আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে, বল্লেন এরশাদ
দেশে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে ইঙ্গিত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে বলে কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যখনই নির্বাচন হোক জাতীয় পার্টি অংশ নিতে প্রস্তুত। জাতীয় পার্টি এককভাবে ৩শআসনে প্রার্থী দেবে। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনীতিতে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা কিন্তু অস্থির নই। আমরা ভালো আছি। আমাদের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। জীবনে সুযোগ বারবার আসে না, আল্লাহ এবার সুযোগ দিয়েছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। রোববার পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় রজনীগন্ধায় সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে জোটের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ মার্চের মহাসমাবেশ সফল করার অনুরোধ জানিয়ে এরশাদ বলেছেন, এই সমাবেশে লাখো লোক আনতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে জাতীয় পার্টি অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। প্রার্থী যাচাই-বাছাই অনেক দূর এগিয়েছে। তৃণমূল থেকেও মতামত নেয়া হবে। আগামীতে বোর্ড বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটের রাজনীতির সংস্কৃতিকেও মাথায় রাখা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল দাবি করলেও একই সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও রয়েছে, বিষয়টি সাংঘর্ষিক কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে কখনও কখনও সরকারে থাকাটা বাঞ্ছনীয় হয়ে ওঠে। আমরা সংসদে কি রোল প্লে করছি সেটাও দেখার বিষয়। বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ায় বিষয়ে নানারকম গুঞ্জন চলছে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তারা যেহেতু এখনও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়নি, তাই ধরে নিতে হবে তারা নির্বাচনে আসছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এটাই কাম্য। নির্বাচনে জিতলে সুষ্ঠু হয়েছে, আর হারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি- এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৯৯০ সালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাদের সঠিকভাবে নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। তবুও আমরা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচনে ছিলাম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সউম আবদুস সামাদ, মাওলানা আনম মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, অর্থ সচিব সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ, অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, ক্বারী মাওলানা আসাদুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ মুফতি মহিবুল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল হাছানাত, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, মুখপাত্র শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, সমন্বয়কারী আখতার হোসেন, এআরএম জাফর বিল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।
দুই নেত্রীর লড়াইয়ে ক্লান্ত দেশের মানুষ ( বিবিসি)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নারীর লড়াইয়ে দেশের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছে বিবিসি। গতকাল রবিবার বিবিসি অনলাইনের ফিচার বিভাগে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই দাবি করেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যটির দক্ষিণ এশিয়া করেসপনডেন্ট জাস্টিন রৌউলাট। নিবন্ধটিতে বিরোধী দল দমনে সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। নিবন্ধটিতে বিবিসি প্রতিনিধি রৌলাট বলেছেন, বিএনপির বিগত সাধারণ নির্বাচন বর্জন করার অন্যতম কারণ ছিল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিম তহবিলের অপব্যবহারে সরকারের মামলা দায়ের করা। সেই মামলায়ই গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়েছে। নিবন্ধে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে চলা সমীহা জাগানো দুই ভদ্রমহিলার মধ্যে যে লড়াই চলে আসছে, সম্প্রতি বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজা সেই লড়াইয়ের সর্বশেষ চাল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার মধ্যে তিক্ত শত্রুতা দেশকে সহিংসতার পাঁকে ফেলে দিয়েছে। ফলে বাসে বোমা, নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা নির্মমভাবে নিয়মিতভাবে দেখা যায়। তবে তাঁদের সম্পর্ক সব সময়ই এমন শত্রুতাপূর্ণ ছিল এমন নয়। আশির দশকে তাঁরা সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করেছেন এবং একনায়ক এরশাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। দুই নারীরই রাজনীতিতে আসা পরিবারতান্ত্রিকভাবে। এরশাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার পর ১৯৯০ সাল থেকে দুজনই পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করে এসেছেন। তবে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ শীর্ষে রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি ধূর্ততার সঙ্গে পরাজিত করেছেন এবং নির্মমভাবে ক্ষমতা সুরক্ষিত করেছেন। শেখ হাসিনা সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন উন্মুক্ত ভোটাভুটিতে। বিএনপি ওই নির্বাচন বয়কট করায় তাঁর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স পূর্ণ করেছে। এর ফলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে। এ বিষয়ে বিবিসি প্রতিনিধি রৌলাট বাংলাদেশের এক প্রবীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন ছেড়ে দিলেও অন্য কোনো প্রার্থী কি দাঁড়াতে চাননি? জবাবে ওই পর্যবেক্ষক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, অবশ্যই প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁরা শুধু প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার অপেক্ষায়ই ছিলেন। অথবা হতে পারেন এ জন্য তাঁদের প্ররোচিত করা হয়েছিল। রৌলাটের দাবি, এই প্ররোচনাই বাংলাদেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। নিবন্ধ বলা হয়, সর্বশেষ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জয়লাভ করে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন করেন এবং তার প্রধান অংশীদার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেন। আর গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজাও আগামী নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে পারে। এটা হলে শেখ হাসিনা (বিবিসির ভাষায়) টানা চতুর্থবারের মতো জয় পাবেন। কারণ বাংলাদেশি আইনে দুই বছরের বেশি কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। যদি খালেদা জিয়া আশা করছেন যে তিনি আপিল করবেন এবং এ মামলা ঝুলে থাকবে বিধায় তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন। রায়ের আগের দিন তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, এবার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। তবে খালেদা জিয়ার এটাও জানা যে তাঁর মাথার ওপর আরো ৩০টি মামলা ঝুলছে। গত মাসেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গণগ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকতে শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী খালেদা জিয়ার সমর্থকদের ওপর লাঠিপেটা করেছে, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। নিবন্ধে বলা হয়, এই অবস্থায় বাংলাদেশে রাস্তার পাশে যেকোনো চায়ের দোকানে দুই নেত্রীর এই লড়াইয়ের কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে জনগণের বেদনার অনুভূতিও উঠে আসে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশিরা দুই নারীর ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তারা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি দুই নারীকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সরাতে পারবে না। তাদের দুজনের বয়স এখন ৭০-এর ঘরে হলেও তাঁরা তাঁদের লড়াই বন্ধ করতে নারাজ। রৌলাট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাষ্যকার বলতেই পারেন বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতি ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। তবে খালেদা জিয়া শেষ হয়ে যেতে রাজি নন। গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালত ছাড়ার আগে বলেছেন, আমি ফিরে আসব। কান্নাকাটির কিছু নেই।
খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডিত হলেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজাও খাটেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি)। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজা খেটেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামির বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণিত হয়নি দাবি করে সব আসামির খালাস দাবি করেছেন। অন্যদিকে, দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন দাবি করে খালেদা জিয়াসহ সব আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছেন। এদিকে, রায় শুনতে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ পুরান ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাবেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ছানাউল্লাহ মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হবেন বলে তিনি জানান।
আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তত :খালেদা জিয়া
বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগই প্রকাশ্য সন্ত্রাস করে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে গুলশানে চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, 'আদালত রায় দেওয়ার বহু আগেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নয়, শাসক মহলই রায় ঠিক করছে।' প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার 'চাপের মুখে' পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, আদালত চাপ উপেক্ষা করে রায় দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, 'ন্যায় বিচার হলে আমার কিছু হবে না, আমি বেকসুর খালাস পাব। আর যদি শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য অন্য কোনো রায় হয়, তাহলে তা কলঙ্কের প্রতীক হয়ে থাকবে। নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতেই এই মামলায় 'সাজানো রায়' দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, 'আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তত। জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না। আমি মাথা নত করব না। একদলীয় শাসন দীর্ঘায়িত করার খায়েস পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে :রিজভী
জিয়া অরফাজের ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা দেয়া হলে সরকারের যেকোনো হুমকির মুখে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে।এ কথা বলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে। ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।বিএনপি নেতাকর্মীদের আশঙ্কা যে কোনো সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থানরত দলটির কর্মী সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আগামী ৮ই ফেব্রুয়রি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তায় বিজিবিও নামানো হলো
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলার রায়কে সামনে রেখে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশ এবার নিরাপত্তায় নামানো হলো আধাসামরিক বাহিনী বিজিবিকে।দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের অনুরোধে বাহিনীটিকে মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত সহিংসতাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোতেই প্রাথমিক পর্যায়ে এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী ববস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীতে নিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।সোমবার রাত থেকেই বিশেষ টহলে নেমেছে র‌্যাবও। তারাও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চৌকির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালতের এলাকায় বিভিন্ন অংশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ।রায়ের দিন রাজধানীতে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনাতেও একই কথা বলা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের ওপর চলছে নজরদারি।