খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কোনো ফর্মুলায় কাজ হবে না। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে বুধবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কোটি বাঙালির মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছিল। ৭১ সালে তার দেখানো পথ ধরেই আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। কিন্তু আজও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা সক্রিয়। তাই আগামী নির্বাচন হবে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের পরাজিত করার নির্বাচন। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার নির্বাচন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু কোনো ফর্মুলায় কাজ হবে না। সংবিধান মোতাবেক আগামী নির্বাচন হবে। আর সেই নির্বাচনে দেশের স্বার্থে আবারো শেখ হাসিনাকেই প্রয়োজন।
কারাগারে গেছেন বিএনপির সিনিয়র দশ নেতা
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির সিনিয়র দশ নেতা। বুধবার বেলা ৩টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারের সামনে পৌঁছান তারা। প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকেই সেখানে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ফখরুল ছাড়া বাকি বিএনপির ৯ নেতা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে.জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে :খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তারা সভা-সমাবেশ করছে আর আমাদেরকে অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না।’ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১২তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এবং দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই যুব সমাবেশের আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারাও জনসভায় আসছেন। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমরা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ চাই। সুতরাং আজকে যারা ক্ষমতাসীন দল তারা জনসভা করবে, এখানে কোনো ভিন্ন মত থাকার কারণ নেই।’ তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চের আজকের জনসভা। আমরা জনসভাকে স্বাগত জানাই। কারণ প্রত্যেক দল তাদের আদর্শ ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে অনুষ্ঠান করবে। আর সেখানে কারো দ্বিমত থাকার কারণ নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে জনসভা করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন এবং জনগণকে জনসভায় ডেকে শপথ গ্রহণ করাচ্ছেন।’ বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে জনগণকে ওয়াদা করাচ্ছেন মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী এবং অনৈতিক কাজ ও ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমরা কিন্তু কাউকে শপথ পড়াব না। কারণ আমার ভোট আমি কাকে দিব এটা একটি গোপনীয় বিষয় এবং আমানত। এমনকি আমার স্ত্রীও জানতে পারে না।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আমরা ১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আজ অবধি সেই অনুমতির কথা জানানো হয়নি। অথচ আমরা দেখছি, আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীনরা জনসভার আয়োজন করেছে। গত ১০ দিন ধরে ঢাকা শহরে মাইকিং করা হচ্ছে। কত কিলোমিটারের মধ্যে সভার মাইক লাগানো হয়েছে। রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের চার দিকে ব্যানার আর ফেস্টুন। কিন্তু আমরা তো এসব কিছুই চাই না। কেবল একটি সভার অনুমতি চাচ্ছি। যা আমার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার। সেই অধিকার থেকে বিএনপি আজকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ কেনো একটি দলকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে আমীর খসরু বলেন, আমরা খুলনাতে সার্কিট হাউস মাঠে ১০ মার্চ একটি সভার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম তা দেয়া হয়নি। সেখানকার হাদিস পার্ক মাঠেও অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু এখনো কিছুই জানানো হয়নি। আগামী ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে জনসভার জন্য বিএনপি আবেদন করেছে বলেও তিনি জানান। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে কিছু বিষয়ে প্রত্যাশা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ মার্চের জনসভা থেকে আমি আশা করি, দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা তা পূরণকল্পে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি কথা বলবেন। এগুলো হলো, আমরা আশা করি, উনি বলবেন- জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা উনি করছেন, উনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন, মানবাধিকার যে লঙ্ঘিত হচ্ছে সেদিকে উনি মনোযোগী হবেন, দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে উনারা মনোযোগী হবেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি মনোযোগী হবেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সংসদ ও সরকার গঠনের জন্য তার বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে আমি আশা করব। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, কৃষকদলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।
একমাত্র জাতীয় পার্টিই শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে : এরশাদ
