে এরইমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করেছে বিএনপির একটি বড় গবেষণা ও জরিপ দল। দলটি ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব নির্বাচনী এলাকা জরিপ করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী এবং বিকল্প প্রার্থীদের খোঁজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে রেখেছে। এই গবেষণা ও জরিপ দলটিতে শতাধিক রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা, সাবেক সেনাসদস্যসহ বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা কাজ করেছেন। এসব কাজের অধিকাংশই খালেদা জিয়া মুক্ত থাকতে শেষ হয়েছে। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি বিষয় সামনে রেখে এগুচ্ছে দলটি। প্রথমত: এর আগে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রার্থীদের খোঁজ নেয়া হয়েছে। তারা গত ১০ বছর দলের সংকটে সক্রিয় ছিলেন কিনা বা দল বিরোধী কোনও কাজ করেছেন কিনা তা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত: একেবারে নবীন প্রার্থী যারা আছেন তারা কিভাবে নিজেকে যোগ্য দাবি করছেন তা নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান করা। তৃতীয়ত: ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে যৌক্তিক কারণে যারা হেরেছেন তাদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই তিন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৫০টি আসন ন্যূনতম ভোটের ফলে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তেমন একটি পরিবেশ করতে চায় বিএনপি। বিএনপি নেতারা মনে করেন, ভোটযুদ্ধে সরকারি দলের প্রার্থী থেকে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা যাবে এমন ১৫০টি আসন নিশ্চিত রাখতে পারলে দল ক্ষমতায় আসবে। সেসব আসনের তৃণমূলের নেতাদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠ গুছিয়ে এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জোটভুক্ত প্রার্থীদের চেয়ে নিজেদের দলের প্রার্থীদের উপরই বেশি ভরসা রাখতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন ১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী জিততে পারলে বাকী শরিক পাওয়া কোনও সমস্যা হবে না। যদিও জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপি নির্বাচন করবে নিশ্চিত, তবে এখনই কোনও প্রার্থীকে সরাসরি মনোনয়নের প্রত্যাশা দেয়া হচ্ছে না। সেটি চূড়ান্ত করবে শেষ সময়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড। তিনি বলেন, যেসব জায়গায় একাধিক আগ্রহী প্রার্থী আছেন তারা তাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেসব জায়গায় একজনই প্রার্থী সেসব আসনের কথা আলাদা। উদাহরণ হিসাবে ড. মোশাররফ তার নিজের আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার আসনে তিনি নিজে একাই প্রার্থী। তাই সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি তিনি বিএনপির পক্ষ থেক একাই নিচ্ছেন। বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, আন্দোলনের সুফল আসবে না তা বলা যায় না। এবার আর আগের মতো হবে না। শেষ মুহূর্তে সরকার আন্দোলনের মুখে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে। জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছিলো। এবার আর দলের কেউ সে ভুল করবে না। যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক আগের ভুলে পুনরাবৃত্তি না করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। সেক্ষেত্রে দলের নিজস্ব প্রস্তুতি সবই রাখা হয়েছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সব কিছুই বিএনপির ইচ্ছা আর সুবিধাজনকভাবে হবে তাতো নয়। সরকার তার মতো করে নির্বাচন চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যা যা প্রস্তুতি দরকার তা চলছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান।
মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প মাদকবিরোধী অভিযান
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুখবর আওয়ামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেই। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প মাদকবিরোধী অভিযান। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই আমরা। অপরাধীদের গ্রেফতার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনেই মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু তা না করে সারাদেশে বন্দুকের অপব্যবহারে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। আবার মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাদেরকে ধরা হচ্ছে, মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের। বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পিছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন— সরকারদলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে। অভিযোগ করে রিজভী বলেন, পবিত্র রমজানেও পোশাকে ও সাদাপোশাকে পুলিশ তল্লাশির নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানী চলছে। সোমবার সেহরীর কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশ তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালায়। জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ইলিয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে। আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকে। পরে ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে অবস্থান নেয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যক্তিরা চলে যায়। তিনি বলেন, বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভুমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা নির্বাচন আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করবে। অবৈধ ক্ষমতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী আইন কানুনও মানতে রাজি নন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মোড়লগিরি করছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার হায়দার আলী, চেয়ারপারসনের উপদেস্টা কবির মুরাদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
বিচার বহির্ভূতহত্যার চেয়ে অন্যায় আর কিছু নেই: এরশাদ
বিগত ৩ থেকে ৪ মাসে ৭৩ জনকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে এমন কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, এর থেকে অন্যায় আর কিছু নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা কারা, তাদের কি অন্যায় তা কিছুই জানা গেলো না। সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এরশাদ বলেন, বিশ্বের অন্য দেশে রোজা আসলে পণ্যের মূল্য কমে, আর আমাদের দেশে বৃদ্ধি পায়। রোজায় মূল্য বাড়ানো শরিয়ত বিরোধী। তিনি বলেন, দেশে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টা দামি গাড়ি বিক্রি হয়। আর অন্যদিকে চকবাজার ইফতারের বাজারের পাশে গরীব মানুষ খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। ব্যাংকের টাকা দেশে বাইরে চলে গেছে, তার জবাব কে দিবে এমন প্রশ্ন তুলে এরশাদ বলেন, এখানে মানুষ না খেয়ে মরছে, আর দেশের বাইরে একশ্রেণী বাড়ি বানাচ্ছে। এ সময় জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে বৈষম্য কমিয়ে আনবো। লো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে চিন্তিত এরশাদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মুখে কে ইফতার তুলে দিবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তাদের নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু প্রমুখ।

রাজনীতি পাতার আরো খবর