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, সাধারণ মানুষের কষ্টের দিকে সরকারের নজর নেই। সরকারের নজর কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় সেই দিকে। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। আমরা অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি। এই কারণে আমরা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, কত মানুষ গুম হয়, খুন হয়। তার কোনও ঠিকানা নেই। মানুষ হত্যা করে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না। সরকারের টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো মানুষের ভালোবাসা। দেশের মানুষ শান্তি চায়, শান্তিতে ঘুমাতে চায়। একমাত্র জাতীয় পার্টিই সেই শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত তৃণমূল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা জাতীয় পার্টি এ সমাবেশের আয়োজন করে। নাসিরনগরের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা নেই। নাসিরনগরে সুষ্ঠু নির্বাচন করে আপনারা (নির্বাচন কমিশন) দেখিয়ে দেন। তাহলে দেশের মানুষের আস্থা ফিরবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করে প্রমাণ করুন আপনারা নিরপেক্ষ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি যাবে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনবো। তিনি নাসিরনগরের আসনটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক মৃধার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, আপনারা রংপুরে দেখেছেন। অনেকদিন পর সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর দেশে কী চলেছে আপনারা দেখেছেন। এখন আর কোনও দলকে দেশের মানুষ ক্ষমতায় তেখতে চায় না। শুধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা রংপুরের নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করে দেখিয়েছেন। এবার নাসিরনগরের নির্বাচন করে দেখিয়ে দিন। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, মেজর অব. খালেদ আক্তার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিশাল এই জনসভায় অংশ নিতে এরই মধ্যে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে অাসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশস্থলের অাশ পাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে, হাতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশ স্থলে অাসছেন নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও বাস, পিকআপ, মোটরসাইকেল করে সমাবেশস্থলে অাসছেন নেতা-কর্মীরা। পায়ে হেটেও জনসভায় যোগ দিচ্ছেন অনেকে। মহাসমাবেশ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত থেকেই উদ্যানে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। সকালে যারা প্রাতঃভ্রমণে আসেন তারা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বরসহ বিভিন্ন পথে জনস্রোত নেমেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখে। জনসভা শুরু হবে দুপুর ২টায়। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনকেন্দ্রীক দিক-নির্দেশনামূলক (নির্বাচনে বিজয়ী হতে যা যা করতে হবে) ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্বের সম্পদ
স্বীকৃতির পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্বের সম্পদ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি একটি ধ্রুপদী শিল্প হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বুধবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে শক্তি ও সাহস যোগাবে। আমাদের মহান নেতার এই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরন্তন ও সর্বজনীন হয়ে থাকবে। বাঙালি জাতির নিরন্তর লড়াই ও মুক্তির সংগ্রামে ৭ মার্চের ভাষণ অবিনাশী চেতনা নিয়ে বারবার ফিরে আসে।
খালেদা জিয়ার জামিনের সময় বাড়ল
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতএর বিচারক আখতারুজ্জামান আজ সোমবার এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটিতে এখন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া আরেকটি মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে আছেন। তাই তাঁকে এই মামলায় আদালতে হাজির করার জন্য হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলাম। খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। আদালত দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৩ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন এবং ১৩ ও ১৪ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুদকের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলার অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।
খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি দুপুর ২টায়
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আজ দুপুরে। রবিবার দুপুর ২টায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হবে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই বেঞ্চ খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। এ ছাড়া এই মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। পাশাপশি নিম্ন আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত- ৫ এর বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি এ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর আগে খালেদার ৮৮০ পৃষ্ঠার জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনাসহ ৩২টি যুক্তি দেখানো হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ১ হাজার ২২৩ পৃষ্ঠার আপিল দায়ের করা হয়। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের পাঁচ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। পাশাপাশি সম্পূরক হিসেবে জামিন চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজাক খান এ আপিল দায়ের করেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রায় প্রদানকারী বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের স্বাক্ষরের পর ১ হাজার ১৭৮ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়।
বিএনপির 'কালো পতাকা' মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
বিএনপির আজকের কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি। আজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন অনেকে। এ সময় হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তাদের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ফটকের কাছ থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এটা কোন ধরনের আচরণ? সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচির মধ্যে এভাবে জলকামান দিয়ে পানি ছিটানো, লাঠিপেটা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। রিজভী বলেন, দলের মহাসচিবকেও তারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী। বেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাঁদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্যই তাঁদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।